দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে জনগণ পছন্দ করছে না মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, জনতা চায় তার দলকে। তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, তিন শ সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেয়ার মতো অবস্থা নেই তাদের। তার পরও এককভাবে নির্বাচন বা তাদের নেতৃত্বে জোট এবং সেই জোটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান দল হিসেবে যোগ দেয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।
ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে দল, অথচ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাত্তাই নেই। এ প্রসঙ্গে চুন্নুর যুক্তি হলো, ইউনিয়ন পরিষদের ফল দিয়ে জাতীয় নির্বাচন মাপা যাবে না।
২০০৮ সাল থেকে তিনটি জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ বা সমঝোতা করে অংশ নেয়া জাতীয় পার্টির আগামী দিনে বিএনপির সঙ্গেও সমঝোতা হতে পারে বলে একটি কথা উঠেছিল। সেটিকে অবশ্য নাকচ করেছেন দলের মহাসচিব।
নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
বেগম রওশন এরশাদ এখন কেমন আছেন?
উনি আছেন, ভালো-মন্দ মিলিয়ে। যেহেতু উনার বয়স হয়েছে, অনেক রোগ উনার। এখন একটু ভালো হন, আবার একটু খারাপ হন। এই অবস্থায় আছেন।
দেশে রাজনীতি নিয়ে আবার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনটা কি হওয়া উচিত ছিল? দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে রাজনীতির উন্নয়নটা হলো না। আসলে কী কারণ বলে মনে করছেন?
দেশে এখনও কোনো অনিশ্চিত অবস্থা আছে বলে মনে করি না। তবে ওমিক্রন ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু কিছু সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রিলি সবাই মাঠে কাজ করতে পারছে না, এটা ঠিক।
জাতীয় পার্টির আগামী পরিকল্পনার মধ্যে অগ্রাধিকার কী?
আমরা চিন্তা করি, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান। এ ছাড়া আমরা ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য প্রাদেশিক সরকার গঠন করব। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া যায়, ওটাকে আমরা অগ্রাধিকার দেব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করব। কোনো ছাত্র লেখাপড়া শেষে যাতে তাকে কাজে লাগানো যায়, এই ব্যবস্থা আমরা করব। তবে সব বিষয়ে তো সব দল একমত নাও হতে পারে। অন্যদের সঙ্গে তো আমাদের নাও মিলতে পারে।
সংসদে তো আপনারা প্রধান বিরোধী দল। দেশে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আপনাদের অবস্থান কোথায় বলে মনে করেন?
আমরা সংসদে প্রধান বিরোধী দল সন্দেহ নেই। যেহেতু সংসদে আমরা বিরোধী দল, আমরা এখন এমন একটা অবস্থায় আছি, ১৯৯০ সালে এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করার পর গত ৩১ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্ষমতায় দুটি দল। সেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমাদের চেয়ে বড় দুটি দল সন্দেহ নেই। এই দুটি দল, ক্ষমতায় আসছে, ক্ষমতায় গেছে। তাদের যে শাসন, দুর্নীতি, এই দুটি দলকে মানুষ এখন আর চাইছে না। মানুষের চাওয়া এখন এই দুই দলের বাইরে কোনো দল।
এর বাইরে দল কে আছে, আমরা চিন্তা করছি, আমরা আছি। আমরা তো এই সুযোগটা নিতে পারি। আমরা মনে করতেছি, আমরা জনগণের জন্য দুই দলের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারব, এই ধরনের কর্মসূচি দিতে পারি। যদি আগামী দুই বছর মানুষের কাছে যেতে পারি, দলকে সংগঠিত করতে পারি, তাহলে মানুষ আমাদের হয়তো একটা সুযোগ দিতে পারে।
তাই আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
আপনারা বলছেন, দুই দলের বিকল্প হিসেবে জনগণ জাতীয় পার্টিকে চায়। এটা কীভাবে বুঝব আমরা? স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল তো সে কথা বলে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল দিয়ে তো এটা মাপা যাবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই কিন্তু সেখানে অনেকে ফেল করছে। যেখানে ‘নৌকার’ বিরুদ্ধে অনেক লোক পাস করছে।
সে হিসাব করলে তো দেখা যাবে, আমাদেরও অনেক সমর্থন আছে, রাজনৈতিক কারণে…। কারণ এই নির্বাচনটাতে প্রশাসন অন্ধভাবে সরকারের পক্ষে কাজ করছে। অনেক জায়গায় আমাদের লাঙলের প্রার্থী থাকতে পারেনি, তাদের ফোর্স করা হয়েছে। অনেক জায়গায় তাদের এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
আমরা এমনিতেও এক শর কাছাকাছি চেয়ারম্যান পাইছি আরও অনেকগুলো আসত, কিন্তু এই অব্যবস্থার কারণে ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের জোর করার কারণে আমাদের অনেক লোক মাঠে কাজ করতে পারেনি (প্রকৃতপক্ষে জাতীয় পার্টি ৩০টি ইউনিয়নেও জয় পায়নি)।
এটা দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তুলনা করলে আমার মনে হয় না ঠিক হবে। কারণ জাতীয় রাজনীতি অন্য বিষয়। সেখানে একটি দল ক্ষমতায় গেলে দেশের জন্য কী করবে, সেই কর্মসূচিকে মানুষ প্রাধান্য দেবে।
আপনাদের হয়তো খেয়াল আছে, ১৯৯১ সালে যখন এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করেন। তখন কিন্তু বিএনপির মাঠে তেমন সংগঠন ছিল না। তাদের তিন শ আসনে মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ ছিল না। সে সময় তাদের এক শ-দেড় শ প্রার্থী তাদের দিতে হয়েছে হায়ারে (ভাড়া করে)।
তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় চলে গেছে, এমন একটা ভাব ছিল। নির্বাচনের পর দেখা গেল বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। আমরাও এমন মনে করছি। আমরা যখন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাব, জনগণ যদি কর্মসূচি গ্রহণ করে, ইউনিয়ন-পৌরসভায় কতটা জিতলাম মানুষ ওই দিকে তাকাবে না। আমরা সেই সুদিনের আশায় আছি।
আপনি বললেন, ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেবেন। এ বক্তব্য আপনি দলীয় কর্মসূচিতেও বলেছেন। সেটার কি প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
দেখুন, সত্য কথা বলতে গেলে, ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেয়ার মতো আমার এখন প্রার্থী নেই। সেই প্রার্থী নেই দেখেই আমার দলের চেয়ারম্যান ও আমি সাংগঠনিক টিম করেছি প্রতি বিভাগে। প্রত্যেক জেলায় আমরা যাচ্ছি। আমরা দলকে সংগঠিত করতেছি। একই সঙ্গে আমরা যারা ভালো লোক সমাজে, যারা প্রার্থী হতে পারে, কিন্তু নানা কারণে তারা পিছিয়ে পড়েছে। ওই সব লোক ইতিমধ্যেই আমরা কিছু পেয়েছি।
আরও আমরা সংগ্রহ করার চেষ্টায় আছি। যারা ভালো, সৎ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, এমন লোক যাতে আমরা ৩০০ আসনেই দিতে পারি, এ জন্য কাজ করছি।
কীভাবে এগোচ্ছেন?
বিভাগীয় যে টিম করেছি তারা সব জেলা-উপজেলায় যাবে। সেখানে আমাদের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে। নতুন কর্মী সৃষ্টি করবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড লেভেলে যাকে কমিটি করা হয়। আমরা আগামী নির্বাচনে কী করতে চাই, সেই কর্মসূচিও আমরা দেব। ইতিমধ্যেই আমাদের টিম কাজ শুরু করেছে। ইনশআল্লাহ আগামী ২ বছরে একটি অবস্থায় পৌঁছতে পারব।
আপনি বলেছেন, জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাবে না? এটা কি আওয়ামী লীগের জন্য কোনো বার্তা?
জোট সারা পৃথিবীতে এখন একটি সংস্কৃতি। ইংল্যান্ডের মতো দেশেও নির্বাচনি জোট হয়, কিন্তু আমাদের টার্গেট ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে নির্বাচন করা। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কী করব, সেটা সময়ের বিষয়।
২০০৮ সাল থেকে বারবার দেখা যায়, আপনারা আলাদা নির্বাচন করার কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই জোট। এবারও শেষ পর্যন্ত তাই হবে?
অগ্রিম বলা তো মুশকিল যে আওয়ামী লীগের জোটে যাব কি না। যদি বলি আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে জোটে আসবে কি না। এমনও তো হতে পারে, জি এম কাদেরের নেতৃত্বে যে জোট হবে সেখানে আওয়ামী লীগ আসতে পারে।
আমরা যদি দুই বছর কাজ করি, তারপর দেখি মানুষ আমাদের সমর্থন দিচ্ছে তখন জোটে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
শেষ পর্যন্ত কী হয়, এটা বলা মুশকিল। আওয়ামী লীগ নিশ্চিতভাবে নাই যে আমেরিকা থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা দেবে। কাজেই অগ্রিম কোনো কিছু বলা মুশকিল।
আর আমরা তো মনে করি, আমাদের নেতৃত্বেই একটা জোট হতে পারে আগামীতে। আমাদের নেতৃত্বে একটা জোট ছিল, আমরা আগামী নির্বাচনে ভাবছি, এখনই চিন্তা করছি না। জনগণের কাছে যাচ্ছি, যাব। জনগণের সাড়া পেলে তখন অনেকে আসবে আমাদের কাছে আমাদের নেতৃত্বে জোট করার জন্য। তখন আমরা চিন্তা করব, জোট করব কি না।
আপনি বিএনপির কাছ থেকেও প্রস্তাব পাওয়ার কথা বলেছেন। একটু বিস্তারিত বলবেন কি? প্রস্তাব নিয়ে কী ভাবছেন?
আমি ঠিক কথাটা এভাবে বলিনি। জাতীয় পার্টির এমন একটা অবস্থা আছে যে, বড় দুটি দলই মনে করে, আমাদের ছাড়া তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আমরা এটা মনে করছি, দুটি দল ছাড়াই আমরা ক্ষমতায় যেতে পারব। কাজেই এটাকে প্রত্যেকের দলের নিজস্ব বিষয় বলে মনে করি।
বিএনপি জোটে যাওয়ার বিষয়ে আপনাদের শর্ত কী থাকবে?
আমরা তো…বিএনপি জোটে যাওয়ার কোনো চিন্তা আমাদের মধ্যে নাই। শর্ত তো পরের প্রশ্ন। কারণ বিএনপি এরশাদ সাহেবকে অমানবিকভাবে কষ্ট দিছে। বিএনপি বেগম এরশাদকে অন্যায়ভাবে তার শিশুসন্তানসহ জেলে রাখছে। এরশাদ সাহেব তখন জেলখানায় অসুস্থ ছিলেন, উনার বিলোরোবিনের (রক্তের একটি উপাদান) মাত্রা ছিল ২৯। তখন মেডিক্যাল বোর্ড বলেছিল, উনার চিকিৎসা দরকার। আমরা সেদিন নাজিমুদ্দিন রোড থেকে এরশাদ সাহেবকে পিজি (বর্তমান বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করানোর জন্য দরখাস্ত দিয়েছিলাম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। কিন্তু বিএনপি সেদিন উনাকে হাসপাতালে আনেনি। এগুলো তো আমরা ভুলে যেতে পারি না।
সংসদে আপনারা প্রধান বিরোধী দল, কিন্তু রাজপথে কোনো কর্মসূচিই নেই। আপনাদের মাঠে দেখা যায় না কেন?
কোনো কোনো পার্টি আছে, যাদের কোনো অফিস নাই, কিন্তু প্রেস ক্লাবের সামনে সাইনবোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ধরনের রাজনীতির কোনো দরকার জাতীয় পার্টির নাই। জাতীয় পার্টি সংসদীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কারণ সংসদ হলো সব গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র, আমরা সেখানে আমাদের যথাযথ ভূমিকা রাখছি।
সরকারের অনেক বিষয় আছে, যেগুলো জনস্বার্থের না। সেগুলো নিয়ে আমরা সরকারকে বলছি। যেমন: দ্রব্যমূল্য, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, তেলের দাম বৃদ্ধি, সুশাসন, দুর্নীতি-ঘুষ নিয়ে।
একটি পর্যায়ে দেখা যাবে, আমরাও হয়তো মাঠে গেছি, তবে কথায় কথায় মাঠে যাওয়া এমন তথাকথিত রাজনীতি, আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ এখন চায় না। মাঠে যখন আমরা যাব, এমনভাবেই যাব, জনগণ যেন সম্পৃক্ত হয়। মাঠে গেলে যেন মাঠ থেকে ফিরে আসতে না হয়, যাতে মাঠে সিদ্ধান্ত হয়।
আপনারা কি সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
সেই অবস্থায় আমরা যাব, যদি সরকার এখনই সাবধান না হয়।
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় পার্টি কীভাবে দেখছে?
এটা আসলে সরকার ভালো বলতে পারবে, কিন্তু এটুকু বলতে পারি, এটা একটি ভালো লক্ষণ নয়। যেহেতু আমেরিকার সঙ্গে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে যোগাযোগ আছে, কাজেই এমন নিষেধাজ্ঞা সরকারের জন্য সম্মানহানিকর। আমি মনে করি, এটা সরকার সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারেনি।
বিএনপি তো ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে ভোট ঠেকাতে পারেনি। আন্দোলনেও তখন ব্যর্থ হয়েছিল। এখন বড় জোট করে আন্দোলনের কথা বলছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
আমি জানি না, বিএনপির বড় জোট কী? জোট তো তাদের আছেই, ২০-৩০ দলের। আওয়ামী লীগেরও ১৪ দল আছে। শুধু আমরা একা আছি। বিএনপি-আওয়ামী লীগ বড় জোট করতে চাইলে আমি তো দলই দেখি না। আর দল কোথায়? বিএনপির সঙ্গে কামাল হোসেনসহ অনেক দলই তো আছে। অবশ্য বামপন্থি কিছু দল আছে, যারা নিজস্বভাবে চলে।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সরকার দলীয় হুইপ জিকে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এ রায় দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন তিনজনই। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এই তিনজন—জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে আসামিরা জানালেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেছেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিস্ফোরণে অল্পের জন্য বেঁচে যান এই নেতা।
তবে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন তিনি। দুই মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল, জিকে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে গঠন করা হয় অভিযোগ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব জেলা ও মহানগরে সেমিনার আয়োজন। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
জোটের নেতারা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশের পাশাপাশি ৫ আগস্ট সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে এক তীক্ষ্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কিছু ব্যক্তি জুলাই যুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি। আমি নিজেও করেছি। আমাদের এইখানে যাঁরা আছেন, অনেকেই জুলাই যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরা করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন মাননীয় স্পিকার। আমরা জুলাই চেতনা বিক্রি করি না। আমরা জুলাইকে ধারণ করি।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, জুলাই বিপ্লব কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। অথচ একদল মানুষ এই চেতনাকে হাতিয়ার করে রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে উঠেছেন।
যাঁরা জুলাই চেতনা ‘বিক্রি’ করছেন তাঁদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি অনুরোধ করব উনারা আগে কিসে চড়তেন, এখন কিসে চড়েন? উনারা আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন। কোন বাসায় থাকেন উনারা, মাঝেমধ্যে লাইভ করেন, কোন বাসায় থাকেন একটু লাইভ করলে এই জাতি দেখত।” তিনি দাবি করেন, এই ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনই বলে দেয় তাঁরা কীভাবে বিপ্লবের আবেগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
বাজেট প্রসঙ্গে আক্তারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের দাম কমানো হয়েছে এবং শুধুমাত্র মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে সমালোচনা করার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমরা শুনেছি, চানাচুর বাচ্চারা খায়। আবার বড়রাও খায়, কখন? অন্য কিছু খাওয়ার পরে নাকি চানাচুর খায়।” সরকারের এই জনবান্ধব বাজেট দেশবাসী সাদরে গ্রহণ করেছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান জাতীয় সংসদে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিগত বছরগুলোতে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে, যার ফলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে দলটির রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের ১৫তম দিনের বৈঠকে ডা. মাহবুবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনকালে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্নভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ তিনটি জেনারেশনকে ইনজুর্ড (আঘাত) করেছে। একটি হচ্ছে স্কুল, আরেকটি কলেজ, অন্য একটি ইউনিভার্সিটি।” তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সরকার পতনের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন যে, এই তিনটি প্রজন্মের ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সাক্ষী হয়ে আছে।
সংসদ সদস্য আরও মন্তব্য করেন যে, এই তিনটি প্রজন্মের মানুষ যতক্ষণ জীবিত থাকবেন, ততক্ষণ আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে যে ক্ষত ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে। আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের বিচার এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছোট ছোট মুদির দোকানের আয় অত্যন্ত সীমিত, তাই তাদের এই করের আওতায় আনা সমীচীন হবে না। এর পরিবর্তে যারা কর দেওয়ার প্রকৃত সক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও করজালের বাইরে রয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে রিজভী জানান, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রীয় সকল নীতি নির্ধারিত হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন কখনোই জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রাজনৈতিক নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দলের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভিত্তি অটুট রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকারকে আরও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামাঙ্কিত একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপকে ‘রুচিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উপমহাদেশের একজন প্রথিতযশা নেতার প্রতি এমন আচরণ কাম্য নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বহাল রেখে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফর নিয়ে উচ্চাশা ব্যক্ত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-সুবিধা প্রদানের বিষয়টিকে তিনি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে রিজভী মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে দেশ একমুখী নীতির পরিবর্তে একটি শক্তিশালী বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’ (সিপিসি)-র মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। দুই দলের মধ্যে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা এটাই প্রথম, যা দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে বিএনপির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্বাক্ষর করেন দলটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিও হাইশিং। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতও এই ঐতিহাসিক ক্ষণে বেইজিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দলের এই নিবিড় সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমঝোতার বিস্তারিত বিষয়াদি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে বলে জানা গেছে।
রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তোলা বিরোধীদলের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই আসলে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে কোনো ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সরকার রপ্তানি বাড়াতে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া সংসদে জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য বিল উত্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড নির্মূলে বর্তমান সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য