× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The decision to increase was immediately delayed by the announcement of price reduction
google_news print-icon

বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সঙ্গে সঙ্গে, দাম কমানোর ঘোষণায় গড়িমসি

বাড়ানোর-সিদ্ধান্তে-সঙ্গে-সঙ্গে-দাম-কমানোর-ঘোষণায়-গড়িমসি
কমদামে তেল কিনতে টিসিবির ট্রাকের লাইনে ক্রেতারা। ফাইল ছবি
তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর খুচরা বাজারে প্রভাব পড়তে দেরি না হলেও এখন কেন এমনটি হবে- এমন প্রশ্নের জবাব না খুচরা ব্যবসায়ী, না পাইকারি ব্যবসায়ী, না উৎপাদক-পরিবেশক- কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। 

ভোজ্যতেলের বাড়ন্ত বাজার আপাতত ঠান্ডা হলো ভ্যাট প্রত্যাহারে। সেই সঙ্গে কিছুটা কমানো হয়েছে দর।

তবে সরকার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলে পর দিন থেকেই বাজারে নতুন দামে বিক্রির যে ঘটনা দেখা যায়, কমানোর সিদ্ধান্তে সেটি দেখা গেল না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৬৮ টাকা লিটারের জায়গায় ১৬০ টাকা লিটার ধরে যে তেল মিল থেকে ছাড়া হচ্ছে, সেটি এখনও খুচরা পর্যায়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

কোম্পানিগুলো বলছে, নতুন দামে নিজ নিজ পরিবেশকদের কাছে তেল দিচ্ছে আমদানিকারক, পরিশোধন ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো। তবে স্বল্প প্রস্তুতির কারণে সরবরাহের ছিল কম।

আবার মিল থেকে যেটুকুই ছাড়া হয়েছে সেটিও পৌঁছেনি পাইকারি পর্যায় হয়ে খুচরা পর্যায়ে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগবে। তেলের দাম আরও বাড়তে পারে- এমনটি ভেবে যারা মজুত করেছিলেন, তারা সেই তেল বিক্রি করে নতুন তেল কিনবেন।

তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর কেন খুচরা বাজারে প্রভাব পড়তে দেরি না হলেও এখন কেন এমনটি হবে- এমন প্রশ্নের জবাব না খুচরা ব্যবসায়ী, না পাইকারি ব্যবসায়ী, না উৎপাদক-পরিবেশক- কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

করোনা পরিস্থিতি উন্নতির সঙ্গে সারা বিশ্বেই পণ্যমূল্য বাড়ছে ব্যাপক হারে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সয়াবিন তেল নিয়ে।

গত বছর রোজার সময় দাম ছিল লিটারে ১৩৪ টাকা। সেটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ হয় ১৬৮ টাকা। মার্চ থেকে আরও ১২ টাকা বাড়িয়ে লিটারে ১৮০ টাকা করতে চেয়েছিল ব্যবসায়ীরা।

সরকার এবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার পর বাজারে সরবরাহে দেখা দেয় ঘাটতি। চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার মধ্যে সরকার তেলের উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়।

তেলের সিংহভাগ আমদানি করে পরিশোধন করা হয়। আর উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে পুরোটা আর আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ রেখে বাকি সব ভ্যাট প্রত্যাহার করার পর খরচ ও মুনাফা হিসাব করে লিটারে দাম আট টাকা কমানো হয়েছে।

নতুন দাম সোমবার থেকেই কার্যকর, সেটি জানিয়ে দেয়া হয় আগের দিনই। তবে এই দাম মিল গেটে হবে-এটাও বলা ছিল। মিলগেট থেকে পাইকারিতে, পরে খুচরায় প্রভাব পড়তে চার থেকে পাঁচ দিন লেগে যাবে।

তবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি যখন তেলের দাম লিটারে আট টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়, তখন খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়তে এই চার/পাঁচ দিন লাগেনি। পরের দিন না, ওই সন্ধ্যা থেকেই বেড়ে যায় দাম।

বাণিজ্যিকভাবে দেশে এখন পর্যন্ত খোলা সয়াবিন ও পামতেলের চাহিদাই বেশি। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে বেশি ব্যবহার হয় বোতলজাত সয়াবিন। এ বোতলজাত সয়াবিনের বড় অংশই সরবরাহ করছে গুটিকয়েক কোম্পানি।

এদের মধ্যে তীর ব্র্র্যান্ডের তেল বাজারজাত করছে সিটি গ্রুপ, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের মেঘনা গ্রুপ, রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, পুষ্টি ব্র্যান্ডের টিকে গ্রুপ ও বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন বাজারজাত করছে বুসন্ধরা গ্রুপ।

এর বাইরে এস আলম গ্রুপের মোরগ, এস এ গ্রুপের মুসকান, নূরজাহান গ্রুপের নূরজাহান, ইলিয়াস ব্র্যাদার্সের দাদা, মোস্তফা ভেজিটেবলের মোস্তফা, রুবাইয়া ভেজিটেবলের রুবাইয়া ব্র্যান্ডের সয়াবিন বাজারজাত হচ্ছে।

এস আলম গ্রুপের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক কাজী সালাহউদ্দিন আহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন দাম মিল পর্যায়ে কার্যকরের বিষয়ে কোম্পানির নির্দেশনা গতকালই মিলের উৎপাদন বিভাগে চলে গেছে। স্বল্প প্রস্তুতির মধ্যেও কারখানা থেকে সোমবারই নতুন দামে মাল ছাড়া শুরু হয়েছে।’

দাম কমালে বাজারে প্রভাব পড়াতে দেরির কারণ উঠে এলো তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘হ্রাসকৃত দামের খোলা সয়াবিন আমরা সোমবারই তালিকাভূক্ত ডিলারদের কাছে সরবরাহ দিয়েছি। তারা পাইকারদের কাছে দেবে এবং তারপর খুচরা পর্যায়ে যাবে। তাই নতুন দাম ভোক্তা লেভেলে পৌঁছাতে হয়ত দুই-একদিন সময় লাগবে।

‘বৈশ্বিক কারণে সম্প্রতি দেশে মাসাধিককাল দেশে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা গেছে। তাই দাম বাড়তে পারে ধারণা করে অনেকে আগে থেকেই কিছু পরিমাণ তেল মজুদ করেছিল। এখন তারা সেই মজুত শেষ না করে তো নতুন মাল নেবে না।’

মৌলভীবাজার ভোজ্যতেল পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, ‘দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে বাজারে প্রভাব পড়ে এবং কমলে একটু দেরিতে পড়ে কথাটি আংশিক সত্য। কারণ দাম যখন বাড়তি থাকে তখন বাজারপর্যায়ে চাহিদার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে এবং এতে বিক্রি কম হয়। ফলে তখন বিভিন্নস্তরে আগের সরবরাহকৃত মালের মজুত তৈরি হয়। তখন ব্যবসায়ীদের উভয়সংকটে পড়তে হয়।’

তিনি বলেন, ‘যখন দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে তখন কম দামে কেনা খোলা সয়াবিনের আগের মজুত বাড়তি দামে বিক্রির সুযোগ থাকলেও বোতলজাত সয়াবিনের ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই। আবার দাম কমার ঘোষণা আসলে আগের মজুতে বোতলের গায়ে বাড়তি দাম উল্লেখ থাকলে সেটিও কমে বিক্রির সুযোগ নেই।’

তাই এমন প্রেক্ষাপটে বাজারে যে তেল আছে তার মজুত না ফুরানো পর্যন্ত তেলের দাম কমার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘আমরা নতুন দামে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ শুরু করেছি। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার টন তেল আমরা মিল থেকে সরবরাহ দেই। সোমবার আমরা সেই স্বাভাবিক সরবরাহ দিতে পারিনি। কারণ সরবরাহকৃত বোতলজাত সয়াবিনের দাম সম্বলিত লেভেল প্রিন্টিংয়ের বিষয় আছে। আজও বোতলের গায়ে নতুন দামের লেভেল প্রিন্টিং হচ্ছে। এটা চলতে থাকবে। দুই-একদিনের মধ্যে আমরা সরবরাহের সবটুকুই নতুন দামে দিতে পারব।’

টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতাহার তসলিম বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পরই আমরা মিলপর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিনের লেভেলে নতুন দাম প্রিন্টিং করার নির্দেশনা পাঠিয়েছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে যা উৎপাদন হয়েছে আজ তার ডেলিভারি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে ডেলিভারি শুরু হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘কোম্পানিগুলো মিল থেকে নতুন দামে স্বল্প পরিসরে সয়াবিন বাজারজাত শুরু করেছে। তবে এখানে লাখ লাখ বোতলের লেবেলে নতুন দাম প্রিন্টিং করার বিষয় রয়েছে। এর জন্য প্রস্তুতি ও সময়ের ব্যাপার রয়েছে।

‘গতকাল নতুন দামের প্রিন্ট শুরু করেছে। দুই-একদিনের মধ্যেই মিল পর্যায় থেকে এই দামের সয়াবিনের স্বাভাাবিক সরবরাহ আমরা দেখব।’

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের বাজার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। এর মধ্যে রমজান মাসেই চাহিদা প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, স্থানীয় উৎপাদন প্রায় দুই লাখ টন। বাকি প্রায় ১৮ লাখ টন আমদানি করে ভোক্তার চাহিদা পূরণ করতে হয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Raw Nation one of the top fashion brands of the country celebrated its one decade journey

এক দশকের পথচলা উদযাপন করল দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ড র' নেশন

এক দশকের পথচলা উদযাপন করল দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ড র' নেশন

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড র' নেশন (Raw Nation) সাফল্যের সঙ্গে পথচলার ১০ বছর পূর্ণ করেছে। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডটি গত এক দশকে আধুনিক, আরামদায়ক ও রুচিশীল ক্লথিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে।

দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত র' নেশনের হেড অফিসে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন র' নেশনের চেয়ারম্যান মারুফা ইসলাম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার আহমেদসহ ব্র্যান্ডের বিভিন্ন বিভাগের টিম মেম্বাররা। সকলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্র্যান্ডটির এক দশকের পথচলা উদ্‌যাপন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে র' নেশনের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর লয়্যালটি প্রোগ্রাম হিসেবে প্রিভিলেজ কার্ড (Privilege Card) উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ভবিষ্যতে কেনাকাটায় বিভিন্ন সুবিধা এবং ব্র্যান্ডের এক্সক্লুসিভ (Exclusive) ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার পাবেন। এক দশকের এই যাত্রায় গ্রাহকদের আস্থাই ব্র্যান্ডটির সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে সকল স্টোরে বিশেষ ফ্ল্যাট ডিসকাউন্ট এবং কাস্টমার অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাকটিভিটির (Customer Appreciation Activity) আয়োজন করা হয়েছে, যাতে ক্রেতারা ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও বিশেষভাবে অনুভব করতে পারেন।

শুরু থেকেই মানসম্মত, আরামদায়ক ও আধুনিক ডিজাইনের ক্লথিং তৈরি র' নেশনের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে এই ব্র্যান্ডের পুরুষদের ফ্যাশন লাইন—শার্ট, ক্যাজুয়াল পোশাক ও ডেনিম কালেকশন তরুণ ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কাস্টমারদের ব্যাপক সাড়া পেয়ে র' নেশন বেশ কিছু বছর ধরে নারীদের জন্য নিয়ে এসেছে ‘র' নেশন পিংক’, যেখানে নারীদের নানা রকম ওয়েস্টার্ন, এথনিক এবং রেগুলার ওয়্যার যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকসেসরিজ এবং অ্যাকটিভওয়্যারও যুক্ত করেছে তারা।

এক দশকের এই মাইলফলক প্রসঙ্গে র' নেশনের চেয়ারম্যান মারুফা ইসলাম বলেন, “র' নেশন শুধু একটি ক্লথিং ব্র্যান্ড নয়; এটি গ্রাহকদের রুচি এবং আধুনিক জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ১০ বছরের অর্জন আমাদের একার নয়, এটি আমাদের গ্রাহক ও টিমের সম্মিলিত ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।”

ব্র্যান্ডটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল মানসম্মত ফ্যাশন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ১০ বছর পূর্তির এই সময়ে আমরা পণ্যের মান, ডিজাইন এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”

দেশীয় ফ্যাশন শিল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরবর্তী দশকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে র' নেশনের। ব্র্যান্ডটির নতুন কালেকশন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজন এবং অন্যান্য তথ্য জানা যাবে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.rawnation.net) এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Urea price has halved in two months

দুই মাসে অর্ধেকে নেমেছে ইউরিয়ার দাম

দুই মাসে অর্ধেকে নেমেছে ইউরিয়ার দাম ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে নাইট্রোজেনভিত্তিক রাসায়নিক সার, বিশেষ করে ইউরিয়ার দামে ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকটের প্রভাব কাটিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার আগেই সারের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার বিষয়ক তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠান আর্গুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ইউরিয়া সারের আদর্শ বা বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত এপ্রিলে যখন সরবরাহ সংকট চরমে ছিল, তখন প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম উঠেছিল ৯১৮ ডলারে। সেই দাম এখন নাটকীয়ভাবে কমে ৪৭৫ ডলারে নেমে এসেছে, যা মূলত যুদ্ধের আগের মূল্যের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মূলত বিশ্বব্যাপী সারের চাহিদা হ্রাস এবং চীন পুনরায় সার রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আর্গুসের সার মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান সারাহ মার্লো এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর ইউরিয়ার দাম সবচেয়ে দ্রুত ও বেশি বেড়েছিল। আবার এ নৌপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই এর দামই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে কমে গেছে।” তবে সারের এই আকস্মিক দরপতনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করে বলেন যে, সারের চাহিদা কমে যাওয়া কৃষি খাতের জন্য ভালো কোনো খবর নয়। অনেক কৃষক চড়া দামের সময় প্রয়োজনীয় সার কিনতে পারেননি এবং খরচ বাঁচাতে জমিতে কম সার ব্যবহার করেছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব আগামী মৌসুমে ফসলের ফলনের ওপর পড়বে এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সারের দাম যখন আকাশচুম্বী ছিল, তখন ফসলের দাম ছিল তুলনামূলক কম। এতে কৃষকদের মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় তারা সার কেনা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেন। সার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্টোনেক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিনভিল জানান, চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষকরা প্রায় ৫ শতাংশ কম নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করেছেন। শতাংশের হিসাবে এটি কম মনে হলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এর বিশাল প্রভাব রয়েছে, যা বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The price of fuel oil in the world market has decreased further

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (২২ জুন) ইরান তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫৩ ডলার বা ১ দশমিক ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৯ দশমিক ০৪ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ দিনের শুরুতে যখন আলোচনার অনিশ্চয়তা ছিল, তখন এর দাম ব্যারেলে ৮২ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর হুমকি এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারিতে তেলের বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হলেও আলোচনার সফল সমাপ্তি সেই আতঙ্ক কাটিয়ে দিয়েছে।

একইভাবে মার্কিন বাজার ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দামও চুক্তির মেয়াদ শেষে ৭৬ দশমিক ৫৩ ডলারে স্থির হয়েছে। তবে আগস্ট মাসের ভবিষ্যৎ চুক্তির জন্য তেলের দাম ৫৫ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেলে ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটির কারণে গত শুক্রবার বাজারের আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এই প্রথম দফার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত রোববার থেকে নিবিড় সংলাপে অংশ নেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল গত এপ্রিল থেকে চলে আসা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অন্তত ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো এবং দুই দেশের সম্পর্ককে পুনরায় স্বাভাবিকীকরণের পথে এগিয়ে নেওয়া। আলোচনার এই ইতিবাচক ফলাফলেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার আভাস মিলছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The price of rice decreased in the Japanese market

জাপানের বাজারে কমলো চালের দাম

জাপানের বাজারে কমলো চালের দাম ছবি: সংগৃহীত

জাপানের বাজারে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধান খাদ্যশস্য চালের দাম কমেছে, যা সাধারণ ক্রেতা এবং সরকারের জন্য একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হয়ে এসেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্যের বরাতে জানানো হয় যে, জরুরি রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে বাজারে চাল সরবরাহ বৃদ্ধিসহ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এই দরপতন সম্ভব হয়েছে। মূলত গত দুই বছর ধরে তীব্র সরবরাহ সংকটের কারণে জাপানে চালের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। খবর জাপান টুডে।

দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিলাসবহুল ‘কোশিহিকারি’ জাত ছাড়া অন্যান্য সাধারণ চালের দাম গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর জাপানে এটিই চালের মূল্যে প্রথম কোনো বড় দরপতন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনরোষের সৃষ্টি করেছিল। চালের উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং তৎকালীন সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার চালের এই সংকট মোকাবিলা করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি জরুরি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ চাল উন্মুক্ত বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং দাম নিম্নমুখী হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপানে ক্রমবর্ধমান পর্যটকের সংখ্যা এবং স্থানীয় কৃষকদের বয়স বাড়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ভবিষ্যতে আবারও সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আপাতত সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখাই হবে নতুন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Increase in the price of rubber in the international market

আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের দাম বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের দাম বৃদ্ধি ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় নতুন করে রাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ওসাকা এক্সচেঞ্জে আগামী নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি কেজি রাবারের সরবরাহ চুক্তিমূল্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪০ দশমিক ৬ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মান বর্তমানে ১৬১ দশমিক ৪৫ ইয়েনে নেমে এসেছে, যা গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়।

মুদ্রার এই দরপতনের প্রভাবে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকায় রাবারের এই মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত মুদ্রার মান পরিবর্তন সরাসরি কমোডিটি বাজারের মূল্যে প্রভাব ফেলে, যার প্রতিফলন বর্তমানে রাবারের বাজারে দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Entrepreneurs sought policy support to make the tire industry competitive

টায়ার শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করতে নীতি-সহায়তা চাইল উদ্যোক্তারা

টায়ার শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করতে নীতি-সহায়তা চাইল উদ্যোক্তারা ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় টায়ার শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে মোটরসাইকেল টায়ারে আমদানির বিপরীতে সুরক্ষা প্রদান, কৃষি টায়ারে শুল্ক বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টায়ার-টিউব ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমইএ)। সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এই দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমইএ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লাইট ট্রাক টায়ারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং কৃষি টায়ার আমদানিতে ভ্যাট চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন নীতি-সহায়তার অভাবে ধুঁকতে থাকা এই খাতের জন্য এসব উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। আগে দেশীয় কৃষি টায়ারে ভ্যাট থাকলেও আমদানিকৃত পণ্যে তা না থাকায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছিলেন; নতুন বাজেটে সেই বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিল্পের পূর্ণ বিকাশের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

বিটিএমইএ নেতারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল টায়ার উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও বাজারটি এখনও আমদানিনির্ভর রয়ে গেছে। যদি স্থানীয় মোটরসাইকেল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দেশীয় টায়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় এবং আমদানিতে যথাযথ শুল্ক বসানো হয়, তবে বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। টায়ার আমদানিকারকদের শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে নেতারা বলেন, লাইট ট্রাক টায়ারে সম্পূরক শুল্ক বাড়ালে পরিবহন ব্যয় বাড়বে না; বরং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে প্রতিযোগিতার ফলে বাজারদর স্থিতিশীল থাকবে।

তবে টায়ার উৎপাদনের অপরিহার্য কাঁচামাল যেমন রাবার অ্যাক্সিলারেটর ও স্টিল কর্ডের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তারা জানায়, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই অবিলম্বে এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি খাতে ব্যবহৃত টায়ারের ক্ষেত্রেও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং আমদানিকৃত সুবিধাদি সহজ করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিটিএমইএ-এর পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশীয় টায়ার শিল্পে বর্তমানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হচ্ছে। যদি সরকার ধারাবাহিক নীতি-সহায়তা প্রদান করে, তবে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই টায়ার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। এটি দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The market value of the global green economy exceeded 10 trillion dollars

বৈশ্বিক সবুজ অর্থনীতির বাজারমূল্য ছাড়াল ১০ ট্রিলিয়ন ডলার

বৈশ্বিক সবুজ অর্থনীতির বাজারমূল্য ছাড়াল ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘সবুজ অর্থনীতি’ বা গ্রিন ইকোনমির পরিধিও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। প্রথমবারের মতো এই খাতের মোট বাজারমূল্য ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে সবুজ অর্থনীতিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর আয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস।

এলএসইজি-র সংজ্ঞা অনুসারে, যেসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা পরিবেশগত সমাধানভিত্তিক কার্যক্রম থেকে আসে, তাদের সবুজ অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্বের প্রায় ২১ হাজার কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সবুজ আয়কে যদি একটি পৃথক শিল্প খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে এটি বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প খাতে পরিণত হবে। কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলের জলবায়ু অর্থনীতিবিদ গারনট ওয়াগনার মনে করেন, ‘১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের অর্থ হলো বিপুল পরিমাণ মূলধন নবায়নযোগ্য, সবুজ ও লো-কার্বন অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এসব খাত থেকে দীর্ঘমেয়াদে লাভের আশা করছেন।’ এটি কেবল পরিবেশগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বার্তাও বহন করছে।

এলএসইজি-র গ্রিন ইকোনমি বিভাগের প্রধান লিলি দাই জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সাল থেকে সবুজ আয়ের প্রবৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও এই খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারে অস্থিতিশীলতা অনেক দেশকে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত করেছে। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সবুজ অর্থনীতির কোম্পানিগুলোর মধ্যে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা প্রবৃদ্ধির অন্যতম নির্দেশক। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নেটএরা এনার্জি’ কর্তৃক ‘ডোমিনিয়ন এনার্জি’র সম্পদ অধিগ্রহণকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও দেশটি এখনও বিশ্বের বৃহত্তম সবুজ অর্থনীতির বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৬ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৭৯ দশমিক ৭ গিগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মেটা, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানিগুলো, যারা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের কারণে ডেটা সেন্টারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, যা কিছু কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে; তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অবস্থান এখনও সুসংহত। বিশ্লেষকদের মতে, সবুজ অর্থনীতির এই ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন প্রবণতার প্রতিফলন এবং আগামী দিনেও এটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।

মন্তব্য

p
উপরে