× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Traders demand reduction of VAT in retail and wholesale business
hear-news
player
print-icon

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় ভ্যাট কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

খুচরা-ও-পাইকারি-ব্যবসায়-ভ্যাট-কমানোর-দাবি-ব্যবসায়ীদের
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মঙ্গলবার এফবিসিসিআই আয়োজিত এনবিআরের পরামর্শক কমিটির যৌথ সভায় আলোচকরা। ছবি: নিউজবাংলা
বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে যেকোনো পণ্য কিনলে পাঁচ শতাংশ হারে ভ্যাট কেটে রাখা হয়। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এটি ৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।  

খরচ কমাতে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট কমানোর দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখতে চান তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এফবিসিসিআই আয়োজিত এনবিআরের পরামর্শক কমিটির যৌথ সভায় তারা এ দাবি জানান।

বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে যেকোনো পণ্য কিনলে পাঁচ শতাংশ হারে ভ্যাট কেটে রাখা হয়। আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এটি ৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া ছোট ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ ভ্যাটের আওতা থেকে মুক্ত রাখার কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।

নতুন ভ্যাট আইনে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ক্ষেত্রে ভ্যাটমুক্ত থাকলেও পরে এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সেটি বাতিল করে । ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাট দিতে হয়।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়ার দাবি এবং নতুন বাজেটে এ বিষয়ে ব্যবস্থার নেয়ার প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে পুরোপুরি ভ্যাট প্রত্যাহার, সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির হিসাব মেশিন ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি বসানো, নগদ সহায়তায় আরও বেশি বরাদ্দ, নির্মাণশিল্পের উপকরণে সব ধরনের শুল্ক-কর কমানো, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দেয়া হয় তাদের আয়ে কর ছাড় দেয়াসহ নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।

খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ভ্যাট কমানো ও ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলালউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘এ খাতে ভ্যাট কমালে ভোক্তা উপকৃত হবে। অন্যদিকে আদায় দুই থেকে তিন গুণ বাড়বে।’

বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোঁরা মালিক সমিতির ইমরান হোসেন বলেন, ‘করোনায় এ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ভ্যাটের মাত্র শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ আদায় হয়। ফলে নামমাত্র এই ভ্যাট আদায় না করলে সরকারের রাজস্বে তেমন প্রভাব পড়বে না।’

নিত্যপণ্যের ওপর টার্নওভার কর তুলে নেয়ার কথা বলেন বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মাওলা।

ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধের অভিযোগ করেন কিশোরগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বেলাল।

তিনি বলেন, ‘পকেট রাজস্ব বন্ধ না করতে পারলে আদায় বাড়বে না।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কনস্ট্রাকশনের সভাপতি খোরশেদ আলম নির্মাণ সামগ্রীর উপকরণের শুল্ক-কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন।

যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের চাকরি দেয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের আয়ে কর রেয়াত দেয়ার দাবি জানান বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ চৌধুরী।

এসএমই খাতে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন সংস্থার এমডি মফিজুর রহমান।

নগদ সহায়তায় আরও বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করেন বিকেএমইএর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম।

মেনমেইড ফাইবারের ওপর সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে নেয়ার দাবি জানান বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসেন।

আরও পড়ুন:
রিজেন্সি হোটেলের ৫৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি
ভোজ্যতেলে ভ্যাট প্রত্যাহার
ফেমাস গ্রুপের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা
পণ্যের দাম বাড়ার কারণ ‘ভ্যাট’
কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Two thousand crore remittance in one day

এক দিনেই দুই হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

এক দিনেই দুই হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নেমেছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ততই বাড়ছে। বুধবার এক দিনেই ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) টাকার অঙ্কে এক দিনের এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে এত রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

আর প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের দরের চেয়েও বেশি দামে রেমিট্যান্স দেশে আনছে। কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশে আনছে।

এ হিসাবে টাকার অঙ্কে এই এক দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

রেমিট্যান্সপ্রবাহে নিম্নমুখী ধারায় শেষ হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছর। ৩০ জুন শেষ হওয়া এই অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

১০ জুলাই দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুসহ প্রয়োজনীয় অন্য কেনাকাটা করতে অন্যান্যবারের মতো এবারও পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। সে কারণেই রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি ঈদের পর মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই) ৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গড়ে প্রতিদিন এসেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর মধ্যে প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ জুলাই) এসেছিল ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ৬ জুলাই বুধবার এসেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর আগে কোনো ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি। ঈদের ছুটির আগে আরও এক দিন (বৃহস্পতিবার) ব্যাংক খোলা। এ দিনেও একই হারে রেমিট্যান্স আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সিরাজুল ইসলাম।

আর রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনের কারণে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার আকুর আমদানি বিল একটু কম এসেছে, ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার এই বিল পরিশোধ করা হবে। তখন রিজার্ভ বেশ খানিকটা কমে আসবে। তবে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামবে না।’

‘বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার। ঈদের আগের এক দিনের রেমিট্যান্স যোগ হলে তা আরও বাড়বে। তখন সেখান থেকে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার চলে গেলে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের ওপরেই অবস্থান করবে।’

আমদানি ব্যয় বাড়ায় গত ৯ মে আকুর রেকর্ড ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর সপ্তাহ খানেক রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থান করে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় কয়েক দিন পর অবশ্য তা ৪২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। বাজারে ডলারের সংকট দেখা দেয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর ডলার বিক্রি করায় সেই রিজার্ভ ফের ৪২ ডলারের নিচে নেমে আসে; একপর্যায়ে তা ৪১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।

এর আগের মেয়াদে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মেয়াদে আকুর ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল শোধ করা হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল- প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

আরও পড়ুন:
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সৌদি প্রবাসীদের রাষ্ট্রদূতের খোলা চিঠি
প্রতিদিন ৬০০ কোটি টাকার বেশি পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা
রেমিট্যান্সে প্রণোদনা আগের মতোই
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ৮১ মিশনে চিঠি
মে মাসে ১৬৭৮০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The capital market on Eid holidays with a sullen face

গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
‘ঈদের আগে বাজার নেতিবাচক হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। বাজার কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। জুলাইয়ে কিছু ফান্ড ইনজেক্ট হয়, ঈদের পর হয়তো সেটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের তো ফান্ড কালেক্ট করতে হবে। এখন তারা কতটুকু সমর্থ হবেন, সেটাই দেখার বিষয়। এই মুহূর্তে পুঁজিবাজার নিয়ে মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।’

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে বিনিয়োগকারীদের হাসিটা স্ফীত হতে পারত, এমনকি লেনদেন ঘণ্টা দুয়েক অতিবাহিত হওয়ার পরও এমনটা ভাবা হচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তের দরপতনে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুঁজিবাজার।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বিপুলসংখ্যক শেয়ারের দরপতনে সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য ইতিবাচক ছিল, কিন্তু সূচকে যোগ হয়েছে এক পয়েন্টেরও কম। শূন্য দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে সূচক অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে।

অন্যদিকে পতন হয়েছে শরিয়াহ্ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচক ডিএসইএস, কমেছে ১ পয়েন্ট। বড় মূলধনি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ব্লু-চিপ বা ডিএস৩০ সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ৬ পয়েন্ট।

দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি ঈদের ‍দুই দিনের ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে আবার লেনদেন চলবে মঙ্গলবার।

লেনদেনের ২৪ মিনিটেই সূচক আগের দিনের ১৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর দরপতনে কিছুটা কমে গেলেও বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে আবারও ২০ পয়েন্ট যোগ হয়ে লেনদেন হয়। এরপর দরপতন সূচক টেনে নিয়ে যায় ৬ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কম। শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে সামান্য সবুজ থেকে লেনদেন শেষ হয়।

প্রায় সমানসংখ্যক শেয়ার দর বৃদ্ধি ও পতন হয়েছে। ১৬৬টি শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৪৯টির। অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে ৬৩টি কোম্পানির শেয়ার।

লেনদেন আগের দিনের চেয়ে একটু বেশি হয়েছে। দিনভর হাতবদল হয়েছে ৭৮৮ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার টাকার শেয়ার, যা গতকালের চেয়ে ৪১ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বেশি।

এ নিয়ে সপ্তাহের তিন দিনে সূচক পড়েছে ৩৫ পয়েন্ট, বিপরীতে দুই দিনে যোগ হয়েছে ২৬ পয়েন্টের কাছাকাছি।

গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসের লেনদেন বিনিয়োগকারীদেরকে খুব একটা খুশি করেনি

তবে ঈদের আগে পুঁজিবাজারের মন্দা পরিস্থিতি এবারই প্রথম নয়। গত ৩ মে ঈদ উল আজহার আগের শেষ কর্মদিবস ছিল ২৮ এপ্রিল। সেদিন ২১ পয়েন্ট সূচকের সঙ্গে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ৬২ কোটি কমতে দেখা যায়। এ ছাড়া ঈদের পরেও বেশ কিছু দিন মন্দার মধ্যেই ছিল পুঁজিবাজার।

চলতি বছরের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ, ইউক্রেন যুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন- ইত্যাদি কারণে মন্দা যেন কাটছিল না। এমতাবস্থায় নতুন অর্থবছরে নতুন বিনিয়োগে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে এমন আশার বাণী শোনান পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

তবে অর্থবছরের শুরুতেই ঈদের কারণে আবারও কিছু ঝিমিয়ে পড়েছে পুঁজিবাজার। ঈদের আগে বাজারকে কোনোভাবে মূল্যায়ন করতে চান না সংশ্লিষ্টরা।

মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘ঈদের আগে বাজার নেতিবাচক হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। বাজার কোন দিকে যাবে তা নিয়ে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। জুলাইয়ে কিছু ফান্ড ইনজেক্ট হয়, ঈদের পরে হয়তো সেটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদেরকে তো ফান্ড কালেক্ট করতে হবে। এখন তারা কতটুকু সমর্থ হবেন, সেটাই দেখার বিষয়। এই মুহূর্তে পুঁজিবাজার নিয়ে মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।’

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে লোকসানি কোম্পানি জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ দাম ৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি ৬০ পয়সায় আয় হয়েছিল কোম্পানির। এরপর টানা তিন বছর লোকসান গুনছে। ফলে এই তিন বছর কোনো লভ্যাংশ পাননি বিনিয়োগকারীরা। তবে তার আগে ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ দর বেড়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর সময়ে এক বছর ছাড়া প্রতিবারই লোকসান দিয়েছে কোম্পানি। ২০১৯ সালে মাত্র ৯৩ পয়সা আয় দেখিয়েছিল সোনারগাঁও। গত অর্থবছরের শেয়ারপ্রতি ১৩ টাকা ৩৫ পয়সা লোকসান হয়েছে কোম্পানি।

তবে অজানা কারণে ২৩ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিক দর বৃদ্ধি পাচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ারের। ওই দিন শেয়ার দর ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হওয়া শেয়ারটি দর বেড়ে আজ সর্বশেষ ৫১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

দর বৃদ্ধির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের। ধারাবাহিক তিন কর্মদিবস দর বাড়ল কোম্পানিটি। ২০২১ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি প্রথম বছরেই ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

তালিকার দশে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এর পরের স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নূরানী ডায়িং, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, প্রাইম টেক্সটাইল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সাফকো স্পিনিংস মিলস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও লোকসানি কোম্পানি তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড।

দর পতনের শীর্ষ ১০

দরপতনের শীর্ষে রয়েছে পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির দর দিনের সর্বোচ্চ অর্থাৎ ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে হাতবদল হয়েছে ৫৪ টাকায়। এ নিয়ে তিন কর্মদিবস কোম্পানিটির দর কমল। এর আগে ৮ জুন লেনদেন শুরুর পর ঘোড়ার বেগে দর বেড়েছে শেয়ারটির।

একই সমান দর কমেছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। ৮০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৮ টাকা ৮০ পয়সায়।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ নগদ ছাড়া সবই বোনাস।

পতনের তালিকায় এর পরেই রয়েছে লোকসানি জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের। সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ দর পতনের মাধ্যমে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়িয়েছে ১৭৭ টাকা ৯০ পয়সা।

১৯৮৮ সালে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানিটি কোনো দিন লাভের মুখ দেখেনি। লভ্যাংশ জোটেনি বিনিয়োগকারীদেরও। তবে কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপক ওঠানামা করে। ২৬ জুন ১৬৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেনের পরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর তিন কর্মদিবস কমল।

দর দর পতনের শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে নর্দার্ন ইসলামি ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ক্যাবলস, জুট স্পিনার্স লিমিটেড, রেনউইক যজ্ঞেশর, রবি, শ্যামপুর সুগার মিলস এবং সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স।

সূচক বাড়াল যারা

সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৩২ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এদিন কোম্পানিটির দর ৬ দশমিক শূন্য ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।

সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট যোগ করেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। দর শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ১৬ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়ালটন হাইটেক, বেক্সিমকো সুকুক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, খুলনা পাওয়ার ও বিকন ফার্মা সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৬১ পয়েন্ট সূচক কমেছে গ্রামীণফোনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমিয়েছে রবি। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এর পরই বেক্সিমকো লিমিটেডের দর শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ২৩ পয়েন্ট।

এ ছাড়া আইসিবি, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, আল আরাফাহ ব্যাংক ও ফরচুন সুজের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ব্যান্ডউইথড ক্যাপাসিটি বাড়াবে বিএসসিসিএল
অর্থবছরের প্রথম দিন স্বস্তি দিল না পুঁজিবাজারে
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর
পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Business leaders want uninterrupted electricity even at higher prices

বাড়তি দামে হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান ব্যবসায়ীরা

বাড়তি দামে হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের যে চাহিদা তা পূরণ করার সক্ষমতা নেই দেশীয় উৎপাদনে। ফাইল ছবি
আমরা মনে করি লোডশেডিং তো বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম বাড়ানোর চাইতেও আরও বেশি ক্ষতি করছে। সরকার যদি মনে করে যে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না, তাহলে দেবে না। প্রয়োজনে সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিক। কারণ করার তো কিছু নেই: এফবিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন কমাতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি শিল্প খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। একজন ব্যবসায়ী নেতা প্রয়োজনে বাড়তি দাম দিয়ে হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।

দেশে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা এই মুহূর্তে চাহিদা পূরণের জন্য কেবল যথেষ্ট নয়, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও ক্ষমতা রাখে, তবে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই উৎপাদন ক্ষমতার অনেকটাই বসিয়ে রাখতে চাইছে সরকার।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের যে চাহিদা, তা পূরণ করার সক্ষমতা নেই দেশীয় উৎপাদনে। আমদানি করা গ্যাস দিয়ে যে চাহিদা মেটানো হতো, সেটিও আপাতত কঠিন। কারণ গত এক বছরে তরল গ্যাস ও এলএনজির দাম ১০ গুণ হয়ে যাওয়ায় সরকার আপাতত আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্বালানি তেলের দামও এখন বেশি। আর আরেক কাঁচামাল কয়লাও সহজলভ্য নয়; যুদ্ধের কারণে পরিবহনও ঝুঁকিতে। আর বৈদেশিক লেনদেনে রেকর্ড ঘাটতির কারণে বাড়তি দাম দিয়ে আমদানি সীমিত করে দেশে লোডশেডিং করার নীতি নিয়েছে সরকার। এতে শিল্পের উদ্যোক্তারা পড়েছেন বিপাকে।

গত এক যুগে বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে অনেক শিল্পে নিজস্ব যে ব্যবস্থাপনা ছিল, সেটিও কমানো হয়েছে। বেশির ভাগ শিল্পেই নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিংয়ের পুরো সময় বন্ধ থাকছে উৎপাদন।

বড় শিল্পগুলোয় জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালিয়ে নেয়ার চেষ্টাও পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। আড়াই ঘণ্টার লোডশেডিং হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কারখানা সচল থাকছে বড়জোর দেড় ঘণ্টা। বাকি সময় থাকছে বন্ধ।

আবার এভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যে নির্দিষ্ট সময়ে জাহাজীকরণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এলএনজিসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এটি সত্য। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানিতে প্রতিদিন প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে এটিও সত্য। আবার আমরা ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম না বাড়াতে বলছি—এটিও মিথ্যা নয়।

‘আমরা মনে করি, লোডশেডিং তো বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম বাড়ানোর চেয়েও আরও বেশি ক্ষতি করছে। সরকার যদি মনে করে যে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না, তাহলে দেবে না। প্রয়োজনে সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিক। কারণ করার তো কিছু নেই, কিন্তু আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, উৎপাদন ও সেবা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে বিদ্যুৎ, গ্যাস লাগবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে দাম না বাড়ালে তাদের প্রায় ৩০ হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে, আর গ্যাস সেক্টর বলছে দাম না বাড়ালে চলতি বছর (২০২২ সালে) তাদের প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে।

বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট করে বাড়ছে। বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়ামের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিদিন ৮০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে মাসিক ক্ষতি হবে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

শুধু তা-ই নয়, গ্যাস, বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ খেলাপি বিলও আছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এখন বিদ্যুতের বিল বকেয়া আছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। আর গ্যাসের বিল বকেয়া আছে ৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

ব্যবসায়ীদের আরেক সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে একটি ক্রাইসিস পিরিয়ড টলছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারকে যেখানে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা নিতে হবে।

‘আমরা বলব, এই ব্যয় সংকোচন নীতি তথা কৃচ্ছ্রসাধনে লোডশেডিংয়ের উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই শিল্প-কারখানার ওপর প্রভাব না ফেলে। আবার এই উদ্যোগের বিরোধিতাও করছি না। এ ক্ষেত্রে সরকারের উচিত কৌশলী হওয়া।’

তিনি কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারের পরামর্শ দিয়েছেন যেন সাধারণ মানুষ বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘যার বাসায় একাধিক এসি আছে, তার তো সারা দিন সবকটি এসি ব্যবহার না করলেও চলে। প্রয়োজনে একটা চালাক। সব লাইট জ্বালিয়ে রাখার তো দরকার নেই। আজকে ঢাকা শহরে মসজিদের অভাব নেই। সব মসজিদেই এসি আছে। চার্চে এসি আছে।

‌‘এগুলো সাময়িক ব্যবহার না করলেও চলে। অফিস-আদালতেও এসি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে একই কথা প্রযোজ্য। তাহলে এখানেও বিদ্যুতের একটা বড় সাশ্রয় হয়। এ ক্ষেত্রে মোটিভেশনাল ম্যাসিভ প্রোগ্রাম ও প্রচারণা নেয়া দরকার।’

বিদ্যমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে তো সবারই ক্যাপটিভ পাওয়ার আছে, কিন্তু যারা ছোট-মাঝারি তাদের তো আর সবার ক্যাপটিভ পাওয়ার নেই। তারা সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তা ছাড়া আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করছি যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সচল রাখা, কর্মসংস্থানকে ধরে রাখা।’

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘লোডশেডিং চলাকালে আমরা পুরো সময় তো ক্যাপটিভ পাওয়ার চালাতে পারছি না। দুই ঘণ্টার জায়গায় হয়তো এক ঘণ্টা জেনারেটর চালালাম। বাকি সময় তো বন্ধই থাকছে। ফলে উৎপাদন কম হচ্ছে।

‘এভাবে চললে সময়মতো রপ্তানি অর্ডার শিপমেন্ট করা যাবে না। তখন বাধ্য হয়ে এয়ারশিপমেন্টে যেতে হবে অথবা নির্ধারিত প্রেইসের সঙ্গে ডিসকাউন্ট আপস করতে হবে, যার লোকসান উদ্যোক্তাকেই বহন করতে হয়।

‘এর চেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সক্ষমতার ৫০ শতাংশে নেমে আসছে, যার কারণে আমরা বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এর বিরূপ প্রভাব কিন্তু গোটা অর্থনীতিতেই অচিরেই পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ রেশনিং চায় এফবিসিসিআই
সিলেট শহর দিনে ৬ ঘণ্টা, গ্রাম ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল উন্নত দেশও
গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন: প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The state minister has indicated an increase in fuel oil prices

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছি, ৬-৭ মাস ধরে জ্বালানি তেলের মূল্য ঊর্ধ্বগতি। যে তেল আমরা ৭০ থেকে ৭১ ডলারে কিনতাম, সেটা এখন ১৭১ ডলার হয়ে গেছে। সেটা সব সময় বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। আমরা বলে আসছি প্রথম থেকেই যে আমরা জ্বালানি তেলের দামে এডজাস্টমেন্টে যাব। আমরা নিজেদের অর্থে দিয়ে যাচ্ছি ভর্তুকিটা। তার পরও আমার মনে হয় আমাদের একটা সময় এডজাস্টমেন্টে যেতে হবে প্রাইসে।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

এতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছি, ৬-৭ মাস ধরে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। যে তেল আমরা ৭০ থেকে ৭১ ডলারে কিনতাম সেটা এখন ১৭১ ডলার হয়ে গেছে। সেটা সব সময় বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। আমরা বলে আসছি প্রথম থেকেই যে আমরা জ্বালানি তেলের দামে এডজাস্টমেন্টে যাব। আমরা নিজেদের অর্থে দিয়ে যাচ্ছি ভর্তুকিটা। তার পরও আমার মনে হয় আমাদের একটা সময় এডজাস্টমেন্টে যেতে হবে প্রাইসে।

‘সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেলের দাম তারা সমন্বয় করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কথাই বলি, সেখানে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ টাকা ডিফারেন্স লিটারপ্রতি বিভিন্ন তেলের ক্ষেত্রে।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস দিয়ে আমাদের ৬৪ শতাংশ বিদ্যুৎ চলে। আমাদের যে নিজস্ব গ্যাস, আমরা দিন দিন বাড়াচ্ছি আবার দিন দিন কমছেও। দুটো দিকই আছে। যেটা আমরা বাড়াচ্ছি, যে খনিগুলো থেকে আমরা পাচ্ছি, সেটা স্বল্প পরিমাণে পাচ্ছি। আর যেটা কমছে সেটা কমছে দ্রুতগতিতে। সেটাও আমরা প্রায় ১০ বছর থেকে বলে আসছি, আস্তে আস্তে গ্যাস কিন্তু ডিকলাইনের দিকে যাবে।

‘সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমরা যে এডজাস্টমেন্টটা করতাম, যে ঘাটতিটা ছিল গ্যাসে, সেটা আমরা ইমপোর্ট গ্যাস দিয়ে পূরণ করতাম। এর মধ্যে আমার দুটি ধারা, একটি হলো লং টার্ম কনটাক্ট সে প্রাইসটা ফিক্স করা। তুলনামূলক এই দামটা তেলের সঙ্গে ওঠানামা করে। আরেকটা হলো স্পট মার্কেট। এই মার্কেটের ডিমান্ড বেড়ে গেছে প্রচন্ডভাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল এবং গ্যাসের দাম প্রচন্ডভাবে এফেক্ট করেছে। ইউরোপের অধিকাংশ গ্যাস নেয় রাশিয়া থেকে। সেটা তারা এখন বন্ধ করে দিচ্ছে বলেই সব দেশ এই গ্যাসের ওপর (স্পট মার্কেট) প্রচন্ডভাবে নির্ভরশীল হয়ে গেছে।’

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এ কারণে যেটা ৪ ডলারের গ্যাস, সেটা ৩০ ডলার হয়ে গেছে স্পট মার্কেটে। সেটা কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকি দিয়েও এটা সম্ভব হবে না, এই পরিমাণ অর্থ জোগান দেয়া। আমরা যদি শুধু দাম বাড়াতেই থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রচন্ডভাবে চাপ তৈরি হবে। আমি আগে থেকেই বলে আসছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন কিছু করবেন না যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে থাকে। এর কারণে আমরা গ্যাসে সামান্য পরিমাণ মূল্য সংযোজন করেছি।

‘এখনও আমরা তেলে করিনি। আমি আশা করব, সবাই বিষয়টি বুঝতে পারবেন আর ধৈর্য ধরবেন। এটি খুব সাময়িক। আমাদের প্রচুর পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে। কিন্তু গ্যাসের কারণে সেগুলোতে আমরা পাওয়ার জেনারেশন কমিয়ে দিয়েছি। আমরা প্রায়োরিটি দিয়েছি গ্যাসটাকে যে সার উৎপাদনে বেশি খেয়াল রাখব আর ইন্ডাস্ট্রিতে গ্যাসটা বেশি দেব। আপনাদের সবাই যদি গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হন তাহলে এটা আমরা নিশ্চয়ই মোকাবিলা করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আপনারা ভরসা রাখেন, নিশ্চয়ই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিপদমুক্ত হব।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ানোর চিন্তা
সহনীয় রেখেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে: প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়ছে
বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে চাই সমন্বিত মহাপরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Five thousand crore remittance in five days

পাঁচ দিনেই পাঁচ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

পাঁচ দিনেই পাঁচ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
১০ জুলাই দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুসহ প্রয়োজনীয় অন্য কেনাকাটা করতে অন্যান্যবারের মতো এবারও পরিবার-পরিজানের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এর আগে কোনো ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে হোঁচট খেলেও ঈদের আগে রেমিট্যান্সে বন্যা বইছে। মাত্র পাঁচ দিনেই ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আর প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) টাকার অঙ্কে পাঁচ দিনের এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে প্রতিদিন ১ হাজার কোটি টাকার বেশি দেশে পাছাচ্ছেন প্রবাসীরা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের দরের চেয়েও বেশি দামে রেমিট্যান্স দেশে আনছে। কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশে আনছে।

এ হিসাবে টাকার হিসাবে এই পাঁচ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

রেমিট্যান্সপ্রবাহে নিম্নমুখী ধারায় শেষ হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছর। ৩০ জুন শেষ হওয়া এই অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

১০ জুলাই দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুসহ প্রয়োজনীয় অন্য কেনাকাটা করতে অন্যান্যবারের মতো এবারও পরিবার-পরিজানের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। সে কারণেই রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি ঈদের পর মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ জুলাই) ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিন এসেছে ১০ কোটি ৭২ লাখ ডলার।

এর আগে কোনো ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি। ঈদের ছুটির আগে আরও দুই দিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ব্যাংক খোলা। এই দুই দিনেও একই হারে রেমিট্যান্স আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সিরাজুল ইসলাম।

আর রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনের কারণে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার আকুর আমদানি বিল একটু কম এসেছে, ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার এই বিল পরিশোধ করা হবে। তখন রিজার্ভ বেশ খানিকটা কমে আসবে। তবে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামবে না।’

‘বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। ঈদের আগে দুই দিনের রেমিট্যান্স যোগ হলে তা আরও বাড়বে। তখন সেখান থেকে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার চলে গেলে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের ওপরেই অবস্থান করবে।’

আমদানি ব্যয় বাড়ায় গত ৯ মে আকুর রেকর্ড ২২৪ কোটি (২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর সপ্তাহ খানেক রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থান করে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় কয়েক দিন পর অবশ্য তা ৪২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। বাজার ডলারের সংকট দেখা দেয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর ডলার বিক্রি করায় সেই রিজার্ভ ফের ৪২ ডলারের নিচে নেমে আসে; এক পর্যায়ে তা ৪১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।

এর আগে মেয়াদে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মেয়াদে আকুর ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল শোধ করা হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল- প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

আরও পড়ুন:
প্রতিদিন ৬০০ কোটি টাকার বেশি পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা
রেমিট্যান্সে প্রণোদনা আগের মতোই
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ৮১ মিশনে চিঠি
মে মাসে ১৬৭৮০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা
২৬ দিনেই ১৪৭৩০ কোটি টাকা পাঠালেন প্রবাসীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Soybean oil prices have not come down even within 10 days of the announcement

ঘোষণার ১০ দিনেও কমেনি সয়াবিন তেলের দাম

ঘোষণার ১০ দিনেও কমেনি সয়াবিন তেলের দাম দাম কমানোর ঘোষণা দেয়ার ১০ দিন পরও বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। ফাইল ছবি
বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করে ২৬ জুন ভোজ্যতেলের নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনারি অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। বলা হয়, লিটারে ৬ টাকা কমিয়ে পরদিন থেকে নতুন দামে তেল বিক্রি হবে। কিন্তু দাম আর কমেনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে ২৭ শতাংশের বেশি দাম কমার পর দেশে তেলের দাম লিটারে কেবল ৬ টাকা কমানো নিয়ে সমালোচনা ছিল। তবে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তারও বাস্তবায়ন হয়নি।

সরকার সিদ্ধান্ত জানানোর ১০ দিন পরও ভোক্তাদের এখনও আগের দাম ২০৫ টাকা লিটার দরেই তেল কিনতে হচ্ছে। অথচ এর আগে যখন তেলের দাম বাড়ানো হয়, তখন দেখা গেছে সরকারের ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি দাম রাখা শুরু হয়ে যায়।

খুচরা পর্যায় থেকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন দামের তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই পুরোনো তেল বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প নেই।

আবার পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম নির্ধারণের পর নতুন দামের তেল আসতে তিন-চার দিন সময় লেগেছে। তাই খুচরা পর্যায়ে যেতে সময় লাগবে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঙ্গে বৈঠক করে ২৬ জুন ভোজ্যতেলের নতুন দাম কার্যকরের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনারি অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। বলা হয়, পরদিন থেকে নতুন দামে তেল বিক্রি হবে।

সেদিন এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১৯৯ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমিয়ে আনা হয় ৫ টাকা। অর্থাৎ লিটারপ্রতি নতুন দাম নির্ধারণ হয় ১৮০ টাকা।

আর পাঁচ লিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৮০ টাকা, যা আগের চেয়ে দাম কম ১৭ টাকা।

তবে পাম অলিন তেলের দাম বেঁধে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে পাম অলিন।

কিন্তু এই ঘোষণা কার্যকর করা যায়নি। আর এ নিয়ে সরকারি সংস্থার কোনো তৎপরতাই চোখে পড়েনি।

মিরপুরের ৬০ ফুট রোডের জহির জেনালের স্টোরের জসিম মিয়া জানান, তেলের দাম ২০৫ টাকা লিটার। ঘোষণা তো ১৯৯ টাকার। ৬ টাকা কেন বেশি দেব- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নতুন দামের তেল এখনও সরবরাহ করা হয়নি। কোম্পানির প্রতিনিধি তেল দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুরোনো তেলই বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা নতুন দামের তেল চাচ্ছেন, কিন্তু দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বৌবাজারের মুদি ব্যবসায়ী রোকন বলেন, ‘দাম বাড়লে সেই তেল দ্রুতই বাজারে চলে আসে। কিন্তু কমলে কোম্পানির লোকের দেখা যায় না। পুরোনো দামের তেল শেষ হলে তারপর নতুন দামের তেল দেয়া হবে।’

শেওড়াপাড়া বাজারে আলিম স্টোরে তেল কিনতে আসা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘তেলের দাম কমেছে শুনেছি। কিন্তু বাজারে সেটার প্রভাব পেলাম না। দুই লিটার তেল ৪১০ টাকায় কিনতে হলো।’

একই দোকানে তেল কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়। কিন্তু কমানো হলে সেটা আর দিতে চায় না।’

ব্যবসায়ী তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘নতুন তেল আসতে শুরু করেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ এখনও দেয়া হয়নি। বাজারে মনিটরিং না করা হলে দাম কার্যকর করা কঠিন।’

হাতিরপুল বাজারে দুই-একটি দোকানে নতুন দামের তেল এসেছে। ব্যবসায়ী রফিক জানান, পুরোনো তেল থাকায় নতুন দামের তেল নেয়া হচ্ছে না।

পাইকারি বাজারের চিত্র

পাইকারি বাজারে নতুন দামের তেল পর্যাপ্ত। মৌলভীবাজার এবং কারওয়ান বাজারে তেলের ঘাটতি নেই।

কারওয়ান বাজারের ডিলার বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘দাম নির্ধারণের তিন-চার দিন পর নতুন দামের থেকে তেল সরবরাহ শুরু করেন মিলমালিকরা। পাইকারি বাজারে এখন তেলের সরবরাহে ঘাটতি নেই। চাহিদামতো তেল এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মাওলা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিম্নমুখী। সেই প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে তেলের দাম আরও কম।’

মৌলভীবাজারে প্রতি মণ খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৫৯৫ টাকা। আর সুপার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৬ হাজার ১১০ টাকা এবং পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৯০ টাকা।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে ভোজ্যতেলের লিটার এক লাফে ৬০৫ রুপি
ইন্দোনেশিয়ার পদক্ষেপ কমাবে ভোজ্যতেলের দাম
জব্দ তেল খোলা বাজারে বিক্রির নির্দেশ
মধ্যরাতে অভিযান, সাড়ে ৪ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ
ব্যাখ্যা দিতে একমাস সময় পেল চার তেল কোম্পানি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Revenue income is around Rs 3 lakh crore

রাজস্ব আয় ৩ লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই

রাজস্ব আয় ৩ লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব ভ্যাট কমিশনারেট এবং কর অঞ্চল থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য আসেনি। যে কারণে রাজস্বের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, কোরবানির ঈদের পর আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।’

করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সংকটময় সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আরেকটি অর্থবছর পার করেছে বাংলাদেশ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেও পিছু হটেনি।

এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বলা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছর ভালোভাবেই পার হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক রাজস্ব খাতে।

সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাপ্ত অর্থবছরে সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট ও আয়কর মিলে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধির এই হার আগের বছরের চেয়ে কম হলেও আদায় বেড়েছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছর রাজস্বে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০ শতাংশ। আদায় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

বিদায়ী বছরে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্বের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘাটতি হতে পারে।

অবশ্য গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রায় কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। মূল লক্ষ্যমাত্রা যা প্রাক্কলন করা হয়েছিল, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় সেটিই বহাল রাখা হয়। ফলে ঘাটতি বেশি হয়েছে বলে জানান রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা।

মোট বাজেটের ৮৫ শতাংশ অর্থ জোগান দেয়া হয় এনবিআরের সংগৃহীত রাজস্বের মাধ্যমে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। কারণ এটি সব সময় বেশি ধরা হয়। আমরা চেষ্টা করছি, লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানোর। শিগগিরই ভালো ফল দেখতে পাবেন।’

নতুন অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘অবশ্যই। যদিও এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখা দেননি তিনি।’

জানা গেছে, গতবার আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি শুল্ক- এ তিনটি খাতের মধ্যে সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমদানিতে। তবে কিছুটা পিছিয়ে আছে ভ্যাটে।

আমদানি বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমদানি শুল্ক আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই খাতে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার শুল্ক আয় হয়।

এর মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম থেকে এসেছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বাকি শুল্ক আহরণ হয় স্থলপথের প্রধান শুল্কবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসসহ অন্য শুল্কস্টেশনের মাধ্যমে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের মাধ্যমে আহরণ হয় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব ভ্যাট কমিশনারেট এবং কর অঞ্চল থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য আসেনি। যে কারণে রাজস্বের হিসাব চূড়ান্ত হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, কোরবানির ঈদের পর আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সাড়া নেই, বারবার টাকা সাদা করার সুযোগ কেন?
বড় বাজেটে এবারও রাজস্বে ‘উচ্চাভিলাষী’ লক্ষ্যমাত্রা
এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন হচ্ছে
টাকা পাচার রোধে কঠোর আইন চায় ইআরএফ
এনবিআর কর্মীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার নির্দেশ

মন্তব্য

p
উপরে