পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগার মিল এক বছরের বেশি সময় ধরে উৎপাদনে নেই। অথচ এ সময়েই সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার।
কারখানার করুণ অবস্থাতেও শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে বিনিয়োগকারীদের। সুগার মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকার সংবাদ জেনেও বেশি দরে শেয়ার কেনার প্রবণতা জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। শেয়ারের চলতি দর নিয়েও বিস্মিত কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি মালিকানাধীন এ কারখানার যন্ত্রপাতি, লোকবল সরিয়ে নেয়া হচ্ছে অন্য মিলগুলোতে। বদলির অপেক্ষায় অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এই সময়েই সর্বোচ্চ দরে লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। বন্ধ মিলের ভেতরে বাড়ছে আগাছা, পরিত্যক্ত পড়ে আছে অব্যবহৃত যানবাহন। বকেয়া বেতন আদায়ে মাঝে মাঝে আন্দোলন করেন কারখানার অবশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সুগার মিলটির উৎপাদন বন্ধের একটি নোটিশ দেয়া হয়। বলা হয়, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে ২০২০-২১ সালের জন্য আখ প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খারাপ অবস্থাতেই তখন ১৪১ টাকায় উঠেছিল শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ার দর। যদিও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই সর্বোচ্চ দরের পর আর উত্থান হয়নি। এখন ক্রমাগত কমছে শেয়ার দর। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৫ টাকায়।
শেয়ার দর নিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান হাবিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির উৎপাদন বর্তমানে পুরোদমে বন্ধ। তারপরও ৭৫ টাকা শেয়ার দর কীভাবে হয়?
‘সুগার মিলের উৎপাদন অনেক আগে থেকেই বন্ধ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে কারখানার কার্যক্রম একেবারে নেই বললেই চলে। বর্তমানে কর্মচারী, কর্মকর্তাসহ ৪৪৩ জন কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১০৬ জন কারখানায় কর্মরত। অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি করে জয়পুরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের সুগার মিলে পাঠানো হয়েছে। কারখানার অব্যবহৃত ট্রাক, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য যানবাহন আশপাশের কারখানায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।’
সুগার মিলটির ক্রান্তিকালের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণার পর ৮ মাস এখানে কারও বেতন হয়নি। অন্য কারখানায় পদ না থাকায় সেখানে বদলিও করা যাচ্ছে না। ফলে যারা এখানে কর্মরত তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’
মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, পুঁজিবাজারে ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত শ্যামপুর সুগার মিল এখন বন্ধ থাকলেও তা আধুনিকায়ন করে ফের চালুর কথা বলছেন সরকারের অনেকে। এমনকি মিলের নিজস্ব জায়গায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন, ফিলিং স্টেশন ও এলপি গ্যাস স্টেশন নির্মাণ, মিনারেল ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপন, বিনোদন কেন্দ্র ও রিসোর্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনাধীন।
শেয়ার মার্কেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোম্পানিটির গত বছর প্রথম প্রান্তিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ৬২ পয়সা। তার আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ২৫ টাকা ১৫ পয়সা।
সুগার মিলটির সম্পদের বিপরীতে শেয়ারের দায় ১ হাজার ১৩৬ টাকা। আগের বছর জুলাই-সেপ্টেম্বরে দায় ছিল ১ হাজার ১১৪ টাকা।
কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫১ শতাংশ আছে সরকারের হাতে। আর ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪৭ দশমিক ০৭ শতাংশ শেয়ার।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর বন্দরে ১৯৬৪ সালে নির্মাণ হয় শ্যামপুর সুগার মিল। ১১১ দশমিক ৪৫ একর জমির ওপর নির্মিত এই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই শুরু হয় ১৯৬৭ সালে।
কারখানাটিতে দৈনিক আখ মাড়াইয়ের সক্ষমতা রাখা হয় ১ হাজার ১৬ টন। বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ধরা হয় ১০ হাজার ১৬১ টন। বছরে মিলের মেশিন চালু থাকে তিন মাস।
চালুর পর লাভের মুখ দেখলেও ২০০০ সালের পর থেকে টানা লোকসানের মুখে পড়ে মিলটি। প্রায় চার শ’ কোটি টাকা লোকসানের মুখে গত বছর মিলটি বন্ধ করে দেয় সরকার। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় চিনিকলের যন্ত্রপাতি প্রায় নষ্টের উপক্রম। বিকল হয়ে পড়ে আছে আখ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলো।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের গৃহায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফ্ল্যাট বিক্রিতে বড় ধসের পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, শুল্ক-করের বোঝা এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে এই খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি ও বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাবে ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিক, পরিবহন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ সংশ্লিষ্ট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পে মন্দার ছায়া পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতির প্রতিফলন দেখা গেছে পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সেও, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের নিচে নেমেছে।
বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কম থাকলেও উপকরণের মূল্য হ্রাসের কোনো লক্ষণ নেই। পরিবহন খরচ ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক নির্মাণ ব্যয় বেড়েই চলেছে। যদিও রডের দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু চাহিদার অভাবে এর বিক্রি প্রায় ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে থাই গ্লাসসহ কিছু উপকরণের দাম আগের চেয়ে অনেকটা বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্মাণকাজের মৌসুম হওয়ায় তখন চাহিদা বাড়ে। বর্ষাকালে কাজ কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমে যায়। ফলে কিছু পণ্যের দাম কমলেও অনেক পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।’
উচ্চ সুদের হারের কারণে ক্রেতারা আবাসন ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাজধানীর আবাসন বাজারে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সিমেন্ট ও রড উৎপাদনকারী কারখানাগুলোও তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। আবাসন খাতের সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এক নেতা বলেন, ‘আবাসনখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬৯টি শিল্প জড়িত। ফলে এ খাতে মন্দা দেখা দিলে শুধু ডেভেলপার নয়, নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবহন খাত ও লাখো শ্রমিকের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আবাসন খাতে নির্মাণের ব্যয় প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। কাঁচামালের দাম ও কর বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও অনেক বেড়েছে। সংকট উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘নিবন্ধন ব্যয় কমানো, গৃহায়নবান্ধব করনীতি প্রণয়ন, স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এ খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে গতি সঞ্চার ও বেসরকারি বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো না গেলে এই মন্দা দেশের সামগ্রিক শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
নয় মাস আগে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে এখনো স্থায়ী আমদানি শেড চালু করা সম্ভব হয়নি। এর ওপর সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে রাখা শত শত টন আমদানিকৃত পণ্য ভিজে নষ্ট হচ্ছে। আধুনিক ওয়্যারহাউজ ম্যানেজমেন্ট, বারকোড বা আরএফআইডি ভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য শনাক্তকরণ ও সরবরাহে চরম ধীরগতি দেখা দিয়েছে। গুদাম সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তেমনি শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ৫০টির মতো ফ্লাইটে বিপুল পরিমাণ কার্গো আসে। নিয়মিত ফ্লাইটের পণ্য যাচাই করতে সময় কম লাগলেও বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টন পণ্য আসায় দ্রুতই বিপুল পরিমাণ কার্গো খালাসের অপেক্ষায় জমে থাকে। পরবর্তীতে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মালামাল বুঝে নেওয়ার পর সেগুলো সর্টিং ও চূড়ান্ত ডেলিভারিতে আরও কয়েক দিন বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য আসায় কার্গো ভিলেজে জায়গার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট চালান খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় একদিকে পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে, অন্যদিকে খোলা জায়গায় পড়ে থাকা মালামাল প্রতিকূল আবহাওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে বিমানবন্দরের কার্গো ওয়্যারহাউজটি ভস্মীভূত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শেডটি সংস্কারের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় আমদানিকৃত পণ্যের ধারণক্ষমতা অনেক কমে গেছে। রাখার জায়গা না থাকায় প্রতিদিন আসা বিপুল পরিমাণ নতুন চালান খোলা জায়গায় ফেলে রাখতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিকমানের একটি বিমানবন্দরে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য এভাবে খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনা বাণিজ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। মূলত সংস্কার কাজে ব্যর্থতা এবং বিকল্প সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কার্গো ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কারকৃত অংশে সামান্য পরিমাণ পণ্য রাখা সম্ভব হলেও প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। বিমানবন্দরে সাধারণত জরুরি শিল্প কাঁচামাল, ইলেকট্রনিক পণ্য, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও সংবেদনশীল সরঞ্জাম আমদানি করা হয়, যা নিরাপদ সংরক্ষণের অভাবে গুণগত মান হারাচ্ছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাব পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল কার্গো ট্র্যাকিং ও আধুনিক ওয়্যারহাউজ ম্যানেজমেন্ট চালু করা না গেলে এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। বর্তমানে বিদ্যমান এই অচলাবস্থা নিরসনে তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালুর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
ছবি: রয়টার্স
ফিনল্যান্ডের টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নকিয়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড খাতের গ্রাহকদের চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নকিয়ার তুলনামূলক পরিচালন মুনাফা ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩৪ মিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ৪৯৬.১১ মিলিয়ন ডলার) দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী এই মুনাফা ৩৮২ মিলিয়ন ইউরো হওয়ার কথা ছিল।
রয়টার্সের তথ্যমতে, নকিয়া বর্তমানে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ফাইবার-অপটিক সরঞ্জাম বিক্রিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। নকিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাস্টিন হোটার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চাহিদা এখনো বেশ শক্তিশালী, তবে সরবরাহের সংকটই বর্তমানে শিল্পের প্রধান সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ দিতে উৎসাহিত করছে।’
গত বছর ইনটেলের ডাটা সেন্টার ও এআই গ্রুপ থেকে নকিয়ায় যোগ দেওয়ার পর হোটার্ড ডাটা সেন্টার ব্যবসার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সঙ্গে বিশাল অংকের চুক্তিও সম্পন্ন করেছেন। চলতি প্রান্তিকে নকিয়ার মোট বিক্রয় ৪.৮২ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা বাজার প্রাক্কলনের চেয়েও বেশি। এর মধ্যে এআই ও ক্লাউড গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ৪৪৬ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে ২.৮ বিলিয়ন ইউরোর ক্রয়াদেশ পেয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী সুইডিশ প্রতিষ্ঠান এরিকসন গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল যে, এআই চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের ক্রমবর্ধমান ব্যয় তাদের ব্যবসায়িক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে নকিয়া এর বিপরীতে পুরো বছরের সম্ভাব্য পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আগের পূর্বাভাস ২ বিলিয়ন থেকে ২.৫ বিলিয়ন ইউরো থাকলেও এখন তা সংশোধন করে ২.১ বিলিয়ন থেকে ২.৬ বিলিয়ন ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা আশা করছে, ব্যবসার এই ইতিবাচক ধারা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক সংঘাতের পাশাপাশি এবার বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থার দিকে কঠোর নজর দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্যের পর এবার তিনি ওষুধের বাজারকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। তবে ওষুধের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী ১ আগস্ট থেকে পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সকল জেনেরিক ওষুধ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর ২০২৮ সাল থেকে এক বছরের জন্য শুল্কের হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে তা আরও বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব কারখানা ও উৎপাদন কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য এটি এক ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ বা সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক নীতিমালার মাধ্যমে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বজায় রেখেছেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বের অন্যান্য উচ্চ আয়ের রাষ্ট্রে যে মূল্যে ওষুধ বিক্রি করা হয়, মার্কিন নাগরিকরাও যেন সেই একই বা তার চেয়ে কম মূল্যে ওষুধ কিনতে পারেন।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) দেওয়া তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত ওষুধের ৯০ শতাংশের বেশি জেনেরিক ক্যাটাগরির। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পেটেন্টভুক্ত ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। উল্লেখ্য যে, গত বছর বড় কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্কিন সরকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ায় কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওষুধ শুল্কমুক্ত সুবিধা লাভ করেছিল।
এর আগে গত এপ্রিলে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমদানিকৃত ব্র্যান্ডেড ওষুধ কোম্পানিগুলো যদি সরকারের নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে রাজি না হয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের নিশ্চয়তা না দেয়, তবে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক সম্পাদকীয়তে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে যে, এর ফলে মার্কিন বাজারে কম দামের জেনেরিক ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত প্রেসক্রাইবড ওষুধের প্রায় ৯০ শতাংশই জেনেরিক এবং এর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোম্পানিগুলোর পক্ষে দ্রুত উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত শুল্কের ব্যয় বহন করা বেশ কঠিন হবে। ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় জেনেরিক ওষুধে মুনাফার হার কম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৮ মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশে আবারও মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্যামসাং স্মার্টফোন দেশের বাজারে পুনরায় সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের হাত ধরে বাংলাদেশে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন সংযোজন শুরু করেছিল স্যামসাং।
নরসিংদীর শিবপুরে অবস্থিত কারখানায় ইতোমধ্যে স্যামসাং ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ওয়াশিং মেশিন উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন ও স্মার্টফোন তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার কারখানাটি পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য প্রদান করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জিজুন কিম। ওই সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্যামসাং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাং এবং ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব।
ফেয়ার গ্রুপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের আনুষ্ঠানিক পরিবেশক হিসেবে তারা যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন কারখানা স্থাপন করার পর ২০১৮ সালে দেশে তৈরি প্রথম স্যামসাং স্মার্টফোন বাজারে আনে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ফেয়ার গ্রুপের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে কেবল স্মার্টফোন খাতের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এই কারখানায় বছরে প্রায় ২৫ লাখ ইউনিট মোবাইল ফোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে।
স্যামসাংয়ের পাশাপাশি ফেয়ার গ্রুপ বর্তমানে চীনের হাইসেন্স ব্র্যান্ডের পণ্যও উৎপাদন করছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৭ সাল নাগাদ দুই ব্র্যান্ড মিলিয়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করা। বর্তমানে তারা বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার হাইসেন্স রেফ্রিজারেটর তৈরি করছে। কারখানা পরিদর্শনে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনে ধাতব কাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ সংযোজন ও গুণগত মান যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করা যায়।
ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন বিরতি প্রসঙ্গে জানান, ২০২৩ সালে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রতিকূল হয়ে পড়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত স্যামসাং স্মার্টফোন উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছিল। সে সময়কার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সে সময় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’ তিনি আরও জানান, বাজার ৪জি থেকে ৫জি ডিভাইসে রূপান্তরিত হওয়ায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রয়োজনীয়তাও এই বিলম্বের অন্যতম কারণ। কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ লাখ হ্যান্ডসেট হলেও উৎপাদন পুনরায় শুরুর প্রথম বছরেই পুরো সক্ষমতা ব্যবহারের লক্ষ্য এখনই নেওয়া হচ্ছে না।
কারখানা পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত জিজুন কিম ফেয়ার ইলেকট্রনিকসকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল কর্মীবাহিনী ও কোরিয়ার উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় দেশটিকে একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব অবৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, সহায়ক নীতিগত পরিবেশ পাওয়া গেলে স্থানীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। স্যামসাং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাং জানান, স্যামসাং বৈশ্বিক মান বজায় রেখে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে যৌথভাবে এ দেশে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সবশেষ লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৬ ডলার ছাড়িয়েছে এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ৮৮ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গেছে, একদিনের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
লোহিত সাগরে তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পর এই উত্তেজনা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম হুঁশিয়ারিতে বলেছিলেন, “হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।” তাঁর এমন মন্তব্যের পর যুদ্ধের পরিধি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের পর আরও দুটি জাহাজ যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান সামরিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি এখন কার্যত বন্ধ। তারা কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছে, ইরানের সাথে সমন্বয় ও পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো ট্যাংকার এই প্রণালিতে প্রবেশ করতে বা বের হতে পারবে না। এছাড়া আইআরজিসির পক্ষ থেকে শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন স্থাপন করা আছে।
সংঘাতের আরেকটি ফ্রন্টে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে তাদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি, তারা লোহিত সাগরে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সৌদি তেলের ট্যাংকারে আক্রমণ চালিয়েছে এবং সৌদি আরবের দুটি জাহাজ তাদের হামলার শিকার হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে সৌদি পতাকাবাহী ‘এনসেলিয়া’ নামক একটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি বন্দরের অভিমুখে যাত্রা করতে নিষেধ করার পর প্রায় ১০টি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে বলে জানা গেলেও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ—হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি—দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক দুই দেশের যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম এখনো আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১২৬ ডলারের চেয়ে প্রায় ৩০ ডলার নিচে অবস্থান করছে। বর্তমানের এই দর বৃদ্ধি মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির কার্ডধারী ও কর্মীদের জন্য বিশেষ অটোমোটিভ সেবা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তির আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ডধারীরা গাড়ির সার্ভিস চার্জ এবং প্রি-পারচেজ ইন্সপেকশন (পিপিআই) সেবায় বিশেষ মূল্যছাড় পাবেন। পাশাপাশি কুইক সার্ভিস টিম (কিউএসটি)'র মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা এবং একজন ডেডিকেটেড কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজারের সহায়তা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর কার্ডধারী ও কর্মীদের জন্য বিশেষ অটোমোটিভ সার্ভিস সুবিধা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ডধারীরা গাড়ির সার্ভিস চার্জ ও প্রি-পারচেজ ইন্সপেকশন (PPI) সেবায় বিশেষ মূল্যছাড়, কুইক সার্ভিস টিম (QST)-এর মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা এবং একজন ডেডিকেটেড কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার-এর সহায়তা পাবেন।
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর পক্ষে মোঃ মাহবুব হোসেন, এসইভিপি ও হেড অব বিজনেস এবং মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেডের পক্ষে মাসুদ করিম চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোঃ কামাল হোসেন সরকার-সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির পক্ষে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি) ও হেড অব বিজনেস মো. মাহবুব হোসেন এবং মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেডের পক্ষে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাসুদ করিম চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. কামাল হোসেন সরকারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য