× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Prime Ministers directive to prevent river pollution
google_news print-icon

নদীদূষণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নদীদূষণ-ঠেকাতে-প্রধানমন্ত্রীর-নির্দেশ
চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসা বাস্তবায়িত ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। আমরা যে পানি শোধনাগার করছি বিভিন্ন নদী থেকে, সেটা ভূ-উপরিস্থ পানির থেকে শোধন করা হচ্ছে। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর আমাদের নির্ভরতা কমে যাচ্ছে এবং সেটা আমাদের কমাতে হবে।’

নদীদূষণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী নদী, সেখানে যেহেতু ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন হচ্ছে, কর্ণফুলী নদী, সাঙ্গু, হালদাসহ যে কটা নদী আছে, এই নদীগুলো যেন কোনোভাবে দূষণ না হয়, এই দূষণের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করতে হবে। কর্ণফুলীর দিকে একটু বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’

কর্ণফুলী, সাঙ্গু, হালদাসহ চট্টগ্রামের নদী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের শাখা নদীগুলো বাঁচাতে সব ধরনের দূষণ বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেও নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

চট্টগ্রামের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লুতে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসা বাস্তবায়িত ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

ভূমিকম্প ঠেকাতে ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমাতে হবে

ভূমিকম্পপ্রবণ বাংলাদেশকে ভূকম্পন থেকে রক্ষায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে যে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। আমরা যে পানি শোধনাগার করছি বিভিন্ন নদী থেকে, সেটা ভূ-উপরিস্থ পানির থেকে শোধন করা হচ্ছে। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর আমাদের নির্ভরতা কমে যাচ্ছে এবং সেটা আমাদের কমাতে হবে।’

কারণ ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যেহেতু আমাদের দেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, এসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যাতে না কমে যায় সে জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া দরকার। যেটা আমাদেরকে আসলে সুরক্ষিত করে।

‘এটা হয়তো আমরা চোখে দেখি না, বুঝতে পারি না। কিন্তু ভৌগোলিক বিষয় যদি আমরা দেখি, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানি কিন্তু ভূমিকম্প থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।’

ঠেকাতে হবে নদীদূষণ

নদীদূষণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্ণফুলী নদী, সেখানে যেহেতু ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন হচ্ছে, তাই কর্ণফুলী নদী, সাঙ্গু, হালদাসহ যে কটা নদী আছে, এই নদীগুলো যেন কোনোভাবে দূষণ না হয়, এই দূষণের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করতে হবে। কর্ণফুলীর দিকে একটু বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে নদীদূষণ ঠেকানোর বিষয়টি নিয়ে আবারও কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ করব, কর্ণফুলী নদী এটা যেন কোনোভাবে দূষিত না হয়, তার ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি। এটাকে কার্যকর করা এবং সব সময় অব্যাহতভাবে রাখতে হবে। সাথে সাথে অন্য নদীগুলোও। কারণ আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ছোট ছোট যে শাখা নদীগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর দিকেও এখন থেকে সবাইকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে বিষয়ে আপনারা দৃষ্টি দেবেন।’

‘বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতেই হবে’

যেকোনোভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানিটা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেবেন বা যখন কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে একটা ব্যবস্থা আপনাদের নিতে হবে। শুধু পানি শোধন করে যে আমরা দেব তা না, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করাটা এবং সেটা ব্যবহার করা একান্তভাবে দরকার।’

বৃষ্টির পানির সঙ্গে বর্ষাকালে নদীর পানিটাও যেভাবেই হোক সংরক্ষণ করতে হবে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করার সময় সেটা হাউজিং সোসাইটি হোক বা ইন্ডাস্ট্রি হোক বা কোনো শিল্প এলাকা হোক, যখনই নির্মাণ করবেন প্রতিটি জায়গায় যেন জলাধার থাকে। আর আমাদের বৃষ্টির পানি আর বর্ষাকালের পানিটা যেন আমরা সংরক্ষণ করতে পারি সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

আর প্রত্যেকটা শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে দৃষ্টি দিয়েছে।

চট্টগ্রাম উন্নত হলে, উন্নত হবে দেশ

চট্টগ্রামের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিশেষ প্রকল্প নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীতে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্প প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরও পাঁচটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। যাতে করে আর মানুষের সমস্যা না থাকে।’

বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। চট্টগ্রামের উন্নয়ন করতে পারলে গোটা বাংলাদেশ উন্নত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে চট্টগ্রামের বিরাট অবদান রয়েছে। তাই সব সময় চট্টগ্রামকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় প্রতিবছর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের যে অর্থনীতি, এই অর্থনীতিটা বলতে গেলে এর প্রাণশক্তিটাই হচ্ছে চট্টগ্রাম। এটা আমাদের বাণিজ্য নগরী।’

তিনি বলেন, ‘আর একটি পরিকল্পনা আছে আমার। মীরসরাই যেমন শিল্পনগরী হয়েছে, একেবারে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা। তাহলে চট্টগ্রাম সুরক্ষিত থাকবে, আবার পর্যটনের দিক থেকে সুবিধা হবে। এই চিন্তাটাও আমাদের মাথায় আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এত চমৎকার একটা এলাকা, এলাকার সৌন্দর্যটা রক্ষা করে, পরিবেশ রক্ষা করে, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করেই যেন এর সার্বিক উন্নয়ন হয়, সেদিকে বিশেষভাবে আপনারা দৃষ্টি দেবেন।’

১০০ বছর মেয়াদি ডেল্টা প্ল্যানের প্রসঙ্গটি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি যে আমাদের এই বদ্বীপ অঞ্চল, এই অঞ্চলের প্রতিটা এলাকার মানুষ, একেবারে তৃণমূলের মানুষ, তারাও যেন সুপেয় পানি পেতে পারে এই বিষয়টা মাথায় রেখেই এই ব-দ্বীপের মানুষের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।’

পরিবেশ রক্ষা, পরিশুদ্ধ পানি এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় দিক বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার-২-এর উদ্বোধন

চট্টগ্রাম মহানগর কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২-এর আওতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রকল্পটি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর পানির প্রাপ্যতা আরও সহজ হবে। মানুষ সুপেয় পানি পাবে। যেটা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বা অন্যান্য কাজের জন্য যথেষ্ট লাভবান হবেন বলে আমি মনে করি।’

নিরাপদ পানি সরবরাহে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের সুফল জনগণ পেলেও, এই সেবা ধরে রাখার ওপর জোর দিতে হবে বলে জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। জনসংখ্যা বাড়ছে, এ কথা মাথায় রেখেই কিন্তু কাজ করতে হবে। যারাই শিল্পকলকারখানা গড়ে তুলবেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে তাদেরকে। কোনোমতেই যেন আমাদের নদীগুলো দূষিত না হয়, এলাকা দূষিত না হয়।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Dhaka University 4 teachers suspended one exempted

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, একজন অব্যাহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, একজন অব্যাহতি

জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়াসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া। এ ছাড়া একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ব্যাপক পরিমাণ ভাইরাল হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fraud using Jaima Rahmans photo Lawyer on 4 day remand

জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা: আইনজীবী ৪ দিনের রিমান্ডে

জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা: আইনজীবী ৪ দিনের রিমান্ডে ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় শফিক নজরুল নামের এক আইনজীবীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলার পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দায়ের করা পৃথক আরেকটি প্রতারণা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শেরেবাংলা নগর থানার সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বার কাউন্সিলের প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত।

শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, অর্থ লেনদেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়ে আদালত মামলা দায়ের করেন। আমরা আসামি সর্বোচ্চ রিমান্ড আবেদন করি, আদালত আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় শতভাগ কমন, পরীক্ষায় পাস করানোর নিশ্চয়তা এবং বিশেষ কোচিং সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চটকদার এই বিজ্ঞাপন দেখে অনেক পরীক্ষার্থী যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সুবিধা না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার সত্যতা মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Governments multifaceted initiative to expand solar power continues Chief Whip

সৌরবিদ্যুতের বিস্তারে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ অব্যাহত: চিফ হুইপ

সৌরবিদ্যুতের বিস্তারে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ অব্যাহত: চিফ হুইপ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি- এমপি বলেছেন, আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত “Solar Revolution : Lessons for Bangladesh from National Budget Perspective” শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সরকার সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে রয়েছেন। এ সফর দু’টি বাংলাদেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়ে দেশবাসী শিগগিরই সুখবর পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোঃ নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। সাধারণত চার বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্রকল্প থেকে আর্থিক ও পরিবেশগত সুফল পাওয়া যায়।

তিনি দেশের জ্বালানি খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ গণসমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Current budget aimed at overcoming fragile economic situation Chief Whip

ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই বর্তমান বাজেট: চিফ হুইপ

ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই বর্তমান বাজেট: চিফ হুইপ ছবি: নিউজ বাংলা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের বিদ্যমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, জনকল্যাণমুখী ও সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএবি) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময় এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী তাঁর জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকাই ফেরত পেতেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন এ ধরনের আইন করা হয়েছিল এবং কেন জনগণকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?” তাঁর মতে, তৎকালীন সরকার ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” এ খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থ পাচার ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে চীফ হুইপ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থের চাপ সামাল দিতে ডলারের মূল্য ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতির বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে চীফ হুইপ অতীতের বাকশাল শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বাকশালের মাধ্যমে দেশের মৌলিক অধিকার ও বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।” একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।” তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

বাজেটকে কেবল সংখ্যার হিসাব হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে চীফ হুইপ বলেন, “বাজেট নিয়ে আমরা অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা করি; কিন্তু সাধারণ মানুষের কান্না থামানো এবং তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছে। এ সময় তিনি সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘব এবং লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে চীফ হুইপ দেশের স্বার্থে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এমএবির সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ড. মোঃ শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ. কে. এম. ওয়ারেছুল করিম। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, জুবায়ের আহমেদ বাবুসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
17 Simultaneous resignation of Deputy and Assistant Attorney General

১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগ

১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগ ছবি: সংগৃহীত

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তারা সম্মিলিতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের তালিকায় রয়েছেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The court will decide whether Awami League will be banned Information Advisor Dr Zaheed

আদালতে নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

আদালতে নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা: তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং তাদের কৃতকর্মের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ডা. জাহেদ উর রহমান দলটির আইনি অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান আইন অনুযায়ী তাদের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ থাকবে। যদি এই দল মাঠে কোনো কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করে, তবে সেটি আইন ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।

তথ্য উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের রাজপথে নামার মতো কোনো নৈতিক সাহস অবশিষ্ট নেই। তাঁর মতে, কোনো বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হলে যে ধরনের নৈতিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটির নেই। তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না।” রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে থাকলেও সরকারই প্রশাসনিকভাবে এই নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা রুখে দেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বাংলাদেশ
Law and order forces are on maximum alert around the founding anniversary of banned activities

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর মহানগরসহ নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর অধীনে সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেখানে নিষিদ্ধ দলটির ‘অপতৎপরতা’ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানেই বিশেষ এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির প্রায় ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং নগরজুড়ে ২০০টির বেশি চেকপোস্ট ও পিকেট বসানো হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, মতিঝিল, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ যেসব এলাকায় জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা পরিদর্শনে এসে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র মহরম মাসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।” ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম চলছে এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জননিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বিশেষ তৎপরতা পুরো মাসজুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে