× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Congratulations to the Emperor of Japan on Bangladesh
google_news print-icon

বাংলাদেশকে জাপান সম্রাটের অভিনন্দন

বাংলাদেশকে-জাপান-সম্রাটের-অভিনন্দন
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে জাপানের সম্রাটের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। ছবি: পিআইডি
জাপানকে দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের যে ভীত রচিত হয়েছিল, তা আজ বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত।’

মহান স্বাধীনতা দিবস এবং বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তিতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাপানের সম্রাট নারুহিতো।

বঙ্গভবনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে জাপানের সম্রাটের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করেন জাপানের সম্রাট।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের যে ভীত রচিত হয়েছিল, তা আজ বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত।’

বাংলাদেশকে জাপান সম্রাটের অভিনন্দন
রাষ্ট্রপতির কাছে জাপানের সম্রাটের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। ছবি: পিআইডি

জাপানকে দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার’ উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জাপানের অবদান ও বাংলাদেশের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের বিনিয়োগ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে।’

ভবিষ্যতেও দুই দেশের চলমান এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা রাষ্ট্রপতির।

এ সময় বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আগামী দিনগুলোতেও জাপান সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির দূত।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The country is at risk of flooding
মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত

বন্যার ঝুঁকিতে দেশ

বন্যার ঝুঁকিতে দেশ ছবি: সংগৃহীত
*ছয় জেলায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস * ঢলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা * কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত * টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের মাওসিনারাম গ্রামে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভার পড়ছে বাংলাদেশের নদ-নদীতে। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেটে এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘালয়ের উজানে এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগ) ও সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়িয়ে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মাওসিনরামে এক রাতেই যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত ভারতের রাজস্থান রাজ্যের শুষ্ক অঞ্চলগুলোর ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বৃষ্টিপাতের সমান।

মেঘালয়ের অন্যান্য এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আরকেএম সোহরা এলাকায় ৪৭০ মিলিমিটার ও মাওকিরওয়াট এলাকায় ৩৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া শেল্লা এলাকায় ১০০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগর ও মাওরিংকনেং এলাকায় ৯০ মিলিমিটার করে, জোয়াই এলাকায় ৮০ মিলিমিটার এবং বারা পানি ও রাতাচেরা এলাকায় ৭০ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

টানা ভারি বর্ষণের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। শিলং থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ডাউকি পর্যন্ত সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিলং শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত লাইটলিংকট শহরের নিচের অংশে প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে।

যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সড়কটির ক্ষতির কারণে ডাউকির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ওই রুটে যানবাহন চলাচলেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলে প্রবাহিত হয়। ফলে মাওসিনরামসহ উজানের এলাকাগুলোতে এ ধরনের অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

তারা বলছেন, বর্তমানে বন্যার কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও মেঘালয়ে স্বল্প সময়ে কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে যদি আগামী দিনগুলোতেও একই ধরনের ভারি বর্ষণ চলতে থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সেই কারণে মেঘালয়ের আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের উজাননির্ভর নদীগুলোর পানির প্রবাহও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ছয় জেলায় নিম্নাঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস: দেশের উত্তরাঞ্চল এবং উজানে ১০ দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল রোববার বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে ২ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি এবং বন্যার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী তীরবর্তী কোনো কোনো নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বুলেটিনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোর পানিও আগামী সাত দিনে সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে। সেইসঙ্গে বাড়তে পারে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল; তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, ২১ থেকে ২৮ জুন অথবা সন্নিহিত সময়ে বাংলাদেশের ভেতরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

এসব স্থানে গত সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ১০ দিনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টি বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটারে পৌঁছাতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় প্রবাহিত হতে পারে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।

একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ সময়ে নদীগুলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি সমতল বেড়েছে; যা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী সাত দিন।

এ সময়ে ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি : পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন বেড়েছে। বর্তমানে জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী পাঁচ দিন জেলার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা : গত কয়েকদিন থেকে সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ সব নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক। এতে সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী- সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইতোমধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। আগামী দুদিনে ভারি বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা স্পর্শ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা : টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল বাড়ছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কানাইঘাট এলাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জেলার পর্যবেক্ষণাধীন পয়েন্টগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সিলেট শহর এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২ মিলিমিটার।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরো বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।

তিস্তায় পানির সঙ্গে বাড়ছে, রংপুর অঞ্চলে বন্যার আভাস:

দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি ও উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের দরুণ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা উপচে যেতে পারে।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও নদীতীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম ও ঘাঘট নদীতে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও তিস্তা পাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষায় নির্মাণ করা দ্বৈত সারির বাঁশের স্পারের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন গ্রাম : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বাতকুচি গ্রামটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামবাসী।

জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের পলাশতলা বাক্কার মোড় এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে একটি বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার কৃষকরা আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পাহাড় থেকে নেমে একটি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি জলাবদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister is on his way to China after his visit to Malaysia

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ের ১০ জনসহ মোট ২৩ জন সদস্য ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মালয়েশিয়ার নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The decision to deploy the army in 6 districts of the country

দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

দেশের ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মোট ৬টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মোতায়েন করা জেলাগুলো হলো— ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনাসদস্যরা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই সেনা মোতায়েনের এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা রুখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ঢাকাকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Prime Ministers call to open the Malaysian labor market for Bangladeshi workers

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’ শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’ একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত গণম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা প্রদান করেন এবং মালয়েশীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (RCEP) যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই সফর দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Private meeting of Prime Minister with Anwar Ibrahim

আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক

আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক গুরুত্বপূর্ণ একান্ত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। একান্ত আলোচনায় বসার আগে প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

একান্ত বৈঠকের সমাপ্তি শেষে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম উপস্থিত থাকবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, হালাল অর্থনীতির বিকাশ, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে দুই দেশের সরকার প্রধান একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এই ভোজসভায় মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় শিল্পীরা মালে এবং বাংলা ভাষায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সংস্কৃতির মেলবন্ধন তুলে ধরবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The tax burden in the budget is high Increases in low income people CPD

বাজেটে করের বোঝা বেশি বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

বাজেটে করের বোঝা বেশি 
বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের: সিপিডি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর কাঠামোতে বড় বৈষম্য দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন করকাঠামোয় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বেশি বাড়ছে। এই শ্রেণির করদাতাদের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। তবে ৩০ লাখ টাকার বেশি বার্ষিক আয় করা উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক কম। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতির চাপ, কম বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য বাজেটে নির্ধারিত উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির বিদ্যমান সংকটগুলো মোকাবিলা করা জরুরি। রোববার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠানে এমন তথ্য তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি)। সম্মানিত অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, করদাতাদের আয় বাড়ার অনুপাতে করের বোঝা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২.৫ থেকে ১৬.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের দায় বাড়বে মাত্র ৭.৬ শতাংশ। এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের (শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য) বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় হয় কমছে কিংবা স্থবির আছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী ইপিজেড, জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী বড় প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে জানান তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এই বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবলই ‘রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো আশাবাদী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সরকার বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণে করা হয়েছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নতুন সরকারের নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে লক্ষ্য নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো অতি আশাবাদী। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিবাচক। তবে এই বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক নানা ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা কমে গেছে, এমন সময় চ্যালেঞ্জিং বাজেট দিতে হয়েছে। তাই ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অর্থের বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার। তিনি বলেন, বাজেট পারফেক্ট হয়েছে বলছি না। যেদিকেই হাত দিই, শুধু বকেয়া। এমন সময় দেড় মাসের মধ্যে বাজেট দিতে হয়েছে। অথচ প্রস্তুতি নিতেই অন্তত ৬ মাস দরকার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cyber ​​Sexual Harassment High Court Rules Challenging Sections of Safety Act

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি: সেফটি আইনের ধারা চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টের রুল

সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান দেয়া সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এদিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিননেজাদ। রুলে বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যতদূর পর্যন্ত সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত, প্রত্যাহৃত বা বিলুপ্ত করার বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে রুলে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজ করার আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১-এর অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো—বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো—স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের নির্দেশনা দেয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় নারী ভুক্তভোগীদের চলমান মামলাগুলোর সুরক্ষার জন্য কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন মেকানিজম’ রাখা হয়নি। ফলে সাইবার যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি সংবিধানে প্রদত্ত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, মামলাটি ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতিকার প্রদানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য

p
উপরে