করোনাভাইরাস মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন পর শুরু হয়েছে বই মেলা। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তবে এ মেলার সময়সীমা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন অর্থাৎ ১৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হলে কোনো আপত্তি দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে এ সিদ্ধান্ত আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার বিকেলে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী আয়োজনে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু আমাদের প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটা দাবি এসেছে যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চ, সেই মার্চ মাস পর্যন্ত (বইমেলা) চালাতে পারে। আমিও মনে করি, বইমেলাটা আমরা এক মাস চালাতে পারি। তবে সেটা আপনারা নিজেরাও দেখবেন ভেবে।’
এ বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চান না বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘একা আমি তো কিছু বলতে পারব না। আপনারা (বাংলা একাডেমি) কতটুকু করতে পারবেন। আসলে বইমেলা শুধু বইমেলা না, এটা মিলন মেলা।’
তবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জানিয়ে রেখেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটলে বাড়ানো হতে পারে বইমেলার সময়সীমা।
মেলায় যেতে না পারার আক্ষেপ
করোনাভাইরাস ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বইমেলায় সশরীরের হাজির হতে না পারার আক্ষেপ ঝরে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। বইমেলা যাওয়া থেকে নিজেকে কখনও বিরত রাখেননি জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখন আমি ঘরবন্দি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার দুঃখ হলো যে করোনার কারণে আমি ঘরবন্দি। ভাগ্যিস ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছিলাম, তাই অন্তত ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে।’
স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা একাডেমিতে যখন বইমেলা শুরু হলো আমার তো মনে হয় কোনো বইমেলা বাদ দিইনি। কারণ সারাদিনই বই মেলায় ঘুরে বেড়ানো এটা তো আমাদের একটা অভ্যাস ছিল।’
কিন্তু দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সেখানে ভাটা নামার কথা জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছি, তখনই পায়ে শেকল পড়ল। এই নিরাপত্তার অজুহাতে বইমেলায় আগের মতো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ থাকে না। আবার যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন কিন্তু গেছি।’
তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে বন্দিদশায় আছি। আর করোনাকালে আরো বেশি বন্দি হয়ে গেছি। এই দুঃখ থেকে গেল।’
প্রাণের মেলা বইমেলা
বই মেলাকে বাঙালির প্রাণের মেলা আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো কারণে এই মেলাটা হতে না পারলে সবারই মন খারাপ হয়। আজকে আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলছি। কিন্তু আমাদের এই অধিকারে বারবার আঘাত এসেছে। পাকিস্তানিরা একবার এমন করল যে আরবি অক্ষরে বাংলা হবে। তার প্রতিবাদ বাঙালিরা করেছে। এরপর আসল রোমান হরফে বাংলা অক্ষর লেখা হবে। সেই প্রতিবাদও ছাত্রসমাজকে করতে হয়েছে, সেই প্রতিবাদও এ দেশবাসী করেছে।।’
ছাপা বইয়ের আবেদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বই না পড়লে মনে হয়, কী যেন হলো না। তবে এখন তো ডিজিটাল যুগ। কাজেই ডিজিটাল যুগে আমাদের প্রবেশ করতে হবে। কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে বই পড়ার চেয়ে একটি বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টে উল্টে দেখাতে এবং পড়াতে অনেক বেশি আনন্দ।’
তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বলেন, ‘কারণ সেখান থেকে আমরা পিছিয়ে যেতে চাই না। প্রযুক্তি আমাদের ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তির শিক্ষা আমাদের নিতে হবে। তবে সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বইয়ের মেলাটা আরও সুন্দর হোক সেটা আমরা চাই।’
দেশের কবি, সাহিত্যিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি এটুকুই বলবো একটি জাতি সবসময় উন্নতি করতে পারে, যদি তার ভাষা সংস্কৃতি উন্নতি হয়। আর আমাদের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে।’
অনেক বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ আজকের এই অবস্থানে এসেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অনেক আঘাত এসেছে, বারবার বাধা এসেছে। কিন্তু সব বাধা একে একে অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতার বক্তব্য ছিল, একটি জাতিকে রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার- এই অধিকার অর্জনের জন্য ছিল তার সংগ্রাম।
‘এই অধিকার অর্জনের জন্যই ছিল আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা পেয়েছি বলে আজকে আমরা আমাদের সাহিত্যচর্চা করতে পারছি নিজের ভাষায়।’
দেশের সাহিত্য তুলে ধরতে হবে বিশ্বসভায়
নিজেদের সমৃদ্ধির জন্য যেমন অনুবাদ সাহিত্য প্রয়োজন, তেমনি নিজেদের সাহিত্যও বিশ্বসভায় পৌঁছে দিতে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘শুধু নিজের ভাষার কথা বললে হবে না। আন্তর্জাতিক ভাষা সম্পর্কেও জানতে হবে। কাজেই অনুবাদ আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। অনুবাদ সাহিত্য যেন আরও ভালোভাবে হয় সেদিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্য দেশের বা অন্য ভাষাভাষীদের সাহিত্য সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার, শেখা দরকার, অনেক কিছু জানার আছে আমাদের। আবার আমাদের বাংলা সাহিত্য যেন অন্য দেশ বা অন্য ভাষাভাষীরা জানতে পারে সেই সুযোগটাও আমাদের সৃষ্টি করতে হবে।’
করোনায় সতর্ক থাকুন, টিকা নিন
করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ থেকে দেশবাসীর মুক্তি ঘটবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি যে এই অবস্থা থাকবে না। এই অবস্থার পরিবর্তন নিশ্চয়ই হবে। আবার সবাই একসঙ্গে এই বইয়ের মিলন মেলায় এক হতে পারবেন। তবে আমার অনুরোধ থাকবে, যারা এই বই মেলায় আসবেন, তারা সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। কারণ এটা একান্তভাবে দরকার।’
সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই টিকা দিচ্ছি, বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। যারা নেননি, তাদেরকে অবশ্যই টিকা এবং বুস্টার ডোজ নিয়ে নিতে হবে।’
যাদের দুটি টিকা নেয়া হয়ে গেছে, তাদের বুস্টার ডোজ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর যাদের এখনও টিকা নেয়া হয়নি, তারা সবাই টিকা নেবেন। অন্তত টিকা নেয়া থাকলে আপনি একটু সুরক্ষিত থাকেন। এই কথাটা সবাইকে একটু মনে রাখতে হবে। আর মাস্ক পরা থাকলেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।’
মুছে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধুর অবদান
স্বাধীনতার ইতিহাসের মতো ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকেও বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবের যে অবদান, সেটাও কিন্তু মুছে ফেলা হয়েছিল। অনেক গুণীজন বলেছেন, তাদের নাম বলব না, কারণ আমি কাউকে অসম্মান করতে চাই না, অনেকেই বলেছেন, তার আবার কী অবদান ছিল? তিনি তো জেলে ছিলেন।’
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারের থাকার বিষয়টি বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু জেলে তো এমনি যাননি। তিনি ভাষার জন্য সংগ্রাম করে তারপর না জেলে গিয়েছেন। কত বছর তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। কারাগারে থেকেও তো তিনি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।’
সেই তথ্যের সত্যতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা রিপোর্টে রয়েছে বলে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।
একইসঙ্গে ভাষার জন্য বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করা শহীদেরও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘ভাষা শহীদদের যে অবদান, সে অবদান আমরা কোনোদিন ভুলতে পারব না। ভাষার জন্য রক্তদানের মধ্য দিয়ে একটি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে, আমরা বিজয়ী জাতি।’
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সরকার দলীয় হুইপ জিকে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এ রায় দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন তিনজনই। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এই তিনজন—জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে আসামিরা জানালেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেছেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিস্ফোরণে অল্পের জন্য বেঁচে যান এই নেতা।
তবে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন তিনি। দুই মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল, জিকে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে গঠন করা হয় অভিযোগ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব জেলা ও মহানগরে সেমিনার আয়োজন। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
জোটের নেতারা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশের পাশাপাশি ৫ আগস্ট সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে এক তীক্ষ্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কিছু ব্যক্তি জুলাই যুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি। আমি নিজেও করেছি। আমাদের এইখানে যাঁরা আছেন, অনেকেই জুলাই যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরা করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন মাননীয় স্পিকার। আমরা জুলাই চেতনা বিক্রি করি না। আমরা জুলাইকে ধারণ করি।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, জুলাই বিপ্লব কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। অথচ একদল মানুষ এই চেতনাকে হাতিয়ার করে রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে উঠেছেন।
যাঁরা জুলাই চেতনা ‘বিক্রি’ করছেন তাঁদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি অনুরোধ করব উনারা আগে কিসে চড়তেন, এখন কিসে চড়েন? উনারা আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন। কোন বাসায় থাকেন উনারা, মাঝেমধ্যে লাইভ করেন, কোন বাসায় থাকেন একটু লাইভ করলে এই জাতি দেখত।” তিনি দাবি করেন, এই ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনই বলে দেয় তাঁরা কীভাবে বিপ্লবের আবেগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
বাজেট প্রসঙ্গে আক্তারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের দাম কমানো হয়েছে এবং শুধুমাত্র মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে সমালোচনা করার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমরা শুনেছি, চানাচুর বাচ্চারা খায়। আবার বড়রাও খায়, কখন? অন্য কিছু খাওয়ার পরে নাকি চানাচুর খায়।” সরকারের এই জনবান্ধব বাজেট দেশবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান জাতীয় সংসদে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিগত বছরগুলোতে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে, যার ফলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে দলটির রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের ১৫তম দিনের বৈঠকে ডা. মাহবুবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনকালে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ তিনটি জেনারেশনকে ইনজুর্ড (আঘাত) করেছে। একটি হচ্ছে স্কুল, আরেকটি কলেজ, অন্য একটি ইউনিভার্সিটি।” তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন যে, এই তিনটি প্রজন্মের ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সাক্ষী হয়ে আছে।
সংসদ সদস্য আরও মন্তব্য করেন যে, এই তিনটি প্রজন্মের মানুষ যতক্ষণ জীবিত থাকবেন, ততক্ষণ আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে যে ক্ষত ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের বিচার এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছোট ছোট মুদির দোকানের আয় অত্যন্ত সীমিত, তাই তাদের এই করের আওতায় আনা সমীচীন হবে না। এর পরিবর্তে যারা কর দেওয়ার প্রকৃত সক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও করজালের বাইরে রয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে রিজভী জানান, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রীয় সকল নীতি নির্ধারিত হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন কখনোই জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রাজনৈতিক নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দলের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভিত্তি অটুট রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকারকে আরও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামাঙ্কিত একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপকে ‘রুচিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উপমহাদেশের একজন প্রথিতযশা নেতার প্রতি এমন আচরণ কাম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বহাল রেখে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফর নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-সুবিধা প্রদানের বিষয়টিকে তিনি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে রিজভী মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে দেশ একমুখী নীতির পরিবর্তে একটি শক্তিশালী বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’ (সিপিসি)-র মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। দুই দলের মধ্যে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা এটাই প্রথম, যা দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে বিএনপির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্বাক্ষর করেন দলটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিও হাইশিং। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও এই ঐতিহাসিক ক্ষণে বেইজিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দলের এই নিবিড় সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমঝোতার বিস্তারিত বিষয়াদি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে বলে জানা গেছে।
রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তোলা বিরোধীদলের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই আসলে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে কোনো ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সরকার রপ্তানি বাড়াতে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া সংসদে জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য বিল উত্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড নির্মূলে বর্তমান সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য