ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পর দৃষ্টি এখন কাঁচামাল উৎপাদনে। এ জন্য আলাদা শিল্প পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ চরছে।
দেশের চহিদার ৯৮ শতাংশ উৎপাদন করলেও কাঁচামাল আমদানি করার কারণে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এই শিল্প পার্ক হলে এবং কাঁচামাল দেশেই পাওয়া গেলে ওষুধের দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক।
নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি ওষুধ খাত নিয়ে তার কিছু পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে কিছু বলুন।
আ ব ম ফারুক: এক সময় দেশের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ ওষুধ আমদানি হতো। বাকি ২০ শতাংশ উৎপাদন হতো অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে। বাজার দখলে ছিল কয়েকটি বহুজাতিক কম্পানির হাতে।
স্বাধীনতার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালায়ের অধীনে ছোট একটা ড্রাগ সেকশন ছিল। বঙ্গবন্ধু এটাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তৈরি করেন।
তিনি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থাকে নির্দেশ দেন কেউ যদি ওষুধ কম্পানি করতে চায়, তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টাকা দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আমরা পেটেন্ট মানি না।’
১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদ স্থানীয় শিল্পবান্ধব ওষুধ নীতি (ড্রাগ পলিসি) করেছিলেন। এতে বলা হলো: দেশীয় কোম্পানি ওষুধ বানাতে পারবে, সেটা বিদেশিদের বানাতে দেয়া যাবে না। যেগুলো দেশে তৈরি হয়, সেগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে না। এমন সাহসি সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলো দাঁড়িয়ে গেল।
ওষুধ শিল্পের ক্রমান্বয়ে বিকাশের ফলে এখন আমাদের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই তৈরি হচ্ছে। দুনিয়ার আর কোনো দেশে স্থানীয় কোম্পানি বার্ষিক চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধের জোগান দিতে পারে বলে আমার জানা নেই। শুধু উচ্চ প্রযুক্তিতে তৈরি কিছু ওষুধ বাইরের দেশ থেকে আসে।
ওষুধ শিল্প বিকাশে সরকারের নীতি সহায়তা কি যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন?
আ ব ম ফারুক: বিদ্যমান নীতিমালা খারাপ না। এই শিল্পের প্রধান সমস্যা কাঁচামাল। ওষুধ শিল্পকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ করতে হবে এবং দেশেই তৈরি করতে হবে। সরকার সমস্যাটা বুঝতে পেরেছে। ফলে এপিআই পার্ক করছে। কিন্তু অনেক বছর আগে উদ্যোগ নিলেও এর কাজ শেষ হয়নি এখনও।
এপিআই (ওষুধ শিল্প) পার্কের সুবিধা কী?
আ ব ম ফারুক: এখানে ওষুধের কাঁচামাল তৈরি হবে। এপিআই পার্ককে কেন্দ্র করে পশ্চাদ সংযোগ শিল্পগুলো গড়ে উঠবে। ফলে অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
এপিআই পার্ক উৎপাদনে গেলে বাইর থেকে কাঁচামাল আনতে হবে না। দেশের ভেতরেই তৈরি হবে। ফলে কোম্পানিগুলো আরও কম খরচে ওষুধ তৈরি করতে পারবে। ভোক্তা কম দামে ওষুধ পাবে। এ ছাড়া আমাদের রপ্তানিও বাড়বে। সব দিকে আমরা লাভবান হবো এপিআই পার্ক হলে।
করোনাকালে দেশের ওষুধ ব্যবসা রমরমা হওয়ার কারণ কী?
আ ব ম ফারুক: এই সময়ে বেক্সিমকো, ইনসেপ্টা, এসকেএফসহ অনেক কোম্পানির কাছ থেকে বিদেশিরা ওষুধ কিনেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনাকালে বিদেশিরা এ দেশ থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ওষুধ নিয়েছে। যদি এপিআই পার্ক চালু থাকত, তাহলে আরও বেশি রপ্তানি করা যেত।
বহির্বিশ্বে ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন?
আ ব ম ফারুক: খুবই ভালো। তার কারণ বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অবকাঠামো পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় ভালো। এমনকি প্রতিবেশি দেশ ভারত, নেপাল, মিয়ানমারের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
নেপালের ওষুধ শিল্পের অবকাঠামো খুবই দুর্বল। সেখানে ওষুধের কোম্পানি সীমিত। নেপালে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার মাত্র ১৭ শতাংশ পূরণ করে স্থানীয় কোম্পানিগুলো। অবশিষ্ট ওষুধ আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশ ৯৮ শতাংশ ওষুধ অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি করে। বাকি ২ শতাংশ বাহির থেকে আনা হয়। মিয়ানমারে ওষুধ কোম্পানি আছে মাত্র একটি। সেখানে টেকনিক্যাল লোকের অভাব। ফার্মাসিস্ট নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে পূঁজি আছে। কিন্তু তারা ফ্যাক্টরি করছে না। কারণ পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই।
ভারতে ওষুধের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। তবে ধারণা করা হয়, মোট চাহিদার ৮২ শতাংশ উৎপাদন করা হয় স্থানীয় পর্যায়ে। বাকিটা তারা আমদানি করে। ফলে ওষুধ উৎপাদনের শতকরা হারে বাংলাদেশ এগিয়ে ভারতের চেয়ে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাবার পর দেশের ওষুধশিল্প কোনো চ্যালঞ্জের মুখে পড়বে কি?
আ ব ম ফারুক: কিছুই হবে না। আমারা যেরকম আছি, সে রকমই থাকব। সমস্যা হতে পারে ২০৩২ সালের পর। এ জন্য আগে থেকেই তৈরি হতে হবে। তা না হলে কপালে দুঃখ আছে। বর্তমানে পেটেন্ট ছাড়ের সুবিধার আওতায় ওষুধ তৈরির ফলে সস্তায় ওষুধ সেবন করতে পারছে জনগণ।
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কপিরাইট আইন বা মেধাস্বত্ব ছাড়ের সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ।
এই সুবিধার আওতায় ওষুধ উৎপাদনে বিদেশি পেটেন্ট ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশকে কোনো রয়ালিটি বা কোনো ধরনের ফি দিতে হয় না। যে কারণে অনেক দেশের তুলনায় সস্তায় ওষুধ তৈরি করতে পারছে বাংলাদেশ।
এই সুবিধা থেমে যেত, যদি ট্রিপস চুক্তি বা মেধাস্বত্ব আইন অনুযায়ী ২০০৫ সাল থেকে আমাদের পেটেন্ট মানতে হতো। এর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রিয়া ও কোরিয়ায় আন্দোলন হয়েছে। ফলে ২০০০ সালে ‘দোহা ডিক্লারেশন’-এ ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়।
২০১৫ সালের আগেই এটা নিয়ে আমরা হৈ-চৈ শুরু করলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাউথ এশিয়ান কনজিউমার ফোরামের সাত দিনব্যাপী সম্মেলনে ট্রিপসের ব্যাপারে আলোচনা হয়। জাতিসংঘে স্মারকলিপি পাঠানো হয়। তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ খুব ভালো ভূমিকা রাখলেন। আমরা ২০৩২ সাল পর্যন্ত পেটেন্ট ছাড় পেয়েছি। এর মধ্যেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে?
আ ব ম ফারুক: বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে ২০৩২ সালের পরও দেশের ওষুধ শিল্পের সুরক্ষায় পেটেন্ট (মেধাস্বত্ব) ছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে। সে অনুযায়ী সরকারকে কাজ করতে হবে। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক এখান থেকে সরা যাবে না।
আরেকটা কাজ করতে হবে, তা হলো পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যে সব ওষুধ জরুরি, সেই সব ওষুধের ওপর পেটেন্ট আইন প্রযোজ্য হবে না। এ জন্য সরকারকে একটা অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগ লিস্ট বা ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ওষুধের তালিকা বানাতে হবে। এখন এটা আছে।
এই তালিকা দুই-তিন বছর পর পর হালনাগাদ করতে হবে। নতুন নতুন ওষুধ তৈরি হচ্ছে। ওই ওষুধ থেকে কোন কোন ওষুধ ‘অত্যাবশ্যকীয়’, তা নির্ধারণ করে তালিকায় যুক্ত করতে হবে। এটা করা খুবই জরুরি।
এ তালিকা না থাকলে পরবর্তীতে পেটেন্ট ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে না। বর্তমানে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় ২৮৬টি ওষুধ আছে।
২০৩৩ সালের পর চ্যালেঞ্জ কোথায়?
আ ব ম ফারুক: ধরা যাক, এমন একটা ওষুধ বানানো প্রয়োজন হয়ে পড়ল, যেটা পেটেন্ট ছাড়ের সুবিধা পেল না। তখন কী হবে? ২০৩২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা পেটেন্টের আওতায় বাইরে থাকব। ফলে এই সময়ে ওষুধ উৎপাদনে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ২০৩৩ সাল থেকে যখন পেটেন্ট সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে, তখন তো সমস্যা হবে। সে জন্যই বিদ্যমান সুবিধা অব্যাহত রাখতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।
সরকারের করণীয় কি?
আ ব ম ফারুক: বাংলাদেশে ওষুধের দাম কম। এটা অব্যাহত রাখতেই হবে। এর জন্য যা যা করা দরকার, সে বিষয়ে প্রস্ততি নিতে হবে এখন থেকেই।
‘অত্যাবশ্যকীয়’ ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। করোনার জন্য কিছু নতুন ওষুধ আছে। তালিকায় এগুলো যোগ করতে হবে। তা না হলে পরবর্তীতে করোনার ওষুধ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিবে।
এপিআই পার্কের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে। এত বছর পরও কেন উৎপাদনে যেতে পারল না?
আ ব ম ফারুক: বেসরকারি কোম্পানিগুলো এপিআই-এ অবকাঠামো ঠিকমতো তৈরি করছে না, এটা দুঃখজনক। আমি যা বুঝি, ফিনিশড প্রডাক্ট বানালে যে পরিমাণ লাভ হয়, কাঁচামাল বানালে তা হবে না। আমাদের ৪২টি কোম্পানি, তারা যদি পাঁচটা করেও কাঁচামাল বানায়, তাও তো ২০০ কাঁচামাল হচ্ছে। বিশাল ব্যাপার।
এপিআই হলে ওষুধশিল্পের কাঁচামালের আমদানি নির্ভরতা কমবে। শুধু তা-ই নয়, কাঁচামাল রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সময় মতো এপিআই পার্ক না হওয়াটাই ওষুধশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ভোক্তা পর্যায়ে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অরাজকতা চলছে। এর জন্য দায়ী কে?
আ ব ম ফারুক: যে কোনো দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ওষুধগুলোর দাম নির্ধারণ করে সরকার। এটাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম। আমাদের দেশের ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিতেও তা ছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে ওষুধ কোম্পানির দাবির মুখে বলা হলো, ১৭ শতাংশ ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে, বাকিটা কোম্পানি। এটাকে বলা হলো ইন্ডিকেটিভ প্রাইস। এ রকম আজগুবি নিয়ম দুনিয়ার কোথাও নেই।
২০১৬ সালে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উদ্যোগে কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে ওষুধ কম্পানি, ডাক্তার, ওষুধশিল্প সমিতি, ফার্মাসিস্ট, রোগী এবং যারা ওষুধটা বিক্রি করে তাদের একজন করে প্রতিনিধি থাকবে। সরকারের একজন বা দুজন থাকবে। যেদিন যে কম্পানির ওষুধ নিয়ে আলোচনা হবে, সেদিন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লোক থাকবে না। মিটিংয়ে মূল্য পর্যালোচনা হবে। কাঁচামালের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে ওষুধের দামও কমবে-বাড়বে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের উপায়ও বলে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই নিয়ম আর কার্যকর হলো না।
ফাইল ছবি
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল স্কয়ার হসপিটাল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি’। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্কয়ার হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।
এই বিশেষ পরীক্ষায় বিশ্বখ্যাত 'মোনা লিসা' (Mona Lisa) রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক ব্যবস্থা যা সার্জনকে প্রোস্টেটের নমুনা সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত সহায়তা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর আগের করা এমআরআই এবং পরীক্ষার সময়কার তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবিকে একত্রে সমন্বয় বা ফিউশন করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রি-ডি ম্যাপ তৈরি করে। এই ম্যাপটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকরা প্রোস্টেটের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রোবোটিক গাইডেন্সের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেন।
প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ছোট টিউমারগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বায়োপসি সুই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নতুন এই রোবোটিক সিস্টেমে ঠিক যে জায়গায় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বা একুরেসি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং রোগীকে বারবার কষ্টদায়ক বায়োপসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।
এই সাফল্য সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া জানান যে, প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। দেশের ভেতরেই এখন এমন উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের এই জটিল পরীক্ষার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হসপিটালের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইউরোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বমানের সেবা প্রদানে পুরোপুরি সক্ষম।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।
অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য