× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The pharmaceutical industry will stand before 2026
hear-news
player
google_news print-icon

‘২০২৬ সালের আগেই দাঁড়িয়ে যাবে ওষুধশিল্প’

২০২৬-সালের-আগেই-দাঁড়িয়ে-যাবে-ওষুধশিল্প
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এপিআই পার্কের অগ্রগতি, ওষুধশিল্পের সমস্যা-সম্ভাবনা ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় গবেষণা ও উন্নয়নকাজে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার পর ওষুধশিল্প কোনো সংকটে পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। তার আগেই ওষুধশিল্প দাঁড়িয়ে যাবে। কর্মসংস্থান ও রপ্তানিমুখী এই শিল্পের অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন তিনি।

ওষুধশিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করছে দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো। বিশ্বের ১৫৩টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ইতিবাচক দিক হচ্ছে রপ্তানির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

ওষুধ সহজলভ্য হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, হাতের নাগালেই ওষুধ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ মানসম্মত ওষুধ তৈরি করে। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশই বাংলাদেশ থেকে ওষুধ নিচ্ছে।

তার মতে, ‘দেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। সাধারণ ওষুধের পাশাপাশি দেশে এখন করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে। দেশীয় একটি কোম্পানি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে যাচ্ছে। আমরা ক্যানসার রোধক ওষুধ তৈরি করছি।’

সহনীয় দামে জনগণ ওষুধ খাচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশে ক্যানসার রোধক ড্রাগ ১ লাখ টাকা কিংবা তার চেয়েও বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে এটি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সস্তা থাকায় বিদেশিরা এখানে আসছে আমাদের ওষুধ কেনার জন্য।’

তিনি বলেন, দেশের ওষুধের বাজার খুবই ভালো। ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় ভোক্তা সাশ্রয়ী দামে সেবন করতে পারছে। দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো ভালো করছে।

ওষুধশিল্পের উন্নয়নে সরকারের বিদ্যমান নীতি সহায়তা অনুকূলে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্র্যাডিয়েন্ট (এপিআই) বা ওষুধশিল্প পার্কের সব অবকাঠামো নির্মাণ সরকার করে দিয়েছে। শিল্প স্থাপনে কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়েছে। সরকারের সুনজরে আছে ওষুধশিল্প।

ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে ১২০ কোটি টাকায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে। এই পার্কে ৪২টি প্লটের ২৭টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি কোম্পানির নিজস্ব কারখানা নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে। দুটি কোম্পানি গবেষণা ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করেছে। বাকি কোম্পানিগুলোর কারখানা স্থাপন প্রক্রিয়াধীন। কিছু সমস্যা এপিআই পার্কে আছে। শিল্পসচিব সমস্যা নিরসন করে দিলেও এগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘যারা প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের নিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আমরা বসেছিলাম। তারা অগ্নিনির্বাপকসহ কিছু সমস্যার কথা বলেছে। সমস্যাগুলো শিগগিরই সমাধান হবে বলে আশা করছি। ফলে এপিআই পার্ক চালু হতে আর বেশি সময় নেবে না।’

বিলম্ব হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশি সময় নেয় গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে। কেমিক্যাল আসার পর পরীক্ষামূলক কাঁচামাল উৎপাদন করা হলো। পজিটিভ রেজাল্ট এলো নাকি নেগেটিভ এলো তা দেখতে হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। কোম্পানিগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে। গবেষণা সম্পন্ন হলে কারখানার ভবন নির্মাণ করতে বেশি সময় লাগবে না।’

করোনার কারণে উদ্যোগ অনেক পিছিয়ে গেছে জানিয়ে ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী বলেন, তা না হলে অনেক আগেই এপিআই পার্ক চালু হতো। এপিআই না থাকলে ওষুধ তৈরি করা যাবে না।

এপিআই পার্ক চালু হতে এত বিলম্ব কেন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি আমাদের দেশে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ সরকারের হাতে। বিসিক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তিনবার সংশোধন হলো। কোনো কোনো প্লটে এখনও মাটি ভরাট করতে হবে।’

এপিআই পার্কের বাইরে স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল উৎপাদন করছে কারা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কয়ার, বেক্সিমকো, অপসোনিন, গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসহ সাত-আটটি কোম্পানি নিজস্ব উপায়ে কাঁচামাল উৎপাদন করছে। এরা সবাই এপিআই পার্কেও প্লট পেয়েছে। তাদের প্রোডাক্ট আছে। এপিআই পার্কে শুধু কারখানা স্থাপন করলেই উৎপাদনে যেতে পারবে।

জেনারেল মোস্তাফিজ বলেন, ‘এ শিল্পের কিছু অন্তরায় আছে। দক্ষ মানব সম্পদের ঘাটতি আছে। এদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য একটি ইনস্টিটিউট করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। আমাদের এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য বিদেশ যেতে হয়। এসবের ঘাটতি আছে। তার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বিশ্ববাজারে সম্মানজনক অবস্থানে আছে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে আমরা যদি তাকাই, তা হলে দেখব, তাদের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। ওই সব দেশের চেয়ে আমাদের দেশের ওষুধের মান ভালো।’

বাজারে যে নকল ওষুধ আছে তা স্বীকার করেন তিনি। জানান, নকল ওষুধ আছে খুবই কম। তবে নকল ওষুধের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। ধরাও পড়ছে। যে ওষুধগুলো ভালো বাজার পাচ্ছে, সেগুলোর নকল বেশি হয়। অভিযান আরও জোরদার পক্ষে মত দেন তিনি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে প্রভাব পড়বে কিনা– এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যসংক্রান্ত মেধাস্বত্ব (ট্রিপস) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ছাড় পাচ্ছে। এ সুবিধার আওতায় পেটেন্ট মানা বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে কারণে যেকোনো ওষুধের ফর্মুলা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ওষুধ তৈরি করতে পারব। ২০৩২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মেধাস্বত্ব ছাড়ের সুবিধা পাবে। আমরা এখনও এলডিসি থেকে বের হইনি। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এলডিসি হিসেবে আছি। এর পর প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আমরা কোনো সংকটে পড়ব না। তার আগেই বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দাঁড়িয়ে যাবে। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সিইও বলেন, ‘এখন ৫০ থেকে ৬০টি কাঁচামাল উৎপাদন করা হচ্ছে। এপিআই পার্ক চালু হলে চাহিদা মোতাবেক কাঁচামাল উৎপাদন করা যাবে। তবে কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য মধ্যবর্তী কাঁচামাল বাইরে থেকে আমদানি করতে হবে। কিছু মৌলিক কাঁচামাল দেশে তৈরি হয়। বাকি কাঁচামাল চীন ও ভারত থেকে আনতে হবে। তবে মধ্যবর্তী কাঁচামাল সস্তা। ফলে ওষুধের উৎপাদন খরচ কমে যাবে।’

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্ভাবনা অনেক। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। ১৭ কোটি জনগণের দেশ। আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার অনেক বড়। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আছে। ওষুধের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে।’

আরও পড়ুন:
উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক
দেশের ওষুধশিল্প ঘুরে দাঁড়াল যেভাবে
ওষুধ শিল্পে কর অবকাশ আরও ১০ বছর
সম্ভাবনার ওষুধশিল্প: স্বস্তির মধ্যেও শঙ্কা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Stocks sold in market fire

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে। ফাইল ছবি
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই বছরের জুলাইয়ের চেয়ে গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪০১ কোটি ২০ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের চেয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্রে ১৪ দশমিক ২৯ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য সব খাতেও খরচ বেড়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পরও বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি বেশ কমেছে। এখন একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই দুই বছরের করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারও বেতন কমেছে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এই ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনিতেই বাজারে জিনিপত্রের দাম বেশি ছিল। এরপর যুদ্ধের কারণে তা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না।’

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। ব্যাংকে বা অন্য কোনোখানে টাকা রাখলে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ; এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়।

‘তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি, একটু বেশি মুনাফার আশায় কিনেই চলেছিল। তবে এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনার মতো সঞ্চয় নেই মানুষের কাছে। সে কারণে কমে গেছে এ খাতে বিনিয়োগ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কিন্তু তার ব্যত্যয় হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সেটা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে পারে। সে কারণে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করছে না বিবিএস।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তা হলে এখনো দিচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনো সেই হারে পাওয়া যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা
সঞ্চয়পত্রে নানা শর্তে আগ্রহ হারাচ্ছে গ্রাহক
সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধেই ৪০ হাজার কোটি টাকা
৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্ন
সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh economy stable under stress Fitch Ratings

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং
দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ওলোটপালট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। মন্দার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থর গতি আর দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান সংস্থা ফিচ রেটিং।

স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) এবং মুডি’স এর পর আরেকটি আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুখবর দিয়েছে। এই ঋণমান সংস্থাটি হচ্ছে ফিচ রেটিং।

সংস্থাটি বলেছে, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতোই ‘স্থিতিশীল’ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং বহাল রেখেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি

ফিচ রেটিং-এর বিবেচনায় ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে; কোনো ঝুঁকি নেই।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ওলোটপালট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। মন্দার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থর গতি আর দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান সংস্থা ফিচ রেটিং।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বলছে, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখনও পরিশোধ সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং বহাল রেখেছে ফিচ। এর অর্থ হল, ঋণ খেলাপির ঝুঁকি থাকলেও আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণে বাংলাদেশের ব্যবসা ও আর্থিক খাতের খাপ খাইয়ে নেওয়ার মত স্থিতিস্থাপকতা আছে এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যে সংকটের কারণে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব সামলাতে সরকার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও চাপের মধ্যে পড়েছে।

ফিচ রেটিং বলছে, ‘ইউক্রেইন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সুদ হার বৃদ্ধির ফলে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, বিনিময় হারে নমনীয়তা এবং বিদেশি-সরকারি ঋণের সহায়তার মাধ্যমে তা মোকাবেলা করতে পারে বাংলাদেশ।’

আট মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১৬ শতাংশ কমে ৩৮ দশমিক ৯ বিলিয়নে নেমেছে; তারপরও আমদানি কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারে বৃহত্তর নমনীয়তার কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ফিচ।

২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে মনে করছে ফিচ, যদিও তা চার মাসের বেশি আমদানি মূল্য পরিশোধের জন্য যথেষ্ট।

এ ছাড়া এ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে জিডিপির ৩ শতাংশে এবং পরের অর্থবছরে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ফিচের প্রতিবেদনে।

এ এজেন্সির পূর্বাভাস বলছে, আমদানিতে লাগাম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিয়ে দেওয়ার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসবে ৫ শতাংশে, তবে এ সকল কড়াকড়ি তুলে নিয়ে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা গেলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং

১৯১৩ সালে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ফিচ। ওইসময় প্রতিষ্ঠানটি শিল্প বিনিয়োগের জন্য অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নিয়ে ‘দ্য ফিচ স্টক অ্যান্ড বন্ড ম্যানুয়াল’এবং ‘দ্য ফিচ বন্ড বুক’নামের দুটো প্রকাশনা বের করতো।

এরপর ১৯২৪ সালে কোম্পানিটি রেটিং কার্যক্রম শুরু করে।

বর্তমানে বিশ্বের ত্রিশটি দেশে কার্যক্রম চালু রয়েছে ফিচের, যৌথভাবে যার মালিকানায় রয়েছে প্যারিসভিত্তিক ফিমালাক এস এ এবং নিউইয়র্ক ভিত্তিক হার্টস কর্পোরেশন।

এর আগে ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক ঋণমাণ সংস্থা মুডিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে; তবে সংকটের ঝুঁকি কম।

এর পর ২৫ আগস্ট আরেক আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের রেটিং প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা সংস্থাটি বাংলাদেশের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবি-’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘বি’বহাল রাখে।

এই ঋণমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরে বাহ্যিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আর এই চাপে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ঘাটতিতে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক গতিপথে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থা ফিরে পাবে।’

আরও পড়ুন:
ব্যায়াম করছে মুরগির ছানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Trade license is valid for five years to facilitate business

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন।

দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে যারা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য ভালো খবর আসছে।

ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন। স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এমসিসিআই) ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালায়ের কাছে লিখিত প্রস্তাব করে। একই সঙ্গে এর অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করছে সরকার।

যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর একটি হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তর জড়িত। আমি মনে করি, ব্যবসা সহজীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আশা করছি তারাও ইতিবাচক হবে।’

ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনুমতিপত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এর অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা করতে হলে ট্রেড লাইনেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এটি দেয়া হয়।

বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদনের কয়েকটি ধাপ আছে। আইনে আবেদন করার সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। ঘুষ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স মেলেন– এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আগে সনাতনি প্রথায় ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হতো। এখন অনলাইনে করা যায়। তবে অটোমেশন করার পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেশি ভারতসহ অনেক দেশ এক ধাপে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। বাংলাদেশে এখনও সাত থেকে আট ধাপ লাগে।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশেও এটি চালু করা যেতে পারে।’

ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট’ বা বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘সিটি করপোরশন এবং মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সেশন আইনে ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য দিতে কোনো বাধা নেই।’

বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক সবশেষ প্রতিবেদনে ব্যবসা সহজীকরণে বাংলাদেশের আট ধাপ এগোনোর কথা উল্লেখ করা হলেও সার্বিক বিবেচনায় অগ্রগতি বলা যায় না। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখনও পেছনের সারিতে রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শুধু আফগানিস্তান থেকে এগিয়ে।

তবে ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন এখন আর করছে না বিশ্বব্যাংক।

বিল্ড বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রেড লেইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করার যে প্রস্তাব তারা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেছে। এটি এখন কার্যকরের অপেক্ষায়।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সামস মাহমুদ জানান, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ একবারে পাঁচ বছর করলে ব্যবসা আরও সহজ হবে। এতে করে হয়রানি কমবে। স্পিড মানি ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স হয় না– এ কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের পক্ষে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জোগাড় করা সম্ভব হয় না। এ জন্য লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে হয়রানির স্বীকার হন। ফলে যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, তারা নিরুৎসাহিত হন।’

আরও পড়ুন:
আরও দুই মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত
যারা নিয়ম মানবে তারা মদের লাইসেন্স পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিধিমালা নেই, তাই লাইসেন্স বাতিলের ভয়ও নেই চালকের
চার মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে অপেক্ষার শেষ নেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the promotion play Dissatisfaction with DSE

‘পদোন্নতির খেলায়’ ডিএসইতে অসন্তোষ

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
একজন সিনিয়র ম্যানেজার বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সেই ৯৫ কর্মকর্তাকে আগের পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে ইমেইল করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন না, তারা এখন কোন পদে। এর কারণ, নতুন পদ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হলেও নতুন পদের যে সুযোগ সুবিধা, সেগুলো বহাল আছে।

স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে কিছু কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত সংশোধন হবে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এখন এসব কর্মকাণ্ডে তারা মানসিক চাপে আছেন। এতে কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে গত ২৩ আগস্ট ৯৫ জনকে পদোন্নতি দেন ডিএসইর সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া। কিন্তু নিজেদের মনমতো না হওয়ায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল পরিচালনা পর্ষদ। এ টানাপড়েনের সমাপ্তি ঘটে এমডির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

পদোন্নতি পাওয়া ডিএসইর একজন মহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে জানান, এমডি পদত্যাগ করার পর, তাদেরকে মেইল করে আগের পদবি ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এতে বিস্ময় প্রকাশ করে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা কীভাবে হতে পারে? যেখানে অফিশিয়ালি আমাদের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেখানে মেইল করে পদ বাতিল করে আগের পদেই কাজ করার কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক?

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ
ডিএসইতে পদোন্নতি নিয়ে বিরোধের জেরে এমডির পদ ছেড়েছেন তারিক আমিন ভূঁইয়া

পদোন্নতি বাতিল হওয়ায় মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান একজন সিনিয়র ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।

‘এখন আমার পদ কী, সেটাই নিশ্চিত নই। অফিশিয়ালি জানানো হয়েছে আমি সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছি। অথচ মেইল করে বলা হচ্ছে আমি ম্যানেজারই আছি। এখন আমি কোনটা লেখব? কোনটা ঠিক? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।’

জিএম পদবির আরেকজন বলেন, ‘ভুল করলে কর্তৃপক্ষ করেছে। সে জন্য এমপ্লয়িরা কেন শাস্তি পাবেন, অপমানিত হবেন, এটা কী আইন।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা জানান, আগের এমডির নির্দেশনা মেনে যারা কাজ করেছেন, তারা এখন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। জিএম হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া একজন বলেন, ‘এক মাসের বেশি হয়েছে আমি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু এইচআর থেকে বলা হয়েছে আমি নাকি সেই ডিজিএমই আছি। আবার আমাকে জিএম হিসেবে গাড়ি দেয়া হচ্ছে, মোবাইল অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে জিএম হিসেবেই। তাহলে আমার পদ কোনটা?’

পদোন্নতি পাওয়া একজন এজিএম বলেন, ‘আমাদের পদোন্নতি দেয়া হলেও, আমরা সে অনুযায়ী টাইটেল লিখতে পারছি না। আমাদের টাইটেল লিখতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিং করে এসব কর্মকর্তার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেশ কিছু পদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, যেখানে আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে তো কেউ চাইলেই তা লঙ্ঘন করতে পারে না। আইন যেখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘিত করে দেয়া হয়েছিল। সেটাই ঠিক করা হবে।’

কবে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা থেকে কিছু বাদ যাবে আর কিছু সংশোধন হবে।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ইমেইলে আগের পদেই বহাল থেকে কাজ করতে নির্দেশনা প্রসঙ্গে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরপরই, সবাইকে আবারও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেয়া হবে তাদের পদের ব্যাপারে। এতে তাদের কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না ।’

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখনও কিছু জানায়নি ডিএসই। আমরা রোববার খবর নেব। বিষয়টা এমন হতে পারে, ওদের অর্গানোগ্রামের বাইরে বোধ হয় কয়েকটা পদোন্নতি হয়ে গেছে, তাই হয়ত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে।’

‘যদি ডিএসই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন বা পদোন্নতি বাতিল করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যদি এর বাইরে করে তাহলে আমাদের জানাবে’- যোগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এর আগে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম তিনজন, ডিজিএম থেকে জিএম তিনজন, এজিএম থেকে ডিজিএম তিনজন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম ১৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ২৯ জন, এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ১০ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ ছয়জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ একজন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন, জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ছয়জন পদোন্নতি পান।

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sonali Bank will give loan for cinema hall renovation

সিনেমা হল সংস্কারে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

সিনেমা হল সংস্কারে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক পঞ্চগড়ের টুনিরহাট সিনেমা হলে চলে ভাঙ্গারির ব্যবসা। এ ধরনের হল সংস্কারে অর্থ দেবে সোনালী ব্যাংক। ফাইল ছবি
সিনেমা হলের মালিকদের ঋণ দিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ‘অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র’ সই করেছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও এমডি আফজাল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সই করেন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক আবদুল মান্নান।

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে হলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক।

চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হলগুলোর জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারে। বিভাগীয় শহরের জন্য সুদহার হবে ৫ শতাংশ। অন্যান্য এলাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিনেমা হলের মালিকদের ঋণ দিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ‘অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র’ সই করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সই করেন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক আবদুল মান্নান।

নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এ ঋণ দেবে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন নিতে পারবে। আর সময়মতো ঋণ শোধ না করলে ব্যাংকগুলোর হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিল থেকে সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও নতুন হল নির্মাণে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে।

বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যমান সিনেমা হলসহ নতুনভাবে নির্মিত সিনেমা হলগুলোও এই তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে, তবে চলতি মূলধন বাবদ কোনো ধরনের ঋণ দেয়া হবে না।

তহবিলের আওতায় গৃহীত ঋণ দিয়ে কোনোভাবেই অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করা যাবে না।

এ ঋণ শোধ করা যাবে আট বছর পর্যন্ত। প্রথম বছরে ঋণ পরিশোধে পাওয়া যাবে গ্রেস পিরিয়ড।

আরও পড়ুন:
নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা
টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক
মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Excess profit in dollars 6 remaining banks also liquidated

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ৬ ব্যাংককেও নিষ্কৃতি

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ৬ ব্যাংককেও নিষ্কৃতি প্রতীকী ছবি
ছয় ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতির বিষয়টি জানায়। ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ১২ ব্যাংকের মধ্যে বাকি ৬টিকেও অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক ছয়টির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর একাধিক ট্রেজারি কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মে-জুন মাসে ডলার কেনাবেচা করে ব্যাংকগুলো যে মুনাফা করেছিল তার অর্ধেক আয় খাতে নিতে বলা হয়েছে। বাকি অর্ধেক অর্থ সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে (সিএসআর) বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে ব্যাংকগুলোর করা এই মুনাফার পুরোটাই আলাদা রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ৬ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জবাবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেয়।

সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ১২ ব্যাংককে ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা ও ভুল তথ্য দেয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ থেকে মুক্তি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ডলারে অতি মুনাফার জন্য বেসরকারি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে ওই দায়িত্বে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়।

আগের ৬ ব্যাংক হলো ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ও সাউথইস্ট ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সেপ্টেম্বরে তাদেরও ডলার কেনাবেচা থেকে করা মুনাফা নিয়ে একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

তখন ওই ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের পদে ফেরার সুযোগও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোন ব্যাংক কত মুনাফা করল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের হিসাবে ডলার কেনাবেচা থেকে ব্যাংক এশিয়া ১৭৭ কোটি বা ৭৭০ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ১২৬ কোটি বা ৫০৪ শতাংশ, ব্র‍্যাক ব্যাংক ৭৫ কোটি বা ৪১৭ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৪০৩ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৩৫৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ৩৪০ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২০ কোটি বা ২৪৫ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৯৭ কোটি বা ২৩৪ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩৫ কোটি বা ২০৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪৩ কোটি বা ১৫৯ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ১৪০ শতাংশ মুনাফা করে।

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কিছুটা কমার কারণে ডলারের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সব ব্যাংকের জন্য ডলারের একক দর নির্ধারণ করে দেয়। রেমিট্যান্স আনতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায়।

আমদানির ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে এক টাকা।

পয়লা অক্টোবর থেকে দেশের সব ব্যাংকে এই দর অনুসরণ করা হবে বলে জানায় বাফেদা।

আরও পড়ুন:
ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের
রেমিট্যান্সে ডলারের দর কমল ৫০ পয়সা
কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর
৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো রিজার্ভ
ডলারকে দুর্বল করে এবার শক্তি পাচ্ছে টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
IMF impressed with development of financial inclusion in Bangladesh

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে মুগ্ধ আইএমএফ

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে মুগ্ধ আইএমএফ
আইএমেএফের ডিএমডি আন্তোয়েনেট এম সায়েহ বলেন, ‘আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় এক দশক আগে। এই সময়ে দেশটি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশের বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখার আছে।’

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দ্রুত বিকাশের গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আন্তোয়েনেট এম সায়েহ।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এগোচ্ছে। সমানতালে এগুচ্ছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি; উন্নত হচ্ছে আর্থিক সেবাদান প্রক্রিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সাধারণ ব্যাপার। মানুষ ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখাবিহীন ব্যাংকিং এবং মোবাইল মানি ব্যবহারে অভ্যস্ত। এক দশকে দেশটির এই সাফল্য দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এক্ষেত্রে অনেক দেশের বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখার আছে।’

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথচলা নিয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারের তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তর থেকে ওয়েবিনারটি পরিচালনা করা হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আন্তোয়েনেট এম সায়েহ। এতে বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

ওয়েবিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চ্যাং ইয়ং রি। আরও দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সিনিয়র আইএমএফের ইনস্টিটিউট ফর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তাও উ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্যাট্রিক নজোরোজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুইশ’র বেশি ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা ওয়েবিনারে অংশ নেন।

‘ফিনটেক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড দ্য কেস অফ বাংলাদেশের: পিয়ার-লার্নিং সিরিজ’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আইএমএফের ডিএমডি আন্তোয়েনেট এম সায়েহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় এক দশক আগে। এই সময়ে দেশটি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই যাত্রা, যা প্রথম মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) দিয়ে শুরু হয়েছিল, তারপর থেকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সব দিককে কভার করার জন্য বিকশিত হয়েছে। একদিকে যেমন সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। তেমনি ব্যবহার ও গুণমানের দিক দিয়েও অনেক দূর এগিয়ে গেছে দেশটি।’

‘বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সাধারণ ব্যাপার। মানুষ ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখাবিহীন ব্যাংকিং এবং মোবাইল মানি ব্যবহারে অভ্যস্ত। অল্প সময়ের মধ্যে স্বপ্নের মতো এ সব সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’

এম সায়েহ বলেন, ‘সরকারি নীতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগকে সক্ষম করেছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেছে। আর সুবিধাগুলো শুধু শহুরে এলাকার জন্যই নয়; কৃষি এবং গ্রামীণ খাতগুলোও নীতির জন্য অগ্রসর হয়েছে-যেমন ফ্লোর অন ক্রেডিট, যা রেয়াত শর্তে পুনঃঅর্থায়ন লাইন দ্বারা সমর্থিত।’

‘অবশ্যই, এই গতি বজায় রাখার জন্য, সুবিধাকে আরও প্রসারিত করতে এবং লিঙ্গগত ব্যবধানগুলোকে দূর করতে আরও কাজ করা দরকার। তবে আমি অবশ্যই বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের সমৃদ্ধ নীতিমালার জন্য প্রশংসা করব, যা অগ্রাধিকার খাতে ঋণ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে অর্থায়ন, লিঙ্গ অগ্রাধিকার, গ্রামীণ এলাকায় অর্থের সুবিধা এবং সবুজ অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে কভার করে।’

‘বাংলাদেশ ডিজিটাল অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং সেই অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে অনেক নতুন কোম্পানির আবির্ভাব হয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমি জেনে ও শুনে মুগ্ধ হয়েছি। ক্রেডিট ব্যুরো, সম্পদ নিবন্ধন, পেমেন্ট সিস্টেম এবং মাইক্রো-ফাইনান্স প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষেত্রগুলোকে ক্রমাগত জোর দেওয়া আর্থিক পরিষেবার খরচ আরও কমিয়ে দেবে। এর মধ্যে কিছু অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। কিন্তু উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আমি বলতে চাই, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার ক্ষমতা রাখে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওয়েবিনারে আইএমএফের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে প্রশংসা করেছেন। আমি এতে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছি। তাতে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।’

আইএমএফের ওয়েবসাইটে ওয়েবিনারটি সরাসরি প্রচার করা হয়।

ব্যাকিং সেবার বাইরে থাকা এবং সীমিত ব্যাংকিং সেবা পাওয়া জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে ১০ বছর আগে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস খাত। ১০ বছরের পথচলায় এমএফএস খাতের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অনেক অর্জন, যা দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বুকে উদাহরণ তৈরি করেছে।

দেশের কোটি মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে এমএফএস খাতের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। এখন একজন গ্রাহক তার দৈনন্দিন প্রায় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন এমএফএস দিয়েই করতে পারেন। টাকা যেখানে প্রয়োজন সেখান থেকেই ব্যবহারের এই অনন্যতার কারণেই এমএফএস বিপ্লব আনতে পেরেছে।

সরকারের সদিচ্ছা, বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টায় গত এক দশকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে এমএফএস। ২০১৩ সালে যেখানে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কল্যাণে ২০২১ সালে এসে তা বেড়ে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

১১ কোটি বেশি গ্রাহকসংখ্যা, দৈনিক আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন এবং ১১ লাখের বেশি এজেন্টের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে এমএফএস খাত বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চেহারা বদলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রায় সব ব্যাংক এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকেও ব্যাংকিংসেবা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
খুদে ভক্তকে ক্রিকেট সরঞ্জাম ও জার্সি উপহার সাকিবের
বাংলাদেশ সংকটে নেই: আইএমএফ
‘ক্ষুদে সাকিব’ বল করলেন সাকিব আল হাসানকে
সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত
৯৯% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা চীনের

মন্তব্য

p
উপরে