এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও পরিবহন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রাখাসহ নানা ক্ষেত্রে সংস্কার চান বিনিয়োগকারীরা। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীরা এসব কথা জানিয়েছিলেন। তাদের এসব চাওয়া থেকে ২৪টিকে সুপারিশ আকারে নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। দেশের বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে এসব সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবে সংস্থাটি।
সোমবার ঢাকায় বিডা আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সামিট-২০২১ (আইআইএস-২০২১) পোস্ট ইভেন্ট ওয়ার্কশপে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল) নুজহাত আনোয়ার, বিডার নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিন, এফসিডিও’র বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জুডিথ হারবার্টসন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম।
আইআইএস-২০২১ অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২৮-২৯ নভেম্বর। সামিটে প্রাপ্ত বিনিয়োগ ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পর্যালোচনায় হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এই পোস্ট ইভেন্ট ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্কশপে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের যেসব সুপারিশ এসেছে তার অনেকগুলো নিয়ে আমরা আগে থেকেই কাজ করছি। অধিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগুলো আমরা যুগোপযোগী করছি। বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার সব সুবিধা দিচ্ছে।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতুসহ বেশ ক’টি মেগা প্রকল্প প্রায় শেষ পর্যায়ে। এগুলো চালু হলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে। সরকার সব খাতেই ব্যক্তি-বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার শুধু নীতিসহায়তা দিচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি মিলে একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগের উর্বর ক্ষেত্র হবে।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে বিনিয়োগ সম্মেলনে স্বশরীরের পাশাপাশি অনলাইনেও অংশগ্রহণে সুযোগ ছিল। সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। করোনায়ও সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে সরকার দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেছে। এমনকি করোনায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে।
‘পদ্মা সেতুসহ বেশ ক’টি মেগা প্রকল্প প্রায় শেষ পর্যায়ে। এগুলো চালু হলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তবে আমি বলব যে আমরা এখনো এফডিআইয়ে পিছিয়ে আছি। মেগা প্রকল্পগুলো চালু হলে তা এফডিআই বাড়াতে সাহায্য করবে। সরকার সব খাতেই ব্যক্তি-বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার শুধু নীতিসহায়তা দিচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি মিলে একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগের উর্বর ক্ষেত্র হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘অনেকে বলেন যে বিডার ওয়ানস্টপ সার্ভিস আরও কার্যকর করা সম্ভব। আমিও এর সঙ্গে একমত। এজন্য সমন্বয় জোরদার করতে হবে। তবে বিডার পাশাপাশি অন্য সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমাদের সেক্টরভিত্তিক নীতি রয়েছে। শুধু বিদ্যমান নীতিগুলোর কিছুটা সংস্কার করতে হবে।’
মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে আমাদের নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা দ্রুতই চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি এবং সে অনুযায়ী কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী এটি সব সময় নজরে রেখেছেন।’
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে বিডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এ জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করেছি (ওএসএস)। ভোগান্তি ছাড়া দ্রুত এই সেবা নিতে বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু এই খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে।’
বিডার পরিচালক সামিটে প্রাপ্ত ২৪টি বিনিয়োগ পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কার সুপারিশমালা এবং সেগুলো বাস্তবায়নে বিডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে অবকাঠামো খাতে সাতটি, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে ৯টি, সেবা খাতে দুটি, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে তিনটি এবং সামষ্টিকভাবে বিনিয়োগের জন্য দুটি সুপারিশ হয়েছে। এই সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেবে বিডা।
অনুষ্ঠানে জাপানের অ্যাম্বাসেডর ইতো নাওকি বলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষের দিকে রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে এটি উৎপাদনে যেতে প্রস্তুত হচ্ছে। এটি শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আনতেও প্রস্তুত হচ্ছে। এটি সফলভাবে যাত্রা শুরুর পর জাপান মিরসরাইয়ে আরেকটি ইকনোমিক জোন তৈরি করবে। শুধু জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলই নয়, আমি আশা করি অন্য অঞ্চলগুলোও দ্রুত এগিয়ে যাবে। আর তা বাংলাদেশে বিনিয়োগ আনতে কাজ করবে।’
তুর্কি অ্যাম্বাসেডর মোস্তফা ওসমান বলেন, ‘তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এদেশে নিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা বাংলাদেশকে একটি ইকনোমিক হাব হিসেবেই দেখছে। শুধু উৎপাদন নয়, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যও রয়েছে তুরস্কের কোম্পানিগুলোর।’
কর্মশালায় বিডার পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম কী-নোট উপস্থাপন করেন। তাতে ভারত, চীন, জাপান, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্য সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের বিনিয়োগ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি এবং সামিটের ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিনিয়োগ চুক্তি, সমঝোতা স্মারকের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
বিডার পরিচালক সামিটে প্রাপ্ত ২৪টি বিনিয়োগ পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কার সুপারিশমালা এবং সেগুলো বাস্তবায়নে বিডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে অবকাঠামো খাতে সাতটি, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে ৯টি, সেবা খাতে দুটি, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে তিনটি এবং সামষ্টিকভাবে বিনিয়োগের জন্য দুটি সুপারিশ হয়েছে। এই সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেবে বিডা।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দিয়ে নীতি প্রণয়ন, জাতীয় লজিস্টিক কৌশল প্রণয়ন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ইক্যুইটি ক্যাপ পুনর্বিবেচনা করা, পরিবহন খাত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা, বন্দর তদারকি ও পরিচালনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা এবং এফডিআই’র জন্য বন্দর উন্নয়নসহ উন্মুক্ত করা।
আরো রয়েছে- আন্তর্জাতিক লজিস্টিক বিনিয়োগকারীদের প্রবেশের বাধা দূর করা, সরবরাহ ও গুদামজাতকরণের জন্য উন্নত মোবাইল নেটওয়ার্কভিত্তিক ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালুকরণ ও গুনগত মান উন্নত করা, স্থায়ী সবুজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্দেশিকা তৈরি ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে পিপিপি কাঠামো আধুনিক করা।
আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারের সুপারিশ
শিল্প-অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে বিদেশি বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণকে উৎসাহিত করতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাকে আরও উদারীকরণের নীতি গ্রহণ করা। ব্যবসায়িক পুনর্গঠন এবং করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য দেউলিয়া আইনকে আধুনিক করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও সুরক্ষিত বিল প্রণয়ন করা। নতুন নতুন আর্থিক উপকরণ প্রবর্তনের জন্য এবং বন্ড বাজারের আকর্ষণ নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
ঋণ ও ইক্যুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণে পুঁজিবাজারের আধুনিকীকরণ এবং বিনিয়োগগকারীদের সুরক্ষায় প্রবিধান ও নির্দেশিকা তৈরিকরণ, জাতীয় টেকসই (লেবেলযুক্ত) বন্ডের গাইডলাইন প্রণয়ন, বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইসলামী ব্যাংকিং সেবার জন্য প্রবিধান ও নির্দেশিকা তৈরি করা।
সেবা খাত
তথ্য-প্রযুক্তি খাতে এফডিআই আকৃষ্ট করতে নির্দেশিকা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা, ফ্রি-ল্যান্সিং উৎসাহিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম খোলার অনুমতি দিতে শিক্ষা আইন পুনর্বিবেচনা করা।
উৎপাদন খাত
অন্তর্জাতিক পরিবেশ ও সামাজিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা, উচ্চ সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যের জন্য ট্যারিফ ও প্যারা ট্যারিফ (হ্রাস) যুক্তিযুক্ত করা, আন্তর্জাতিক মান পূরণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা।
সাধারণ সুপারিশ
সব ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও ব্যবসা-সম্পর্কিত পরিষেবাগুলো একীভূত করে একটি একক ওয়ান স্টপ শপ তৈরি করা, সরকার-টু-ব্যবসা পরিষেবা ও প্রবিধানগুলোর জন্য স্বচ্ছতা ও পদ্ধতিগত স্পষ্টতা নিশ্চিত করা এবং উদ্ভাবনী ব্যবসাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বই পড়ার সুযোগ পৌঁছে দিতে বর্তমানে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাড়ির মাধ্যমে ৬৪ জেলার ৩৬৮টি উপজেলা ও থানার তিন হাজার ২০০টি স্পটে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের টেবিল উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের কাছে বই পড়ার বিকল্প উৎস তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নিতাই রায় চৌধুরী আরও জানান, জনগণের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধি, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি ও মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রতিটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একটি ফ্লোর পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।’
প্রথম পর্যায়ে ২৬টি উপজেলা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে পর্যায়ক্রমে কুড়িগ্রাম-১ আসনের ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলাসহ দেশের সব উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স ও আধুনিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার বক্তব্য শুনতে তাকে ডাকা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সই করা এক নোটিশ পাঠানো হয়। তাতে মাহবুব মোর্শেদকে আগামী সোমবার দুপুর ৩টায় সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, মাহবুব মোর্শেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
নোটিশে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপিসহ হাজির হতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় নিজের একটি গাড়ি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদমাধ্যমেই ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি বাসসে গিয়ে কর্মীদের ‘বিক্ষোভের’ মুখে পড়েন মাহবুব মোর্শেদ। সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর সেখানে ফেরেননি তিনি। পরে ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করে লেখেন, ‘মব তৈরি করে’ তাকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে।
এর পরদিন তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। কমিটির কাছে তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ার কথা বলেন বাসসের কর্মীদের কয়েকজন।
সবশেষ গত ১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে মাহবুব মোর্শেদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা ৬০ দিনের মধ্যে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট মামলা নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরে রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, ‘রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে ২০১৯ সালের ২০ মে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (গ্রেড-১৬) পদে ৪৬৮ জনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ১৯ হাজার ৫৬২ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু গত দুই বছরেও এই পরীক্ষা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
পরে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহীদুল ইসলামসহ ৬৬ জন হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সচিবালয়কে নির্দেশ দেন। এরপরেও পরীক্ষা অনুষ্ঠানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আগামী ১০ জুলাই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
জবাবে রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি নুরুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘ইতোপূর্বে চারবার দিন ধার্য করলেও পরীক্ষা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে এই ধার্যকৃত দিনেও যে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে তা নিশ্চয়তা কোথায়।’
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেন।
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭২ জন বাংলাদেশি। তারা দেশেটির বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। বৃহস্পতিবার বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তারা দেশে ফিরেছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ছবি: সংগৃহীত
মুহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের (২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবি বলছে, জরিপটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির চিত্রের বিশ্লেষণ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে এই জরিপ করেছিল টিআইবি।
বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।
তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে। পাশাপাশি কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে বা আগের মতোই রয়ে গেছে।
দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।
দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির বদলে সুবিধা পাওয়া।
জরিপে আরও দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা—এই পাঁচটি প্রধান শহরের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরের ভিসা সেন্টারগুলোতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছিল ভারত। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘোষণা দিতে পেরে তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল ভিসা প্রসঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, এই ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবিক বিবেচনায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর সাধারণ ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিনেই ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ভিসা সেন্টার পরিদর্শন করে সাধারণ আবেদনকারীদের কথা শুনবেন এবং সেবার মান উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করবেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। সাবেক এই রেলমন্ত্রীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। গত ১২ জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দীনেশ ত্রিবেদীকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে ভারত সরকার। গত ২৪ জুন জারি করা এক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে দায়িত্বরত থাকাকালীন তাঁকে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মূলত আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকায় (টেবিল অব প্রিসিডেন্স) তিনি এই উচ্চমর্যাদা ভোগ করবেন।
তবে স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে ভারতের স্থায়ী প্রটোকল তালিকায় বা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মৌলিক কাঠামোতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলে দীনেশ ত্রিবেদীর এই বর্ধিত মর্যাদা দুই দেশের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য