× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Pharmaceutical industry park waiting to go into production
google_news print-icon

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

উৎপাদনে-যাওয়ার-অপেক্ষায়-ওষুধ-শিল্প-পার্ক
সব ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ওষুধ শিল্প পার্কে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ছবি: নিউজবাংলা
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ২১৬ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ওষুধ শিল্প পার্ক। অবকাঠামো নির্মাণ শেষ, তবে ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের কারখানা এখনও গড়ে তোলেনি সেখানে। ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটলে এ শিল্প পার্ক ওষুধ শিল্পকে সুরক্ষা দেবে। 

ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই)’ বা ‘ওষুধ শিল্প পার্ক’ নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়েছিল এক যুগ আগে। এখন সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হতে চলছে।

রাজধানী থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ২১৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই শিল্প পার্কের ‘সরকারি অংশের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ’ শেষ হলেও উৎপাদন শুরু হয়নি এখনও।

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

প্রকল্প এলাকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২১৬ একর জমিতে ৪২টি প্লট ২৭টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিকে ২০১৭ সালে বুঝিয়ে দেয়া হলেও মাত্র দুটি কোম্পানির কারখানা দৃশ্যমান। দুটির আংশিক কাজ হয়েছে। বাকিগুলোর ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরুই হয়নি এখনও।

প্লট বরাদ্দ পাওয়া অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ কারখানা নির্মাণ করে উৎপাদনে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান দাবি করেছেন, ওষুধ শিল্প পার্ক পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে আগামী এক বছরের মধ্যে।

ওষুধ শিল্প পার্ক সরেজমিন পরিদর্শনকালে নিউজবাংলা কথা বলেছে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। তারা বলেছেন, সরকারের যে দায়িত্ব ছিল অবকাঠামোর উন্নয়ন করা, তা শেষ হয়েছে গত বছরের জুনে। এখন নিজস্ব কারখানা স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি অংশের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন উদ্যোক্তাদের অংশের কাজ বাকি। তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন করলে উৎপাদনে যাওয়া সহজ হবে।’

তিনি জানান, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়। এখন করোনার ভয় কেটে গেছে। সব কিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে কাজের গতি এসেছে। অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে দু-তিনটি প্রতিষ্ঠান। শিগগিরই উৎপাদনে যাবে তারা।

সব প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে আরও দুই বছর সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ও হাডসন ফার্সাসিউটিক্যাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শফিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা ঠিক, প্লট বরাদ্দ পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও এপিআইতে যায়নি। তার মানে এই নয় যে তারা এপিআইতে কারখানা করছে না। অগ্রগতির শেষ ধাপে রয়েছি আমরা।’

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

তিনি জানান, ইতোমধ্যে কিছু কিছু শিল্প ইউনিট তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এর মধ্যে বড় চারটি শিল্প ইউনিট তাদের অবকাঠামো নির্মাণ শেষে জুনের মধ্যে ট্রায়ালে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

২০২৩ সালের প্রথম দিকেই এপিআই পার্ক পুরোপুরি উৎপাদনে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

দেশীয় ওষুধ শিল্পের প্রসার, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, ওষুধের মান উন্নয়নে গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেন বাংলাদেশেই উৎপাদন করা যায়, সেই লক্ষ্যে ২০০৮ সালে দেশে একটি আলাদা ওষুধ শিল্প পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে এ-সংক্রান্ত প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়।

শুরুতে ওষুধ শিল্প পার্ক বানাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১৩ কোটি টাকা, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং নানা জটিলতার কারণে এই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ দুটোই বেড়েছে।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিন দফা সংশোধন হয় এ প্রকল্পের। সবশেষ ব্যয় ধরা হয় ৩৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেয়া ৩০১ কোটি টাকা ব্যয় হয় মূল প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে। আর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি নির্মাণেই বরাদ্দ দেয়া হয় ১২০ কোটি টাকা। ওষুধ কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির অর্থে নির্মাণ হয় সিইটিপি।

এপিআই পার্কের অবকাঠামো কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো কেন কারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসছে না, তা জানতে চাইলে একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, ‘এপিআই পার্ক বড় ব্যয়বহুল ইন্ডাস্ট্রি। দেশে এপিআই পার্ক নতুন, তবে বিনিয়োগের ঝুঁকিটাও কম নয়। অনেকে হয়তো সেই ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঝুঁকির কথা চিন্তা না করেই এগিয়ে এসেছি। আশা করছি বাকিরাও শিগগিরই চলে আসবে, তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়েছেন।’

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাটি ভরাট, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, অ্যাপ্রোচ রোড, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সরবরাহ, গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন, ড্রেন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে।

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, ওষুধ শিল্প পার্ক চালু হলে এখান থেকে শতভাগ কাঁচামাল উৎপাদন করা যাবে। ফলে ওষুধ সস্তা হবে। এটি উৎপাদনে গেলে সরাসরি কর্মসংস্থান হবে ২৫ হাজার লোকের।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হেলথকেয়ার এবং একমি ল্যাবরেটরিজের কারখানার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের নিজস্ব অবকাঠামো শেষ হওয়ার পথে।

যন্ত্রপাতিও আমদানির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

হেলথকেয়ার ২০১৯ সাল থেকে এখানে তাদের নিজস্ব অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে তারা ল্যাবরেটরি এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেছে।

গত নভেম্বর থেকে ‘পরীক্ষামূলক উৎপাদন’ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মকর্তারা জানান, নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে তারা ওষুধের তিনটি কাঁচামাল উৎপাদনের পরীক্ষা চালিয়ে সফল হয়েছেন।

হেলথকেয়ার কেমিক্যালস লিমিটেডের এপিআই প্রকল্পের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিবুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, দুই মাসের মধ্যে তারা পাইলট উৎপাদনে যাবেন। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবেন এ বছরের ডিসেম্বরে।

এখানে ৪০টি ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন করবে হেলথকেয়ার। সেগুলো নিজেরাই পেটেন্ট করে নেবে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘বাণিজ্যসংক্রান্ত মেধাস্বত্ব’ (ট্রিপস) আইনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ওষুধের পেটেন্ট ছাড় পেয়ে আসছিল ৯৫ ভাগ ওষুধের ক্ষেত্রে। এ কারণে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সস্তায় ওষুধ উৎপাদন করতে পারছে।

২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটলে এই সুবিধা আর থাকবে না। তখন ওষুধ উৎপাদনে বিদেশি পেটেন্ট ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে রয়ালটি বা ফি দিতে হবে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়তে পারে ওষুধের দামের ওপর।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নিজেদের কাঁচামাল তৈরি করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন দ্রুত ওষুধ শিল্প পার্ক চালু করা।

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর।

পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশ যদি কাঁচামালও উৎপাদন করতে পারে, তবে বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি আয় করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন ড. আ ব ম ফারুক বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর আমাদের কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সমস্যা হতে পারে ২০৩৩ সালের পর। তার আগেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

হেলথকেয়ারের এপিআই প্রকল্পের সহকারী ব্যবস্থাপক হাসিবুর রহমান বলেন, ‘এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। কারণ তার আগেই ওষুধ শিল্প পার্ক উৎপাদনে যাবে।’

একই মন্তব্য করে ওষুধ শিল্প পার্কের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ শহীদুল ইসলাম বলেন, এলডিসি উত্তরণের আগেই এপিআই উৎপাদনে যাবে।

উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক

কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কাজ প্রায় শেষ

পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে প্রকল্প এলকায় দুই ইউনিটের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইপিটি) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ১২০ কোটি টাকা। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রেমকি এনভায়রো সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এটি নির্মাণ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শচিন ওটারকার জানান, প্রথম ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ। আট মাস পর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হবে। দুই ইউনিটের কাজ শেষ হলে সিইপিটি থেকে বর্জ্য শোধন করা যাবে দৈনিক ২০ লাখ লিটার।

এপিআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সার্ভিসেস লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, এই সিইপিটির মাধ্যমে ‘শূন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ নিশ্চিত করা হবে। পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
License of Ad Deen Hospital revoked in connection with the death of six newborns

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ফাইল ছবি

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
State of the art robotic fusion biopsy launched at Squire Hospital

স্কয়ার হসপিটালে অত্যাধুনিক রোবোটিক ফিউশন বায়োপসি শুরু

স্কয়ার হসপিটালে অত্যাধুনিক রোবোটিক ফিউশন বায়োপসি শুরু

বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল স্কয়ার হসপিটাল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি’। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্কয়ার হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।

এই বিশেষ পরীক্ষায় বিশ্বখ্যাত 'মোনা লিসা' (Mona Lisa) রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক ব্যবস্থা যা সার্জনকে প্রোস্টেটের নমুনা সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত সহায়তা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর আগের করা এমআরআই এবং পরীক্ষার সময়কার তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবিকে একত্রে সমন্বয় বা ফিউশন করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রি-ডি ম্যাপ তৈরি করে। এই ম্যাপটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকরা প্রোস্টেটের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রোবোটিক গাইডেন্সের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেন।

প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ছোট টিউমারগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বায়োপসি সুই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নতুন এই রোবোটিক সিস্টেমে ঠিক যে জায়গায় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বা একুরেসি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং রোগীকে বারবার কষ্টদায়ক বায়োপসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।

এই সাফল্য সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া জানান যে, প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। দেশের ভেতরেই এখন এমন উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের এই জটিল পরীক্ষার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হসপিটালের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইউরোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বমানের সেবা প্রদানে পুরোপুরি সক্ষম।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indefinite strike of Ramek intern doctors on six point demand

ছয় দফা দাবিতে রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

ছয় দফা দাবিতে রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
All upazila health complexes of the country are being increased to 101 beds

১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।

অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 children died in Ad Deen hospital due to lack of oxygen supply Health Minister

অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The report of the investigation committee on the death of 6 newborns in Ad Deen has been submitted

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।

এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 more children died of measles in 24 hours in the country

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।

সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।

চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য

p
উপরে