× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The health minister claimed that 75 percent of the vaccines have been given
hear-news
player
print-icon

৮৫ শতাংশ টিকা দেয়া হয়েছে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

৮৫-শতাংশ-টিকা-দেয়া-হয়েছে-দাবি-স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ শতাংশ মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ফাইল ছবি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘সব মিলিয়ে ১৭ কোটি টিকা দেয়া হয়েছে। ৮৫ শতাংশ টিকার আওতায় চলে এসেছে।’

দেশে লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ শতাংশ মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে ১৭ কোটি টিকা দেয়া হয়েছে। ৮৫ শতাংশ টিকার আওতায় চলে এসেছে।’

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন তথ্য জানান।

এখনও ১০ কোটি টিকা মজুত আছে জানিয়ে টিকা গ্রহণে অনেকের অনীহার বিষয়টিও উঠে আসে তার বক্তব্যে। সবাইকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি। এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের অনেকেই টিকা নেননি।’

বাংলাদেশে করোনার গণটিকার প্রয়োগ শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। শুরুতে কেবল ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের ওপর ভরসা করলেও সেখান থেকে টিকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তার কারণে অন্য উৎসের সন্ধান করে বাংলাদেশ। চীন থেকে কেনা হয় টিকা। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বিতরণে গড়ে তোলা জোট কোভ্যাক্স থেকে লাখ লাখ টিকা আসতে থাকে।

১২ বছর বয়স হলেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা মিলবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এর জন্য টিকা কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধন করলেই হবে, আলাদা নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই।’

করোনা রোগীদের জন্য সারাদেশে যেসব শয্যা প্রস্তুত রাখা আছে, তার মধ্যে সিংহভাগ এখনও খালি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘টিকা নেয়াতে করোনার সংক্রমণ কিছু নিন্মগামী। যে কারণে আমাদের দেশে অর্থনীতি অনেকটা ভালো, রপ্তানি বেড়েছে। দেশের জিডিপি ৭ শতাংশ হওয়ার কারণ করোনা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ।’

এই মাসের শেষে স্কুল খুলে দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, পরিস্থিতি আরও উন্নতি হলে এই মাসের শেষের দিকে স্কুল খুলে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
টিকা না নেয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন নিউ ইয়র্কের ৩ হাজার কর্মী
জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা
করোনায় মৃতদের ৮০ শতাংশ টিকা নেননি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
হাড় মুড়মুড় কমাতে ১২ বার করোনার টিকা
টিকার ভয়ে চড়লেন গাছে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After two months 6 deaths were detected leaving 700

দুই মাস পর ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়াল ৭০০

দুই মাস পর ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত  ছাড়াল ৭০০ ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
এর আগে গত ২১ জুলাই এক দিনে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেদিনই সর্বশেষ এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেদিন ৮৮৪ জন করোনা শনাক্ত হয় বলে তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে দুই মাস পর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৭১৮ জন।

এর আগে গত ২১ জুলাই এক দিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেদিনই সর্বশেষ এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেদিন ৮৮৪ জন করোনা শনাক্ত হয় বলে তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

টানা ১৪ দিন ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকায় দেশে পঞ্চম ঢেউ নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার জানায়, এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে ৫ হাজার ২৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭১৮ জনের দেহে, শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

নতুন শনাক্তদের ৫৭৩ জনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

এই সময়ে আরও ছয় মৃত্যু নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৩৫৯ জনে দাঁড়াল। মৃতদের মধ্যে দুজন ঢাকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন, বগুড়ার একজন, বরিশালের একজন ও পটুয়াখালীর একজন। মৃতদের সবাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২২ হাজার ৪০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৪৩৬ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ৩০৮ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হানছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Children and adolescents are becoming obese and are not getting enough nutrition

‘শিশু-কিশোররা মেদবহুল হচ্ছে, পুষ্টি পাচ্ছে না’

‘শিশু-কিশোররা মেদবহুল হচ্ছে, পুষ্টি পাচ্ছে না’ সুষম খাদ্য নিয়ে সচেতনতার অভাবকে পুষ্টিহীনতার প্রধান বাধা বলছেন কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশের মানুষ পুষ্টির মানদণ্ডে খায় না, তারা খায় তৃপ্তির মানদণ্ডে। পুষ্টির দিকে ফোকাস কম। ...অনেকে বাচ্চার ছয় মাস বয়সের আগেই বুকের দুধ বাদে অন্য খাবার দিয়ে দেয়। শুধু শারীরিক উন্নতি না, বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও খেয়াল করতে হবে।’

শিশু-কিশোরদের খাবার নিয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলছেন, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ঘরের বাইরে অপ্রয়োজনীয় নানা খাবারে অভ্যস্থ হচ্ছে। এতে তাদের শরীর মাংসল হচ্ছে, কিন্তু তারা পুষ্টি পাচ্ছে না।

পুষ্টিগ্রহণের মাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে সোমবার রাজধানীতে একটি কর্মশালায় এ কথা বলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ইস্যুর শেষ নেই, বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিষয়ক। পুষ্টি সম্পর্কিত কোনো বিষয় আমরা এড়াতে পারি না। আমাদের স্বাস্থ্যের স্ট্যাটাসে অনেক ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো পূরণে আমাদের প্রচেষ্টাও রয়েছে। সব যে কার্যকর হচ্ছে তা নয়, আবার সব হচ্ছে না তাও নয়।’

সুষম খাদ্য নিয়ে সচেতনতার অভাবকে পুষ্টিহীনতার প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন সচিব। বলেন, ‘আমাদের দেশে দেখলে মনে হয় দুনিয়াটা যেন খাদ্যগ্রহণের জায়গা। বাবা-মা সন্তানকে বেশি বেশি খাইয়ে সুঠাম দেহের অধিকারী করে বড় করেন যেন তারা কাজ করতে পারে।

‘কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা রেস্টুরেন্টে বেশি খায়, কেউ কেউ ঘরে বসে অর্ডার করছে। খাবার টেবিলেও আসে না। আমরা যেন খাওয়ার জন্যই বেঁচে আছি। বেঁচে থাকার জন্য খাচ্ছি না।

‘এতে স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফ্যাটি হচ্ছে কিন্তু পুষ্টি গ্রহণ হচ্ছে না। নানা ধরনের রোগ হচ্ছে। এর জন্য আমরা সবাই দায়ী।’

‘শিশু-কিশোররা মেদবহুল হচ্ছে, পুষ্টি পাচ্ছে না’
পুষ্টিগ্রহণের মাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে সচিবের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সহায়তাকারী টিম রয়েছে। তারা কমিউনিটি পর্যন্ত কাজ করছে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা দেয়ার মতো কেউ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য এসব সমস্যার সমাধান।’

পাবলিক হেলথ সার্ভিসের সহকারী সচিব সৈয়দ মুজিবুল হক বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃত্বকালীন সমস্যা দূর করতে হবে। ব্রেস্টফিডিংটাও নিউট্রিশনের একটা অংশ। প্রধানমন্ত্রী যে ১২টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো পূরণ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিউট্রিশন প্রোগ্রাম চালু করব।’

ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসের লাইন ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ পুষ্টির মানদণ্ডে খায় না, তারা খায় তৃপ্তির মানদণ্ডে। পুষ্টির দিকে ফোকাস কম। ...অনেকে বাচ্চার ছয় মাস বয়সের আগেই বুকের দুধ বাদে অন্য খাবার দিয়ে দেয়। শুধু শারীরিক উন্নতি না, বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও খেয়াল করতে হবে।’

অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেসা বেগম বলেন, ‘একজন মানুষকে দেখতে হালকা বা স্থূলকায় হলে তাকে দেখেই আমরা স্বাস্থ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করব না। কারণ পুষ্টির বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। ৬৪ জেলায় আমরা নিউট্রিশন অফিসার নিয়োগ দেব।’

আরও পড়ুন:
শ্রমিকের পুষ্টিকর নাস্তা নিশ্চিত করুন: শ্রম প্রতিমন্ত্রী
৪৩৮ কোটি টাকায় পাঁচ লাখ পুষ্টি বাগান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dengue outbreak lasts until mid October

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’

ডেঙ্গুর প্রকোপ ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত’ ফাইল ছবি
বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে, যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে। এমন আবহাওয়াতেও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।

দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জাকিয়া রহমান আক্রান্ত হন ডেঙ্গুতে। হাসপাতালে ছিলেন ছয় দিন। এখন সুস্থ, তবে ধকল রয়ে গেছে গায়ে।

নিউজবাংলাকে এই নারী বলেন, ‘বাসায় ছোট বাচ্চা থাকায় গাছ বা পানি জমে থাকার মতো কিছু ঘরে রাখি না। তবুও কীভাবে আক্রান্ত হলাম জানি না। খুব ভুগিয়েছে এবার। জ্বর, বমি থেকে শুরু করে প্লাটিলেট কমে প্রায় ২০ হাজার হয়ে যায়। অনেক কষ্টের পর সুস্থ হয়েছি।’

জাকিয়া সুস্থ হয়ে ফিরলেও অন্তত ৫০ জনের আর হাসপাতাল থেকে ফেরা হয়নি। প্রায় দিনই মৃত্যুর তথ্য আসছে, এর মধ্যে এক দিনে পাঁচজনের প্রাণও গেছে।

বর্ষায় পানি জমলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের সমস্যা এবার হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এবার বৃষ্টি ঝরেনি সেভাবে, জল জমাটের সমস্যাও ছিল না এ কারণে যে যতখানি পানি ছিল, তা তীব্র রোদে শুকিয়ে গেছে অনায়াসে।

এমন আবহাওয়ায়ও ডেঙ্গুর বিস্তার কিন্তু থেমে নেই। বর্ষা শেষে শরতের দ্বিতীয় মাস আশ্বিনেও প্রতি দিন রোগীর চাপ হাসপাতালে, মৃত্যুও কম নয়।
ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছেন- এমন একজন কীটতত্ত্ববিদ আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি আরও তিন সপ্তাহ থাকতে পারে।

কত রোগী

শনি থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৪০ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩০৯ জন এবং রাজধানীর বাইরের ১৩১ জন।

এই এক দিনে কোনো মৃত্যু না হলেও চলতি বছর প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও ভর্তি ১ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই সংখ্যাটি ১ হাজার ২৯৬।

চলতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৮০ জন, এর মধ্যে রাজধানীর ১০ হাজার ৭৪৩ জন।

চলতি বছর কেবল মুগদা জেনারেল হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১৮ জন।

দেশের অন্য কোনো হাসপাতালে এত রোগী ভর্তি হয়নি। তবে মুগদা এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের বিশেষ কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি।

বরাবরের মতোই আক্রান্তদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আছে শিশু। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মাহফুজ হাসান আল মামুন জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী আসছে তাদের হাসপাতালে। সবার ভর্তি দরকার পড়ে না।

অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব বলছে, এবার মোট ৪৫টি জেলায় রোগী পাওয়া গেছে। গত বছর সংখ্যাটি ছিল ৫৮, তার আগের বছর ৬৪ জেলার প্রতিটিতে ছড়ায় রোগী। সে বছর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।

ঢাকার পর এবার রোগী বেশি কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

প্রকোপ আর কত দিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে কাজ করছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, 'আমরা আগেই বলেছিলাম আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। এখন মনে হচ্ছে এটি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে পারে।’

তিনি জানান, তাপমাত্রা, লেগরেইন ফল, (১৫ দিনের বৃষ্টি) আর্দ্রতা, ডেঙ্গু রোগীর ঘনত্বসহ কয়েকটি বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি মডেলিং করে ডেঙ্গুর বিস্তার সম্পর্কে পূর্বানুমান করেন তারা।

অধ্যাপক কবিরুল বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি হটস্পট ম্যানেজমেন্ট চালু করতে না পারি। হটস্পট ম্যানেজমেন্ট বলতে যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে সেখান থেকে রোগীর বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়ির আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে ফগিং করে উড়ন্ত মশাগুলোকে মেরে ফেলা। এতে যারা সুস্থ আছে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।’

বৃষ্টি কম থাকার পরও এবার প্রকোপ কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এডিস মশার জন্য বৃষ্টি বা বর্ষা হতে হবে- এমন কথা নাই। মাত্র দুই সেন্টিমিটার পানি সাত দিন জমে থাকলেই সেখানে লার্ভা জন্মাতে পারে।’

কী করছে নগর কর্তৃপক্ষ

এডিস মশার যে প্রকৃতি, তাতে এগুলোর জন্ম ও বংশবিস্তার প্রধানত মানুষের বাড়িঘর বা কার্নিশ অথবা ছাদে হয়ে থাকে। নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানিও একটি বড় সমস্যা তৈরি করছে এ কারণে যে প্রায়ই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একটি বড় সময় ধরে কর্মস্থলে থাকে না। এই সময় এডিস মশা জন্ম নেয়।

নগর কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি শাস্তির ব্যবস্থাও করছে। শাস্তি হিসেবে প্রধানত জরিমানা করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জোবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। এর মধ্যে আমরা ড্রোনের মাধ্যমে ছাদবাগানগুলো দেখছি। সেখানে পানি জমে থাকলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ভবনের বাইরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ড্রেন ও পানিতে নোভাল নিউরন ট্যাবলেট দিচ্ছি, যেটা তিন মাস পর্যন্ত এডিস লার্ভা জমতে দেয় না। এ ছাড়া গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে, যেগুলো লার্ভা খেয়ে ফেলে। এ ছাড়া জনসচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য মাঠে আমাদের লোক রয়েছে।’

এই কর্মকর্তার মূল্যায়ন হচ্ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার বেশ কম। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল ২৮ হাজার। এ বছর সেই সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।’

‘তবে এবার এই পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। তাই সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করছি। কেউই বসে নেই।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Corona death 2 identified 572

করোনায় মৃত্যু ২, শনাক্ত ৫৭২

করোনায় মৃত্যু ২, শনাক্ত ৫৭২ ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে ৪ হাজার ৪১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোববার জানায়, এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে ৪ হাজার ৪১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

তবে এ সময়ে করোনাভাইরাসে দুজনের মুত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

টানা ১৪ দিন ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকায় দেশে পঞ্চম ঢেউ নিশ্চিত হয় গত রোববার।

দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরুর পর ১১ আগস্ট প্রথমবারের মতো শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। ওইদিন ৪ হাজার ৮০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার পর থেকে এই হার ওঠানামা করলেও তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়নি।

কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যায় দৃশ্যপট। বাড়তে থাকে করোনা সংক্রমণ। ১৪ দিন ধরে তা ঊর্ধ্বমুখী। মাঝে এক-দুদিন শনাক্তের হার কমলেও তা কখনও ৫-এর নিচে নামেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যায়।

আগের দিন শনিবার করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

এই সময়ে আরও দুই মৃত্যু নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৩৫৩ জনে দাঁড়াল।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ৬৯০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন৩৫৮ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৮৭২ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হানছে।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম ঢেউয়ের দ্বিতীয় দিনে কমেছে শনাক্তের হার, মৃত্যু ১
করোনার পঞ্চম ঢেউয়ে বাংলাদেশ
করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কারিগরি কমিটির ৫ দফা সুপারিশ
মৃত্যুহীন দিনে করোনা শনাক্ত ১৪১
আবারও ১০ ছাড়াল করোনা শনাক্তের হার, মৃত্যু ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dengue patient admission record this year

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানের সেবায় মা ও পরিবারের সদস্যরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩২৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

দেশে চলতি বছর এক দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৪০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির রেকর্ড।

রেকর্ড ভর্তির দিনে অবশ্য ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ৩২৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজার ৬২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৭২ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩ হাজার ৪৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪৩৪ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬ জন।

একই সময়ে সারা দেশে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭৬২ জন। এর মধ্যে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ হাজার ১৩৯ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৬২৩ জন।

আরও পড়ুন:
নগরে এডিস মশার লার্ভা, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
ডেঙ্গু বাড়ছে কলকাতাতেও
এক দিনে ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৪৫
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তরে সপ্তাহব্যাপী অভিযান
ডেঙ্গু পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: তাপস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 deaths detected in Corona 350

করোনায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০

করোনায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০ ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে ২ হাজার ৬৬৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৫০ জনের দেহে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্তের হার আগের দিনের চেয়ে কমলেও বেড়েছে মৃতের সংখ্যা।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ২ হাজার ৬৬৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৫০ জনের দেহে। এই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

টানা ১৪ দিন ধরে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকায় দেশে পঞ্চম ঢেউ নিশ্চিত হয় গত রোববার।

দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরুর পর ১১ আগস্ট প্রথমবারের মতো শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। ওইদিন ৪ হাজার ৮০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার পর থেকে এই হার ওঠানামা করলেও তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়নি।

কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যায় দৃশ্যপট। বাড়তে থাকে করোনা সংক্রমণ। ১৫ দিন ধরে তা ঊর্ধ্বমুখী। মাঝে এক-দুদিন শনাক্তের হার কমলেও তা কখনও ৫-এর নিচে নামেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলা যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার জানায়, এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে ২ হাজার ৬৬৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৫০ জনের দেহে।

এতে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের দিন শুক্রবার এই হার ছিল ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা ছিল পঞ্চম ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর সর্বোচ্চ।

চারজনের মৃত্যু নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৩৫১ জনে দাঁড়াল।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৫০ জন। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৫১৪ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে ওই বছরের ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ তা নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। তারপর চতুর্থ ঢেউ শেষে এখন পঞ্চম ঢেউ আঘাত হানছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why and how to overcome postpartum depression

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা কেন, কাটবে কীভাবে

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা কেন, কাটবে কীভাবে ছবি: সংগৃহীত
সন্তান জন্মদানের চার সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়। যদিও এটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং বিষণ্নতার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। তবে এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ধরন অনুযায়ী এর চিকিৎসা রয়েছে।

সন্তান জন্মের পর নারীদের শারীরিক ও মানসিক কিছু পরিবর্তন ঘটে। এতে তাদের মধ্যে দেখা দেয় হতাশা, মন খারাপ। অনেক নারীই সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে দিকশূন্য হয়ে পড়েন। পরিবারের সবাই যখন নতুন অতিথিকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন মেয়ের দিকে যেন কারও খেয়ালই নেই। এমন অবস্থায় সন্তান সামলানো, অসহায়ত্ব থেকে ভেঙে পড়েন অনেকে। এটি হতাশা থেকে হতে পারে তীব্র মানসিক সমস্যা। একে মেডিক্যালের ভাষার পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা বলা হয়। সন্তান জন্মের পর এটি বেশির ভাগ নারীর মধ্যে দেখা দেয়।

ওয়েবএমডির একটি প্রতিবেদন বলছে, এটি সন্তান জন্মদানের চার সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়। যদিও এটির কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং বিষণ্নতার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। তবে এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ধরন অনুযায়ী এর চিকিৎসা রয়েছে।

এর লক্ষ্মণগুলো মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামাজিক পরিবর্তনও সম্পর্কিত। ওষুধ এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা যায়।

এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক যে পরিবর্তন ঘটে, তা হরমোন দ্রুত কমে যাওয়ার জন্য হতে পারে। তবে হরমোন কমে যাওয়া এবং হতাশার প্রকৃত যোগসূত্র পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যেটি স্পষ্ট তা হলো, নারীদের প্রজননের জন্য ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোন রয়েছে, গর্ভাবস্থায় যা ১০ গুণ বেড়ে যায়। প্রসবের পর সেটি খুব দ্রুত কমে যায়।

লক্ষ্মণ কী?

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার উল্লেখযোগ্য লক্ষ্মণগুলো হলো-

  • ঘুমের সমস্যা
  • ক্ষুধা না লাগা বা খাবারে অরুচি
  • তীব্র ক্লান্তি
  • ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন অর্থাৎ মুড সুইং
  • যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

এগুলো ছাড়াও বিষণ্নতা তীব্র হলে আরও কিছু লক্ষ্মণ দেখা দিতে পারে-

  • সন্তানের প্রতি অনাগ্রহ
  • প্রচণ্ড রাগ
  • নিজেকে অসহায় মনে করা
  • কাউকে আঘাত করা
  • মনোযোগের অভাব
  • এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও আসতে পারে

চিকিৎসা

প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার চিকিৎসা নানাভাবে করা যেতে পারে। সাধারণত উপসর্গের ধরন বুঝে এটি করা হয়। এর মধ্যে অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ, সাইকোথেরাপি রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সাপোর্ট। এ সময় কাছের মানুষদের তার পাশে থাকা খুব জরুরি।

এ ক্ষেত্রে অনেকে এটি ধরে নেন, বুকের দুধ খাওয়ালে ধরে নেবেন না যে আপনি বিষণ্নতা বা সাইকোসিসের জন্য ওষুধ খেতে পারবেন না। এটি ভাবার কারণ নেই। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে অনেক নারী বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই ওষুধ খেতে পারেন।

মন্তব্য

p
উপরে