সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে আরো দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সায়েদুল ইসলাম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সায়েদুল ইসলামকে তার আগের চুক্তির ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১১ অক্টোবর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য মিনিস্টার পদমর্যাদায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ডেপুটি কনসাল জেনারেল পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলো।
একইসঙ্গে জানানো হয়, নিয়োগের চুক্তির শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত।
ছবি: নিউজবাংলা
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় একটি নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সকালে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া এক নারী শ্রমিককে স্মরণ করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল উপলক্ষে সকালে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ তিন দফা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ এ সময় লাঠিচার্জও করে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া নারী শ্রমিককে স্মরণ করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সেটি উত্তেজনায় রূপ নেয়।
শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারখানায় দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেলিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে এই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। গভীর রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সীমান্তে তাদের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে দিয়ে অজ্ঞাতসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
এ সময় ৫৫ বিজিবির একটি ক্ষিপ্র টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অনুপ্রবেশের সেই প্রচেষ্টা জিরো লাইনেই প্রতিহত করে। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ বাধ্য হয়ে ওই ভারতীয় নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও সাধারণ মানুষও বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে তেলিয়াপাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে।
ছবি: দৈনিক বাংলা
বাগেরহাটে ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে জেলা পরিষদ। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে এই বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডঃ শেখ লায়ন ফরিদুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পি সি কলেজের অধ্যক্ষ শেখ জাহাংগীর আলী , সাবেক সচিব শেখ ফরিদুল ইসলাম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, খানহাজান আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখি, জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব শেখ মোজ্জাফ্ফর রহমান আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলার ৯ উপজেলায় এসএসসি ও এইচএসসিতে ৩৬৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত ৫৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে “ইনোভেট টুডে, লিড টুমরো” শিরোনামে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল শুক্রবার (২৬ জুন) শুরু হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন জ্ঞান, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আজকের সিএসই কার্নিভাল সেই সম্ভাবনা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং মেধা, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এখানকার অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক শিক্ষা ও নেটওয়ার্কিং ভবিষ্যতের গবেষণা, স্টার্টআপ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে। ডুয়েট এমন একটি একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।
উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের অংশীদার হবে। উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের শিক্ষার্থীদের সেই মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহসিকতা আছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।” উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর মাননীয় উপাচার্য ফোরডি চশমা ব্যবহার করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের ভ্রাম্যমান বিজ্ঞান প্রদর্শনী উপভোগ করেন। এছাড়াও তিনি হেড মাউন্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে ভার্চুয়াল থ্রিডি এনভায়রনমেন্ট উপভোগ করেন।
এ সময় তিনি সিএসই বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য বলেন, “সিএসই কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আগামী দিনে গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”
সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব, সিএসসি কার্নিভালের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এমরান হোসেন, অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত থাকবেন।
ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
কার্নিভালের প্রথম দিনে আজ ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন, আইসিটি অলিম্পিয়াড এবং প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরবে।
আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন) কম্পিটিশনগুলোর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার পর নেটওয়ার্কিং সেশন এবং পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামবে।
সংরক্ষিত বনে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত জয়নাল আবদিনের মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের বকশীগঞ্জের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে জয়নাল আবদীন (৬৬) নামে এক বৃদ্ধ বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় বকশীগঞ্জ উপজেলার ডুমুরতলা বিটের সংরক্ষিত বনভূমির বাগিচা টিলা এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জয়নাল বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের মৃত আনিজ মিয়ার ছেলে।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুমুরতলা বিট শেরপুর বনবিভাগের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জের আওতাভূক্ত। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ডুমুরতলা বিট এলাকার সংরক্ষিত বনভূমি ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা সীমান্তের ১০৮৮ ও ১০৮৯ পিলার সংলগ্ন ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর ১০.০ হেক্টর বাগান এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান বৃদ্ধ জয়নাল আবদিন। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরেননি।
পরদিন ২৭ জুন শনিবার তার আত্মীয়-স্বজনরা স্থানীয় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এর সহায়তায় পাহাড়ে খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে বাগিচা টিলা নামক স্থানে তার মৃতদেহ খুঁজে পাযন। ওইসময় তার এক হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলানো ছিলো। উদ্ধারকারী বন বিভাগ কর্মীদের ধারণা, হাতির আক্রমণে তিনি মারা গেছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর বনবিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, ইআরটি এবং আমাদের বন বিভাগের স্টাফদের সহায়তায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি রীতি অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । ছবি : সংগৃহীত
শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রাভাবশালী একটি মহল দিনের পর দিন শত শত ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
এতে নতুন করে নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ও নদী রক্ষা বাঁধ। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি- নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের যোগশাজসে জেলার উত্তরাংশে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। প্রায় অর্ধশতস্থানে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে শত শত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার ফলে নদী ভাঙ্গনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার অসহায় মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল চকিদার ও বাঁশতলা এলাকার সাইদুর রহমান বলেন, নদীতে স্পিডবোট যোগে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর পাহারায় এ অবৈধ বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আবারও ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হবে।
নওপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাশেম সিদ্দিক বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পদ্মার তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। তাতে করে আমরা আবার পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়বো।
সুরেশ্বরের আয়না বিবি বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে আমরা নদী ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি। বালু উত্তোলনকারীদের দাবি, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন তারা।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম। এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে তা ক্ষতিও হতে পারে আবার ভালোও হতে পারে। বিষয়টি স্টাডি করে দেখতে হবে। তবে অবৈধভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে তা বন্ধ করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।
এদিকে সম্প্রতি জেলার দক্ষিণাংশে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরে নদীতে বালুভর্তি বস্তা ফেলে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কর্মসূচি উব্দোধন করছেন জাতীয় সংসদের হুইপ, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদী শাসনের জন্য আমাদের আলাদা সংস্থা আছে। নদী শাসন করার দায়িত্বে আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে, আমাদের বিআইডব্লিউটি আছে, তারা করবে। এর বাহিরে অন্যভাবে বালু উত্তোলন করার সুযোগ নাই। বালু উত্তোলন বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর।
ছবি: সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বাসনালীতে দুধ আটকে মেঘলা ঘোষ নামে তিন মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৭ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মেঘলা ঘোষ জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাইমারি স্কুলপাড়ার বাসিন্দা মাধু ঘোষ ও সরস্বতী ঘোষ দম্পতির ছোট মেয়ে।
শিশুটির মা সরস্বতী ঘোষ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে তিনি মেঘলাকে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে ভোরের দিকে শিশুটির বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে কোলে নিলে তার শরীর অস্বাভাবিক মনে হয়। তখন দেখা যায় শিশুটির মুখ কালচে হয়ে গেছে এবং হাত-পা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। পরে দ্রুত তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভোরে তিন মাস বয়সী এক শিশু কন্যাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধারণা করা হয়, হাসপাতালে আনার প্রায় ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসনালীতে দুধ আটকে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, শিশু কন্যার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
মন্তব্য