ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনার টেবিলে থাকা এক ব্যক্তিকে কিয়েভে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ইউক্রেনিয়ান সিকিউরিটি সার্ভিসের এজেন্টরা শনিবার রাজধানী কিয়েভে মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান চলমান অবস্থায় ইতোমধ্যে দুই দফা আলোচনায় বসেছে দুই ক্রেমলিন ও কিয়েভ। সোমবার প্রথম দফা আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি জানা না গেলেও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা আলোচনায় কিছু আপাত স্বস্তির খবর ছিল। আর এসব আলোচনায় ডেনিস কিরিভ উপস্থিত ছিলেন।
ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বেসামরিক লোকজনকে নিরাপদে ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে মানবিক করিডরসহ তিন দফা সিদ্ধান্ত আসে। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাবে সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে রাশিয়া সেই কথা রাখেনি। ইউক্রেনে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে পুতিনের বাহিনী।
সূত্রের উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা আরটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিয়েভ-ক্রেমলিন শান্তি আলোচনা আয়োজনে ভূমিকা রাখা ডেনিস কিরিভ শনিবার কিয়েভে গুলিতে নিহত হয়েন। ইউক্রেনের সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা শনিবার কিয়েভে তাকে গ্রেপ্তারের সময় মাথায় গুলি করে হত্যা করে। বেলারুশে অনুষ্ঠিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বৈঠকে আলোচনার টেবিলে দেখা গিয়েছিল কিরিভকে।
ডেনিস কিরিভ নিহত হওয়ার খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ইউক্রেনের বিতর্কিত এমপি ও সাংবাদিক আলেকজান্ডার দুবিনস্কির। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, কিরিভকে গ্রেপ্তার করার সময় ইউক্রেনিয়ান সিকিউরিটি সার্ভিসের এজেন্টরা হত্যা করেছে।
সংবাদমাধ্যমেও খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মিডিয়া আউটলেট Ukraina.ua এবং Obozrevatel এই খবর নিশ্চিত করলেও এর উৎস হিসেবে বেনামি সূত্রের উল্লেখ করেছে।
মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের সঙ্গে কিছুটা অস্পষ্ট একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে এটি ডেনিস কিরিভের মরদেহ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ফুটপাতে এক ব্যক্তি চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। তার মুখের পাশ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে নামছে। এ ঘটনায় শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক আনাতোলি শারিজ কথিত এ ঘটনার আরও নাটকীয় বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কিয়েভের একটি আদালতের কাছে কিরিভকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
সোমবার রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রথম দফা বৈঠকে ইউক্রেনের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার টেবিলের একেবারে ডান দিকে বসে থাকা কিরিভের ছবি দেখা গেছে। এই আলোচনায় অংশ নিতে ইউক্রেন ছয় প্রতিনিধির যে তালিকা প্রকাশ করে তাতে অজ্ঞাত কারণে কিরিভের নাম ছিল না। ফলে ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে তার অবস্থানটাও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
ইউক্রেনীয় টিভি চ্যানেল-ফাইভ দাবি করেছে, কিরিভের বিরুদ্ধে রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ ছিল। ইউক্রেনিয়ান সিকিউরিটি সার্ভিস (এসবিইউ) ২০২০ সাল থেকে ওই অভিযোগের তদন্ত করছিল। কিন্তু এসবিইউর উচ্চপর্যায়ে কিরিভের ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকায় সেই তদন্ত মাঝপথেই থেমে যায়।
তবে এ তথ্যও কতটা বস্তুনিষ্ঠ, তা-ও নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ চ্যানেল-ফাইভ টিভি চ্যানেলটির মালিক ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো। ফলে এটি উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক প্রচারণার অংশ কি না, তা নিয়ে আছে প্রশ্ন।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, খসড়া চার্জশিট বিষয়ে সিআইডি কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যমে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা প্রদান করেননি।
শুক্রবার (১৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত সংবাদ সিআইডির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনে সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাতে খসড়া চার্জশিট বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সিআইডির কোনো কর্মকর্তা কোনো গণমাধ্যমকে প্রদান করেননি। অতএব, উক্ত বক্তব্যসমূহকে সিআইডির আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সিআইডি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য জানাবে।
সিআইডি গণমাধ্যমকে এই মামলার সংবাদ প্রকাশে সিআইডির আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করতে অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থাটি পেশাদারিত্ব ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তদন্ত অব্যাহত রাখবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে সিআইডি। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে সম্প্রতি খসড়া অভিযোগপত্রটি আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর বের হয়।
সিআইডির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত ১ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন—তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আগে আইনি মতামত পর্যালোচনা করা জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেছিলেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
সিআইডি সূত্রে পাওয়া তথ্যে গণমাধ্যমে আরও এসেছিল, প্রস্তাবিত অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ১০ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। এছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা ও চীনের নাগরিকসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ও মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি আনিস এ খানসহ বেশ কয়েকজনের নাম থাকার কথা শোনা যাচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়। হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনার ৪০ দিন পর মতিঝিল থানায় মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করার পর এই তদন্তে গতি আসে।
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও দি পিরোজপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু'র পক্ষ থেকে পিরোজপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯:৩০ মিনিটে আয়োজিত এই মানবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং দি পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু খাদ্য সহায়তা প্রদানের সময় বলেন, “শহীদ জিয়ার স্মরণে আমরা আজ প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এটি কেবল আজকের আয়োজন নয়, মানুষের কল্যাণে আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” তিনি দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সবার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ,জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন,সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন টিপু, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র প্রমুখ।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতির শুরু থেকেই আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। পিরোজপুর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে এবং স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে তিনি সব সময় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আর্তমানবতার সেবায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
খাদ্য সামগ্রী বিতরনের পূর্বে শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে বনদস্যুতা নির্মূল, মাদক ও মানবপাচার রোধ এবং উপকূলীয় জনপদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’’ এবং ‘‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে বনদস্যু চক্রগুলো এখন কোণঠাসা। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। এ ছাড়া মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপন করায় দস্যুদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের পথ রুদ্ধ হয়েছে, যা সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছে।
সম্প্রতি জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় হামলা কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।’
তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেবেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’
সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর **১৬১১১**-এ জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় ডিবেট প্রতিযোগিতায় (International English Language Competition -AI) অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ১১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী যাচ্ছেন। রাজশাহী বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি ‘সায়ইদ ইবনে ত্বাকি। আগামী ২১ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত লন্ডনে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের আসরে বিশ্বের মোট ৭১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। পুরো বাংলাদেশ থেকে ১১ জন নির্বাচিত হলেও, রাজশাহী বিভাগ থেকে এবার মাত্র একজন লন্ডনে যাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি হলেন ত্বাকি। সে রাজশাহীর স্বনামধন্য ‘ইকরা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিয়া ইংলিশ লার্নিং সেন্টার’-এর একজন কৃতি ছাত্র। প্রায় দুই বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠানে। এখানে ইংরেজিতে ডিবেট, স্পোকেন ইংলিশের ওপর দুই বছরের সাধনার ফল পেলেন মেধাবি ত্বাকি।
বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে যাওয়া এই ১১ জন শিক্ষার্থীর যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি উদ্যোগে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে ৩ লাখ টাকা করে ব্যয় করা হচ্ছে।
ত্বাকির এই অনন্য সাফল্যের পেছনে এবং তার লন্ডন যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তার কোচিং সেন্টারের ইংরেজি প্রশিক্ষক বাদশা আলম। প্রশিক্ষকের দিকনির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই ত্বাকি আজ বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।
লন্ডন যাত্রার আগে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ত্বাকি জানান, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তার প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। একই সাথে ভবিষ্যতেও নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের জন্য বড় এবং ভালো কিছু করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ মেধাবী।
এ উপলক্ষে গত বুধবার নগর ভবনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাঈদ ইবনে ত্বাকি।
এ সময় রাসিক প্রশাসক তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ত্বাকি রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখা শাহাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ ও ফরিদা ইয়াসমিনের ছেলে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ত্বাকির এ অর্জনকে রাজশাহীর জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ত্বাকির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও খালের ময়লা-আবর্জনার ব্লকেজ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিকের নির্দেশনায় পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা এস্কেভেটর মেশিনসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিহারী পয়েন্ট, ষোলঘর পয়েন্ট, হুসেন বখতসংলগ্ন দুর্গাবাড়ি মন্দিরের বিপরীত পাশের ড্রেন, কামারখালসহ বিভিন্ন ড্রেন ও খালের ময়লা অপসারণ করা হয়। এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।
দুর্গাবাড়ির পাশের মুদির দোকানদার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ‘পৌরসভা থেকে ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে ময়লা জমে থাকায় পানি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত। পাশে পৌরসভার একটি ডাস্টবিন রয়েছে, সেখানে যদি সবাই দায়িত্বশীলভাবে ময়লা ফেলেন তাহলে আর এ ধরনের সমস্যা হবে না।’
স্থানীয় জায়গার মালিক রাজীব বণিক বলেন, ‘ড্রেনের পাশে অনেকে ময়লা ফেলার কারণে বারবার এটি বন্ধ হয়ে যায়। পৌরসভা কিছুদিন পরপর পরিষ্কার করলেও আবার ময়লা জমে যায়। সবাই যদি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেন তাহলে পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক থাকবে।’
পৌরসভার যান্ত্রিক সুপারভাইজার সাঈদ আনোয়ার বাপ্পি জানান, পৌর প্রশাসকের নির্দেশনায় সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলছে। বিহারী পয়েন্ট থেকে শুরু করে বক পয়েন্টসংলগ্ন এলাকা, মুসলিম হোস্টেল, বাঁধনপাড়া, কামারখাল, রায়পাড়া, সোমপাড়া, আরপিনগর খাল, কোর্ট প্রাঙ্গণ ও তেঘরিয়াসহ পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য এলাকার ড্রেনও পরিষ্কার করা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ আর গ্রামীণ জীবনের এক শান্ত-স্নিগ্ধ ছবি ফুটে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের মানিকচাপর এলাকায় ফসলের মাঠে দেখা মিলেছে এক অপরূপ গ্রামীণ দৃশ্যের।
সেখানে দেখা যায়, সবুজ ফসলের মাঠের এক কোণে শান্ত মনে ঘাস খাচ্ছে ৬টি মহিষ। আর তাদের যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং মহিষগুলো যাতে ফসলের ক্ষতি না করে, সেজন্য পাশেই লাঠি হাতে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন এক কৃষক আবেদ আলী ।
স্থানীয়রা জানান, আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যই এখন বিলুপ্তপ্রায়। একসময় তাড়াশের চলনবিল অঞ্চলে লাঙল-জোয়াল আর মহিষের পালের অবাধ বিচরণ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কালের বিবর্তনে ট্রাক্টর আর পাওয়ার টিলার সেই জায়গা দখল করে নিলেও, মানিকচাপর এলাকার এই দৃশ্যটি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
মাঠে মহিষ চড়ানোর সময় কথা হয় সেই কৃষক আবেদ আলীর সাথে। মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও চোখে ছিল সন্তুষ্টির হাসি। নিজের জীবনের গল্প ও মহিষ পালনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এখনকার দিনে তো মাঠের হাল চাষ থেকে শুরু করে সব কাজই মেশিনে হয়। মহিষের গাড়ি বা মহিষের হাল এখন আর চোখে পড়ে না। কিন্তু আমি বাপ-দাদার আমলের এই অভ্যাসটা ছাড়তে পারি নাই। প্রতিদিন বিকেলে এই ছয়টা মহিষ নিয়া মাঠে আসি খোলা হাওয়া আর তাজা ঘাসের খোঁজে।
তিনি আরও বলেন, এদের পেছনে খাটুনি যেমন আছে, তেমনি লাভও আছে। এই মহিষের খাঁটি দুধ বিক্রি করেই প্রতিদিন আমার সংসার চলে। আবার কোরবানির হাটে ভালো দামে বিক্রি করলে একবারে অনেকগুলো টাকা হাতে পাওয়া যায়। কষ্ট হলেও এদের আমি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করি। এই ছয়টা মহিষই আমার সংসারের মূল চাকা।
সবুজ মাঠ, অলস ভঙ্গিতে মহিষের ঘাস খাওয়া আর কৃষক আবেদ আলীর এই পাহারার চিত্রটি ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী অনেক পথচারীকেই আকৃষ্ট করছে। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ এই শান্ত ও মনোরম পরিবেশ এক টুকরো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
মাগুরা সদর উপজেলার বেরইন পলিতা ইউনিয়নের রামদের গাতি গ্রামে মায়ের অগোচরে বাবা কর্তৃক এক নবজাতক শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে শিশুটির বাবাসহ মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের শাহানুর ও মনিরা দম্পতির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাগুরা সদরের বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদের গাতি গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুনের (২৫) ঘরে একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। অর্থের লোভে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন মাত্র ২৫ হাজার টাকায় মায়ের অগোচরে শিশুটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের মো. সাহাবুর ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুন এর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে শিশুটির বয়স একমাস ২৫ দিন হলে তার মা বিষয়টি জানতে পেরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চান।
অভিযোগের পর মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রু জিতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
শিশুটির পিতা সাগর হোসেনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, অভাবের তাড়নায় তিনি এ কাজ করেছেন এবং পরে জীনে নিয়ে গেছে বলে একটি নাটক সাজান।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এক প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জনগণের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে মাগুরার পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য