× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
IUB honors women safety and cleaners
google_news print-icon

নারী নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মান জানাল আইইউবি

নারী-নিরাপত্তা-ও-পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের-সম্মান-জানাল-আইইউবি
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মঙ্গলবার আইইউবির নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্কুল অফ লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের আয়োজনে নারী দিবসটি উদযাপিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আইইউবির উপাচার্য তানভীর হাসান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড নারীরা। তৈরি পোশাকশিল্পের ৮০ ভাগ কর্মী নারী। দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের অবদানকে তাই অস্বীকার করার উপায় নেই।’

‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য জেন্ডার সমতা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মান জানিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্কুল অফ লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ৬৬ জন নারী নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঘিরেই ছিল মূল আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে তাদের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানায় আইইউবি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য তানভীর হাসান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড নারীরা। তৈরি পোশাকশিল্পের ৮০ ভাগ কর্মী নারী। দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের অবদানকে তাই অস্বীকার করার উপায় নেই।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের চেয়ার (ইএসটিসিডিটি) নিলুফার জাফরুল্লাহ, আয়োজক স্কুলের ডিন অধ্যাপক তৈয়েবুর রহমান, ডিপার্টমেন্ট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের বিভাগীয় প্রধান ড. কাজী মাহমুদুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় আইইউবি থিয়েটার ক্লাব, আইইউবি মিউজিক ক্লাব এবং আইইউবি ড্যান্স ক্লাব।

আরও পড়ুন:
নারী দিবসে বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প
মেয়েদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে সংবর্ধনা পেলেন গ্রামপুলিশ মা
সিইউবি’তে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন
বৈষম্যমূলক বিষয় পাঠ্যপুস্তকে না রাখার আহ্বান
২০৪১ সালের মধ্যে দেশে কর্মক্ষেত্রে ৫০% নারী: দীপু মনি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Job Professor Zakir Hossain is a member of UGC

ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন

ইউজিসির সদস্য হলেন জবি অধ্যাপক জাকির হোসেন জবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বর্তমানে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ এর যুগ্মসচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১০/৭৩)-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ৪ (১) (বি) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকাকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে চার শর্তে তাকে নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শর্তগুলো উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।

অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন বর্তমানে জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এর আগে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহেরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই গত মার্চে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এরপর থেকেই ইউজিসির এই পদটি ফাঁকা হয়।

আরও পড়ুন:
জবি কর্মচারীদের ৩ মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসের আবাসস্থল ছাড়ার নির্দেশ
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিল চান জবি শিক্ষকরাও
মধ্যরাতে জবির মসজিদে নারী, ইমামকে অব্যাহতি
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Investigation committee to find out the cause of Bobby student Shifas suicide

ববি শিক্ষার্থী শিফার ‘আত্মহননের’ কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি

ববি শিক্ষার্থী শিফার ‘আত্মহননের’ কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি প্রতীকী ছবি
ড. হেনা রাণি বিশ্বাস বলেন, শিফার আত্মহননের কারণ উদঘাটনের জন্যই আমি নিজে আহ্বায়ক হয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শিফা নূর ইবাদির ‘আত্মহননের’ কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।

হলটির প্রভোস্ট ড. হেনা রাণি বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন প্রভোস্ট নিজেই। বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির অন্য দুজন হলেন হলটির আবাসিক শিক্ষক সুমনা রাণী সাহা ও হোসনেয়ারা ডালিয়া।

ড. হেনা রাণি বিশ্বাস বলেন, শিফার আত্মহননের কারণ উদঘাটনের জন্যই আমি নিজে আহ্বায়ক হয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

তিনি বলেন, আমার এই শিক্ষার্থী শিফা কেন আত্মহননের পথ বেছে নিলো সেটিই আমরা বের করে আনার চেষ্টা করব। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জেনেছি, দর্শন বিভাগের আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের একটি ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সাম্প্রতিক তাদের প্রেমে জটিলতা চলছিল। তদন্তে আমরা সব বিষয় নিয়েই খতিয়ে দেখব।

গত ১০ জুন শিফা নূর ইবাদির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের রিডিংরুমের করিডোর থেকে। শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ড. হেনা রাণি বিশ্বাস বলেন, আমরা ২৫ তারিখে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Some groups in the hills are trying to create confusion Chabi Upacharya

পার্বত্য অঞ্চলে কিছু গোষ্ঠী বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে: চবি উপাচার্য

পার্বত্য অঞ্চলে কিছু গোষ্ঠী বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে: চবি উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে।’

‘পার্বত্য অঞ্চলে কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো আমাদের সংবিধানে বিস্তারিত বলা আছে। বঙ্গবন্ধু এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতেন বলেই সংবিধানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার সমানভাবে যুক্ত করেছেন।’

চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশের (সিসিআরএসবিডি) আয়োজনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত ‘সশস্ত্র সংঘাত ও তথ্য বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

মঙ্গলবার বেলা ২টায় চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, বিশেষ অতিথি চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে। এছাড়া বক্তব্য দেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ, সিসিআরএসবিডির পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। অস্ত্রের মুখে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। পাহাড়ে যেভাবে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ চলছে, তা কারও অজানা নয়। আমাদের সচেতনভাবে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘স্বাধীনতার দীর্ঘ দুই যুগ পরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল, তা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। কারণ তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এ চুক্তি হয়েছিল। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে স্কুল, কলেজ, মেডিক্যাল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ও করা হয়েছে; কিন্তু কিছুদিন আগ থেকে কুকি-চিন নামে একটি সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত সৃষ্টি করছে। অথচ পৃথিবীর কোথাও ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীকে এত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। তাই এ সংঘাতের মাধ্যমে তারা শান্তিচুক্তির যে উদ্দেশ্য, সেটাকে ব্যাহত করছে।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রক্রিয়া মূলত কাউকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবাইকে নিয়েই বাস্তবায়ন করতে হয়। পার্বত্য অঞ্চলের এ বহুমুখী সংঘাত যদি বন্ধ না হয়, তাহলে তাদের যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে, সেগুলো আরও সংকীর্ণ হয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় যা যা করার, আমরা সবই করব। যুবসমাজের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা কোনোভাবে বিভ্রান্ত হবেন না।’

সিসিআরএসবিডির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বন্দ্ব থেকে সংঘাত, সেখান থেকে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নিয়েছে কুকি-চিনের এ বিদ্রোহ। ২০২১ সালের পরেই দেখা যাচ্ছে জো-জাতীয়তাবাদ। এটি খুব উগ্র একটি জাতীয়বাদ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে এ পার্বত্য অঞ্চল ক্রমান্বয়ে অশান্ত হয়ে উঠছে।

‘মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাসই আমরা স্পষ্ট করতে পারিনি। তাই আমাদের যুবসমাজ বিভ্রান্ত। এগুলো আমাদের জানতে হবে, জানাতে হবে।’

সিসিআরএসবিডির পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু বলেন, ‘দুঃখের বিষয় এ অঞ্চলে সংঘাতের কারণে আমাদের মানুষের মাঝে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমাদের সংঘাতের কারণগুলো উদঘাটন করতে হবে। তথ্য বিভ্রান্তি আমাদের এ সংঘাতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

‘মারমা সম্প্রদায় শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতি ঐতিহ্যগতভাবে একমত। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমরা শিখতে পারি শান্তি স্থাপনে যুবসমাজ অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আপনাদের সচেতনতা এবং সহযোগিতাই কাম্য।’

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু খুব দ্রুত পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন। ইতোমধ্যে নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো সংগ্রহের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো মূলত তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্যই।

‘যুবসমাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, আমাদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু ভালো করে জানতে হবে প্রকৃত ঘটনা কী? প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে, আলোচনায় বসতে হবে, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের চেয়ে জলভাগে সম্পদ বেশি থাকে। আমাদের সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, সেটা আহরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও ব্লু ইকোনোমির দিকে নজর দিচ্ছেন। খুব দ্রুতই কক্সবাজার আন্তর্জাতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠবে। মূলত সব সংঘাতের পেছনে এগুলোই কারণ। সাম্রাজ্যবাদ বিভিন্নভাবে আপনার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাইবে, সেগুলো আমাদের বুঝতে হবে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। মনে রাখবেন আমাদের দেশে দুর্নীতিও হয়, উন্নতিও হয়। এটাকে অনেক অর্থনীতিবিদ মিস্ট্রিয়াস (রহস্যজনক) ইকোনমিও (অর্থনীতি) বলছে।’

সভাপতির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে যে শান্তিচুক্তি, সেখানের ৭৫টি দাবির মধ্যে ৫০টির বেশি ইতোমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। অথচ আমরা দেখছি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সংঘাত সৃষ্টি করছে। যার ফলে শান্তিচুক্তি ভঙ্গ হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। সেটা একবার পার্বত্য অঞ্চল ঘুরে এলেই উপলব্ধি করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘অনেকের লোলুপ দৃষ্টি আছে আমাদের এসব ভূখণ্ডের প্রতি। আমাদের সেনাবাহিনী দিনরাত কাজ করছে শান্তি স্থাপনের জন্য। তাই আমাদেরও কথা বলতে হবে এসব নিয়ে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Theft is not only about money Jabi Upacharya

চুরি শুধু অর্থ দিয়েই হয় না: জবি উপাচার্য

চুরি শুধু অর্থ দিয়েই হয় না: জবি উপাচার্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। ছবি: নিউজবাংলা
উপস্থিত সবার উপাচার্য তিনি বলেন, ‘চুরি শুধু অর্থ দিয়েই হয় না, বুদ্ধিভিত্তিক চুরিও হয়ে থাকে। আমরা বেশি মেধাসম্পন্ন হলে আমাদের মধ্যে নৈতিকতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।’

চুরি শুধু অর্থ দিয়েই হয় না, বুদ্ধিভিত্তিক চুরিও হয়ে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। এ কারণে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সবাইকে সংশোধিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনফারেন্স কক্ষে সোমবার সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (সিটিজেন চার্টার) ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাবিষয়ক কর্মশালা আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও এপিএ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এপিএর বিভিন্ন উপাদান বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজিত হলেও আমাদের মানোন্নয়ন আশানুরূপ হচ্ছে না। এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে ফলোআপ রিপোর্ট তৈরি করা প্রয়োজন।’

উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চুরি শুধু অর্থ দিয়েই হয় না, বুদ্ধিভিত্তিক চুরিও হয়ে থাকে। আমরা বেশি মেধাসম্পন্ন হলে আমাদের মধ্যে নৈতিকতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।’

এ কর্মশালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও এপিএ কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিল চান জবি শিক্ষকরাও
মধ্যরাতে জবির মসজিদে নারী, ইমামকে অব্যাহতি
ক্যানসারের কাছে হার মানলেন জবি অধ্যাপক
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবিতে মানববন্ধন
একাডেমিক পরীক্ষায় তৃতীয় জবির সেই অবন্তিকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Human chain in Jabi to protest against the restoration of quota system

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাবির শহীদ মিনার-সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং উভয়ের চাওয়াই এক। আজকের আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও এই কোটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। দেশের যেকোনো অন্যায় রায়কে এদেশের শিক্ষাথীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেমনি কোটা নিয়ে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনরায় বহাল করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সাধারণ সভা করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার-সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তরা কোটা পুনর্বহালে আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কোটা প্রদান করা হয় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে তোলার জন্য, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ইতোমধ্যে অনেকেই সরকারি চাকরিতে রয়েছেন। এই কোটা পদ্ধতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে এবং অযোগ্যদের হাতে প্রতিনিয়ত দেশকে তুলে দিচ্ছে। এই রায়ের মাধ্যমে তারা নতুনভাবে পাকিস্তান আমলের বৈষম্যপ্রথা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে। আবারও মুক্তিযোদ্ধা কোটা নামে নতুন বৈষম্যের সূচনা করেছে। সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা রাখা রীতিমতো মেধাশূন্য দেশ গড়ার পায়তারা ছাড়া কিছুই নয়।

কোটা পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। অথচ আজকে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাইকোর্ট কোটার পক্ষে রায় দিয়েছে।

‘মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, এই কোটার রায়কে সবাই প্রত্যাখান করেছে। ২০১৮ সালের আন্দোলনে যে কোটা বাতিল করা হয়েছে, আদালতের এই রায়কেও আন্দোলনের মাধ্যমে একইভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। যে রায়কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেটা কখনও বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা মেহের আফরোজ শাওলী বলেন, ‘কোটা সমতা সৃষ্টির জন্য, কিন্তু সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা মেধাবীদের অবমূল্যায়ন। এ কোটাব্যবস্থা রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে সমতার পরিবর্তে অসমতার সৃষ্টি করবে। তাই অবিলম্বে এই রায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে কোটা বিলুপ্ত করতে হবে।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং উভয়ের চাওয়াই এক। আজকের আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও এই কোটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। দেশের যেকোনো অন্যায় রায়কে এদেশের শিক্ষাথীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেমনি কোটা নিয়ে অন্যায় রায়ের প্রতিবাদে আমরা শিক্ষার্থীরা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রসঙ্গত, বুধবার (৫ জুন) সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের করা এক রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
কোটা বহালে আদালতের রায়, ঢাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
80 percent of university students suffer from depression survey

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশই হতাশায় ভুগছেন: জরিপ জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশেরই আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় এসেছে। প্রতীকী ছবি/সংগৃহীত
আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই হতাশার মধ্যে দিয়ে কাটান বলে আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে উঠে এসেছে। হতাশার বিভিন্ন উপসর্গ, যেমন: ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া, কোনো কিছু উপভোগ না করা, ঘুমের ধরনের পরিবর্তন, আত্মহত্যার চিন্তা, কাজে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ’ শীর্ষক সমীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত করা এ জরিপে সারা দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাদের হতাশার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন যে তাদের এই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি।

হতাশার উপসর্গ তুলনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের তুলনায় বেশি সময় হতাশার উপসর্গ নিজের মাঝে অনুভব করেছেন। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বিষণ্ণতার উপসর্গগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বাকি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের মাঝে হতাশার উপসর্গ দেখা যায়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা হতাশার উপসর্গগুলো অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এই ধরনের উপসর্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা

এদিকে, ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের হতাশার বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে জরিপে। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। বিভিন্ন কারণে নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার কারণে হতাশায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া মোট শিক্ষার্থীর ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিয়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, হল বা আবাসিক পরিবেশ নিয়ে ৯ শতাংশ, সহপাঠী বা শিক্ষকের দ্বারা বুলিংয়ের কারণে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং উপর্যুক্ত সবগুলো কারণের জন্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা অন্যান্য কারণে হতাশায় ভুগছেন।

এদের মধ্যে সহপাঠী, সিনিয়র কিংবা শিক্ষকের দ্বারা ক্যাম্পাসে শারীরিক বা মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন ৩১ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী; যার মাঝে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হননি ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিভিন্ন ধরনের হয়রানিতে আক্রান্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহপাঠী বা সিনিয়র দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ, শিক্ষক কর্তৃক ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, স্টাফ কর্তৃক ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং অন্যান্যদের দ্বারা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হয়েছন।

হয়রানির ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর, মোটামুটি প্রভাব পড়েছে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর এবং কোনোরূপ প্রভাব পড়েনি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে পুরোপুরি অসন্তুষ্ট ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, মোটামুটি সন্তুষ্ট ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং পুরোপুরি সন্তুষ্ট মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

নিজেকে প্রকাশ

জরিপের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা মন খুলে কথা বলার মত কোনো শিক্ষক পাননি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা খুব সহজে নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ৪১ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভাগের অন্যান্য সদস্যদের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

হলের পরিবেশ

হলের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা পুরোপুরি অসন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কথা বলেছেন মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকিরা জানিয়েছেন তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট।

অসন্তুষ্টির কারণ হিসেবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকার পরিবেশকে দায়ী করেছেন। অনুন্নত খাবারকে দায়ী করেছেন ৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগার সংকট মনে করছেন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং সবগুলো কারণকেই দায়ী করছেন ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়াও ১০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্যান্য কারণকে অসন্তুষ্টির জন্য দায়ী করছেন। ৭০ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, হলের পরিবেশ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যারিয়ার ভাবনা

জরিপের তথ্যানুসারে, ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরি করতে চান, ৯ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি চাকরি করতে চান।

বাকি শিক্ষার্থীরা এখনও কোনোরূপ ক্যারিয়ার ভাবনা ঠিক করেননি, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২২ শতাংশ।

আত্মহত্যার প্রবণতা

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তায় এসেছে, কিন্তু আত্মহত্যার চেষ্টা করেননি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ, আত্মহত্যা চিন্তা এসেছে ও উপকরণও জোগাড় করেছেন ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কখনও মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা আসেনি ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা এসেছে। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশায়, ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানের ফলে, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রেমঘটিত বিষয়ে, ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক সমস্যাগ্রস্ত হয়ে, অন্যরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর অন্যান্য বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করার চিন্তা মাথায় এসেছে বলে জানিয়েছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিপক্ষে মত দিয়েছেন। আর ২৬ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা এ সম্পর্কে জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির দূরীকরণে সংগঠনটি বেশকিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।

এগুলো হলো- ক্যাম্পাসে কাউন্সিলিং ইউনিটের ব্যবস্থা করা, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা, ক্যাম্পাসে কেউ যেন বুলিং এর শিকার না হয় তা মনিটরিং করা, নিরাপদ বাসস্থান ও উন্নতমানের খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করা।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্মান ও আস্থার সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করানো; মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা; সেমিনার ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা; মনোবিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের এসব সেশনে বিভিন্ন সমস্যা ও এগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো এবং দেশের সব স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ), এডুকেশনাল কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫১ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ১৬ শতাংশ, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৫৪ জন (১৬ দশমিক ২ শতাংশ), তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৬৯ জন (২৩ দশমিক ৪ শতাংশ), চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪০ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ), মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন ৩৪১ জন (২১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছিলেন ১৫ জন (এক শতাংশ)।

আরও পড়ুন:
কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫৪তম
এশিয়ার সেরা তিনশ’র তালিকায় নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Courts verdict on quota upheld protests in DU

কোটা বহালে আদালতের রায়, ঢাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ

কোটা বহালে আদালতের রায়, ঢাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্রসমাজ গড়বে দেশ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’, ‘কোটা কোটা, বাতিল করো, বাতিল করো’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘কোটা পুনর্বহাল, চলবে না চলবে না’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ প্রভৃতি কোটাবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করার প্রতিবাদে ও কোটা বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ঢাবির পাঠাগার থেকে শুরু হয়ে কলাভবন, ভিসি চত্বর, টিএসসি হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্রসমাজ গড়বে দেশ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’, ‘কোটা কোটা, বাতিল করো, বাতিল করো’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘কোটা পুনর্বহাল, চলবে না চলবে না’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ প্রভৃতি কোটাবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান।

এ ছাড়াও ‘কোটা নয়, মেধা চাই’, ‘কোটা পদ্ধতি নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড তাদের হাতে দেখা যায়।

সমাবেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন শুধুমাত্র আজকেই শেষ নয়। এই রায় বাতিল না করলে আমাদের রাজপথে থাকতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ৫৬ শতাংশ কোটা থাকতে পারে না। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে ৫৬ শতাংশ কোটা বহাল হচ্ছে, কিন্তু আমরা এটা হতে দেব না।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সারজিস আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও এই বৈষম্য আমরা মেনে নিতে পারি না। যাদের শরীরে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত আছে, তারা কখনও এই বৈষম্য মেনে নেবে না। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাইলে সবার জন্য সমতা থাকতে হবে; লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। তবেই আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তৈরি করতে পারব।’

সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘২০১৮ সালে কার্জন হলে যে টিয়ারশেল খেয়েছিলাম তার জ্বলন এখনও শুকায়নি। ওই বছরের ৮ এপ্রিল ক্যাম্পাসে পুলিশ এসে আমাদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, তা আমরা এখনও ভুলিনি।

‘২০১৮ সালের কোটা বাতিল ছিল সারা বাংলার ছাত্র সমাজের গণজোয়ারের ফলাফল। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি ছিল বৈষম্যবিহীন রাষ্ট্র তৈরি করা। আমরা কোটা বাতিল করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের দাবি জানাই।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ ও হলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি
দস্যুতার মামলায় দুই ঢাবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, পরে জামিন
ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করায় নাদির জুনাইদসহ ঢাবির দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

মন্তব্য

p
উপরে