× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Peoples Rights Council is waiting for BNPs proposal
google_news print-icon

বিএনপির প্রস্তাবের অপেক্ষায় গণ অধিকার পরিষদ

বিএনপির-প্রস্তাবের-অপেক্ষায়-গণ-অধিকার-পরিষদ
গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। ছবি: নিউজবাংলা
বিএনপি কোনো প্রস্তাব দিলে কী করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘প্রস্তাব পেলে আমরা অবশ্যই খুবই ইতিবাচকভাবে বিষয়টি দেখব। কারণ এই সরকারকে হটানো দরকার এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা দরকার। এ বিষয়ে আমরা সবাই একমত। বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’

আওয়ামী লীগ সরকারকে হঠাতে আন্দোলনের জন্য বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে আগ্রহী নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। তিনি মনে করেন, এই প্রস্তাব শিগগিরই আসবে। তারা খুবই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন তা।

আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াপুত্র বলেছেন, বর্তমান সরকারকে হটাতে সব শক্তির এক হতে হবে। এ জন্য বিদেশি সহায়তা লাগলেও সেটি নিতে আপত্তি নেই।

নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রেজা কিবরিয়া।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দেন রেজা। পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে হবিগঞ্জের একটি আসনে ভোটে লড়ে হেরে যান তিনি। সে সময় তাকে নিয়ে গণফোরামে বিভক্তি তৈরি হয়।

পরে রেজা কিবরিয়া সেই দল থেকে বের হয়ে যোগ দেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের গণ অধিকার পরিষদে। দলটির আহ্বায়ক তিনি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও ‘নবীন’ রেজা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দিন ফুরিয়ে এসেছে। আগামীতে যে সরকার গঠন হতে যাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তার দাবি, র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞাই শেষ নয়। আরও নিষেধাজ্ঞা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিভিন্ন দপ্তরে থাকা তার সাবেক সহকর্মীদের কাছ থেকে এই তথ্য জেনেছেন তিনি।

আপনি এ দেশে সরকার হটাতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সহায়তার কথা বলেছেন। এটা কি বিদেশি হস্তক্ষেপের মতো ব্যাপার হয়ে গেল না?

একাত্তরে আপনি যদি একটু খেয়াল করেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের কথায় তো কারও আপত্তি ছিল না। আমাদের দেশে এখনও এমন শক্তি নেই যারা নিজেদের গণতান্ত্রিক অবকাঠামো নিজেরা রক্ষা করবে। তা ছাড়া আমরা এখনও বিদেশের ওপরে নির্ভরশীল অর্থনৈতিকভাবে। এটা অস্বীকার করে কোনো লাভ নেই। আমরা অনেক ধনী হয়ে গেছি, কানাডা হয়ে গেছি, সিঙ্গাপুর হয়ে গেছি, এ ধরনের বাজে কথা না বলে বলা উচিত এখনও বাইরের রাষ্ট্রের ওপর আমরা বিভিন্নভাবে নির্ভরশীল। দেশে সমস্যা আছে। অনেক বছরে এগুলো ঠিক করতে পারিনি। এখন দেখা যাক কী করা যায়।

আপনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী থাকবে?

আমাদের মধ্যে প্রথম চয়েজ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিএনপির নেতারা যে প্রস্তাবটি দিয়েছেন। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ওটা একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি। এটা যদি না মানেন তাহলে আমরা আরও দুটি পছন্দ দিলাম। একটা হলো জাতীয় সরকার। সেখানে সব দলের মানুষ থাকবে। তারা আরও দেড়-দুই বছর প্রস্তুতি নিতে পারে। কারণ নির্বাচনে প্রস্তুতির ব্যাপার আছে। সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে একটু সময় লাগে।

তৃতীয় পছন্দ হলো জাতিসংঘের আওতায় নির্বাচন। যে দেশে নির্বাচনের সব ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়, সেখানে জাতিসংঘের একটা ভূমিকা পালন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু এটা প্রথম পছন্দ নয়। এটা একটি সম্ভাবনা।

আপনারা বলছেন দেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। তাহলে বিদেশি শক্তির দ্বারস্থ কেন হতে হচ্ছে? জনগণের শক্তির ওপর আপনাদের আস্থা নেই?

এ ধরনের অত্যাচারী সরকারের সামনে দাঁড়ানো এত সহজ না। মানুষকে গুম, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন করা হচ্ছে। হিটলারের সময় দেখেন, খুব বেশি লোক কিন্তু তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামত না। সাদ্দাম হোসেনের সময়ও একই অবস্থা। চোচেস্কুর সময় রোমানিয়াতে মানুষ রাস্তায় নামত না, ঘৃণিত সরকার ছিল, কিন্তু লোকে নামত না।

এই সরকারও ঘৃণিত, কিন্তু আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার ভোটের সংখ্যা কত?’ বলবে, ‘আমরা তো সেটা বলতে পারব না।’

নির্বাচন তো নেই ১২ বছর। সুতরাং যাচাই করা কঠিন। আমরা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া, আমাদের মিটিংগুলিতে কত লোক আসে, কত লোক সাপোর্ট করে, সেটা থেকে আন্দাজ করতে পারি।

একটা জিনিস আমি বলতে পারব যে, আওয়ামী লীগের কোনো সম্ভাবনা নেই ক্ষমতায় আসার। কারণ যে বড় কথাটা বলে জোর গলায়, উন্নয়নের জোয়ারে আমরা ডুবে যাচ্ছি, সেটা এটা একেবারে মিথ্যা।

বিএনপির প্রস্তাবের অপেক্ষায় গণ অধিকার পরিষদ

আপনি ও নুরুল হক নুর একটি বিশেষ দেশের দূতাবাসে একাধিকবার আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং সেসব ছবি বেশ ফলাও করে প্রচার করেন। কী বার্তা দিতে চান দেশবাসীকে?

এটা কোনো বিশেষ মেসেজ না। আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। এটা একটা স্বাভাবিক কার্যক্রম। অনেক দূতাবাস বিভিন্ন দলের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে। এটা একটা কমন বিষয়। আমরা অন্য দলের মতো এদের সঙ্গে দেখা করি।

র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর আপনি বলেছেন আরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এটা কীসের ভিত্তিতে বলছেন?

মনে রাখবেন, আমি অনেক বছর আমেরিকায় চাকরি করেছি এবং আইএমএফে চাকরি করতাম। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আসে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে। আমি আইএমএফে যখন চাকরি করতাম, আমেরিকাতে যারা কর্মচারী ছিল, তাদের অনেকে আইএমএফ ছেড়ে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। অনেককে চিনি। এতটুকু বললাম।

এই সম্পর্কটা ১৬ বছরের সম্পর্ক। আপনার যদি পুরোনো কলিগ থাকত, আপনিও টুকটাক কিছু খবর পেতেন। আমি কোনো লিস্ট পাইনি স্বীকার করব, কোনো ডেটও পাইনি এবং কোনো সংখ্যা পাইনি। অবশ্য আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখেছি, বিভিন্ন লোক একেবারে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলে দেয়। আমার এত তথ্য নেই। আমি শুধু জানি, আরও নিষেধাজ্ঞা আসবে।

কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে জেনেছেন?

এখন পর্যন্ত যে নিষেধাজ্ঞা আসছে, সেটা হলো যারা কারও আদেশ পালন করেছে তাদের ওপর, কিন্তু যে আদেশ দিয়েছে, তার ওপরে নিষেধাজ্ঞা এখনও পড়েনি। এগুলো সামনে আসবে।

বিএনপির প্রসঙ্গে আসা যাক। দলটি জোট বড় করে এক দফা আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়েছে। এই জোটে যেতে আপনাদের কোনো প্রস্তাব কি দেয়া হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদের মনোভাব কী? আর যদি ভবিষ্যতে প্রস্তাব পান, তাহলে কী সিদ্ধান্ত নেবেন?

এখন পর্যন্ত দেয়নি, কিন্তু এটা শিগগিরই হবে। সাংবাদিকদের থেকে শোনা যাচ্ছে, এই আলোচনাগুলো কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হবে, তবে আজকে পর্যন্ত (সোমবার) আসেনি। কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তাব চলে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রস্তাব পেলে আমরা অবশ্যই খুবই ইতিবাচকভাবে বিষয়টি দেখব। কারণ এই সরকারকে হটানো দরকার এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা দরকার। এ বিষয়ে আমরা সবাই একমত। বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।

আপনারা দল গঠন করলেন বেশ কিছু দিন হলো। নানা কর্মসূচিও দিচ্ছেন। এতে তরুণদের বেশ ভালো অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। তো সংগঠন কতটুকু বড় হলো? উপজেলা ও জেলাগুলোতে কি কমিটিগুলো গঠন করা গেল?

এই সংগঠনটি অন্য সংগঠনের থেকে ভিন্ন। এটা প্রথম দিন থেকেই কিন্তু বেশ শক্তিশালী ছিল। কারণ আগের যে অঙ্গ সংগঠনগুলো, সারা দেশে এগুলোর প্রচার হচ্ছিল। বিশেষ করে আমাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের সব জেলায় মোটামুটি সংগঠন আছে।

যুব অধিকার পরিষদে প্রত্যেক জেলায় কমিটি আছে; উপজেলা পর্যন্ত আছে। কিছু জায়গায় ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যন্ত কমিটি আছে। ওয়ার্ড লেভেলে যখন ১০০ জনের কমিটি থাকে, তখন আপনি বুঝতে পারেন যে, দলটা অলরেডি সংগঠিত। এটা আছে।

আমাদের গণ অধিকার পরিষদের কমিটিগুলো এখনও ফাইনাল হয়নি। সেগুলোতে অন্য কমিটি থেকে কিছু লোক জয়েন করবে। আর কিছু সিনিয়র লোক জয়েন করবে। ধরুন কলেজের অধ্যক্ষ, যারা উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন, যারা এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, এ ধরনের মানুষ।

যাদের ওপর সরকার প্রভাব ফেলতে পারে, তারা তো এই মুহূর্তে জয়েন করবে না। তাদের স্ত্রীর চাকরি চলে যেতে পারে, ছেলে-মেয়েদের অসুবিধা করতে পারে, হুমকি দিতে পারে। এ ছাড়া অনেক লোক এখন সাহস করে নামছে। বিশেষ করে এই নিষেধাজ্ঞা (আমেরিকার) আসায় তারা বুঝতে পেরেছে যে, এদের (সরকার) দিন প্রায় শেষ।

আপনারা নির্বাচন কমিশনে এখনও নিবন্ধিত না। নিবন্ধন না পেলে আগামী নির্বাচন কীভাবে করবেন?

নিবন্ধনের যে শর্ত আছে, আমরা সেগুলো পালন করতে পারব। সে ব্যাপারে কোনো চিন্তা নেই। আমরা এটা জমা দিলেই ইনশাআল্লাহ পাব। না হলে তখন পরিস্থিতি দেখা যাবে। আমার মনে হয়, নিবন্ধন না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা যদি শর্ত পালন করি, তারপরে না হলে আইনের আশ্রয় নেব।

আপনারা সরকারকে খুবই আক্রমণ করে কথা বলেন। সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে আপনাদের স্বাধীনভাবে কর্মসূচি পালন করতে দিতে বলা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কেউ কেউ বলে থাকেন, সরকারের সঙ্গে আসলে আপনাদের যোগাযোগ আছে।

উনি (সরকার প্রধান) যে ওই কথাটা বললেন, তার দুই দিন পরে ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের ছেলেরা আক্রমণ করেছে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপরে। অনেক লোক আহতও হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা আছে, হয় উনি সত্যি কথা বলেন না; দ্বিতীয়টা হলো, ছাত্রলীগের ওপর উনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

যে জিনিসটাই হোক, ছাত্রলীগ এখনও আক্রমণ করে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যখন মিটিং হয়, বড় মিটিং হয়। ছাত্রলীগের চেয়ে অনেক বড় সমাবেশ হলে তারা ঘাবড়ে যায়, আক্রমণ করে।

আমার ওপরে তো একবার শারীরিক আক্রমণ হয়েছে। আর ২০ বার আমাদের ভিপি নুরের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। নুরের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, এত আদর বোধ হয় না করলেই ভালো।

মেয়েদের ওপরও হামলা হচ্ছে মিছিলে। অনেক ধরনের আক্রমণ হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাবেক নেতা হিসেবে এই জোটের ভবিষ্যৎ কী মনে হয়?

আমরা মনে হয় নতুন কোনো ধরন দেখবেন। নতুন একটা কাঠামো তৈরি হতে পারে। আর ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে কিছু মানুষ ছিল যারা সরকারি দলের গোয়েন্দা বা গুপ্তচর, তবে আমাদের যদি নতুন যে কাঠামো হয়, সেখানে আমরা এটা অ্যাভয়েড করব।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আপনাদের একটি বড় অভিযোগ মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। কোন কথাটা বলতে চান, কিন্তু বলতে পারেন না?

কোন কারণে কোন কথার জন্য আপনার বিরুদ্ধে কখন অ্যাকশন নেবে আপনি তো জানেন না। বিষয়টি আসলে পুলিশি রাষ্ট্রের মতো, সরকারের মর্জির ওপরে দেশ চলে। আইনের শাসনে আর চলে না।

আপনি নিজের সমালোচনা সহ্য করেন?

আশা করি আমি পারি। এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। এটা প্রত্যকের মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। আমি তো সে রকম ক্ষমতায় সরাসরি কোনোদিন ছিলাম না। সমালোচনা করলে খারাপ লাগে, কিন্তু আমি এটা নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি, নিজেকে তৈরি করতে যে, আমরা যখন ক্ষমতায় যাব, তখন আপনি এসে প্রশ্ন করবেন, সমালোচনা করবেন, এটা সহ্য করব।

আমি এটা থেকে সুবিধা নিতে চেষ্টা করব। আপনি সমালোচনা করছেন, কী ব্যাপারে করছেন, নিশ্চয়ই কোনো একটা গ্রুপ আছে যারা আমাদের সরকারের কাজে অসন্তুষ্ট। তখন আমি এটা ঠিক করতে চেষ্টা করব।

আপনার সমালোচনাটা আমি ব্যবহার করব সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে। ক্ষেপে যাওয়ার আগে আপনার কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করব, জনগণ কেন ক্ষেপে গেছে। অন্যরা জনগণের মধ্যে ভয় ঢোকায়; আমরা জনগণকে ভয় করব, তবে সবাইকে রাজনীতিতে খুশি করা যায় না।

এ বিষয়টি আমি বলতে পারব ক্ষমতায় যাওয়ার পর। তখন একই প্রশ্নটা করবেন। তখন আমাকে এই প্রশ্নটা করলে উত্তর দিতে পারব।

যদি এই সাক্ষাৎকারের উপস্থাপনা আপনার মনঃপুত না হয়, তাহলে কি রাগ করবেন?

বকাঝকা, গালিগালাজ করলে একটু তো অসন্তুষ্ট হবই, তবে কঠিন প্রশ্ন করলে আমার রাগ করার কিছু নাই। কঠিন প্রশ্ন ফেস করার জন্য আমি যদি রাজি না থাকি, আমার চামড়া যদি পাতলা হয়, তাহলে আমার তো রাজনীতিতে আসা উচিত না।

এর আগে আমরা আপনার একটি সাক্ষাৎকার ছেপেছিলাম। শিরোনাম আপনার পছন্দ হয়নি, আপনি তখন রিপোর্টারকে ফোন করেছিলেন।

জাস্ট পরে আমি জিনিসটা বুঝলাম। শিরোনামটা আপনারা দিয়েছেন, যেন সবার নজর লাগে। আমি জিনিসটা কিছুটা আন্দাজ করেছি, কী কারণে করেছেন জিনিসটা।

এটা নিয়ে পাসিং একটা কমেন্ট করেছি। এটা করতে হয়…না, আমার রেগে যাওয়ার কিছু নেই, তবে আমি একটু সারপ্রাইজড হয়েছিলাম। পরে বুঝেছি, দ্যাটস অ্যা টেকনিক ইন বাংলাদেশ।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Jamaat Amir gave 10 kg of mangoes to all members of Parliament

১০ কেজি হারে সংসদের সবাইকে আম উপহার দিলেন জামায়াত আমির

১০ কেজি হারে সংসদের সবাইকে আম উপহার দিলেন জামায়াত আমির ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।

অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।

বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।

সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।

বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP party MP wanted to ban Jamaat politics in Parliament

সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপি দলীয় এমপি

সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপি দলীয় এমপি ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।

তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।

একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।

তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Nationwide NCP protest call to demand justice for Awami Leagues genocide

আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী এনসিপির বিক্ষোভের ডাক

আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী এনসিপির বিক্ষোভের ডাক ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।

দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11 party alliance including Jamaat is taking to the streets on the day of the founding anniversary of banned activities

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে নামছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে নামছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।

অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Before the election my wife took a loan from Islami Bank to buy a flat Dr Shafiqul Islam Masood

নির্বাচনের আগে আমার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ফ্ল্যাট কেনার জন্যে: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

নির্বাচনের আগে আমার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ফ্ল্যাট কেনার জন্যে: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?

মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Nation must prepare for another revolution Jamaat Amir warns

আরেকটি বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

আরেকটি বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dr Yunus never called me a mastermind Mahfuz Alam

ড. ইউনূস আমাকে কখনোই মাস্টারমাইন্ড বলেননি: মাহফুজ আলম

ড. ইউনূস আমাকে কখনোই মাস্টারমাইন্ড বলেননি: মাহফুজ আলম ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।

পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।

একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।

মন্তব্য

p
উপরে