× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is no sound but there is demand
hear-news
player
print-icon

কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছে

কটকট-শব্দ-নেই-চাহিদা-আছে
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার কটকটি। ছবি: নিউজবাংলা
মাহবুর বলেন, ‘আগে কটকটি গরম পানি দিয়ে মাখিয়ে তৈরি হতো। সেই কটকটি ঠান্ডা হয়ে এলে খুব শক্ত হতো। খাওয়ার সময় কটকট করে শব্দ হতো। এখন নরম করে তৈরি করা হয়, তাই চাহিদা আগের চেয়ে আরও বেশি হয়েছে।’ 

ময়দার সঙ্গে মেশানো হয় চালের আটা, সেটা গোলানো হয় পানিতে, সঙ্গে মাখানো হয় ডালডা। এরপর সেটির খামির তৈরি করে ছোট ছোট টুকরা করা হয়। টুকরাগুলো ভাজা হয় ফুটন্ত তেলে। এরপর সেগুলো ডোবানো হয় গুড়ের সিরায়। পরে ঠান্ডা হলে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় মুচমুচে সুস্বাদু খাবার ‘কটকটি’।

সুস্বাদু খাবারটি তৈরির এমন বর্ণনা দিচ্ছিলেন বগুড়ার মহাস্থানগড়ের কটকটি ব্যবসায়ী মাহবুরের স্ত্রী সালমা বেগম। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে কটকটি তৈরি করে মাজারের পশ্চিমের মাঠে বিক্রি করেন।

উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়ায় খাবারটি খুব জনপ্রিয়। আশপাশের এলাকায়ও এর চাহিদা রয়েছে। জনপ্রিয় হলেও খাবারটির উৎপত্তির ইতিহাস জানা যায় না। শতবর্ষ ধরে মহাস্থান এলাকায় খাবারটি পাওয়া যায়।

মহাস্থানের মাজার ও প্রাচীন নিদর্শন এলাকায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা ফেরার সময় কটকটি কিনতে ভোলেন না। শুধু তা-ই নয়, কোথাও বেড়াতে গেলে কটকটি নিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের কাছে অনেকটা রেওয়াজের মতো হয়ে গেছে।

ছোট থেকেই কটকটি তৈরির প্রক্রিয়া জানলেও সালমা বেগম জানান, বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে পুরোপুরিভাবে কটকটি তৈরিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন।

কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছে

স্বামী মাহবুর রহমান প্রায় সাত বছর কারিগর হিসেবে অন্যের কারখানায় কাজ করেছেন। এরপর সাত বছর আগে নিজেই শুরু করেন কটকটি তৈরির ব্যবসা। মহাস্থানগড়ের ওপর গড়ে তুলেছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

মাহবুর বলেন, ‘আগে কটকটি গরম পানি দিয়ে মাখিয়ে তৈরি হতো। সেই কটকটি ঠান্ডা হয়ে এলে খুব শক্ত হতো। খাওয়ার সময় কটকট করে শব্দ হতো। এখন নরম করে তৈরি করা হয়, তাই চাহিদা আগের চেয়ে আরও বেশি হয়েছে।’

তিনি জানান, একসময় গমের আটা দিয়ে তৈরি হতো এই কটকটি, পরে ময়দার সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি শুরু হয়।

কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছে

বগুড়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলে মহাস্থানগড়ে এখন পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

বাজারটিতে মাসে বা বছরে কী পরিমাণ কটকটি বিক্রি হয় তার কোনো পরিসংখ্যান নেই ব্যবসায়ীদের কাছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বছরে ছয় মাস (নভেম্বর থেকে এপ্রিল) মহাস্থানগড়ে পর্যটন মৌসুম ধরা হয়। এই সময়ে গড়ে অন্তত প্রতিদিন ২৫০ মণ কটকটি বিক্রি হয়। অন্য সময়গুলো দৈনিক ১০০ কেজি পরিমাণ বিক্রি হয়ে থাকে। এই হিসাবে মাসে ৬ হাজার মণ, বছরে ৭২ হাজার মণ কটকটি কেনাবেচা হয়।

সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে কটকটি ব্যবসায়ও। দাম বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীদের লাভের অঙ্কে পড়েছে টান।

কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছে

ব্যবসার অবস্থা নিয়ে মাহবুর বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে লাভ অনেক কমে গেছে। যে গুড়ের দাম ছিল ৪৫ টাকা; তা হয়েছে ৮৩ টাকা কেজি। ডালডা ১৬ কেজির একটি কার্টন কিনতে লাগে ২ হাজার ৮০০ টাকা। অথচ করোনার আগেই এর দাম ছিল ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। তেল কিনেছি ১৭০ টাকায়। কেনার পর তো আরও দাম বেড়েছে।’

তিনি জানান, এক কেজি কটকটি তৈরি করতে খরচ হয় গড়ে প্রায় ১১০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত লাভ করা যেত। এখন তা অর্ধেকে নেমে গেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলেও কটকটির চাহিদা কমেনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

মহাস্থানগড়ে প্রতি কেজি কটকটি মানভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সয়াবিন তেলে ভাজা কটকটি ১২০ টাকা কেজিতে, ডালডায় ১৪০ এবং ঘি মাখা ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, এই কটকটি মাজারের তবারক হিসেবে নেয়া হয়। এ ছাড়া মেহমানদের আপ্যায়নে মুখরোচক কটকটি ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

মহাস্থানগড় উত্তরপাড়ার বাসিন্দা কবিরাজ বাদশা পীর বলেন, ’এই মহাস্থান শাহ মো. সুলতান বলখীর মাজারে অনেক মানুষ প্রতিদিন আসেন। জিয়ারত করেন, মানত করেন। আগতরা এখানে এলে কটকটি কেনেন। এটা মাজারের তবারক হিসেবেই সবাই দেখেন। সব সময় এর বেচাবিক্রি ভালো। রমজানে শুধু বিক্রি কমে যায়।’

গড়ের ওপর জাকারিয়া কটকটির মালিক নুরনবী ইসলাম জানান, দোকানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ কেজি কটকটি বিক্রি হয়। শুক্রবার করে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি পর্যন্ত কটকটি বিক্রি হয়ে থাকে।

কটকট শব্দ নেই, চাহিদা আছেনুরনবীর সঙ্গে কথা বলার সময় নওগাঁর ধামইরহাট থেকে আসা একদল দর্শনার্থী আসেন কটকটি কিনতে। তারা ১৫ কেজি কটকটি কিনেন নুরনবীর দোকান থেকে।

তাদের একজন আইয়ুব আলী জানান, তারা দুই বাসে প্রায় ১০০ জন মহাস্থানগড়ে বেড়াতে এসেছেন। এসেই নিচে ও ওপরের দোকান ঘুরে প্রায় ৪০ কেজি কটকটি কিনেছেন। এসব কটকটি বাড়ির ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য নিয়েছেন।

এই দলের আরেকজন শামীম হোসেন জানান, তাদের গ্রামে মহাস্থানের কটকটি খুব জনপ্রিয়।

মহাস্থান গড়ের নিচের এক দোকানে কথা হয় আরেক দর্শনার্থীর মো. মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে। তার বাড়ি যশোরে। বগুড়ায় থাকেন চাকরির সুবাদে। সুযোগ পেয়ে মহাস্থানগড়ে বেড়াতে এসেছেন।

কটকটি খেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মাজহারুল বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই এলাকায় এসে এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার কটকটি খাব না তা হয় না। খেয়েছি, আবার নিয়েও যাচ্ছি।’

মহাস্থানগড়ের নিচে বগুড়া-শিবগঞ্জ সড়কের মাজার রোডের দুই পাশে একাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান অনেক পুরোনো। বেশির ভাগই প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে ব্যবসা করছে।

আলাদা এসব দোকানে বড় বড় গামলা ও ড্রামের ট্রেতে কটকটির বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা।

সেখানের নাসির কটকটি ভান্ডারের মালিকের ছেলে শহিদুল ইসলাম রঞ্জু এখন ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তিনি জানান, কটকটির সুনাম সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে। এ জন্য ব্যবসাও প্রসার হচ্ছে। এখানকার প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া অনেকে শুধু কারখানা গড়ে তুলেছেন। যেখানে নারী শ্রমিকরাই বেশি।

মহাস্থানের পুরোনো দোকানের মধ্যে অন্যতম হামু মামা কটকটি প্যালেস। দোকানের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, মহাস্থানে মাজারের ওপর ও নিচের অংশ মিলে প্রায় ২০০ কটকটির দোকান।

তিনি বলেন, ‘এখানকার কটকটি মাজারের তবারক হিসেবে প্রচলিত। প্রায় দেড় শ বছর ধরে কটকটির ব্যবসা হয়ে আসছে এখানে। বিভিন্ন পিকনিক পার্টি থেকে শুরু করে ওরসের লোকজন এখন বেশি। বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার এখানে সবচেয়ে বেশি কটকটি বিক্রি হয়।’

হুমায়ুন আরও বলেন, ‘এ এলাকায় শুধু কটকটি ব্যবসার সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ জড়িত। কারিগরদের চাহিদা যেমন বেশি, পারিশ্রমিকও অনেক বেশি।’

বগুড়া জেলা চেম্বার অফ কমার্সের সহসভাপতি মাহফুজুল ইসলাম রাজ বলেন, ‘বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার কটকটি। এর সুনাম শুধু দেশ নয়; বিশ্বেও ছড়িয়েছে। কটকটি ব্যবসার সঙ্গে বহু নারী-পুরুষ জড়িত রয়েছে আমরা জানি, যা আমাদের জেলা বগুড়ার জন্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।’

আরও পড়ুন:
রাতের খাবারে মাংস বাড়ায় মৃত্যুঝুঁকি
দুপুরের খাবার ১৫ টাকায়
দীর্ঘ অনশনে কী ঘটে শরীরে?
করোনাকালে শিশুদের খাবার
ওমিক্রন থেকে সতর্ক থাকতে খান এই পাঁচ খাবার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Transferred 16 employees due to doctors harassment in own hospital

নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি

নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি মেইলে দুটি পত্র পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, এই বদলি জনস্বার্থে করা হয়েছে।’

মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সম্প্রতি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ওই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক। পরে এ হাসপাতালে কর্মচারীদের অব্যবস্থানা ও নৈরাজ্য বন্ধে আন্দোলন শুরু করেন চিকিৎসকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরকারি ওই হাসপাতালটির ১৬ কর্মচারীকে একযোগে বদলীর আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বদলীর আদেশসহ এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী সাত কর্মদিবসে কর্মচারীদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আমি মেইলে দুটি পত্র পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, এই বদলী জনস্বার্থে করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে তাদের বদলী করা হয়েছে।’

বদলীর আদেশ পাওয়া কর্মচারীরা হলেন- অফিস সহায়ক সিরাজুল ইসলাম, বিউটি আক্তার, দুলাল বসুনিয়া, জানুরাম সরকার, নুরুজ্জামন, রইস উদ্দিন, মহিত আল রশিদ উদয়, আল আমিন ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মোরশেদ হাবীব, শাহজাদা মিয়া ও আবু জাফর।

এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী রহমত আলী, পরিচ্ছন্নকর্মী হাসিনা বেগম, ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হাসান, স্টোনো টাইপিষ্ট আব্দুল আলীমকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর তার মাকে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে ভর্তির জন্য অতিরিক্ত ২৫০ টাকা দাবি করা ছাড়াও বকশিস হিসেবে আরও ২০০ টাকা দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন হাসপাতালের পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন রাশেদুল আমীর।

সর্বশেষ গত সোমবার হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন করেন চিকিৎসরা।

আরও পড়ুন:
ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ কর্মচারীর
শহীদ মিনারে মারধর: কর্মবিরতিতে ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্নরা
ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম
শহীদ মিনারে মারধর: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Russel unleashed the Viper causing panic

রাসেলস ভাইপার অবমুক্ত করায় গড়াই পাড়ে আতঙ্ক

রাসেলস ভাইপার অবমুক্ত করায় গড়াই পাড়ে আতঙ্ক শামীম হোসেন নামে এক মাছ শিকারীর জালে ধরা পড়ে সাপটি। ছবি: নিউজবাংলা
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যেসব সাপ দেখা যায়, এদের মধ্যে রাসেলস ভাইপারই সবচেয়ে বিষাক্ত। এটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত।

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়া বিষধর একটি রাসেলস ভাইপার সাপ গড়াই নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ওই নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারীদের মধ্যে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গড়াই রেল ও সড়ক সেতুর নিচে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পদ্মা নদীতে শামীম হোসেন নামে এক মাছ শিকারীর জালে সাপটি ধরা পড়ে।

শামিম হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজ সকাল ৭টার দিকে নদীতে পাতা দোয়াড় জাল তুলে দেখি একটি অন্যরকম সাপ। প্রথমে অজগর মনে করেছিলাম। পরে বনবিভাগের লোকজন এটিকে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়ে যায়।’

এদিকে গড়াই নদীতে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার সাপটি অবমুক্ত করায় চিন্তিত নদীটির পাড়ে বসবাস করা লোকজন।

কুমারখালী উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘পদ্মা থেকে এনে সাপটিকে গড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে লাভ কি হলো? গড়াই নদীপাড়ে লোকালয় বেশি। এটা দায়সারা কাজ হয়েছে। অনেক দূরে কোথাও ফাঁকা স্থানে অবমুক্ত করলে ভাল হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য বিলুপ্তপ্রায এই সাপ যেমন টিকিয়ে রাখা দরকার, তেমনি মানুষের নিরাপত্তার কথাও চিন্তা করা উচিত।

রাসেলস ভাইপার অবমুক্ত করায় গড়াই পাড়ে আতঙ্ক
গড়াই রেল ও সড়ক সেতুর নিচে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে

এদিকে কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জি এম মোহাম্মদ কবির বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে সাপটি ভারত থেকে পদ্মা নদী হয়ে এসেছে। জব্দ করার পর গড়াই নদে অবমুক্ত করা হয়। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। নদী বেয়ে অন্যত্র চলে যাবে।’

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি বনবিভাগের। তারাই ভাল বলতে পারবেন।’

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও পদ্মা ও গড়াই নদীতে বেশ কয়েকবার রাসেল ভাইপার সাপ পাওয়া গেছে। পরে সেগুলো নদীর দুর্গম চরে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে যেসব সাপ দেখা যায়, এদের মধ্যে রাসেলস ভাইপারই সবচেয়ে বিষাক্ত। এটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন:
সাপের ছোবলে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর
চবিতে ১০ ফুট লম্বা অজগর
ভাইয়ের শেষকৃত্যে এসে তারও মৃত্যু সাপের ছোবলে
সাপের ছোবলে প্রাণ গেল ২ মাদ্রাসাছাত্রের
সাপের মাথার আকৃতি বলে দেয় বিষধর কি না

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 were killed in an autorickshaw hit by a bus

অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৩

অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৩
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশাটি কুলিয়ারচরের ছয়সূতী এলাকা পার হওয়ার সময় পেছনে থাকা একটি বাস ধাক্কা দেয়।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন।

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচরের ছয়সূতী এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কুলিয়ারচরের লালপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান ও ভৈরবের নূরুল ইসলাম। নিহত আরেকজনের পরিচয় নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

তথ্যগুলো জানিয়েছেন কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশাটি কুলিয়ারচরের ছয়সূতী এলাকা পার হওয়ার সময় পেছনে থাকা একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজনের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালের নেয়ার সময় পথে আরও একজন মারা যান।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে তখনই গিয়ে বাসটিকে জব্দ করা হয়। তবে চালককে পাওয়া যায়নি। আহত ব্যক্তিকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাইক্রোবাসের চাপায় প্রাণ গেল পথচারীর
ট্রাকচাপায় পা হারাল ৩ বছরের শিশু
রাস্তা পার হওয়ার সময় বাইকের ধাক্কায় নারী নিহত
ট্রাকচাপায় ইজিবাইকে থাকা নানি-নাতনি নিহত
অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে প্রাণ হারালেন নারী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chittagong DC warns around Durga Puja

দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি

দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে মঙ্গলবার দুপুরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রামের ডিসি বলেন, ‘এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ দেশে কোনো অপশক্তি যেনো মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে এলজিইডি মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিসি বলেন, ‘কয়েক দিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসব ঘিরে উন্নয়নবিরোধী একটি মহল দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত বছর দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, তা সফল হয়নি।

‘এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ দেশে কোনো অপশক্তি যেনো মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

সমাবেশের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার শপথ বাক্য পড়ান জেলা প্রশাসক। পরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করা হয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ সমাবেশে বলেন, ‘শুধু দুর্গাপূজা নয়, কখনোই কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আগামি দুর্গাপূজায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকবে না। পূজামণ্ডপ ঘিরে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা বা উসকানি দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. বদিউল আলম সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, জেলা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল।

আরও পড়ুন:
পূজায় এবার যেতে হবে না বাবার বাড়ি, ২ গ্রামে
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Madrasa teacher beaten up on charges of attempted rape

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি
শিশুর মা জানান, গত জানুয়ারি মাসে মেয়েকে স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গত সোমবার সকালে মেয়েটিকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে যৌন হয়রানি করেন।

ফেনীর বালিগাঁও ইউনিয়নে ৫ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে আটকে পিটুনি দিয়েছেন শিশুর মা ও স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পিটুনির ভিডিও মঙ্গলবার ভাইরাল হলে ঘটনা জানাজানি হয়।

ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন এসব নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষকের নাম ফখরুল ইসলাম। তাকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। শিশু পরিবার থেকে মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

শিশুর মা জানান, গত জানুয়ারি মাসে মেয়েকে স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গত সোমবার সকালে মেয়েটিকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে যৌন হয়রানি করেন। মেয়ে বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানালে মঙ্গলবার তিনি মাদ্রাসায় যান।

তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগ করতে মাদ্রাসায় গেলে প্রধান শিক্ষক ব্যবস্থা না নিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ফখরুল ইসলামের পক্ষে সাফাই গেয়ে উল্টো বলেন যে তিনি নাকি এসবে জড়িত না।

‘এসব মাদ্রাসা চালু থাকলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আরও ঘটবে। মাদ্রাসায় কোনো নিয়ম-নীতি নাই। শুধুমাত্র টাকা রোজগার করার জন্য মাদ্রাসা চালু করেছে। এখানকার শিক্ষকরা অন্য ছাত্রীদের সঙ্গেও নাকি এসব করেছে। কেউ হয়তো মুখ খুলছে না।’

ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, মামলা হলে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করা হবে ও পরে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন, সন্তানকে স্বীকৃতি দেয়ার নির্দেশ
২ কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
কিশোরীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, ৩ যুবক কারাগারে
চাকরির প্রলোভনে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I dont have to go to my fathers house in 2 villages for puja

পূজায় এবার যেতে হবে না বাবার বাড়ি, ২ গ্রামে

পূজায় এবার যেতে হবে না বাবার বাড়ি, ২ গ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে রুটি গ্রামের পূজা মণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা
আখাউড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এবার আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মসজিদপাড়া ও রুটি গ্রামের পূজা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার মসজিদপাড়া আর ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রাম। প্রতিবছর দুর্গাপূজা এলেই তা উদযাপনের জন্য হিন্দু অধ্যুষিত এ গ্রাম দুটির গৃহবধূরা চলে যেতেন বাবার বাড়ি। কারণ গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দুটি গ্রামে কোনো দুর্গাপূজা হয়নি।

দীর্ঘ বছর পর এবার ওই দুটি গ্রামে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার প্রতিমাকে ঠাঁই দিতে গ্রাম দুটির সার্বজনীন পূজা আয়োজনের স্থানে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতারও ৪/৫ বছর বছর আগে সর্বশেষ ওই দুটি গ্রামে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। পরে আর্থিক অসচ্ছলতা, লোকবল আর উদ্যোগের অভাবে অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে দেবী দুর্গার পূজা করতে পারেননি তারা।

এ দুটি গ্রামের বাসিন্দারা তাই অন্য এলাকায় গিয়ে পূজা করতেন। পূজার সময় এলে বাবার বাড়িতে দল বেঁধে রওনা হতেন গৃহবধূদের অনেকেই।

মঙ্গলবার গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, পূজা উদযাপন হবে এমন আনন্দে মেতেছেন বাসিন্দারা। সাজ সাজ রব তাদের। পূজার স্থানে চলছে প্যান্ডেল ও মণ্ডপ তৈরির কাজ। নির্মিত হচ্ছে তোরণ। সড়ক থেকে পূজার জন্য নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত সরু পথের দুই পাশে থাকবে আলোকসজ্জাও।

তবে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই নয়। বাসিন্দারা জানালেন, এবার গ্রাম দুটিতে পূজা উদযাপনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র বলেন, ‘দীর্ঘদিন রুটি গ্রামের শশ্মানঘাটের জায়গা বেদখল ছিল। তবে আইনমন্ত্রী সে জায়গাটি উদ্ধার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বলেছি- এ বছর পূজা উদযাপন করুন। আমরা সহযোগিতা করবো।’

আখাউড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এবার আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মসজিদপাড়া ও রুটি গ্রামের পূজা। আশা করি, এখন থেকে প্রতিবছরই এ দুটি গ্রামে পূজা উদযাপিত হবে।’

রুটি গ্রামের গৃহবধূ জোসনা রানী শীল জানান, ২৩ বছর আগে তিনি এ গ্রামটিতে বউ হয়ে এসেছেন। কিন্ত স্বামীর বাড়িতে কোনোদিন দূর্গাপুজার আয়োজন না হওয়ায় পূজার আনন্দ করতে পারেননি।

জোসনা রানীর মতো বকুল রানীও জানালেন, এবার পূজায় তাই বাবার বাড়ি যেতে হবে না তাদের।

আরও পড়ুন:
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 11 years of rape and murder 9 people get life

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সদরে ১১ বছর আগে গৃহবধুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন বিষয়খালী এলাকার মোহাম্মদ রসুল, শরিফুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, গোলাম রসুল, আব্দুল আজিজ, আজিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও আব্দুল বাতেন। এদের মধ্যে শরিফুল ও আমিরুল ইসলাম পলাতক আছেন।

মামলার আরেক আসামি মো. আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে।

২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ হত্যার নিহতের স্বামী পরদিন আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার বাদী নিহতের স্বামী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও বিচার পেয়ে আমরা খুশি। এই রায় যেন কার্যকর হয়।’

আরও পড়ুন:
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
জমি নিয়ে বিরোধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেশীর আমবাগানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত মরদেহ
চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

p
উপরে