× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The governments plan to prevent online shopping fraud
hear-news
player
print-icon
বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা থেকে ভোক্তাকে রক্ষার চ্যালেঞ্জ

অনলাইন-কেনাকাটায়-প্রতারণা-থেকে-ভোক্তাকে-রক্ষার-চ্যালেঞ্জ
অনলাইনে কেনাকাটা নিরাপদ করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে নানান ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে চলতি বছর বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালনে সরকার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা’। নানা কর্মসূচিতে আগামীকাল পালন হতে যাচ্ছে এই দিবস।

দেশে ই-কমার্স খাতে পণ্য কেনাবেচা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণা।

ভোক্তা বা গ্রাহকের সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে পুরো ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা আনতে চায় সরকার। সে জন্য চলতি বছরকে ই-কমার্স খাত সংশোধন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ধরে পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানানো হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সংশোধন পর্যায়ে থাকা ভোক্তা আইনে অনলাইনে লেনদেনের বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হবে। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় হালনাগাদ একটি পরিপূর্ণ নীতিমালা শিগগির প্রকাশ করা হবে। জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরসও (এসওপি) করা হবে হালনাগাদ।

ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ডিবিআইডি) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সারা দেশে সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এবং এফ-কমার্স সাইটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এ খাতের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আওতায় চালু করা হবে সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্ভার।

ই-কমার্স খাতে কী পরিমাণ ট্রানজেকশন হয়, কারা কোথায় কী পরিমাণ পণ্য কেনাবেচা করে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য সেন্ট্রাল লিকুইডিটি ট্র্যাকিং প্রোগ্রামও (সিএলটিপি) চালু করা হবে।

যেগুলো ট্র্যাকিং করা সম্ভব নয়, তাদের বিষয়ে দেখভালের জন্য আরও একটি ইন্টার অপারেটর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এসব লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচির কার্যকর পদক্ষেপে সরকার এ বিষয়ক একটি স্বতন্ত্র আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনেও জোরালোভাবে কাজ করছে। এসব পদক্ষেপ ই-কমার্স খাতকে বিতর্কমুক্তভাবে এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে চলতি বছর বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালনে সরকার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা’। নানা কর্মসূচিতে আগামীকাল পালন হতে যাচ্ছে এই দিবস।

বিদ্যমান ই-কমার্স বা অনলাইন মাধ্যমে কেনাকাটাতে পণ্য যাচাইয়ের সুযোগ কম। ফলে এখানে নিম্নমান, অন্য পণ্য গছিয়ে দেয়া, বাড়তি দাম রাখা, অন্যায্য ভ্যাট আদায়, ওজনে কম- এমন নানামুখী প্রতারণার শিকার হচ্ছে ক্রেতারা। আবার অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করেও মাসের পর মাস পণ্য বা টাকা কোনোটাই ফেরত না পাওয়ার অভিযোগও এখন সর্বোচ্চ।

এদিকে শুধু অনলাইন কেনাকাটাতেই নয়, সশরীরে কেনাকাটাতেও বিভ্রান্ত হচ্ছে ভোক্তা। যেখানে আসল-নকল কিংবা দামের মারপ্যাঁচে প্রতিনিয়ত ক্রেতাকে ঠকানো হচ্ছে। অর্থাৎ সবখানেই ভোক্তা বঞ্চনার হার বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে দেশে ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন করা হয়। এ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ তদারকিতে একই বছর গঠন করা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আইনটি বাস্তবায়নের জন্য এ পর্যন্ত ৫টি বিধিমালা ও প্রবিধান তৈরি হয়েছে।

দেশব্যাপী ভোক্তা অধিকার আইন বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে কাজ করছে ‘জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’

এ ছাড়া সব জেলায় জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে রয়েছে ১১ সদস্যের জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। উপজেলা চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে আছে ১৮ সদস্যের উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি। সব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ২০ সদস্যের ইউনিয়ন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটিও কাজ করছে। এর বাইরে বেসরকারি উদ্যোগে আগে থেকেই কাজ করে আসছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

এত সব উদ্যোগও দেশে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দমাতে পারেনি। অনলাইন কিংবা সশরীরে- কোনো মাধ্যমেই পণ্য বিক্রিতে মানা হয় না নির্ধারিত দাম। দেখানো হয় না মূল্য তালিকা। উল্টো প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে খাদ্যপণ্য, ব্যবহৃত পণ্য ও ওষুধ বিক্রি হচ্ছে ধার্য মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে।

থেমে নেই ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রিও। নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ দেয়া হচ্ছে মানব খাদ্যে। অবৈধ প্রক্রিয়ায় মানহীন পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ চলছে সমানতালে। ক্রেতা-ভোক্তাকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে মিথ্যা প্রলোভনের বিজ্ঞাপনে। ওজনে কারচুপি হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য।

কেন এই প্রতিপাদ্য

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২১ সালটি ছিল ই-কমার্স খাতে নানামুখী প্রতারণার ঘটনাবহুল বছর। গত বছরের জুন মাসে গ্রাহকরা ১৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে এসে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১টি।

লাফিয়ে বেড়েছে অভিযোগের সংখ্যাও। সেপ্টেম্বর শেষে এ অভিযোগের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। অথচ তিন মাস আগে জুন মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের মতো।

শুধু ই-কমার্স ওয়েবসাইট নয়, ফেসবুকভিত্তিক কমার্স সাইটগুলোর বিরুদ্ধেও উঠেছে অসংখ্য অভিযোগ। এসব অভিযোগের ৯০ শতাংশই আবার ঢাকাকেন্দ্রিক।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ডিজিটাল কমার্স সেল প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রেতা-ভোক্তার সঙ্গে অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তা ঠেকাতে সরকার বসে নেই।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে একের পর এক অভিযান চালানো হয়েছে। অনেককে আটক করে জেলে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ পালিয়ে গেছে। তবে তাদের প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্ধ করা হয়েছে। যাদের টাকা বিভিন্ন গেটওয়েতে আটকা ছিল তা যাচাই-বাছাই করে ফেরত দেয়া হয়েছে।

অনলাইন গ্রাহকের সুরক্ষা ঝুঁকি

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ পুরোপুরি ভোক্তাবান্ধব নয়। আবার এ আইনে অনলাইন গ্রাহকের সুরক্ষার বিষয়টিও অস্পষ্ট। যে কারণে ডিজিটাল মাধ্যমের ক্রেতা-ভোক্তা কিংবা গ্রাহকের একটা সুরক্ষা ঝুঁকি ছিল।

টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (টিক্যাব) আহ্বায়ক মো. মুর্শিদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এ দেশের প্রচলিত পণ্যের গ্রাহকদের কথা উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু এ আইনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা নেই।

‘দেশে ই-কমার্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাড়ছে ই-কমার্স সেবা ও অনলাইনকেন্দ্রিক লেনদেনের প্রবণতা। এটা ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু এই ই-কমার্স, অনলাইন রাইড শেয়ারিং, অনলাইন ফুড ডেলিভারি সিস্টেম, ই-টিকেটিং, বিভিন্ন সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ক্রেতা, অনলাইনে বিভিন্ন সেবার গ্রাহক, মোবাইল ব্যাংকিং খাতের গ্রাহক এবং টেলিকম সেক্টরের ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় ভোক্তা আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ভোক্তা অধিকার রক্ষার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।’

ভোক্তা অধিকারে আরও যত বাধা

ভোক্তা অধিকার রক্ষায় রয়েছে পদে পদে বাধা। এর জন্য কেবল ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতাই দায়ী নয়। সরকারের ভুলনীতি, নজরদারির অভাব, ভোক্তাবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা, রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের এ বিষয়ে আন্তরিকতার অভাব এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির দৌরাত্ম্যও দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘যেকোনো সেবার উৎপাদন ভোক্তার কাছে যাচ্ছে চার গুণ দামে। অকারণে নানাভাবে এসবের মূল্য বাড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার যে বরাদ্দ দিচ্ছে তা ভোক্তাদের জন্য খরচ হচ্ছে কি না, সেটা ভোক্তাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় সরকার আইনের মধ্যে থেকেই বেশকিছু রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান গঠন করে দিয়েছে। কিন্তু সেগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করছে না, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তার একটি।

অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার রক্ষায় দরকার ভোক্তাবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠা। একই সঙ্গে দরকার অর্থনীতি ও রাজনীতির সংযোগ। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগ অধিকতর আন্তরিক হওয়ার বিকল্প নেই। তা না হলে ভোক্তাদের বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হতে হবে।’

সর্বাধিক গুরুত্ব সরকারের

ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

নিউজবাংলাকে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়ে আন্তরিক বলেই দেশে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে বাজার অভিযান জোরদার করেছে। একচেটিয়া বাণিজ্য বন্ধ এবং ব্যবসায় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতেও তৎপর সরকার। এ লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন এবং কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমেও এ বিষয়ক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

‘এটা ঠিক এখনও ভোক্তারা পুরোপুরি সচেতন হয়নি। আমি মনে করি সর্বত্র ভোক্তারা সচেতন হলেই দেশে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত হবে।’

সরকার ভোক্তাদের সচেতন করতেও কাজ করছে বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোক্তা-স্বার্থ যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অনেক ভোক্তাই তার অধিকার সম্পর্কে এখন সচেতন। তারা প্রতিবাদ করছেন, অভিযোগও দিচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থায় বহুমুখিতার কারণে প্রতারণার ধরন বদলে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এখন যুগোপযোগী করতে সংশোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

‘ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় একটি পরিপূর্ণ হালনাগাদ নীতিমালা চূড়ান্তকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। একটি এসওপি জারি হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকার এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনে কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: পুনরুদ্ধারের সুযোগ চান মঞ্জুরুল
আলেশা মার্টের গ্রাহকদের টাকা ফেরত শুরু
ইভ্যালির ৭ গাড়ি বিক্রি ২ কোটি ৯১ লাখে
ইভ্যালির রাসেলের রেঞ্জ রোভার বিক্রি ১ কোটি ৮১ লাখে
ই-কমার্সকে ডিজিটাল বিজনেস আইডি দেয়া শুরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Robi Poyabaro in the capital market due to the ban on Grameen

গ্রামীণে নিষেধাজ্ঞায় পুঁজিবাজারে রবির পোয়াবারো

গ্রামীণে নিষেধাজ্ঞায় পুঁজিবাজারে রবির পোয়াবারো
বুধবার রবির শেয়ারদর কিছুটা কমলেও আগের চার কর্মদিবসে শেয়ারদর ২৭ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণের শেয়ারদর টানা তিন দিন সর্বোচ্চ পরিমাণে কমার পর চতুর্থ কর্মদিবসের শুরুতেও একই চিত্র দেখা যায়। তবে দিন শেষে ঘুরে দাঁড়ায়। দুই দিন বাড়লেও আগের তিন দিনের পতনের কারণে ৬ টাকা ৮০ পয়সা কমেছে দর।

প্রবাদ রয়েছে, কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ। এমনটাই ঘটেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি কোম্পানির ক্ষেত্রে। কোম্পানি দুটি হলো গ্রামীণফোন ও রবি।

গত সপ্তাহের বুধবার গ্রামীণফোন নতুন কোনো সিম বিক্রি করতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি। এর কারণ হিসেবে গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিতে না পারার কথা বলা হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার খবরে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দর পতন শুরু হয়। বিপরীতে কপাল খুলেছেন রবির বিনিয়োগকারীদের।

বুধবার কিছুটা কমলেও আগের চার কর্মদিবসে শেয়ারদর ৭ টাকা ৮০ পয়সা বা ২৭ শতাংশ বা বেড়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণের শেয়ারদর টানা তিন দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। চতুর্থ দিনও আবার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত নামার পরেও ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শেষে বাড়ে। পরদিন আরও কিছুটা বাড়ে।

নিষেধাজ্ঞার পর শেয়ারদর ৬ টাকা ৮০ পয়সা বা ২.২৬ শতাংশ কমেছে।

সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার পরের দিন বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের শেয়ার দর ৬ টাকা বা ২ শতাংশ কমে সর্বশেষ ২৯৪ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।

এরপর আরও দুই দিন দর কমে লেনদেন হয়। তবে মঙ্গলবার তিন শতাংশ বেড়ে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ২৯১ টাকা ১০ পয়সায়। পরদিন আরও ০.৭৬ শতাংশ বেড়ে হারানো দরের কিছুটা পুনরুদ্ধার করে কোম্পানিটি।

এই নিষেধাজ্ঞার পর চার কর্মদিবস টাকা বাগার পর বুধবার ১.৮৯ শতাংশ বা ৭০ পয়সা কমেছে রবির শেয়ারের।

গত ২৯ জুন শেয়ারের দর ছিল ২৮ টাকা ৬০ পয়সা। পরদিন বেড়ে হয় ৩০ টাকা ১০ পয়সায়।

পরের কর্মদিবস ৩ জুলাই ৩ টাকা বা ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর বেড়ে ৩৩ টাকা ১০ পয়সায় শেয়ার বেচাকেনা হয়। এর পর দিন আরও ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়।

৫ জুলাই লেনদেনের শুরুতে শেয়ারদর আবার লাফ দিয়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে গেলেও দিন শেষে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ দর দাঁড়ায় ৩৭ টাকা ১০ পয়সা।

এরপর বুধবার নিম্নগতি দেখা যায়। এক দিনে দর পতনের সর্বোচ্চ হার ২ শতাংশ হওয়ায় ৭০ পয়সার বেশি কমার সুযোগ ছিল না। কমেছেও ততটা।

আর্থিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় রবির চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে গ্রামীণফোন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য বলছেন, গ্রামীণফোনের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৫ টাকার ওপরে। বিপরীতে এক টাকারও কম আয় রবির।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে যথাক্রমে ২০ টাকা ৩১ পয়সা, ২৬ টাকা শূন্য ৪ পয়সা, ২৫ টাকা ৫৬ পয়সা, ২৭ টাকা ৫৪ টাকা এবং ২৫ টাকা ২৮ পয়সা।

অন্যদিকে ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রবির আয় যথাক্রমে ৪৬ পয়সা, ৪ পয়সা, ৩৩ পয়সা ও ৩৪ পয়সা।

আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোন। ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হলেও ২০১৫ সাল থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানি।

ওই সময় থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ১৪০, ১৭৫, ২০৫, ২৮০, ১৩০, ২৭৫ ও ২৫০ শতাংশ। এর সবই নগদ।

অন্যদিকে রবি ২০২০ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে ২০২১ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

এক হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের গ্রামীণফোনের শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২টি।

আর ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন হওয়ায় রবির শেয়ার সংখ্যা ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৫টি।

আরও পড়ুন:
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়ায়’ যবিপ্রবি শিক্ষকের নামে মামলা
ব্যান্ডউইথড ক্যাপাসিটি বাড়াবে বিএসসিসিএল
অর্থবছরের প্রথম দিন স্বস্তি দিল না পুঁজিবাজারে
হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ: তদন্তে কমিটি
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A day later the fall lotus transaction

এক দিন পরেই পতন, কমল লেনদেনও

এক দিন পরেই পতন, কমল লেনদেনও
‘ঈদের আগে মানুষের টাকার প্রয়োজন পড়ে, সেটা বিগত কয়েক দিনে তুলে ফেলেছে। বাকি যে টাকা অ্যাকাউন্টে ছিল তা দিয়ে কেনাবেচা করছে।গতকাল কিনেছিল, আজকে লাভ পেয়ে বিক্রি করেছে।’

বাজেট পাসের পর দুই দিন পতনের পর ঘুরে দাঁড়ানো পুঁজিবাজারে এক দিন পরেই আবার দরপতন হলো। বেশিরভাগ কোম্পানির দরপতনের পাশাপাশি কমে গেছে লেনদেনও।

বুধবার লেনদেনের শুরুতেই সূচক বেড়ে গেলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে তা কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে।

অন্যদিকে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ২১৩ কোটি ৮৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকায়।

আগের দিন লেনদেন হয় ৯৬০ কোটি ৭৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা, যা ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নতুন বছর শুরু হতে না হতেই আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ, ইউক্রেন যুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ইত্যাদি ইস্যুতে টালমাটাল পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশ্বাস দেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নতুন বছরে বাজারে নতুন ফান্ড ইনজেক্ট হয়। বাজারে তারল্য বাড়ে।

তবে অর্থবছরের প্রথম সপ্তাহে তেমনটা দেখা যায়নি। পতনমুখি বাজারে গতকাল ইউটার্ন এলেও একদিন পরে আবারও আগের ধারায়।

বুধবার যতগুলো শেয়ারের দাম বেড়েছে কমেছে তার প্রায় দ্বিগুণ। ১১৮টি শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২১০টির। অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে ৫৪টি কোম্পানির শেয়ার।

এক দিন পরেই পতন, কমল লেনদেনও
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনের বিষয়ে এক্সপো ট্রেডার্সের প্রধান নির্বাহী শহিদুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে বাজার খুব বেশি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল দর বেড়েছিল, আজকে হয়তো অনেকেই লাভ দেখেছেন সেটা বিক্রি করেছেন। তাই সূচক কিছুটা কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের আগে মানুষের টাকার প্রয়োজন পড়ে, সেটা বিগত কয়েক দিনে তুলে ফেলেছে। বাকি যে টাকা অ্যাকাউন্টে ছিল তা দিয়ে কেনাবেচা করছে।গতকাল কিনেছিল, আজকে লাভ পেয়ে বিক্রি করেছে।’

শহিদুল হোসেন বলেন, ‘ঈদের পরে আশা করা যেুতে পারে যে, নতুন বিনিয়োগে বাজার আবার চাঙা হবে।’

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সর্বোচ্চ দর বেড়েছে গতকাল তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। আগের দিন ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৬ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল। আজকে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১৫০ টাকা ১০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে।

৮ মাস আগেও বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে শেয়ার লেনদেন হতে দেখা গেছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর শেয়ারটির দর উঠেছিল ২৩২ টাকা ৯০ পয়সা।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন-সংশ্লিষ্ট পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ২০১৮ সালের পরে আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি।

দর বৃদ্ধির দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি। দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

৮ দশমিক ১৮ শতাংশ দর বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকা ৪০ পয়সায়। ২০১৬ সাল থেকে বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিকভাবে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি।

২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৮৭ পয়সা আয়ের বিপরীতে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানি।

দর বৃদ্ধির তৃতীয় স্থানে রয়েছে লিবরা ইনফিউশনস লিমিটেড। ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৮৭০ টাকা ৩০ পয়সায়। গতকাল সর্বশেষ দর ছিল ৮০৯ টাকা ৬০ পয়সা।

মাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটি প্রতি বছরই আয় করেছে। ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ছাড়া সবগুলোই নগদ।

দর বৃদ্ধির তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন। আয় কম হলেও প্রতি বছরই মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।

২০২১ সালে ৮১ পয়সা আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে ২ শতাংশ। তার আগের বছর ৫ এবং ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ করেই লভ্যাংশ দিয়েছে।

কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে ২৬ জুন থেকে। ওই দিন ২০ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হওয়া শেয়ারটির দর আজকেই বেড়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। সর্বশেষ দর দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ১০ পয়সা।

এর পরেই ওইমেক্স ইলেক্ট্রোড লিমিটেডের। ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দর বেড়ে সর্বশেষ ২০ টাকাক ৮০ পয়সায় প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

কোম্পানির আর্থিক তথ্য বলছে, প্রত বছরই সামান্য পরিমাণে মুনাফায় থাকলেও কোনোদিন নগদ লভ্যাংশের মুখ দেখেননি এর বিনিয়োগকারীরা। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে ওইমেক্স।

তালিকার দশে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এর পরের স্থানে রয়েছে যথাক্রমে জেনেক্স ইনফোসিস, লোকসানি জাহিদ স্পিনিং লিমিটেড, এএফসি অ্যাগ্রো, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড এবং প্রাইম টেক্সটাইল।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি দর পতন হয়েছে লোকসানি জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের। সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ দর পতনের মাধ্যমে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়িয়েছে ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা।

১৯৮৮ সালে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানিটি কোনো দিন লাভের মুখ দেখেনি। লভ্যাংশ জোটেনি বিনিয়োগকারীদেরও। তবে কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপক ওঠানামা করে। ২৬ জুন ১৬৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেনের পরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর দুই কর্মদিবস কমল।

দর পতনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এমবি ফার্মাসিউটিক্যালস। একই সমান দর কমে সর্বশেষ ৫২০ টাকা লেনদেন হয়েছে কোম্পানির শেয়ার।

ধারাবাহিকভাবে মুনাফা থাকা কোম্পানিটি ২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫ টাকা ৪২ পয়সা লোকসান গুনেছে। ফলে লভ্যাংশ পাননি বিনিয়োগকারীরা। তবে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

সমান দর কমে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার ৪০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৩৯ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

ক্রাউন সিমেন্টের দর ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৭৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

দর পতনের পঞ্চম অবস্থানে থাকা লোকসানি মেঘনা পেটের দর কমেছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা।

সপ্তম স্থানে রয়েছে সাভার রিফ্যাক্টরিজ। ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর কমে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ২৩৮ টাকা ৬০ পয়সায়।

লোকসানে ডুবে থাকা এক কোটি ৩৯ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটি কোনো দিনই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

দরপতনের শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে আমান কটন, শ্যামপুর সুগার মিলস, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ও নিউ লাইন ক্লোথিং লিমিটেড।

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট সূচক কমেছে রবির দরপতনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৮৯ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট কমিয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের দর ২ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া তিতাস গ্যাস, পাওয়ার গ্রিড, বিএসআরএম, বিকন ফার্মা, বার্জার পেইন্টস, রেনাটা ও র‌্যাক সিরামিকসের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ১৭ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট।

বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫০ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে গ্রামীণফোন। এদিন কোম্পানিটির দর শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।

সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট যোগ করেছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দর ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট।

খুলনা পাওয়ার সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ওয়ালটন হাইটেক, জেনেক্স ইনফোসিস, বেক্সিমকো ফার্মা, সোনালী পেপার, শাহজীবাজার পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, রেকটি বেনকিজার সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর
পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে
দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি
‘ঘুম ভাঙছে’ পুঁজিবাজারের, বাড়ছে লেনদেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Indian rupee is depreciating against the dollar

ডলারের বিপরীতে ভারতের মুদ্রার দাম কমছেই

ডলারের বিপরীতে ভারতের মুদ্রার দাম কমছেই ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে রুপি। ছবি:সংগৃহীত
অপরিশোধিত তেল ও কয়লা আমদানি বৃদ্ধির ফলে ভারতে জুনে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ২৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। মে মাসে এই বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৪.৩০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে ২০২১-এর জুন মাসে এই ঘাটতি ছিল মাত্র ৯.৬১ বিলিয়ন ডলার।

ডলারের বিপরীতে ভারতের মুদ্রা রুপির দাম কমা অব্যাহত রয়েছে এবং জুন মাসে ভারতে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় ডলারের বিপরীতে খোলা হয়েছিল ৭৯.০৪ রুপি। সোমবার যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বন্ধ হয়েছিল ডলারের বিপরীতে ৭৮.৯৫ রুপিতে।

অপরিশোধিত তেল ও কয়লা আমদানি বৃদ্ধির ফলে ভারতে জুনে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ২৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। মে মাসে এই বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৪.৩০ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি রুপির ওপর আরও চাপের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

২০২১-এর জুন মাসে এই ঘাটতি ছিল মাত্র ৯.৬১ বিলিয়ন ডলার।

এই বছর ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য ৬ শতাংশ কমেছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ার বাজার থেকে পিছু হটে যাচ্ছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সোমবার পুঁজিবাজারে ২ হাজার ১৪৯ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন:
শেষ দিনের রোমাঞ্চের সঙ্গে ইতিহাস গড়ার পথে ইংল্যান্ড
স্বর্ণালংকার শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ ভারতীয় ব্যবসায়ীদের
মণিপুরে ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৪২
হিমাচলে বাস খাদে, নিহত ১৬
পুজারা-পান্টের ব্যাটে লিড আড়াই শ ছাড়াল ভারতের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
75 trucks of Indian onions are imported through Bhomra

ভোমরা দিয়ে ৭৫ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি

ভোমরা দিয়ে ৭৫ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি ভোমরা বন্দর দিয়ে গত দুদিনে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে বলে জানা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম দুই দিনে বন্দর দিয়ে ৭৫টি ট্রাকে করে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারত থেকে ১ হাজার ৮০৩ টন পেঁয়াজ ভোমরা বন্দরে ঢুকেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে আরও অর্ধশত পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

ভোমরা বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক ইউনুস আরাফাত নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘প্রায় আড়াই মাস পর পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বাজারে এসব পেয়াজ পৌঁছে গেছে। দামও কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের।’

দুই-একদিনের মধ্যে দাম আরও কমে যাবে বলে জানান তিনি।

ভোমরা বন্ধর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান বলেন, ‘স্থলবন্দরের হিসাব অনুযায়ী গত দুদিনে ১৮০৩ টন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আরও ৫০ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সারা দিন বিক্ষোভের পর কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা
শ্রমিকরা বকশিশ না পাওয়ায় কর্মবিরতি, ৪ দিন অচল ভোমরা
কালীপূজায় ভোমরায় আমদানি-রফতানি বন্ধ
ঝিমিয়ে পড়ছে বিবির বাজার স্থলবন্দর
পূজার ছুটির পর আবার সচল ভোমরা বন্দর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Banglabandha in the trap of 7 days holiday on Eid

ঈদে ৮ দিনের ছুটির ফাঁদে বাংলাবান্ধা

ঈদে ৮ দিনের ছুটির ফাঁদে বাংলাবান্ধা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত ই খুদা মিলন বলেন, ‘আগামী রোববার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ৮ জুলাই শুক্রবার থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ১৬ জুলাই শনিবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।’

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আট দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর।

সাপ্তাহিক ছুটিসহ আগামী ৮ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় এ স্থলবন্দরটিতে।

এ সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত ই খুদা মিলন নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী রোববার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন ও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপসহ ব্যবসায়ীদের সম্মতিতে ৮ জুলাই শুক্রবার থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

‘১৬ জুলাই শনিবার থেকে বন্দরের আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম পুনরায় সকাল থেকে শুরু হবে। এ বিষয়ে আজ আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হবে। তবে এ সময়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।’

আরও পড়ুন:
বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ 
বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি ৩ দিন বন্ধ 
বাংলাবান্ধায় দিনের পর দিন আটকা ৪ শতাধিক ট্রাক
পঞ্চগড়-রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হচ্ছে কাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The lowest fuel oil price in the world market in 4 months

বিশ্ববাজারে ৪ মাসে সবচেয়ে কম জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে ৪ মাসে সবচেয়ে কম জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দরে বিক্রি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মিজুহোর এনার্জি ফিউচারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রবার্ট ইয়াগার বলেন, ‘গোটা বিশ্ব আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে আছে; এই বুঝি মন্দা শুরু হয়ে গেল। আর সে ভয়ে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে সব দেশ। আর তাতেই কমছে তেলের দাম।’

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সুখবর। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে; নেমে এসেছে প্রায় ৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কমে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ২টায় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এ তেল বিক্রি হয়েছে ৯৯ ডলার ৫০ সেন্টে। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১০২ ডলার ৭৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।

এই দর গত ৯ মার্চের পর সবচেয়ে কম।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বড় বড় শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাহিদা কমায় জ্বালানি তেলের দামও কমেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

বেশ কিছুদিন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১১০ থেকে ১১৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছিল। মাস দেড়েক আগে দুই ধরনের তেলের দামই বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২৫ ডলারে উঠেছিল।

মিজুহোর এনার্জি ফিউচারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রবার্ট ইয়াগার বলেন, ‘গোটা বিশ্ব আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে আছে; এই বুঝি মন্দা শুরু হয়ে গেল। আর সে ভয়ে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে সব দেশ। আর তাতেই কমছে তেলের দাম।’

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে দুই ধরনের তেলের দামই ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে তেলের দাম। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে ওঠানামার মধ্যেই তেলের দর ১১০ থেকে ১১৫ ডলারের মধ্যে ছিল।

গত মে মাসের শেষের দিকে তেলের দাম অল্প করে বেড়ে ৩০ মে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

২০২০ সালের করোনা মহামারির শুরুতে সারা বিশ্বে যখন লকডাউন চলছিল, তখন জ্বালানি তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ এক ব্যারেল তেল কিনলে ক্রেতাকে উল্টো ৩৭ ডলার দেয়া হয়েছে। এরপর ওপেক ও রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে'তে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলারে ওঠে। সে সময়ই দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

এরপর অবশ্য তেলের দাম খানিকটা কমে আসে। যুদ্ধের কারণে ফের তা বাড়তে থাকে। ইউক্রেনে রুশ হামলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমল
পেট্রল নেই পাম্পে, ফিরে যাচ্ছে মানুষ
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন, নামল ১০০ ডলারের নিচে
ভারতে দুই সপ্তাহে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ল ৮ রুপি
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় ১০০ ডলারে নামল তেলের দর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bank of Singapore DBS is coming to Bangladesh

বাংলাদেশে আসছে সিঙ্গাপুরের ব্যাংক ডিবিএস

বাংলাদেশে আসছে সিঙ্গাপুরের ব্যাংক ডিবিএস
প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি আমেরিকান ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করবে ডিবিএস লিমিটেড। এই বিনিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব সিঙ্গাপুর (ডিবিএস) লিমিটেড বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করছে।

আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ব্যাংকটি বাংলাদেশে তাদের প্রথম শাখা খুলবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা পিযুষ গুপ্তা।

প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি আমেরিকান ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করবে ডিবিএস লিমিটেড। এই বিনিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এক বছর ধরে আলোচনা অবশেষে সফল হয়েছে। ১ জুলাই বাংলাদেশের হাইকমিশনার তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে ডিবিএস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিযুষ গুপ্তার একান্ত বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন পিযুষ গুপ্তা।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, ‘ডেভলপমেন্ট ব্যাংক অব সিঙ্গাপুর এর সঙ্গে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বৎসর মেয়াদি আলোচনা অবশেষে সাফল্য লাভ করেছে।’

‘গত ১ জুলাই সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে ডিবিএস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিযুষ গুপ্তার একান্ত বৈঠককালে গুপ্তা বাংলাদেশে তার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন। বৈঠকে গুপ্তা জানান, ডিবিএস ব্যাংকের বাংলাদেশ শাখা প্রাথমিকভাবে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে যাত্রা শুরু করবে।’

‘এই বিনিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যেই তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যাংকটির প্রথম শাখা যাত্রা শুরু করতে পারবে বলে ডিবিএস এর এই শীর্ষ কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন।’

আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর’স (এসঅ্যান্ডপি) এবং মুডি’স-এর সর্বোচ্চ পর্যায়ের রেটিংপ্রাপ্ত ডিবিএস লিমিটেড পর পর ছয় বছর ‘এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাংক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ইউরোমানি ২০১৬ সালে ডিবিএসকে বিশ্বের সেরা ডিজিটাল ব্যাংকের সম্মাননা দেয়। বিগত বছরগুলোতে ডিবিএস বিশ্বের একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি লাভ করে।

সিঙ্গাপুর ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, চীন, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনামসহ আরও কয়েকটি দেশে ব্যাংকটির ৩০০ এর অধিক শাখা এবং বিশ্বের প্রায় ৫০টি প্রধান শহরে তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দশকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) হিসাবে সিঙ্গাপুর বর্তমানে তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে বিবেচিত সিঙ্গাপুর থেকে এতদিন কোন বৃহৎ ব্যাংক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে উদ্যোগী হয়নি।

‘এবারই প্রথম সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বৃহৎ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে, যার সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের বেশি। কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট টালমাটাল পরিস্থিতিতে ডিবিএস লিমিটেডের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।’

‘বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষ করে অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান জোরালো অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। ডিবিএস এর মতো বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল ও কর্পোরেট ব্যাংকগুলো বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করলে তা দেশের ব্যাংকিং সংস্কৃতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিবিএস এর বাংলাদেশে কার্যক্রম নিয়ে কথা হচ্ছিল। এখন মনে হচ্ছে, সেটা অনেক দূর এগিয়েছে। বিশ্বের অন্যত সেরা এই ব্যাংকটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলে একদিকে যেমন দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে; অন্যদিকে আমাদের ব্যাংকিং খাত আরও বিকশিত হবে।’

মন্তব্য

p
উপরে