× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Teachers want more caution in appointing vice chancellors
hear-news
player
print-icon

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা

উপাচার্য-নিয়োগে-আরও-সতর্কতা-চান-শিক্ষাবিদরা
উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন। ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৩ বছরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন পাঁচজন উপাচার্য। এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্য নিয়োগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

তারা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পরামর্শও দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

২০০৯ সালে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করেন ২০১২ সালে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেনও পদ ছাড়তে বাধ্য হন ২০১৪ সালে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদ ২০১৯ সালে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক একই বছর পদত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসাতে পারছে না বলেই উপাচার্যদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

তার মতে, ‘আচার্য মানেই হচ্ছেন প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী। উপাচার্যরা তার সমগোত্রীয়। তাই উপাচার্য নিয়োগ যাচ্ছেতাইভাবে হতে পারে না।’

এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। এ রীতি আমাদের পাশের দেশ ভারতেই আছে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে যোগ্য ব্যক্তিরা সঠিক জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

একই ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পদের মোহে অনেকেই উপাচার্য পদে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সুখকর নয়। এ জন্য উপাচার্য নিয়োগপ্রক্রিয়া খুব স্বচ্ছ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা দেখে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে।

উপাচার্য হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের মেয়াদ একবারের বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও মনে করছেন অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তা না হলে যারা উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে ব্যর্থ হন তারা বিভিন্ন ঘটনায় ইন্ধন জোগান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কারণে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযোগ ওঠে। এর মূলে রয়েছে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। এগুলো ক্ষতি করেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে।’

তার মতে, ‘বিভিন্ন কারণে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতি। এ ছাড়া বড় বড় কাজের টেন্ডার তো রয়েছেই। কারও (উপাচার্য) বিরুদ্ধে সত্যিকার অর্থে অভিযোগ উঠলে ইউজিসি দেশের গণমান্য শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটা প্যানেল করতে পারে। সেই প্যানেল অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।’

উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ উঠতেই পারে। তবে সব অভিযোগ সত্য নয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুটি গুরুতর। একটি হচ্ছে নৈতিক স্খলন, আরেকটি দুর্নীতি। এর একটিও যদি কারও বিরুদ্ধে ওঠে, অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে তা তদন্ত করতে হবে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি করে থাকে। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের দেয়াল লিখন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে কিন্তু ফরিদের (শাবি উপাচার্য) বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন বা আর্থিক দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। অদক্ষতা বা অযোগ্যতা সেগুলো অন্য বিষয়। তারপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার অন্যতম কারণ আঞ্চলিকতা বলে মনে করছেন সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান (এন আই খান)।

তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকাল ছেলেমেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে। নিয়োগ পেয়েই তারা একটি বলয় সৃষ্টি করে। আমেরিকায় কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনি পাস করবেন সেখানে প্রথমে শিক্ষক হওয়া যায় না। প্রথমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হবে। এরপর সেখানে শিক্ষকতায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে সেখানে নিয়োগের সুযোগ পাবে। এ জন্য আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন ভারসাম্য থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন এই সাবেক শিক্ষাসচিব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে আছে, প্রশাসনে যারা থাকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ন্যায়-অন্যায় যা-ই হোক তাদের সরিয়ে দিতে হবে। এটাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যারা উপাচার্য তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাই পদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন কলুষিত না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
ড. জাফর ইকবালের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন শাবি শিক্ষার্থীরা

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করছেন, কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নৈতিক অবস্থান থেকে সে বিষয়ে তার নিজেরই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়-কাঠামোর মধ্যেই এর সমাধান আছে। যেমন, সিনেট ও সিন্ডিকেট। এ দুটোতেই সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। তাই উপাচার্যরা যখন দেখবেন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এসেছে, তখন তিনি নৈতিক অবস্থান থেকে সেখানে আর সভাপতিত্ব করবেন না।

‘তা যদি তিনি না করেন তাহলে উচিত ইউজিসিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ যাওয়া। এটাই নিয়ম ও বিধিবিধান। এ ছাড়া উপাচার্য স্বপ্রণোদিত হয়েও ইউজিসিকে তদন্তের অনুরোধ করতে পারেন।’

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমি মনে করি নৈতিক অবস্থান থেকে উপাচার্যদের উচিত তার বিষয়ে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইউজিসি গঠন করেছিলেন যাতে শিক্ষকদের ওপর অন্যরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করতে পারে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন শিক্ষকদের স্বশাসনের ওপর।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্ক হতে সরকারকে পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ জন্য আমি মনে করি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও সতর্ক হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এভাবে যে পদ আঁকড়ে থাকে, তাকে আমি দানব বলি: জাফর ইকবাল
‘উচ্চমহল’ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, আশা জাফর ইকবালের
অনশন ভাঙার পর নতুন কর্মসূচির পথে শাবি শিক্ষার্থীরা
জাফর ইকবালের আশ্বাসে ভাঙল শাবি শিক্ষার্থীদের অনশন
‘আমিও তোমাদের টাকা দিলাম, আমাকে অ্যারেস্ট করুক’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Chhatra League program in Buet with a message for the opposition

বিরোধীদের জন্য ‘বার্তা নিয়ে’ বুয়েটে ছাত্রলীগের কর্মসূচি

বিরোধীদের জন্য ‘বার্তা নিয়ে’ বুয়েটে ছাত্রলীগের কর্মসূচি
ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক শেখ স্বাধীন শাহেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামধারী জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা কয়েকদিন আগে আমাদের বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অপমান করেছেন। তাদেরকে বার্তা দিতেই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের বার্তা এই যে, যেখান থেকে যেভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাম মুছে ফেলতে চেষ্টা করবে, তাদেরকে আমরা এক বিন্দুও ছাড় দেব না।’

‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত শোক সভা আয়োজনে বিরোধিতার মুখে পড়ার দুই দিন পরই বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জমায়েতের আয়োজন করল সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটি।

জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় শনিবার রাতে ছাত্রলীগের কর্মসূচির বিরোধিতাকারীদের দেখা যায়নি।

সোমবার বেলা একটার দিকে ছাত্রলীগের ২০ থেকে ৩০ জন নেতা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। বেলা দেড়টার দিকে আসেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

এ সময় সংগঠনের কোনো ব্যানার ব্যবহার করা হয়নি ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে। যদিও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা ফুলে ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ’ এবং ‘বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ’ লেখা ছিল।

নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ‘শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জঙ্গিবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জামায়াত-শিবির, রাজাকার, এই মূহূর্তে বুয়েট ছাড়’ ইত্যাদি স্লোাগান দেন।

বুয়েট ছাত্রলীগের সত্তর ও আশির দশকের সাবেক নেতারা গত শনিবার বুয়েটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করলে সেখানে ব্যাপক হাঙ্গামা হয়। একদল শিক্ষার্থী ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ ইত্যাদি লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে সভাস্থলের বাইরে অবস্থান নেয়।

রাত ৮টার দিকে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা যখন ক্যাফেটরিয়া থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না’ বলেও স্লোগান দেন।

বিরোধীদের জন্য ‘বার্তা নিয়ে’ বুয়েটে ছাত্রলীগের কর্মসূচি

এই ঘটনা ছাত্রলীগকে ক্ষুব্ধ করে। তারা অভিযোগ করতে থাকে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বুয়েটে শিবির ও ধর্মভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে তারাই এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

এরপর থেকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুয়েটে আবার রাজনীতি করার সুযোগ দেয়ার দাবি জানাতে থাকে। সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীদের পিটুনিতে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে মারা যান আবরার ফাহাদ নামে এক শিক্ষার্থী। এর প্রতিক্রিয়ায় বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।

গত ৮ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতের এক রায়ে এই ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, যাদের সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের আয়োজনকে ঘিরে বিক্ষোভকারীরা আবরার হত্যার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন।

বিরোধীদের জন্য ‘বার্তা নিয়ে’ বুয়েটে ছাত্রলীগের কর্মসূচি

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক শেখ স্বাধীন শাহেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামধারী জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা কয়েকদিন আগে আমাদের বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দকে অপমান করেছেন। তাদেরকে বার্তা দিতেই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের বার্তা এই যে, যেখান থেকে যেভাবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাম মুছে ফেলতে চেষ্টা করবে, তাদেরকে আমরা এক বিন্দুও ছাড় দেব না।’

বুয়েটের সাবেক সভাপতি হাবিব আহমেদ হাবিব মুরাদ বলেন, ‘মুক্তবুদ্ধি ও বিজ্ঞানচিন্তার অন্যতম পীঠস্থান বুয়েট। অথচ এইখানে অবিজ্ঞানমনষ্ক জামায়াত-শিবির এবং জঙ্গিবাদের বীজ বপন হচ্ছে। আমরা শপথ নিতে চাই বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের সকল আস্তানা নির্মূল করব। বুয়েট প্রশাসনের প্রতি আবেদন, এই বুয়েটকে বিজ্ঞানমনষ্কতার পথে পরিচালিত করতে হবে।’

‘আমরা কেউ ভেসে আসিনি’

বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী খাইরুল বাশার বলেন, ‘সেদিন আমাদেরকে যারা বাধা দিয়েছে তারা জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মা। এই প্রেতাত্মারা সেদিন অনলাইনে বুয়েটের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে জড়ো করেছে। এই প্রেতাত্মাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে ‘

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বুয়েটের শিক্ষার্থী। আমরা কেউ ভেসে আসিনি। ছোট ভাইদের বলব, তোমরা পড়ালেখা কর, শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পথে আসো।’

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘গতকাল শিক্ষার্থীদের প্রেস ব্রিফিংয়ে একজন শিক্ষার্থীকে বলতে শুনেছি ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন। কে বলে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন? ছাত্রলীগকে চেন তুমি? এই সংগঠনের ইতিহাস জান তুমি? কী বলো তুমি? আমাদের শেষ রক্ত থাকা পর্যন্ত এটির বিচার এই বুয়েটে ক্যাম্পাসে হবেই হবে।

‘যারা এই ঘটনার কুশীলব তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। সেদিন আমাদের সঙ্গে যেটা করা হয়েছে সেটা অন্যায় করা হয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য আমরা এখানে এসেছি।’

আরও পড়ুন:
অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও অচল চবি, বাস-ট্রেন বন্ধ
চবি ছাত্রলীগের কমিটি: ফটকে তালা পদবঞ্চিতদের 
বুয়েট শিক্ষার্থী সানির মৃত্যু: রিমান্ড শেষে ১৫ বন্ধু কারাগারে
বুয়েট শিক্ষার্থী সানির ১৫ বন্ধু রিমান্ডে
বুয়েটে চান্স পেলেন ‘জুনিয়র আবরার’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chabirs admission test on Tuesday the entire campus under cover of security

চবির ভর্তি পরীক্ষা মঙ্গলবার, নিরাপত্তার চাদরে পুরো ক্যাম্পাস

চবির ভর্তি পরীক্ষা মঙ্গলবার, নিরাপত্তার চাদরে পুরো ক্যাম্পাস
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। প্রায় আট শতাধিক আইনশৃঙ্খলা কর্মী ও গোয়েন্দা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত থাকবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্নাতক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুরো ক্যাম্পাসে জোরদার করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি।

ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৬ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চারটি ইউনিট ও দুটি উপ-ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষা দেবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ জন। সে হিসাবে এবারে আসনপ্রতি লড়বে ২৯ জন।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয় মাথায় রেখে ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় এবার তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা দুটি শিফটে (সকাল-বিকেল) অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, প্রথম দিন ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৫৪ হাজার ১০৬ জন। এর মধ্যে সকালের শিফটে পরীক্ষা দেবেন ২৭ হাজার ৫৩ জন। বিকেলের শিফটের পরীক্ষাও একই সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও হাটহাজারী কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে ‘এ’ ইউনিটের সিট প্ল্যান প্রকাশ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব আইডিতে লগইন করে সিট প্ল্যান দেখতে পারবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও পেজে।

এভাবে প্রতি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ৪৮ ঘণ্টা আগে আসন বিন্যাসে জানিয়ে দেয়া হবে।

পরীক্ষার সময়সূচি-

সকালের শিফটে পরীক্ষার্থীরা ৯টা ৪৫ মিনিটে কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন। ওএমআর ফরম বিতরণ করা হবে ১০টা ১৫ মিনিটে। প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে বেলা ১১টায়। পরীক্ষা শেষ হবে দুপুর ১২টায়।

অন্যদিকে দুপুরের শিফটে ভর্তিচ্ছুরা ২টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন। ওএমআর ফরম বিতরণ করা হবে ২টা ৪৫ মিনিটে। প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে বেলা সাড়ে ৩টায়। পরীক্ষা শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।

১৬ আগস্ট ‘এ’ ইউনিট, ১৯ আগস্ট ‘সি’ ইউনিট, ২০ আগস্ট ‘বি’ ইউনিট, ২২ আগস্ট ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২৪ আগস্ট সকালে উপ-ইউনিট ‘বি-১’ ও একই দিন বিকেলে ‘ডি-১’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

কোন ইউনিটে কত

আইসিটি সেল থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, ‘এ’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ৫৪ হাজার ১০৬ জন, ‘বি’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ৩৫ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী, ‘সি’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ১১ হাজার ৬০ জন, ‘ডি’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ৩৯ হাজার ৩৯২ জন, ‘বি১’ উপ-ইউনিটে আবেদন করেছেন ১ হাজার ৫৭৯ জন, ‘ডি১’ ইউনিটে আবেদন করেছেন ১ হাজার ৮১১ জন।

সে হিসাবে ‘এ’ ইউনিটে প্রতিটি আসনের জন্য লড়বেন ৪৫ জন, ‘বি’ ইউনিটে লড়বেন ২৯ জন, ‘সি’ ইউনিটে লড়বেন ২৫ জন, ‘ডি’ ইউনিটে ৩৪ জন, ‘বি১’ ইউনিটে ১৩ জন এবং ‘ডি১’ ইউনিটে ৬০ জন। এ ছাড়া মোট আবেদন অনুসারে প্রতি আসনের জন্য লড়বেন ২৯ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে- একজন পরিক্ষার্থীর সঙ্গে একাধিক অভিভাবক না আসেন। আশা করছি সুন্দরভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

ক্যাম্পাসে বাড়তি নিরাপত্তা

ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ক্যাম্পাসে জোরদার করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। পরীক্ষা চলাকালীন প্রায় আট শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেষ্টনী দ্বারা আবৃত থাকবে পুরো ক্যাম্পাস । পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, ডিএসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা ক্যাম্পাস থাকবে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায়। ছাত্র সংগঠনগুলোর ওপরও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। ট্রাফিক কন্ট্রোলে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করবে ট্রাফিক পুলিশ। এ ছাড়া ভর্তি জালিয়াতি ঠেকাতে ডিজিএফআই, এনএসআই গোয়েন্দা সংস্থাও মাঠে থাকবে। সংঘর্ষ কিংবা র‍্যাগিংসহ অপ্রীতিকর যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। প্রায় আট শতাধিক আইনশৃঙ্খলা কর্মী ও গোয়েন্দা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত থাকবে।

‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটর করব। এ ছাড়া অপ্রত্যাশিত কোনো অপ্রীতিকর ঘটিনা এড়াতে আমাদের সহকারী প্রক্টরবৃন্দও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে থাকবেন। যেকোনো সমস্যায় আমাদের সহকারী প্রক্টরদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে হবে, তাদের নম্বর নোটিশ বোর্ডে দেয়া আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রীদের অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য আমরা হলগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। খাবার দোকানে মূল্যতালিকা সাটানোর জন্য আমরা কথা বলেছি। পরীক্ষার দিনগুলোতে ৯ জোড়া শাটল চলবে। স্মরণ চত্বরে পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় হেল্পডেস্ক থাকবে। এ ছাড়া প্রবেশপত্রসংক্রান্ত সমস্যায় আইটি সেল থেকেও হেল্প নিতে পারবে।’

পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে ৮ নির্দেশনা

ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য আটটি নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনাগুলো হলো-

১. মাস্ক ব্যতীত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষার হলে সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিধান করে থাকতে হবে।

২. পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একের অধিক অভিভাবক চবি ক্যাম্পাসে আসতে পারবে না। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলকে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা নিজস্ব পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

৩. পরীক্ষা শেষে ধাপে ধাপে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র প্রধান/পরিদর্শকদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

৫. প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ডাউনলাড করা দুই কপি প্রবেশপত্র, পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা A লেভেলের Statement of Entry-এর মূল কপি ভর্তি পরীক্ষার দিন অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।

৬. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে fx-100 বা এর নিচে সাধারণ মানের (মেমোরি অপশন/সিম ব্যতীত) ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। পরীক্ষার হলে প্রার্থীর মোবাইল ফোন, Calculator with Memory Option/সিম, Electronic Device সংবলিত ঘড়ি ও কলম বা যেকোনো ধরনের Device সঙ্গে রাখতে পারবে না।

৭. প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে কারও কাছে কোনো অভিযোগে দৃষ্টিগোচর হলে তা প্রথম ও দ্বিতীয় শিফটে নির্ধারিত পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ সময়ের ন্যূনতম ১ ঘণ্টা আগে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট কো-অর্ডিনেটরের কাছে লিখিত অভিযোগ করা যাবে।

৮. ভর্তি পরীক্ষায় কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে।

শাটল ট্রেনের সূচি

ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প‌্রশাসন। আগামী ১৬, ১৯, ২০, ২২ ও ২৪ আগস্ট এই বিশেষ শাটল সার্ভিস চলবে।

নগরীর বটতলী রেলস্টেশন থেকে যথাক্রমে সকাল ৬টা, সাড়ে ৬টা, ৮টা ১৫ মিনিট, ৮টা ৪৫ মিনিট, ১১টা ৪০ মিনিট, দুপুর ১২টা, বিকেল ৩টা, ৪টা ও রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে যথাক্রমে সকাল ৭টা ৫ মিনিট, সকাল ৭টা ৩৫ মিনিট, সকাল ৯টা ২০ মিনিট, সকাল ১০টা, দুপুর ১টা, বেলা দেড়টা, বিকেল ৫টা, বিকেল সাড়ে ৫টা ও রাত ৯টা ১০ মিনিটে নগরীর বটতলীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

তবে ২৪ আগস্ট শাটল নিয়মিত সময়সূচিতে চলবে।

সব ট্রেনই ঝাউতলা, ষোলশহর, ক্যান্টনমেন্ট, চৌধুরীহাট, ফতেয়াবাদ স্টেশনে কিছুক্ষণ থেমে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাবে। প্রতিটি ট্রেন বটতলী রেলস্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসতে আনুমানিক ১ ঘণ্টা সময় লাগবে।

আরও পড়ুন:
চবিতে বহিষ্কার হয়েও পরীক্ষায় বসলেন ২ শিক্ষার্থী
চবি ছাত্রলীগে পদবঞ্চিতদের অবরোধ প্রত্যাহার
অবরোধের দ্বিতীয় দিনেও অচল চবি, বাস-ট্রেন বন্ধ
চবিতে ৪ বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত
চবিতে শাটল ট্রেনের চালককে ‘অপহরণ’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agitators no student politics in Shibir Buet Jai

আন্দোলনকারীরা শিবির, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চাই: জয়

আন্দোলনকারীরা শিবির, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চাই: জয় মানববন্ধনে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘গতকাল বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানে জাতির পিতা এই বাংলাদেশের জন্য কী। সুতরাং জামাত-শিবিরের প্রেতাত্মারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে হওয়া শোকসভার যারা বিরোধিতা করেছেন তাদের শিবির আখ্যা দিয়ে এই ক্যাম্পাসে আবারও ছাত্ররাজনীতি সচল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানবন্ধনে এই আহ্বান জানান তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবিতে ঢাবি ছাত্রলীগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘গতকাল বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানে জাতির পিতা এই বাংলাদেশের জন্য কী। সুতরাং জামাত-শিবিরের প্রেতাত্মারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

বুয়েট প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কী বোঝাতে চান? ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কি বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করতে পারবেন? আপনাদের জন্য অশনিসংকেত। এ বিষয়ে আপনাদের এখনই সচেতন হওয়া উচিত।’

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার এখতিয়ার কারও নেই। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের জন্য কথা বলবে আর ছাত্ররাজনীতি চলবে। এটিই মেনে নিতে হবে। আপনাদের বিষয়টি নিয়ে আবারও বিবেচনা করতে বলব। ছাত্ররাজনীতি আবারও সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নেবেন। বাংলদেশের তরুণ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপনাদের অনুরোধ করছে।’

আল নাহিয়ান জয় বলেন, ‘তারা কারা যারা স্লোগান দেয়, ছাত্রলীগের ঠিকানা, বুয়েট ক্যাম্পাসে হবে না- এত সহজ! এটা এত সহজ না। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চিতে ছাত্রলীগের ইতিহাস রয়েছে। ছাত্রলীগকে যারা ঠিকানা মনে করেন না তাদের উদ্দেশ্য আমরা বুঝে গিয়েছি। তাদের উদ্দেশ্য হলো বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁঠাল ভেঙে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করা।’

বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের পাশে আমরা আছি। কুচক্রী শিবিরদের আপনারা প্রতিহত করবেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের কেউ যেন ওই দুষ্কৃতকারী-বাটপারদের কথা শুনে আন্দোলনে না নামেন। যারা ছাত্রলীগকে নিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেছে তাদের বিচার হবে৷’

এ সময় তিনি প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর শোকসভা বানচাল করার জন্য প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছ, তাদের আপনারা খুঁজে বের করুন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া উচিত। কারণ তারা সংবিধান লঙ্ঘন করার মতো কাজ করেছে।’

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘গতকাল রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে আমরা হিজবুত তাহরীর, শিবির এবং জঙ্গিবাদী চক্রের যে তাণ্ডব দেখতে পেয়েছি সেটির প্রতি ধিক্কার জানাই। এই ঘটনায় বুয়েট প্রশাসনের নীরবতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। তারাই নাকি বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী।’

বুয়েট প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগসহ যেসব বাম সংগঠন প্রগতীশীলতার রাজনীতি করে তাদের নিষিদ্ধ করে আপনারা জঙ্গিবাদী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছেন। বাংলাদেশের কোথাও পাকিস্তানি রাজনীতির চর্চা করতে দেয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এটি মেনে নেবে না। আপনারা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখুন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, বরিকুল ইসলাম বাঁধন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হাসান শাহাদাত, উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুস, হাজী মুহাম্মদ মহসিন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেনসহ বিভিন্ন হলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। ছাত্রলীগের ব্যানারে এদিন বিকেলে আয়োজনটি ঘিরে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারের আলোচনা সভা ঘিরে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘আবরারের রক্ত, বৃথা যেতে দিব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে রাতে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া কোনো শিক্ষার্থীই তাদের পরিচয় বলেননি।

আরও পড়ুন:
ব্যানারে ‘ছাত্রলীগ’ লেখার কথা বলেনি সাবেক নেতারা: বুয়েট ভিসি
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছাত্রলীগ ও যুবদলের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Committee on Formulation of Policy to Prevent Fraud in PhD

পিএইচডিতে জালিয়াতি রোধে নীতিমালা প্রণয়নে কমিটি

পিএইচডিতে জালিয়াতি রোধে নীতিমালা প্রণয়নে কমিটি প্রতীকী ছবি
আইনজীবী লিংকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিএইচডিসহ উচ্চ শিক্ষায় যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে নীতিমালা তৈরি করতে সাত সদস্যের কমিটি করে দিয়েছে আদালত। আগামী তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

উচ্চ শিক্ষাসহ যেকোনো পিএইচডি গবেষণায় জালিয়াতি রোধে নীতিমালা প্রণয়ন করতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে পিএইচডি গবেষণা জালিয়াতি রোধে নীতিমালা তৈরি করে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

ওই কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাবির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুদ্দিন মো. তারেক, ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাজনীন ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা আকবর।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

পরে লিংকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিএইচডিসহ উচ্চশিক্ষায় যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে নীতিমালা তৈরি করতে সাত সদস্যের কমিটি করে দিয়েছে আদালত। আগামী তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

‘ঢাবি শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণার ৯৮% নকল’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লিংকন রিট করেন।

আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ও সমমানের ডিগ্রি কীভাবে অনুমোদন করা হয়, তা খতিয়ে দেখে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ইউজিসিকে নির্দেশ দেয়।

ঢাবি শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণায় নকল নিয়ে তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট।

রুলের শুনানির ধারাবাহিকতায় রোববার পিএইচডির নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঘর-বাড়ি, স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাতজনকে ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল
খালাসের ৭ বছর পরও কারাগারে কাশেম: তদন্তের নির্দেশ
রেল ক্রসিং দুর্ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
অসদাচরণে পদ খোয়ালেন সহকারী অ্যাটর্নি মারুফা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time Suraiya passed the university exam

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখলেন সুরাইয়া

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখলেন সুরাইয়া
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘সুরাইয়ার জন্য আলাদাভাবে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ মিনিট সময় বেশি দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন চুপচাপ থেকে শান্তভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে সুরাইয়া।’

ভাষা অস্পষ্ট, ভাব বিনিময় করতে হয় চোখের ইশারায়। দুই হাত অবশ থাকায় লিখতে হয় পা দিয়ে। তবুও পড়ালেখা করতে মনের জোরে কোনো কমতি নেই। পায়ে লিখেই স্কুল-কলেজের গণ্ডি পার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সুরাইয়া।

সুরাইয়ার বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার আন্দারিয়া সুতিরপাড় গ্রামে। সফির উদ্দিন ও মুরশিদা সফির তিন মেয়ের মধ্যে সুরাইয়া সবার বড়। সুরাইয়ার বাবা স্কুলশিক্ষক আর মা গৃহিণী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় শনিবার অংশ নেন সুরাইয়া।

সুরাইয়া নিউজবাংলাকে জানান, পড়ালেখা তার অনেক ভালো লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে দেশসেবায় কাজ করতে চায় সে। এ লক্ষ্যে শেরপুর জেলার চর কান্দারিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪.১১ এবং শেরপুর মডেল গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০০ ‌পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাননি। তাই এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখলেন সুরাইয়া

সুরাইয়ার মা মুর্শিদা সফি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী হলেও আমি কখনোই মন খারাপ করিনি। মেয়েকে নিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনের গল্পটা সংগ্রামের। আমি চাই যত‌দিন আ‌মি বেঁচে আছি ততদিন তার এগিয়ে যাওয়ার পথে সঙ্গী হয়ে থাকব। আমার আশা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করে এক দিন বড় অফিসার হয়ে দেশের সেবায় মনোনিবেশ করবে সুরাইয়া।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, ‘সুরাইয়ার দুটি হাতই বাঁকা ও শক্তিহীন। ঘাড়ও খানিকটা বাঁকা। সে মাথা সোজা করে দাঁড়াতেও পারে না। দেখেই বোঝা যায় হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সুরাইয়ার জন্য আলাদাভাবে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ মিনিট সময় বেশি দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন চুপচাপ থেকে শান্তভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে সুরাইয়া।’

আরও পড়ুন:
সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক
মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়া স্কুলে ভর্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jabi student complains against stepmother for missing father

সৎমার বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ জবি শিক্ষার্থীর

সৎমার বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ জবি শিক্ষার্থীর
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ মোল্লা নামে যাত্রাবাড়ীর এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, সৎমার বিরুদ্ধে পিতাকে নির্যাতন ও গুম এবং পিবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিত সিয়াম।

সৎমা ও এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বাবাকে গুম করার অভিযোগ তুলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থী। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাবিত সিয়াম সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে তার বাবাকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাবিত সিয়াম লিখিত বক্তব্যে জানান, তার বাবা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব মো. সোলায়মান আলী তালুকদারকে ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গুম করা হয়।

মাসুদ মোল্লা নামে যাত্রাবাড়ীর এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, সংমার বিরুদ্ধে পিতাকে নির্যাতন ও গুম এবং পিবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

সিয়াম বলেন, ‘মাসুদ আলম মোল্লা যাত্রাবাড়ীর একজন অসাধু প্রকৃতির লোক। তিনি বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ফ্ল্যাট বন্ধকের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। কিছুদিন পর তিনি বাবার কাছ থেকে আরও ৩৭ লাখ টাকা ধার নেন। এরপর তিনি ওই ফ্ল্যাট বেদখল দেন।

‘বাবা টাকা ফেরত চাইলে মাসুদ মোল্লা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের একাউন্ট থেকে (চেক নং-এমসিই ১২২১৯৫৬) ১২ লাখ টাকা এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের একাউন্ট থেকে ১৭ লাখ টাকার (চেক নং-৭৪৯৩৫৬৭) দুটি ভুয়া চেক দেন।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ বিষয়ে বাবা ২০২০ সালের ৭ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি করেন। আমার বড় ভাই সাকিব তালুকদার একই মাসের ২২ তারিখ আরেকটি জিডি করেন। আর এই দুঃসময়ে সৎমা মাহফুজা বেগম বাবাকে বাসা থেকে বের করে দেন। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আমি মিরপুরের বাসায় থাকতে শুরু করি। বাবা যখন বাসায় একা থাকতেন তখন সৎমা এসে তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। এই পর্যায়ে বাবা মাহফুজা বেগমকে তালাক দেন।

‘তালাকপ্রাপ্ত হয়ে মাহফুজা বেগম কৌশলে সৎবোন ফারিয়া তালুকদারের মাধ্যমে বাবাকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে নির্যাতন চালান। এরপর থেকে আমার বাবা নিখোঁজ। নিজেকে আড়াল করতে ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর মাহফুজা বেগম ফতুল্লা থানায় জিডি করেন। বাবাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে থানায় মামলা করতে চাইলে আমাদেরকেও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন মাহফুজা বেগম।’

সংবাদ সম্মেলনে জবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে আমি মামলা করি। পিবিআই নারায়ণগঞ্জকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আমার বাবা পাগল হয়ে হারিয়ে গেছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন।

‘আমার বাবা একজন পঙ্গু মানুষ। করোনার সময়ে তিনি কী করে একাকী হারিয়ে যাবেন? সব ঘটনা শুনে, দেখে আমরা নিশ্চিত হই যে বাবাকে গুম করা হয়েছে। আমি বাবাকে ফেরত পেতে প্রশাসনের প্রতি জোর আরজি জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
স্বপ্ন জয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি তাদের
বিলবোর্ড পড়ে মাথা ফাটল জবি ছাত্রীর
সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির জবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি
জবি নীল দলের সভাপতি জাকির, সম্পাদক নাফিস
জবিতে ৯ আগস্ট থেকে প্রতি মঙ্গলবার অনলাইনে ক্লাস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Visual impairment did not stop them from winning their dreams

স্বপ্ন জয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি তাদের

স্বপ্ন জয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি তাদের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের উপ পরিচালক ডা. মিতা শবনম বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে আমাদের জানানো হয়েছে তিন জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মেডিক্যালে পরীক্ষা দেবেন। আমরা সে অনুযায়ী তাদের জন্য ব্যবস্থা করেছি।’

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও স্বপ্ন জয়ে ছুটে চলেছেন। দৃষ্টি তাদের সামনে এগোনোতে কোনো বাধা হতে পারেনি। এমন তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী দিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নেয়া তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হলেন- তারিফ মেহমুদ চৌধুরী, তৃণা আক্তার সেতু ও আকাশ দাস।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তিন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে ব্যবস্থা করা হয়। তাদের পরীক্ষার জন্য তিন জন সহযোগীও দেয় কর্তৃপক্ষ।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তারিফ মেহমুদ চৌধুরী তার মায়ের সঙ্গে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন রাজবাড়ী থেকে।

তারিফ নটরডেম কলেজ থেকে ৪ দশমিক ৯২ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। জন্ম থেকেই তারিফ দেখেন না। একজন শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।

তারিফ মেহমুদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং বিষয়টি এসেছিল, কিন্তু আমার প্রিয় বিষয় ইংরেজি। তাই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।’

আরেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তৃণা আক্তার সেতু এসেছেন গোপালগঞ্জ থেকে। সঙ্গে ছিলেন বড় ভাই। ম্যাগনিফাইং গ্লাস ছাড়া তিনি লেখা পড়তেই পারেন না। তৃণা গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দ্বিতীয় বারের মত তৃণা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।

তৃণা বলেন, ‘পরীক্ষা দেয়ার জন্য ম্যাগনিফাইং গ্লাস সঙ্গে এসেছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহযোগী হিসেবে একজনকে দেয়া হয়েছে। তাই সেটা আর ব্যবহার করতে হয়নি।’

আরেক শিক্ষার্থী আকাশ দাস এসেছেন নরসিংদী থেকে। তিনি মিরপুর বঙ্গবন্ধু কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

আকাশ দাস বলেন, ‘আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও এটাকে প্রতিবন্ধকতা মনে করি না বলেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। এইচএসসিতে আমার জিপিএ ৪ দশমিক ৫৮।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের উপ পরিচালক ডা. মিতা শবনম বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে আমাদের জানানো হয়েছে তিন জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মেডিক্যালে পরীক্ষা দেবেন। আমরা সে অনুযায়ী তাদের জন্য ব্যবস্থা করেছি।’

আরও পড়ুন:
বিলবোর্ড পড়ে মাথা ফাটল জবি ছাত্রীর
সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির জবি শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি
জবি নীল দলের সভাপতি জাকির, সম্পাদক নাফিস
জবিতে ৯ আগস্ট থেকে প্রতি মঙ্গলবার অনলাইনে ক্লাস
নুরে আলমের মৃত্যু: নয়াপল্টনে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

মন্তব্য

p
উপরে