নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বাড়ার পেছনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ মন্তব্য করে পদত্যাগ দাবি করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সাভার, বরিশাল, ভোলা, জামালপুর, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি , নাটোর, নীলফামারী ও পটুয়াখালীতে সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
কর্মসূচিতে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তবে সমাবেশে বিএনপির মিছিলে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ায় বিএনপির একাধিক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
‘এমপি-মন্ত্রীরা চুরি করতে করতে দেশে দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বগতি’
বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরা চুরি করতে করতে আজ দেশে সব দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বগতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন দেশে সুষ্ঠু কোনো নির্বাচন হবে না। তাদের ভোট ডাকাতি এখন দেশ ডাকাতিতে পরিণত হয়েছে।’
বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সমাবেশে জেলার দশটি উপজেলার নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু সরকারের নানা সমালোচনা করেন।
সাধারণ মানুষ সরকারের নির্যাতনের শিকার বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মীদের সব অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি ভুলে তারেক রহমানের ডাকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একাট্টা হওয়ার আহবান জানান তিনি।
‘আওয়ামী লীগ জনগণের দুঃখ দেখে না, তাই দ্রব্যের দাম কমে না’
জামালপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক রুমীন ফারহানা এমপি বলেছেন, ‘সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা জড়িত। তারা সিন্ডিকেটের কাছ থেকে টাকা পেয়ে দেশের বাইরে সম্পত্তি বানাচ্ছে। এই সরকার জনগণের সরকার না, জনগনের দুঃখ সরকার দেখে না; তাই দ্রব্যমূল্যের দাম কমে না।’
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।’
জেলা শহরের শফি মিয়ার বাজার মোড় এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে দেশের বাইরে অঢেল সম্পদ বানাচ্ছে। এই অঢেল সম্পদের হিসাব বিএনপির কাছেও আছে। কড়ায় গন্ডায় সেই হিসাব নেয়া হবে।’
এবারের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার আরও ৫৫০ জনের তালিকা করেছে। যারা দেশে খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত। জনগণ তাদেরকে ছাড় দিবে না। এবারের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবে। বিএনপির জয়লাভের পরই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’
সমাবেশে বক্তারা চাল, ডাল, তেল ও গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে টিসিবির মাধ্যমে সহনীয় মূল্যে গ্রাম ও শহরে মানুষের মধ্যে পণ্য সরবরাহের দাবি জানান। দ্রুত দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সমাবেশে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে না পারলে ক্ষমতা ছাড়ুন’
চাল, ডাল, তেল, গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে না পারলে ক্ষমতা সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ আহবান জানান।
তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করে। তা রোধ করতে না পারলে সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিক।’
বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে ফেরেশতা দিয়েও যদি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, তবু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। জনগণের দাবির মুখে এই কমিশন পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে।’
‘আপনারা নিশ্চিত থাকেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি আগামীতে কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।’
‘নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো কমিশনের নির্বাচনে যাবে না বিএনপি’
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো সরকার মনোনীত নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
খাগড়াছড়িতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দলটি নির্বাচনে যাবে।’
সমাবেশে খাগড়াছড়ি বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. শরীফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম রাশেদ খানসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলা নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ‘অবৈধ পথে ক্ষমতায় আসা সরকার দেশের কোনো কিছুর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না। যার প্রভাব পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ঘাড়ে। দেশের মানুষ অনাহারে মরছে আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজেদের আখাড় গুছিয়ে নিচ্ছে। নিত্য পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট। তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে।
‘সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে’
নীলফামারীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুইয়া বলেন, ‘সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোনো দিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তাই অবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’
শহরের পৌর বাজারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা তার মুক্তি চাই।’
‘ব্যবসায়ীদের দিয়ে জনগণের পকেট কাটছে সরকার’
সরকার ব্যবসায়ীদের দিয়ে জনগণের পকেট কাটছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ শামছুল আলম।
ভোলা জেলা বিএনপিরর আয়োজনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধান অতিথিত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন সমাবেশে পুলিশের উপস্থিত ছিলো চোখে পড়ার মতো।
শামছুল আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বাজার ব্যবস্থার উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। গরীব-দুঃখী মানুষদের শেষ করে দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের দিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগনের পকেট কাটছে।’
‘তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে, পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।’
দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘চাল, ডাল, তেলের দাম কমান, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম কমান। জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।’
পুলিশের ওপর বিএনপিকর্মীদের ইট-পাটকেল, আটক ২
সাভারে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়লে লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। আটক করা হয় বিএনপির দুই কর্মীকে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করলে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক দুজনের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ঢাকা জেলা বিএনপির সহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম জানান, ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবুর ব্যাংক কলোনির বাসায় জড়ো হতে থাকেন। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ও বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীও সেখানে উপস্থিত হন।
সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা এলাকায় গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বিএনপিকর্মীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়লে লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহাসড়কে বিনা অনুমতিতে সমাবেশ করার চেষ্টা করা হয়। আমরা তাদের অনুমতির কথা বললে আকস্মিকভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। নাশকতামূলক কাজ করার চেষ্টা করা হয়।’
মিছিলে ছাত্রলীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ‘হামলা’
পটুয়াখালীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে বিএনপির অন্তত ৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন।
তিনি বলেন, ‘সকালে বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিএনপির বনানী রোডের কার্যালয় থেকে সরকারী কলেজের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের বাধার মুখে পরে। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর মিছিলটি নিয়ে বনানী চত্বরে আসে।’
‘এ সময় উল্টো দিক থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামধারী সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে বিএনপির অন্তত ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় একটি মোটরসাইকেল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে উপস্থিত পুলিশও আমাদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সফিউল বাশার উজ্জল, সদর থানা ছাত্রদলের আহবায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ, দেলোয়ার হোসেন, কাজী মাহাবুব আলম, মীর মাকসুদুর রহমান, বশির উদ্দিন, মোস্তফা, নুরুজ্জামান, মশিউর রহমান মিলনসহ অনেকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সফিউল বাশার উজ্জল বলেন, ‘কর্মসূচীতে আওয়ামী লীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে আমার হাত ভেঙে যায়। ঘটনাস্থালে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে আমাদের পেটায়।’
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিএনপির লোকজন মিছিল নিয়ে বনানী চত্বরে এলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদেরকে ধাওয়া করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এ সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিাতি শান্ত করে।
জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রিফাত হাসান সজীব বলেন, ‘যে কোনো ই্যসুতে বিএনপি নাটক করে আসছে। বিগত দিন থেকেই নিজেদের দ্বন্দ্ব আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আজকের ঘটনায় আমরা দায়ী নয়।’
এ বিষয়ে নদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষায় ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এনেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।’
হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কে বা কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বিএনপির কেউ আহত হয়েছে কিনা তাও বলতে পারব না। আমাদের কাছে এমন কোনো খবর নাই।’
এছাড়া লক্ষ্মীপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ আরও কিছু জেলায় এ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এসব সমাবেশেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারকে দায়ী করে নানা সমালোচনা করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো সরকার মনোনীত নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথাও বলেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য