দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং এখন বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিদ্যমান ৬২টি ব্যাংকের ১০টি পূর্ণাঙ্গভাবে এবং ৩৪টি বিভিন্নভাবে শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছে। ব্যাংকের পাশাপাশি এখন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেও (এমএফএস) পাওয়া যাচ্ছে শরিয়াহভিত্তিক সেবা। গ্রাহকের সময় ও আর্থিক সাশ্রয়ের ফলে এই সেবার প্রতি অনেকেই ঝুঁকছেন।
করোনা সংকটের বছরেও পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে মোট আমানতের প্রায় ২৮ শতাংশ। বিতরণ করা ঋণের প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশের বেশি এ খাতের ব্যাংকগুলোর। প্রবাস আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসছে এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।
১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর নতুন পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক যেমন এসেছে, তেমনি প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডো চালু করেছে।আমানত সংগ্রহ, শিল্প, ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, প্রবাসীআয় সংগ্রহে শরিয়াভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২১ সালের ডিসেম্বরের তথ্যানুসারে, দেশে ১০টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং করছে। এগুলো হলো: ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি, ফার্স্ট সিকিউরিটি, শাহজালাল, ইউনিয়ন, এক্সিম, আল-আরাফাহ, আইসিবি ইসলামিক, স্ট্যান্ডার্ড ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক (সাবেক এআরবি গ্লোবাল)।
এসব ব্যাংকের শাখার সংখ্যা এক হাজার ৬৭১টি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সংখ্যায় কম হলেও ব্যাংক খাতের আমানত ও বিনিয়োগের এক-চতুর্থাংশের বেশি ইসলামি ধারার ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে গত সাড়ে তিন দশকে দেশে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
বহুজাতিক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডও ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এইচএসবিসির রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখা। অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের রয়েছে ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো। বাংলাদেশের মতো অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতেও ব্যাংকটি ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৯টি ব্যাংকের ৪১টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। এগুলো হলো: দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট, যমুনা, ব্যাংক আলফালাহ ও এনআরবিসি।
১৫ বাণিজ্যিক ব্যাংকের রয়েছে ৩৬৮ ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো। এগুলো হলো: সোনালী, জনতা, অগ্রণী, পূবালী, ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড, মার্কেন্টাইল, মিডল্যান্ড, এনআরবিসি, ওয়ান, ইউনাউটেড কর্মাশিয়াল, মেঘনা ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যাংকিং পরিচালনায় ব্যাংকগুলোতে ৪৫ হাজার ২৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই গত তিন বছর ধরে মুসলিম জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চালু রয়েছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ‘নগদ ইসলামিক’ অ্যাকাউন্ট। সম্পূর্ণ শরিয়া পর্যবেক্ষক কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইসলামিক অর্থ ব্যবস্থার নিশ্চিয়তা দিয়ে আসছে।
অনেক ধর্মপ্রাণ গ্রাহকই এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘরে বসেই খুব সহজেই সুদমুক্ত ও শরিয়াহসম্মত উপায়ে নিজস্ব তহবিল পরিচালনা করতে পারছেন। দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে ‘নগদ’-ই শুধু ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার সুযোগ দিচ্ছে।
এই প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াও অনেক সহজ। অ্যাকাউন্ট খুলতে সশরীরে কোথাও যাওয়া অথবা বাড়তি কোনো ফরম পূরণেরও প্রয়োজন হয় না। গ্রাহকেরা খুব সহজে ঘরে বসেই তাদের নিয়মিত ‘নগদ’ অ্যাপে ‘আমার নগদ’ অপশনে ক্লিক করে চলমান নগদ অ্যাপকে ইসলামিক অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করতে পারছেন।
ইতোমধ্যে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যর মাধ্যম হিসেবে মুসলিম গ্রাহকদের কাছে বহুল পরিচিতি পেয়েছে ‘নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট’। ইসলামি শরিয়াহ অনুসারে পরিচালিত হওয়ায় কোনো সুদ ছাড়াই গ্রাহকেরা নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করেন নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্টে।
গ্রাহকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের যাকাত ও সকল দানও করছেন মুহূর্তে। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা খুব সহজেই হজ এবং উমরাহর যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ এই অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করতে পারছেন।
গত তিন বছর ধরে ‘নগদ’ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছেন মাদ্রাসা শিক্ষক নূর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ইসলামে সুদ হারাম, নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট বিনা সুদে এবং স্বাচ্ছন্দেই নিজের কষ্টার্জিত টাকা আমানত হিসেবে রেখেছি। গত তিন বছর থেকে আমি আমার অর্থ ব্যবস্থাপনা করে আসছি এখানে।’
এমএফএস সেবা হিসেবে ‘নগদ’-এর এমন উদ্যোগের উপকারভোগীর সংখ্যাও অনেক। প্রতি বছর পবিত্র রমজান এবং ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা জাকাত এবং বিভিন্ন ধরনের অনুদান দিয়ে থাকেন, যা দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করে দিয়েছে নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভীরু। তারা সুদভিত্তিক কারবারের পরিবর্তে শরিয়াহভিত্তিক কারবারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ জন্য আমানতকারীরা দর-কষাকষি করেন না। তাদের বেশিরভাগই একটি ব্যাংকে আমানত রেখেই খুশি থাকেন।’
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ইসলামিক সেবা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) ফলে জমা রাখা টাকা আমানতকারী যে কোনো সময় উত্তোলন করতে পারে, প্রয়োজনে টাকা পাঠাতেও পারে। এজন্য এ সেবার গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাজার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে টিকে থাকতে প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে যাচ্ছে। কারণ, ইসলামি ব্যাংকগুলোতে স্বেচ্ছায় অনেক আমানত আসে। ইসলামি ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ড কম। আবার রেমিট্যান্স সংগ্রহ হয় বেশি। এসব কারণে ইসালামি ব্যাংকিংয়ে ঝোঁক বাড়ছে।’
দেশে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক নীতিতে আর্থিক সেবা দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তবে সেসব ক্ষেত্রে সশরীরে ব্যাংকে যাওয়া ও অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে লেনদেনের প্রক্রিয়া একটু সময়সাপেক্ষ। যে কারণে ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক লেনদেনের সুযোগের দিকে ঝুঁকছে মানুষ।
এ বিষয়ে ‘নগদ’ লিমিটেড-এর নির্বাহী পরিচালক ও শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ‘গত তিন বছর থেকে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত আছেন অনেক গ্রাহক। নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং সম্পূর্ণ ইসলামিক নীতিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রাহকেরা বিশ্বস্ততার সঙ্গে যাবতীয় ইসলামিক সেবা নিতে পারেন নগদ-এর ডিজিটাল ওয়ালেটে, যার ফলে দেশ ক্রমেই ক্যাশলেস সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত
২০২১ সাল শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৬৬ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংকে ইসলামি ব্যাংকিং শাখা, উইন্ডোসহ আমানত দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা। এ অঙ্ক পুরো আমানতের ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকগুলোর আমানত ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।
আমানত সংগ্রহের দিক থেকে সবার শীর্ষে ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড। শরিয়াহ ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ সংগ্রহ করেছে ব্যাংকটি।
এর পরই রয়েছে ক্রমান্বয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ১১ দশমিক ৯৩, এক্সিম ১০ দশমিক ৭৫, আল-আরাফাহ ৯ দশমিক ৬৬, সোশ্যাল ইসলামি ৮ দশমিক ৫২, শাহজালাল ৫ দশমিক ৫৩, ইউনিয়ন ৫ দশমিক ০৯, স্ট্যান্ডার্ড ৪ দশমিক ২৪, গ্লোবাল ইসলামি ৩ ও আইসিবি ইসলামিক দশমিক ৩৩ শতাংশ।
ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের আমানত রাখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মুদারাবা আমানত সবচেয়ে বেশি ৪৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোতে মোট আমানতের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং উইন্ডোগুলোতে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ আমানত রয়েছে।
বিনিয়োগ
ডিসেম্বর শেষে ইসলামি ধারার ১০ ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫৯ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।
বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৩১ শতাংশ ঋণ বিতরণ করে শীর্ষে আছে ইসলামী ব্যাংক।
এর পরই রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ১২ দশমিক ৮৪, এক্সিম ১১ দশমিক ৭৫, আল-আরাফাহ ৯ দশমিক ৪১, সোশ্যাল ইসলামি ৮ দশমিক ৭১, শাহজালাল ৬ দশমিক ১৩, ইউনিয়ন ৫ দশমিক ৪৮, স্ট্যান্ডার্ড ৪ দশমিক ৬৪, গ্লোবাল ৩ দশমিক ০৩ এবং আইসিবি ইসলামিক দশমিক ২৪ শতাংশ।
ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘বাই মুরাবাহ’ সবচেয়ে প্রচলিত। মোট বিনিয়োগের প্রায় ৪৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ করা হয়েছে এ পদ্ধতিতে। এর পর রয়েছে ‘বাই মুয়াজ্জল’। এ ব্যবস্থায় মোট বিনিয়োগের ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।
বাকি বিনিয়োগ করা হয়েছে বাই সালাম, ইজারা অ্যান্ড ইজারা, বাই ইসতিসনা, মুসারাকাসহ অন্যান্য পদ্ধতিতে।
সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ৩৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর পরে দ্বিতীয় অবস্থানে শিল্প খাতে ২৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কটেজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ।
এ ছাড়া অবকাঠামোতে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, বৃহত্তর ও সেবা বাণিজ্যে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ, কৃষিতে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, ভোক্তা খাতে ১ দশমিক ৭৯, যোগাযোগ খাতে ১ দশমিক ০২ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে ইসলামি ব্যাংকগুলো।
দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড র' নেশন (Raw Nation) সাফল্যের সঙ্গে পথচলার ১০ বছর পূর্ণ করেছে। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্র্যান্ডটি গত এক দশকে আধুনিক, আরামদায়ক ও রুচিশীল ক্লথিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে।
দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত র' নেশনের হেড অফিসে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন র' নেশনের চেয়ারম্যান মারুফা ইসলাম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার আহমেদসহ ব্র্যান্ডের বিভিন্ন বিভাগের টিম মেম্বাররা। সকলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্র্যান্ডটির এক দশকের পথচলা উদ্যাপন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে র' নেশনের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর লয়্যালটি প্রোগ্রাম হিসেবে প্রিভিলেজ কার্ড (Privilege Card) উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ভবিষ্যতে কেনাকাটায় বিভিন্ন সুবিধা এবং ব্র্যান্ডের এক্সক্লুসিভ (Exclusive) ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার পাবেন। এক দশকের এই যাত্রায় গ্রাহকদের আস্থাই ব্র্যান্ডটির সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে সকল স্টোরে বিশেষ ফ্ল্যাট ডিসকাউন্ট এবং কাস্টমার অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাকটিভিটির (Customer Appreciation Activity) আয়োজন করা হয়েছে, যাতে ক্রেতারা ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও বিশেষভাবে অনুভব করতে পারেন।
শুরু থেকেই মানসম্মত, আরামদায়ক ও আধুনিক ডিজাইনের ক্লথিং তৈরি র' নেশনের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে এই ব্র্যান্ডের পুরুষদের ফ্যাশন লাইন—শার্ট, ক্যাজুয়াল পোশাক ও ডেনিম কালেকশন তরুণ ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কাস্টমারদের ব্যাপক সাড়া পেয়ে র' নেশন বেশ কিছু বছর ধরে নারীদের জন্য নিয়ে এসেছে ‘র' নেশন পিংক’, যেখানে নারীদের নানা রকম ওয়েস্টার্ন, এথনিক এবং রেগুলার ওয়্যার যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকসেসরিজ এবং অ্যাকটিভওয়্যারও যুক্ত করেছে তারা।
এক দশকের এই মাইলফলক প্রসঙ্গে র' নেশনের চেয়ারম্যান মারুফা ইসলাম বলেন, “র' নেশন শুধু একটি ক্লথিং ব্র্যান্ড নয়; এটি গ্রাহকদের রুচি এবং আধুনিক জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ১০ বছরের অর্জন আমাদের একার নয়, এটি আমাদের গ্রাহক ও টিমের সম্মিলিত ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।”
ব্র্যান্ডটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল মানসম্মত ফ্যাশন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ১০ বছর পূর্তির এই সময়ে আমরা পণ্যের মান, ডিজাইন এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
দেশীয় ফ্যাশন শিল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরবর্তী দশকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে র' নেশনের। ব্র্যান্ডটির নতুন কালেকশন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজন এবং অন্যান্য তথ্য জানা যাবে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.rawnation.net) এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে।
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে নাইট্রোজেনভিত্তিক রাসায়নিক সার, বিশেষ করে ইউরিয়ার দামে ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকটের প্রভাব কাটিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার আগেই সারের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার বিষয়ক তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠান আর্গুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ইউরিয়া সারের আদর্শ বা বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত এপ্রিলে যখন সরবরাহ সংকট চরমে ছিল, তখন প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম উঠেছিল ৯১৮ ডলারে। সেই দাম এখন নাটকীয়ভাবে কমে ৪৭৫ ডলারে নেমে এসেছে, যা মূলত যুদ্ধের আগের মূল্যের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মূলত বিশ্বব্যাপী সারের চাহিদা হ্রাস এবং চীন পুনরায় সার রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আর্গুসের সার মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান সারাহ মার্লো এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর ইউরিয়ার দাম সবচেয়ে দ্রুত ও বেশি বেড়েছিল। আবার এ নৌপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই এর দামই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে কমে গেছে।” তবে সারের এই আকস্মিক দরপতনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো সতর্ক করে বলেন যে, সারের চাহিদা কমে যাওয়া কৃষি খাতের জন্য ভালো কোনো খবর নয়। অনেক কৃষক চড়া দামের সময় প্রয়োজনীয় সার কিনতে পারেননি এবং খরচ বাঁচাতে জমিতে কম সার ব্যবহার করেছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব আগামী মৌসুমে ফসলের ফলনের ওপর পড়বে এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সারের দাম যখন আকাশচুম্বী ছিল, তখন ফসলের দাম ছিল তুলনামূলক কম। এতে কৃষকদের মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় তারা সার কেনা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেন। সার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান স্টোনেক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিনভিল জানান, চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষকরা প্রায় ৫ শতাংশ কম নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করেছেন। শতাংশের হিসাবে এটি কম মনে হলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এর বিশাল প্রভাব রয়েছে, যা বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতির পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (২২ জুন) ইরান তাদের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫৩ ডলার বা ১ দশমিক ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৯ দশমিক ০৪ ডলারে নেমে এসেছে। অথচ দিনের শুরুতে যখন আলোচনার অনিশ্চয়তা ছিল, তখন এর দাম ব্যারেলে ৮২ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর হুমকি এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারিতে তেলের বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হলেও আলোচনার সফল সমাপ্তি সেই আতঙ্ক কাটিয়ে দিয়েছে।
একইভাবে মার্কিন বাজার ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দামও চুক্তির মেয়াদ শেষে ৭৬ দশমিক ৫৩ ডলারে স্থির হয়েছে। তবে আগস্ট মাসের ভবিষ্যৎ চুক্তির জন্য তেলের দাম ৫৫ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেলে ৭৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটির কারণে গত শুক্রবার বাজারের আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এই প্রথম দফার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত রোববার থেকে নিবিড় সংলাপে অংশ নেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল গত এপ্রিল থেকে চলে আসা সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অন্তত ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো এবং দুই দেশের সম্পর্ককে পুনরায় স্বাভাবিকীকরণের পথে এগিয়ে নেওয়া। আলোচনার এই ইতিবাচক ফলাফলেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার আভাস মিলছে।
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের বাজারে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধান খাদ্যশস্য চালের দাম কমেছে, যা সাধারণ ক্রেতা এবং সরকারের জন্য একটি বড় স্বস্তির সংবাদ হয়ে এসেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্যের বরাতে জানানো হয় যে, জরুরি রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে বাজারে চাল সরবরাহ বৃদ্ধিসহ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এই দরপতন সম্ভব হয়েছে। মূলত গত দুই বছর ধরে তীব্র সরবরাহ সংকটের কারণে জাপানে চালের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। খবর জাপান টুডে।
দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিলাসবহুল ‘কোশিহিকারি’ জাত ছাড়া অন্যান্য সাধারণ চালের দাম গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর জাপানে এটিই চালের মূল্যে প্রথম কোনো বড় দরপতন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনরোষের সৃষ্টি করেছিল। চালের উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং তৎকালীন সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার চালের এই সংকট মোকাবিলা করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি জরুরি তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ চাল উন্মুক্ত বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং দাম নিম্নমুখী হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপানে ক্রমবর্ধমান পর্যটকের সংখ্যা এবং স্থানীয় কৃষকদের বয়স বাড়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ভবিষ্যতে আবারও সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আপাতত সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখাই হবে নতুন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় নতুন করে রাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ওসাকা এক্সচেঞ্জে আগামী নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি কেজি রাবারের সরবরাহ চুক্তিমূল্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪০ দশমিক ৬ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মান বর্তমানে ১৬১ দশমিক ৪৫ ইয়েনে নেমে এসেছে, যা গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়।
মুদ্রার এই দরপতনের প্রভাবে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকায় রাবারের এই মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণত মুদ্রার মান পরিবর্তন সরাসরি কমোডিটি বাজারের মূল্যে প্রভাব ফেলে, যার প্রতিফলন বর্তমানে রাবারের বাজারে দেখা যাচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশীয় টায়ার শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে মোটরসাইকেল টায়ারে আমদানির বিপরীতে সুরক্ষা প্রদান, কৃষি টায়ারে শুল্ক বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টায়ার-টিউব ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমইএ)। সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এই দাবিগুলো তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমইএ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লাইট ট্রাক টায়ারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং কৃষি টায়ার আমদানিতে ভ্যাট চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন নীতি-সহায়তার অভাবে ধুঁকতে থাকা এই খাতের জন্য এসব উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। আগে দেশীয় কৃষি টায়ারে ভ্যাট থাকলেও আমদানিকৃত পণ্যে তা না থাকায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছিলেন; নতুন বাজেটে সেই বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিল্পের পূর্ণ বিকাশের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
বিটিএমইএ নেতারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল টায়ার উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও বাজারটি এখনও আমদানিনির্ভর রয়ে গেছে। যদি স্থানীয় মোটরসাইকেল সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দেশীয় টায়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় এবং আমদানিতে যথাযথ শুল্ক বসানো হয়, তবে বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। টায়ার আমদানিকারকদের শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে নেতারা বলেন, লাইট ট্রাক টায়ারে সম্পূরক শুল্ক বাড়ালে পরিবহন ব্যয় বাড়বে না; বরং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে প্রতিযোগিতার ফলে বাজারদর স্থিতিশীল থাকবে।
তবে টায়ার উৎপাদনের অপরিহার্য কাঁচামাল যেমন রাবার অ্যাক্সিলারেটর ও স্টিল কর্ডের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তারা জানায়, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই অবিলম্বে এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি খাতে ব্যবহৃত টায়ারের ক্ষেত্রেও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং আমদানিকৃত সুবিধাদি সহজ করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিটিএমইএ-এর পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশীয় টায়ার শিল্পে বর্তমানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হচ্ছে। যদি সরকার ধারাবাহিক নীতি-সহায়তা প্রদান করে, তবে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই টায়ার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। এটি দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘সবুজ অর্থনীতি’ বা গ্রিন ইকোনমির পরিধিও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। প্রথমবারের মতো এই খাতের মোট বাজারমূল্য ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে সবুজ অর্থনীতিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর আয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস।
এলএসইজি-র সংজ্ঞা অনুসারে, যেসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা পরিবেশগত সমাধানভিত্তিক কার্যক্রম থেকে আসে, তাদের সবুজ অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্বের প্রায় ২১ হাজার কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সবুজ আয়কে যদি একটি পৃথক শিল্প খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে এটি বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প খাতে পরিণত হবে। কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলের জলবায়ু অর্থনীতিবিদ গারনট ওয়াগনার মনে করেন, ‘১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের অর্থ হলো বিপুল পরিমাণ মূলধন নবায়নযোগ্য, সবুজ ও লো-কার্বন অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এসব খাত থেকে দীর্ঘমেয়াদে লাভের আশা করছেন।’ এটি কেবল পরিবেশগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বার্তাও বহন করছে।
এলএসইজি-র গ্রিন ইকোনমি বিভাগের প্রধান লিলি দাই জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সাল থেকে সবুজ আয়ের প্রবৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও এই খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারে অস্থিতিশীলতা অনেক দেশকে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত করেছে। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সবুজ অর্থনীতির কোম্পানিগুলোর মধ্যে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা প্রবৃদ্ধির অন্যতম নির্দেশক। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নেটএরা এনার্জি’ কর্তৃক ‘ডোমিনিয়ন এনার্জি’র সম্পদ অধিগ্রহণকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও দেশটি এখনও বিশ্বের বৃহত্তম সবুজ অর্থনীতির বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৬ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৭৯ দশমিক ৭ গিগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মেটা, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানিগুলো, যারা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের কারণে ডেটা সেন্টারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, যা কিছু কোম্পানির লক্ষ্যমাত্রায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে; তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অবস্থান এখনও সুসংহত। বিশ্লেষকদের মতে, সবুজ অর্থনীতির এই ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন প্রবণতার প্রতিফলন এবং আগামী দিনেও এটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।
মন্তব্য