× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
No construction of houses in the capital without septic tanks Minister
hear-news
player
print-icon

রাজধানীর প্রতি বাড়িতে থাকতে হবে সেপটিক ট্যাংক

রাজধানীর-প্রতি-বাড়িতে-থাকতে-হবে-সেপটিক-ট্যাংক
ডিএনসিসি আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক না রেখে বাসা-বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

রাজধানীর প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক রাখার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেপটিক ট্যাংক না রেখে বাসা-বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

বাড়ির নকশা অনুমোদন দেয়ার আগে এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভবনে রোববার ‘নিরাপদ পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি আয়োজিত সেমিনারে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি বাসা-বাড়ি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক থাকতে হবে। স্যুয়ারেজ লাইন কোনোভাবে সরাসরি লেক অথবা খালে দেয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে অপরিকল্পিতভাবে অনেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের ৯৯ শতাংশ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে নিয়ম অমান্য করে।

‘রাজধানীর অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নেই। আর এই সেপটিক ট্যাংক না থাকায় স্যুয়ারেজ লাইন খাল ও লেকে সরাসরি দিয়ে দেন। এতে করে খাল ও লেকের পানি দূষিত হয়ে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাঁচে না।’

তাজুল বলেন, ‘মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে ভোগ বেড়েছে। ‌পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে ময়লা-আবর্জনা। আগে একটি ব্যাগে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেয়া হতো। এখন প্রতিটি উপকরণের সঙ্গে একটি ব্যাগ দেয়া হয় যার ফলে বাসা-বাড়িতে ময়লা বেশি হয়।

‘স্বাভাবিকভাবেই এই ময়লা-আবর্জনা একটি ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ শুধু আমাদের দেশে নয়, পৃথিবীর অন্য দেশেও রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ঢাকাকে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও বসবাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়তে উভয় সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক দখল হওয়া খাল উদ্ধার করা হয়েছে। খালগুলো সংস্কার ও পুনঃখনন করে নৌ চলাচলের উপযোগী করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে শহরের অনেক পরিবর্তন আসবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা সুশাসনের অভাব। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। আইনই মানুষকে সভ্য করেছে। আইন সবার জন্য সমান।

‘মন্ত্রী-এমপি, মেয়র এবং ক্ষমতাবানদের জন্য আলাদা কোনো আইন নেই। কাউকে ছাড় দেবেন আর কাউকে ধরবেন, এটা হবে না। রাষ্ট্র কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি অর্পিত দায়িত্ব সাহসিকতার সঙ্গে পালন করে, তাহলে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে।’

উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সেলডন ইয়েট।

আরও পড়ুন:
সেপটিক ট্যাংকে নারীর মরদেহ
ডিএনসিসির সব ভবনে বসাতে হবে সেপটিক ট্যাংক
সেপটিক ট্যাংকে পড়ে নারীর মৃত্যু
সেপটিক ট্যাংকে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ
সেপটিক ট্যাংকের গ্যাসে প্রাণ হারালেন ২ শ্রমিক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
IGPs US visit wont be a problem Home Minister

আইজিপির যুক্তরাষ্ট্র সফরে সমস্যা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইজিপির যুক্তরাষ্ট্র সফরে সমস্যা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যেটা বলেছেন ইউএনের সঙ্গে তাদের একটি সমঝোতা রয়েছে। সে অনুযায়ী এটা প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেটা শেষ হয়ে এলে এটা নিশ্চিত করতে পারবেন। আমরা তো মনে করি, ইউএন তাকে (আইজিপি) দাওয়াত দিয়েছে, তিনি যাবেন। এর জন্য যেগুলো প্রয়োজন সেগুলোর তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি জেনে শুনেই যাবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই জাতিসংঘের আমন্ত্রণে পুলিশ দেশটিতে প্রধান বেনজীর আহমেদ সফরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। বলেছেন, যেহেতু জাতিসংঘের আমন্ত্রণে এই সফর তাই যুক্তরাষ্ট্র এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হ্যাসের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আইজিপি কি আমেরিকা যেতে পারবেন?

জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রদুত) যেটা বলেছেন ইউএনের সঙ্গে তাদের একটি সমঝোতা রয়েছে। সে অনুযায়ী এটা প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেটা শেষ হয়ে এলে এটা নিশ্চিত করতে পারবেন।

‘আমরা তো মনে করি, ইউএন তাকে (আইজিপি) দাওয়াত দিয়েছে, তিনি যাবেন। এর জন্য যেগুলো প্রয়োজন সেগুলোর তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি জেনে শুনেই যাবেন।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে র‌্যাব এবং এর সাত কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বেনজীর আগে র‌্যাবেই ছিলেন। তার বাহিনীটির সাবেক কর্মকর্তা হিসেবেই তিনি নিষেধাজ্ঞায় পড়েন।

এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর বেনজীরকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

দেশটিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের চিফ অব পুলিশ সামিটে (ইউএনকপ) অংশ নিতে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলে তার নামও রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি র‌্যাবের উপর দেয়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও কথা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে, যেভাবে র‌্যাবের কাজ করা উচিত ছিল, সেভাবে কাজ করেনি বলেই তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা বলেছি, র‌্যাব বেআইনি কোনো কাজ করলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

‘আমি বলেছি, এখন র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরাও কারাগারে আছেন, যারা গাফিলতি করেছেন। আমি একটা ইনসিডেন্টের কথা বলেছি, নারায়ণগঞ্জে যে সেভেন মার্ডার হয়েছিল, সেই অফিসারদের আজকে ক্যাপিটাল পানিসমেন্ট হয়েছে। তারা হায়ার কোর্টে আপিল করেছে, সে প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের যে সদস্য অন্যায় করছেন তাদেরও শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।’

বন্দুকযুদ্ধের নামে বিনা বিচারে হত্যার যে অভিযোগ উঠে, সেটি নিয়েও বৈঠকে কথা হয় বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এও বলেছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি সেলফ ডিফেন্সে গুলি করে থাকে। সেটা যথাযথ হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করার জন্য একজন মেজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয় ঘটনার পরপরই। তিনি যদি মনে করেন এটা যথাযথ হয়নি, তাহলে সেই সদস্যকে ট্রায়াল ফেইস করতে হয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সে সময় বলেন, ‘এটা তো তোমরা পাবলিক্যালি এনাউন্স করো না।’

তখন মন্ত্রী বলেন, ‘যেগুলো করার সেগুলো আমরা করছি।’

আর যে বিষয়ে কথা

আর কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি বলেছেন বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। ইলেকশন পর্যন্ত এটা ঠিক থাকবে কি না জানতে চেয়েছেন। আমি বলেছি প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট তিনি একটি পিস ফুল এটমসফেয়ার কন্টিনিউ করবেন আপ টু ইলেকশন। লট অফ ডেমোনস্ট্রেশন হচ্ছে, লট অফ মিটিং হচ্ছে আমাদের এখানে কোনো ইয়ে নাই।

‘তিনি আমাদের যেটা বলতে চেয়েছেন আমাদের সঙ্গে আমেরিকার যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সেটা এগিয়ে নিতে এবং অন্য কোনো সেক্টরে তারা সহযোগিতা করতে পারে কি না, সেগুলো তিনি জানতে চেয়েছেন।

‘তারা মানবপাচার বন্ধে কাজ করতে ইচ্ছুক। আমাদের নিরাপত্তার জন্য যদি কিছু প্রয়োজন হয় সেখানে সহযোগিতা করতে পারে। তারা আমাদের আগেই দুই তিনটি জায়গায় সহযোগিতার জন্য লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা খুব শিগগির সমঝোতা স্মারক সই করব, সেটা আমরা তাকে জানিয়ে দিয়েছি। এখন এগুলো শেষ পর্যায়ে আছে।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা নিয়ে আমি বলেছি, এ বিষয় তোমাদের সহযোগিতা আমরা লক্ষ্য করেছি। এই সমস্যা সমাধানে তারা তাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা মনে করি। তারা এ বিষয়ে তাদের যে সহযোগিতা এখন আছে, সেটা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

‘আমাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তারা আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বর্ডার এলাকায় কোস্টগার্ডকে আগে তারা সহযোগিতা করেছে সেটা করার জন্য এবং আমাদের বিজিবির কিছু ইনঅ্যাকসেসেবল কিছু জায়গা আছে সে জায়গায় কীভাবে স্ট্রং করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের বিষয়ে আমরা কথা বলেছি।’

আরও পড়ুন:
বরগুনায় বাড়াবাড়ি হয়েছে, ব্যবস্থা নেবেন আইজিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সবার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খাদ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’
‘বিএনপি বিশৃঙ্খলা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না’
বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশ ভিকটিম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tipu Preeti murder 5 arrested with that bike pistol

টিপু-প্রীতি হত্যা: সেই বাইক-পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫

টিপু-প্রীতি হত্যা: সেই বাইক-পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫ আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি হত্যা মামলার আরও পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ডিবিপ্রধান হারুর অর রশীদ দাবি করেন, টিপু হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিক। সেটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা করেন মূসা।

রাজধানীর মতিঝিলে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি হত্যায় ব্যবহার করা মোটরসাইকেল, অস্ত্র ও গুলিসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোটরসাইকেলের চালক শামীম হোসাইন ওরফে মোল্লা শামীম, তৌফিক হাসান ওরফে বাবু, সুমন হোসেন, এহতেশাম উদ্দিন চৌধুরী অপু ও শরিফুল ইসলাম হৃদয়।

ডিএমপির ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মামলাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছে থেকে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল, দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছেন এই মোটরসাইকেল ও অস্ত্র হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।’

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা প্রথমেই মূল শুটার আকাশকে গ্রেপ্তার করেছি। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ একে একে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

মামলাটিতে এই পাঁচজনসহ মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ডিবিপ্রধান।

মোল্লা শামীম বেনাপোল হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তাকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যার নির্দেশদাতা জিসান ও মানিক, পরিকল্পনায় মূসা

ডিবিপ্রধান হারুর অর রশীদ দাবি করেন, টিপু হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও মানিক। সেটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা করেন মূসা।

তিনি বলেন, ‘বোচা বাবু হত্যার পর টিপুর সঙ্গে মূসার একটা দ্বন্দ্ব ছিল। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই মূসা এই হত্যাকাণ্ড ঘটনার পরিকল্পনা করে। সে পরিকলাপনা করে শামীমকে দায়িত্ব দেয়। আমরা মূসাকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় এরই মধ্যে ওমান থেকে দেশে এনেছি। তার উদ্দেশ্য ছিল টিপুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া। জিসান ও মানিক বিদেশ বসে এই হত্যার সঙ্গে যোগ দিয়ে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চেয়েছে। তারা মূলত জানান দিতে চেয়েছে যে, তারা এখনও রয়েছে।’

হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

উদ্ধার অস্ত্র টিপু হত্যায় ব্যবহার হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আকাশ বলেছে, যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটিই আমরা উদ্ধার করেছি। আমরা এই হত্যার ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে জিসান ও মানিককে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

ডিএমপির ডিবির মতিঝিল বিভাগ মামলাটি তদন্ত করছে।

গত ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম টিপু এজিবি কলোনি থেকে গাড়িতে বাসায় ফেরার সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সে সময় গাড়ির পাশে থাকা রিকশা আরোহী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ডিবিপ্রধান জানান, মোল্লা শামীমের দেয়া তথ্যে তৌফিক হাসান ওরফে বাবু ওরফে বিডি বাবু, সুমন হোসেন ও এহেতেশাম উদ্দিন চৌধুরী ওরফে অপুকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যে দক্ষিণ গোড়ান থেকে শরিফুল ইসলাম ওরফে হৃদয়কে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

বাবুর দেয়া তথ্যে পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দক্ষিণ গোড়ান থেকে জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষক
ফেসবুকে পিস্তলের ছবি দিয়ে গ্রেপ্তার যুবক
হামলায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৪
পুলিশের ওপর হামলার মামলা: কারাগারে বিএনপি নেতা
টিপু-প্রীতি হত্যা: গ্রেপ্তার আরও ২ জন রিমান্ডে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BRT MD stressed on security after five lives were lost

পাঁচ প্রাণ ঝরার পর নিরাপত্তায় জোর বিআরটি এমডির

পাঁচ প্রাণ ঝরার পর নিরাপত্তায় জোর বিআরটি এমডির নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া কাজ করতে গিয়ে উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে ৫ জন নিহতের ঘটনা নিরাপত্তায় জোর। ছবি: নিউজবাংলা
‘আমরাও চাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আমাদের যে যে জায়গায় ইমপ্রুভ (উন্নতি) করতে হবে, সেগুলো ঠিক করতে হবে। কীভাবে নিরাপত্তা এনশিওর করব, সেগুলো নিয়ে বৃহস্পতিবার মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করব।’

উত্তরায় বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় নিতে নারাজ এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ থাকবে। জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর এ কাজ আবার শুরু হবে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে।

নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি না করেই ভারী যন্ত্র সরানোর সময় সেটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্পষ্টতই অবহেলা ছিল কর্মীদের। এর আগেও এই প্রকল্পে একই ধরনের দুর্ঘটনার পরও সেখানে এই হেলাফেলা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারার মধ্যে বিআরটির এমডি বলেছেন, তদন্ত কমিটিই ঠিক করবে দায় কার।

সোমবার ঢাকার উত্তরায় প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনার পরই জনক্ষোভের মধ্যে এই ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান যাদের তদন্তের আওতায় আনার কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে আছেন বিআরটির প্রকল্প পরিচালক সফিকুল ইসলামও।

এখন নিরাপত্তায় জোর

বিআরটি এমডি জানান, প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

কেন এই নির্দেশ- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে তিনি প্রকল্পের সেফটি এনশিওর (নিরাপত্তা নিশ্চিত) করে তারপর কাজ করার কথা বলেছেন। আমরাও চাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আমাদের যে যে জায়গায় ইমপ্রুভ (উন্নতি) করতে হবে, সেগুলো ঠিক করতে হবে। কীভাবে নিরাপত্তা এনশিওর করব সেগুলো নিয়ে বৃহস্পতিবার মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করব।’

দায় কার জানেন না এমডি

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া কাজ করা ঠিকাদারি কোম্পানির অবহেলার প্রমাণ। তিনি এও মনে করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চর্চা মেনে কাজ করানো নিশ্চিত করা এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও তদারকি সংস্থার দায়িত্ব। কারণ এই কাজে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের একটি বড় অংশ ধরা থাকে। কিন্তু বাজেটের পর অবহেলাগুলো এই প্রকল্পে স্পষ্ট।

পাঁচ প্রাণ ঝরার পর নিরাপত্তায় জোর বিআরটি এমডির
দুর্ঘটনাস্থলে বিআরটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান হয়েও সফিকুল এই ঘটনায় নিজেদের কোনো দায় নিতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুপারিশ করবে কার দায়। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করে রাজধানীতে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের কাজ কেন চলছিল তার কোনো উত্তর অবশ্য নেই বিআরটি এমডির কাছে।

আবার যে ক্রেনটি দুর্ঘটনা ঘটায়, সেটির এত ওজনের বক্স গার্ডার তোলার সক্ষমতা ছিল কি না, যার সেটি অপারেট করার কথা, তিনিই সেটি চালাচ্ছিলেন নাকি অন্য কেউ চালাচ্ছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাবও মিলছে না। দুর্ঘটনার পর ক্রেনের চালক পালিয়ে যান এবং তাকে এখনও ধরা যায়নি।

দুর্ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার নিউজবাংলার মুখোমুখি হয়ে বিআরটি এমডি বলেন, ‘এটা যে কী কারণে হলো। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তারা প্রতিবেদন দিলেই জানা যাবে৷ একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তবে কমিটি আরও ইনডিটেইল কাজ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

প্রাথমিক তদন্তে দোষী ঠিকাদার

এই দুর্ঘটনার তদন্তে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটি এরই মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সড়ক পরিবহন সচিবের কাছে। এতে দায়ী করা হয়েছে ঠিকাদারি কোম্পানিকে।

বিআরটি প্রকল্প নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশন (সিজিজিসি)।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকালের (সোমবার) ঘটনার মূল দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তারা কাউকে না জানিয়ে কাজ করছিল অথচ গতকাল কাজ বন্ধ থাকার কথা।

‘তাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যাপার ঘটলে তাদের যে দায়, সেই রকম ব্যবস্থাই তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে। এ নিয়ে বিশদভাবে বসবে মন্ত্রণালয়। আরও কারো কোনো দায় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালি প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন প্রশ্নে সফিকুল বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ঠিকাদার কোম্পানির সঙ্গে যে কন্ট্রাক্ট আছে সেই চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘বিআরটি গলার কাঁটা’

এর মধ্যেই বিআরটি প্রকল্পটিকে ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার তেজগাঁও সড়ক ভবনে গেল বছরের ২২ আগস্ট সাসেক রোড কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-২-এর চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেছিলেন।

সেদিন তিনি বলেন, ‘গাজীপুর বিআরটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে আর প্রকল্প বাড়াবেন না। যতটুকু আছে, এটাই আগে শেষ করুন।’

২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের চেরাগআলী এলাকায় চলমান ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে এখনও আশাবাদী বিআরটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এ সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব আশা করি।’

কত ভাগ কাজ শেষ হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ১৮ শতাংশ কাজ বাকি।’

আরও পড়ুন:
বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের
গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মৃত্যু, রিট করতে বলল হাইকোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister also wants the director of the BRT project under investigation

বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী

বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থলে বিআরটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক থেকে ঠিকাদার- সংশ্লিষ্ট সবাইকেই তদন্তের মধ্যে আনতে হবে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পে ফ্লাইওভারের বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় মর্মাহত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট যার যার গাফিলতি আছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান।

সোমবার এই দুর্ঘটনার পর পরই প্রকাশ পায়, নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া ভারী বস্তুটি সরানো হচ্ছিল। এই ঘটনায় জনক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, একনেকের সভায় প্রসঙ্গটি তোলেন সরকার প্রধান। সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেন তিনি।

সভা পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘উত্তরার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত। তিনি বলেছেন, এটা কেন হলো? এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কী, সেটিও জানান মান্নান। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প পরিচালক থেকে ঠিকাদার- সংশ্লিষ্ট সবাইকেই তদন্তের মধ্যে আনতে হবে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী
বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় মর্মাহত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট যার যার গাফিলতি আছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান। ফাইল ছবি

বিআরটি প্রকল্পটি চীনের জিয়াংশু প্রভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড ও গেজুবা গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড বাস্তবায়ন করছে। তাদের কোনো বক্তব্য আপাতত পাওয়ার সুযোগ নেই।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গেলেও তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। বিআরটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে নিউজবাংলার পক্ষ থেকে বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পরিবহন সচিব বিআরটির চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দায় কি আমার? আমি কি মালিক? আমি কি বিআরটি প্রকল্প পরিচালক? আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন।’

উত্তরায় নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের এই বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের পাঁচ আরোহী মারা গেছেন। দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে। জসীম উদ্দীন মোড়ে প্যারাডাইজ টাওয়ারের সামনের সড়কে সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এরই মধ্যে এই ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি। এক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন সচিবের কাছে। এতে দায়ী করা হয়েছে ঠিকাদারি কোম্পানিকে।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে

সিসিটিভি ক্যামেরায় দুর্ঘটনার যে ভিডিও পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেই ক্রেনে করে বক্স গার্ডারটি একটি গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে কোনো ভাবান্তরই ছিল না।

হঠাৎ করেই গার্ডারটি পিছলে পড়ে যায়। যে গাড়িতে সেটা তোলার কথা ছিল, সেটার পাশ দিয়ে যাওয়া প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে সেটি।
সেই গাড়িতে নবদম্পতি ছাড়াও তাদের পাঁচ জন স্বজন ছিলেন। মারা গেছেন সেই স্বজনরা।

বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী
নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া কাজ করতে গিয়ে উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে ৫ জন নিহতের পর নিরাপত্তায় জোর। ছবি: নিউজবাংলা

‘ঠিকাদার, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং তদারকি সংস্থা সবাই দায়ী’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান এই প্রাণহানির জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যখন ভারী উপকরণ বা সরঞ্জাম আপনি বহন করবেন, সেটা ক্রেনের মাধ্যমে হোক আর যেকোনো মাধ্যমে হোক না কেন, ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিসটা হচ্ছে অবশ্যই একটা নিরাপত্তা-বেষ্টনী তৈরি করতে হবে আগে। কারণ, ক্রেন থেকে গার্ডার কিন্তু দুর্ঘটনাক্রমে পড়ে যেতেই পারে, সে কারণেই আপনাকে পূর্ব সতর্কতা নিতে হয়। ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস হচ্ছে আমাকে সেই জায়গাতে আগেই কর্ডন বা নিরাপত্তা-বেষ্টনী তৈরি করতে হবে। ওই বেষ্টনীর মধ্যে যেন পথচারী বা কোনো যানবাহন ঢুকতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্বও কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।’

যে ক্রেন দিয়ে গার্ডারটি তোলা হচ্ছিল, সেটি যিনি চালাচ্ছিলেন, তার দক্ষতা ছিল কি না, ক্রেনটি যার চালানোর কথা তিনিই তা করছিলেন নাকি অন্য কেউ করছিলেন-এসব প্রশ্নেরও জবাব মিলছে না।

অধ্যাপক হাদিউজ্জামান মনে করেন, এই ঘটনায় কেবল কর্মী নয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং তদারকি সংস্থা সবার গাফিলতি ছিল। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্পে কিন্তু এই ম্যানেজমেন্টের জন্য একটা বড় ব্যয় ধরা থাকে। আমার মনে হয়, বিআরটি প্রজেক্টে প্রথম থেকেই কনস্ট্রাকশন প্র্যাকটিসের ন্যূনতম যে গ্রামারটা আছে, সেটা তারা ফলো করছে না।

‘কিন্তু তারা ঠিকমতো প্র্যাকটিস করছে কি না, এটার নজরদারি বা তদারকির দায়িত্ব তো বাস্তবায়নকারী সংস্থার। এই ধরনের প্রকল্পের সুপারভিশনের দায়িত্ব আরেক সংস্থার থাকে।

‘তার মানে কাজটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেটার জন্য সুপারভিশন সংস্থা আছে, আমাদের বাস্তবায়নকারী সংস্থা আছে, এটার একটা সমন্বয় দরকার। আমি যেটা মনে করি, এই ধরনের কাজ একটা বড় কাজ।

‘পাশাপাশি এটা অনেক বিজি একটা করিডর। এই করিডরে কাজ করতে গেলে অবশ্যেই যারা বাস্তবায়ন করছে তাদের ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি এবং তদারকি করতে হবে। কোথাও যদি কনস্ট্রাকশন প্র্যাকটিসের ব্যত্যয় হয়, তাকে কিন্তু জবাব দিতে হবে। এই জবাব দিতে হয় না বলেই আমরা দেখছি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে হয় না। তাদের মধ্যে অবহেলার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাস মালিকদের দাপটে অসহায় সরকারি সংস্থা
ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ
বিআরটিএর বিভাগীয় পরিচালক হলেন ‘সেই মাসুদ’
বিআরটি প্রকল্পের পিলারে বাসের ধাক্কা, আহত ৩

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The responsibility of the contracting organization in the investigation of the Ministry

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উত্তরায় প্রাইভেট কারের ওপর ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্ট পড়ে ৫ জন নিহত হয়। ছবি: সংগৃহীত
সড়কসচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকালের (সোমবার) ঘটনার মূল দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তারা কাউকে না জানিয়ে কাজ করছিল অথচ গতকাল কাজ বন্ধ থাকার কথা।’

রাজধানীর উত্তরায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসির গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকালের (সোমবার) ঘটনার মূল দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তারা কাউকে না জানিয়ে কাজ করছিল অথচ গতকাল কাজ বন্ধ থাকার কথা।

‘তাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যাপার ঘটলে তাদের যে দায়, সেই রকম ব্যবস্থাই তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে। এ নিয়ে বিশদভাবে বসবে মন্ত্রণালয়। এবং আরও কারো কোনো দায় আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মঙ্গলবার সকালে কমিটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।

সোমবার বিকেলের ওই ঘটনা তদন্তে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫ সদস্যের কমিটি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

রাতে মন্ত্রণালয়ের সচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আরবান ট্রান্সপোর্ট অনুশাখার অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

‘তদন্ত কমিটি এক দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও ২ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।’

উত্তরার জসীম উদ্দীন মোড়ে প্যারাডাইজ টাওয়ারের সামনের সড়কে সোমবার বিকেলে ফ্লাইওভারের গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে একটি প্রাইভেট কার।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, গার্ডারটি ক্রেন দিয়ে তোলার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেটি তোলার সময় সেখানে কোনো নিরাপত্তা-বেষ্টনী তৈরি করা হয়নি, যে কারণে এই প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটে।

গাড়িতে থাকা সাতজনের মধ্যে মারা গেছে দুই শিশুসহ পাঁচজন।

বিআরটি প্রকল্প নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশন (সিজিজিসি)।

আরও পড়ুন:
বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী
গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Train situation in North Bengal will be normal on Wednesday

‘উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুধবার’

‘উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুধবার’ উত্তরাঞ্চলগামী দুটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করায় কমলাপুর রেলস্টেশনে চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই অঞ্চলের যাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কমলাপুর রেলস্টেশনের পরিবহন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, ‘এগুলোকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না। কয়েকটি ট্রেন ২-৩ ঘণ্টা দেরি করেছে দুর্ঘটনার কারণে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের চারটি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় দেশের উত্তরবঙ্গমুখী কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে।

আগামীকাল বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

রোববার রাতে গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় ঢাকা ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযান এক্সপ্রেসের চারটি যাত্রীবাহী বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আহত হয় ৭ যাত্রী।

দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১১ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সরিয়ে নেয়া হলে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের পরিবহন কর্মকর্তা আমিনুল হক।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ‘গত পরশুদিন দুর্ঘটনার পর কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে গেছে। যে ট্রেনগুলো দেরিতে ছেড়ে গেছে সেগুলো রেলওয়ে পশ্চিম বিভাগের অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ ও খুলনাগামী ট্রেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এগুলোকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না। কয়েকটি ট্রেন ২-৩ ঘণ্টা দেরি করেছে দুর্ঘটনার কারণে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত পরশুদিন দুর্ঘটনা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক দেরি হয়েছে। প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা লেগেছে। সে সময় প্রায় ১২ ঘণ্টার মতো উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে‌‌। সেই পরিস্থিতি এখনও ফেস করতে হচ্ছে।’

তিনি জানান, উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে গেছে। যার মধ্যে রয়েছে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন। যার প্রতিটি ট্রেন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকালের মধ্যে ট্রেনের এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে রেলে বন্ধ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
মীরসরাই দুর্ঘটনা: চমেকে আরও একজনের মৃত্যু
ট্রেন তো সোজা চলে, দুর্ঘটনার দায় রেলের কেন: রেলমন্ত্রী
মীরসরাইয়ের ঘটনায় গেটম্যান বরখাস্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The police stopped the march to reduce the price of oil in Shahbagh

তেলের দাম কমানোর মিছিল শাহবাগে আটকাল পুলিশ

তেলের দাম কমানোর মিছিল শাহবাগে আটকাল পুলিশ পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভ মিছিলটি বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগ পৌঁছালে পুলিশের ব্যারিকেডে পড়ে। পৌনে ১টার দিকেও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলছিল বাম জোটের নেতা-কর্মীদের।

জ্বালানি তেল ও ইউরিয়া সারের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম জোটের একটি মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হন নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগ পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের চলতে থাকে ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে শাহবাগ পার হতে না পেরে বাম জোটের নেতাকর্মীরা শিশু পার্কের গেটের সামনে সমাবেশ শুরু করেন।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হচ্ছে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হচ্ছে। এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে
লোডশেডিং বিদায় সেপ্টেম্বরে: প্রতিমন্ত্রী
‘আমি হয়তো রাস্তায় ভিক্ষা করতে নামব’

মন্তব্য

p
উপরে