রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-টরন্টো রুটের একমাত্র পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ফ্লাইটে অন্তত ২৫ জন কর্মকর্তার একটি সরকারি প্রতিনিধি দল কানাডা সফর করছে। একটি রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটে এতজন সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ২৬ মার্চ রাত ১১টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং ২৭ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৭টায় এটির টরন্টোয় অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিকিট কেটে যে কেউ এই ফ্লাইটে টরন্টো যেতে পারবেন।
প্রতিনিধি দলে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, বিমানের পরিচালক মৃধা মো. একরামুজ্জামান এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা আছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রতিমন্ত্রীর সফরের খরচ আসবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। আর বাকিদেরটা দেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তাদের শুধু ফ্লাইট টিকিটের খরচ দেবে বিমান। এর বাইরে বিমান প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী ও মেয়েও প্রতিনিধি দলে থাকছেন, তবে তারা টিকিটসহ নিজেদের পুরো খরচ নিজেরাই বহন করবেন।
গত শনিবার বিকেলে এই ফ্লাইটটির টিকিট উন্মুক্ত করে বিমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওয়েবসাইটে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে যে উদ্বোধনী ফ্লাইটি সবার জন্য নয়, শুধু বিমানের নির্ধারিত যাত্রীরাই এতে ভ্রমণ করতে পারবেন। অবশ্য পরের দিন ফ্লাইটটির বেশ কিছু টিকিট ফাঁকা রয়েছে বলে বিমানের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটটি পরীক্ষামূলক হওয়ায় সীমিতসংখ্যক যাত্রীকেও এতে ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ফ্লাইটের টিকিট শুধু বিমানের নির্ধারিত যাত্রীদের জন্য, এমন তথ্য নাকচ করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টরন্টোর উদ্বোধনী ফ্লাইটটি সবার জন্যই উন্মুক্ত। এটি কোনো ভিআইপি ফ্লাইট নয়। যে কেউ টিকিট কেটে এই ফ্লাইটে যেতে পারবে। হয়তো আসনসংখ্যা কম হতে পারে, কিন্তু এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
‘এই রুটে ফ্লাইট শুরু করতে আমাদের কমিটমেন্ট ছিল, সেটির জন্যই মার্চে এই ফ্লাইটটি করা হচ্ছে। ফিরতি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সেখান থেকে ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে না, তবে আমাদের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে যে কেউ টিকিট কাটতে পারবেন।’
টরন্টো থেকে ফিরতি ফ্লাইট বিজি ৩০৬ আগামী ২৯ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। এটি ৩০ মার্চ দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকায় অবতরণ করবে। রুটটিতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান ব্যবহার করছে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।
ফ্লাইটে এতসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের সমালোচনা করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে আমি এভিয়েশন নিয়ে কাজ করি। আমি আমার জীবনে কোনোদিন শুনিনি এ রকম টেস্ট ফ্লাইট যায়। এ রকম কোনো সুযোগ আছে বলেও আমি জানি না। সবকিছুই সম্ভব এ দেশে।
‘সরকারের যদি পয়সা বেশি হয়, তারা তো পাঠাতেই পারে। বালিশ-চাদর কিনতে বা পুকুর কাটার প্রশিক্ষণ নিতে যদি যেতে পারে, তাহলে ফ্লাইটে যেতে পারবে না কেন?’
অবশ্য কানাডায় বিমানের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘কানাডায় ফ্লাইট অপারেশন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যে বিমান এই রুটটি শুরু করছে। কিন্তু সেটির প্রস্তুতি তো সুচারুভাবে নিতে হবে। এটিকে সেলিব্রেট করতে হবে। বিমানের ব্র্যান্ড ইমেজ নিম্নের পর্যায়ে, এর মাধ্যমে এটি তারা ব্র্যান্ডিং করতে পারত।
‘কানাডার টরন্টোয় কিন্তু বিশ্বের খুব বেশি এয়ারলাইনস অপারেট করতে পারে না। তারা এ বিষয়ে খুব কনজারভেটিভ। কাতার এয়ারের এত এয়ারলাইনস, কিন্তু একটি এয়ারলাইনস এখনও টরন্টোয় ফ্লাইট করার অনুমতি পায়নি। এ রকম অনেক বড় এয়ারলাইনস এ রকম সুযোগ পায়নি, কিন্তু সেখানে বিমান এটি পেয়েছে।’
জুনে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু নিয়েও সংশয়
টরন্টো রুটে পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের পর বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করতে অন্তত ১০ সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। সে ক্ষেত্রে এত আগে কেন উদ্বোধনী ফ্লাইট করা হচ্ছে, তা নিয়েও সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘আমি এর কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। এই রুটে আমাদের ফ্লাইট অপারেশনের জন্য কোনো প্যারামিটারেই আমরা রেডি নই। এখনও সেখানে আমাদের কোনো অফিস হয়নি, সেখানে কোনো জিএসএ (স্থানীয় প্রতিনিধি) নিয়োগ দেয়া হয়নি।
‘এর বাইরেও টরন্টো বিমানবন্দর এখনও বিমানের ফ্লাইট গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হয়নি। তারা এখনও ডিপার্চার কন্ট্রোল সিস্টেম সিনক্রোনাইজ করেনি। আরেকটি বিষয় হলো কানাডায় বছরের বেশির ভাগ সময় বরফ পড়ে, ঝড় হয়। সেখানে ল্যান্ড করার জন্য পাইলটদের একটি বিশেষ সিকিউরিটি সার্টিফিকেট নিতে হয়। এটি এখনও নেয়া হয়নি। সেটির জন্য সময় লাগবে। বিমান ইজ নট রেডি। তারা জুনের কথা বলছে, এর মধ্যে যে চালু হবে তা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ আছে।’
পুরোদমে বাণিজ্যিক ফ্লাইট কবে নাগাদ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘পুরোদমে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করতে কিছু ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেমের কাজ এখনও চলমান, এগুলো শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
‘পুরোদমে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করতে জুন পর্যন্ত সময় লাগবে। আমরা বলেছি, সব কাজ সম্পন্ন করতে মোট ১২ সপ্তাহ সময় লাগবে। এর মধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়েছে, কাজ আমরা চলমান রেখেছি। এই সময়ের মধ্যে সেখানে জিএসএ নিয়োগ দিতে হবে, সে কাজ আমরা চলমান রেখেছি। আশা করছি, জুনে আমরা বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করতে পারব।’
ঢাকা থেকে জাপানের নারিতা হয়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং কানাডার টরন্টো হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে আকাশপথে যুক্ত হতে চেষ্টা বেশ কয়েক বছর ধরেই চালিয়ে আসছে বিমান। কিন্তু করোনার কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এ রুটটিতে বিমানের ফ্লাইট চলাচল পুরোদমে শুরু হলে এয়ারলাইনসটি তার বহরে থাকা লম্বা পাল্লার উড়োজাহাজগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে সরাসরি টরন্টো যেতে সময় লাগে প্রায় ১৪ ঘণ্টা।
বিমানের বহরে লম্বা দূরত্বে উড়তে সক্ষম অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ থাকলেও রুট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলোর সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ও চারটি বোয়িং ৭৭৭ মডেলের উড়োজাহাজ। এর প্রত্যেকটি টানা ১৬ ঘণ্টার বেশি উড়তে সক্ষম।
লম্বা দূরত্বের মধ্যে বর্তমানে ফ্লাইট চালু রয়েছে শুধু লন্ডন রুটে। এ রুটে সরাসরি যেতে সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা।
বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা কোনো এয়ারলাইনসেরই ঢাকা থেকে সরাসরি টরন্টোয় ফ্লাইট নেই। বিমান আশা করছে, নারিতা ও টরন্টোয় ফ্লাইট শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক আন্তর্জাতিক যাত্রী তারা পাবে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে, গত ১৫ জুন আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার পাশাপাশি মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিনের মধ্যে দুই মামলার জামিন স্থগিত করেন।
ওই তিনটি মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে রোববার এক মামলার শুনানি শেষে নো অর্ডার আদেশ দেন আদালত।
গত বছরের ১২ মে মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একটি মামলায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৭ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান তিনি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও এখনো তা পরিচালন খরচের চেয়ে বেশি থাকায় (ব্রেক-ইভেন) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানি তেলের এলসি পরিশোধের হিসাবে বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে টেবিলে লিখিত প্রশ্নোত্তর উপস্থাপিত হয়।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গত মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও দেশের বাজারে এখনো আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় দাম কম রাখা হয়েছে। জুন মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ছিল ১৭৫ দশমিক ২২ টাকা এবং অকটেনের কস্টিং ১৬০ দশমিক ৭০ টাকা। জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে লোকসান হলেও বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে টানা তিন মাস আমদানি কার্যক্রম সচল রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমে সহনশীল পর্যায়ে এলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলপিজি সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস–সংযোগ চালুর বিষয়ে সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আমদানি করা এলএনজি যুক্ত হওয়ার পরও সরবরাহ ঘাটতি থাকায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যুৎ, সার ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল ছাড়া আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতে নতুন গ্যাস–সংযোগ স্থগিত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অবসরে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (এপ্রিল পর্যন্ত) গড় সরবরাহ হয়েছে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। মে মাস পর্যন্ত এসব কেন্দ্রের মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট এবং দেশের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কুমিল্লা-৬ আসনের সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিপিসি ও এর অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মে মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯টি অডিট আপত্তি রয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং অডিট অধিদপ্তর ঢাকায় থাকলেও বিপিসির প্রধান কার্যালয় অন্যত্র হওয়ায় হালনাগাদ তথ্য আদান-প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে অডিট কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং সংস্থা ও অধীন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে (২৩ জুন) কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে ২০০ চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ১৮ হাজার সদস্য সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার রাত ১১টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বিশেষ তল্লাশিচৌকি বা চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গণপরিবহন, মোটরসাইকেল ও সন্দেহভাজন পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ ছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ধোলাইপাড়, গাবতলী, উত্তরাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোয় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট দেখা গেছে। এ ছাড়া ধানমন্ডি, গুলশান, কাকরাইল, বিজয় সরণি ছাড়াও বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশকে সতর্কাবস্থায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
গত রোববার রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া পুলিশের এই বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রমে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, এ জন্য ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।’
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর (যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠন) শীর্ষ নেতারা পলাতক, কারাবন্দি কিংবা অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
২০২৫ সালের ১২ মে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী পাস হলেও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আদেশ বহাল রাখা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
অত্যন্ত গভীর শোক ও বেদনার সাথে জানানো যাচ্ছে যে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন আন্দোলনের পথিকৃৎ, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ (৬৬) গত ২১ জুন চিকিৎসা অবস্থায় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মরহুমার নামাজের জানাজা আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে সাভারের কর্ণপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
বিডব্লিউসিসিআইর পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, নারী উদ্যোক্তা সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
সেলিমা আহমাদ ছিলেন একজন অগ্রণী উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারক। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা করেন, বর্তমান মেয়াদে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে এই সংগঠনটি দেশের ৬০,০০০-এরও বেশি নারী উদ্যোক্তাকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, বাজার সংযোগ এবং নীতিগত সহায়তা প্রদান করেছে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী উদ্যোক্তা জাতীয় ব্যবসায়িক এজেন্ডা (ওমেন্স ন্যাশনাল বিজনেস অ্যাজেন্ডা–ডব্লিউএনবিএ) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন, যা দেশের নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তার নেতৃত্বের ফলে নারীদের জন্য স্বল্প সুদে এবং জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালু হয়।
তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড (২০১৪), জিন জে. কার্কপ্যাট্রিক অ্যাওয়ার্ড (২০১৩), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পুরস্কার, প্রিয়দর্শিনী অ্যাওয়ার্ড (২০১২), এবং টিআইএডব্লিউ ওয়ার্ল্ড অব ডিফারেন্স অ্যাওয়ার্ড (২০১০)। তিনি ২০২২ সালে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার ঢাকায় তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইয়িলমাজের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের গত ৪ থেকে ৬ জুন সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের মানবিক, সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী এ বাস্তুচ্যুতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন।’
প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে তুরস্ককে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন।
ড. ইয়িলমাজ জানান, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন সুবিধা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সংস্থাটির ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাস্তুচ্যুতি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্র উপমন্ত্রী তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে তুরস্কের দীর্ঘদিনের সহায়তাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যা মানবিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করে।
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন।’
সোমবার কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রসারের লক্ষ্যে আমাদের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই হচ্ছে। এই প্রসিজিউরের ভেতরে আমরা ইকোনমিক লিবারালাইজেশন ও ডি-রেগুলেশনের দিকে যাচ্ছি। এর মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসা। মালয়েশিয়া সেই দিক থেকে বড় লক্ষ্যের জায়গা।’
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পাঁচটির কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। যেহেতু বাংলাদেশে একটি বিশাল মার্কেট-বেজড অর্থনীতি রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে বড় ধরনের ভোক্তা চাহিদা (কনজিউমার ডিমান্ড) বিদ্যমান, যা মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীরা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের এক অবারিত সুযোগ রয়েছে। একদিকে যেমন আমাদের বাজারের চাহিদা অনেক বেশি, অন্যদিকে তেমনি দক্ষ কর্মী দিয়ে তা সচল রাখার পূর্ণ সক্ষমতাও রয়েছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যে মালয়েশিয়া যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, তাহলে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। একই সাথে, নিয়মকানুন সহজীকরণের (ডি-রেগুলেশন) মাধ্যমে আমরা একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করব।’
মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘এ সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থানকে আরও বেগবান করা।’
প্রধানমন্ত্রী যেসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেগুলো হলো- পেট্রোনাস গ্রুপ, আজিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পেরোডুয়া ও এমএমসি ফোর্স। মাহদী আমিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী ও জোরদার করা যায়, সেটিকে নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিস্তৃত আলোচনা করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসালম রনি ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রাফি মারা গেছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এর আগে ৯ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ১০০ গজ পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরার সময় পূর্বশত্রুতার জেরে পরিচিতদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন রাফি। এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন মো. পারভেজ (৩০), আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২) ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু (২৭)।
মন্তব্য