চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কওমি মাদ্রাসায় আট বছরের শিশু ইফতেখার মালেকুল মাশফির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় হলেও এর কিছুই জানা নেই কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়ার (সংক্ষেপে বেফাক) মহাসচিব মাহফুজুল হকের।
এই ঘটনায় ওই মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বেফাক এই বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। সেখানে কী হয়েছে, মাদ্রাসার শিক্ষা পদ্ধতি, কর্মপদ্ধতি বা অন্য কোনো সংকট আছে কি না, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সেগুলো নিয়ে কোনো কাজ করার ইচ্ছাই তাদের নেই।
কেবল এই ঘটনাটি নয়, নানা সময় মাদ্রাসায় বলাৎকার, শিশুদের অমানবিক পিটুনি, শিশুদের মাদ্রাসা থেকে অভিভাবকদের নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হলেও প্রতিটি ঘটনাই উপেক্ষা করে আসছে এই বোর্ড।
গত ৪ মার্চ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাদ্রাসা থেকে শিশু ইফতেখার মালিকুল মাশফিকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিন শিক্ষক গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮ মার্চ আরও এক ছাত্রের মরদেহ পায় পুলিশ।
গত ৮ মার্চ একই জেলার পাঁচলাইশে আলী বিন আবি তালিব (র.) নামে একটি মাদ্রাসার পেছন থেকে উদ্ধার করা হয় মো. আরমান নামের আরেক ছাত্রের মরদেহ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি হাফেজি মাদ্রাসায় সম্প্রতি এক ছাত্রকে মারপিটের ভিডিও ভাইরাল হয়। ফাইল ছবি
এ রকম প্রাণহানির তুলনায় কওমি মাদ্রাসা নিয়ে বেশি আলোচনা হয় বলাৎকার ইস্যুতে। কখনও কখনও শিশুদের বেদম পিটুনির ভিডিও আসে সামাজিক মাধ্যমে।
নব্বই দশকে স্কুলেও পিটুনির সমস্যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা দেয়। এ নিয়ে পরে শিক্ষাবিদ, শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়।
কিন্তু এসব ঘটনায় কওমি মাদ্রাসা দেখভালের দায়িত্বে থাকা বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া কেবল নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও কোনো পদক্ষেপ নেই।
এই অবস্থায় ১২ থেকে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর কার্যত কোনো অভিভাবক সংস্থা নেই।
বেফাকের মহাসচিব মাহফুজুর রহমান দাবি করেছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগই আসেনি।
সরকার আলিয়া মাদ্রাসা দেখভালে বোর্ড গড়ে তুললেও কওমি মাদ্রাসা কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখেছে। এই মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরাহে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান বা এই শিক্ষায় সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার পরও বিষয়টি পাল্টায়নি।
বলাৎকারের সমস্যা প্রকট
গত ৯ জানুয়ারি বরিশালের একটি কওমি মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয় একই মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
একই মাসে গাজীপুরের টঙ্গীতে ১১ বছর বয়সী দুই মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩৫ বছরের শাহ আলম ওই মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাভারের আশুলিয়ায় এক মাদ্রাসায় ছাত্রকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হলে অনেক সমালোচনা শুরু হয়। ফাইল ছবি
একই সময়ে ফেনীর দাগনভূঞায় এক মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনায় তিন শিক্ষককে কারাগারে পাঠায় আদালত।
২০২১ সালের ১০ আগস্ট। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের ফাতিমানগর এলাকায় জামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল নূর মোহাম্মদ আজমী গ্রেপ্তার। অভিযোগ, তিনি ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন।
একই বছরের এপ্রিলে একই জেলার কুলিয়ারচর পৌর সদর এলাকার বড়খারচর আদর্শ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু বারবার পালিয়ে আসার চেষ্টার পর জানা যায়, মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বলাৎকারের শিকার সে। এরপর শিশুটির বাবা মামলা করলে গ্রেপ্তার করা হয় সেই শিক্ষককে।
একই বছরের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৯ ও ১০ বছর বয়সী দুটি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার সুপার জাহিদুল ইসলাম।
নানা সময় মাদ্রাসায় বলাৎকার, শিশুদের অমানবিক পিটুনি নিয়ে তোলপাড় হলেও প্রতিটি ঘটনাই উপেক্ষা করে আসছে কওমি মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেফাক। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসা। ফাইল ছবি
মার্চের শেষের দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠার পর মামলা করেন সেই শিশুর বাবা। এই অভিযোগে মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের এমন অভিযোগ বিরল নয়। নিয়মিত এই সংবাদগুলো আসে গণমাধ্যমে।
বছর শেষে বিভিন্ন অপরাধ ও নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিকে তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করলেও এই সংখ্যাটি কখনও জানা যায় না, কোনো সংগঠন এটি নিয়ে কাজ না করায়।
তবে ২০২০ সালে ডিসেম্বরের এক মাসে প্রকাশিত সংবাদগুলো সংকলন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন জানতে পারে, ৩০ দিনে মোট ৪০টি বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় মারা গেছে দুটি শিশু। একটি শিশু লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।
যে শিক্ষকরা নির্যাতন করেন তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম থেকেই বলে দেয়া উচিত, এ ধরনের ঘটনা যেন সেখানে না ঘটে। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের শিক্ষকতা বাতিল করা যেতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সে সময় যে পরিসংখ্যান দিয়েছি, সেটা সংবাদমাধ্যম থেকেই নেয়া।’
নির্যাতন নিয়েও সমালোচনা
শুধু বলাৎকার নয়, কথায় কথায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। পড়া না পারলে, ঘুম থেকে উঠতে দেরি করলে, এক শিক্ষকের ঘরের হিটার আরেক শিক্ষকের কক্ষে রাখলে, দেখতে আসা মায়ের দিকে ছুটে গেলে শিক্ষার্থীদের বেদম পিটুনি দেন। এগুলো গণমাধ্যমেও এসেছে।
গত ২ বছরে বেশ কিছু ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসেছে। এ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল ব্যাপক। বাবা-মা বা স্বজনরাও মামলা করছেন। অনেক জায়গায় মামলা মীমাংসাও হয়েছে। অনেক জায়গায় মামলা মাথায় নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকরা দিন পার করছেন। শিক্ষকরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কয়েকটি জায়গায় শিক্ষকদের কারাদণ্ডও হয়েছে।
মাদ্রাসায় বলাৎকারের তথ্যচিত্রের লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। ছবি: নিউজবাংলা
গত বছরের মার্চে বাগেরহাটের রামপালে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রকে হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসায় দুটি শিশুকে আছড়ে ফেলে উপর্যুপরি বেত্রাঘাতের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনা হয়েছে। এর মধ্যে না বলে বাড়ি যাওয়ার কারণে বাগেরহাটের একটি মাদ্রাসায় শিশুকে ফ্যানে ঝুলিয়ে পেটানো হয়েছে। ভালুকার একটি মাদ্রাসায় পিটুনিতে একটি ছেলে মারাই গেছে।
যা বলছে কওমি শিক্ষা বোর্ড
কওমি মাদ্রাসার এসব বিষয় নিয়ে বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা মো. জুবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। কিন্তু প্রশ্ন শেষ করার আগেই তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বসেন। ‘এত দিন পরে কী জানতে চান?’
অতীতে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মুরব্বিরা একটি কমিটি করেছিলেন। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান।’
কারা কমিটি করেছিলেন জানতে চাইলে তিনি বেফাকের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের কথা বলেন। তিনি বলেন, উনাদের কাছে জানতে চান। উনারাই ভালো বলতে পারবেন। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেঁটে দেন।’
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়ার যাত্রাবাড়ির কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
পরে মহাসচিব মাহফুজুল হক বলেন, ‘ছাত্র নির্যাতনের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমাদের কেন্দ্রের কাছে আসেনি।’
মিডিয়ায় এসব ঘটনা আসে। নিয়ন্ত্রক ও তদারক সংস্থা হিসেবে কোনো ব্যবস্থা বা অনুসন্ধান করেন না কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলা পর্যায়ে কমিটি আছে, সেখানে অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের অধীনে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। জেলা পর্যায়েই এই বিষয়গুলো মীমাংসা হয়ে যায়। কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিষয়টি আমরা দেখব।’
কওমি নিয়ে মাথাব্যথা নেই মাদ্রাসা বোর্ডের
শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কায়সার আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসা যেহেতু আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘আসলে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত বা শাস্তি দেয়া তো নিষেধ। সাধারণ বোর্ড যেমন সতর্ক করে আমরা ব্যবস্থা নেই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আখতার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাদ্রাসা বোর্ড কী করছে আমি জানি না। তবে বোর্ডই তো অনুমতি দেয় মাদ্রাসা করার।’
এই শিক্ষাবিদ মনে করেন, ‘যে শিক্ষকরা নির্যাতন করেন, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথম থেকেই বলে দেয়া উচিত, এ ধরনের ঘটনা যেন সেখানে না ঘটে। কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের শিক্ষকতা বাতিল করা যেতে পারে।
‘এ ছাড়া মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে তাদের পলিসি কিংবা বিধিমালায় সেটা স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থী নির্যাতন অনেক কমে যাবে বলে আমি মনে করি। আর নির্যাতন হলে কী শাস্তি দেয়া হবে, সেটাও সেই বিধিমালায় উল্লেখ থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়াসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া। এ ছাড়া একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ব্যাপক পরিমাণ ভাইরাল হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় শফিক নজরুল নামের এক আইনজীবীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলার পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দায়ের করা পৃথক আরেকটি প্রতারণা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শেরেবাংলা নগর থানার সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে বার কাউন্সিলের প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত।
শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, অর্থ লেনদেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়ে আদালত মামলা দায়ের করেন। আমরা আসামি সর্বোচ্চ রিমান্ড আবেদন করি, আদালত আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় শতভাগ কমন, পরীক্ষায় পাস করানোর নিশ্চয়তা এবং বিশেষ কোচিং সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চটকদার এই বিজ্ঞাপন দেখে অনেক পরীক্ষার্থী যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সুবিধা না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বার কাউন্সিলের সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার সত্যতা মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি- এমপি বলেছেন, আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত “Solar Revolution : Lessons for Bangladesh from National Budget Perspective” শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সরকার সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে রয়েছেন। এ সফর দু’টি বাংলাদেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়ে দেশবাসী শিগগিরই সুখবর পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোঃ নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক। সাধারণত চার বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্রকল্প থেকে আর্থিক ও পরিবেশগত সুফল পাওয়া যায়।
তিনি দেশের জ্বালানি খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানী বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ, সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ গণসমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের বিদ্যমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, জনকল্যাণমুখী ও সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএবি) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময় এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী তাঁর জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকাই ফেরত পেতেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন এ ধরনের আইন করা হয়েছিল এবং কেন জনগণকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?” তাঁর মতে, তৎকালীন সরকার ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” এ খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থ পাচার ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে চীফ হুইপ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থের চাপ সামাল দিতে ডলারের মূল্য ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতির বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে চীফ হুইপ অতীতের বাকশাল শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বাকশালের মাধ্যমে দেশের মৌলিক অধিকার ও বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।” একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।” তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
বাজেটকে কেবল সংখ্যার হিসাব হিসেবে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে চীফ হুইপ বলেন, “বাজেট নিয়ে আমরা অনেক তাত্ত্বিক আলোচনা করি; কিন্তু সাধারণ মানুষের কান্না থামানো এবং তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছে। এ সময় তিনি সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘব এবং লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে চীফ হুইপ দেশের স্বার্থে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এমএবির সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ড. মোঃ শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ. কে. এম. ওয়ারেছুল করিম। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, জুবায়ের আহমেদ বাবুসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
ছবি: সংগৃহীত
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ১৭ জন আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তারা সম্মিলিতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের তালিকায় রয়েছেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং তাদের কৃতকর্মের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ডা. জাহেদ উর রহমান দলটির আইনি অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।” তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান আইন অনুযায়ী তাদের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ থাকবে। যদি এই দল মাঠে কোনো কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করে, তবে সেটি আইন ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের রাজপথে নামার মতো কোনো নৈতিক সাহস অবশিষ্ট নেই। তাঁর মতে, কোনো বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হলে যে ধরনের নৈতিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটির নেই। তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না।” রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে থাকলেও সরকারই প্রশাসনিকভাবে এই নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা রুখে দেবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর মহানগরসহ নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর অধীনে সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেখানে নিষিদ্ধ দলটির ‘অপতৎপরতা’ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানেই বিশেষ এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির প্রায় ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং নগরজুড়ে ২০০টির বেশি চেকপোস্ট ও পিকেট বসানো হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, মতিঝিল, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ যেসব এলাকায় জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা পরিদর্শনে এসে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র মহরম মাসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।” ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম চলছে এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জননিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বিশেষ তৎপরতা পুরো মাসজুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য