× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is no crisis but the fear of buyers is growing
hear-news
player
google_news print-icon

দেশি আলু যাচ্ছে বিদেশে, শঙ্কা বাড়ছে ক্রেতাদের

দেশি-আলু-যাচ্ছে-বিদেশে-শঙ্কা-বাড়ছে-ক্রেতাদের
আলুর দামে মুখে হাসি ফুটেছে চাষিদের। ছবি: নিউজবাংলা
আলুর ক্রেতা মহিউদ্দীন আলম বলেন, ‘আলুর বাজারটা বুঝে আসে না। প্রতি বছর জেলাতে অনেক বেশি উৎপাদন হয়। এখন বাজারে অনেক আলু আছে, তবুও দাম বেশি। তাই প্রকারভেদে ১২ থেকে ২০ টাকা দরে আলু কিনতে হচ্ছে। এই দর অনেক বেশি হয়ে যায়। প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ১০ টাকার মধ্যে হলে অনেক খুশি হতাম।’

ঠাকুরগাঁও থেকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন ও কাতারে যাচ্ছে আলু। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর সংকট নেই। এতে চাষিরা লাভবান হলেও কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ক্রেতাদের।

এর আগে অসময়ে মাঘের বৃষ্টিতে লোকসান গুনেছেন চাষিরা। তাই উৎপাদন বেশি হলেও আগাম আলুর দাম পাননি তারা। তবে আলুর দাম আগে না পেলেও এখন মুখে হাসি ফুটেছে তাদের।

সদর উপজেলার ভূল্লীর আলুচাষি খয়বর ইসলাম বলেন, ‘আগাম আলু উৎপাদনে দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। কিন্তু এখন আলুর দাম পাচ্ছি৷ প্রতি কেজি ১৪ টাকা দরে ক্ষেত থেকেই আলু বিক্রি হচ্ছে। এত পরিমাণে আলু উৎপাদন হয়েছে যে অন্য বছরের শেষ সময়ে আলু অনেক চড়া দামে কিনলেও এবারে কোল্ডস্টোরেজ জাত আলু প্রতি কেজি ২০ থেকে ২২ টাকায় কিনতে পারবে ক্রেতারা।’

সদরের মথুরাপুরের আলু ব্যবসায়ী মেসার্স নার্গিস ট্রেডার্সের পরিচালক নাছির উদ্দীন জানান, এ যাবৎ তিন কনটেইনারে ১৩ টন আলু বিদেশে রপ্তানি করেছেন তিনি। তার ১০০ টন আলু দেয়ার চুক্তি হয়েছে রংপুরের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও থেকে অনেক ব্যবসায়ী রংপুর, যশোরসহ অনেক বড় ব্যবসায়ীকে আলু দিচ্ছে বিদেশে পাঠানোর জন্য। আমি তার মধ্যে একজন। ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে কেজিপ্রতি আলু কিনে ১৭ টাকা কেজি দরে আলু বিদেশে যাচ্ছে।’

আলু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আলু উৎপাদন হয়েছে অনেক বেশি। কোল্ড স্টোরেজে আলুর ৫৫ কেজির প্রতি বস্তার ভাড়া ২৬০ টাকা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম যেন ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দাবি পূরণ হয়নি। কাঁচামালের ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের দাবিগুলো অসহায়। তাই অনেক ব্যবসায়ী বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে আবার লাভবানও হচ্ছে।’

এদিকে খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাতভেদে প্রতি কেজি আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আলু ক্রেতা জিয়াউল হক রকি বলেন, ‘আগাম আলু বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। আগাম আলু বাজারে আসার সময় অনেক কম দামে কিনেছিলাম। কিন্তু এখন একটু বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও থেকে আলু বিদেশে যাচ্ছে। অনেক ভালো।

‘কিন্তু এত বেশি উৎপাদন হয়েও প্রতি বছর বাজারে আলু সংকট তৈরি হয়। আর আমাদের প্রতি কেজি আলু ৫০ টাকা পর্যন্ত কিনতে হয়। এ বছর যেন কোল্ড স্টোরেজ জাত আলুর বাজারে সংকট না তৈরি হয় সে জন্য ব্যবস্থা নেবে সরকার, এই আশা করি।’

খুচরা বাজারে আলুর ক্রেতা মহিউদ্দীন আলম বলেন, ‘আলুর বাজারব্যবস্থাটা কিছু বুঝে আসে না। প্রতি বছর জেলাতে অনেক বেশি উৎপাদন হয়। এখন বাজারে অনেক আলু সরবরাহ আছে, তবুও দামে বেশি। তাই প্রকারভেদে ১২ থেকে ২০ টাকা দরে আলু কিনতে হচ্ছে। এ দর অনেক বেশি হয়ে যায়। প্রতি কেজি আলু ৮ থেকে ১০ টাকার মধ্যে হলে অনেক খুশি হতাম।’

ক্রেতা মহনী রানী বলেন, ‘আলু আমাদের গরিব মানুষের প্রতিদিনের তরকারি। আমরা শুধু শুনছি জেলাতে অনেক বেশি আলু উৎপাদন হয়। চাহিদার তুলনায় যা অনেক বেশি। কিন্তু বাস্তবে আলু বেশি দামে কিনে খেতে হয় আমাদের। দু-এক দিন দাম কমলেও পরে আবার বেড়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন জানান, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে। জেলাতে ২৭ হাজার ৬৭৭ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত আলু তোলা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৮২ মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন:
‘ওষুধে’ পুড়েছে ১০০ একর আলুগাছ, দায় কার?
ভরা মৌসুমেও দাম নিয়ে হতাশ আলুচাষিরা
‘আমি আর আলু আবাদ করব না’
আলু মালয়েশিয়ায় গেলেও লোকসানে কৃষক
বাড়তি টাকায় কিনতে হচ্ছে আলুবীজ-সার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The project director was beaten and vandalized by the contractors in Chittagong

চট্টগ্রামে প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারদের মারধর, ভাংচুর

চট্টগ্রামে প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারদের মারধর, ভাংচুর রোববার প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারদের মারধরের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম ইয়াজদানীর দপ্তরে ৮-১০ জন ঠিকাদার ঢুকে তর্ক জুড়ে দেন। একপর্যায়ে তারা প্রকল্প পরিচালকের ওপর হামলা চালান। ঠিকাদাররা তাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) একটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালককে মারধর করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। নগরের টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ের চারতলায় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঠিকাদাররা প্রকল্প পরিচালকের কক্ষের টেবিল ও বাইরের নামফলক ভাংচুর করেন।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, স্বচ্ছতার মাধ্যমে হওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কাজ না পেয়ে ঠিকাদাররা ওই হামলা চালিয়েছেন।

সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক উন্নয়নে ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে এখন ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্টের (ইজিপি) মাধ্যমে ২২০ কোটি টাকার দরপত্র প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন চলছে। নানা কারণে হামলাকারীরা সেই প্রক্রিয়ায় কাজ পাচ্ছেন না। তাতে ক্ষুব্ধ ছিলেন তারা।

হামলার শিকার মো. গোলাম ইয়াজদানী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাকে গত বছরের ১৪ আগস্ট ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

চসিক সূত্র বলেছে, রোববার নগরের আন্দরকিল্লায় পুরোনো নগর ভবনে সাধারণ সভা হয়। সেই সভা শেষ করে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে টাইগারপাসে অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম ইয়াজদানী। তিনি দপ্তরে ঢোকার পর পরই ৮-১০ জন ঠিকাদার অনুমতি ছাড়াই তার কক্ষে ঢুকে তর্ক জুড়ে দেন। একপর্যায়ে তারা অতর্কিতভাবে প্রকল্প পরিচালকের ওপর হামলা চালান। ঠিকাদাররা তাকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। অফিস সহকারী তিলক দে প্রকল্প পরিচালককে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন ওই ঠিকাদাররা।

রোববার সন্ধ্যায় প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে। কার্যালয়ের এখানে-ওখানে ভাঙা কাচ। এ সময় মো. গোলাম ইয়াজদানী বলেন, ‘আমি ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। এ নিয়ে এখন আর কথা বলতে চাচ্ছি না।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালককে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম সিটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হামলাকারী ঠিকাদারদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন, মো. ফেরদৌস, হাবিব, সুভাস, কঙ্কন, নাজিম ও ফিরোজ ছিলেন। এই সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

হামলার বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই অ্যাকশনে যাচ্ছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে কারা ছিলেন। ছবি বের করছি। সাহাবুদ্দিন নামে একজনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ দেয়া হচ্ছে। এখানে তো মামার বাড়ির কোনো আবদার নেই। নিয়ম অনুযায়ী যদি এই ঠিকাদাররা কাজ না পান আমাদের কী করার আছে? আমরা মামলা করব।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি রোববার সিটি করপোরেশনে যাইনি। হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
যাত্রীর অন্তর্বাসে দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ
সার্ভার হ্যাক করে ৫ হাজার জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি
আদালত থেকে পালানো আসামি ফের মাদক নিয়ে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, আটক ২০

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A mountain of complaints against SI Taj including passenger harassment

যাত্রী হয়রানিতে ‘‌পটু’ এসআই তাজ

যাত্রী হয়রানিতে ‘‌পটু’ এসআই তাজ কক্সবাজার বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজ। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরের বিমানবন্দরে একযাত্রীর ব্যাগে পাওয়া ৫ লাখ টাকাকে ৫০ হাজার দেখিয়ে বাকিটা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে এসআই তাজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করেছে জেলা পুলিশ, কিন্তু এসআই তাজের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাজের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকদের লাগেজ বা মালামাল বেশি থাকলে কৌশলে চাঁদা দাবি করেন তিনি। না দিলে শুরু করেন তল্লাশির নামে হয়রানি, যা নিয়ে বিব্রত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই তাজ।

২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর ছুটি না নিয়ে ৫ লাখ টাকাসহ গোপনে বাড়ি যাচ্ছিলেন কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলাম। ওইদিন বিমানবন্দরে স্ক্যানারে ওই টাকাসহ ধরা পড়েন তিনি। এরপর রবিউলের পুরো টাকাকে ৫০ হাজার দেখিয়ে বাকিটা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে তাজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করেছে জেলা পুলিশ, কিন্তু এসআই তাজের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, তাজের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে। যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ঢাকাগামী যাত্রী সামিয়া ও তাসনিম জাহিদ দম্পতি জানান, যাবার পথে অতিরিক্ত লাগেজ থাকার অজুহাতে তাদেরকে বিমানবন্দরের গেটেই হয়রানি শুরু করেন এসআই তাজ। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

জসিম মাহমুদ নামের আরেক যাত্রী জানান, টাকা না দেয়ায় প্রায়ই তাজের হয়রানির শিকার হতে হয় তার।

অভিযোগ উঠেছে শুধু পর্যটক নয়, স্থানীয় বাসিন্দা,রাজনৈতিক নেতারাও তাজের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কয়েকদফা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো সুরাহা আসেনি। এর আগে এসব ঘটনায় মুচলেকাও দিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এসআই তাজ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘‌ আমি বিষয়টি শুনেছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: মিছিলে সরব নারীরা
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: কক্সবাজারে আ.লীগ নেতা-কর্মীদের ঢল
সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার পথ খুলছে কক্সবাজারে
কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা নয়: হাইকোর্ট
তলবে হাইকোর্টে হাজির কক্সবাজারের ডিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Former UP member stabbed to death

সাবেক ইউপি সদস্যকে টেঁটা দিয়ে হত্যা

সাবেক ইউপি সদস্যকে টেঁটা দিয়ে হত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ছবি
নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য অলি মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার ইকবালের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষ তাকে টেঁটা বিদ্ধ করে কুপিয়ে হত্যা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে টেঁটা বিদ্ধ করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ওলি মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি ওই এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য অলি মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার ইকবাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তবে অলি মিয়া বাড়িতে থাকতেন না। একজনের জানাযা নামাজে শরিক হতে দীর্ঘদিন পর তিনি নিজ বাড়িতে আসেন।

পূর্ববিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ তাতোয়াকান্দি গ্রামে ওলি মিয়াকে একা পেয়ে হামলা চালায়। অলি মিয়া দৌড় দিলে হামলাকারীরা তার দিকে টেঁটা ছুড়ে মারে। টেঁটা তার মুখ ও গলায় বিদ্ধ হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ।

ইকবাল ও তার সমর্থকরা চলে গেলে স্থানীয়রা ওলি মিয়াকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, ইকবালের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নায়িকা শিমু হত্যা মামলায় মেয়ের সাক্ষ্য
‘গাড়ি চালকের সাহায্যে বাসায় ঢুকে সাংবাদিক আফতাবকে হত্যা’
বরিশালে বিষ মিশিয়ে দুই নারীকে হত‌্যা: পুলিশ
প্রেমিকের পিটুনিতে প্রাণ গেল মেয়ের বাবার
মাকে পাঁচ টুকরো করে হত্যার মামলায় ছেলেসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Transport strike call on Sylhet Jakiganj road

সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক বিআরটিসি বাস চলাচলের প্রতিবাদে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পরিবহন ধর্মঘট। ফাইল ছবি
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জকিগঞ্জ সড়কে বিআরটিসির চারটির বেশি বাস চলাচল না করা ও প্রতিটি বাসে দিনে সর্বোচ্চ চারটি ট্রিপ দেয়ার দাবি জানিয়ে ১১ ও ২৩ জানুয়ারি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়া হয়, কিন্তু তাদের এ দাবি মানা হয়নি।

সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস চলাচলের প্রতিবাদে সোমবার থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার রাতে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে যৌথ সভায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরু হবে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জকিগঞ্জ সড়কে বিআরটিসির চারটির বেশি বাস চলাচল না করা ও প্রতিটি বাসে দিনে সর্বোচ্চ চারটি ট্রিপ দেয়ার দাবি জানিয়ে ১১ ও ২৩ জানুয়ারি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেয়া হয়, কিন্তু তাদের এ দাবি মানা হয়নি।

চলতি মাসে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির এসি ও নন এসি বাস চলাচল শুরু হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP threw Sattar in the dustbin

‘বিএনপি সাত্তারকে ডাস্টবিনে ছুড়েছে’

‘বিএনপি সাত্তারকে ডাস্টবিনে ছুড়েছে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থনে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি তাকে (উকিল আব্দুস সাত্তার) টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ডাস্টবিনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়ালেন। সাত্তার ভাই আমাদের দলের কেউ নন। তার সুহৃদ আমরা। তাকে বিএনপি লাথি মেরেছে। তাই তার পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি, আপনারাও তার পাশে থাকবেন।

বিএনপি উকিল আব্দুস সাত্তারকে টিস্যু পেপারের মতো ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থনে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোববার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আহমদ হোসেন বলেন, ‘‌বিএনপি তাকে (উকিল আব্দুস সাত্তার) টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ডাস্টবিনে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়ালেন। সাত্তার ভাই আমাদের দলের কেউ নন। তার সুহৃদ আমরা। তাকে বিএনপি লাথি মেরেছে। তাই তার পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি, আপনারাও তার পাশে থাকবেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘‌বিএনপি একটি বিচিত্র দল। একটি মানুষ পাঁচবার এমপি হলো, জীবনের অনেক কিছু দিল। আর তাকে এভাবে ফেলে দিলো। এক ছাগলের তিন বাচ্চা। দুইটা দুধ খায়, আর একটা লাফায়। বাংলাদেশে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হচ্ছে বিএনপি।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংরক্ষিত এমপি উন্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সিনিয়র সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঠাকুর রাব্বি প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
পার্চিংয়ে কমছে খরচ, বাড়ছে ফলন
৫ সপ্তাহ আগেই অস্ত্রোপচার, জন্ম নিল চার শিশু
ছাত্রদের বের করে দিয়ে আ.লীগের বর্ধিত সভা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবে হলো ‘রাশিয়া-ইউক্রেনপন্থিদের’ সংঘর্ষ
পিঠা উৎসবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভালো দিক উপস্থাপনের ডাক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 ships with goods from Ruppur center in Mongla

রাশিয়া থেকে রূপপুরের মালামাল নিয়ে ২ জাহাজ মোংলায়

রাশিয়া থেকে রূপপুরের মালামাল নিয়ে ২ জাহাজ মোংলায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেশিনারি নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে জাহাজ আনকা সান। ছবি: নিউজবাংলা
ভানুয়াতুর পতাকাবাহী ‘এমভি আনকা সান’ জাহাজটি বন্দরের ৭ নম্বর এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমভি স্পোডিল্লা’ জাহাজটি মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙ্গর করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরে পৌঁছেছে রাশিয়ার দুটি জাহাজ। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় জাহাজ দুটি মোংলা বন্দরে ভেড়ে।

ভানুয়াতুর পতাকাবাহী ‘এমভি আনকা সান’ জাহাজটি বন্দরের ৭ নম্বর এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমভি স্পোডিল্লা’ জাহাজটি বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙ্গর করেছে।

জাহাজ দুটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং নভরসতি বন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল বহন করে এনেছে।

আরও পড়ুন: আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা: রূপপুরের পণ্যসহ রুশ জাহাজকে ভিড়তে মানা

‘এমভি আনকা সান’ জাহাজে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৯৭৯ প্যাকেজের ১৪০০ দশমিক ৪২ টন মেশিনারি এসেছে। এছাড়া ‘এমভি স্পোডিল্লা’ জাহাজে এসেছে ৪৩৬ প্যাকেজের ৫১৮ দশমিক ৪২১ টন মেশিনারি পণ্য।

রাশিয়া থেকে রূপপুরের মালামাল নিয়ে ২ জাহাজ মোংলায়
মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি স্পোডিল্লা’। ছবি: নিউজবাংলা

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহীন মজিদ বলেন, ‘রাশিয়া থেকে আসা জাহাজ দুটিতে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক হাজার ৯শ’ টন মেশিনারি এসেছে। এসব মেশিনারি দুই দিনের মধ্যে খালাস করে সড়ক পথে রূপপুরের নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রুশ জাহাজ ফের‌তেও ‘পেছাবে না রূপপুরের কাজ’
রাশিয়া জেনেশুনেই নিষেধাজ্ঞার জাহাজ পাঠিয়েছে: মোমেন
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা: রূপপুরের পণ্যসহ রুশ জাহাজকে ভিড়তে মানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Accused arrested after 16 years of life sentence

১৬ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার  

১৬ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার   ১৬ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুস গ্রেপ্তার। ছবি: নিউজবাংলা
ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, গ্রেপ্তার আব্দুল কুদ্দুসকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে শহিদুল আলম নামে এক ব্যক্তির মাথা বিচ্ছিন্ন দেহ ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধারের ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুসকে ১৬ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন বহেরার চালা এলাকা থেকে শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৪১ বছর বয়সী আব্দুল কুদ্দুস টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানাধীন ভাবনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, ২০০৪ সালে ধামরাই থানাধীন গোয়াড়ীপাড়ায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন ৩৪ বছর বয়সী শহিদুল আলম ও তার বন্ধু আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন।

সঞ্চয়, ঋণদান ও ফিক্সড ডিপোজিট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল তারা। প্রতিষ্ঠানে লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় একসময় তাদের অ্যাকাউন্টে সদস্যদের সঞ্চয়ের বেশকিছু টাকা জমা হয়। সেই টাকা ও প্রতিষ্ঠানটির লোভে শহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী টাঙ্গাইলের সন্ত্রাসী রাজা মিয়াকে নিয়ে শহিদুলকে হত্যার পূর্ণ ছক আঁকে আব্দুল কুদ্দুস। ২০০৬ সালের ২০ মে শাহিন নামের একজনের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা বলে বন্ধু শহিদুলকে মাইক্রোবাসে তুলা হয়। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানাধীন বেতুলিয়া গ্রামে নিয়ে সন্ত্রাসী রাজা মিয়াসহ সাহেদ, আব্দুল কুদ্দুস ও বিষ্ণু সুইপার গলায় রশি পেচিয়ে, রুমাল দিয়ে মুখ চেপে ধরে শহিদুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় গোপন করার উদ্দেশে গলা কেটে নিথর দেহ থেকে শহিদুলের মাথা আলাদা করে ফেলা হয়। পরে সাটুরিয়ায় মাথা বিচ্ছিন্ন দেহ ও টাঙ্গাইলের নাগরপুরে খণ্ডিত মাথা ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনার পরদিন সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আ. জলিল অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তিনি আরও জানান, এ মামলায় ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল কুদ্দুসকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই হত্যায় জড়িত আব্দুল কুদ্দুস পলাতক ছিল। সে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে আপন মামাতো ভাইয়ের নাম, বাবার নাম ও মায়ের নাম ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবত গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। সেখানে আব্দুল কুদ্দুস তার মামাতো ভাইয়ের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকুরি গ্রহণ করে বসবাস করে আসছিল। সে তার বাবার নাম রহম আলী বলে পরিচয় দিত।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আব্দুল কুদ্দুসকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
লেগুনার হেলপার থেকে গ্যাং লিডার
প্রাইমারি স্কুলে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা  
বরিশালে হাত-পায়ে ইট বেঁধে হত্যার রহস্য উদঘাটন
মাদ্রাসার দারোয়ান থেকে জঙ্গি নেতা
গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ইউপি সদস‌্য কারাগারে 

মন্তব্য

p
উপরে