পানি পরিশোধন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে দেশের সব নাগরিককে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকার কাঁচকুড়া হাইস্কুল মাঠে রোববার দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১) প্রকল্পের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ বা এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে কিন্তু অনেক অনেক বেশি টাকা খরচ হয়। সেখানে আমরা ব্যাপক হারে ভর্তুকি দিচ্ছি, কিন্তু বিদ্যুৎ সুবিধা সবাই ভোগ করবেন। ভর্তুকি আমরা দেব কোত্থেকে? এটা তো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দিতে হচ্ছে।
‘কাজেই যারা ব্যবহার করবেন, উৎপাদনের খরচ তো তাদের দিতে হবে, তবেই না আপনি সুবিধাটা ভোগ করতে পারবেন। তারপরেও যাতে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়, সে জন্য ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। এখানে আমার অনুরোধ থাকবে, বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করতে হবে; বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।’
পানির ক্ষেত্রেও একই চিত্র বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে বিভিন্ন নদী থেকে পানি এনে সেটাকে পরিশুদ্ধ করতে অনেক অনেক টাকা খরচ হয়। সেটা হয়তো আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না, কত বেশি টাকা খরচ হয়। সেই পানি ব্যবহারেও প্রত্যেকটা নাগরিককে সাশ্রয়ী হতে হবে; অপচয় বন্ধ করতে হবে।’
আক্ষেপের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে পানি পরিশুদ্ধ করে দিই, সেটা দিয়ে সব কাজ চলে। গাড়ি ধোয়া থেকে শুরু করে কনস্ট্রাকশনের কাজ, সবই করে, কিন্তু এই পানি পরিশুদ্ধ করতে কত টাকা খরচ হয়, সেই হিসাব আপনারা জেনে নেবেন এবং সেই মোতাবেক…সেখানেও আমাকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেখানে কিন্তু ভর্তুকি দেয়া ঠিক না।’
সবাই সাশ্রয়ী ব্যবহার করলে বিল যেমন কম আসবে, ভর্তুকির পরিমাণও কমবে বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে বিল কমাতে পারেন, বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারেন, পানির বিল কমাতে পারেন, গ্যাসের বিল কমাতে পারেন, যদি আপনি একটু সচেতন হোন, সাশ্রয়ী হোন।’
‘খাল এজমালি সম্পত্তি নয়’
ঢাকা শহরকে বাঁচিয়ে রাখতে বেদখল হওয়ার খালগুলো উদ্ধারে আবারও তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীরে শিরা-উপশিরায় যেমন রক্ত সঞ্চালন হয়, একটা শহরের জন্য এই খালগুলো কিন্তু সেই পানি সরবরাহের মাধ্যমে শহরগুলোর বেঁচে থাকার সঞ্চালন হয়। সেটা উদ্ধার করা একান্তভাবে অপরিহার্য।’
দখলদারদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর অনেক খাল তো বেদখল হয়ে যায়, খালটা তো মনে হয় এজমালি সম্পত্তি, যে যেভাবে পারে ঘরবাড়ি তৈরি করে দখল করে নেয়, দোকানপাট তৈরি করে ফেলে। সেটা উদ্ধার করার জন্য যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে জন্য আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
বক্স কালভার্ট নির্মাণ ‘খারাপ কাজ’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যেখানে মুক্ত খাল ছিল, এই খালটা রেখে দুপাশে রাস্তা করা যেত বা পিলার দিয়ে তার ওপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করা যেত, কিন্তু বক্স কালভার্ট করার ফলে জলাবদ্ধতা হয়, আবার সেখানে ময়লাও জমে, আবার নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়।
গুলশানে হবে খেলার মাঠ
ঢাকার গুলশানে নতুন একটি খেলার মাঠ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘১০ বিঘা একটা জমি। ওখানে ইতালিয়ান অ্যাম্বাসির একটা ই…ছিল, আরেকটি অ্যাম্বাসির ছিল, তারা ওখান থেকে সরে যাচ্ছে। বিজিএমসির একটা বাসা ছিল। সেটাও আমি সরিয়ে দিচ্ছি। এই জায়গাটা সম্পূর্ণ খেলার মাঠ হবে। সেখানে আর কোনো স্থাপনা না, কিচ্ছু না, শুধু মাঠ।’
‘গুলশানের দুই বাড়ির মাঝে ময়লার ডিপো’
গুলশানের আবাসিক ভবন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘গুলশানের যে ফ্ল্যাট-বাড়িগুলো সেগুলো নিয়ে আমার কিছু কমপ্লেইন আছে। কারণ কেউই এক ইঞ্চি জায়গা ঠিকমতো ছাড়েননি। দুটো বাড়ির মাঝে এমন চাপা জায়গা। আর ওই জায়গাগুলোতে ময়লার ডিপো হয়ে থাকে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি তো সব সময় বের হই না, দেখতে পাই না। কিন্তু যখন যেখানে যাই, একটু দেখার চেষ্টা করি।’
সাবেক মেয়র আনিসুল হককে বিষয়টি জানানো হলে তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা আমি বর্তমান মেয়রকেও বলব, আপনি যদি একটু লক্ষ করেন, দুটি মাল্টি স্টোরিড বিল্ডিং হচ্ছে, দুটি বাড়ির ভেতরে হাই-ফাই জীবনযাপন, বিশাল ঝাড়বাতি মাথায় ঠেকে, কিন্তু দুই বাড়ির মাঝখানে গেলে দেখবেন ময়লার ডিপো। এটা যেন না থাকে।’
মানতে হবে ট্রাফিক আইন
রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক আইন ও নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেখান-সেখান থেকে দৌড় মেরে রাস্তা পার হতে যেয়ে অ্যাক্সিডেন্ট হলে তো ড্রাইভার মার খায়। তো এটা কি ড্রাইভারের একার দোষ? অথচ আমি যদি ঠিক পথে না চলি, নিয়ম মেনে না চলি, ট্রাফিক আইন না মেনে চলি, তাহলে তো অ্যাক্সিডেন্ট হবেই।’
সড়কে বেড়া দেয়া হলে সেটি টপকে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
নগরে বাড়াতে হবে সবুজ
বহুতল ভবনের কারণে ঢাকা শহরের গাছের সংখ্যা ও সবুজের পরিমাণ কমে গেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আর তাই ছোট পরিসরে হলেও সবুজ বাড়াতে নগরবাসীকে উদ্যোগী হতে বলেছেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে, যেভাবে পারেন, আপনারা একটু বৃক্ষরোপণ করুন; ছাদবাগান করবেন। যেভাবে পারেন একটু কিছু করেন, যাতে প্রচুর সবুজ থাকে। আর পরিবেশটা যেন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেবেন।’
বিহারিদের উন্নয়ন নিয়ে ভাবছে সরকার
পাকিস্তান ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নেয়নি দেশটির সরকার। মানুষ হিসেবে তাদের সম্মান দিতে ‘বিহারি’ নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও সরকার পরিকল্পনা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তারা পাকিস্তানে যাবে বলে, পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেবে বলে অপশন দিয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান কখনও তাদের গ্রহণ করেনি। তাদের নাম করে অনেক প্রতিষ্ঠান অনেক টাকা-পয়সাও তুলেছে, অনেক কিছু করেছে, কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
‘এখন বলতে গেলে তাদের ছেলেমেয়ে হয়ে গেছে, নাতিপুতি হয়ে গেছে। তাদের বংশপরম্পরা বেড়ে গেছে, কিন্তু ওই যে জেনেভা ক্যাম্পের ছোট্ট ছোট্ট জায়গা, সে জায়গায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করে।’
কাজে তারা ‘খুব কর্মঠ’ ও ‘দক্ষ’ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণে আমি চাচ্ছি যে তাদের জন্য একটা ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া, তারা যে যে কাজে পারদর্শী, সে কাজে যেন তারা নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে, জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে। সে ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।’
ঢাকায় সেটা করা কঠিন বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেখানে ইন্ডাস্ট্রি আছে বা কাজ আছে, যেখানে তাদের কাজ করার সুযোগ আছে, সে ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে তারা অন্তত ভালোভাবে মানুষের মতন বাঁচতে পারবে। সেটাই আমি চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষকে মানুষ হিসেবে আমরা দেখতে চাই। তারা হয়তো এখানে থাকতে চায়নি, কিন্তু এখন যাবেইবা কোথায়? তাদের যে বংশবৃদ্ধি, তারা তো আমাদের দেশে জন্মগ্রহণ করেছে।’
উন্নয়নকাজের উদ্বোধন
সবার জন্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুটি অংশে বিভক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিণত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সিটি করপোরেশন দিয়ে ঢাকা শহরের এত মানুষকে সেবা দেয়া অসম্ভব ছিল। যে কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ঢাকার আশপাশে ইউনিয়নগুলো যেগুলো ঢাকা শহরের সংলগ্ন অথচ তারা নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। সেই মানুষগুলোর যারা এখানকার আদি বাসিন্দা, তারাসহ অন্যদেরও একই অবস্থা; নিজেদের অবহেলিত মনে করত।
‘সে কারণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এটিকে দুটো ভাগে ভাগ করা। বাকি যে জায়গাগুলো, সেগুলো কেউ আমরা সম্পৃক্ত করে ফেলব দক্ষিণ এবং উত্তরে। যে ইউনিয়নগুলো ছিল, সেগুলো ওয়ার্ডে ভাগ করে সিটি করপোরেশনের সমস্ত নাগরিক সুবিধা যাতে পায়, সে ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি।’
পরে ঢাকা উত্তর সিটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত হরিরামপুর ইউনিয়ন এবং পূর্বাঞ্চলে উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাঁতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়নের এলাকাগুলোর ১৮টি ওয়ার্ডকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের ৯ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আটটি করে ইউনিয়ন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
১৮ ওয়ার্ডের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন
এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের যে ইউনিয়নগুলো ছিল, সেগুলোকে ওয়ার্ডে উন্নীত করার পর সেখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা, সেটা একান্তভাবে অপরিহার্য ছিল। আজকের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমি মনে করি যে এখানে যে মানুষগুলো বসবাস করে, তারা সুন্দর, চমৎকার একটা জীবন পাবেন। এবং নাগরিক সুবিধাগুলো তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ওপর দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি, যত কঠিন কাজ হয়, তাদের দায়িত্ব দিলে অত্যন্ত সুচারুভাবে, তারা সেটা পালন করে এবং বাস্তবায়ন করে।’
স্থানীয় জনগণকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সহযোগিতা করতে হবে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তাদের পাশে থেকে কাজ করতে হবে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে কাজটা সুন্দর, সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
জনভোগান্তির বিষয়টি সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, সেটাও দেখতে হবে। সেই সঙ্গে আরেকটি বিষয় বলব যে মানুষের যেমন সুবিধা ভোগ করার অধিকার আছে, আবার নাগরিক কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। যারা অধিকার ভোগ করবে, তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
‘সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ঘরবাড়ি শুধু না, নিজের সামনের রাস্তাটাও যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। এই পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মেয়র সাহেব মশা মারার কাজ করতে গিয়ে, পরিচ্ছন্নতা কাজ দেখতে গিয়ে কিন্তু পা পিছলে একবার পা ভেঙে ফেলেছিলেন। ভবিষ্যতে যেন এই ঘটনা আর না ঘটে আমি আশা করি সেদিকে দৃষ্টি দেবেন।’
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন বন্ধে সরকার সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে, যার ২০ ধারায় অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অংশগ্রহণ বা এতে সহায়তার বিপরীতে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই আইন জারির পর বিএফআইইউ কর্তৃক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে গত মে মাসে সিআইডিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গ্রাহকদের সচেতন করার পাশাপাশি কোনো মার্চেন্ট বা সাধারণ গ্রাহক এতে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য গত ২৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব এমএফএস প্রোভাইডারকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনযোগে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ ও বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় এই সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’ (জিএসিসি)-এর মন্ত্রী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। এ সময় স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে সম্মান জানিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের ঐতিহ্যবাহী দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালীন তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই অবস্থান করবেন।
এর আগে বেলা ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই সফরে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল সাথে রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সফরে সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, বেইজিং পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফল রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে তিনি চীনে পৌঁছান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।
বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের উন্নয়ন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শেষে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিং স্টেশনে এসে পৌঁছান। এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১ হাজার ৭০০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতা, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিশাল মিলনমেলা ঘটে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর সরকারপ্রধানরা এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গ্রীষ্মকালীন এই দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিশ্বের সেরা অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই সফর বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছিলেন। বেইজিংয়ে তাঁর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অস্ট্রেলীয় সরকারের মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ-এর মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার এই তহবিলের মাধ্যমে নতুন এক মানবিক উদ্যোগের সূচনা হলো।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিশেষ অনুদান মূলত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” মন্ত্রী এই বিশাল সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই ১৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিলটি মূলত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৩,১৬২ কোটি টাকা) বৃহৎ মানবিক সহায়তা প্যাকেজের একটি অংশ। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সরকার এই আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবিলায় মোট ১.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা ১০,৭৭০ কোটি টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। মানবিক এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন সম্পন্ন করে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তিনি হাই স্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটে।
এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা সর্বোত্তম অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন শেষে তিনি এখন রাজধানী বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (WEF)-এর মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovating at Scale) শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
সেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশনের বিরতিতে বিশ্বনেতারা সম্মিলিতভাবে এক ফটোসেশনেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য