তপ্ত দুপুর, মাথার ওপর সূর্যের তীর্যক রশ্মি। অসহ্য দাবদাহের মধ্যে কংক্রিট ভর্তি কড়াই মাথায় নিয়ে ছুঁটছেন জুলেখা বেগম। আগারগাঁও সড়কে রাস্তা সংস্কারের জন্য এই কংক্রিট দরকার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করে মেলে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বলেন, কোনো রকমে বেঁচে থাকতেই এমন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। স্বামী আছে, কিন্তু অক্ষম। তাই সংসারের হাল ধরেছেন।
সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নারী– এমন উদাহরণ এখন ভুরি ভুরি।
এক সময় নারীদের ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন ছিল। এখন বদলে গেছে চিত্র। পেশাজীবনের নিম্ন থেকে উচ্চ সব পর্যায়ে এখন নারীর পদচারণা। পুরুষের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলেছে নারী। অর্থনীতিতে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। বাণিজ্য, উৎপাদন, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা– সব ক্ষেত্রে অদম্য নারী।
তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এখনও ব্যাপক আকারে হচ্ছে না। অধিকাংশ নারী অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে রপ্তানিমুখী ও পোশাক শিল্পে নারীর কাজ করার ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে নারীর কর্মসংস্থান বেড়েছে।’
‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মজুরি বৈষম্য কমেছে। কিন্তু নারীর কর্মক্ষেত্র এখনও নির্দিষ্ট কিছু গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। কারণ, চাকরি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির কারণে নারীকে বাড়তি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নারীরা যথেষ্ঠ প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। ফলে তারা পিছিয়ে পড়েন।’
তবে নারীর এ অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে মনে হলেও পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কর্মক্ষেত্রে নারী এখনও অবস্থান গড়ে তুলতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, যারা কাজ করছেন, তারাও পিছিয়ে আছেন। উচ্চপদে নারী নেই বললেই চলে। নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হলেও যথাযথভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে বেকারের সংখ্যাও বাড়ছে। গ্রাজুয়েট করা বেকার নারী প্রায় ৪৮ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মজুরি বৈষম্য কমেছে। কিন্তু নারীর কর্মক্ষেত্র এখনও নির্দিষ্ট কিছু গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। কারণ, চাকরি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির কারণে নারীকে বাড়তি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নারীরা যথেষ্ঠ প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। ফলে তারা পিছিয়ে পড়েন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে এট ঠিক। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, পরিচালক, বড় ধরনের উচ্চপদে নারীর অবস্থান এখনও অনেক কম। কর্মক্ষেত্রে নারীর এ অগ্রগতিকে টেকসই করতে হবে। কর্মপরিবেশ আরও নিরাপদ করতে হবে। এ জন্য বাল্যবিয়ে বন্ধ, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
বিবিএসের সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লাখ। তাদের মধ্যে কাজ করেন ৬ কোটি ৮ লাখ। আর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৮ শতাংশ।
সংসারের নিয়ন্ত্রক নারী
সংসার কে চালায়! সচরাচর এর উত্তর পুরুষ। কিন্তু সংসারের নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংসারের হাল ধরার প্রবণতাও এখন বেশি।
শিক্ষা গ্রহণের পরই একজন নারী কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকেও যাচ্ছেন নারীরা। ফলে বিয়ের আগে বা বিয়ের পরেও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। সংসারের হাল ধরছেন নারী।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিউলী আক্তার বলেন, ‘স্বামীর একার আয়ে সংসার হয়তো কোনো রকমে চালিয়ে নেয়া যেত। আমি চাকরি করাতে সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। এ কারণে সংসারে আমাদের গুরুত্ব সমান সমান।’
একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত সাজিদা পারভিন বলেন, ‘এমনও হয়েছে করোনার মধ্যে স্বামীর চাকরি চলে গেছে। কিন্তু আমার চাকরি ছিল। তখন সংসারের হাল আমিই ধরেছি। অভাব বুঝতে পারি নাই।’
সোনালী ব্যাংকে কর্মরত এলিজা ফেরদৌস বলেন, ‘দুজন চাকরি করছি বলেই করোনার মধ্যে টিকে থাকতে পেরেছি। কারণ আমার স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করে। করোনায় তার বেতন কমে যায়। কিন্তু আমিও চাকরি করি দেখে দুই সন্তান নিয়ে এখনও চলতে পারছি।’
বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত কৃষ্ণা সাধু বলেন, ‘করোনার মধ্যে বিমানে কর্মরতদের ক্ষতি একটু বেশি। আমার স্বামীও একই সেক্টরে চাকরি করেন। ২০২০ সালে তো প্রায় বছরজুড়ে অধিকাংশ দেশে ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ফলে বেতনও কমিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটা ফ্লাট কিনেছি। একজনের আয়ের টাকা ব্যাংকের কিস্তিতেই চলে যায়। তারপর মেয়েদের পড়ালেখার খরচ তো আছেই। দুজন চাকরি করি বলে টিকে আছি।’
এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) জরিপ অনুযায়ী দেশের মোট ৪২ লাখ ২০ হাজার পোশাক শ্রমিকের মধ্যে নারীর সংখ্যা ২৪ লাখ ৯৮ হাজার। এই খাতে নিয়োজিত নারী কর্মী দেশের শিল্পখাতে নিয়োজিত মোট নারী কর্মীর ৭০ ভাগ।
জিডিপিতে নারী
মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। ২০২০ সালের এক গবেষণায় এমন তথ্য দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সংস্থাটি বলছে, সংসারের ভেতর ও বাইরের কাজের মূল্য যোগ করলে নারীর অবদান বেড়ে দাঁড়াবে ৪৮ ভাগ। এর অর্থ হলো, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী-পুরুষের অবদান সমান সমান।
শ্রম ক্ষেত্রে নারী
শ্রম বাজারে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৩ দশমিক ৫ ভাগ।
বলা হচ্ছে, ১৯৭৪ সালে সদ্যস্বাধীন দেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অবদান ছিল মাত্র ৪ ভাগ। এই হার ১৯৮০ সালের দিকে হয় ৮ ভাগ। এবং ২০০০ সালে এটি বেড়ে হয় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। সেটি ২০১০ সালে বেড়ে হয়েছে ৩৬ ভাগ।
বিবিএসের সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৬ কোটি ৩৫ লাখ। আর তাদের মধ্যে কাজ করেন ৬ কোটি ৮ লাখ।
এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৮ শতাংশ।
পোশাক শিল্প
বলা যায়, পোশাক খাতের নিয়ন্ত্রক নারী শ্রমিক। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি পোশাক শিল্পখাত থেকে আসে। মোট পোশাক কর্মীর প্রায় ৫৪ শতাংশ নারী।
এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) জরিপ অনুযায়ী দেশের মোট ৪২ লাখ ২০ হাজার পোশাক শ্রমিকের মধ্যে নারীর সংখ্যা ২৪ লাখ ৯৮ হাজার। এই খাতে নিয়োজিত নারী কর্মী দেশের শিল্পখাতে নিয়োজিত মোট নারী কর্মীর ৭০ ভাগ।
কৃষিখাতেও নারীর আধিক্য
কৃষিই অর্থনীতির প্রাণ। সেই কৃষি খাতেও বাড়ছে নারীর সম্পৃক্ততা।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট কর্মক্ষম নারীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নিয়োজিত কৃষিকাজে– ৭১ দশমিক ৫ ভাগ।
বিবিএসের ২০১৮ সালের তথ্য মতে, দেশে কৃষি খাতে নিয়োজিত ৯০ লাখ ১১ হাজার নারী।
চা শিল্প
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চা বাগানের সংখ্যা ১৫৮টি। এসব বাগানে কাজ করেন ১ লাখ ৪০ হাজার ১৮৪ জন শ্রমিক।
এসব শ্রমিকের মধ্যে পুরুষ ৬৯ হাজার ৪১৫ এবং নারী ৭০ হাজার ৭৬৯ অর্থাৎ নারী শ্রমিকের সংখ্যা পুরুষ শ্রমিক থেকে ১ হাজার ৩৫৪ জন বেশি।
সেবা খাত
সেবা খাতে কর্মরত আছে ৩৭ লাখ নারী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৯ সালের তথ্যে উঠে এসেছে এমন পরিসংখ্যান।
গৃহ ও অভিবাসী শ্রমিক
দেশে গৃহস্থালি কাজের সাথে জড়িত মোট শ্রমিক সংখ্যা ১৩ লাখ। তবে সাধারণ ধারণামতে দেশে বর্তমানে গৃহকর্মে নিয়োজিত আছে ২০ লাখেরও বেশি শ্রমিক। এদের ৮০ শতাংশই নারী এবং শিশু। ২০১৬-২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিক হয়ে কাজের জন্য বিদেশে গেছেন ১ লাখ ৪৫৬ জন নারী।
উচ্চপদে নারী
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ।
২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ছিল ৪৬০টি। এসব জায়গায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে নারীরা কর্মরত ছিলেন চার ভাগের এক ভাগ।
বর্তমানে জেলা প্রশাসক পদেও দায়িত্ব পালন করছেন অনেক নারী। আর সচিব বা সমমর্যাদার পদে আছেন ১০ জনের বেশি নারী। অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা।
দেশের বিচার বিভাগেও নারীদের অবস্থান সংহত হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে বাড়ছে নারীর আধিক্য। এ সংস্থায় মোট নারী সদস্যের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৬৩ জন।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে শিল্পকারখানাগুলোতে ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ১৬২ শ্রমিক কাজ করেন। এদের ৫৬ শতাংশের কিছু বেশি পুরুষ এবং প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী।
বড় শিল্পে নারী
বড় আকারের শিল্পকারখানায় পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় এখন নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। এ ধরনের কারখানার শ্রমিকদের প্রায় ৫৫ শতাংশ নারী। পাশাপাশি শিল্পকারখানার মোট স্থায়ী শ্রমিকের মধ্যে নারীর হার ৬৩ ভাগ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক ‘সার্ভে অব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ (এসএমআই)' জরিপে এ তথ্য উঠে তুলে ধরা হয়েছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে শিল্পকারখানাগুলোতে ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ১৬২ শ্রমিক কাজ করেন। এদের ৫৬ শতাংশের কিছু বেশি পুরুষ এবং প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী।
জরিপে দেখা যায়, শিল্পকারখানাগুলোর মধ্যে ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ অতিক্ষুদ্র, ৫০ দশমিক ৫৪ শতাংশ ক্ষুদ্র, ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ মাঝারি এবং ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বড় আকারের প্রতিষ্ঠান।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন বন্ধে সরকার সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে, যার ২০ ধারায় অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অংশগ্রহণ বা এতে সহায়তার বিপরীতে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই আইন জারির পর বিএফআইইউ কর্তৃক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে গত মে মাসে সিআইডিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি কোনো মার্চেন্ট বা সাধারণ গ্রাহক এতে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব এমএফএস প্রোভাইডারকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনযোগে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ ও বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। এ সময় স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে সম্মান জানিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের ঐতিহ্যবাহী দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালীন তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই অবস্থান করবেন।
এর আগে বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই সফরে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল সাথে রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সফরে সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, বেইজিং পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে তিনি চীনে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।
বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিং স্টেশনে এসে পৌঁছান। এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতা, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিশাল মিলনমেলা ঘটে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর সরকারপ্রধানরা এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গ্রীষ্মকালীন এই দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিশ্বের সেরা অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই সফর বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছিলেন। বেইজিংয়ে তাঁর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারের মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ-এর মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন এক মানবিক উদ্যোগের সূচনা হলো।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিশেষ অনুদান মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” মন্ত্রী এই বিশাল সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই ১৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিলটি মূলত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৩,১৬২ কোটি টাকা) বৃহৎ মানবিক সহায়তা প্যাকেজের একটি অংশ। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সরকার এই আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবিলায় মোট ১.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ১০,৭৭০ কোটি টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। মানবিক এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন সম্পন্ন করে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তিনি হাই স্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটে।
এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা সর্বোত্তম অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন শেষে তিনি এখন রাজধানী বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (WEF)-এর মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovating at Scale) শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
সেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশনের বিরতিতে বিশ্বনেতারা সম্মিলিতভাবে এক ফটোসেশনেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য