× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The people of Dhaka did not get a single day of fresh air in January
google_news print-icon

জানুয়ারির একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি ঢাকাবাসী

জানুয়ারির-একদিনও-বিশুদ্ধ-বাতাস-পায়নি-ঢাকাবাসী
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকার বাতাস এতোটাই দূষণের শিকার যে গত ছয় বছরে মাত্র ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বাতাস মিলেছে। সে হিসাবে ইট-পাথরের এই নগরের মানুষ বছরে গড়ে ছয়দিন বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে দিন দিন ঢাকায় নির্মল বাতাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে টানা ২৫ তারিখ পর্যন্ত একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি রাজধানীবাসী।

ঢাকার বাতাস এতোটাই দূষণের শিকার যে গত ছয় বছরে মাত্র ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বাতাস মিলেছে। সে হিসাবে ইট-পাথরের এই নগরের মানুষ বছরে গড়ে ছয়দিন বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণায় এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মজুমদার।

ক্যাপসের গবেষণা তথ্যের উল্লেখ করে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণে আবহাওয়াজনিত ও ভোগোলিক কারণ ছাড়াও নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি, আইনের দুর্বলতা, আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণ রয়েছে। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং নির্মাণ কাজ থেকে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ এবং ইটভাটা ও শিল্প-কারখানা থেকে ২৯ শতাংশ দূষণ হয়ে থাকে।

এছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য যানবাহনের কালো ধোঁয়া ১৫, আন্তঃদেশীয় বায়ুপ্রবাহ ১০, গৃহস্থালি ও রান্নার চুলা থেকে নির্গত পদার্থ ৯ এবং বর্জ্য পোড়ানো ৭ শতাংশ দায়ী।

‘বিপজ্জনক মাত্রায় ঢাকার বায়ুদূষণ: জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যও তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ক্যাপস চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে দেশে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে।

দ্য ইকনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য বলছে, পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। রাজধানী শহরগুলোর মধ্যেও দূষণে ঢাকা দ্বিতীয়। বায়ুদূষণের দিক দিয়ে ২০২০ ও ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

ক্যাপসের ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের জানুয়ারি মাসের বায়ুমান সূচকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের চেয়ে ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণ বেড়েছে ৭ শতাংশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের টানা ২৫ দিনে ঢাকার মানুষ একদিনের জন্যও বিশুদ্ধ বায়ুতে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পায়নি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ছয় বছরের মধ্যে ঢাকার মানুষ মাত্র ২ শতাংশ বা ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে ২৬ শতাংশ বা ৫১০ দিন চলনসই মানের বায়ু, ২৯ শতাংশ বা ৫৭৭ দিন সংবেদনশীল বায়ু, ২২ শতাংশ বা ৪৪৩ দিন অস্বাস্থ্যকর, ১৯ শতাংশ বা ৩৮৫ দিন খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ২ শতাংশ বা ৩৭ দিন দুর্যোগপূর্ণ বায়ুতে শ্বাস নিয়েছে ঢাকাবাসী।

ছয় বছরের গবেষণার তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকে রাতে। বিকেল ৪টার পর থেকে বায়ুর মান খারাপ হতে শুরু করে। রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থায় পৌঁছে। গত ছয় বছরে রাত ১টার সময় বায়ুমান সূচক ছিল ১৬২।

দূষণের কারণ হিসেবে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রাত ১০টার পর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচুর মালবাহী ট্রাক ঢাকায় প্রবেশ করে। এতে রাতে প্রচুর বায়ুদূষণ হয়। এছাড়াও রাতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শহরের রাস্তা ঝাড়ু দেয়ায় বাতাসে ধূলাবালি উড়তে থাকে। রাত ৩টার পর থেকে বায়ুর মানের উন্নতি হয়। তবে অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চাপে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বায়ুদূষণে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকে। সকাল ১০টার পর থেকে বায়ুদূষণ ক্রমান্বয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কম দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ১৫টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানো, নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখা ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে রাখা, রাস্তার ধূলা সংগ্রহে সাকশন ট্রাকের ব্যবহার করা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তির বিকল্প ইটের প্রচলন বাড়ানো, ব্যক্তিগত ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে নম্বর প্লেট অনুযায়ী জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলার প্রচলন করা।

মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ হিসাবে প্রচুর গাছ লাগানো ও ছাদ বাগান উৎসাহিত করা, ঢাকার আশপাশে জলাধার সংরক্ষণ, আলাদা সাইকেল লেন, ইটের বিকল্প স্যান্ড বক্ল ব্যবহার, সিটি গভর্নেন্স প্রচলনের মাধমে সেবা সংস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা ইত্যাদি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট বাড়ানো, নিয়মিত বায়ু পর্যবেক্ষণ স্টেশনের (ক্যামস) ব্যাপ্তি বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি সেবায় পরিবেশ ক্যাডার সার্ভিস এবং পরিবেশ আদালত চালু ও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্যাপসের গবেষণা বলছে, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের ১০টি এলাকার বায়ুতে বস্তুকণা ছিল বছরে গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ৬৩ মাইক্রোগ্রাম। এই মাত্রা বার্ষিক আদর্শ মানের চেয়ে প্রায় ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি। এ বছর সবচেয়ে বেশি দূষিত ছিল তেজগাঁও এলাকা। পরের স্থানে রয়েছে শাহবাগ, আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, ধানমণ্ডি-৩২, সংসদ ভবন, আগারগাঁও, মিরপুর-১০ ও গুলশান-২।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Want justice for every accused in BDR mutiny case Moin

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রত্যেক আসামির সুবিচার চাই: মঈন

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রত্যেক আসামির সুবিচার চাই: মঈন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। ফাইল ছবি
আবদুল মঈন খান বলেন, “অপরাধী শাস্তি পাবে, সে সম্বন্ধে আমাদের কিছু বলার নেই, কিন্তু আমরা যে আইনের ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি, যার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জুরিসপ্রুডেন্স (আইনের দর্শন) এবং জাস্টিস সিস্টেম (বিচার ব্যবস্থা) দাঁড়িয়েছে, সেখানে একটি কথা বলা আছে। সে কথাটি হচ্ছে এই যে, ‘কোনো দোষী ব্যক্তি যদি আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যায়, সেটা হতে পারে। একজন নিদোর্ষ ব্যক্তিও যেন কখনও শাস্তি না পায়।’ আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি এবং সেই নীতিতে বিশ্বাস করে আমরা আজকে প্রতিটি বিডিআরের এই দুঃখজনক ট্র্যাজেডির প্রতিটি মানুষ, যারা এই সংক্রান্ত মামলায় যারা অভিযুক্ত রয়েছে, তাদের সুবিচার আজকে আমরা কামনা করি।”

রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হওয়া দুই মামলার প্রতিটি আসামির সুবিচার দাবি করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।

পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১৫তম বার্ষিকীতে রাজধানীর বনানীতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন দাবি করেন।

পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ হত্যা মামলার রায় হয়। তাতে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলায় ২৭৮ জনকে খালাস দেয়া হয়। এ বিষয়ে আপিল সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হওয়া দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১৮৪ জনের আপিল এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়। আর বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

বিডিআর বিদ্রোহের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সেই কথাটি পুনরায় বলতে হয় যে, এই ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, এই ঘটনার যবনিকার পেছনে কী ছিল, আজকে বাংলাদেশের মানুষ সেই সত্যি জানতে চায়। এটা তো গেল একটি দিক। অন্য দিকটি, যে মানবিক দিক, সেই দিকে আমি আপনাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে চাই।

‘যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই ৫৭ জন ছাড়াও আরও সর্বমোট প্রায় ৭৪ জন যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের পরিবারবর্গ যারা রয়েছেন, আপনারা তাদের কথাটি, তাদের যে বেদনা, সেই বেদনার কথা একবার চিন্তা করে দেখুন এবং সর্বশেষ তৃতীয় যে দিকটি রয়েছে, যে বিচারের কথা আমরা শুনেছি, সে বিচার হয়েছে, সে বিচার কি হয়নি, সে বিচারে কি আপিল হয়েছে, সে আপিলের শুনানি কি আজকে ১৫ বছর পার হয়েছে, তার পরবর্তীতে ২০১১ সালে কি আরেকটি বিস্ফোরক মামলা দেয়া হয়েছে, সেই মামলার বিচারকার্য আজকে প র্যন্ত কেন বিলম্বিত হচ্ছে?’

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার বিচার নিয়ে বিএনপির বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক বলেন, “একটি কথা আছে আমাদের বাংলা ভাষায়: বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। ইংরেজি ভাষায় একটি কথা আছে, ‘যদি বিচার বিলম্ব হয়, তাহলে সেই বিচারের কোনো মূল্য থাকে না।’ কাজেই আজকে আমরা শুনেছি যে, সেই বিচার প্রক্রিয়া এখনও ঝুলে আছে।

“কেন ঝুলে আছে, কেন সেই অভিযোগে, যাদেরকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে, তারা আজকে পর্যন্ত বিনা বিচারে কেন তারা কারাবাস করছেন?”

তিনি বলেন, “অপরাধী শাস্তি পাবে, সে সম্বন্ধে আমাদের কিছু বলার নেই, কিন্তু আমরা যে আইনের ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি, যার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জুরিসপ্রুডেন্স (আইনের দর্শন) এবং জাস্টিস সিস্টেম (বিচার ব্যবস্থা) দাঁড়িয়েছে, সেখানে একটি কথা বলা আছে।

“সে কথাটি হচ্ছে এই যে, ‘কোনো দোষী ব্যক্তি যদি আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যায়, সেটা হতে পারে। একজন নিদোর্ষ ব্যক্তিও যেন কখনও শাস্তি না পায়।’ আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি এবং সেই নীতিতে বিশ্বাস করে আমরা আজকে প্রতিটি বিডিআরের এই দুঃখজনক ট্র্যাজেডির প্রতিটি মানুষ, যারা এই সংক্রান্ত মামলায় যারা অভিযুক্ত রয়েছে, তাদের সুবিচার আজকে আমরা কামনা করি।”

আরও পড়ুন:
পিলখানা ট্র্যাজেডি: বিচার দ্রুত শেষ হবে, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ফখরুল, উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
সুসময় এলে সব হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: মিনু
সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে: নজরুল
বিএনপি রোজা রমজান ঈদ কোনোটাই মানে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It means that Dhakas air is unhealthy even though it has improved

মানে উন্নতি হলেও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস

মানে উন্নতি হলেও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস তালিকায় নিয়মিত প্রথম দশে থাকা ঢাকা রোববার সকালে রয়েছে ২১তম অবস্থানে।। ছবি: পনির হোসেন/রয়টার্স
আইকিউএয়ার জানিয়েছে, আজ সকালের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

বাতাসের নিম্ন মানের দিক থেকে আইকিউ এয়ারের তালিকায় নিয়মিত প্রথম দশে থাকা ঢাকা রোববার সকালে রয়েছে ২১তম অবস্থানে।

বায়ুর মানের উন্নতি হলেও ‘অস্বাস্থ্যকরই’ রয়ে গেছে বাংলাদেশের রাজধানীর বাতাস।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১০৭ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে।

একই সময়ে তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃয়ীয় স্থানে ছিল ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও নেপালের কাঠমান্ডু।

এর আগে ছুটির শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ১৬৪ স্কোর নিয়ে বায়ুর নিম্ন মানে ১০০টি শহরের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ঢাকা।

আইকিউএয়ার জানিয়েছে, আজ সকালের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার।

কোম্পানিটি শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে কোম্পানিটি।

আইকিউএয়ারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

আজ বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ১০৭। এর মানে হলো, ওই সময়টাতে রাজধানীর বাতাস ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ছিল।

একই সময় ১১০টি দেশের এ তালিকার সর্বনিম্ন ৮ স্কোর নিয়ে ‘ভালো’ বাতাসের শহর ছিল আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স।

আরও পড়ুন:
ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’, নিম্ন মানে চতুর্থ
ছুটির দিনে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস
‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস নিয়ে তালিকায় তৃতীয় ঢাকা
ছুটির দিনে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস
‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস নিয়ে তালিকায় তৃতীয় ঢাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anna Buzzard MD of the World Bank in Dhaka

ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের এমডি আন্না বেজার্ড

ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের এমডি আন্না বেজার্ড বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্না বেজার্ড। ছবি: সংগৃহীত
একদিনের সফরে বেজার্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) (অপারেশনস) আন্না বেজার্ড শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছেন। এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর।

বিশ্বব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একদিনের সফরে বেজার্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এ সফরকালে আন্নার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে ছিল। এরপর আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থাটি বাংলাদেশকে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার অধিকাংশই অনুদান।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) সমর্থিত বৃহত্তম চলমান কর্মসূচি রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Action as per Manifesto against Market Manipulation External Affairs Minister

বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এলডি হল চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রোজার আগেই কিছু পেঁয়াজ বাজারে ঢুকবে, কাজেই বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা বলেছিলাম, দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেটি আমাদের অগ্রাধিকার। এই সরকারের যাত্রার শুরু থেকে সেই অগ্রাধিকার নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং বাজারের অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার সবরকম ব্যবস্থা নেবে।’

ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রোজার আগেই কিছু পেঁয়াজ বাজারে ঢুকবে, কাজেই বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এলডি হল চত্বরে ‘রাঙ্গুনিয়া সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত সংবর্ধনা, মেজবান ও মিলনমেলা-২০২৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারের অসাধু লোভাতুর সিন্ডিকেট কারণে-অকারণে নানা অজুহাতে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। আমরা দেখেছি, একটি কোল্ড স্টোরেজের ভেতর থেকে দেড় লাখ ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। অতীতে পেঁয়াজের সংকট তৈরি করা হয়েছিল। আবার যখন বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলো, বাজার পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে গেল; তখন স্টোরেজ থেকে জমিয়ে রাখা পচা পেঁয়াজ ফেলে দেয়া হয়েছে। এই ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা সরকারকে টেনে নামাতে চায়, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে তারাও যে যুক্ত, সেটিও সঠিক। তবে আপনারা দেখছেন, বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।’

বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কেবল পাইকারি বিক্রেতারা নয়, খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যেও বেশি মুনাফা করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হতে বলেছি। সরকারও সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেবে।’

‘বর্তমান সরকার পরিবর্তন হবেই’ বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের এ মন্তব্যের বিষয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকার তো অবশ্যই পাঁচ বছর পর পরিবর্তন হবে। তখন দেশে নির্বাচন হবে, তারপর নতুন সরকার গঠন করা হবে। আশা করি, জনগণের ভোটে সেই সরকারেরও প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

এর আগে, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘রাঙ্গুনিয়া সমিতি, ঢাকা’র সেবামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন নিয়মিত আয়োজনের প্রশংসা করেন।

‘রাঙ্গুনিয়া সমিতি, ঢাকা’র সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমল, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ‘চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’র সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া সমিতির নেতারা এ সময় রাঙ্গুনিয়ার সন্তান চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন। পরে আয়োজক ও অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে সমিতির ‘গুমাই’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে, প্রশ্ন কাদেরের
বিএনপি রোজা রমজান ঈদ কোনোটাই মানে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League accused the police of taking and selling shops for free
বইমেলা

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ
বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, হাত খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানা পুলিশ দুইটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তিকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো হলো ছাত্রলীগ, কালী মন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও শাহবাগ থানা পুলিশ। এর মধ্যে শুধু শাহবাগ থানা পুলিশই দুটি দোকান বরাদ্দ পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয় মেহেদী হাসানের নামে। কালী মন্দিরকে দেয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালী মন্দিরের নামে। ডিএমপিকে দেয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে। আর শাহবাগ থানাকে দেয়া ২০ ও ২১ নম্বর দোকানটি শাহবাগ থানার নামেই বরাদ্দ হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন উজ্জ্বল নামের একজন। তিনি দোকানটি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যিনি থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে। আর শাহবাগ থানা পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলো পরিচালনা করছেন বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দোকান কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহিন ও সাব্বির টাকার অঙ্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন।

এত টাকায় দোকান কিনে নেয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেন বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত খাবারের স্টলগুলোকে আমরা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিই, তবে শাহবাগ থানা পুলিশের স্টল দুইটা তারা আমাদের সাথে কথা বলে নিজেদের মতো করে বাড়িয়ে নিয়েছে।’

হাসান কবীর বলেন, ‘অন্য স্টলগুলো থেকে পুলিশের স্টল দুইটা একটু বেশি সুবিধা ভোগ করছে, এটা স্বীকার করতে আমাদের অসুবিধা নেই। বাস্তবতাও আসলে তাই। তারা প্রতিবার একটু অন্যরকমভাবেই এসব স্টল নেয়।’

শাহবাগ থানা পুলিশকে বিনা মূল্যে দুইটি খাবার দোকান বরাদ্দের বিষয়ে ড. কবীর বলেন, “প্রতিবার তাদের একটা দেয়া হয়। এবার খরচ বেশি হচ্ছে বলে দুইটা নিয়েছে, তবে তাদের জন্য কোনো কাগজপত্র নেই।

“তারা (পুলিশ) আমাদের বলেছে, ‘মেলায় পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং সেখানে আসা পুলিশ অফিসারদের আপ্যায়নের জন্য তারা তেমন কোনো বরাদ্দ পান না। আর এবার তাদের খরচ নাকি একটু বেড়ে গেছে। তাই আমরা যেন তাদের দুইটা খাবারের স্টল দিই।’ এ জন্য আমরা দিয়েছি। এরপর সেটা বিক্রি করে যেই টাকা পাওয়া যাবে, সেটা দিয়ে তাদের এসব খরচ চালানো হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন তারা।”

মেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাকি সংস্থাগুলোও যদি এভাবে বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ চায় তাদের দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘র‌্যাব বা অন্য সংস্থাগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফোর্স তো বেশি থাকে পুলিশের। তাদের দায়-দায়িত্বও বেশি। তাই তাদের এই সুবিধা দেয়া হয়েছে।

‘বাকিদেরও যদি এই সুবিধা দিতে হয়, তাহলে তো আমরা কিছুই করতে পারব না। সবাইকে দিতে দিতেই তো সব শেষ হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নিইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

‘শয়ন ও সাদ্দাম জানেন’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাব রক্ষণ ও বাজেট উপবিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে এই দোকান দেয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সাথেও কথা হয়েছে; সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেয়া হয়েছিল। এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেয়া হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি বলে আমাকেও একটা স্টল দাও, তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুইজনের সাথেই কথা বলে শুধুমাত্র একটা দোকান দেয়া হয়েছে।’

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, ‘দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তো তাদেরকে সমীহ করতে হবে না? তাদেরকে আমরা অনেক কিছু দিইনি।

‘সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা স্টল দিয়েছি। না হয় অনেক গ্রুপকে দিতে হতো।’

হাসান কবীর বলেন, “তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে।’ তখন আমরা বলেছি, ‘তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন, আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব।’ তাদেরকে এও বলেছি, ‘আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে।’ তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘কেউই আসবে না। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করব।’”

এগুলো (বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রি করা) ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ঠিক না। এগুলো ভুল।’

ছাত্রলীগের ভাষ্য

খাবারের স্টল নেয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল ‘মাতৃভূমি প্রকাশনা’ স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায়, এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সাথে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সাথে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নিইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না, তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবির শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

ছাত্রলীগের নামে খাবারের স্টল বরাদ্দ নেয়া বিব্রত করছে কি না জানতে চাইলে সৈকত বলেন, ‘অবশ্যই এটি আমাকে বিব্রত করছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করবে।

‘সেখানে আমরা দোকানদারি করতে যাব কেন? এটি তো আমাদের কাজ না। যারা এসব করছে, তারা সংগঠনের নীতি-আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ে জড়িত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতাহাতি
ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিন্নধর্মী বই ‘বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্প’
প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই
বইমেলায় মীরাক্কেল খ্যাত রাশেদের ‘ফিলিং চিলিং’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The question is whether there is a lack of buyers in the market

বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে, প্রশ্ন কাদেরের

বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে, প্রশ্ন কাদেরের রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার ব্রিফিংয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরও বাজারে সেগুলোর ঊর্ধ্বগতি কেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক। ওই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘খাদ্য তো পাচ্ছেনই। একটা লোক না খেয়ে মারা গেছে বাংলাদেশে এত সংকটের মধ্যে? বলেন? বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে?

নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে না খেয়ে কেউ মারা গেছে কি না এবং বাজারে ক্রেতার সংকট আছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্লিখিত প্রশ্নগুলো করেন।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরও বাজারে সেগুলোর ঊর্ধ্বগতি কেন, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক।

ওই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘খাদ্য তো পাচ্ছেনই। একটা লোক না খেয়ে মারা গেছে বাংলাদেশে এত সংকটের মধ্যে? বলেন? বাজারে কি ক্রেতার অভাব আছে?

‘গত ঈদের সময় দেখছি, রাত তিনটার সময়ও মানুষ বাজারে কেনাকাটা করছে। পয়সা না থাকলে কিনছে? মানুষের পারচেজিং/বায়িং ক্যাপাসিটি (কেনার সামর্থ্য), পারচেজিং পাওয়ার (ক্রয়ক্ষমতা) বেড়ে গেছে। এটা হলো বাস্তবতা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সিন্ডিকেট লালনপালন করেছে, মজুতদারদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, এ কথা বললে কি ভুল হবে? যারা করছে তারা বিএনপির পুরোনো সিন্ডিকেট।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ছিল ব্যবসায়ী সরকার। আওয়ামী লীগ ব্যবসা করতে আসেনি। এখানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে, এ কথা মনে করার কোনো কারণ নেই।

‘বিভিন্নভাবে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে যে অশুভ চক্র দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনঅসন্তোষের কারণ সৃষ্টি করছে, তাদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই জোরালোভাবে সেটি বলেছেন।’

বিদ্যুতের দাম সমন্বয় আরেক দফা দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা তো বিদ্যুৎমন্ত্রীই বলছে…এটা আমি কেন বলতে যাব? যেই মন্ত্রী এটা ডিল করেন, তিনিই বলেছেন।

‘সমন্বয়ের বিষয়ে আগেও বলেছেন, এখনও বলছেন। বিদ্যুতে আমাদের ভর্তুকি অনেক বেশি হয়ে গেছে। ভর্তুকি আর বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না।’

ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দিনে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডি এবং সেখানে বিদ্যুতের দাম পাঁচ বছরে তারা ৯ বার বাড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।’

বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে এবং এই আন্দোলনে সরকারের পতন হবে, দলটির এক নেতার এমন মন্তব্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে দেশে একটা নির্বাচন হয়ে গেল, তারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের মহড়া দিয়েছে; আগুন সন্ত্রাস করেছে।

‘আন্দোলনের নামে কত ভয়ংকর ভূমিকায় বিএনপি হতে পারে, সেটা তারা করে দেখিয়েছে বারেবারে। জনগণ সম্পৃক্ত ছিল না বলে অতীতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারগামী পর্যটকদের জন্য ‘বিশেষ ট্রেন’
দেশে আন্দোলনের কোনো ইস্যু নেই: কাদের
দেশে উগ্রবাদের জন্ম বিএনপির হাত ধরে: কাদের
বিএনপিকে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ কাদেরের
বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা দলগতভাবে আওয়ামী লীগ করেনি: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Unhealthy Dhaka air is fifth in the list even on holidays

ছুটির দিনেও অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, তালিকায় পঞ্চম

ছুটির দিনেও অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, তালিকায় পঞ্চম রাজধানীতে ধুলায় আচ্ছন্ন সড়ক ধরে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছবি: গ্রিন ল্যাব
আইকিউ এয়ারের ডেটা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

বাতাসের নিম্ন মানের দিক থেকে আইকিউ এয়ারের তালিকায় নিয়মিত ওপরে থাকা ঢাকা শীর্ষে না থাকলেও রয়েছে প্রথম দশে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বাতাসের মানবিষয়ক প্রযুক্তি কোম্পানিটির র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ১৬৪ স্কোর নিয়ে বায়ুর নিম্ন মানে ১০০টি শহরের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ঢাকা।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে ১৫৫ স্কোর নিয়ে বায়ুর নিম্ন মানে ১০০টি শহরের মধ্যে সপ্তম অবস্থানে ছিল ঢাকা। এর অর্থ হলো পরপর দুই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অস্বাস্থ্যকর বাতাস নিতে হলো রাজধানীবাসীকে।

আজ সকালে তালিকায় বাতাসের নিম্ন মানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের করাচি ও মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন।

আইকিউ এয়ারের ডেটা অনুযায়ী, শনিবারের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ৬ গুণ বেশি।

নির্দিষ্ট স্কোরের ভিত্তিতে কোনো শহরের বাতাসের ক্যাটাগরি নির্ধারণের পাশাপাশি সেটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা জানায় আইকিউএয়ার।

কোম্পানিটি শূন্য থেকে ৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে রাখে। অর্থাৎ এ ক্যাটাগরিতে থাকা শহরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।

৫১ থেকে ১০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘মধ্যম মানের বা সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করে কোম্পানিটি।

আইকিউ এয়ারের র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়।

১৫১ থেকে ২০০ স্কোরে থাকা শহরের বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়।

র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরে থাকা শহরগুলোর বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।

তিন শর বেশি স্কোর পাওয়া শহরের বাতাসকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করে আইকিউএয়ার।

আজ দিনের ওই সময়ে ঢাকার বাতাসের স্কোর ছিল ১৬৪। এর মানে হলো ওই সময়টাতে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাসের মধ্যে বসবাস করতে হয় রাজধানীবাসীকে।

আরও পড়ুন:
ছুটির দিনে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস
বায়ুদূষণে বদলাচ্ছে ফুলের গন্ধ
‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস নিয়ে তালিকায় তৃতীয় ঢাকা
ছুটির দিনে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস
‘অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস নিয়ে তালিকায় তৃতীয় ঢাকা

মন্তব্য

p
উপরে