× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
How to make internet safe
hear-news
player
google_news print-icon

ইন্টারনেট নিরাপদ হবে কীভাবে

ইন্টারনেট-নিরাপদ-হবে-কীভাবে
দেশে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রয়েছে শিশুদের ক্ষেত্রে। ছবি: সংগৃহীত
এক জরিপে দেখা যায়, ইন্টারনেটে হেনস্তার শিকার ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ১৮ বছরের কম বয়সী ভুক্তভোগী ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক কলেজছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় সোহেল রানা নামের এক যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত। ছাত্রীটির ‘অপরাধ’ ছিল সোহেলের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়া।

তথ্যপ্রযুক্তির এ ‍যুগে সাইবার জগতে এমন হেনস্তার ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। নানা আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেটে, যা ভুক্তভোগীকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

২০১০ সাল থেকে নিরাপদ ইন্টারনেট নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। এক যুগে এ জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা যে খুব সফলতার মুখ দেখেছে, বলা যাবে না। এ অবস্থায় সোমবার পালিত হচ্ছে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার দিবস। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল লিটারেসি বা জ্ঞানের অভাবের কারণেই মূলত অনিরাপদ হয়ে ‍উঠছে ইন্টারনেট। কখনও অপরাধী অজ্ঞতাবশত অন্যের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনও ভুক্তভোগী না জেনেই নিজের ইন্টারনেট ব্যবহারকে অনিরাপদ করে তুলছেন।

জানতে হবে আগে

প্রচার মাধ্যমে এমন একটা গল্প চালু আছে, ‘এক লোক সপ্তাহখানেকের জন্য ঘুরতে যান। এসে দেখেন তার বাসা চোরের দখলে। চোর নিজের মতো করে বাসা ব্যবহার করছে। পরে বিচারক চোরকে শাস্তি দিলে চোর জানায়, তাকে চুরির জন্য উৎসাহ দিয়েছেন বাসার মালিক। কারণ তিনি তার ফেসবুক ফ্রেন্ড। মালিক কোথায় গেছেন, কবে আসবেন– সব কিছুই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। ফ্রিতে সব তথ্য পেয়ে চোরের সুবিধা হয়েছে। তাই দুজনই সমান অপরাধী।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব কিছুরই একটা পরিচালন পদ্ধতি আছে। বাংলাদেশে দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার হলেও এর ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সঠিক জ্ঞান নেই। কোন কাজ করা যাবে আর কোনটা করা যাবে না, তা মানুষকে জানতে হবে।

তারা বলছেন, কারো মেইল আইডিতে চটকদার বিজ্ঞাপনের একটা মেইল এসেছে। লোভে পড়ে তাতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীর মেইল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেল।

তাই কোনো কিছু না জেনে তাতে ক্লিক করা যাবে না। আবার ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতুটুকু তথ্য শেয়ার করা যাবে, সে জ্ঞানও থাকবে হবে।

বলা হয়, নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি ব্যবহারকারী নিজেই। কেননা মানুষকে বোকা বানানোর মাধ্যমে কিংবা ভুলের কারণে অনেক সময় সাইবার আক্রমণকারী ই-মেইল অ্যাকাউন্ট চুরি করতে পারে। কেউ যদি কোনো বাজে সাইটে মেইল এবং পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে প্রবেশ করেন তবে আক্রমণকারী তার সম্পর্কে তথ্য পেয়ে যান। তারপর সেগুলোর সাহায্যে তারা অ্যাকাউন্ট চুরি করে এবং অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন।

তথ্য যাচাইয়ের পর ক্লিক শেয়ার

প্রযুক্তি মানুষের হাতের মুঠোয়। যে কেউ প্রযুক্তির সহায়তায় যে কোনো কিছু ছড়িয়ে দিতে পারে খুব সহজেই। যেহেতু বেশির ভাগ মানুষ অনলাইনে সম্পৃক্ত, তাই খুব সহজেই ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে পারে যে কেউ। তাই না বুঝে শেয়ার বা ক্লিক করা যাবে না।

‘দেখা মাত্রই ক্লিক নয়, যাচাই ছাড়া শেয়ার নয়’- এ স্লোগান সামনে রেখে মানুষের মাঝে সাইবার সচেতনতা নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংগঠন ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’ (সিসিএএফ)।

২০২১ সালে প্রকাশিত তাদের এক গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট দিন দিন আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠছে। হ্যাকিং, অপ্রচার, ভুল তথ্য দেয়া বাড়ছে। এটিএম কার্ড হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণার মতো নতুন বিপদে পড়ছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।

সিসিএএফের জরিপে দেখা গেছে, আগের এক বছরে অনলাইনভিত্তিক নানা অপরাধের মধ্যে অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ২৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনা ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, অনলাইনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেয়ার ঘটনা ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।

যৌন হয়রানিমূলক একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি/ভিডিও (পর্নোগ্রাফি) ব্যবহার করে হয়রানির মাত্রা বেড়েছে। অপরাধের মাত্রাটি আগের ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২০ সালে হয়েছে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফটোশপে ভুক্তভোগীর ছবি বিকৃত করে হয়রানির ঘটনা ঘটছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮-৩০ বছর, যা মোট ভুক্তভোগীর প্রায় ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। ১৮ বছরের কম বয়সী ভুক্তভোগী ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪৫ বছর বয়সের ভুক্তভোগী ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বের ভুক্তভোগী ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এতে দেখা যায় ৩৫ শতাংশ মানুষই এ সম্পর্কিত আইন ও প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে জানেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে ডিজিটাল লিটারেসি নেই বললেই চলে। কোন জিনিসটা ফেক বা কোন জিনিসটা ঠিক, সেটা বুঝে না বুঝেই ক্লিক করেন।

‘আবার কোনো একটা মেইল এলে সেটা যেখান থেকে আসুক, বুঝে না বুঝে সেটা ওপেন করেন, সেখান থেকে ডাউনলোড করেন। ফলে নিজের ব্যবহৃত ইন্টারনেট অনিরাপদ হয়ে যায়। কী করতে হবে বা কী করতে হবে না – এসংক্রান্ত ডিজিটাল লিটারেসি না থাকার কারণে তিনি সাফারার হন।'

তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। যে কোনো জায়গা থেকে একটা চটকদার বিজ্ঞাপন বা হেডলাইন এলে তাতে ক্লিক করা যাবে না। আননোন সোর্স থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড করা যাবে না। ফ্রি ইন্টারনেট পেলেই পাবলিক ওয়াইফাই বা যে কোনো জায়গায় লগইন বা ব্রাউজ করা যাবে না। খুব কমন পাসওয়ার্ড দেয়া যাবে না, নিজের পাসওয়ার্ড অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

‘এই বিষয়গুলোতে জনগণকে সচেতন হতে হবে। আবার সরকারেরও কিছু করার আছে। এসব ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে, সচেতনতামূলক নানা পদক্ষেপ নিতে হবে।'

সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, এরই মধ্যে ২২ হাজারের বেশি জুয়া ও পর্নো সাইট বন্ধ করে দিয়েছে তারা। উসকানিমূলক বিভিন্ন পোস্টও তারা সরিয়ে নিতে কাজ করছে।

ইউটিউব ফেসবুকে আপত্তিকর ভিডিও যারা আপলোড করেন, তাদের ডেকে সতর্ক করা হচ্ছে। টিকটক ও বিগোর মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোর অ্যাপ অপব্যহার হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তবে নানা উদ্যোগের পরও এগুলো বন্ধ হচ্ছে না। জুয়ার ওয়েবসাইট অনেকবার বন্ধ করার পরও তা লাইভ দেখা যাচ্ছে। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) বা মিরর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনেকেই অনলাইনের পর্নো সাইটসহ বিপথগামী সাইটে ঢুকছেন।

জানতে চাইলে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, ‘আইএসপি বা ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের নির্দিষ্ট নীতিমালা করে দেয়া হয়েছে। প্যারেন্টাল গাইডেন্স মেনে চললে অভিভাবকরা জানতে পারবেন তার সন্তানেরা কোন জায়গায় কী ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সভার মাধ্যমে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারনেট সম্পর্কে অবহিত করছি।

‘এর সঙ্গে আইন তো আছেই। তবে সবকিছু তো আইন দিয়ে হয় না। মানুষের মাঝে সচেতনতাই পারে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা সচেতনতা কিছুটা মটিভেশন এবং কিছুটা আইনের প্রয়োগ ভালো কাজ করবে।’

সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, ‘আমরা প্রায় ২২ হাজার পর্নো সাইট ও অবৈধ অনলাইন জুয়া সাইট বন্ধ করেছি। টিকটক, ফ্রি-ফায়ার, পাবজি সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া আছে। এগুলো ভিপিএন-এর মাধ্যমে খুব সীমিত আকারে হয়তো চলছে। লার্জ স্কেলে চলার সুযোগ নেই। ভিপিএন দিয়ে অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়, ফলে ভিপিএন বন্ধ করার সুযোগ নেই।

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিরাপদ রাখা তো আমাদের হাতে নেই। কারণ এটার কন্ট্রোল ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিরাপদ রাখতে আমরা গুগল-ফেসবুকসহ অন্যদের সঙ্গে কোয়ার্টারলি মিটিং করি‌।’

আরও পড়ুন:
২০২১ সালে প্রতি মিনিটে ইন্টারনেটে যা ঘটেছে
তিন মাস ইন্টারনেট না থাকলে কী হবে?
মোবাইল ইন্টারনেটে এক রেট চালু করবে সরকার
মোবাইল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নের পদক্ষেপ জানতে চায় হাইকোর্ট
রাত-দিন সব সময় ইন্টারনেটে ৩৫ শতাংশ তরুণ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ransomware is one of the most common cybercrime threats

সাইবার ক্রাইম হুমকির মধ্যে অন্যতম র‍্যানসামওয়্যার

সাইবার ক্রাইম হুমকির মধ্যে অন্যতম র‍্যানসামওয়্যার
গত দশকে, র‍্যানসামওয়্যারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যানসামওয়্যার অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে অর্থনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে।

পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভাবন ও সাইবার নিরাপত্তার গ্লোবাল লিডার সফোস আজ তাদের ২০২৩ সালের থ্রেট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কীভাবে সাইবার হুমকি একটা ল্যান্ডস্কেপে পৌঁছে নতুন করে এটি বাণিজ্যিকীকরণ এবং হামলাকারীদের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে ফেলছে। অপরাধ করার উদ্দেশ্যে ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এতে প্রবেশে করার ক্ষেত্রে সব ধরনের বাধা সরিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে র‍্যানসামওয়্যার অপারেটররা তাদের চাঁদাবাজির নতুন কৌশল বের করছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সাইবার অপরাধের হুমকিগুলোর মধ্যে একটি।

জেনেসিসের মতো অপরাধমূলক আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটপ্লেসগুলো দীর্ঘদিন ধরে ম্যালওয়্যার এবং ম্যালওয়্যার স্থাপনের পরিষেবা (ম্যালওয়্যার-অ্যাস-এ-সার্ভিস) কিনছে, পাশাপাশি চুরি হওয়া ক্রেডেনশিয়াল এবং অন্য সব ডেটা প্রচুর পরিমাণে বিক্রিও করেছে।

গত দশকে, র‍্যানসামওয়্যারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণভাবে ‘র‍্যানসামওয়্যার অ্যাস-এ-সার্ভিস’ হিসেবে অর্থনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে।

২০২২ সালে এসে এই ‘পরিষেবা হিসাবে’ মডেলটি প্রসারিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে প্রাথমিক সংক্রমণ থেকে শনাক্তকরণ এড়ানোর উপায়গুলোসহ সাইবার ক্রাইম টুলকিটের প্রায় প্রতিটি দিক খুব সহজলভ্য হয়েছে।

‘পরিষেবা হিসাবে’ অর্থনীতির বিস্তৃতির সঙ্গে, আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার অপরাধী বাজারগুলো ক্রমবর্ধমান একটি পণ্য হয়ে উঠছে এবং সেটি মূলধারার ব্যবসার মতোই কাজ করছে৷ সাইবার অপরাধ ‘বিক্রেতারা’ কেবল তাদের পরিষেবার বিজ্ঞাপনই দিচ্ছে না বরং স্বতন্ত্র দক্ষের আক্রমণকারীদের চাকরিতে নিয়োগের অফারও করছে৷ সাইবার ক্রাইম অবকাঠামো যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি করে র‍্যানসামওয়্যার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে উঠেছে।

গত এক বছর, র‍্যানসমওয়্যার অপারেটররা উইন্ডোজ ছাড়া অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের সম্ভাব্য আক্রমণ পরিষেবা বাড়াতে কাজ করছে।

এমনকি এসব ক্ষেত্রে তাদের যেন শনাক্ত করা না যায় সে জন্য রাস্ট এবং গো-এর মতো নতুন ভাষাগুলোর সঙ্গে এটি মানিয়ে নেয়া শুরু করেছে। কিছু গ্রুপ, বিশেষ করে লকবিট ৩.০ তাদের ক্রিয়াকলাপগুলোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের চাঁদাবাজির জন্য আরও ‘উদ্ভাবনী’ উপায় তৈরি করছে।

আন্ডারগ্রাউন্ডের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি শুধুমাত্র র‍্যানসমওয়্যার এবং ‘পরিষেবা হিসাবে’ এটি শিল্পের বৃদ্ধিকেই উৎসাহিত করেনি বরং ক্রেডেনশিয়াল চুরির চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন বা অনভিজ্ঞ অপরাধীদের আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদের ‘ক্যারিয়ার’ শুরু করতে ক্রেডেনশিয়াল চুরি একটি অন্যতম সহজ উপায় হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে জানলেন ঢাবির সামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীরা
যত বেশি ডেটাবেজের ব্যবহার তত বেশি ঝুঁকি: আইজিপি
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ
সাইবার স্পেসে নারীর নিরাপত্তায় নারী পুলিশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time 10 thousand workers will be laid off Google

এবার ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে গুগল!

এবার ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে গুগল! প্রতীকী ছবি
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সময় তিনি বলেন, ‘যখন আপনার কাছে আগের তুলনায় কম কর্মী থাকে, তখন আপনার কাজ করার জন্য সমস্ত সঠিক জিনিসগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

কিছুদিন আগেই অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার। এর আগে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে ফেসবুকও। এবার গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে অ্যালফাবেট। যারা প্রত্যাশা মতো পারফর্ম করতে পারছে না তাদেরকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। আগামী বছরের শুরুতেই এই ছাঁটাই শুরু হবে। এরইমধ্যে টিম ম্যানেজারদের কাছে কর্মীদের নতুন মূল্যায়ন চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ছিল গুগলের। তবে এবার কোম্পানিটি ৬ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

গুগল বা অ্যালফাবেটের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা না হলেও সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সে সময় পিচাই বলেন, ‘যখন আপনার কাছে আগের তুলনায় কম কর্মী থাকে, তখন আপনার কাজ করার জন্য সমস্ত সঠিক জিনিসগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

দ্য ইনফরমেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারির সময় অনলাইনে কার্যক্রম বাড়ায় বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে মহামারি কমে গেলে তারা এটি আর ধরে রাখতে পারেনি। উল্টো কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে কোম্পানিগুলো।

ফেসবুক এরইমধ্যে ১১ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। যা কোম্পানিটির মোট কর্মীর ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া সম্প্রতি টুইটারও কোম্পানিটির ৬০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে।

এদিকে বাইরের বিনিয়োগকারীদের চাপে ছাঁটাইয়ের পথে এবার হাঁটছে গুগলও।

বিনিয়োগকারী কোম্পানি টিসিআই ফান্ড ম্যানেজমেন্ট সম্প্রতি গুগলকে কর্মী ছাঁটাইয়ের আহ্বান জানায়। ২০১৭ সাল থেকে কোম্পানি ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়গ করেছে অ্যালফাবেটে।

টিসিআই ফান্ড ম্যানেজমেন্ট জানায়, অ্যালফাবেট কিছু কর্মীকে খুব বেশি পারিশ্রমিক দেয়।

আরও পড়ুন:
গুগলকে ফের জরিমানা করল ভারত
বাজে প্রশ্নে সাড়া দেবে না গুগল  
মানুষের মতোই গুগলের এআই! ল্যামডা নিয়ে কেন শঙ্কা?
‘মানুষের মতো অনুভূতি’ আছে ল্যামডার
গুগল চশমায় যেকোনো ভাষার অনুবাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New blue ticks on Twitter suspended

টুইটারে নতুন করে নীল টিক প্রদান স্থগিত

টুইটারে নতুন করে নীল টিক প্রদান স্থগিত ছবি: সংগৃহীত
মাস্ক এক টুইট বার্তায় জানান, ফেইক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে যত সময় লাগবে ততদিন নতুন করে নীল টিক সাবক্রিপশন দেয়া বন্ধ থাকবে।

টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, টুইটার সাময়িকভাবে নতুন করে নীল টিক দেয়ার সেবা বন্ধ করেছে। কিছুদিন পর সেবাটি আবার চালু হবে

মাস্ক এক টুইট বার্তায় জানান, ফেইক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে যত সময় লাগবে ততদিন নতুন করে নীল টিক সাবক্রিপশন দেয়া বন্ধ থাকবে।

বার্তায় তিনি আরও জানান, আগামীতে ব্যক্তি ও সংগঠনের জন্য নীল রংয়ের পাশাপাশি অন্যান্য রংয়ের টিক দেয়ার সম্ভাব‍না রয়েছে। আগে নীল টিক চিহ্নটি রাজনীতিবিদ, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ত্ব, সাংবাদিক এবং পাবলিক ফিগারদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

মাস্ক আরও জানান, গত সপ্তাহে ১.৬ মিলিয়ন টুইটার ব্যবহারকারী বেড়েছে।

সম্প্রতি টুইটার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের পাশে ভেরিফিকেশন চিহ্ন হিসেবে নীল টিকের জন্য মাসে ৮ ডলার ফি নির্ধারণ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির নতুন মালিক ইলন মাস্ক।

আরও পড়ুন:
ছাঁটাই হওয়া কর্মীকে টুইটারের উপহার
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে সমর্থন করতে বললেন মাস্ক
টুইটার ছেড়ে এবার কি ম্যাস্টোডনে যাবেন?
প্যারোডি অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘোষণা মাস্কের
চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন টুইটার প্রতিষ্ঠাতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There are jobs on Twitter

চাকরি আছে টুইটারে

চাকরি আছে টুইটারে টুইটার কার্যালয়ে গত ২৭ অক্টোবর কর্মব্যস্ত ইলন মাস্ক। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
টুইটারপ্রধান জানান, যারা দক্ষ তারাই আসলে টুইটারের ওই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কতজন নিয়োগ দেয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

টুইটারের মালিকানা নেয়ার পর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কর্মীদের বিপত্তির মুখে পড়া ইলন মাস্ক এবার প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মীদের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা দেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে

আগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) সরিয়ে নিজেই এই পদে আসা ধনকুবের ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ও বিপণন বিভাগে কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তবে পদের সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি।

এমন একদিনে ইলন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিলেন, যেদিন বিপণন বিভাগে কর্মী ছাঁটাই হবে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।

টুইটারপ্রধান জানান, যারা দক্ষ তারাই আসলে টুইটারের ওই পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কতজন নিয়োগ দেয়া হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

একই সঙ্গে সান ফ্রান্সিসকো থেকে টুইটারের কার্যালয় টেক্সাসে সরিয়ে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই বলেও জানান তিনি।

নানা ঘটনার পর গত ২৭ অক্টোবর টুইটার কেনেন ইলন মাস্ক। প্রথমেই এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরাগ আগারওয়াল, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নেড সেগাল এবং আইন ও নীতিবিষয়ক প্রধান বিজয়া গাড্ডেকে চাকরিচ্যুত করেন তিনি। একে একে তিনি সব মিলিয়ে সাড়ে ৭ হাজার কর্মীর দুই-তৃতীয়াংশই ছাঁটাই করেছেন।

কর্মীদের জন্য বিনা মূল্যে খাবারের যে ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ করে দিয়েছেন ইলন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কেনার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী ছাঁটাইসহ নানা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি ওই ঘোষণা দেন।

বৈঠকে টুইটারে ইলন মাস্ক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে। বাসায় বসে আর কাজ করার সুযোগ নেই। অফিসে ফ্রি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে।’

টুইটার অফিসে ফ্রি ওয়াইফাই সেবাও বন্ধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত যারা মেনে নেবেন, তারাই এখানে চাকরি করতে পারবেন। না চাইলে পদত্যাগ করতে পারেন।

এতদিন একই সঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন। সবশেষ দায়িত্ব নেন টুইটারের।

আরও পড়ুন:
কথা রাখলেন মাস্ক, টুইটারে ফিরলেন ট্রাম্প
সোশ্যাল মিডিয়া মরে গেছে
টুইটার অফিসে ফ্রি খাওয়ার দিন শেষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Children know a lot more now

শিশুরা এখন অনেক বেশি জানে

শিশুরা এখন অনেক বেশি জানে অনেক অভিভাবক মনে করেন, ডিজিটাল ডিভাইস শিশুদের অগ্রসরমান করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সময় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, তার ইতিবাচকতা গ্রহণ করেই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। বর্তমান সময়ে শিশুদের পরিবারের বাইরে একটা বড় বিষয় হচ্ছে প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তি তাদের শিক্ষনকে এগিয়ে দিচ্ছে।

অফিস যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলেন অনির্বাণ বসু। হালকা শীতের সময় শরীর টানছিল বলে টেবিলে রাখা লোশন হাতে মাখছিলেন তিনি। এ সময় তার ছোট ভাই সাত বছরের ঈশান বলে বসল, ‘তুমি এই লোশন ব্যবহার করছ কেন? এটা তো বেবি লোশন। এটা কি তোমার ব্যবহার করার কথা?’

হতভম্ব অনির্বাণ তার ভাইকে বলেন, ‘বেবি লোশন তাতে সমস্যা নেই কোনো।’ জবাবে ঈশান বলে, ‘বেবি লোশন তো ১৮ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তুমি তো তারও চেয়েও বড়।’

ঈশানের মতো এখনকার শিশুরা শুধু লোশন নয়, অনেক কিছুই জানে। এক দশক আগেও ঈশানের বয়সী শিশুদের কাছে এসব বিষয় ছিল কল্পনারও বাইরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে এই গুণগত পরিবর্তনটি এসেছে।

প্রযুক্তির এই সময়ে এসে শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন অধিকাংশ বাবা-মা। সন্তানকে সামলে রাখতে পারেন না ভেবে অপরাধবোধেও ভোগেন অনেকে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টসের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুদের মনে ভিডিও গেমের ইতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি। ভিডিও গেম বুদ্ধি শানিয়ে তোলে শিশুদের।

জার্নাল অফ নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়ায় টিনএজ শিশুরা অন্যদের কণ্ঠস্বরকে আমলে নিতে শুরু করে বলেই মায়ের কণ্ঠ বাড়তি গুরুত্ব হারাতে শুরু করে। এতে করে অনেক পিতা-মাতা মনে করেন শিশু অবাধ্য হয়ে উঠেছে।

বর্তমান প্রজন্মে শিশুদের জানার ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অন্যান্য বছরের মতোই এ বছর রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘সব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ’।

শিক্ষণের ক্ষেত্রে শিশুরা এখন আগের চেয়ে বেশি অগ্রসর হয়ে উঠছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, ডিজিটাল ডিভাইস মূলত শিশুদের অগ্রসরমান করে তুলেছে, আবার অনেকেই এটার নেতিবাচক দিক খুঁজে পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও সমাজ এবং অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে শিশুরা যেভাবে বড় হচ্ছে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তির ব্যবহার বা প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা মূলত সময়ের বৈশিষ্ট্য। এখান থেকে বের হয়ে আসা বা প্রযুক্তি পরিহার করলে সেখানে পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘যে সময় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়, তার ইতিবাচকতা গ্রহণ করেই সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে শিশুদের পরিবারের বাইরে একটা বড় বিষয় হচ্ছে প্রযুক্তি।’

প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মনস্তাত্ত্বিক পরিপক্বতার জায়গাটি আগে থেকেই সংগঠিত হয় বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশ্লেষক। তিনি বলনে, ‘শিশুরা তাদের নির্দিষ্ট বয়সের আগেই অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার আগেই মানসিক বয়সের দিক থেকে এগিয়ে থাকে। ৩০ বছর আগে যে শিশু বড় হয়েছে আর এখন যে শিশু বড় হচ্ছে, দুটোর মধ্যে তারতম্য থাকবে। আগামী ৩০ বছর পরেও যে শিশু জন্ম গ্রহণ করবে, সে আরও বেশি ফাস্ট হবে চিন্তায় বা উপলব্ধিতে।’

তিনি বলেন, ‘একটা শিশুকে আগে পৃথিবী সম্পর্কে, সমাজ সম্পর্কে, তার আচরণ সম্পর্কে জানতে হলে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। বই পড়া, বড়দের কাছ থেকে বোঝা বা শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করত। সেই সুযোগ সবার আছে কী নেই সেটা একটা ব্যাপার ছিল, কিন্তু এখন প্রযুক্তির কারণে সেটা উন্মুক্ত হয়েছে।

‘প্রযুক্তিতে নেতিবাচক বিষয় থাকলেও আমরা কিন্তু ইতিবাচক বিষয়গুলোকে সামনে আনার কথা বলি।’

এখন সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকদের আচরণের ধরনে পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে একটা রক্ষণাত্মক বিষয় ছিল। সেই জায়গায় এখন পরিবর্তন এসেছে। এখন শাসনের পরিবর্তে বুঝিয়ে বলার প্রবণতা বাড়ছে। বাবাদের সহজাত যে আচরণ আমরা জেনেছি, যে বাবারা একটু মেজাজি হবেন, তা কিন্তু এখন দেখা যায় না। তারা নমনীয়ভাবে কথা বলেন। আর এখন পিতা-মাতারাও প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে সেটার তাগিদ অনুভব করেন।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যান্ড চাইল্ড রাইটস গভারনেন্স বিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের শিশুদের তুলনায় এখনকার শিশুরা অনেক এগিয়ে আছে। আর এটার বড় কারণ তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার। আগে অফলাইন কানেকটিভিটি বেশি ছিল, যেটি এখন অনলাইনকেন্দ্রিক হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন বড়দের সঙ্গে শিশুদের যোগাযোগ বেড়েছে। আগে ভয় পেলেও এখন তাদের মধ্যে সেই ভয় কাজ করে না। অন্যদিকে বিশ্বায়নের কারণে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে ওঠাবসাতেও অভ্যস্ত হচ্ছে তারা।’

এগুলোর নেতিবাচক দিক থাকলেও মামুন মনে করেন, ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে তাদের গাইড করা উচিত।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিশুদের জ্ঞানের পরিধি বেড়েছে। তারা এখন আগের চেয়ে বেশি জানে, তবে এটার ইতিবাচকতার সঙ্গে নেতিবাচক প্রভাবও অনেক বেশি।’

তিনি বলনে, ‘উন্নত বিশ্বে শিশুদের আমাদের মতোই প্রযুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তবে সেটাকে ফিল্টার করা হয়। এমন কিছু অ্যাপ্লিকেশন থাকে যা তাদের ইতিবাচক বিষয়গুলো শেখাতে পারে। আমাদের দেশেও সেটা করা উচিত। আকাশসীমার পরিধি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। মা-বাবাকেও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। সেটার ওপর নির্ভর করে শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দিতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের বই পড়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ নিয়াজ মোহাম্মদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যখন একটা প্রজন্ম থেকে আর একটা প্রজন্মে যাই, তখন কিছু পরিবর্তন আসে। আর এটাকে সব সময় ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না।’

উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলনে, ’৯০-এর দশকে আমরা যারা বড় হয়েছি, তখন প্রথম টেলিভিশন পেলে আমরা কিন্তু সেখানে সময় দিয়েছি। তখন কিন্তু অভিভাবকরা বলতেন টেলিভিশনের কারণে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে বা চোখের সমস্যা হচ্ছে। তবে তখন বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা খেলাধুলাতে অথবা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ বেড়েছিল। এটা শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশে সাহায্য করেছে।

‘এখন ইন্টারনেট প্রযুক্তি এসেছে। আমরা যদি এখন শিশুদের দূরে রাখি, তাতে সে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে পড়বে। তারা এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন দেখি বাবা-মায়েরা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন শিশুদের সঙ্গে। আমরা শিশুদের বলতে পারব কোনটা আমরা গ্রহণ করব বা বর্জন করব। ফেসবুক বা ইউটিউবের কনটেন্ট অনেক ক্ষেত্রে লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।’

শিশু বয়সে বিকাশমান মস্তিষ্ক থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে মোবাইলে অনেক কিছু আমার বুঝতে কষ্ট হলেও আমার সন্তানের ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আর এই সময়টা শিক্ষণের বয়স। এমন অনেক দেখা গেছে যে শিক্ষক বা পিতা-মাতা সন্তানের সহযোগিতা নিয়ে জুম বা অনলাইন সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, এই প্রজন্ম এগিয়ে আছে বলে।’

আরও পড়ুন:
‘শিশুদের হাতে মোবাইল দেয়া যাবে না’
পথশিশুদের জন্য ‘কার্নিভাল অফ হোপ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Transforming plastic polyethylene into fuel

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর!

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর! স্বল্প খরচে মাটি দিয়ে অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
গবেষক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এই জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। সরকারের কাছ থেকে গবেষণার জন্য বড় আকারের তহবিল পেলে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারব।’

প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে তেল-গ্যাস উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।

স্বল্প খরচে মাটি দিয়ে অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন তিনি। পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য প্লাস্টিককে তরল জ্বালানিতে রূপান্তরের গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে গবেষণায় তিনি এই সাফল্য পেয়েছেন।

গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটকের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রথমে মাটি থেকে সিলিকা অ্যালুমিনা ভেঙে ক্যাটালিস্ট তৈরি করা হয়েছে। সেই ক্যাটালিস্ট দিয়ে প্লাস্টিককে ভেঙে ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন জাতীয় জ্বালানি তেল তৈরি করেছি। এই জ্বালানি তেল দিয়ে ছোট ও মাঝারি নৌকার ইঞ্জিনও চালনা করা সম্ভব। এ ছাড়া জেনারেটরের মাধ্যমে এ জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।’

প্লাস্টিক-পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর!

প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপন্ন করতে সফল হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশে অনেক প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে থাকে। এসব পরিবেশের জন্য হুমকি এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। এই প্লাস্টিক পলিথিন ধুয়ে পরিষ্কার করে জ্বালানি উৎপাদনের উপযোগী করা সম্ভব। মাটি ও প্লাস্টিক দুটি উপাদানই আমাদের হাতের কাছে পাওয়া যায়। এতে করে খুব অল্প খরচে সরকার চাইলে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তেল উৎপাদন করতে পারবে।’

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘এই জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। কারণ জ্বালানির বেশির ভাগ অংশ ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিন থেকে আসে। সরকারের কাছ থেকে গবেষণার জন্য বড় আকারের তহবিল পেলে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট স্থাপন করতে পারব। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক-পলিথিন রয়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী এবং অন্যান্য নদী ও খাল থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে তা ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিনে রূপান্তরিত করা যাবে। সেই সঙ্গে পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাবও কমে যাবে।’

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যাবে বলে দাবি গবেষকদের। বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের মাধমে দূষণ কাটিয়ে বর্জ্য প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তর করে এর সংকটও মোকাবেলা করা যাবে। এই জ্বালানিকে বাণিজ্যিকভাবেও উৎপাদন করা যাবে বলে জানান এই অধ্যাপক।

গবেষণা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ল্যাবে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তহবিল বা বাজেট পেলে বড় আকারে গবেষণা করার চেষ্টা করব।’

গবেষণা প্রকল্পটি ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ইনঅর্গানিক কেমিস্ট্রি, ওয়াইলি’ নামের একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল একক ব্যবহারের বর্জ্য পলিথিনকে জ্বালানিতে রূপান্তর করে পরিবেশ রক্ষা করা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে এই গবেষণা প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাফীস আহমেদ, ড. জয়ন্ত কুমার সাহা এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত চন্দ্র রায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরিফুল রহমান ও জুনায়েদ মাহমুদ শুভ গবেষণায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hello SB App launch

হ্যালো এসবি অ্যাপ উদ্বোধন

হ্যালো এসবি অ্যাপ উদ্বোধন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বুধবার এসবি হেডকোয়ার্টার্সের কনফারেন্স রুমে ‘হ্যালো এসবি অ্যাপ’ উদ্বোধন করেন। ছবি: নিউজবাংলা
ই-পাসপোর্ট/এমআরপি, পাসপোর্ট নবায়ন/সংশোধন, ইমিগ্রেশন সেবা, দ্বৈত নাগরিকত্ব, ভিসা ইসু/নবায়ন, নিবন্ধন, সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, এনজিও সংক্রান্ত তথ্য, দত্তক, ভ্রমণ ইত্যাদি সেবা ‘হ্যালো এসবি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সহজে পাওয়া যাবে। সেবা গ্রহীতারা এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদান কিংবা কোনো তথ্যও দিতে পারবেন।

পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন, ভিসা ইস্যু ও নবায়ন, এনজিও সংক্রান্ত তথ্যসহ বেশকিছু সেবা অনলাইনে দেয়ার জন্য অ্যাপ চালু করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)।

বুধবার সকালে এসবি হেডকোয়ার্টার্সের কনফারেন্স রুমে ‘হ্যালো এসবি অ্যাপ’ উদ্বোধন করেছেন পুলিশে মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের ‘প্লে স্টোর’ থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্ট/এমআরপি, পাসপোর্ট নবায়ন/সংশোধন, ইমিগ্রেশন সেবা, দ্বৈত নাগরিকত্ব, ভিসা ইসু/নবায়ন, নিবন্ধন, সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, এনজিও সংক্রান্ত তথ্য, দত্তক, ভ্রমণ ইত্যাদি সেবা ‘হ্যালো এসবি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সহজে পাওয়া যাবে। এছাড়া এ সংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহীতারা এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদান কিংবা কোনো তথ্য দিতে পারবেন।

পাসপোর্ট সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় কোথাও অহেতুক মুলতবি থাকলে অথবা এসবি সদস্য কিংবা অন্য কোনো সংস্থার সদস্য কর্তৃক দুর্ব্যবহার অথবা অনৈতিক প্রস্তাব পেয়ে থাকলে তাও এই অ্যাপের মাধ্যমে জানানো যাবে।

পাশাপাশি বিমানবন্দর, স্থলবন্দর, সমুদ্র বন্দর দিয়ে যাতায়াতকালে দেশি-বিদেশি কোনো যাত্রী ইমিগ্রেশন অফিসার কর্তৃক দুর্ব্যবহার বা হয়রানির শিকার হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, জনগণের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার ক্ষেত্রে ‘হ্যালো এসবি অ্যাপ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের ক্ষেত্রে এটি এক চমৎকার উদ্যোগ। পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এই অ্যাপ অনন্য সংযোজন।

আইজিপি এর আগে স্পেশাল ব্রাঞ্চের মাল্টিপারপাস হলে এসবির সদস্যদের উদ্দেশে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি এসবির সুসজ্জিত আধুনিক লাইব্রেরি উদ্বোধন এবং অপারেশনস কন্ট্রোল রুমও পরিদর্শন করেন।

স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ব্রিফিংয়ে সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া, এসবির ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবির বক্তব্য দেন। এসবির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, ‘এসবি সবচেয়ে পুরনো ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এসবি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, রাজনৈতিক, আইন-শৃঙ্খলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ধর্মীয় উৎসব পালনসহ যেকোনো ইস্যুতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করে থাকে। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এসবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এসবি সরকারের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গোয়েন্দা সংস্থা। নবীন ও প্রবীণ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। অনেক সফল কাজের পাশাপাশি এসবির রেকর্ড অ্যান্ড আর্কাইভস শাখায় রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অফ ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন, বাংলাদেশ’, ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ইত্যাদি সংকলন।

আরও পড়ুন:
পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার 
আসামি ধরতে গিয়ে কনস্টেবলের মৃত্যু
মামলা তদন্তে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে ১৫ চাকরি
গ্রাম পুলিশের লড়াইটা নিম্ন বেতনের সঙ্গেও

মন্তব্য

p
উপরে