ভর্তির আগে করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক। ফলে দেশে ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুই বছর ধরে চলা ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে ক্যানসার রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকার বাইরে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেই। রাজধানীতেও যে কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতালে আছে, সেগুলোতে শয্যাসংকট।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাগুরার ৫৮ বছর বয়সী রোকেয়া বেগম। প্রতি মাসে কেমোথেরাপি নেন তিনি। প্রতিবার থেরাপি দেয়ার আগে করোনা পরীক্ষা করতে বলেন চিকিৎসক। তবে এই হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।
অন্য হাসপাতালে নমুনা দিয়ে তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে হয়। গত নভেম্বরে করোনা আক্রান্ত হন রোকেয়া। ফলে থেরাপি দেয়া বন্ধ রেখে করোনা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হয়। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা না নিয়েই গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান এই নারী।
স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রওশন আরা বেগম কুমিল্লা থেকে চিকিৎসা নিতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। গত ডিসেম্বরে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় কেমো দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। করোনা থেকে সেরে উঠলেও রওশনের ক্যানসারের জটিলতা বাড়ে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, রওশন আরার স্তন ক্যানসার প্রথম পর্যায়ে থাকলেও করোনা আক্রান্ত হওয়ায় কেমো দিতে দেরি হয়েছে। ফলে তার ক্যানসার বেড়ে তৃতীয় স্তরে পৌঁছেছে।
দেশে সবচেয়ে বড় একটি ক্যানসার হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় সেবা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। শুধু করোনা নেগেটিভ হওয়ার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শুরু হচ্ছে কেমোথেরাপি, তাতে প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে যাচ্ছে চার থেকে পাঁচ দিন।
ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, ক্যানসার রোগীদের করোনা হওয়ায় ক্যানসার চিকিৎসা শেষ না করেই ৩০ শতাংশ রোগী বাসায় ফিরছেন। চিকিৎসা শেষ না করা রোগীদের ৭৫ শতাংশই এক বছরের মধ্যে মারা গেছেন বলে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে ক্যানসার চিকিৎসা বন্ধ থাকায় রোগীর শরীরে ক্যানসারের জটিলতা বাড়ছে। করোনার সময়ে ৫০ শতাংশ কম রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান গ্লোবোক্যানের সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশে বর্তমানে ১৫ লাখ ক্যানসার রোগী রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর ১ থেকে দেড় লাখ মানুষের নতুন করে ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। প্রতি বছর ১ লাখ ৯ হাজার রোগী ক্যানসারে মারা যায়। সে হিসাবে গত দুই বছরে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার মানুষ মারা গেছে।
স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে করোনার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হচ্ছে ক্যানসারে মৃত্যু। এ ছাড়া ক্যানসার রোগীরা করোনা আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কত জন মারা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এমন তথ্য না থাকলেও জানানো হয়েছে, এক বছরে ৬৭ শতাংশ অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
শয্যা ফাঁকা নেই, রোগীরা রাস্তায়
ঢাকায় ১৫০ শয্যার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেয়া হয় ৫০০ জনের। সারা দেশে ক্যানসারের সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় ঢাকার এই হাসপাতালে সব সময় রোগীর চাপ থাকে।
গত বুধবার সকাল গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির নিচতলায় বি ব্লকের গেটের সামনে খোলা আকাশের নিচে ৩০ জন রোগী ও স্বজন কয়েক দিন করে রাত্রিযাপন করছেন। তাদের অভিযোগ, আসন না পাওয়ায় হাসপাতালে বাইরে এভাবে থাকতে হয়। এক সপ্তাহ পরপর কেমোথেরাপি দেয়ার কারণে স্বজনদের নিয়ে এভাবে থাকেন তারা।
বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। অন্তত ২০০ রোগী টিকিট সংগ্রহের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। টিকিট পাওয়ার পর দ্বিতীয় তলায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য আবারও দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অনেকে ক্লান্ত হয়ে ফ্লোরে বসে পড়ছেন। কেউ কেউ মাদুর পেতে শুয়ে আছেন। রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের চোখেমুখেও রাজ্যের ক্লান্তি।
খোলা আকাশের নিচে থাকা রহিমার সঙ্গে কথা বলেন জানা যায়, তিনি মাগুরা থেকে তার বোনের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসেছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি তার থারাপি দেয়ার কথা। এ জন্য করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আসা-যাওয়ার বাসভাড়া বেশি হওয়ায় শীতের রাত উপেক্ষা করে হাসপাতালের বারান্দায় আছেন তারা। তিনি আরও জানান, অপারেশনের জন্য গড়ে এক মাস, কেমোথেরাপির জন্য দুই থেকে তিন সপ্তাহ, বিকিরণ চিকিৎসার জন্য চার মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় রোগীদের।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে ক্যানসার চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ২৬টি প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও সমন্বিত ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে মাত্র ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে। তবে এই হাসপাতালে বছরে মাত্র ৩০ হাজার রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকি ১ লাখ ২০ হাজার রোগী ২৫টি কেন্দ্রে সেবা নিচ্ছে। সেইসব রোগীর চিকিৎসায় তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই।
দেশে করোনা চিকিৎসায় আট বিভাগের আটটি ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। তিন-চার বছরে এগুলো চিকিৎসা দেয়ার উপযোগী হবে।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের দাবি, ক্যানসার রোগীর চিকিৎসাসংকট নিরসনে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসাও সম্প্রসারিত করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্যানসার রোগী দ্বিগুণ হবে। তাই সেভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। কিছু বেসরকারি হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও টাকার অভাবে দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
করোনায় ক্যানসার রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে
করোনা মহামারি ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেমোথেরাপি দিতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে মৃত্যু বাড়ছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যানসার দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বৈষম্য কমাই, ক্যানসার সেবায়।’
ক্যানসার রোগতত্ত্ববিদ ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন নিউজবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর ক্যানসার আক্রান্তদের যত্নের ওপর তীব্র প্রভাব পড়েছে। মহামারির কারণে বিশ্বের অনেক দেশে ক্যানসার রোগীর সেবা আংশিক বা পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণে আগামী বছরগুলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, করোনার শুরুর দিকে ক্যানসার রোগী আসার পরিমাণ অনেক কমে যায়। এ ছাড়া করোনা পরীক্ষা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। তবে এখন করোনা উপসর্গ না থাকলে কেমোথেরাপি বা অপরেশন করাতে করোনা সনদ লাগছে না।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক বছরে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সেবা নেয়া রোগীর ৪৫ শতাংশই মারা গেছেন। যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সবাই ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছে না এটা বলার সুযোগ নেই। তবে করোনা মহামারি থেকে গেলে মৃত্যু বাড়বে।’
দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে আট বিভাগে আটটি ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এটির কাজ শেষ হলে শহরে চাপ কমে আসবে। রেডিওথেরাপি যন্ত্রপাতিসহ আধুনিক বিভাগ গড়ে তোলা হবে।’
ফাইল ছবি
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল স্কয়ার হসপিটাল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি’। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে স্কয়ার হসপিটালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে পরিচালনা করেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করেছে।
এই বিশেষ পরীক্ষায় বিশ্বখ্যাত 'মোনা লিসা' (Mona Lisa) রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর রোবোটিক ব্যবস্থা যা সার্জনকে প্রোস্টেটের নমুনা সংগ্রহে সর্বোচ্চ নিখুঁত সহায়তা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর আগের করা এমআরআই এবং পরীক্ষার সময়কার তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবিকে একত্রে সমন্বয় বা ফিউশন করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রি-ডি ম্যাপ তৈরি করে। এই ম্যাপটি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকরা প্রোস্টেটের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান এবং রোবোটিক গাইডেন্সের মাধ্যমে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেন।
প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ছোট টিউমারগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে অথবা বায়োপসি সুই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু নতুন এই রোবোটিক সিস্টেমে ঠিক যে জায়গায় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বা একুরেসি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। পাশাপাশি এই পদ্ধতিতে শারীরিক জটিলতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং রোগীকে বারবার কষ্টদায়ক বায়োপসি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।
এই সাফল্য সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া জানান যে, প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। দেশের ভেতরেই এখন এমন উন্নত সেবা নিশ্চিত হওয়ায় রোগীদের এই জটিল পরীক্ষার জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হসপিটালের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ইউরোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বমানের সেবা প্রদানে পুরোপুরি সক্ষম।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।
নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।
অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দেশে গত সোমবার (০১ জুন) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৪ জন। মঙ্গলবার (০২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৯২ জন শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৪২ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৩৬২ জনে। আর এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ১৩৬ জন।
সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৬ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮১২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামরোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯০ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য