দুই প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়।
ভোটে দিনভর অন্যান্য ইউপিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেলেও সকাল থেকে অশান্ত ছিল সাতকানিয়া।
গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানকার দুই কেন্দ্রের ভোট স্থগিতও করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাল ভোট দেয়া ও নির্বাচনি আচরণবিধি না মানায় কয়েকজনকে আটকসহ নৌকা প্রার্থীকে জরিমানার খবর পাওয়া গেছে অন্যান্য জেলার ইউপির কিছু কেন্দ্র থেকে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত করা হয়েছে একটি ইউনিয়নের।
সপ্তম ধাপে সোমবার ২০ জেলার ২৪ উপজেলার ১৩৮ ইউপিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৯ ইউনিয়নে ভোট হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। বাকি ১২৯টিতে ব্যালট পদ্ধতিতে।
সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নিউজবাংলার হিসাবে সোমবার দুই জনসহ গত জুন থেকে শুরু হওয়া ইউপি নির্বাচনে ছয়টি ধাপে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, ষষ্ঠ ধাপে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগে প্রার্থীর ভোট বর্জনের খবর মিললেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
পঞ্চম ধাপে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এ ছাড়া চতুর্থ ধাপে তিনজন, তৃতীয় ধাপে অন্তত ১০ জন, দ্বিতীয় ধাপের আগে পরে ১৬ জন ও প্রথম ধাপে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
অশান্ত সাতকানিয়া
সপ্তম ধাপে সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নলুয়া ও বাজালিয়া ইউনিয়নে সহিংসতায় এক কিশোরসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
নিউজবাংলাকে স্থানীয়দের বরাতে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান, কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নলুয়া ইউনিয়নে মারফলা বোর্ডবাজার কেন্দ্রে দুপুরে নৌকার লিয়াকত আলী ও আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের সময় ১৩ বছরের মো. তাসিফ নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা মো. জসিমের দাবি, ওই ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীর সমর্থকের ছুরিকাঘাতে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে বাজালিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রের বাইরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হন।
তাদের স্থানীয় কেরানীহাট মা ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে একজনের মৃত্যু হয়।
নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই ইউনিয়নের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান বিন মাজেদ জানান, আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভোট স্থগিত
একই উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের পর দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
খাগরিয়া ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কেন্দ্রে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ভোট স্থগিত করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু তালেব মণ্ডল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গণিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার সকাল ১০টার দিকে খাগরিয়া ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তার হোসেন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়।
খাগরিয়া ইউনিয়নের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। তবে কারা গুলি করেছে তা জানা যায়নি। কেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরণও হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ‘পিটিয়ে আহত’
এ দিকে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর হাতিরপুল কেন্দ্রে সকালে ভোট শুরুর পরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিম চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
নৌকার প্রার্থী জসীম নিজে এ হামলা চালিয়েছেন দাবি করে ভুক্তভোগী প্রার্থীর চাচা নবাব চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৭ নম্বর ও ৮ নম্বর কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী জসীম নিজে এ হামলা করেছেন। আনারস প্রতীকের সেলিমকে মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
এ ছাড়া নৌকায় প্রকাশ্য ভোট দেয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘উপজেলার ৬ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রেও স্বতন্ত্রের এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকায় প্রকাশ্যে সিল মারা হচ্ছে।’
হামলার বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল জলীল বলেন, ‘হামলার কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে একটু ঝামেলা হয়েছে শুনেছি, অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে ওই এলাকায়।’
অন্যদিকে কারচুপির অভিযোগে বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে বলে জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু তালেব মণ্ডল।
কুমিল্লায় আটক ৫, নৌকা প্রার্থীর জরিমানা
জাল ভোট দেয়া ও নির্বাচনি আচরণবিধি না মানায় সোমবার সকাল থেকে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় ৫ জনকে আটক ও নৌকার এক প্রার্থীকে জরিমানার খবর পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে চার যুবককে আটক করে পুলিশ।
গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রিপন সরকার জানান, আটকরা কেন্দ্রে এসে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে।
দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নে নির্বাচনি আচরণ ভঙ্গ করায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. নুরুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দত্ত বলেন, ‘ভোটের আগেও দিন-রাত তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা করায় তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। সকালেও তিনি আচরণবিধি না মানায় তাকে জরিমানা করা হয়।’
একই উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নে এক প্রার্থীর সমর্থককে ৩৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ আটক করা হয়। ভোট ক্রয়ের চেষ্টার দায়ে শাহজাহান নামের ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এদিকে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যুতে দেবীদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভানী ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম রোববার রাত ১২টার দিকে ভোট স্থগিতের কথা জানান।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথমে শুধু চেয়ারম্যান পদের ভোট স্থগিত করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব পদের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে ব্যালট ছিনতাই, ভোট বন্ধ
ব্যালট পেপার বই ছিনতাইয়ের অভিযোগে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইলট ফার্ম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পানছড়ির ৫ ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা রিকল চাকমা নিউজবাংলাকে বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংরক্ষিত মেম্বার প্রার্থী মন্দিরা চাকমা অভিযোগ করে বলেন, ‘সাড়ে ১২টার দিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো. আমিরুল বাশারের সমর্থকরা পাইলট ফার্ম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ নম্বর বুথে ঢুকে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত মেম্বার প্রার্থীর প্রতীক সম্বলিত ব্যালট পেপারের তিনটি বই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিবাদ জানালে আমাকে ও আমার এজেন্টদের মারধর করা হয়। বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়য়েছি।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা রিকল চাকমা বলেন, ‘৩টি ব্যালট বই ছিনতাই হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে প্রিসাইডিং অফিসার আবেদন করেছেন। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁওয়ে বোমা বিস্ফোরণ, দূর্বৃত্তদের ধাওয়া
ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার নতুন ইউনিয়ন পরিষদ সেনুয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী হাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে হাত বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোট কেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় এলাকাবাসী ও পুলিশের ধাওয়ায় ভোটকেন্দ্র থেকে পালিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা।
নিউজবাংলাকে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটার উম্মেদা খাতুন বলেন, ‘আমি ভোট দিতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ কেন্দ্রের পূর্ব পাশ থেকে বোমা বিস্ফোরণের বিকট আসে। শব্দে আমি চমকে উঠি।’
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রের বাহির থেকে একটি বিকট আওয়াজ এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি, তারা বিষয়টা দেখছেন।’
কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য বদিউজ্জামান বলেন, ‘কেন্দ্রের বাহির থেকে বিকট শব্দ আসার পর আমরা কেন্দ্রে তৎপরতা আরও বাড়িয়েছি। পুলিশ দূর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাধারণ জনগণও পুলিশকে সহায়তা করে।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘কেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ময়মনসিংহে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
ঈশ্বরগঞ্জে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নে মরিচার চর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল বাকি উল বারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যেক্ষদর্শী মো. খোকন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি কেন্দ্রের পাশেই ছিলাম। জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আতঙ্ক ছড়ালে ভোটার শূন্য হয়ে পড়ে কেন্দ্র।’
তিনি জানান, দুই মেম্বার প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পুলিশ গিয়ে দ্রুতই পরিস্থিতি সামলে নেয়। ভোট সময়মতোই শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য