× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Rod price review for three consecutive months
google_news print-icon

তিন মাস পরপর রডের দাম পর্যালোচনা

তিন-মাস-পরপর-রডের-দাম-পর্যালোচনা
দেশে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৭৮ হাজার টাকায়। ফাইল ছবি
বৈঠকে বিএসএমএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত দুই বছরে স্টিল তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও রাসায়নিকের দাম বৃদ্ধিসহ জাহাজ ও কনটেইনারের ভাড়া বেড়েছে। ফলে রডের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের নির্মাণ খাতেও।

দেশে নির্মাণ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। এ লক্ষ্যে নির্মাণ খাতের অন্যতম উপকরণ এমএস রডের স্থানীয় দাম এবং কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও পরিবহন খরচসহ সার্বিক মূল্য পর্যালোচনা করতে তিন মাস পরপর নিয়মিত বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও কাঁচামাল উৎপাদকরা।

সম্প্রতি এফবিসিসিআই কার্যালয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এমএস রড ও কাঁচামাল স্ক্র্যাপের মূল্য পর্যালোচনা-সংক্রান্ত ভার্চুয়াল বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) নেতারা।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএর সভাপতি মানোয়ার হোসেন ও বিএসিআইয়ের সভাপতি শফিকুল হক তালুকদার।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সংগঠনের বর্তমান কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মেদ আলমগীর ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

বৈঠকে দেশে নির্মাণ খাতের বর্তমান বাস্তবতার নানা বিষয় আলোচনা হয়। এরপর সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত হয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে নির্মাণ খাতের সমস্যা নিরসনের তাগিদ দেন।

এফবিসিসিআই সভাপতির পরামর্শে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, দুই খাতের উদ্যোক্তারা প্রতি তিন মাস পরপর সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক আলোচনায় বসবেন।

বৈঠকে বিএসএমএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত দুই বছরে স্টিল তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও রাসায়নিকের দাম বৃদ্ধিসহ জাহাজ ও কনটেইনারের ভাড়া বেড়েছে। ফলে রডের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের নির্মাণ খাতেও।

আরও জানানো হয়, বিশ্ববাজারে বর্তমানে কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেশে এমএস রডের সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৫২ শতাংশ। যদিও এর বিপরীতে বিক্রয় মূল্য বেড়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ।

এ অবস্থায় বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির তুলনায় বিক্রয় মূল্য না বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রেই লোকসান দিয়ে রড বিক্রি করতে হচ্ছে। দেশে এখন প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৭৮ হাজার টাকায়। অথচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তা বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় ৮৬ হাজারে।

দেশে এমএস রডের দাম সহনীয় রাখতে স্ক্র্যাপ ও স্পঞ্জ আয়রন আমদানিতে বিদ্যমান সব শুল্ক-কর হ্রাস করার দাবিও জানান বিএসএমএ নেতারা। পাশাপাশি, দেশীয় শিল্প ক্ষতি রক্ষায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রড আমদানি করার অনুমতি না দেয়ারও আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বিএসিআই থেকে দাবি করা হয়, ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের অবকাঠামো নির্মাণ কোম্পানিগুলো।

বিএসিআই নেতারা জানান, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালা-পিপিআর ও সিপিটিইউ থেকে জারি করা পরিপত্রে সরকারি প্রকল্পগুলোয় মূল্য সমন্বয়ের কথা রয়েছে। কিন্তু সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত বেশির ভাগ প্রকল্পের চুক্তিতে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়নি। যে কারণে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় ঠিকাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারি প্রকল্পের চুক্তিমূল্য বাড়ানোর আহ্বান জানায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
24 customers of Walton fridge and AC spent happy time with cricketer Taskin and actress Meem

তাসকিন ও মিমের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটালেন ওয়ালটন ফ্রিজ ও এসির ২৪ ক্রেতা

তাসকিন ও মিমের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটালেন ওয়ালটন ফ্রিজ ও এসির ২৪ ক্রেতা

জাতীয় দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ এবং ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে এক জমকালো ডিনারে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন নাম্বার ওয়ান রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনার ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ২৪ জন ক্রেতা। দেশজুড়ে চলমান ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর আওতায় এই সুবিধা পান তাঁরা।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ২৪ এ ‘নেক্সট লেভেল ডিল’ অফারের আওতায় ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন বা বিএলডিসি ফ্যান কিনে ক্রেতাদের জন্য রয়েছে মিলিয়নিয়ার বা নগদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুবিধা। এছাড়াও রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমের সঙ্গে ডিনার করার সুবিধা। এরই ধারাবাহিকতায় সিজন-২৪ এ ওয়ালটন ফ্রিজ ও এসি কিনে এই সুবিধা পেয়েছেন ২৪ জন ক্রেতা। তাদের মধ্যে ২ জন পেয়েছেন থাইল্যান্ড ভ্রমণের ট্রাভেল কুপন।

গত শুক্রবার (২৭ জুন, ২০২৬) রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৪ জন গ্রাহকের সম্মানে এক জমকালো ডিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে গ্রাহকেরা ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। পাশাপাশি অভিনেত্রী মিমের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন।

সেসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেকের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং সিনিয়র এডিশনাল এক্সিকিউটভি ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।

ডিনার অনুষ্ঠানে চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি ওয়ালটন ব্র্যান্ডের টার্গেট থাকে গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা ও আনন্দ দেয়া। বাড়তি সুবিধা দেয়ার কারণে ওয়ালটন ও তার গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার জায়গা আরো সুদৃঢ় হচ্ছে। ক্রেতাদের এই আস্থায় ভর করেই ওয়ালটন আজ এতোবড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ এবং ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে ডিনারসহ আনন্দঘন এই মুহুর্তটি গ্রাহকরা জীবনে একটি সুখস্মৃতি হয়ে থাকবে। ওয়ালটন পণ্যের গ্রাহকদের জন্য এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী চলমান ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪ এর মেয়াদ শেষ হবে ৩০ জুন, ২০২৬। ক্যাম্পেইনের এই সিজনে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ওয়ালটন ফ্রিজ এবং এসি কিনে মিলিয়নিয়ার অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন ৬ জন ক্রেতা। তারা হলেন: ভালুকার খোকন মিয়া, রাজধানীর মাহমুদুল হাসান, নাটোরের গৃহবধূ আফরোজা বেগম, বান্দরবানের সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের দিনমজুর কুদ্দুস হাওলাদার এবং নরসিংদীর গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার।

মিলিয়নিয়ারের পাশাপাশি তাসকিন এবং মিমের সঙ্গে ডিনারের সুযোগ পেয়েছে ২৪ জন। এছাড়াও এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ভাউচারসহ আর্জেন্টিনার ফ্যান জার্সি ফ্রি পেয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Energypack has organized a special campaign to increase preparedness to deal with fire accidents

অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করল এনার্জিপ্যাক

অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করল এনার্জিপ্যাক

সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ধনুয়া উচ্চবিদ্যালয়ে একটি অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি হাতে-কলমে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসির সিনিয়র ম্যানেজার (এইচএসই) মাহাদী হাসান। প্রশিক্ষণে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়, জীবন রক্ষার উপায়, বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে স্থানত্যাগের বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অভিভাবক প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩১০ জন অংশগ্রহণ করেন। নানা ইন্টারেক্টিভ প্রদর্শনী ও ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অগ্নি নিরাপত্তার বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান। এতে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলের অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে অগ্নি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ জননিরাপত্তার বিষয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ ছিল বৈদ্যুতিক ত্রুটি। তাই অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, নিরাপদে বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক ব্যবহারিক জ্ঞান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অর্থবহ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশজুড়ে জননিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এনার্জিপ্যাক।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Artificial intelligence onslaught of market volatility

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসনে বাজারে অস্থিরতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসনে বাজারে অস্থিরতা

প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি চিরন্তন নিয়ম ছিল— বাজারে নতুন মডেলের ডিভাইস এলেই পুরনো মডেলগুলোর দাম কমতে শুরু করত। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য ও দ্রুত বিস্তারের কারণে সেই প্রচলিত চেনা ট্রেন্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন নতুন পণ্যের পাশাপাশি বাজারে থাকা কয়েক বছর পুরনো ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং গেমিং কনসোলের দামও উল্টো হু হু করে বাড়ছে। শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিশ্বজুড়ে এআই অবকাঠামোর বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে ডিভাইসগুলোর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের প্রভাবশালী প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট তাদের বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিভাইস ও গেমিং কনসোলের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। বাজারে আসার পর কয়েক বছর পার হয়ে যাওয়া পণ্যের ক্ষেত্রেও এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। যেমন— অ্যাপল সম্প্রতি তাদের বাজারে থাকা ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এর মূল কারণ হিসেবে টেক জায়ান্টগুলো জানাচ্ছে, এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোর চাহিদা বিশ্বজুড়ে রকেটের গতিতে বাড়ছে। আর এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলো পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন কোটি কোটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ এবং মেমোরি কার্ড। ফলে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর বৈশ্বিক সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, ডিভাইসের গতি নির্ধারণী উপাদান ‘র‍্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি’ বা র‍্যামের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বিশ্লেষকরা বর্তমানের এই সংকটময় পরিস্থিতিকে ‘র‍্যামাগেডন’ নামে অভিহিত করছেন; কারণ একসময়ের অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য এই উপাদানটির দাম এখন লাগামহীন।

একই সংকটের অজুহাতে আরেক মার্কিন জায়ান্ট মাইক্রোসফট তাদের প্রায় পাঁচ বছর পুরনো ‘এক্সবক্স সিরিজ এস’ এবং ‘এক্সবক্স সিরিজ এক্স’ গেমিং কনসোলের দাম কমপক্ষে ১০০ ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী আগস্ট মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধিটি মূলত গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এক্সবক্স কনসোলের টানা তৃতীয় দফা মূল্যবৃদ্ধি। এই ধারাবাহিক সমন্বয়ের ফলে বাজারে থাকা পুরনো মডেলের একটি নতুন কনসোলের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ গেমার ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের পকেটে বড় ধরনের টান ফেলবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The index fell in the first half of the session on the DSE

লেনদেনের প্রথমার্ধে সূচকের পতন ডিএসইতে

লেনদেনের প্রথমার্ধে সূচকের পতন ডিএসইতে

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টা থেকেই বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ায় প্রধান মূল্যসূচকসহ বাকি দুটি সূচকেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বেলা ১১টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ২ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে। এছাড়া বাছাইকৃত ব্লু-চিপ বা বৃহৎ মূলধনি কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে।

বাজারের এই দরপতনের মধ্যেও লেনদেনের গতি ছিল বেশ সন্তোষজনক। প্রথম দেড় ঘণ্টা বা মধ্যদুপুর পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৫৬৫ কোটি ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও ইনস্ট্রুমেন্টগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; যার মধ্যে ১৬৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে, ১৫২টির দর কমেছে এবং ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কর রেয়াত বা ট্যাক্স বেনিফিট নেওয়ার জন্য অর্থবছর শেষের এই সময়ে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে লেনদেনের এই গতি বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Square Pharma is on contract manufacturing to meet market demand

বাজার চাহিদা মেটাতে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের পথে স্কয়ার ফার্মা

বাজার চাহিদা মেটাতে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের পথে স্কয়ার ফার্মা

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি বাজারে তাদের ওষুধের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং নতুন ওষুধ দ্রুত বাজারে আনার লক্ষ্যে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ডিএসইতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ‘সি টু সি ফার্মা লিমিটেড’ নামক একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন সংক্রান্ত একটি বিশেষ চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলগত চুক্তির আওতায় এখন থেকে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে তাদের ফর্মুলা ও মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ উৎপাদন করবে সি টু সি ফার্মা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বাজারে স্কয়ারের ওষুধের যে বিপুল ও বর্ধিত চাহিদা রয়েছে, তা নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি এই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে আরও দ্রুত মেটানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে নতুন নতুন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বাজারে নিয়ে আসা এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হবে। এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ এই চুক্তির একটি অনুলিপি সরবরাহ করার জন্য স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে অনুরোধ জানিয়েছে, তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সেই চুক্তির অনুলিপি এখনো স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে পৌঁছায়নি।

উল্লেখ্য, সুদীর্ঘকাল ধরে দেশের ওষুধ খাতে আধিপত্য বিস্তার করে রাখা স্কয়ার ফার্মা ১৯৯৫ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৮৮৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৫৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গতকাল রোববার (২৮ জুন) লেনদেন শেষে ডিএসইতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ২২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগামীতে কোম্পানির উৎপাদন ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The new monetary policy coming on Tuesday may keep the policy interest rate unchanged at 10 percent

মঙ্গলবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি, ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে নীতি সুদহার

মঙ্গলবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি, ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে নীতি সুদহার ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে না নামায় এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান থাকায় নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতেও কঠোর ও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবারও সংকোচনমূলক নীতির ধারা অব্যাহত রাখার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে বহুল আলোচিত নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় এই নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন অর্থবছরের বড় বাজেট, প্রণোদনা কর্মসূচি, তারল্য সহায়তা এবং ডলার ক্রয়ের কারণে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি হয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে; তাই এই মুহূর্তে নীতি সুদহার কমিয়ে সম্প্রসারণমূলক বা সহজ নীতিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সরকার নতুন অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম এই সতর্ক অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, “বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে নীতি সুদহার কমিয়ে বাজার সহজ করা সমীচীন হবে না। রাজস্বনীতি যেখানে সম্প্রসারণমুখী, সেখানে মুদ্রানীতিও সহজ করা হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সতর্ক বা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করছে।”

অন্যদিকে ভিন্ন মত পোষণ করে পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, “শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। করব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। বর্তমানে উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে। আমার মতে, নীতি সুদহার ১ শতাংশ কমিয়ে ৯ শতাংশে আনা হলে বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগে গতি ফিরত।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে যায় এবং নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসের মুদ্রানীতিতেও এটি ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) ঊর্ধ্বসীমা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) নিম্নসীমা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অর্থবছর শুরুর আগেই সময়োপযোগী একটি মুদ্রানীতি দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Short term sukuk applications are 10 times higher than the governments Tk 5500 crore collection demand

স্বল্পমেয়াদি সুকুকে সরকারের ৫,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ, চাহিদার তুলনায় ১০ গুণ আবেদন

স্বল্পমেয়াদি সুকুকে সরকারের ৫,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ, চাহিদার তুলনায় ১০ গুণ আবেদন ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি ‘বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক’ (BGIS) জারির মাধ্যমে বাজার থেকে ৫,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার। ২৭৩ দিন মেয়াদি এই ইজারা সুকুক বন্ড বা ইসলামিক ট্রেজারি বিলের নিলামে ইসলামী ব্যাংক ও শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে অভূতপূর্ব ও রেকর্ড ভাঙা আগ্রহ দেখা গেছে। সরকারের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় এবার ১০ গুণেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫৬,৬০৭ কোটি টাকার বিড (আবেদন) জমা পড়েছে। দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ বা বিনিয়োগের গতি ধীর থাকায়, ইসলামী ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সুকুককে সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।

রোববার (২৮ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক বার্ষিক ৯.৩৬ শতাংশ ভাড়া (মুনাফা) হারে প্রথমবারের মতো এই স্বল্পমেয়াদি সুকুক নিলামের আয়োজন করে। এই ইস্যুর বিপরীতে জমা পড়া ৫৬,৬০৭ কোটি টাকার বিশাল তহবিল থেকে সরকার কেবল তার নির্ধারিত ৫,৫০০ কোটি টাকা গ্রহণ করেছে। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’-এর বিপরীতে এই সুকুক বা ইসলামিক বন্ডটি জারি করা হয়েছে। এই নিলামে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক একাই ৪,৪০০ কোটি টাকার আবেদন করেছিল, তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ব্যাংকটি প্রোপোরশনেট (অনুপাতিক) হারে মাত্র ৪৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছে।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকগুলো সরকারের ঘাটতি বাজেট মেটাতে যেভাবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে দেদারসে বিনিয়োগের সুযোগ পায়, ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সেই বিকল্প খুবই সীমিত। ফলে সুকুকই তাদের জন্য একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যম। তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায় থেকেও উল্লেখযোগ্য আবেদন এসেছিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যক্তি পর্যায়ের সকল গ্রাহকের আবেদনই (যেমন ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ৬ কোটি টাকা) শতভাগ অনুমোদন করেছে।

সুকুকটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি ‘ইজারা সুকুক’। যার ফলে ২৭৩ দিনের মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারীরা মূল অর্থের সঙ্গে এককালীন অর্জিত মুনাফা বা ভাড়া ফেরত পাবেন। এতে সাধারণ নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার এ পর্যন্ত মোট ১১ বার সুকুক জারি করেছে, যার মধ্যে আগের ১০টিই ছিল ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি বন্ড। আর ১১তম এই সুকুকটি ছিল দেশের প্রথম স্বল্পমেয়াদি ইজারা সুকুক। সব মিলিয়ে সরকার এই ইসলামিক ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৫৩,৫০০ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করল। যার মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ৫টি সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে তোলা হয়েছে ২৯,৫০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে সরকার সুকুকের বাজার থেকে আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দূরদর্শী পরিকল্পনা করছে, যা দেশের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য

p
উপরে