শুক্রবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট। ঘটনাস্থল কারওয়ান বাজার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে সেখানে চলে ব্যাপক কেনাবেচা।
কিচেন মার্কেটের নিচতলায় সয়াবিন তেল কিনতে এসেছিলেন একজন। ঢোকেন হাজি স্টোর নামে একটি দোকানে। কিন্তু কেবল তেল কিনতে পারেননি তিনি। দোকানি কামাল গাজী তাকে শর্ত দেন, তেল নিতে চাইলে কিনতে হবে পোলাওয়ের চাল।
প্রথমে শর্ত মানতে রাজি হননি সেই ব্যক্তি। রাগ করে চলে যান দোকান থেকে। কিছুক্ষণ পর আবার ফেরেন দোকানে। দোকানির শর্ত মেনে রূপচাঁদা কোম্পানির দুই লিটার সয়াবিন তেলের সঙ্গে একই কোম্পানির প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল নিয়ে যান।
প্রথমে দোকানি দাবি করেছিলেন, দুই লিটার তেলের সঙ্গে চাল নিতে হবে দুই কেজি। পরে তিনি কিছুটা নরম হয়ে এক কেজিতে রাজি হন।
বেঁধে দেয়া দামেই কিনতে পেরেছেন সেই ক্রেতা, তবে এ জন্য বাড়তি খরচ করতে হলো ১৩০ টাকা। তিনি চাইলে খোলা পোলাওয়ের চাল কিনতে পারতেন ৯০ টাকা করে, সেখানে সাশ্রয় হতো ৪০ টাকা। তবে সেই সুযোগ ছিল না তার সামনে।
বিক্রেতাকে চাহিদামতো পণ্য না দিয়ে শর্ত বেঁধে দেয়া স্পষ্টত আইনের বিরোধী। তাহলে কেন এই কাজ করলেন- এমন প্রশ্নে দোকানি কামাল গাজী নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তারা তেল পাচ্ছেন না। যেটুকু পাচ্ছেন সেটুকুর জন্য কোম্পানিও একই ধরনের শর্ত দিচ্ছে। যেমন পুষ্টি কোম্পানির তেল পেতে হলে তাদের সেই কোম্পানির চা পাতা কিনতে হয়। রূপচাঁদা কোম্পানির তেল পেতে হলে বাড়তি পণ্য হিসেবে নিতে হচ্ছে পোলাওয়ের চাল। ফলে তারাও ক্রেতাদের এই শর্ত দিচ্ছেন।
সেই ক্রেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এইগুলো দেখেন, তেল কিনতে আইসা চাল কিনতে হইতেছে।’
বিক্রেতা তখন হাস্যরস করে বলছিলেন, ‘ভাবি খুশি হইয়া যাইব। ভাই পোলার চাল নিয়া বাসায় গেছে।’
এই মন্তব্যে ক্রেতার কণ্ঠে ঝরে পড়ল আরও অসহায়ত্ব। বলছিলেন, ‘আমার বাসায় পোলাওয়ের চাল আছে, এটা দরকার নেই।’
১ মার্চ থেকে সয়াবিন তেল লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব সরকার ফিরিয়ে দেয়ার পর থেকে রান্নার উপকরণটির বাজার স্বাভাবিক নয় মোটেও।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে সরবরাহ কমে গছে, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফ্যাক্টরি থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে না, তবে কারখানা মালিকরা স্বীকার করছেন না।
অতীতে নানা সময় একই ধরনের পরিস্থিতি যখন তৈরি হয়েছে, তখনও এই বক্তব্যগুলোই এসেছে গণমাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত চাপটা গিয়ে ঠেকে ভোক্তাদের ঘাড়ে, যাদের আসলে তখন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকায় কিনতে হয়।
অন্য একটি দোকানে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতারা দুই বা তিন কনটেইনার তেল চাইলে তাদের একটি দিতে বলছেন বিক্রেতা।
আলী স্টোরের স্বত্বাধিকারী আলী আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকেই আইসা পাঁচ লিটারের তিনটা-চারটা বোতল নিতে চান। তাগোরে কইছি, আপনাগো সব দিয়া দিলে অন্য কাস্টমারগো কী দিমু? আস্তে ধীরে নেন। শেষ হইলে আবার নিয়েন।’
কারওয়ান বাজারে খুচরা বিক্রেতা ওমর ফারুক জানান, তাদের যে পরিমাণ পণ্যের দরকার, সে পরিমাণ তেল সরকার ও কোম্পানিগুলো দিচ্ছে না। বলেন, যারা বেশি দাম দিয়ে কিনছেন, শুধু তাদেরই দেয়া হচ্ছে, কখনও কখনও বোতলে গায়ের মূল্যে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা ধরে রাখতে এটা করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
চাইলেই পাওয়া যাচ্ছে না খোলা তেল
বোতলজাত সয়াবিন তেল নানা শর্তে তাও পাওয়া যাচ্ছে, তবে খোলা তেলের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। তেল রেখে কারও পক্ষে ক্রেতাদের না করার সুযোগ নেই। তবে তেল চেয়ে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খোলা সয়াবিন তেলের ভোক্তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন খাবার হোটেল বা নিম্ন আয়ের মানুষ অথবা নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে বিক্রি করেন- এমন ছোট দোকানি।
কিন্তু কয়েক দিন ধরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা তেল নেই বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে কারওয়ান বাজারের একাধিক বিক্রেতাকে এই অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, ১৫ দিন দোকান বন্ধের সাজাও দেয়া হয়েছে।
খোলা তেলের দাম নিয়ে একটু বিভ্রান্তি অবশ্য আছে। সরকার ঠিক করে দিয়েছে খোলা সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে লিটারে ১৪৩ টাকা আর সুপার পাম তেলের দাম ১৩৩ টাকা।
কিন্তু কারওয়ান বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ১৭০ টাকা আর সুপার পামঅয়েল ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এর কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার দাম ঠিক করেছে লিটারে, কিন্তু এখানে বিক্রি হয় কেজি দরে। এক কেজি তেল এক লিটারের চেয়ে কিছুটা বেশি। এ কারণে দামে পার্থক্য।
নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয় রিকশাচালক সুজন মিয়ার সঙ্গে। আধা কেজি খোলা সয়াবিন কিনতে তাকে ব্যয় করতে হয় ৮৫ টাকা।
তিনি বলেন, ‘এমনি চললে তো আমরা বাজার কইরা খাইতে পারমু না। হুনছি বোতলের কেজি নাকি ২০০ টাকা হইছে। তাই খোলা তেল নিলাম।’
সমিতির নেতা জানালেন দুই কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলছেন, দুটি কারখানা থেকে সরবরাহ নেই।
কোন দুই কারখানা?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘টি কে গ্রুপের নেই। ফ্রেশের নেই। জাহাজে মাল আসতেছে বলেছে।’
টি কে গ্রুপ পুষ্টি নামে সয়াবিন তেল বাজারজাত করে আর ফ্রেশ নিজের নামেই বাজারে তেল ছাড়ে।
এই সংকট থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দু-এক দিনের ব্যাপার।’
সরকার তেলের দাম ১২ টাকা বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব নাকচ করলেও গোলাম মওলা বলছেন, বাড়ানো উচিত ছিল।
তিনি বলেন, ‘সমন্বয় করতে হবে তো। আপনি কিনে আনবেন ১০ টাকায়, বিক্রি করবেন ৮ টাকায় তাহলে তো মাল আনবেন না।’
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধপরিস্থিতি এই বাজারকে আরও তাতিয়ে দিচ্ছে।
তাহলে সমাধান কী হতে পারে?- গোলাম মওলা বলেন, ‘সরকার যদি ভ্যাট বাতিল করে তাহলে কিছুটা সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম কমানোর বিকল্প কোনো পথ নেই।’
সংকট আছে, দাম বাড়ালে ঠিক হবে: সিটি গ্রুপ কর্মকর্তা
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে তেল বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ কুমার সাহা নিউজবাংলার কাছে স্বীকার করেছেন বাজারে সরবরাহ সংকট আছে। আর দাম বাড়ানোই এর সমাধান বলে মনে করেন তিনি।
নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাজারে একটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আমার যা উৎপাদন হচ্ছে পুরোটাই ডেলিভারি হচ্ছে।’
তেলের সরবরাহ কেমন- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তারা প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টন বাজারে ছাড়ছেন। বলেন, ‘আমারটা আমি বলে দিলাম। অন্যেরটা জানি না।’
রমজানে ভোজ্যতেলের সংকট হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তেলের দাম ১২ টাকা বৃদ্ধির যে প্রস্তাব সেটা মেনে নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার মনে হচ্ছে কারণ সবাই তো জানে দাম বাড়বে।’
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা—এই পাঁচটি প্রধান শহরের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরের ভিসা সেন্টারগুলোতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছিল ভারত। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘোষণা দিতে পেরে তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল ভিসা প্রসঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, এই ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবিক বিবেচনায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর সাধারণ ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিনেই ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ভিসা সেন্টার পরিদর্শন করে সাধারণ আবেদনকারীদের কথা শুনবেন এবং সেবার মান উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করবেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। সাবেক এই রেলমন্ত্রীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। গত ১২ জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দীনেশ ত্রিবেদীকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে ভারত সরকার। গত ২৪ জুন জারি করা এক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে দায়িত্বরত থাকাকালীন তাঁকে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মূলত আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকায় (টেবিল অব প্রিসিডেন্স) তিনি এই উচ্চমর্যাদা ভোগ করবেন।
তবে স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে ভারতের স্থায়ী প্রটোকল তালিকায় বা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মৌলিক কাঠামোতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলে দীনেশ ত্রিবেদীর এই বর্ধিত মর্যাদা দুই দেশের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে উড্ডয়নের প্রাক্কালে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পরে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানের দরজা ভেঙে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭০ জন যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে বের করে আনা হয়।
জানা গেছে, ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হঠাৎ ককপিটের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বা অগ্নি-সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। বিপদ টের পেয়ে অভিজ্ঞ পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজটি থামিয়ে দেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি অবহিত করেন। ইঞ্জিনে ত্রুটির খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা দ্রুত বিমান থেকে নামার চেষ্টা করেন। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উড্ডয়নের আগেই যান্ত্রিক গোলযোগ শনাক্ত হওয়ায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উড্ডয়ন বাতিল করে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর এবং সকল নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে ফ্লাইটটি পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঞ্জিনের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সময়োচিত এই পদক্ষেপের কারণে যাত্রীদের জীবন রক্ষা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ছবি: সংগৃহীত
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদানের পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যাদের একটি বড় অংশ সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক মাদকের শিকার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, বর্তমান মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। তাঁর ভাষায়, “পরিস্থিতি অনেকটা ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারে’র মতো।” এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার মাদক আইন সংশোধনের কাজ শুরু করেছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলা জট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাতেও প্রচুর মামলা ঝুলে আছে। প্রথাগত আদালত ব্যবস্থায় এই বিশাল সংখ্যক মামলার বিচার সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তাই বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ‘স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি প্রচলিত আদালতেও মাদকের বিচার কাজ যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এদিন ১৫টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয় এবং মোট ৭৩টি কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিস্তা নদী প্রকল্পসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও গবেষণাধর্মী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
বৈঠকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চলমান নদী খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের সক্রিয় কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া নদীভাঙন রোধ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশনের উন্নয়নে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রত্যুত্তরে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বর্তমান সহযোগিতা অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর। মন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে প্রভূত উন্নতি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানান।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকের শেষে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ বই উপহার দেন। এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নে চীনের সাথে সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রভাবশালী মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের প্রারম্ভে লিউ হাইশিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নয়বার চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সগৌরবে জানান যে, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক চীন সফরের দুর্লভ স্থিরচিত্র তাঁর সম্মানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বিএনপি ও সিপিসি-র মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব উল্লেখ করে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লিউ হাইশিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, চীন সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। তিনি পারস্পরিক সম্মান ও গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সক্রিয় কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বিকশিত হবে।
চীনের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন যে, তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। চীনের পক্ষ থেকেও সিপিসি-র আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকালে দিয়াওইউতাই হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এই সভায় চীনের শীর্ষস্থানীয় ১২৫ জন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনের মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।” তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ‘ভ্যালু চেইন’ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং পুঁজি প্রবাহ সহজতর করতে তাঁর সরকার বর্তমানে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণ এবং একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষায়িত ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিতে খুব শীঘ্রই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি। সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বাংলাদেশে বিনিয়োগের বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি বিশেষ উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগ ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ আহ্বানের ফলে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে চীনা বিনিয়োগের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে।
মন্তব্য