× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Thousands of bighas of agricultural land have been wasted by the influential people
google_news print-icon

প্রভাবশালীদের চিংড়ি ঘেরে লোনাপানি, বিলীন হাজার বিঘা কৃষিজমি

চিংড়ির ঘের
বেড়িবাঁধের ভেতরে লোনাপানি তুলে করা হয়েছে চিংড়ির ঘের। ছবি: নিউজবাংলা
আশির দশকে শুরু হয় বেড়িবাঁধ কেটে লোনাপানি তোলার কারবার। এলাকার প্রভাবশালীরা ওই এলাকায় শুরু করে চিংড়ি চাষ। ক্রমাগত লোনাপানির প্রাদুর্ভাবে এলাকায় দ্রুতই আসে বড়সড় পরিবর্তন, নষ্ট হয় পরিবেশ।

চারদিকে নদীবেষ্টিত ছোট একটি দ্বীপ ঘেরা বেড়িবাঁধে। এর ভেতরে রয়েছে হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি। লোনাপানি তুলে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি। লবণের আধিক্যে জন্মায় না কোনো খাদ্যশস্য, চাষ হয় না মিঠাপানির মাছও। দ্বীপটিতে নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, যাতায়াতের ভালো রাস্তা। জমি থাকলেও ব্যবস্থাপনার অভাবে নিরন্ন হচ্ছেন ওই এলাকার কৃষকরা।

খুলনা শহর থেকে সড়ক পথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে দ্বীপ এলাকাটি পাইকগাছা উপজেলার ঘ্যাংরাইল, গুনখালী ও শিবসা নদীর মোহনায় অবস্থিত। সেখানে লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের মধুখালী, জোকারহুলা, রাধানগর, দিঘলিয়া, চকরিবকরি, জিরবুনিয়া, মাইনকিয়া, হানিরাবাদ, গোয়াসোবা, বাইনচাপরা, রেখামারি ও আসামনগর গ্রামের প্রায় ১৭ হাজার মানুষের বসবাস।

বিগত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে দেশের উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে কোস্টাল এমব্যাংকমেন্ট প্রজেক্টের (সিইপি) আওতায় প্রবর্তন করা হয় পোল্ডার ব্যবস্থা। এ প্রকল্পের আওতায় দ্বীপটির পরিধিতে নির্মাণ করা হয় মাটির বেড়িবাঁধ।

চিহ্নিত করা হয় ২০ নম্বর পোল্ডার হিসেবে। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন করা। জোয়ারের লবণাক্ত পানি বিল ও বসতি এলাকায় প্রবেশ করতে না দেয়া, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা থেকে সেখানকার জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা। ফলে পরের ১৫ থেকে ২০ বছর ওই এলাকায় কৃষি উৎপাদন বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

কৃষকদের ভাগ্যে সেই আশীর্বাদ খুব স্থায়ী হয়নি। আশির দশকে শুরু হয় বেড়িবাঁধ কেটে লোনাপানি তোলার কারবার। এলাকার প্রভাবশালীরা ওই এলাকায় শুরু করে চিংড়ি চাষ। ক্রমাগত লোনাপানির প্রাদুর্ভাবে এলাকায় দ্রুতই আসে বড়সড় পরিবর্তন, নষ্ট হয় পরিবেশ।

প্রভাবশালীদের চিংড়ি ঘেরে লোনাপানি, বিলীন হাজার বিঘা কৃষিজমি
দুই পাড় ভেঙে নষ্ট হচ্ছে বেড়িবাঁধ। ছবি: নিউজবাংলা

সবুজ গাছপালা, ফসল কয়েক বছরের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায় লোনাপানিতে। এমনকি খাবারের পানির জন্য সেখানে হাহাকার চলতে থাকে। কয়েক দশক কেটে গেলেও তার উন্নতি হয়নি।

বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা সেই বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তাদের কাছে অসংখ্য অভিযোগ গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংস্থাটি।

এলাকার হানিরাবাদ গ্রামে দেখা হয় ষাটোর্ধ্ব সোবহান তালুকদারের সঙ্গে। ক্ষেতে লোনাপানি তোলার কথা জানতে চাইলে তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। পানিতে নেমে দেখিয়ে দেন কীভাবে প্রভাবশালীরা বেড়িবাঁধ কেটে মোটা পাইপ বসিয়ে লোনাপানি তুলছেন চিংড়ি ঘেরে।

চোখ মুছতে মুছতে সোবহান বলেন, ‘বড় বড় ঘেরের চিংড়ি চাষিরা জোর করে আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। জমি উদ্ধার করতে না পেরে আমি আদালতে মামলা করেছি। লোনাপানি তোলা বন্ধের দাবিতে যত আন্দোলন হয়েছে, সব কটিতে সক্রিয় ছিলাম।

‘অনেকবার ঘের মালিকদের অপমানের শিকার হয়েছি। কিছুদিন আগেই এক ঘের মালিক বাজারের ওপর সবার সামনে আমার পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়। আমার ঘরের পাশে নালা কেটে তারা লবণ পানি তোলে।’

প্রভাবশালীদের চিংড়ি ঘেরে লোনাপানি, বিলীন হাজার বিঘা কৃষিজমি
লোনাপানি তোলার জন্য বেড়িবাঁধ কেটে বসানো মোটা পাইপ দেখিয়ে দেন কৃষক সোবহান। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘বর্ষায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় বাড়ি। কিছু বলতে গেলে আসে প্রাণনাশের হুমকি, গুমের ভয়। আমার দুই ছেলেকে এখানে রাখি না। ফ্যাসাদ এড়াতে তাদের অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি।’

কৃষিজমিতে লোনাপানি উত্তোলনবিরোধী স্থানীয় আন্দোলনকর্মী হরিচাঁদ সরকার প্রায় পুরোটা সময় ছিলেন প্রতিবেদকের সঙ্গে। কিছু দূরে এগোতেই তিনি দেখিয়ে দেন বিশালাকৃতির একটি চিংড়ি ঘের। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাতক্ষীরার বিঞ্চুনাথ ঘোষ প্রায় ২ হাজার বিঘার বেশি জমির ওই ঘেরের মালিক।

পাউবোর বাঁধ বেয়ে এগোতে এগোতে একের পর এক চোখে পড়ে সেই ঘেরের পানি উত্তোলনের দৃশ্য। বাঁধ খুঁড়ে ৮ থেকে ১০ হাত গভীরে বসানো হয়েছে কাঠের তৈরি বক্স। পাটা দিয়ে বক্স থেকে নদীর পানি তোলা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এখন শুকনা মৌসুম। কিছুদিন আগে ঘেরের মাছ আহরণ শেষ হয়েছে। বাগদা চিংড়ির পোনা ছাড়ার সময় পার হচ্ছে। তাই ঘেরের নিয়ন্ত্রকরাও এ সময়ে ব্যস্ত লোনাপানি তুলতে। জোয়ারের সময়ে বক্সের পাটা খুলে পানি তোলা হচ্ছে। ভাটার সময়ে সে পাটা বন্ধ করে লবণ পানি আটকে রাখা হয়।

দীর্ঘ বাঁধ পরিদর্শনে চোখে পড়ে এমন বড় বড় ঘেরের শত শত পানি উত্তোলন ব্যবস্থা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকার বড় বড় ঘেরগুলোর মালিক সবাই শহরে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। অনেকে ইজারা নিলেও ঠিকমতো টাকা পরিশোধ করেন না এমন অভিযোগও অনেক।

প্রভাবশালীদের চিংড়ি ঘেরে লোনাপানি, বিলীন হাজার বিঘা কৃষিজমি

স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিজেদের জমি কৃষকরা দখল নিতে চাইলে প্রভাবশালীরা তাদের ‘মাস্তান বাহিনী’ পাঠিয়ে হয়রানি-মারধর করেন। হাটে-বাজারে শুরু হয় হেনস্তা। অনেকে আবার বাড়িতে গিয়ে গুমের ভয় দেখান।

কৃষক হাসেম ঢালী বলেন, এলাকার উন্নয়ন না হওয়ায় অনেকে শহরমুখী হয়েছেন। তাদের জমি বড় ঘেরের মালিকরা ইজারা নেন। সেখানে লোনাপানি তুলে চিংড়ি চাষ করেন। লভ্যাংশের টাকা পান ঘেরের মালিকরা, তারাও থাকেন শহরে। আমাদের এলাকায় চাষাবাদের টাকা চলে যায় শহরে। আর অবহেলিত হয়ে থাকি আমরা। আমাদের গ্রামে কাজ নেই, ভালো রাস্তা নেই, ক্ষেতে ফসল নেই, শুধু আছে লবণ পানি।’

দ্বীপবেষ্টিত এলাকাটিতে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খাল। বর্ষার পানি সেসব খাল দিয়ে নামানোর জন্য আছে বেড়িবাঁধের ওপর পাউবোর স্লুইস গেট। অথচ সেই স্লুইচ গেট এখন নিয়ন্ত্রণ করেন ঘেরের মালিকরা। তারা সেগুলো দিয়ে জোয়ারের লোনাপানি তুলে নেন ঘেরে।

কৃষকরা জানান, স্থানীয়দের আন্দোলনের পর গেটের দায়িত্ব পাউবো বুঝিয়ে নিলেও এখনও প্রভাবশালীরা রাতে সেসব কপাট খুলে ঘেরে তোলেন লোনাপানি।

দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন কুমার মণ্ডল জানান, বর্তমানে ২০ নম্বর পোল্ডারের চারপাশে শত শত অবৈধ পাইপ ও জলকপাট তৈরি করা হয়েছে। গত বছর পাউবো থেকে সেগুলো শনাক্ত করে উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দিয়েছে, মাইকিং করে তা সরানোর নির্দেশ দিলেও সরাননি ঘের মালিকরা।

কৃষকরা চিংড়ি ঘেরের বিরোধী না। তারা লবণ পানির বিরোধিতা করেন। আমরাও চাচ্ছি এলাকা লবণমুক্ত হোক।

২০ নম্বর পোল্ডারের লতা ইউনিয়নের মধ্যে ২০০ বিঘার ঘের রয়েছে অজিয়ার রহমানের। এলাকাবাসীর অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ঘের থাকায় মানুষ চিংড়ির ব্যবসা করতে পারছেন। আবার সেখানে ধানও চাষ করছেন। অল্প কিছু মানুষ, যাদের জমি নেই, তারাই ঘেরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একসময় ঘের করতে গিয়ে জোরজুলুম চলেছে, এখন সেটা নেই। ঘেরের মালিকরা নিজেদের জমির পাশাপাশি হয়তো অল্প কিছু জমি ইজারা নেন।’

খুলনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘ওই এলাকায় আমরা লবণ পানি তুলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। বেড়িবাঁধ ছিদ্র না করতে বারবার মাইকিং করেছি। আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই।’

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ‘কৃষকরা চিংড়ি ঘেরের বিরোধী না। তারা লবণ পানির বিরোধিতা করেন। আমরাও চাচ্ছি এলাকা লবণমুক্ত হোক।’

উচ্চ আদালতের আদেশের বাস্তবায়ন নেই

২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২০১০ সালে উপকূলীয় পাঁচ জেলায় অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ির চাষ বন্ধ করতে উচ্চ আদালতে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। যার মধ্যে ছিল খুলনার নামও। প্রাথমিক শুনানি শেষে কৃষিজমিতে লবণ পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ সীমিত রাখার আদেশ দেয় আদালত। ২০১২ সালে একই আদেশ বহাল রেখে দেয়া হয় চূড়ান্ত রায়। হাইকোর্টের সে রায় উপেক্ষা করে ২০ নম্বর পোল্ডারে এখনও করা হচ্ছে চিংড়ির চাষ। এতে ২৭ হাজার বিঘা জমির কৃষিব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে।’

হাইকোর্টের সে আদেশ লঙ্ঘিত হওয়ায় সম্প্রতি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নোটিশ করেছেন বেলার আইনজীবী এস হাসানুল রানা। নোটিশে তিনি বলছেন, লবণের কবল থেকে কৃষিজমি বাঁচাতে উচ্চ আদালতের রায় আছে, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনাও আছে। তা সত্ত্বেও ২০ নম্বর পোল্ডারের কৃষিজমি রক্ষায় উদ্যোগ না নেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপন্থি ও আদালত অবমাননার শামিল।’

এ বিষয়ে বেলার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান বলেন, কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর খুলনার দাকোপ উপজেলার ৩২ নম্বর পোল্ডারে চাষ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অন্য এলাকায় কৃষিজমিতে লোনাপানি তুলে ঠিকই চিংড়ি চাষ হচ্ছে। আসলে আদালতের ওই আদেশ পালনে ব্যবস্থা নিতে অনীহা রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের।’

দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লবণ পানির ঘের বন্ধ করতে ইউনিয়ন পরিষদে স্থায়ীয় ৮০ শতাংশ মানুষ আবেদন করেছিল। এরপর চলতি বছরে পরিষদ থেকে রেজ্যুলেশন করে ঘের বন্ধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হয়।

পাইকগাছা উপজেলার ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, ‘এলাকার মানুষ লবণ পানির ঘের বন্ধ করতে জোটবদ্ধ হয়েছেন, তাই ঘেরমালিক ও তাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে নতুন করে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Begum Khaleda Zia can receive treatment Zahid Hossain

চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বেগম খালেদা জিয়া: জাহিদ হোসেন

চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বেগম খালেদা জিয়া: জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।

এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।

তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।

বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।

আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’

দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।

তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’

জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।

গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farewell reception for 3 head teachers of Bisharampur Secondary School was held

বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sariakandi has not had a secondary education officer for 10 months disrupting education

সারিয়াকান্দিতে ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সারিয়াকান্দিতে ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”

মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”

বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 workers were burnt in an explosion at a factory in Narayanganj

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বিস্ফোরণে ৬ শ্রমিক দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।

জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
During the illegal infiltration the Bangladeshi detained with the smugglers on the Garo Hill border

অবৈধ পথে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে পাচারকারীসহ ৭ বাংলাদেশী আটক

অবৈধ পথে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে পাচারকারীসহ ৭ বাংলাদেশী আটক

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।

আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।

বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police Super Ujjal Kumar Roy inaugurated the Loto Showroom in Jhalakathi

ঝালকাঠিতে লোটো শোরুম উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়

ঝালকাঠিতে লোটো শোরুম উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়

ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।

এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।

পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।

কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে

মন্তব্য

সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ, আসামীর যাবজ্জীবন

সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ, আসামীর যাবজ্জীবন

নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র‌্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।

মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।

মন্তব্য

p
উপরে