× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Musharraf did not go to Faridpur with his comrades in jail
google_news print-icon

সঙ্গীরা কারাগারে, দাপুটে মোশাররফ যানই না ফরিদপুরে

সঙ্গীরা-কারাগারে-দাপুটে-মোশাররফ-যানই-না-ফরিদপুরে
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তখন থেকেই জেলাটিতে তৈরি হয় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ পরিবারের দাপট।
২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে অনুসারীরা আটক হওয়ার দুই দিন পর ফরিদপুর থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী। এরপর সাড়ে ৯ মাসে তিনি কেবল দুই রাতের জন্য দুইবার ফরিদপুরে গিয়েছিলেন। একবার তার মেয়েকে নিয়ে লকারে থাকা কাগজপত্র নিয়ে যান। আরেকবার ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তার চাচির মৃত্যুতে জানাজায় অংশ নেন।

এ যেন আকাশ থেকে মাটিতে পতন। বছর দুয়েক আগেও ফরিদপুরের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন এলাকাতেই ভিড়ছেন না। তিনি সবশেষ এলাকায় গেছেন এক বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেল।

এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার ছোট ভাই খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবর। ঘনিষ্ঠ সহচর সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল গ্রেপ্তার হয়েছেন তার বাসভবন থেকে। তাদের পক্ষে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপই নেই ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্যের।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী হন তিনি। তখন থেকেই জেলাটিতে তৈরি হয় মোশাররফ পরিবারের দাপট।

সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে আরও বড় মন্ত্রণালয় হিসেবে বিবেচিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ের দায়িত্ব পান মোশাররফ। এরপর ফরিদপুরে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দরপত্রে তার অনুসারীরাই হয়ে ওঠেন হর্তাকর্তা।

সঙ্গীরা কারাগারে, দাপুটে মোশাররফ যানই না ফরিদপুরে

সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই ও ফরিদপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবর পুলিশ হেফাজতে। ছবি: নিউজবাংলা

তবে সব কিছু পাল্টে যেতে থাকে আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদের শুরু থেকে। মন্ত্রিত্ব থেকে মোশাররফের বাদ পড়া কিছুটা বিস্ময় তৈরি করে। তবে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরীর মতো ডাকসাইটে নেতাদেরও প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় না রাখার পর মোশাররফের বিষয়টি নিয়ে আলাদা আলোচনা হয়নি।

এই সরকারের আড়াই বছরের মাথায় ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পাল্টে যেতে থাকে ফরিদপুরের পরিস্থিতি।

ওই বছরের ৭ জুন ফরিদপুরে খন্দকার মোশাররফের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন বরকত-রুবেলসহ ৯ জন। পরে জানানো হয়, তারা বিদেশে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করেছেন।

সঙ্গীরা কারাগারে, দাপুটে মোশাররফ যানই না ফরিদপুরে

সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহচর সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি কোলাজ:নিউজবাংলা

এই মামলায় যাদের নাম আছে তারা সবাই খন্দকার মোশাররফের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

অনুসারীরা আটক হওয়ার ‍দুই দিন পর ফরিদপুর থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী। এরপর পৌনে দুই বছর তিনি কেবল দুই রাতের জন্য দুইবার ফরিদপুরে এসেছিলেন।

একবার তার মেয়েকে নিয়ে লকারে থাকা কাগজপত্র নিয়ে যান। আরেকবার ২০২১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চাচির মৃত্যুতে জানাজায় অংশ নেন।

তার অবর্তমানে শহরের বদরপুরের বাসভবন ‘আফসানা মঞ্জিল’ এখন দর্শনার্থী ও তরুণদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। বাড়িটিতে থাকেন কয়েকজন কেয়ারটেকার। সেখানে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। এতে গোটা বিশেক হরিণ, কয়েকটি উটপাখি, ময়ূরসহ আরও কিছু প্রাণীর দেখভাল করেন তারা।

সঙ্গীরা কারাগারে, দাপুটে মোশাররফ যানই না ফরিদপুরে

সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অবর্তমানে শহরের বদরপুরের বাসভবন ‘আফসানা মঞ্জিল’ এখন দর্শনার্থী ও তরুণদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। বাড়িটিতে থাকেন কয়েকজন কেয়ারটেকার। সেখানে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। ছবি: নিউজবাংলা

ভাইয়ের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ব্যাপারে আমি আপনাদের চেয়েও কম জানি। আর সে অপরাধ করলেও আমি কি বলে দেব যে সে এই অপরাধ করেছে? আপনারা খোঁজ নিয়ে জানেন।’

এলাকায় যাচ্ছেন না কেন- এই প্রশ্ন করার পরই কিছুটা রাগান্বিত হয়ে উঠে ফোন কেটে দেন মোশাররফ।

ফরিদপুরের আলোচিত সাংবাদিক প্রবীর শিকদার অবশ্য মনে করেন, বাবরের উত্থান ও তার সব কিছুর পেছনে খন্দকার মোশাররফের দায় রয়েছে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খন্দকার বাবর একটা ফ্যাক্টর৷ কিন্তু খন্দকার মোশাররফ সাহেবের আশীর্বাদ ছাড়া তো ফরিদপুরে লুটপাট দুর্নীতি করা সম্ভব হয়নি৷’

তিনি মনে করেন, মোশাররফ সাম্রাজ্য ভেঙে পড়া এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র। বলেন, ‘খন্দকার মোশাররফ সাহেব অনেক বাড়াবাড়ি করেছেন৷ তার চূড়ান্ত পরিণতি শুরু হয়েছে৷’

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘খন্দকার বাবর ছিলেন ভিন্ন দলে, সুযোগ-সুবিধা লুটতেই তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এতদিন ভাইয়ের ক্ষমতার দাপটে তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।’

তিনি বলেন, ‘নেত্রীর (শেখ হাসিনা) আত্মীয় হওয়ার পরও এখন তারা রেহাই পাচ্ছেন না৷ এর আগে অনেকের ধারণা ছিল, খন্দকার বাবর গ্রেপ্তার হবেন না৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়েছেন৷ হাতে হাতকড়াও দেয়া হয়েছে৷ ওয়েট অ্যান্ড সি, এরপর কী হয়৷’

সঙ্গীরা কারাগারে, দাপুটে মোশাররফ যানই না ফরিদপুরে

সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস এইচ এম ফুয়াদকে আটক করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

দাপটের শুরু যেভাবে

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে সারা দেশে ভূমিধস বিজয়ের কালে ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ফরিদপুর সদর আসন দখল করে আওয়ামী লীগ। সংসদ সদস্য হন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর উত্থান হয় ছোট ভাই খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবরের। বিএনপি শাসনামলে তিনি ছিলেন দলটির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফের সহযোগী। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগনে।

২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাবর তার ভাই মোশাররফের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন না। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কামাল ইবনে ইউসূফের প্রধান এজেন্ট ছিলেন। সে সময় ২০ দলীয় জোট আসনটিতে মনোনয়ন দেয় জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে।

বড় ভাই মন্ত্রী হওয়ার পর বাবর পক্ষ পাল্টান। অভিযোগ আছে, বাবরের হাত ধরেই শুরু হয় টেন্ডারবাণিজ্য, নিয়োগবাণিজ্য, চাঁদাবাজি। স্থানীয় আওয়ামী লীগেও আসতে থাকে পরিবর্তন। ত্যাগী নেতারা কোণঠাসা হতে থাকেন, অন্য দল ও মতের অনুসারীরা ক্ষমতাসীন দলে আসতে থাকেন, যারা পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘হাইব্রিড নেতা’ হিসেবে।

একে একে বাদ পড়েন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বিপুল ঘোষ, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক ভোলা মাস্টার, সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ মুখার্জিসহ অনেকে।

ফরিদপুর আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ বাবরের হাতে চলে যায়। মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ফরিদপুর সদরের সমস্ত ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেন।

একে একে মেডিক্যাল কলেজ, পাসপোর্ট অফিস, সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন তিনি। আলোচিত দুই ভাই রুবেল ও বরকতের উত্থান হতে শুরু করে।

২০১৪ সালে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বাবর। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে চেষ্টা করেন তিনি।

২০১৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে ‘বাবরকে সাধারণ সম্পাদক চাই’ লেখা হাজারো ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় ফরিদপুর শহর। কিন্তু সফল হননি।

সবকিছু ঠিকঠাকমতো চলছিল। তবে ২০১৭ সালে বড় ভাই খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বাবরের সম্পর্কের অবনতি হয়। একাধিক ঘনিষ্ঠজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাবরের কাছে টাকা চান খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে রাজি হননি।

এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের শুরু। একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার হারান বাবর। এরপর ফরিদপুরে এলেও টিকতে পারেননি তিনি। সেই থেকে তিনি ঢাকাতেই থাকতেন।

২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি বাবর রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। গত ৭ মার্চ রাতে ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।

পতনের শুরু

২০২০ সালের ১৬ মে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। তখন থেকেই মূলত মোশাররফ সাম্রাজ্যে ফাটল ধরা দেয়।

১৮ মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন সুবল সাহা। এরই ধারাবাহিকতায় এই বছরের ৭ জুন ফরিদপুরে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ক্ষমতার বলয়ে যারা ছিলেন, তাদের প্রায় সবাইকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এই গ্রেপ্তারের আগে সুবল ছাড়াও সোচ্চার হন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। তারা অভিযোগ করতে থাকেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলেই তারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এসব নেতা ও কর্মীদের অভিযোগ, খন্দকার মোশাররফের নির্দেশে তার অনুসারী বাবর-ফুয়াদরা তাদের বিরুদ্ধে নানা মামলা দিয়েছেন। পাশাপাশি নানা নির্যাতন করেছেন।

‘ডানহাত’ বরকত-রুবেল-ফুয়াদও বন্দি

খন্দকার মোশাররফের জমানায় ফরিদপুরে তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন শহরের ব্রাক্ষ্মণকান্দা গ্রামের দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল।

এই দুজন একসময় বিএনপি নেতা খন্দকার চাঁদের ফুটফরমাশ খাটতেন। খন্দকার মোশাররফ বদরপুরে বাড়ি করলে সেখানে ভিড়তে শুরু করেন। বাবরের ক্ষমতার ভিত শক্ত হলে দুই ভাই হাত মেলান তার সঙ্গে।

খন্দকার মোশাররফ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হওয়ার পর বরকত-রুবেলের উত্থানের শুরু। বরকত হন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আর রুবেল হন স্থানীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, খন্দকার মোশাররফের মন্ত্রিত্বের সুবাদে স্থানীয় সরকার বিভাগের সারা দেশের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন বরকত। চালু করেছিলেন ১৫ শতাংশ কমিশন ব্যবস্থা।

খন্দকার মোশাররফ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী থাকাকালীন এপিএস সত্যজিত মুখার্জির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হলে তাকে নানা মামলা দিয়ে পাঠানো হয় কারাগারে। তখন এপিএস হন এ এইচ এম ফুয়াদ।

মোশাররফের ফরিদপুর নিয়ন্ত্রণের অন্যতম নাম এই ফুয়াদ। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালে তার একটি বাহিনী গড়ে ওঠে যারা ‘হাতুড়ি ও হেলমেট বাহিনী’র তকমা পায়। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই এই বাহিনী দিয়েই নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আছে।

২ হাজার কোটি টাকার পাচারের মামলায় ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর রাতে ফুয়াদকেও ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‘২ হাজার কোটি টাকা পাচার’ ইস্যু

২০২০ সালের ২৬ জুন রাজধানীর কাফরুল থানায় অর্থ পাচারের অভিযোগে বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

মামলায় ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন দুই ভাই।

মামলায় বলা হয়, মাদক কারবার, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তারা। এসি, নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তারা।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফরমায়েশ খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না। পরে তারা আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

২০২১ সালের ৩ মার্চ ঢাকা মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস।

এতে ১০ জনকে আসামি করা হয়। সাবেক মন্ত্রীর ভাই বাবর ছাড়াও মোশাররফ ঘনিষ্ঠ বরকত, রুবেল, ফুয়াদ ছাড়াও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী মিনার, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভি, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এ এইচ এম কামরুল হাসান ডেবিট, তারিকুল ইসলাম নাছিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ফাইন, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহানকে আসামি করা হয় এতে।

এ মামলায় মিনার, ডেবিট, নাছিম ছাড়া সবাই কারাগারে।

২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বরকত ও রুবেলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ১৮৮ ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অনুসারীরা কোণঠাসা, বিরোধীরা চাঙা

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর ফরিদপুর আওয়ামী লীগে যারা প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, মোশাররফের সঙ্গে সঙ্গে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তারা।

ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণ এখন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন ও সহসভাপতি হামিম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদ, সহসভাপতি শামীম হক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুল হক ভোলা মাস্টার, পৌর মেয়র অমিতাভ বোস ও তাদের অনুসারীদের হাতে, যারা দুই বছর আগে দলের মধ্যেই অত্যাচার নির্যাতনের শিকার বলে অভিযোগ করে আসছিলেন।

শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোমিতুল হাসান বিভুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবর ও ফুয়াদ লুটেরারা টাকার পাহাড় বানিয়েছেন। আর এ জন্য ফরিদপুরের দলের প্রকৃত ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হয়েছেন লুটেরাদের নির্যাতনের শিকার। অন্যায়ের পতন একদিন হয়ই।’

পৌর মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে ফরিদপুর শহরে যে অত্যাচার-অবিচার হয়েছে তার গডফাদার এই বাবর (খন্দকার মোশাররফের ভাই)। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অভিযানে ফরিদপুরে অন্যায় অত্যাচায়ের খলনায়কেরা এখন কারাগারে, এটাই স্বস্তির খবর।’

সঙ্গীরা কারাগারে, দাপুটে মোশাররফ যানই না ফরিদপুরে

সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই মোহতেসাম হোসেন বাবর গ্রেপ্তার হওয়ায় ফরিদপুরে গত ৮ মার্চ বিকেলে আনন্দ মিছিল করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক হলেও কোনো দিন কোনো দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারিনি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে একঘরে করে রেখেছিল তারা।

‘বাবর ২০১৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। তখন থেকেই আমি একঘরে ছিলাম।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Begum Khaleda Zia can receive treatment Zahid Hossain

চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বেগম খালেদা জিয়া: জাহিদ হোসেন

চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বেগম খালেদা জিয়া: জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।

এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।

তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।

বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।

আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’

দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।

তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’

জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।

গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farewell reception for 3 head teachers of Bisharampur Secondary School was held

বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sariakandi has not had a secondary education officer for 10 months disrupting education

সারিয়াকান্দিতে ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সারিয়াকান্দিতে ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”

মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”

বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 workers were burnt in an explosion at a factory in Narayanganj

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।

জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
During the illegal infiltration the Bangladeshi detained with the smugglers on the Garo Hill border

অবৈধ পথে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে পাচারকারীসহ ৭ বাংলাদেশী আটক

অবৈধ পথে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে পাচারকারীসহ ৭ বাংলাদেশী আটক

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।

বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police Super Ujjal Kumar Roy inaugurated the Loto Showroom in Jhalakathi

ঝালকাঠিতে লোটো শোরুম উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়

ঝালকাঠিতে লোটো শোরুম উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়

ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।

এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।

কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে

মন্তব্য

সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ, আসামীর যাবজ্জীবন

সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ, আসামীর যাবজ্জীবন

নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র‌্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।

মন্তব্য

p
উপরে