দেশে মঙ্গলবার থেকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং মার্চে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম পাইলটিং শুরু হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘নতুন যে শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে, তা আনন্দময় হবে।
সোমবার রাতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস বাস্তবতা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ শিক্ষাক্রমে শিখতে পারবে। তারা সমাজকে এবং শিক্ষকদের প্রশ্ন করার মাধ্যমে শিখবে।’
তবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হয়ে ওঠাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হয়ে ওঠার বিষয়েও জোর দিয়েছেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মান বাড়াতে আমাদের অ্যাকাডেমিকভাবে মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা আগের তিনটি বিপ্লব ধরতে পারিনি। এবার আমাদেরকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে ধরতেই হবে। এই শিল্প বিপ্লব ধরতে আমাদেরকে মাতৃভাষার শেখাটা জরুরি।’
দেশে নতুন নতুন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে শিক্ষার মানের দিকে জোর দিতে হবে। শিক্ষার মানের ওপর নজর দিতে পারলে আমরা শিক্ষায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারব।’
আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘যখন কোনো দিবস আসে তখন সেটা নিয়ে আলোচনা করি। তারপর ভুলে যাই। আমরা যেন সারাবছর এ বিষয়টি (মাতৃভাষা) নিয়ে আলোচনা করি। শুনেছি এখন থেকে রায় বাংলায় লেখা হবে। এটা আমাদের একটি ইতিবাচক অর্জন। এখন সবাই নিজের ভাষায় তাদের রায় পড়তে পারবে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম কোনো এক রাজনৈতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন আওয়ামী লীগ নাকি ভাষার জন্য কিছু করেনি। তাহলে আমার প্রশ্ন তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন কি করেছেন?’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। যে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল তাকেও ভাষা আন্দোলনের সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা আমরা দেখেছি।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম লুৎফুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বক্তারা ভাষার সাম্প্রদায়িকতা, ভাষার সঙ্গে ধর্মের সংমিশ্রণ ও একুশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চীন-মিয়ানমার করিডোরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ট্রাকযোগে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও চট্টগামে ৮০০ একরের একটি চাইনিজ শিল্প পার্ক স্থাপনের ব্যাপারে কিছুদিন আগেই মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানকারী নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী, শীর্ষ নেতারা ও বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক চীনা বিনিয়োগ আসবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।
তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে আমাদের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে। আমাদের কাছে একটাই সম্ভাব্য উপায় যেটি আমরা অনুসরণ করছি। আর তা হলো, বাংলাদেশে বেশি বেশি চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
শাহজালাল মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার- সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে। একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ রয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইনজীবী এবং সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে বহু বিচারপতি ও আইনজীবী ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়েও আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন। সিলেটের আইনজীবী ও বিচারকরাও এ ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
তিনি বলেন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী সুহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে। ইসি জানিয়েছে, আইন ও বিধিমালায় এনআইডি নবায়নের বিষয়টি থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে বিষয়টি এখন বাধ্যতামূলক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ বছর দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে মানুষের চেহারায় অনেক পরিবর্তন আসে। অনেকে ইচ্ছাকৃত পরিবর্তন করেন। অনেকেই সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার চেঞ্জ করেন। আবার মানুষের আঙুলের ছাপেরও পরিবর্তন আসে কোয়ালিটি কমে যাওয়ার মাধ্যমে। ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত করতে এমন ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই নবায়ন বাধ্যতামূলক করার আলোচনা চলছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০ এর ধারা ৭(১)-এ বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো নাগরিককে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ হবে, তা প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। আইনের ২ ধারাতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে বা পরে নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ বিধিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিক বা ক্ষেত্রমতো তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ অনুযায়ী সরাসরি অথবা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে, বিধি ৮-এর উপবিধি (২) অনুসারে ফি পরিশোধপূর্বক রশিদের কপি আবেদনের সহিত সংযুক্ত করে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসাবে দাখিল করতে হবে অথবা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি পরিশোধপূর্বক রশিদের স্ক্যানকৃত কপি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসেবে দাখিল করতে হবে।
‘জরুরি’ আবেদন কমিশনে এবং ‘সাধারণ’ আবেদন স্থানীয় কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে এবং আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন ফরম এর অংশ ‘ক’ স্বাক্ষর করে তা আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফেরত দেবেন অথবা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবক বরাবর মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানায় অংশ ‘ক’ পাঠাবেন।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদনপত্রে কোনো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা পরিলক্ষিত হলে তিনি অংশ ‘ক’-এ তা উল্লেখ করে ওই ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে আবেদনপত্রটি ফেরত দেবেন এবং আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবক ওই ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুত আবেদনপত্র পুনরায় দাখিল করবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তুষ্ট হলে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক ফিচার দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণপূর্বক অংশ ‘ক’ দেবেন।
সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে অংশ ‘ক’-এ উল্লিখিত তারিখে কমিশন বা স্থানীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হইয়ে বায়োমেট্রিক ফিচার প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করতে হবে। এখানে বায়োমেট্রিক ফিচার বলতে আঙুলের ছাপ, হাতের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের আইরিশ, মুখাবয়ব, ডিএনএ, স্বাক্ষর ও কণ্ঠস্বরকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমানে কেবল আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ নেওয়া হচ্ছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক ফিচার গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করে আবেদন ফরম এর অংশ ‘খ’ স্বাক্ষর করে আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে দেবেন।
এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হবার পর কমিশন অংশ ‘খ’-এ উল্লিখিত তারিখে পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র ফেরত প্রদান সাপেক্ষে পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নপূর্বক আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-২ বা ফরম-৪ অনুসারে একই নম্বরে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
বিধিমালায় জরুরি আবেদনের জন্য সাতদিন ও সাধারণ আবেদনের জন্য ৩০ দিন সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি আবেদনের জন্য ১৫০ টাকা এবং সাধারণ আবেদনের জন্য ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর হলে নবায়ন করার বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এটা হচ্ছেই। কেউ চাইলে যখন তখন নবায়ন করতে পারেন; আবেদন করে নতুন এনআইডি নিচ্ছেন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে।
১৫ বছরে চেহারায় বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যক্তির যে পরিবর্তন আসে, এতে অনেকেই কারসাজির আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পায়—এমন বিষয় উত্থাপন করা হলে ইসি সচিব বলেন, বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, তাও আমরা ভেবে দেখব, আলোচনা চলছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নথিতে উত্থাপন করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খুব করে চাই। কেননা, বিধিতে আছে। তবে সেখানে ফি নির্ধারণের বিষয় আছে। ফি ছাড়াই করা যায় কি না, সেটাও ভাবা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাব আমরা জোরালোভাবে দেব। কেননা ১৫ বছরে কেউ দাড়ি রাখতে পারেন, কারো চেহারায় অন্য পরিবর্তন আসতে পারে। কাজেই অসদুপায় অবলম্বনের একটা সুযোগ থেকে যায়।
নির্ধারিত ফি কত টাকা: সাধারণত মানুষ এনআইডি নষ্ট বা পুরাতন হয়ে গেলে নিজ থেকেই নতুন এনআইডির জন্য আবেদন করেন। এক্ষেত্রে ফি কিছুটা বেশি। প্রথমবার আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণ হলে ২০০ টাকা, জরুরি হলে ৩০০ টাকা; দ্বিতীয়বার আবেদন করলে সাধারণ ৩০০ টাকা ও জরুরি ৫০০ টাকার আর পরবর্তী যে কোনোবার সাধারণ আবেদনের জন্য ৫০০ টাকা এবং জরুরি হলে ১০০০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। এক্ষেত্রে দুই ধরনের অসুবিধা আছে। প্রথমত, হারানো বা নষ্ট হওয়ার জন্য নতুন এনআইডি পেতে যে আবেদন করা হয়, সে জন্য এনআইডির তথ্যে কোনো পরিবর্তন হয় না। টাকাও লাগে বেশি। দ্বিতীয়ত নবায়ন করা হলে ছবি, আঙুলের ছাপ, আইরিশের মতো তথ্যে পরিবর্তন হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় যাচাই আরও সহজ হয়। টাকাও লাগে কম।
এ বিষয়ে এনআইডি মহাপরিচালক এএইচএম আনোয়ার পাশা বলেন, এখনো বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।
ফাইল ছবি
ঢাকার তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বাহিনীটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর এই অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে।
কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ফাইল ছবি
ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে আগামী ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একক এই কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে, কমবে নগদ টাকার ব্যবহার ও প্রতারণার ঝুঁকি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই নিয়মের ফলে ছোট থেকে বড় সব ধরনের ক্যাশলেস লেনদেন সহজ হবে।
এখন থেকে একজন বিক্রেতার দোকানে নগদ, বিকাশ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখতে হবে না। একটিমাত্র সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করেই যেকোনো গ্রাহক সহজে তার পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, ‘ক্যাশলেস লেনদেনকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ যেমন কমবে, তেমনি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।’
আরেক ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল- সবখানেই নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাবে এই বাংলা কিউআর। এর মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনে মোট প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে ৮১ হাজার ৪২৩টি। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন বাংলা কিউআর চালু হলে এই ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শনিবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে মুদি দোকান, প্রসাধন সামগ্রীর দোকানসহ ১৬টি খুচরা ও সেবামূলক খাতকে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে। কিন্তু অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কীভাবে ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করবেন তা স্পষ্ট নয়। তারা বলেন, রাজস্বের বেশিরভাগই আসে বড় প্রতিষ্ঠান থেকে। ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ অনেক বেশি এসব প্রতিষ্ঠানেই। তাই খুচরা পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থাপিত তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে লার্জ ট্যাক্সপেয়ার্স ইউনিটের (এলটিইউ) মাত্র ১০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে আসে মোট ভ্যাটের ৬০ শতাংশ। বৃহৎ ৫০০টি প্রতিষ্ঠান দেয় মোট ভ্যাটের ৯৮ শতাংশ, আর বাকি লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর অবদান মাত্র ২ শতাংশ। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এ বাস্তবতায় রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত বড় করদাতাদের ওপর।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, দেশে প্রকৃত ভ্যাটদাতার সংখ্যা বাড়াতে খুচরা পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি) চালু করা হোক। একই সঙ্গে এনবিআরকে খুচরা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বড় খাতগুলো থেকে এবং উৎস পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের দাবি জানান হেলাল উদ্দিন।
প্রস্তাবিত বাজেটে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক নির্মাণে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। শনিবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে দীর্ঘ লাইনের এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।
এ সময় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কুয়াকাটায় বিমানবন্দর করার দাবিও আসে। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
আলাল বলেন, ‘জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয়। মানুষ বড় প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন ও বিভাগ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো স্মরণ রেখেই তারা আশা করছে, বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকার বরিশালের প্রতি ন্যায্য দৃষ্টি দেবে।
দেশের সব অঞ্চলের উন্নয়ন হোক, সেটিই তারা চান বলে জানান তিনি। বরিশালের ন্যায্য দাবি ও প্রাপ্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, মনে করেন আলাল।
তারা সরকারের অংশ না হলেও সংসদে বরিশালের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে জানিয়ে আলাল বলেন, ‘স্পিকার, চিফ হুইপ, বরিশালের কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। তাই বরিশালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করা উচিত।’
তার দাবি, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। একই সঙ্গে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, সহকারী, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
আলাল বলেন, ‘শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে বরিশাল মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা উচিত।’ একই সঙ্গে নদীভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই ওই এলাকাকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে।’
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে আলাল বলেন, ‘সৈকতের অনেক অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্যও নষ্ট হচ্ছে।’ এ বিষয়ে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদে বিষয়টি জোরদারভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেশটিতে বর্তমানে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার ব্যাপারে দেশটির সরকার ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে শনিবার (২৭ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কূটনৈতিক সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি সেখানে নানা জটিলতায় অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে ঢাকাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। একই সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে (ASEAN) বাংলাদেশের সদস্যপদ বা ডায়ালগ পার্টনারশিপ অর্জনের চলমান প্রচেষ্টায় কুয়ালালামপুর দৃঢ় সমর্থন জানাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী খলিলুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আন্তরিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শেয়ার করা ঐতিহ্যবাহী ‘মহাজাদু’ গানটিও এখন দুই দেশের মধ্যকার গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের নানাবিধ সুদূরপ্রসারী অর্জনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের উত্তর বর্গের অর্থনৈতিক লাইফলাইন খ্যাত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা তিস্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে চীন। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে দুই দেশই যৌথভাবে একমত প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে সামগ্রিক মূল্যায়ন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জোরালোভাবে বলেন, এবারের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও অনেক বেশি গভীর, মজবুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
মন্তব্য