নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবি ও হতাহতের ঘটনায় ধাক্কা দেয়া জাহাজের ওপরই শুরু থেকে দায় চাপাচ্ছিলেন দুর্ঘটনাকবলিতদের স্বজন ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ। তবে কেউ কেউ মনে করছেন জাহাজ নয়, বরং লঞ্চের চালকই এই দুর্ঘটনায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রাথমিক তদন্তে উভয় চালককেই দায়ী করেছে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত একটি তদন্ত কমিটি।
ওই কমিটির মতে, নিয়ম অনুযায়ী, কার্গো জাহাজটি নদীর সেন্ট্রাল চ্যানেল ধরে নির্দিষ্ট গতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি ছিল বেপরোয়া। এ ছাড়া জাহাজটির সামনে কোনো ওয়াচম্যানও ছিল না। জাহাজটি যারা পরিচালনা করছিলেন তাদের গাফিলতি সুস্পষ্ট।
এদিকে নৌ ট্রাফিক নিয়মে নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল আফসার উদ্দিন শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম সীমানা ধরে চলাচলের কথা ছিল, কিন্তু ডুবে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এটি নদীর পূর্ব সীমানার দিকে যাচ্ছিল।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম ব্যাপারী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে দুর্ঘটনার জন্য কার্গো জাহাজ ও লঞ্চ উভয় পক্ষই দায়ী। দুটি নৌযানই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। তারা কেউই আইন মানেনি।’
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নিয়ম থাকলেও জাহাজের মাথায় কোনো ওয়াচম্যান ছিলেন না। দুর্ঘটনা দেখার পরও গতিরোধ করেনি। তা ছাড়া যে লঞ্চটি ডুবেছে সেই লঞ্চের চালক জাহাজটিকে দূর থেকে দেখার পরও সে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। দুই চালকের ভুলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের কমিটি সম্ভাব্য সব কারণ তদন্তে তুলে ধরবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে উদঘাটিত কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে লেখা থাকবে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’
বিভিন্ন পক্ষের বিভিন্ন মত
নদীতে নৌ ট্রাফিকব্যবস্থার তদারকি করেন বিআইডব্লিউটিএ-র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপসহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য। তিনি দাবি করেন, ওই নদীতে কার্গো জাহাজের ঘণ্টায় গতিবেগ থাকার কথা ৬ নটিক্যাল মাইল। কিন্তু এমভি রূপসী জাহাজের গতিবেগ ছিল আনুমানিক ১০ নটিক্যাল মাইল।
নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বলেন, ‘যারা জাহাজটি পরিচালনা করছিলেন তাদের গাফিলতি রয়েছে। কারণ একটি ছোট নৌযানও যদি সামনের দিকে আসে সেটিও দেখা যায়। কিন্তু তারপরও লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয় জাহাজটি। শুধু ধাক্কাই নয়, লঞ্চটিকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে। এটা পরিষ্কার যে লঞ্চটি ডুবে হতাহতের জন্য জাহাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই দায়ী।’
মূল চালক জাহাজটি চালাচ্ছিলেন কি না সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি জানান, অধিকাংশ কার্গো জাহাজের চালক পণ্য খালাসের পর বাড়িতে চলে যান। আর জাহাজ চালিয়ে যান সহকারীরা।
তবে তার কথা মানতে নারাজ বাংলাদেশ শ্রমিক জাহাজি ফেডারেশন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার বলেন, শুধু এমভি রূপসী নয়, লঞ্চটিও এই ঘটনার জন্য দায়ী। কারণ জাহাজটি ২২৫ ফুটের বেশি লম্বা। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা সামনেই সেতু। ওই সেতুর তিনটি পিলারের মাঝে তিনটি ফাঁকা। ফলে জাহাজটি যাবে মাঝখান দিয়ে আর লঞ্চটি ডান পাশেরটি দিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজের চালকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, লঞ্চটি তাদের সামনে ছিল। তারা লঞ্চটিকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তখনই ডান পাশ থেকে হঠাৎ বাঁয়ে মোড় নিয়ে জাহাজের হেড ক্রস করতে চায় লঞ্চচালক। এর ফলেই ঘটে দুর্ঘটনাটি।'
সবুজ সিকদার দাবি করেন, তিনি জানতে পেরেছেন ওই লঞ্চে কোনো চালক বা মাস্টার ছিল না। লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন একজন সুকানি। আর লঞ্চটির মালিকের ছেলেই কেরানি; তিনিই লঞ্চের টিকিট কাটেন। ঘটনার সময় তিনিও লঞ্চে ছিলেন এবং বেঁচে ফিরেছেন। গ্রিজার ছিল লঞ্চের ইঞ্জিনের কাছে।
সবুজ সিকদার বলেন, ‘তারা একটি লঞ্চ মাত্র তিনজন মানুষ কিভাবে পরিচালনা করেন?’
মুন্সীগঞ্জের কোনো লঞ্চেই মাস্টার নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘এটা দেখার দায়িত্ব বিআইডব্লিউএ-এর। কিন্তু তারা ঘাটে যান না, শুধু অফিসে বসে থাকেন। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছেই।’
বেঁচে ফেরা লঞ্চযাত্রী আর প্রত্যক্ষদর্শীদের মত
ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, লঞ্চটি পশ্চিম পাশ থেকে মাঝনদী ধরে পূর্ব পাশের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় কার্গো জাহাজটির সামনের অংশ লঞ্চটির বডির মাঝামাঝি আটকে যায়। চলন্ত অবস্থায় কিছুক্ষণ লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়ে সামনে নিতে নিতে ডুবিয়ে দেয় জাহাজটি। তবে এর আগে নৌযান দুটির মধ্যে কিভাবে সংযোগ ঘটল, তা জানতে কথা হয় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েক যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে।
বেঁচে ফেরা আবদুল রৌফ লঞ্চডুবিতে চোখের সামনে ছেলের বউ আর নাতিকে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখেছেন। নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জ ফিরছিলেন তারা।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রৌফ বলেন, ‘লঞ্চের ওপরে ছিলাম। সেখানে লঞ্চটা ডুবছে তার একটু আগে দেখেছি বাঁ পাশ থেকে লঞ্চটা ডানে যাইতাছে। এরপর দেখি লঞ্চটা জাহাজটার সামনের দিকে যাইতাছে। তখন অন্য যাত্রীরা চিল্লাইতেছিল। এরপরই ডুইবা গেছে।’
লঞ্চের আরেক যাত্রী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোকছেদা বেগম। লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর তিনি নদীতে ভেসে থাকা একটি বস্তা আঁকড়ে ভেসে ছিলেন। পরে একটি ট্রলার গিয়ে তাকে টেনে তুললে প্রাণে বেঁচে যান।
মোকছেদা বলেন, ‘আমার বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তাই লঞ্চে করে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ আসি, কাজ শেষে আবার বাড়ি যাই।’
ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘লঞ্চটার দ্বিতীয় তলায় কেবিনের চেয়ারে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি লঞ্চটা আর জাহাজটা একসঙ্গে যাইতাছে আর চাপতাছে। সঙ্গে সঙ্গেই দেখি লঞ্চ আর জাহাজ লাইগা গেল। পরে আর মনে নাই।’
ঘটনার আগে লঞ্চ ও জাহাজটিকে দেখেছেন টানবাজার এলাকার শামীম মিয়া। শীতলক্ষ্যা নদীর মীনা বাজার ঘাটের ওয়াকওয়ে রেলিংয়ের ওপর বসে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। বন্ধুদের মধ্যে একজন বলেছিল, ‘দেখ, ছোট লঞ্চটা টানে ক্যামনে!’
শামীম বলেন, ‘এরপরই দেখি বড় একটা জাহাজ যাইতাছে। তয় লঞ্চ আর জাহাজের মধ্যে বেশি একটা দূরত্ব ছিল না।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলামানি নগর এলাকার বাসিন্দা সিজান বলেন, ‘আমার ঘর নদীর তীরে। ঘটনার সময় জানালা দিয়া দেখলাম বড় একটা জাহাজের সঙ্গে ছোট লঞ্চটা লাইগা যাইতাছে। আমি যখন দেখছি তখন জাহাজটা আর লঞ্চের মাঝখানে কিছুটা দূরত্ব ছিল আর লোকজন চিৎকার করতেছিল। ঘর থেকে বাইরে যেতে যেতে দেখি লঞ্চটা জাহাজের সামনের দিকে যাইতাছে, জাহাজও দ্রুত চলতাছে। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখলাম ডুবে গেল। পরে বাড়ির সামনের ঘাটের ট্রলার নিয়া সেখানে গেছি। ৬-৭ জনরে ট্রলারে কইরা পাড়ে তুলছি।’
অন্য লঞ্চের মাস্টার ও কার্গো জাহাজসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মত
দুর্ঘটনাটি সম্পর্কে কথা হয় একাধিক লঞ্চের চালক, মাস্টার ও সুকানির সঙ্গে। তারা নারায়গঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, শরীয়তপুর ও কুমিল্লার বিভিন্ন ঘাটে লঞ্চ চালিয়ে থাকেন।
তাদের মধ্যে এক লঞ্চের মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জসহ সাতটি লাইনে অন্তত ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে। ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পর নদীর ডানপাশ ধরে রওনা হয় এটাই নিয়ম। লঞ্চ চলাচলের আইন যার যার হাতের ডানে।
তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জের লঞ্চগুলো শীতলক্ষ্যা সেতু পার হয়ে নদীর দুই পাশের অবস্থা দেখে সর্তকভাবে বাম পাশে গিয়ে মদনগঞ্জ ঘাটে ভিড়ে। সেখানে যাত্রী ওঠা-নামার পর আবার রওনা হয়। আইনেও আছে প্রতিটি লঞ্চ ঘাট থেকে ছাড়ার পর নদীতে সে তার ডানে থাকবে। নির্দিষ্ট ঘাটের সামনে গিয়ে সতর্কভাবে ভিড়বে।
তিনি বলেন, ‘লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ভিডিওতে দেখলাম আফসার উদ্দিন নামের লঞ্চটা পূর্ব পারের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু তার তো সেতু পার হয়ে যাওয়ার কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন একটা লঞ্চ চলাচল করে সেখানে চালক ছাড়াও আরও কয়েকজন থাকেন। পেছনে এত বড় একটা জাহাজ তো তাদের ভালো করেই দেখার কথা। উচিত ছিল, যেহেতু জাহাজটি কাছাকাছি, সেহেতু অন্য পাশে থাকা। জাহাজটি তার লঞ্চ অতিক্রম করার পর বাঁয়ে যাওয়া।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কার্গোচালক বলেন, ‘শীতলক্ষ্যার এই অংশে অনেক ঘাট। তাই নদীতে মাঝখানে ও আশপাশে প্রচুর ট্রলার, নৌকা আর লঞ্চ থাকে। তাই আমি যখন জাহাজ নিয়ে যাই তখন মেঘনা যাওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট গতির চেয়েও কমিয়ে রাখি। নদীতে এত ছোট নৌযান যে জাহাজের গতি বাড়াতে ভয় লাগে।’
দুর্ঘটনার ভিডিও দেখে তিনি জানান, লঞ্চটি জাহাজের আগে ছিল। অর্থাৎ তার অনেক পেছনে ছিল জাহাজ। সেটি দ্রুত চালিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছিল। যিনি জাহাজটি চালিয়েছেন তার তো দূর থেকে লঞ্চটি দেখার কথা। তা ছাড়া জাহাজে আধুনিক সিস্টেম আছে, সামনে কিছু থাকলে সেটা বোঝা যায়। যখন জাহাজচালক সামনের দিকে যাচ্ছিলেন তার প্রচুর পরিমাণে হর্ন বাজানো উচিত ছিল। তা ছাড়া জাহাজে মাইক রয়েছে। চালক দূর থেকে মাইকে লঞ্চটিকে কাছে না আসতে নিষেধ করতে পারতেন।
জাহাজের সংশ্লিষ্টরা কী বলছে
এমভি রূপসী-৯ নামের জাহাজটি চালাচ্ছিলেন রমজান আলী শেখ। ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করে নৌ থানায় আনা হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন জাহাজটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে চালাচ্ছেন। ঘটনার দিন জাহাজের সামনে দিয়ে লঞ্চটি গতি বাড়িয়ে দিয়ে যেতে চেয়েছিল। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে সামনে চলে আসায় জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।’
তবে তিনি কেন জাহাজ না থামিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন, সেই উত্তর দেননি।
সিটি গ্রুপের নেভিগেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চলন্ত ট্রেন যেমন হঠাৎ থামানো যায় না, তেমনি জাহাজও। লঞ্চটি জাহাজের মাথার সামনে দিয়ে ক্রস করে যেতে চেয়েছে। ফলে সেখানে তো সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ থামানো সম্ভব নয়।’
নাগরিক সংগঠনগুলো কী বলছে
সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ এর সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা বলেন, ‘লঞ্চ ডুবির ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কার্গো জাহাজের গতি। সামনে একটি সেতু থাকার পরও সেটি কিভাবে বেপরোয়াভাবে চালায়। তার ডান দিক থেকে লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে পার হচ্ছে। আমরা যেটা বুঝতে পারছি তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তারা প্রতিযোগিতা করে মানুষ মারবে- এটা কেমন ব্যবহার।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম মেনে নৌযান চলাচল করছে কি না তা দেখবে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু তারা সেটা করে না। তারা ঘটনা ঘটার পর তৎপর হয়ে ওঠে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক জানান, ‘নদীতে নৌপুলিশ আছে বলে আমরা মনে করি না। কারণ শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রায় সময় ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত তাহলে তো নৌযানগুলো আইন মানতে বাধ্য থাকত।’
বিআইডব্লিউটিএ-এর দায় কতটুকু
বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল জানিয়েছেন, নৌযান চলাচলের জন্য বয়াবাতি, মার্কা দেয়াসহ সব রকম ব্যবস্থা তারা করে থাকেন। যানগুলোকে সঠিক পথে যেতে সব রকম দিকনির্দেশনাও দেয়া হয় তাদের পক্ষ থেকে।
তারপরও কেন দুর্ঘটনা ঘটল জানতে চাইলে কিছুটা ক্ষেপে গিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা দেখা। কারা কখন নৌযান নিয়ে যাবে, কোন নৌযান কিভাবে যাবে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের কাজ আইন দেখা আমরা আইন দেখছি।’
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য