× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The book market is growing and the book market is growing
google_news print-icon

বই পাঠ বাড়ছে, বড় হচ্ছে বইয়ের বাজার

বই-পাঠ-বাড়ছে-বড়-হচ্ছে-বইয়ের-বাজার
বই পড়ার অভ্যাস এখন কিশোর-তরুণদের মধ্যে কম চোখে পড়ে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘এক দশক আগেও দেশে সারা বছর ১০০ কোটি পিস বই ছাপা হতো না। এখন বছরে দেড় শ কোটি থেকে ২০০ কোটি পিসও ছাপা হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি হচ্ছে বিদেশি বইও। সব বই-ই বিক্রি হচ্ছে।’

বড় হচ্ছে দেশে বইয়ের বাজার। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন পাঠক। এ প্রবণতা শুধু পাঠ্যপুস্তকেই সীমাবদ্ধ নেই, স্ফীত হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশও।

সব বই-ই দেশে ছাপা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কিছু বই আমদানি হয় এবং কিছু অংশের কপিরাইট নিয়ে মুদ্রণও হয়। ফলে বই, বইসংশ্লিষ্ট ছাপাখানা এবং প্রকাশকের সংখ্যা বাড়ছে।

দেশে বই পাঠের ওপর কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো জরিপ এখনও হয়নি। অবশ্য নানা তথ্য-উপাত্ত বলছে, বই পড়া বাড়ছে। পাঠক বাড়ছে।

শুধু মুদ্রিত নয়, বই পড়া এখন ঢুকে পড়েছে ভার্চুয়াল জগতেও। এতে বই পড়ার প্ল্যাটফর্মও বদলে গেছে। পাঠকরা এখন ছাপাখানায় মুদ্রিত বই ছাড়াও মোবাইল, ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়েই ঘরে বসে পড়ে নিতে পারছে পছন্দের যেকোনো বই।

নির্দিষ্ট রিডিং অ্যাপে ক্লিক করা মাত্রই পাঠক পেয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বই। ফলে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে এখন প্রবীণরাও ঢুঁ মারছেন অনলাইন মাধ্যমে। এ ছাড়া পছন্দের যেকোনো বই অনলাইনে সহজে অর্ডার করেও বইটি নিজের সংগ্রহে রাখতে পারছে ক্রেতারা।

দেশে বিভিন্ন রকম বইয়ের পাঠক আছে। তবে পাঠ্যবই ও পাঠ্য সহায়ক বইয়ের রয়েছে স্থায়ী ক্রেতা ও পাঠক। চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছেও রয়েছে এ-সংক্রান্ত বইয়ের কদর। এ ছাড়া ধর্মীয় বইয়ের আছে নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট পাঠক।

একইভাবে জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল বইয়েরও তৈরি হচ্ছে স্থায়ী পাঠক।

সৃজনশীল বইয়ের পাঠক প্রবৃদ্ধি

বই পড়ার ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হিসেবে সৃজনশীল পাঠকের সংখ্যা দেশে তেমন সমৃদ্ধ না হলেও এর সংখ্যাটি ক্রমবর্ধমান।

একুশে বইমেলা দেশে সৃজনশীল প্রকাশনা প্রদর্শন ও বিপণনের প্রধান মাধ্যম। এ মেলায় বই বিক্রির পরিমাণ থেকেও দেশে বই পড়ার আগ্রহ ক্রমাগত বৃদ্ধির আভাস পাওয়া যায়।

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত বইমেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। ২০১৫ সালে বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ২২ কোটিতে। ২০১৬ সালে তা আরও বেড়ে ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উঠেছিল।

এভাবে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ভেতর ২০১৭ সালে বই বিক্রি হয় ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার, যা ২০১৮ সালে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে বই বিক্রি আরও বেড়ে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে ৮২ কোটি টাকায় পৌঁছে।

শুধু বিক্রির হিসাবেই নয়, এ সময় বেড়েছে বই প্রকাশের সংখ্যাও। প্রতি বছর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা বেড়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে একুশে মেলায় প্রকাশিত বই ছিল ৪ হাজার ৫৯১টি। ২০১৯ সালে বই প্রকাশের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৬৮৪ এবং ২০২০ সালে ৪ হাজার ৯১৯টি হয়। বাংলা একাডেমির বিবেচনায় এসব বই সংখ্যাগরিষ্ঠ, মানসম্মত ও জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল।

দেশে বই পড়ায় বেসরকারি উদ্যোগ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের তৎপরতা থেকেও সৃজনশীল পাঠক বৃদ্ধির তথ্য মেলে। মাত্র ৩৪ টাকার বই এবং ১৫ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। এখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ৩০ লাখ সদস্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর সদস্যরা জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল বই পড়ার মধ্যে রয়েছে।

পাঠক বৃদ্ধির প্রমাণ মেলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্যেও। একটা সময় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১০-১৫টি। ষাটের দশকে তা বেড়ে ৬০-এ উন্নীত হয়। ৮০-দশকে তা এক শ কোটি অতিক্রম করে। এখন ২০৬টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বই প্রকাশ করছে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির তথ্যও বই পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তারা জানাচ্ছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রকাশক ও বই ব্যবসায়ীর সংখ্যা চার হাজারের বেশি, যা আশির দশকেও ছিল সহস্রাধিক।

প্রকাশনা শিল্পের বাজারও বড় হয়েছে। আশির দশকে এ বাজার ছিল মাত্র কয়েক শ কোটি টাকার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকায়। এ ছাড়া কয়েক বছর আগের শতকোটি টাকার সৃজনশীল বইয়ের বাজার এখন ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকায় ওঠানামা করছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাহিত্য বিতান প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শামসুল ইসলাম বাহার বলেন, ‘দেশে বই পড়ায় আগ্রহ মানুষের বাড়ছে। বাড়ছে সৃজনশীল বইয়ের পাঠকও। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ যখন আর্থিক সংকটে আছে, তখনও মানুষ বই কিনছে। এর মানে মানুষ বই পড়ার মধ্যেই আছে। এ প্রবণতা ক্রমে বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘এক দশক আগেও দেশে ১০০ কোটি পিস বই ছাপা হতো না। এখন তার ব্যাপ্তি বেড়ে বছরে দেড় শ কোটি থেকে ২০০ কোটি পিসও ছাপা হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি হচ্ছে বিদেশি বইও। সব বই-ই তো বিক্রি হচ্ছে।’

বাড়ছে ডিজিটাল বইয়ের পাঠক

বাজারে অনেক সময় পছন্দের বইটি ধারে-কাছে খুঁজে পাওয়া যায় না। সেটি পেতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু অনলাইনে কষ্ট করতে হয় না।

ইতোমধ্যে দেশে বেশ কিছু বই বিক্রির অনলাইন প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। পাবলিশার ই-প্ল্যাটফর্মের তথ্য মতে, অনলাইনে ১৬৫টি অ্যাক্টিভ ই-পাবলিশার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে ২ হাজারের বেশি বাঙালি লেখক রয়েছেন। এসব পাবলিশারের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত আছে ২৫ হাজারের বেশি বই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পাঠকের পাঠাভ্যাস বদলে যাওয়ায় এখন অনলাইনে বই বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোও ভালো ব্যবসা করছে। এদের মধ্যে রকমারি ডটকম, অথবা ডটকম, পড়ুয়া, সর্বনাম, বইমেলা, ইবইঘরডটকম, নীলক্ষেতডটকম উল্লেখযোগ্য।

অনলাইনে বই বিক্রির শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডটকমের বিক্রির তুলনা করলেই এ ধারণা পাওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ১০০ বই দিয়ে তারা অনলাইনে বই বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছিল। এখন বইয়ের সংখ্যা আড়াই লক্ষাধিক। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ১০ লক্ষাধিক বই পাঠকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে।

এ ছাড়া বই পড়ার বিভিন্ন রিডিং অ্যাপেও পছন্দের বইয়ের খোঁজে সার্চ ও ডাউনলোড বাড়ছে। গুগুল প্লে স্টোরে প্রতিদিন এসব রিডিং অ্যাপের ডাউনলোড হচ্ছে হাজার হাজার।

বাংলাভাষীদের মধ্যে তেমনই একটি জনপ্রিয় ভারতীয় রিডিং অ্যাপ হলো ‘প্রতিলিপি’, যেখানে বাংলাদেশি পাঠকদের রয়েছে উল্লেখযোগ্য আনাগোনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুগল প্লে-স্টোর থেকে এই অ্যাপটি এখন পর্যন্ত সোয়া এক কোটি বার ডাউনলোড হয়েছে।

বই আমদানিও বাড়ছে

প্রতি বছর বিদেশি বই আমদানির পরিমাণও বাড়ছে। এসব বইয়ের সবই জ্ঞানভিত্তিক ও সৃজনশীল ধরনের, যেখানে রয়েছে বিদেশি মেডিক্যাল বুক, জনপ্রিয় ফিকশন বই ও ম্যাগাজিন।

বিদেশি বই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য মতে, গত ৫ বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বই আমদানি হয়েছে। প্রতি বছর ২০০ থেকে আড়াই শ কোটি টাকার বই আমদানি হচ্ছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকে বই আমদানি হলেও বেশির ভাগ বই-ই আসছে ভারত থেকে।

গত ২০১১-১২ অর্থবছরে শুধু ভারত থেকেই এসব বই আমদানি হয় ৫৮ কোটি ১৮ লাখ টাকার, যা ২০১৯ সালে ১৬০ কোটিতে উন্নীত হয়।

লেখক-প্রকাশকরাও বলছেন প্রবৃদ্ধির কথা

আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গবেষণাধর্মী এবং মেধা-মননের চর্চা হয়– এ ধরনের সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশনা ও বিক্রির পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ছে। পাঠক সেটা কিনছে বলেই এসব সৃজনশীল বই ছাপা হচ্ছে। ফলে বই ছাপানোর পরিমাণও আগের থেকে বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আগামী প্রকাশনীই এখন পর্যন্ত ৩ হাজার জ্ঞানভিত্তিক মেধা-মনন চর্চার বই প্রকাশ করেছে। গত বছর আমরা একাই এ ধরনের ৭ কোটি টাকার বই বিক্রি করেছি। আগের বছরগুলোয় বিক্রির পরিমাণ এত বেশি ছিল না। এর মানে হচ্ছে মানুষ বই পড়ছে। পড়ায় আগ্রহ বাড়ছে। ফলে প্রতি বছর বই প্রকাশের সংখ্যাও বাড়ছে।’

বই পড়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে বাতিঘর প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান জানান, বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে সেটি এখনও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে না গেলেও বাড়ার হারটি দৃশ্যমান। মানুষ বই থেকে দূরে ছিল। এখন তারা আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। এটা আর কমার সম্ভাবনা নেই। বরং দিনদিন বাড়বে।

গবেষণাধর্মী লেখক সৈয়দ জাহিদ হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনি দেখবেন একুশে বই মেলায় ভিড়। অন্যান্য বইমেলায় ভিড় হয়। সারা বছর বইয়ের প্রসিদ্ধ স্থানগুলোতেও ভিড়। এগুলো বই পড়ায় মানুষের আগ্রহের বার্তাই দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পড়ার ফরম্যাটটি অনেকের কাছে বদলে গেছে। মানুষ অনলাইনেও বই পড়ছে এবং কিনছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি প্রান্তিক পর্যায়ে মেলা পৌঁছাতে পারতাম, যদি আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠাগার তৈরি করতে পারতাম, তাহলে পাঠকের সংখ্যা আরও বাড়ত। এর জন্য আমাদের লেখক, সরকার, প্রকাশক যে যেখানে আছে, যার যার জায়গা থেকে তা উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের আরেকটু সচেতন করতে হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশ
Providing free treatment at medical camps in more than 700 Walton Plazas across the country
গ্রাহকদের সার্বক্ষণিক ফ্রি চিকিৎসাসেবায় বিশেষ হটলাইন চালু

দেশজুড়ে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় মেডিক্যাল ক্যাম্পে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান

দেশজুড়ে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় মেডিক্যাল ক্যাম্পে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান

দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা সারাদেশে দিনব্যাপী মেডিক্যাল ক্যাম্পের আওতায় জনসাধারণকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) দেশজুড়ে একযোগে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় দিনব্যাপী এই চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহকগণ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ ফ্রি মেডিক্যাল সেবা গ্রহণ করেন।

রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড ওয়ালটন প্লাজায় ফিতা কেটে মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম। সে সময় তিনি ওয়ালটন প্লাজার হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রজেক্টের আওতায় গ্রাহকদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে একটি বিশেষ হটলাইন নাম্বার (০৯৬০৬-৯৯০০২৯) উদ্বোধন করেন। সদ্য চালু হওয়া এই হটলাইন নাম্বারে কল করে ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহকগণ।

ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আওতায় রোগিদের ব্যবস্থাপত্র এবং ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছিলো রক্তদান কর্মসূচী। ওয়ালটন প্লাজা থেকে সংগৃহীত রক্ত ব্যবহার করা হবে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের সেবায়।

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন প্লাজা ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজাগুলোতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে দিনব্যাপী ক্রেতাসাধারণসহ সকলকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ। ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা পলিসি’সহ গ্রাহকবান্ধব বিভিন্ন প্রোগ্রামের আওতায় ওয়ালটন প্লাজার মাধ্যমে সারা বছরই ক্রেতাসাধারণের জন্য নানাবিধ বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এটা ক্রেতাদের জন্য আমাদের দায়িত্বশীলতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সারা দেশে একযোগে চলমান দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। আমাদের প্রত্যাশা, ওয়ালটনের এসব প্রোগ্রাম অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য ব্র্যান্ড ও কোম্পানিও সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে উৎসাহিত হবে।

ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ওয়ালটন হাই-টেকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আঞ্জুম, ওয়ালটন প্লাজার হেড অব এইচআর মো. ফয়সাল ওয়াহিদ, ওয়ালটন প্লাজার চিফ সেলস এক্সিকিউটিভ এম এম নাজমুল হাসানসহ চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীগণ। অনলাইনে যুক্ত হন সারাদেশের সকল ওয়ালটন প্লাজার প্রতিনিধিবৃন্দ।

ওয়ালটন প্লাজার এমডি মোহাম্মদ রায়হান বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করে ওয়ালটন প্লাজা শুধু পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা করে না, গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এভাবেই জনমানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ওয়ালটন প্লাজা।

তিনি জানান, শুধু বাংলাদেশেই নয়; বিশ্বে একমাত্র ওয়ালটন প্লাজাই ক্রেতাদের জন্য ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ পরিচালনা করছে। ব্যতিক্রমী ও মহৎ এই নীতির আওতায় দেশের যে কোনো ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারীদের দেয়া হচ্ছে সুরক্ষা কার্ড। কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় সুরক্ষা কার্ডধারীর মৃত্যু হলে পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ এবং তার পরিবারের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ওয়ালটন প্লাজা। প্রদত্ত আর্থিক সহয়তার মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনাদায়ী কিস্তির টাকা সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট নগদ টাকা সুরক্ষা কার্ডধারী বা তার পরিবারকে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মৃত্যুবরণকারী সুরক্ষা কার্ডধারীর পরিবারের যোগ্য সদস্যদের ওয়ালটনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশব্যাপী ইতোমধ্যে দেড় সহ¯্রাধিক কিস্তি ক্রেতা ও গ্রাহকের পরিবারকে তিন কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বকেয়া কিস্তির টাকা মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়াও আর্থিক সহায়তা গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে আরো বেশ কিছু গ্রাহকের পরিবার।

উল্লেখ্য, ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য কেনা গ্রাহকদের সেবা দিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ওয়ালটন প্লাজা। এর আওতায় স্বনামধন্য হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জীবন বীমা, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা কার্ডধারীদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা ও মূল্যছাড়সহ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়ালটন প্লাজা। প্রতিটি ওয়ালটন প্লাজায় সুরক্ষা কার্ডধারী গ্রাহকদের মেডিক্যাল সেবা প্রদানের জন্য সারাবছরই নিয়োজিত রয়েছেন ওয়ালটনের নিয়োগপ্রাপ্ত ‘হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ অফিসার’। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় সুরক্ষা কার্ডধারী গ্রাহকণের জন্য রয়েছে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
27th Annual General Meeting AGM of Mercantile Bank was held

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আজ ২৪ জুন বুধবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সমাপ্ত বছরের ব্যালেন্স শিট অনুমোদিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ারুল হক ও স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান।
এজিএমে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) এবং মোঃ আব্দুল হান্নান, এমপি; নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম. এ. খান বেলাল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ডঃ মোঃ রেজাউল কবির; পরিচালকবৃন্দ এ. এস. এম. ফিরোজ আলম, এম. আমানউল্লাহ, আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর নাসরিন সুলতানা, পিএইচডি; ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও ড. তাপস চন্দ্র পাল, কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম, ব্যাংকের উদ্যোক্তাবৃন্দ, শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে ২০২৫ সালের অর্জিত সাফল্যকে গ্রাহকদের আস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য রেগুলেটরি সংস্থার সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান। তিনি উন্নত প্রযুক্তি, সুষ্ঠু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার সাফল্য তুলে ধরেন। একই সাথে, ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে ঝুঁকিমুক্ত করতে ব্যাংকের দূরদর্শী নীতিমালা গ্রহণ ও আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান স্বাগত বক্তব্যে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালে ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও কমিয়ে আনতে ব্যাংক দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এছাড়া, ক্যাশলেস ব্যাংকিং ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সম্ভাব্য বিভিন্ন কৌশল তিনি তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বৈচিত্রময় উদ্ভাবনী ব্যাংকিং-এর দিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক আরও জোর দিবে, যাতে করে নিরবচ্ছিন্ন গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা যায়।

উল্লেখ্য ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১.১০ টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নীট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪.৩৫ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নীট অপারেটিং ক্যাশফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৫.৯৫ টাকা।

উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জাকির হোসাইন, শামীম আহম্মদ, অসীম কুমার সাহা, ড. মোঃ জাহিদ হোসেন ও শাহ মোঃ সোহেল খুরশীদ, এসইভিপি মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, মোঃ আব্দুল হালিম ও মোঃ আব্দুল আউয়ালসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও সম্পৃক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A workshop on environmental journalism was held at Chittagong University under the initiative of Unilever Bangladesh

ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা

ইউনিলিভার বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশভিত্তিক সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামনে চট্টগ্রাম শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা এবং চলমান উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ে বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপনার কৌশল এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারা ফিল্ড ভিজিটে অংশ নিয়ে স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাসা-বাড়িতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, ভাঙারিওয়ালাদের কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সরবরাহ করা সুরক্ষা সামগ্রী সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন। কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দেশের অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়।

কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ। এছাড়া, এ সময় ইপসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় উৎসাহ জোগাবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং ইপসা’র সহযোগিতায় চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে একটি সমন্বিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩,০০০ জনের বেশি বর্জ্যকর্মী ও সংগ্রাহককে প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে এবং ১,৮২৭ জনকে গ্রুপ ইনস্যুরেন্স সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। উদ্যোগটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে কাজ করছে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the first 23 days of June 223 million dollars of remittances came to the country

জুনের প্রথম ২৩ দিনে দেশেএল ২২৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

জুনের প্রথম ২৩ দিনে দেশেএল ২২৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে ২২৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলার করে প্রবাসী আয় জমা হয়েছে দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের জুনের প্রথম ২৩ দিনে এসেছিল ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে (জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত) দেশে মোট ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৮০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক রেকর্ড সৃষ্টির চিত্র দেখা গেছে বিগত কয়েক মাসেও। গত মে মাসে দেশে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে এপ্রিল মাসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং মার্চ মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসের আয়টি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালীন মাসিক রেকর্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসীরা সর্বমোট ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (৩০.৩২ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এটি ছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বর্তমান অর্থবছরে সেই ধারা বজায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
16 business sectors including grocery stores are coming under VAT Finance Minister

মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায়ী খাত আসছে ভ্যাটের আওতায়: অর্থমন্ত্রী

মুদি দোকানসহ ১৬ ব্যবসায়ী খাত আসছে ভ্যাটের আওতায়: অর্থমন্ত্রী
ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদি দোকানসহ মোট ১৬টি নতুন ব্যবসায়ী খাতকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই নতুন রাজস্ব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশি ভ্যাট বাবদ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। রাজস্ব আয়ের এই গতিধারা অব্যাহত রাখতে এবং পরিধি বাড়াতে নতুন নতুন উৎস ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবিত এই তালিকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে সরাসরি সুনির্দিষ্ট করের কাঠামোর বাইরে ছিল।

ভ্যাটের আওতায় আসতে যাওয়া এই ১৬টি খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মুদির দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র এবং জুতার দোকান। তালিকায় আরও রয়েছে হার্ডওয়্যার, ডেকোরেটরস, এবং মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ ও ওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান। এছাড়া পেইন্ট, স্যানিটারি ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড ও সিমেন্টের দোকানগুলোকেও এই করের অধীনে আনা হচ্ছে। ফার্নিচার শোরুম, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং রেস্টুরেন্টগুলোকেও সুনির্দিষ্ট ভ্যাট প্রদানের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যয় নির্বাহের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। ব্যবসায়িক এই খাতগুলোকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের কাঠামোর আওতায় আনা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়িক লেনদেনে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In 4 months Samsungs income from AI chip sales was 100 million dollars

এআই চিপ বিক্রিতে স্যামসাংয়ের ৪ মাসে আয় ছাড়াল ১০০ কোটি ডলার

এআই চিপ বিক্রিতে স্যামসাংয়ের ৪ মাসে আয় ছাড়াল ১০০ কোটি ডলার ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত মেমোরি চিপ বিক্রিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। বাজারে আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ প্রজন্মের ‘হাই ব্যান্ডউইডথ মেমোরি’ (এইচবিএম৪) চিপের বিক্রি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্যামসাং বাণিজ্যিকভাবে এই অত্যাধুনিক এইচবিএম৪ চিপের উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু করে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী জুনের শেষ নাগাদ কেবল এই চিপ থেকেই স্যামসাংয়ের মোট আয় ১২০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মূলত এআই সিস্টেমের জটিল কম্পিউটিং কাজ দ্রুততর করতে এবং বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রসেসিংয়ের গতি বাড়াতে এই এইচবিএম চিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্যামসাংয়ের এই বিশেষ চিপগুলো মূলত পরবর্তী প্রজন্মের এআই এক্সিলারেটরের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার আসন্ন ‘ভেরা রুবিন’ প্ল্যাটফর্মটি অন্যতম।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে পঞ্চম প্রজন্মের এইচবিএম৩ই চিপের আধিপত্য থাকলেও, আধুনিক এআই অ্যাপ্লিকেশনের চাহিদার কারণে এইচবিএম৪ চিপই আগামী দিনে ব্যবসার প্রধান উৎস হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্যামসাং কর্তৃপক্ষ বছরের দ্বিতীয় ভাগে (জুলাই-ডিসেম্বর) এই চিপের উৎপাদন ও সরবরাহ আরও ব্যাপক আকারে বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাজারে আসার প্রথম বছর শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন চিপ থেকে স্যামসাংয়ের বার্ষিক আয় ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

শিল্প খাতের সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এইচবিএম চিপের বাজার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এই খাতের মোট বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলারে। এআই প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান জয়যাত্রা স্যামসাংয়ের জন্য নতুন এক স্বর্ণযুগের সূচনা করেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How much is the price of gold and silver in the countrys market?

দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম, ভরিতে কত?

দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম, ভরিতে কত? ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। বুধবার সকালে বাজুসের ‘প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই দর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণালংকার ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বিক্রি হবে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

স্বর্ণের ধারাবাহিকতায় কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় নেমে এসেছে। স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এই আকস্মিক দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য

p
উপরে