ফেসবুকে কিছুদিন ধরে ঘুরছে জাপানি এক শিশুর ছবি। তার পিঠে মৃত আরেক শিশু। ফেসবুকে ছড়ানো বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মৃত ভাইকে কাঁধে বয়ে নিচ্ছিল শিশুটি।
ছবির বিবরণে লেখা হয়েছে (বানান ও বাক্য অপরিবর্তিত), ‘জাপানে যুদ্ধের সময় এই ছেলেটি তার মৃত ভাইকে কবর দিতে পিঠে নিয়ে যাচ্ছিল। একজন সৈন্য তাকে লক্ষ্য করে এবং তাকে এই মৃত শিশুটিকে ফেলে দিতে বলে যাতে সে ক্লান্ত না হয়। তিনি জবাব দিলেন: সে ভারী নয়, সে আমার ভাই!
‘সৈনিক বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ল, সেই থেকে এই ছবিটি জাপানে ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’
এরপর একটি নৈতিকতার আহ্বান জানানো হয়েছে পোস্টটিতে। এতে লেখা হয়েছে, “এটিকে আপনি আপনার কর্তব্য মনে করুন:
“সে ভারী নয়, সে আমার ভাই/সে আমার বোন।”
পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, ‘যদি আপনার ছোট ভাই বোন চলার পথে সমাজে পড়ে যায়, তাকে উঠান, যদি সে ক্লান্ত হয়ে যায় যদি তার সমর্থন দুর্বল হয় তা হলে তাকে সাহায্য করুন, আর যদি সে ভুল করেও থাকে তাহলে তাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিন। পৃথিবী যদি তাকে পরিত্যাগ করে তবে তাকে আপনার পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যান, কারণ সে ভারী নয় সে আপনার ভাই সে আপনার বোন।’
এই ছবির উৎস কোনো পোস্টেই উল্লেখ করা হয়নি। কোনো কোনো পোস্টে ‘কালেক্টেড’ আবার কোথাও লেখা হয়েছে ‘তথ্য বা ছবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবে ঘটনা বা গল্পটি সুন্দর’।

ফ্যাক্টচেক
ছবিটি তোলার সময়কাল এবং এর পেছনের ঘটনা যাচাই করেছে নিউজবাংলা।
দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাপানের নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলার কয়েক দিনের মধ্যেই তোলা হয় ছবিটি। ঐতিহাসিক এই ছবিটি তোলেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী জো ও’ডোনেল।
আমেরিকার ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন এজেন্সির হয়ে কাজ করা ও’ডোনেলকে পরমাণু বোমার আঘাতে নাগাসাকি ও হিরোশিমায় ধ্বংসলীলার ছবি তুলতে জাপানে পাঠানো হয়েছিল। ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে টানা সাত মাস তিনি আমেরিকান নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাপানে ছবি তোলার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
আর সে সময়েই ঐতিহাসিক এই ছবিটি তোলেন জো ও’ডোনেল। সুনির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া না গেলেও ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বরের কোনো এক দিন ছবিটি তোলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের সংকলনে পরে এটি পরিচিতি পায় ‘দ্য বয় স্ট্যান্ডিং বাই দ্য ক্রেমেটরি’ বা ‘শ্মশানের সামনে দাঁড়ানো বালক’ হিসেবে।
জাপানের নাগাসাকিতে আমেরিকার পরমাণু বোমা আঘাত হানে ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট। এতে প্রাণ হারান ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা শহর। তেজস্ক্রিয়তার কারণে বোমা বিস্ফোরণের পরেও দীর্ঘদিন ধরে শহরে চলে মৃত্যুর মিছিল।
বোমার আঘাতে মৃত্যুপুরী নাগাসাকিতে ছোট ভাইয়ের মরদেহ পিঠে বয়ে শ্মশানে পৌঁছানো ছেলেটির আলোচিত ছবিটি তোলেন জো ও’ডোনেল। ফেসবুকে ছড়ানো ছবির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।
তবে ফেসবুক পোস্টে শিশুটির সঙ্গে কথিত সৈন্যের কথোপকথনের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধের বহু বছর পর জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আলোকচিত্রটির পেছনের গল্প শুনিয়েছিলেন জো ও’ডোনেল। ওয়ার্ল্ডওয়ারটুরেকস ডটকম ওয়েবসাইটে সেই গল্পের কিছুটা তুলে ধরা হয়েছে।
ও’ডোনেল সাক্ষাৎকারে বলেন, জাপানে সেই দিনগুলিতে, ‘আমি ১০ বছর বয়সী একটি ছেলেকে হেঁটে আসতে দেখলাম। সে পিঠে একটি শিশুকে বয়ে আনছিল।
সেই সময়ে জাপানে আমরা বাচ্চাদের প্রায়ই দেখতাম ছোট ভাই বা বোনকে পিঠে ঝুলিয়ে খেলছে, তবে এই ছেলেটি স্পষ্টতই ছিল আলাদা।
আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, কোনো গুরুতর কারণে সে এ জায়গায় এসেছে। তার পায়ে কোনো জুতা ছিল না।
তার মুখ ছিল শক্ত।
পিঠে ঝোলানো শিশুটির ছোট্ট মাথাটি এমনভাবে পেছন হেলে ছিল, যেন সে ঘুমিয়ে আছে। ছেলেটি আসার পর পাঁচ-দশ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে রইল।
সাদা মাস্ক পরা লোকজন তার কাছে গেল এবং পিঠে শিশুটিকে বেঁধে রাখার দড়িটি চুপচাপ খুলতে শুরু করল।
তখনই দেখলাম বাচ্চাটা মারা গেছে।
লোকজন এরপর মৃতদেহটি বয়ে নিয়ে শ্মশানের আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
ছেলেটি কোনো নড়াচড়া না করে দাঁড়িয়ে আগুনের শিখা দেখছিল। সে তার নিচের ঠোঁট জোরে কামড়ে ধরায় রক্ত বেরিয়ে আসছিল।
সূর্য অস্ত যাওয়ার মতো ধীরে ধীরে আগুনের শিখা কমে আসে। এরপর ছেলেটা ঘুরে দাঁড়িয়ে চুপচাপ চলে যায়।
আমেরিকান সরকারের গোপনীয়তার নীতির কারণে নাগাসাকিতে তোলা ও’ডোনেলের আলোকচিত্রগুলো দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। তবে ছবিগুলোর কপি তিনি নিজের বাড়িতে একটি ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ১৯৮৯ সালে সেগুলোর প্রথম প্রদর্শনী হয়। এ ছাড়া ছবিগুলো নিয়ে ১৯৯৫ সালে জাপানে প্রকাশিত হয় ‘জাপান ১৯৪৫, ইমেজেজ ফ্রম দ্য ট্রাঙ্ক’ শিরোনামের বই। এরপরেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় আলোকচিত্রগুলো।
ছবির সেই শিশুটি কোথায়
জো ও’ডোনেলের আলোকচিত্রের বালকটির পরিচয় বের করতে জাপানের অনেকেই চেষ্টা করেছেন।
নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা হামলার সময় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন ইয়োশিতোশি ফুকাহোরি। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছবির ছেলেটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।
তবে নাগাসাকি ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পাওয়া আরেক ব্যক্তি মাসানোরি মুরাওকার দাবি, আলোকচিত্রের ছেলেটি তার স্কুলেই পড়ত।
ছেলেটিকে তার শৈশবের খেলার সাথি বলেও দাবি করছেন মুরাওকা, তবে নামটি তার স্মরণে নেই।
নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা আঘাতের সময় ১১ বছর বয়স ছিল মুরাওকার। তার দাবি, মৃত ভাইকে পিঠে ঝুলিয়ে যাওয়ার সময় ১০ বছরের ছেলেটির সঙ্গে তার কথাও হয়েছিল। ছেলেটি বলেছিল, তার মা ওখানে তখন নেই। ছেলেটিকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় মুরাওকা অবশ্য সফল হননি।
আলোকচিত্রের ছেলেটিকে খোঁজার প্রচেষ্টা নিয়ে জাপান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এনএইচকে) প্রযোজিত একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম হয়েছে। সার্চিং ফর দ্য স্ট্যান্ডিং বয় অফ নাগাসাকি নামের ৫০ মিনিটের এই ফিল্ম মুক্তি পায় ২০২০ সালের ৮ আগস্ট। চলচ্চিত্রটি আমেরিকান পাবলিক টেলিভিশনের মাধ্যমে গত বছর আমেরিকাতেও মুক্তি পায়।
আর ঐতিহাসিক আলোকচিত্র যিনি তোলেন, সেই জো ও’ডোনেল মারা যান ২০০৭ সালের ৯ আগস্ট।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) দক্ষিণ জোনের আওতাধীন শাহবাগ থানার নবাবপুর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গত সোমবার (২২ জুন) রাতে নবাবপুর টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবি ব্যাংকের একটি এসিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, পিসি মোক্তার হোসেন, এপিসি শাহীন মিয়া এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে তারা ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকিং করে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তি ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন, নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা করেন এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই আনসার সদস্যদের দ্রুত উপস্থিতি, সতর্কতামূলক মাইকিং এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তারা আনসার সদস্যদের সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকে দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নবাবপুর টাওয়ারের এ ঘটনাটি তাদের দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফাইল ছবি
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত আনবে। ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধু শুধু শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।’
আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্র নায়ক সালমান শাহ এর মৃত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। ভিকটিমের মরদেহ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি সহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো.আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।
গত ২০ বছরের অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলে- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলে গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে এক মালির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই মালির নাম ছিয়াকুল (৩৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ছিয়াকুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার সহকর্মী সুনীল চৌহান জানান, তারা দুজন রোকেয়া হলে মালি হিসেবে চাকরি করেন। সকালে হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ছিয়াকুল একটি টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে বাঁশ দিয়ে কাঁঠাল পাড়তে যান। এক পর্যায়ে একটি কাঁঠাল সরাসরি তার মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি মেঝেতে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মারা যান তিনি।
ছিয়াকুলের বাড়ি নড়াইলের নড়াগাতী থানা এলাকায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে থাকতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য ছিয়াকুলের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত সোমবার রাজধানীর আটটি থানার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা থানায় ২ জন, ধানমন্ডি থানায় ১০ জন, বংশাল থানায় ১ জন, খিলক্ষেত থানায় ২ জন, কদমতলী থানায় ১ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ৮ জন, মিরপুর থানায় ১ জন এবং তুরাগ থানায় ১ জন রয়েছেন।
এডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ছবি: নিউজ বাংলা
ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সততা, নৈতিকতা এবং সুশাসনের চর্চা জোরদার করার লক্ষ্যে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত হালুয়াঘাট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বাস্তবায়নে সোমবার (২২ জুন) উপজেলার ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ রফিক উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ফয়সাল আহমেদ। মডেরেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সময় নিয়ন্ত্রক ও সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাব্বিকুল আলম, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, হালুয়াঘাট, গুলে জান্নাত সেতু, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, হালুয়াঘাট, মাহমুদুল হাসান সুমন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সুধীজন ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিতর্ক প্রতিযোগীতায় ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার করে গড়ে তুলতে পারলেই সুশাসন ভিত্তিক উন্নত রাষ্ট্র নির্মাণ করা সম্ভব। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিকভাবে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ করেন। দুর্নীতির কুফল, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সর্বমোট ৫১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করেন।ইউনিয়ন পর্যায়ে বিজয়ী দল ও পৌরসভার বিজয়ী দল নিয়ে (সর্বমোট ১৩ টি দল) উপজেলা পর্যায়ে বিতর্ক আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে অংশগ্রহনকৃত সকল শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে বই, গাছ, মাটির ব্যাংক উপহার দেয়া হয়েছে।
উক্ত উপহার গুলো নৈতিক গুনাবলী অর্জনে সহায়ক হবে।বই পড়ার মাধ্যমে অধ্যবসায়ী, গাছ রোপনের মাধ্যমে যত্নশীল ও মাটির ব্যাংক তার সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি করতে সহায়ক হবে।
ছবি: নিউজ বাংলা
ইসমাইল শিকদার মাদ্রাসার ছাত্র। তার বয়স ৯ বছর। শিশুটির দুই চোখের নিচে জমাট বেঁধে আছে রক্ত। মাথার পাশে, সারামুখে এমনকি গলার নিচেও লালচে হয়ে ফুলে আছে। ফুটফুটে মুখটির বীভৎস অবস্থা দেখে শিউরে উঠছেন সবাই। শিশুটিকে বেত দিয়ে পিটিয়ে এ দশা করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক।
এ ঘটনায় ওই শিশুটির বাবা ওমর ফারুক শিকদার বাদী হয়ে রোববার দিবাগত গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মাদ্রাসা পরিচালক হাফেজ আবদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন।
গত ১৭ জুন রাতে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ডাক্তারপাড়া এলাকার নুরুল কোরআন তাহফিজ একাডেমিতে শিশু ইসমাইলকে বেধরক মারপিট করায় চোখে আঘাত গুরুতর হলেও ওই দিন পরিবারকে সংবাদ দেওয়া হয়নি।
একদিন পর খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তাকে উদ্ধার করলেও প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে।
ডাক্তার বলেন, ‘শিশুটির গুরুত্বপূর্ণ একটি রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখের নিচে, মুখে ও গলার নিচে রক্ত জমাট বেঁধেছে। প্রাথমিক ওষুধে কাজ না হলে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।’
সরকারি কলেজের (সাবেক জয় বাংলা কলেজ) পাশে ইসমাইল শিকদারের বাড়ি। মুদী দোকানি বাবা ওমর ফারুক শিকদারের একমাত্র সন্তান ইসমাইল। কোরআনে হেফজ করতে গত বছর শিশুটিকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে গেছে, আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দুই তলা ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে বছর দুয়েক আগে নুরুল কোরআন তাহফিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।
কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে চালু এই মাদ্রাসায় হেফজ, নাজেরা ও শুনানি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সেখানে ২০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সবার বয়স ৮ থেকে ১৭ বছরের ভেতরে।
পরিচালক আবদুর রহমান ওই ঘটনার পর থেকে পলাতক। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ।
হাফেজ মাসুদ জানান, ঘটনার পরদিন আবদুর রহমানের কাছে শোনেছেন, শিশুটি খুব দুষ্টুমি করত। পড়া না পারায় তাকে বেত দিয়ে মারা হয়।
একপর্যায়ে শিশুটির মাথা দেওয়ালে গিয়ে লাগে। কিন্তু রাতে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরদিন সকালে চোখ ও মাথায় রক্ত জমাট বাঁধা দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়। ফ্রিজ থেকে বরফ দেওয়া হয়। নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা ওই মাদ্রাসায় যাই। শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে।’
ছবি: নিউজ বাংলা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাদকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্ত্রীকে ঘরে তালাবদ্ধ করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দুটি বসতঘর, একটি গাভী ও বাছুর, ধান-চাল এবং ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের গাবরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন (২৫) ওই গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, মাদকের টাকা চেয়ে স্ত্রী শিউলী আক্তারের (২০) কাছে দাবি করেন আলমগীর। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিউলীকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিউলীর চিৎকার শোনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। তবে এর আগেই আগুনে দুটি বসতঘর, একটি গাভী ও বাছুর, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মণ ধান, চাল এবং ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
দগ্ধ শিউলী আক্তারকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম রুহিত বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদকের টাকার বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।’
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য