× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Foolish companion
google_news print-icon

বোকা সঙ্গী

বোকা-সঙ্গী
নাপিত সেই বড়শির সঙ্গে সাত-আটটি পাঁঠা গাঁথিয়া এক গাছি ‘লোহার শিকলে সেই বড়শি আটকাইয়া একটা গাছের সঙ্গে বাঁধিয়া রাখিল। তারপর জোলাকে সঙ্গে লইয়া গাছের ডালে উঠিয়া বসিয়া রহিল।

এক নাপিত। তার সঙ্গে এক জোলার খুব ভাব। নাপিত লোককে কামাইয়া বেশি পয়সা উপার্জন করিতে পারে না। জোলাও কাপড় বুনিয়া বেশি লাভ করিতে পারে না। দুইজনেরই খুব টানাটানি। আর টানাটানি বলিয়া কাহারো বউ কাহাকে দেখিতে পারে না। এটা কিনিয়া আন নাই, ওটা কিনিয়া আন নাই বলিয়া বউরা দিনরাতই শুধু মিটির মিটির করে। কাঁহাতক আর ইহা সহ্য করা যায়।

একদিন জোলা যাইয়া নাপিতকে বলিল, ‘বউয়ের জ্বালায় আর তো বাড়িতে টিকিতে পারি না।’

নাপিত জবাব দিল, ‘ভাইরে! আমারও সেই কথা। দেখ না আজ পিছার বাড়ি দিয়া আমার পিঠের ছাল আর রাখে নাই।’

জোলা জিজ্ঞেস করে, ‘আচ্ছা ভাই, ইহার কোনো বিহিত করা যায় না?’

নাপিত বলে, ‘চল ভাই, আমরা দেশ ছাড়িয়া বিদেশে চলিয়া যাই। সেখানে বউরা আমাদের খুঁজিয়াও পাইবে না; আর জ্বালাতনও করিতে পারিবে না।’

সত্যি সত্যিই একদিন তাহারা দেশ ছাড়িয়া পালাইয়া চলিল।

এ দেশ ছাড়াইয়া ও দেশ ছাড়াইয়া যাইতে যাইতে তাহারা এক বিজন বন-জঙ্গলের মধ্যে আসিয়া পড়িল। এমন সময় হালুম হালুম করিয়া এক বাঘ আসিয়া তাদের সামনে খাড়া। ভয়ে জোলা তো ঠিরঠির করিয়া কাঁপিতেছে।

নাপিত তাড়াতাড়ি তার ঝুলি হইতে একখানা আয়না বাহির করিয়া বাঘের মুখের সামনে ধরিয়া বলিল, ‘এই বাঘটা তো আগেই ধরিয়াছি। জোলা! তুই দড়ি বাহির কর-সামনের বাঘটাকেও বাঁধিয়া ফেলি।’

বাঘ আয়নার মধ্যে তার নিজের ছবি দেখিয়া ভাবিল, ‘এরা না জানি কত বড় পালোয়ান। একটা বাঘকে ধরিয়া রাখিয়াছে। আবার আমাকেও বাঁধিয়া রাখিতে দড়ি বাহির করিতেছে।’ এই না ভাবিয়া বাঘ লেজ উঠাইয়া দে চম্পট।

জোলা তখনো ঠিরঠির করিয়া কাঁপিতেছে। বনের মধ্যে আঁধার করিয়া রাত আসিল। ধারেকাছে কোনো ঘরবাড়ি নাই। সেখানে দাঁড়াইয়া থাকিলে বাঘের পেটে যাইতে হইবে। সামনে ছিল একটা বড় গাছ। দুইজনে যুক্তি করিয়া সেই গাছে উঠিয়া পড়িল।

এদিকে হইয়াছে কি? সেই যে বাঘ ভয় পাইয়া পালাইয়া গিয়াছিল, সে যাইয়া আর সব বাঘদের বলিল, ‘ওমুক গাছের তলায় দুইজন পালোয়ান আসিয়াছে। তাহারা একটা বাঘকে ধরিয়া রাখিয়াছে। আমাকেও বাঁধিতে দড়ি বাহির করিতেছিল। এই অবসরে আমি পালাইয়া আসিয়াছি। তোমরা কেহ ওই পথ দিয়া যাইও না।’

বাঘের মধ্যে যে মোড়ল- সেই জাঁদরেল বাঘ বলিল, ‘কীসের পালোয়ান? মানুষ কি বাঘের সঙ্গে পারে? চল, সকলে মিলিয়া দেখিয়া আসি।’

জঙ্গি বাঘ-সিঙ্গি বাঘ-মামদু বাঘ-খুঁতখুঁতে বাঘ-কুতকুতে বাঘ-সকল বাঘ তর্জন-গর্জন করিয়া সেই গাছের তলায় আসিয়া পৌঁছিল। একে তো রাত আন্ধারী, তার উপরে বাঘের হুংকারি-অন্ধকারে জোড়া জোড়া বাঘের চোখ জ্বলিতেছে। তাই না দেখিয়া জোলা তো ভয়ে ভয়ে কাঁপিয়া অস্থির।

নাপিত যত বলে, ‘জোলা! একটু সাহসে ভর কর!’ জোলা ততই কাঁপে। তখন নাপিত দড়ি দিয়া জোলাকে গাছের ডালের সঙ্গে বাঁধিয়া রাখিল।

কিন্তু তাহারা গাছের মগডালে আছে বলিয়া বাঘ তাহাদের নাগাল পাইতেছে না। তখন জাঁদরেল বাঘ আর সব বাঘদের বলিল, ‘দেখ তোরা একজন আমার পিঠে ওঠ-তার পিঠে আরেকজন ওঠ-তার পিঠে আরেকজন ওঠ-এমনি করিয়া উপরে উঠিয়া হাতের থাবা দিয়া ওই লোক দুটিকে নামাইয়া লইয়া আয়।’ এইভাবে একজনের পিঠে আরেকজন-তার পিঠে আরেকজন করিয়া যেই উপরের বাঘটি জোলাকে ছুঁইতে যাইবে, অমনি ভয়ে ঠিরঠির করিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে দড়িসমেত জোলা তো মাটিতে পড়িয়া গিয়াছে। উপরের ডাল হইতে নাপিত বলিল, ‘জোলা! তুই দড়ি দিয়া মাটির উপর হইতে জাঁদরেল বাঘটিকে আগে বাঁধ, আমি উপরের দিক হইতে একটা একটা করিয়া সবগুলি বাঘকে বাঁধিতেছি।’

এই কথা শুনিয়া নিচের বাঘ ভাবিল আমাকেই তো আগে বাঁধিতে আসিবে। তখন সে লেজ উঁচাইয়া দে দৌড়-তখন এ বাঘের উপরে পড়ে ও বাঘ, সে বাঘের উপরে পড়ে আরেক বাঘ।

নাপিত উপর হইতে বলে, ‘জোলা মজবুত করিয়া বাঁধ-মজবুত করিয়া বাঁধ। একটা বাঘও যেন পালাইতে না পারে।’ সব বাঘই তখন পালাইয়া সাফ।

বাকি রাতটুকু কোনো রকমে কাটাইয়া পরদিন সকাল হইলে জোলা আর নাপিত বন ছাড়াইয়া আরেক রাজার রাজ্যে আসিয়া উপস্থিত হইল।

রাজা রাজসভায় বসিয়া আছেন। এমন সময় নাপিত জোলাকে সঙ্গে লইয়া রাজার সামনে যাইয়া হাজির। ‘মহারাজ প্রণাম হই!’

রাজা বলিলেন, ‘কি চাও তোমরা?’

নাপিত বলিল, ‘আমরা দুইজন বীর পালোয়ান। আপনার এখানে চাকরি চাই।’

রাজা বলিলেন, ‘তোমরা কেমন বীর তা পরখ না করিলে তো চাকরি দিতে পারি না? আমার রাজবাড়িতে আছে দশজন কুস্তিগির, তাহাদের যদি কুস্তিতে হারাইতে পার তবে চাকরি মিলিবে।’

নাপিত বলিল, ‘মহারাজের আশীর্বাদে নিশ্চয়ই তাহাদের হারাইয়া দিব।’

তখন রাজা কুস্তি—পরখের একটি দিন স্থির করিয়া দিলেন। নাপিত বলিল, ‘মহারাজ!’ কুস্তি—দেখিবার জন্য তো কত লোক জমা হইবে। মাঠের মধ্যে একখানা ঘর তৈরি করিয়া দেন। যদি বৃষ্টি-বাদল হয়, লোকজন সেখানে যাইয়া আশ্রয় লইবে।’

রাজার আদেশে মাঠের মধ্যে প্রকাণ্ড খড়ের ঘর তৈরি হইল। রাতে নাপিত চুপি চুপি যাইয়া তাহার ক্ষুর দিয়া ঘরের সব বাঁধন কাটিয়া দিল। প্রকণ্ড খড়ের ঘর কোনো রকমে থামের উপরে খাড়া হইয়া রহিল।

পরদিন কুস্তি— দেখিতে হাজার হাজার লোক জমা হইয়াছে। রাজা আসিয়াছেন-রানি আসিয়াছেন-মন্ত্রী, কোটাল, পাত্রমিত্র কেহ কোথাও বাদ নাই।

মাঠের মাঝখানে রাজবাড়ির বড় বড় কুস্তিগিররা গায়ে মাটি মাখাইয়া লড়াইয়ের সব কায়দা ইস্তেমাল করিতেছে।

এমন সময় কুস্তিগিরের পোশাক পরিয়া নাপিত আর জোলা মাঠের মাঝখানে উপস্থিত। চারদিকের লোকে তাহাদের দেখিয়া হাততালি দিয়া উঠিল।

নাপিত তখন জোলাকে সঙ্গে করিয়া লাফাইয়া একবার এদিকে যায় আবার ওদিকে যায়। আর ঘরের একেকখানা চালা ধরিয়া টান দেয়। হুমড়ি খাইয়া ঘর পড়িয়া যায়। সভার সব লোক অবাক।

রাজবাড়ির কুস্তিগিররা ভাবে, ‘হায় হায়, না জানি ইহারা কত বড় পালোয়ান। হাতের একটা ঝাঁকুনি দিয়া এত বড় আটচালা ঘরখানা ভাঙিয়া ফেলিল। ইহাদের সঙ্গে লড়িতে গেলে ঘরেরই মতো উহারা আমাদের হাত-পাগুলোও ভাঙিয়া ফেলিবে। চল আমরা পালাইয়া যাই।’

তাহারা পালাইয়া গেলে নাপিত তখন মাঠের মধ্যখানে দাঁড়াইয়া বুক ফুলাইয়া রাজাকে বলিল, ‘মহারাজ! জলদি করিয়া আপনার পালোয়ানদের ডাকুন। দেখি! তাহাদের গায়ে কত জোর।’

কিন্তু কে কার সঙ্গে কুস্তি করে? তাহারা তো আগেই পালাইয়াছে। রাজা তখন নাপিত আর জোলাকে তার রাজ্যের সেনাপতির পদে নিযুক্ত করিলেন।

সেনাপতির চাকরি পাইয়া জোলা আর নাপিত তো বেশ সুখেই আছে। এর মধ্যে কোথা হইতে এক বাঘ আসিয়া রাজ্যে মহা উৎপাত লাগাইয়াছে। কাল এর ছাগল লইয়া যায়, পরশু ওর গরু লইয়া যায়, তারপর মানুষও লইয়া যাইতে লাগিল।

রাজা তখন নাপিত আর জোলাকে বলিলেন, ‘তোমরা যদি এই বাঘ মারিতে পার, তবে আমার দুই মেয়ের সঙ্গে তোমাদের দুইজনের বিবাহ দিব।’

নাপিত বলিল, এ আর এমন কঠিন কাজ কী? তবে আমাকে পাঁচ মণ ওজনের একটি বড়শি আর গোটা আষ্টেক পাঁঠা দিতে হইবে।’

রাজার আদেশে পাঁচ মণ ওজনের লোহার বড়শি তৈরি হইল। নাপিত তখন লোকজনের নিকট হইতে জানিয়া লইল, কোথায় বাঘের উপদ্রব বেশি, আর কোন সময় বাঘ আসে।

তারপর নাপিত সেই বড়শির সঙ্গে সাত-আটটি পাঁঠা গাঁথিয়া এক গাছি ‘লোহার শিকলে সেই বড়শি আটকাইয়া একটা গাছের সঙ্গে বাঁধিয়া রাখিল। তারপর জোলাকে সঙ্গে লইয়া গাছের ডালে উঠিয়া বসিয়া রহিল।

অনেক রাতে বাঘ আসিয়া সেই বড়শিসমেত পাঁঠা গিলিতে যাইয়া বড়শিতে আটকাইয়া গিয়া তর্জন-গর্জন করিতে লাগিল। সকাল হইলে লোকজন ডাকিয়া নাপিত আর জোলা লাঠির আঘাতে বাঘটিকে মারিয়া ফেলিল।

রাজা ভারি খুশি। তারপর ঢোল-ডগর বাজাইয়া নাপিত আর জোলার সঙ্গে তাহার দুই মেয়ের বিবাহ দিয়া দিলেন। বিবাহের পরে বউ লইয়া বাসরঘরে যাইতে হয়। জোলা একা বাসরঘরে যাইতে ভয় পায়। নাপিতকে সঙ্গে যাইতে অনুরোধ করে।

নাপিত বলে, ‘বেটা জোলা! তোর বাসরঘরে আমি যাইব কেমন করিয়া? আমাকেও তো আমার বউয়ের সঙ্গে ভিন্ন বাসরঘরে যাইতে হইবে। তুই কোনো ভয় করিস না। খুব সাহসের সঙ্গে থাকবি।’ এই বলিয়া জোলাকে বাসরঘরের মধ্যে ঠেলিয়া দিল।

বাসরঘরে যাইয়া জোলা এদিকে চায়-ওদিকে চায়। আহা-হা কত ঝাড়-কত লণ্ঠন ঝিকিমিকি জ্বলিতেছে। আর বিছানা ভরিয়া কত রঙের ফুল। জোলা কোথায় বসিবে তাহাই ঠিক করিতে পারে না। তখন অতি শরমে পাপোশখানার উপর কুচিমুচি হইয়া বসিয়া জোলা ঘামিতে লাগিল।

কিছুক্ষণ বাদে হাতে পানের বাটা লইয়া, পায়ে সোনার নূপুর ঝুমুর ঝুমুর বাজাইয়া পঞ্চসখী সঙ্গে করিয়া রাজকন্যা আসিয়া উপস্থিত। জোলা তখন ভয়ে জড়সড়। সে মনে করিল, হিন্দুদের কোনো দেবতা যেন তাহাকে কাটিতে আসিয়াছে। সে তখন তাড়াতাড়ি উঠিয়া রাজকন্যার পায়ে পড়িয়া বলিল, ‘মা ঠাকরুন। আমার কোনো অপরাধ নাই। সবই ওই নাপিত বেটার কারসাজি।’

রাজকন্যা সবই বুঝিতে পারিল। এ কথা রাজার কানেও গেল। রাজা তখন জোলা আর নাপিতকে তাড়াইয়া দিলেন। নাপিত রাগিয়া বলে, ‘বোকা জোলা। তোর বোকামির জন্য এমন চাকরিটা তো গেলই-সেই সঙ্গে রাজকন্যাও গেল।’

জোলা নাপিতকে জড়াইয়া ধরিয়া বলিল, ‘তা গেল-গেল! চল ভাই, দেশে যাইয়া বউদের লাথিগুঁতা খাই। সে তো গা-সওয়া হইয়া গিয়াছে। এমন সন্দেহ আর ভয়ের মধ্যে থাকার চাইতে সে-ই ভালো।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Duras new president is Shahjahan editor Zahirul

ডুরার নতুন সভাপতি শাহজাহান, সম্পাদক জহিরুল

ডুরার নতুন সভাপতি শাহজাহান, সম্পাদক জহিরুল ছবি: দৈনিক বাংলা

সেবা খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সভাপতি পদে দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি হোটেলে বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের ভোটগ্রহণ শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। পরে তিনি নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার জিলানী মিলটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার একলাছ হক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার আতিক হাসান শুভ, অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ঢাকা স্ট্রিমের স্টাফ রিপোর্টার তৌফিক হাসান, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে বাংলানিউজ২৪ডটকমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মিরাজ মাহবুব ইফতি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নাজিবুর রহমান।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন, ভোরের কাগজ সিনিয়র রিপোর্টার মো. রুহুল আমীন, বিজনেস মিররের বিশেষ প্রতিনিধি বারেক কায়সার, ইনডিপেনডেন্ট টিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসিফ মাহমুদ শাহ্, জাগো নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার মুসা আহমেদ, ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার নিলয় মামুন ও ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার আবির হাকিম। নতুন এই কমিটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 arrested with 15 kg of ganja in Jamalpur

জামালপুরে ১৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪

জামালপুরে ১৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরে একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাদক বহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি এলাকার আক্তার হোসেন, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন মোক্তার ওরফে মনির হোসেন, বিল্লাল হোসেন এবং প্রাইভেটকারচালক সাগর।

পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জামালপুরে আনা হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় নির্দিষ্ট কারটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে এর ভেতরে থাকা আরোহীরা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ধাওয়া করে তাঁদের চারজনকেই ধরে ফেলেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সন্দেহভাজন গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লোহা ও স্টিল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেই চেম্বার খুলে খাকি কাগজে নিখুঁতভাবে মোড়ানো ছয়টি বড় প্যাকেটে থাকা মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চালানের মূল উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এর পেছনে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এই অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন কঠোর অভিযান ও নজরদারি সর্বদা জারি থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The mentality of sacrifice is needed in the service of humanity State Minister Sheikh Faridul Islam

মানবতার সেবায় প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

মানবতার সেবায় প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা। কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লায়ন্স ক্লাব।

শুক্রবার (২৬ জুন) খুলনা লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার কখনো অভাব হবে না।

তিনি চক্ষু সেবার পাশাপাশি লায়ন্স ক্লাবের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং অটিজম বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, লায়ন্স এ কে এম গোলাম ফারুক, সাবিনা সিদ্দিকা ও ডা. মো: বোরহান উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র লায়ন্স ড. রনঞ্জিত কুমার নাথ। স্বাগত বক্তৃতা করেন লায়ন্স ডা. মনোজ কুমার দাস।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Tajia procession was held in the capital under tight security of the DMP

ডিএমপির কঠোর নিরাপত্তায় রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত

ডিএমপির কঠোর নিরাপত্তায় রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান তাজিয়া শোক মিছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক মিছিলটি শুরু হয়। কারবালার ঐতিহাসিক ও শোকাবহ স্মৃতি স্মরণে হাজারো শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ও ভক্তরা খালি পায়ে বুক চাপড়িয়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মাতম করে মিছিলে অংশ নেন। সুশৃঙ্খল এই মিছিলটি পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান থেকে শুরু হয়ে বকশি বাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, বকশী বাজার মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড মোড়, হরনাথ ঘোষ রোড এবং লালবাগ চৌরাস্তা মোড় অতিক্রম করে।

এরপর গোর-এ শহীদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা মোড়, ইডেন কলেজ ও নীলক্ষেত মোড় হয়ে মিছিলটি মিরপুর রোড ধরে ঢাকা কলেজ এবং সাইন্সল্যাব মোড় পার হয়। সর্বশেষ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোড, বিজিবির ৪ নম্বর গেট ও সাত মসজিদ রোড হয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে অবস্থিত প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রান্তে গিয়ে দুপুর আড়াইটায় মিছিলটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

ঐতিহাসিক এই বড় শোক মিছিলটি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই অত্যন্ত কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিলে যেকোনো ধরনের দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠির মতো ধারালো বা ভারী অস্ত্রশস্ত্র বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

মিছিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে ডিএমপির বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা নজরদারি মোতায়েন ছিল। ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনায় সব স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন, যার ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এবারের তাজিয়া মিছিলটি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১০ মহররম পবিত্র আশুরা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন; আর এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ও বড় কাটারা ইমামবাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন ইমামবাড়ায় দিনব্যাপী বিশেষ শোকানুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Heavy rain forecast with thunder for 5 consecutive days in different parts of the country

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বজ্রসহ ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বজ্রসহ ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিনপটিক অবস্থায় জানিয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এমন আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী পাঁচ দিন টানা ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সব কটি বিভাগেই কম-বেশি বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করেছে।

আবহাওয়ার এই বিশেষ বার্তায় অঞ্চলভিত্তিক বৃষ্টিপাতের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে প্রথম ৩ দিন এবং পরবর্তী দুই দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দেশের কোথাও কোথাও বর্ষণের তীব্রতা বাড়লেও কিছু অঞ্চলে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী ও নীলফামারী জেলাসহ সমগ্র খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছুকাল অব্যাহত থাকতে পারে।

তাপমাত্রার ওঠানামার বিষয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে শনিবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার ও সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে পারে।

এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্ধিত দিনগুলোর আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিন পার হওয়ার পরও দেশে বৃষ্টিপাতের এই বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Detention for spreading rumors and misinformation about question paper leak Education Minister

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালেই আটক: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালেই আটক: শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা অসাধু চক্রের তৎপরতার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মপরিবেশ যেন আন্দোলন বা বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একদলীয় রাষ্ট্র বা একদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এক সময় সবাই আওয়ামী লীগ করতো, এখন অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হচ্ছে—এটা আমরা বুঝতে পারি, আমরা জানি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার দেশের ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরি করেছে। পৃথিবীতে এমন চুরির নজির নেই, শুধু বাংলাদেশেই এটা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ, শিক্ষা বোর্ড সচিব নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A discussion meeting was held against drug and illegal trafficking in Pirojpur

পিরোজপুরে মাদক ও অবৈধ পাচারবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে মাদক ও অবৈধ পাচারবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ছবি: নিউজবাংলা

‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’উপলক্ষে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে টাউন ক্লাব মাঠে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

‎​অনুষ্ঠানে বক্তারা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (এমপি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী (এমপি), জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক শুধু একটি জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। আমাদের তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি। এই প্রজন্মকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”

‎​তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কেবল প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হই। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের বন্ধু-বান্ধব ও চলাফেরার বিষয়ে অধিকতর যত্নশীল হতে হবে।”

প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “আমরা পিরোজপুরকে একটি আদর্শ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সমাজের শত্রু, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”

‎​অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সভায় বক্তারা পিরোজপুর জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

p
উপরে