দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং এখন বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিদ্যমান ৬২টি ব্যাংকের ১০টি পূর্ণাঙ্গভাবে এবং ৩৪টি বিভিন্নভাবে শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছে। ব্যাংকের পাশাপাশি এখন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেও (এমএফএস) পাওয়া যাচ্ছে শরিয়াহভিত্তিক সেবা। গ্রাহকের সময় ও আর্থিক সাশ্রয়ের ফলে এই সেবার প্রতি অনেকেই ঝুঁকছেন।
করোনা সংকটের বছরেও পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে মোট আমানতের প্রায় ২৮ শতাংশ। বিতরণ করা ঋণের প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশের বেশি এ খাতের ব্যাংকগুলোর। প্রবাস আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসছে এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।
১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর নতুন পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক যেমন এসেছে, তেমনি প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডো চালু করেছে।আমানত সংগ্রহ, শিল্প, ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, প্রবাসীআয় সংগ্রহে শরিয়াভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২১ সালের ডিসেম্বরের তথ্যানুসারে, দেশে ১০টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং করছে। এগুলো হলো: ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি, ফার্স্ট সিকিউরিটি, শাহজালাল, ইউনিয়ন, এক্সিম, আল-আরাফাহ, আইসিবি ইসলামিক, স্ট্যান্ডার্ড ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক (সাবেক এআরবি গ্লোবাল)।
এসব ব্যাংকের শাখার সংখ্যা এক হাজার ৬৭১টি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সংখ্যায় কম হলেও ব্যাংক খাতের আমানত ও বিনিয়োগের এক-চতুর্থাংশের বেশি ইসলামি ধারার ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে গত সাড়ে তিন দশকে দেশে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
বহুজাতিক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডও ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এইচএসবিসির রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শাখা। অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের রয়েছে ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো। বাংলাদেশের মতো অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতেও ব্যাংকটি ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৯টি ব্যাংকের ৪১টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। এগুলো হলো: দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট, যমুনা, ব্যাংক আলফালাহ ও এনআরবিসি।
১৫ বাণিজ্যিক ব্যাংকের রয়েছে ৩৬৮ ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো। এগুলো হলো: সোনালী, জনতা, অগ্রণী, পূবালী, ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড, মার্কেন্টাইল, মিডল্যান্ড, এনআরবিসি, ওয়ান, ইউনাউটেড কর্মাশিয়াল, মেঘনা ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যাংকিং পরিচালনায় ব্যাংকগুলোতে ৪৫ হাজার ২৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই গত তিন বছর ধরে মুসলিম জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চালু রয়েছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ‘নগদ ইসলামিক’ অ্যাকাউন্ট। সম্পূর্ণ শরিয়া পর্যবেক্ষক কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইসলামিক অর্থ ব্যবস্থার নিশ্চিয়তা দিয়ে আসছে।
অনেক ধর্মপ্রাণ গ্রাহকই এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘরে বসেই খুব সহজেই সুদমুক্ত ও শরিয়াহসম্মত উপায়ে নিজস্ব তহবিল পরিচালনা করতে পারছেন। দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে ‘নগদ’-ই শুধু ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার সুযোগ দিচ্ছে।
এই প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াও অনেক সহজ। অ্যাকাউন্ট খুলতে সশরীরে কোথাও যাওয়া অথবা বাড়তি কোনো ফরম পূরণেরও প্রয়োজন হয় না। গ্রাহকেরা খুব সহজে ঘরে বসেই তাদের নিয়মিত ‘নগদ’ অ্যাপে ‘আমার নগদ’ অপশনে ক্লিক করে চলমান নগদ অ্যাপকে ইসলামিক অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করতে পারছেন।
ইতোমধ্যে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যর মাধ্যম হিসেবে মুসলিম গ্রাহকদের কাছে বহুল পরিচিতি পেয়েছে ‘নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট’। ইসলামি শরিয়াহ অনুসারে পরিচালিত হওয়ায় কোনো সুদ ছাড়াই গ্রাহকেরা নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করেন নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্টে।
গ্রাহকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের যাকাত ও সকল দানও করছেন মুহূর্তে। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা খুব সহজেই হজ এবং উমরাহর যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ এই অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করতে পারছেন।
গত তিন বছর ধরে ‘নগদ’ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছেন মাদ্রাসা শিক্ষক নূর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ইসলামে সুদ হারাম, নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট বিনা সুদে এবং স্বাচ্ছন্দেই নিজের কষ্টার্জিত টাকা আমানত হিসেবে রেখেছি। গত তিন বছর থেকে আমি আমার অর্থ ব্যবস্থাপনা করে আসছি এখানে।’
এমএফএস সেবা হিসেবে ‘নগদ’-এর এমন উদ্যোগের উপকারভোগীর সংখ্যাও অনেক। প্রতি বছর পবিত্র রমজান এবং ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা জাকাত এবং বিভিন্ন ধরনের অনুদান দিয়ে থাকেন, যা দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করে দিয়েছে নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভীরু। তারা সুদভিত্তিক কারবারের পরিবর্তে শরিয়াহভিত্তিক কারবারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এ জন্য আমানতকারীরা দর-কষাকষি করেন না। তাদের বেশিরভাগই একটি ব্যাংকে আমানত রেখেই খুশি থাকেন।’
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ইসলামিক সেবা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) ফলে জমা রাখা টাকা আমানতকারী যে কোনো সময় উত্তোলন করতে পারে, প্রয়োজনে টাকা পাঠাতেও পারে। এজন্য এ সেবার গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাজার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে টিকে থাকতে প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে যাচ্ছে। কারণ, ইসলামি ব্যাংকগুলোতে স্বেচ্ছায় অনেক আমানত আসে। ইসলামি ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ড কম। আবার রেমিট্যান্স সংগ্রহ হয় বেশি। এসব কারণে ইসালামি ব্যাংকিংয়ে ঝোঁক বাড়ছে।’
দেশে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক নীতিতে আর্থিক সেবা দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তবে সেসব ক্ষেত্রে সশরীরে ব্যাংকে যাওয়া ও অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে লেনদেনের প্রক্রিয়া একটু সময়সাপেক্ষ। যে কারণে ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক লেনদেনের সুযোগের দিকে ঝুঁকছে মানুষ।
এ বিষয়ে ‘নগদ’ লিমিটেড-এর নির্বাহী পরিচালক ও শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ‘গত তিন বছর থেকে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত আছেন অনেক গ্রাহক। নগদ ইসলামিক অ্যাকাউন্ট স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং সম্পূর্ণ ইসলামিক নীতিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রাহকেরা বিশ্বস্ততার সঙ্গে যাবতীয় ইসলামিক সেবা নিতে পারেন নগদ-এর ডিজিটাল ওয়ালেটে, যার ফলে দেশ ক্রমেই ক্যাশলেস সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত
২০২১ সাল শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৬৬ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংকে ইসলামি ব্যাংকিং শাখা, উইন্ডোসহ আমানত দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা। এ অঙ্ক পুরো আমানতের ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকগুলোর আমানত ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।
আমানত সংগ্রহের দিক থেকে সবার শীর্ষে ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড। শরিয়াহ ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ সংগ্রহ করেছে ব্যাংকটি।
এর পরই রয়েছে ক্রমান্বয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ১১ দশমিক ৯৩, এক্সিম ১০ দশমিক ৭৫, আল-আরাফাহ ৯ দশমিক ৬৬, সোশ্যাল ইসলামি ৮ দশমিক ৫২, শাহজালাল ৫ দশমিক ৫৩, ইউনিয়ন ৫ দশমিক ০৯, স্ট্যান্ডার্ড ৪ দশমিক ২৪, গ্লোবাল ইসলামি ৩ ও আইসিবি ইসলামিক দশমিক ৩৩ শতাংশ।
ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের আমানত রাখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মুদারাবা আমানত সবচেয়ে বেশি ৪৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোতে মোট আমানতের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং উইন্ডোগুলোতে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ আমানত রয়েছে।
বিনিয়োগ
ডিসেম্বর শেষে ইসলামি ধারার ১০ ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫৯ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।
বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৩১ শতাংশ ঋণ বিতরণ করে শীর্ষে আছে ইসলামী ব্যাংক।
এর পরই রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ১২ দশমিক ৮৪, এক্সিম ১১ দশমিক ৭৫, আল-আরাফাহ ৯ দশমিক ৪১, সোশ্যাল ইসলামি ৮ দশমিক ৭১, শাহজালাল ৬ দশমিক ১৩, ইউনিয়ন ৫ দশমিক ৪৮, স্ট্যান্ডার্ড ৪ দশমিক ৬৪, গ্লোবাল ৩ দশমিক ০৩ এবং আইসিবি ইসলামিক দশমিক ২৪ শতাংশ।
ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘বাই মুরাবাহ’ সবচেয়ে প্রচলিত। মোট বিনিয়োগের প্রায় ৪৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ করা হয়েছে এ পদ্ধতিতে। এর পর রয়েছে ‘বাই মুয়াজ্জল’। এ ব্যবস্থায় মোট বিনিয়োগের ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।
বাকি বিনিয়োগ করা হয়েছে বাই সালাম, ইজারা অ্যান্ড ইজারা, বাই ইসতিসনা, মুসারাকাসহ অন্যান্য পদ্ধতিতে।
সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ৩৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর পরে দ্বিতীয় অবস্থানে শিল্প খাতে ২৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কটেজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ।
এ ছাড়া অবকাঠামোতে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, বৃহত্তর ও সেবা বাণিজ্যে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ, কৃষিতে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, ভোক্তা খাতে ১ দশমিক ৭৯, যোগাযোগ খাতে ১ দশমিক ০২ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে ইসলামি ব্যাংকগুলো।
আরও পড়ুন:পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় চারজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৪’ প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। সহযোগিতায় ছিলো পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরুপল্লব’।
গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার।
খ্যাতনামা প্রকৃতিবিদ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা, যাঁর জীবন ও কাজ অসংখ্য মানুষকে প্রকৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তাঁর স্মৃতিতে সম্মান জানিয়ে এই পদক চালু করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য ও নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে সম্মাননা জানানো হয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ শিক্ষায় তাঁর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে করা কাজের জন্য। পরিবেশ রক্ষায় তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেছেন এবং হাজারো শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যারা বর্তমানে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সূচিশিল্পী ও উদ্যানপ্রেমী মো. আমিনুল ইসলাম, ১৫ বিঘা জমি জুড়ে ‘গাছবাড়ি’ উদ্যান গড়ে তোলার জন্য ‘বৃক্ষসখা’ সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর গড়ে তোলা উদ্যানে প্রায় ১০ হাজার গাছপালার পাশাপাশি ২৫০ প্রজাতির দুর্লভ ও অনন্য গড়ন ও গঠনের গাছ রয়েছে। তিনি শিক্ষার সঙ্গে বাগানবিদ্যা ও বন্যপ্রাণী পরিচর্যার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মস্তাননগরে অবস্থিত ‘প্রজেক্ট সোনাপাহাড়’-কে সম্মাননা দেওয়া হয় বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ‘মিয়াওয়াকি’ বন গড়ে তোলার জন্য। জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের প্রভাব মোকাবেলায় এই বন অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এছাড়াও, রাঙামাটিতে কমিউনিটি-ভিত্তিক পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করার জন্য পদক জিতেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৭,৫০০টিরও বেশি পাখিবান্ধব চারা বিতরণের পাশাপাশি সড়কের পাশে হাজারো বৃক্ষ রোপণ করেছেন। সওজ লেক ভিউ গার্ডেনসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগও তাঁরই নেওয়া।
ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুবপল্লব-এর এমন উদ্যোগ নিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে সম্মাননাজয়ী প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তাঁদের কাজ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বন, নদী, বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশ রক্ষা কারো একক দায়িত্ব নয়, বরং এই পৃথিবীতে টিকে থাকার লড়াইয়ে এটি আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। এই অনুকরণীয় ব্যক্তিদের দেওয়া সম্মাননা টেকসই উন্নয়নযাত্রায় পরিবেশ রক্ষাই যে মূল শক্তি, তার-ই উদাহরণ।”
বিশেষ অতিথি নূরুন নাহার বলেন, “এই পরিবেশ হিরোরা দেখিয়েছেন, টেকসই উন্নয়নের শুরু আসলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যক্তির হাত ধরেই। তাঁদের কর্মকাণ্ড এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, যেখানে উন্নয়ন আর প্রকৃতি থাকবে পাশাপাশি।”
ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, “এই পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক তাঁদের নিরলস কাজের এক অসামান্য স্বীকৃতি এবং সমাজে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
তরুপল্লব-এর সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় আমাদের আরও সহযোগিতা দরকার। একসঙ্গে কাজ করতে পারলে আমরা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারবো, যা আরও অনেক মানুষকে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।”
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও (কারেন্ট চার্জ) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় বিশ্বাস করে, প্রকৃত উন্নয়ন পরিবেশের উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এই পদক তাঁদের জন্য, যাঁরা প্রকৃতি রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের সম্মাননা জানানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার পথে সবসময় নির্ভরযোগ্য সহযোগী হয়ে থাকার ব্যাপারে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ টেকসই ব্যাংক রেটিং এবং ব্লুমবার্গের ইএসজি রেটিংয়ে ব্র্যাক ব্যাংককে দেশের অন্যতম শীর্ষ টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই স্বীকৃতি ব্র্যাক ব্যাংকের দায়িত্বশীল ব্যাংকিং চর্চা ও সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ব্যাপারে দেওয়া অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি.:
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেয়ার ভিশন নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি. ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘BRACBANK’ প্রতীকে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়। ২৮৫টি শাখা ও উপশাখা, ৩৩০টি এটিএম, ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিস, ১,১২১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৮ হাজারেরও বেশি মানুষের বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক কর্পোরেট ও রিটেইল সেগমেন্টেও সার্ভিস দিয়ে আসছে। ব্যাংকটি দৃঢ় ও শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এখন সকল প্রধান প্রধান মাপকাঠিতেই ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে অবস্থান করছে। আঠারো লাখেরও বেশি গ্রাহক নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বিগত ২৩ বছরেই দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জামানতবিহীন এসএমই অর্থায়নকারী ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এ বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ‘বেস্ট ব্যাংক’-এর সম্মাননা অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
ব্যবসায়িক উৎকর্ষতা, উদ্ভাবন, গ্রাহককেন্দ্রিক সুশাসন এবং মানুষ, সমাজ তথা দেশের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্য ব্র্যাক ব্যাংককে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
কুয়ালালামপুরের কনকর্ড হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ কর্পোরেট নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস প্রতিবছর আয়োজিত একটি প্রোগ্রাম, যেখানে গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস, পরিচালন উৎকর্ষতা এবং টেকসই প্রভাবের জন্য কমনওয়েলভুক্ত দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয়। এই সম্মাননা একটি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা এবং পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত উদ্যোগের পরিচয়ও বহন করে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ধারাবাহিক আর্থিক সাফল্য, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা, সুশাসন, সর্বোচ্চ বাজার মূলধন, সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী কর্তৃক শেয়ারহোল্ডিং এবং এসঅ্যান্ডপি ও মুডিসের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রেডিট রেটিং সংস্থা থেকে দেশসেরা রেটিংপ্রাপ্তি এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জনের পেছনে প্রদান ভূমিকা রেখেছে।
এই সম্মানজনক পুরস্কারপ্রাপ্তির বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও (কারেন্ট চার্জ) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই অর্জন ব্র্যাক ব্যাংকের সুশাসন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রদূত হওয়ার প্রতিফলন। আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ আমাদের গ্রাহক ও স্টেকহোল্ডারদের প্রতি, যাদের বিশ্বাস ও আস্থা আমাদের এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জনে সহায়তা করেছে। এই পুরস্কার আমাদের বাংলাদেশে সবচেয়ে বিশ্বস্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী ব্যাংক হিসেবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি.:
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেয়ার ভিশন নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি. ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘BRACBANK’ প্রতীকে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়। ১৯১টি শাখা, ৯৭টি উপশাখা, ৩৩০টি এটিএম, ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিস, ১,১২১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৮ হাজারেরও বেশি মানুষের বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক কর্পোরেট ও রিটেইল সেগমেন্টেও সার্ভিস দিয়ে আসছে। ব্যাংকটি দৃঢ় ও শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এখন সকল প্রধান প্রধান মাপকাঠিতেই ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে অবস্থান করছে। আঠারো লাখেরও বেশি গ্রাহক নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বিগত ২৩ বছরেই দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জামানতবিহীন এসএমই অর্থায়নকারী ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা পৃথকভাবে ২৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি. তারিখ বৃহস্পতিবার সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জনাব মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ এর সভাপতিত্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অংশ নিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, আমাদের মূল ফোকাস হতে হবে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিমান রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। সন্দেহের বশবর্তি হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের বিন লক না করে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তিনি পরামর্শ দেন। অহেতুক বিন লক করে সৎ ও কমপ্লায়েন্ট আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। প্রতিটি কাস্টমস হাউস এবং গোয়েন্দা দপ্তরসমূহকে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিন কি কারণে লক করা হয়েছে এবং গৃহিত প্রতিটি কার্যক্রম হতে কি পরিমান অতিরিক্ত কর আদায় হয়েছে, প্রতিটি মাসিক রাজস্ব সভায় এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ভ্যাটের আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে আইনানুগভাবে প্রযোজ্য কর আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আদায়ের গ্রোথ বা প্রবৃদ্ধির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। যারা সৎভাবে নিয়ম-কানুন মেনে ভ্যাট প্রদান করেন তাদের ওপর অহেতুক বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা সমিচীন নয়। ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে যারা মোটেও ভ্যাট পরিশোধ করেন না তাদের ভ্যাট নেটে আনা এবং যারা ভ্যাট ফাঁকি দেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে ভ্যাট আদায় বাড়াতে হবে। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে আইন অনুযায়ী যাদের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক তাদের সকলের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো এবং অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের ন্যায় আগামি এক মাসের মধ্যে বন্ডের সকল কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন বাধ্যতামূলক করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বন্ডের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পাদন করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি সেবার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে পরামর্শ দেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
বন্ড সুবিধার আওতায় আনা মালামাল বাজারে বিক্রয়ের প্রমান পাওয়া গেলে তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট আমাদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করার জন্য চেয়ারম্যান মহোদয় নির্দেশনা প্রদান করেন। বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের সাথে রাজস্ব বিভাগের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারির ন্যুনতম সংশ্লিষ্টতার প্রমান পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। বন্ডের অপব্যবহার রোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কমিশনারগণের কাছে জানতে চান এবং এ ক্ষেত্রে কোন ছাড় না দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। বণ্ড অডিট কার্যক্রম হতে অর্জিত ফলাফল সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিটি রাজস্ব সভায় উপস্থাপনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কাস্টমস হাউসগুলোতে নিলাম কার্যক্রম জোরদার করে কন্টেইনার জট কমাতে নির্দেশ দেয়া হয়। যে সকল কন্টেইনার অনেক দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে সেগুলো আগামী ডিসেম্বর, ২০২৫ এর মধ্যে দ্রুত নিলামে বিক্রয় করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
আয়কর অনুবিভাগের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান করদাতাগণ যাতে কল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক তাদের প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন সেজন্য সকল কমিশনারেটে ই-রিটার্ন দাখিলে সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করার পরামর্শ দেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে eTin ও eTDS সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে eTIN সিস্টেমে রক্ষিত তথ্য অনুসারে eTDS সিস্টেমে করদাতার তথ্য এবং অধিক্ষেত্র প্রতিনিয়তঃ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশনা দেন।
তিনি বকেয়া কর আদায় বাড়ানোর জন্য বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হতে সম্প্রতি প্রণিত অডিট নির্দেশনা অনুসরণ করে সকল অডিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে কর দাবি সৃষ্টি এবং কর আদায় করার জন্য সভায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। আয়কর আদায় বাড়াতে অডিট কার্যক্রম বেগবান করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় উপায়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা অতিদ্রুত কর্পোরেট করদাতাগণের ক্ষেত্রেও চালুর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুততার সাথে গ্রহণের ওপর সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
টিআইএন থাকা স্বত্বেও যেসকল করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সকলকে রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ করে, তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করে, আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করে তা আদায় করার জন্য আয়কর আইন অনুযায়ী সকল কার্যক্রম গ্রহণ করে প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য চেয়ারম্যান মহোদয় নির্দেশ দেন। রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিটি কর অঞ্চলকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে কর ফাঁকি উদঘাটন করার ওপর তিনি জোর দেন। দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নসমুহ আয়কর আইনের বিধান অনুসারে প্রসেসিং করার মাধ্যমে কর আদায় কার্যক্রম বেগবান করার জন্য তিনি নির্দেশ দেন।
কর কমিশনারদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সকল মনিটরিং সদস্যকে প্রতিসপ্তাহে একজন কমিশনারের সাথে সভা করে নন-ফাইলারদের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম, কর ফাঁকি উদঘাটন কার্যক্রম, ২০২৪-২৫ কর বছরের রিটার্ন প্রসেসিং কার্যক্রম, পেন্ডিং অডিট মামলাসমূহ নিষ্পত্তি কার্যক্রম তাদারকি করে তা একটি পৃথক ব্রিফিং সেশনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
অন্যান্যের মধ্যে কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের সকল কমিশনার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সকল সদস্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করে কর-জিডিপি বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যহত রাখার বিষয়ে উপস্থিত সকলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সরকারি মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখা ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে জুলাই ২০২৫ ভিত্তিক ‘ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।
বিভাগীয় কার্যালয় রাজশাহী কর্তৃক আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান তানভীর।
এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মো. নিজাম উদ্দিন। এ সময় রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন জোনাল ম্যানেজার, কর্পোরেট শাখার নির্বাহীসহ সকল শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত ছিলেন।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আসল ও সুদের প্রায় ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।
গত অর্থবছরের (অর্থবছর-২৫) জুলাই মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩৮৫.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইআরডি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার আসল বাবদ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ২৬৪.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ১১৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১২০.৭৯ মার্কিন ডলার।
তবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পেয়েছে ২০২.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে নতুন প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ছিল ১৬.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে ৪.০৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছিল।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ৮.৩২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছরের ১০.৭৩৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।
একইভাবে ঋণ বিতরণও কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১০.২৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সর্বাধিক ঋণ বিতরণ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭৭.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক ৫৯.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া জাপান ১৭.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত ১৩.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা ৩৫.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিতরণ ঋণ করেছে।
নেপাল ফরেন ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (এনএফটিএ) সভাপতি শিব কুমার আগারওয়াল ও মহাসচিব জয়ন্ত কুমার আগারওয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার বিকালে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে এনএফটিএ নেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বৈদেশিক বাণিজ্য সহজ করতে অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগ ও কার্যক্রম রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপড় গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি নেপালি পক্ষকে পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতা থেকে সম্ভাব্য সুযোগগুলো খুঁজে বের করে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাস দুদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে যাবে।’
রাষ্ট্রদূত নেপালি প্রতিনিধিদলকে দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে দূতাবাসের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বাজেট উপস্থাপন করেন প্রশাসক এএইচএম কামরুজ্জামান।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে সমপরিমাণ আয় দেখানো হলেও ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৮ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ টাকা। এতে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ১৯ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কামরুজ্জামান বলেন, ‘নগরবাসীর মানসম্মত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে, বাস্তবতার নিরিক্ষে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হলো।
উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের আওতায় ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন, ৩০০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৩৫ হাজার হোল্ডিংয়ে স্মার্ট মিটারসহ পানি সরবরাহ সংযোগ, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, এবং পাঁচ হেক্টর জমিতে পার্ক, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি খাল, পুকুর পুনরুদ্ধারে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জালকুড়িতে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ইতিমধ্যে ২৩৪ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ঋষিপাড়া ও ইসদাইরে ৩৬৯টি ফ্ল্যাটও নির্মিত হয়েছে।’
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতন থাকতে অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালালেও বাসা-বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখা নাগরিকদের দায়িত্ব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ৩৪টি স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প স্থাপন, চারটি কবর সংরক্ষণসহ নানা উন্নয়ন কাজ চলছে। একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ভাতা, ক্ষুদ্রঋণ ও টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত শহর গঠনের লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ–পুনঃনির্মাণ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা–সংস্কৃতি, ক্রীড়া, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিধন, পরিবেশ সংরক্ষণ, যানজট নিরসন, সড়কবাতির উন্নয়ন ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ। এছাড়া বাজেট অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকগণ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য