× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Eligible everyone will get incentives Finance Minister
hear-news
player
print-icon

যোগ্য সবাই প্রণোদনা পাবে: অর্থমন্ত্রী

যোগ্য-সবাই-প্রণোদনা-পাবে-অর্থমন্ত্রী করোনায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের কোষাগার থেকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি যোগ্য সব ব্যবসায়ী তা পাবেন। যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে অবশ্যই তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। আমি মনে করি, এটা নিয়ে যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে তা নিরসন হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যাবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের আর্থিক প্রণোদনার সুবিধা সবাই পাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থনৈতিক ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে রোববার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি এফবিসিসিআইয়ের এক সভায় মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা সবাই প্রণোদনা পায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি যোগ্য সব ব্যবসায়ী তা পাবেন। যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে অবশ্যই তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। আমি মনে করি, এটা নিয়ে যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে তা নিরসন হবে।’

প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি এ সুবিধা না পান তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

জোর গুঞ্জন আবারও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হতে পারে। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ছে, সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে।

এ অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দাম বাড়ানো হয়নি। আমার দিক থেকে দাম বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমি বিষয়টি এখনও জানি না। খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।

‘আমাদের সরকার জনগণের সরকার। এ দেশের সব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে হবে। আমি মনে করি, চলার পথ কখনও বিঘ্নিত হবে না। আমরা এগিয়ে যাব।’

এফবিসিসিআইর সাম্প্রতিক সভায় মাঠপর্যায়ের ভ্যাট ও কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ আসার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যু। তবে এ বিষয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ’ওমিক্রন নিয়ে যতটা ভয় হচ্ছে, ততটা ভয়ের কারণ নেই। আগে যেভাবে আমরা মোকাবিলা করেছি, তেমনিভাবে এবারও মোকাবিলা করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফেরাদের ৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ দিতে তহবিল
নীলফামারীতে ১২০০ কৃষক পাচ্ছেন প্রণোদনা
প্রণোদনার ঋণ নিশ্চিতে হটলাইন চালুর চিন্তা
পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
TIB calls for formation of economic committee

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ টিআইবির

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ টিআইবির ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং অন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি অর্থনৈতিক কৌশলবিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়েছে, দেখা দিয়েছে মন্দা। এমন প্রেক্ষাপটে সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)।

শুক্রবার টিআইবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারের সহায়ক হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে স্বাধীন অর্থনৈতিক কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও রিজার্ভের ওপর সৃষ্ট চাপ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতির ওপর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে অর্থ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে অহেতুক ব্যয় কমিয়ে সবাইকে সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় টিআইবি।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিপুল আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা, রিজার্ভের ওপর তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলায় ব্যয় হ্রাস করতে হবে। জনকল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সুচিন্তিত অর্থনৈতিক কর্মকৌশল নেওয়া এবং সাহসের সঙ্গে তা বাস্তবায়ন জরুরি।’

তাই খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি অর্থনৈতিক কৌশলবিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে বলেও জানান ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশকেও সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতিসহ বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। সংকটে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যেকোনো দেশেই সুশাসন অধিকতর ব্যাহত হয়। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারসহ আর্থিক খাতের বহুমুখী অনিয়ম গভীর ও ব্যাপক হয়। আর্থসামাজিক বৈষম্য, দারিদ্র্য ও প্রান্তিকতার বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।’

সংকট মোকাবিলায় কৌশল প্রণয়নে বস্তুনিষ্ঠ, পেশাগত উৎকর্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক এবং নিরপেক্ষ দিকনির্দেশনা সরকারের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এই কমিটি ২০২১-৪১ এর টার্গেট অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে অতিদারিদ্র্য দূর এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য শূন্যে নিয়ে আসার জন্য নির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে মন্দা ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই পরিস্থিতিতে জোর দিচ্ছে কৃচ্ছ্রসাধনে। বিলাসপণ্য আমদানিতেও নিরুৎসাহিত করতে হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর প্রকল্পও বেছে বেছে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতির গতি সচল রাখতে যেসব প্রকল্প অতি প্রয়োজনীয়, সেগুলোই কেবল চালিয়ে যাওয়া হবে। যেসব প্রকল্প এখনই না করলেও চলে, সেগুলো বাস্তবায়নে ধীরে চলার নির্দেশ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
তিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩৯০ কোটি টাকার দুর্নীতি: টিআইবি
উপাত্ত সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
টিআইবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পক্ষে তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sri Lanka is now in default

শ্রীলঙ্কা এখন ঋণখেলাপি

শ্রীলঙ্কা এখন ঋণখেলাপি কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছুড়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। ফাইল ছবি/এএফপি
শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি কি না জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর পি নন্দলাল উইরাসিংহে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। আমরা বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা (সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ) আমাদের (ঋণ) পুনর্গঠনে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করতে পারব না। এ কারণে এটাকে আপনি আগাম খেলাপি বলতে পারেন।’

স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপি হয়েছে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কা।

ঋণের সুদ হিসেবে আসা ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার পরিশোধে অতিরিক্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর বুধবার ঋণখেলাপি হয় দেশটি।

এমন বাস্তবতায় শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, তার দেশ ‘আগাম ‍ঋণখেলাপি’ হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে ঋণখেলাপি বলেছে বিশ্বের বৃহৎ দুই ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিও।

ঋণের আংশিক বা পুরোপুরি পরিশোধে অক্ষম হলে কোনো দেশ ঋণখেলাপি হয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

ঋণখেলাপি দেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে বেগ পেতে হয়। এর ফলে ওই দেশের মুদ্রা, অর্থনীতি নিয়েও আস্থাহীনতা বাড়তে পারে।

শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি কি না জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর পি নন্দলাল উইরাসিংহে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। আমরা বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা (সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ) আমাদের (ঋণ) পুনর্গঠনে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করতে পারব না। এ কারণে এটাকে আপনি আগাম খেলাপি বলতে পারেন।

‘প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সংজ্ঞা থাকতে পারে…তাদের জায়গা থেকে তারা এটাকে খেলাপি বলতে পারে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। ঋণ পুনর্গঠনের আগ পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করতে পারব না।’

বিদেশি ঋণদাতার কাছ থেকে নেয়া ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি ঋণ পুনর্গঠন করতে চাইছে শ্রীলঙ্কা। এর মাধ্যমে দেশটি সহজে এসব ঋণ পরিশোধ করতে চাইছে।

করোনাভাইরাস মহামারি, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য এবং কর কর্তনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি।

বিদেশি মুদ্রার তীব্র সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে দেশটিতে ওষুধ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীর সংকটও চরমে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে, যার কোনো কোনোটি সহিংস রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিজের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত নন মুমিনুল
দলীয় প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট অধিনায়ক
পরিবারতন্ত্রের ফল আজকের শ্রীলঙ্কা
পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ
ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Poyaboro of banks in dollar prices

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’ ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের সুযোগে মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে সাত টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কোনো ব্যাংক ১ ডলারে নিচ্ছে ৯৫ টাকা, কেউবা নিচ্ছে ৯৮। অর্থাৎ ১০০ ছুঁইছুঁই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ডলার তারা কিনছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। অথচ ৮৭ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ আয় হতে পারে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

উত্তপ্ত ডলারের বাজার। টাকার মান পড়ছেই। বাংলাদেশ ডলারের যে দাম ঠিক করে দিয়েছে, খোলাবাজারে তার চেয়ে ১৫ টাকা বেশিতেও বিক্রি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাটি।

এ নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার শেষ নেই। তবে এই সংকট কিন্তু দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

কোনো ব্যাংক ১ ডলারে নিচ্ছে ৯৫ টাকা, কেউবা নিচ্ছে ৯৮। অর্থাৎ ১০০ ছুঁইছুঁই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ডলার তারা কিনছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। অথচ ৮৭ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ আয় হতে পারে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এখন ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। ২০২১ সালের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

সবশেষ চলতি মাসের ১৬ তারিখ ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় দরপতন হয়। এক দিনেই ইউএস ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এতটা দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এখন ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা।

গত ৯ মাসে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তবে খোলাবাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এমনিতে মানি এক্সচেঞ্জে ডলারের দাম সাধারণত ব্যাংক রেট থেকে কিছু বেশি থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার ১০১ থেকে ১০২ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রাটি।

এই সুযোগ নিচ্ছে ব্যাংকও। তাদের কাছে ডলার কিনতে যাওয়ার পর একেক ব্যাংক একেক দাম চাইছে গ্রাহকদের কাছ থেকে।

কোন ব্যাংকে কত রেট

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে দামে ডলার কেনে বা বিক্রি করে, তাকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বলে। এ হিসাবে আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে নগদ ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু এই ব্যবধান বা পার্থক্য এক-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণে দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছেমতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো।

বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংক থেকে এক ডলার কিনতে গুনতে হয়েছে ৯৪ টাকা। আর গ্রাহকের থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির দর ৯২ টাকা।

অগ্রণীতে বিক্রি হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা। আর কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিয়েছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সা।

সোনালীতে ১ ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা। আর ব্যাংকটি কিনেছে ৯২ টাকা দরে।

রূপালীতে ১ ডলার কিনতে দিতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ব্যাংকটি নিজে কিনছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা দরে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে ১ ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহকের কাছ থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে দিচ্ছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু ব্যাংকটি ১ ডলার বিক্রি করছে ৮৬ টাকা ৮০ পয়সায়।

ব্র্যাক ব্যাংকে ১ ডলারে গুনতে হবে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ব্যাংকটি গ্রাহক থেকে কেনার ক্ষেত্রে দিচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংকের ১ ডলার সমান ৮৬ টাকায় কেনাবেচা করছে।

ইস্টার্ন ব্যাংকে এক ডলারে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা গুনতে হবে। আর ব্যাংকটি নিজে কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহককে দিচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেও একই দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

প্রাইম ব্যাংক বুধবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির রেট ৯৬ টাকা।

বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনে ডলারের সবচেয়ে চড়া দাম। ব্যাংকটির ওয়েরসাইটে দেখা গেছে, ১ ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিচ্ছে ৯৮ টাকা। আর গ্রাহকের কাছ থেকে কেনার ক্ষেত্রে ১ ডলার সমান ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংক এনএ-তে ১ ডলার ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না। বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যদি আন্তব্যাংক রেট আরও বেশি হয়, তাও যেতে দিতে হবে। তাহলে ব্যাংকগুলো ও কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংক রেটে ডলারের যে পার্থক্য তা কমে আসবে। ধীরে ধীরে বাজারও স্থিতিশীল হয়ে আসবে।’

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমদানি চাহিদা বাড়ছে, রেমিট্যান্স কমেছে। ডলারে কিছু ব্যাংক আগ্রাসী রেট ধরে দিচ্ছে। এটাতে মিডলম্যান লাভবান হচ্ছে, প্রবাসীরা হয় না। সকল ব্যাংকে এক রেট হওয়া উচিত।’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন বলেন, ‘সারা দেশের সব ব্যাংকে এক রেট করা উচিত। ব্যাংকের চেয়ে হুন্ডি রেট বেশি দিলে ব্যাংকের রেমিট্যান্স কমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রেট দিলে আমরা পরিপালন করি, অন্য যারা করছে না তারা রেমিট্যান্স বেশি পায়। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই যেকোনো নিয়ম করলে যাতে সবাই পরিপালন করে সেই ব্যবস্থা করা উচিত।’

কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খোলা বাজারে ডলার অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। চাহিদা বেশি, তাই গ্রাহকদের অতিপ্রয়োজনীয় সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী ডলারের দাম বেশি নিয়ে অতি মুনাফা করছে।’

আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি তদারকি করা হবে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মুনাফার লোভে ডলার কিনে মাথায় হাত
ডলার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: গভর্নর
ব্যাংকেও সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে ডলার
ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি
খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inflation is taking away the extra income of garment workers

মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়

মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়
সানেমের জরিপের তথ্য বলছে, পোশাক শ্রমিকরা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করছেন। বেতন ও ওভারটাইম মিলে আয় বাড়লেও বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে তা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

করোনা মহামারি কাটিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম বাড়লেও তা খেয়ে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। কারণ এ সময়ে চালে ব্যয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ আর বাড়িভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

পোশাক শ্রমিকরা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করছেন। গড়ে ১০ ঘণ্টার শ্রমে ভালো পারিশ্রমিক আসছে। এর সঙ্গে আছে ওভারটাইম। বেতন ও ওভারটাইম মিলে আয় বাড়লেও বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে তা পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং (সানেম) এবং পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ চ্যানেল দ্য গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিসের (জিডব্লিউডি) যৌথ জরিপের এ তথ্য বৃহস্পতিবার তুলে ধরে সানেম।

জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন সানেম চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার এবং জিডব্লিউডির মাঠ ব্যবস্থাপক ফারাহ মারজান।

জরিপে শ্রমিকদের এ সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে সপ্তাহভিত্তিতে শ্রমিকদের গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা এবং শ্রমিকদের কাছে থাকা ডায়েরি থেকে নেয়া হিসাবের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপে উঠে আসা ফল থেকে ব্র্র্যান্ড-ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও মালিক পক্ষ যাতে নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিতে পারে সে ব্যাপারে সহায়তা দেয়াও জরিপের উদ্দেশ্য।

এক হাজার ৩০০ শ্রমিক জরিপে অংশ নেন, যাদের ৭৬ শতাংশই নারী। জরিপ এলাকা ছিল ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রাম।

জরিপে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২০ সালের এপ্রিলে লকডাউন শুরুর পর থেকেই শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা বেড়েছে। এতে বেতনের সঙ্গে ওভারটাইমসহ শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ আয় বেড়েছে তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে চালের দাম।

এ সময়ে শ্রমিকরা যে ধরনের চাল কিনে থাকেন সেগুলোর দর বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এ সময়ে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

জরিপের সাক্ষাৎকারে একজন শ্রমিক জানান, করোনা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় এখন তারা ভালো আছেন। কারণ করোনার আগে কারখানায় কাজ কম ছিল। এ কারণে বেতনও নিয়মিত ছিল না। প্রতি মাসে বেতনের অর্ধেকের মতো খাওয়া বাবদ খরচ হয়ে যেত। এখন নিয়মিত বেতন পান তিনি।

জরিপে দেখা যায়, করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন অন্তত ৮০ শতাংশ শ্রমিক। নারী শ্রমিকদের মধ্যে এ হার ৭৭ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ডোজ কত শ্রমিক পেয়েছেন সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

করোনাকালে মাত্র ১০ শতাংশ শ্রমিক তাদের সন্তানের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতে রপ্তানি আদেশ অনেক বেড়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন উদ্যোক্তারা। এতে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এ কারণে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করাতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের দেয়া প্রণোদনার আওতায় ডিজিটাল মাধ্যমে বেতন পেতেন শ্রমিকরা।

২০২০ সালের এপ্রিলে ৭৬ শতাংশ বা প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক এ ব্যবস্থায় যুক্ত ছিলেন। তবে তার তিন মাস পরই আবার নগদ বেতন পরিশোধের পদ্ধতিতে ফিরে গেছেন মালিকরা। এখন তা ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

কী কারণে ডিজিটালাইজেশনের এ প্রক্রিয়া থেমে গেল তা জেনে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:
প্রতিবন্ধিতা জরিপ: পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে সমাজসেবার সমন্বয় দাবি
করোনার ধাক্কা সামলেছে ৬০ ভাগ প্রতিষ্ঠান: সানেম
ভূমি জরিপের ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Emphasis on remittances is increasing in the next budget of the government

রেমিট্যান্সে জোর সরকারের, আগামী বাজেটে বাড়ছে প্রণোদনা

রেমিট্যান্সে জোর সরকারের, আগামী বাজেটে বাড়ছে প্রণোদনা পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ানোর ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আমরা এবার এই প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে তিন শতাংশ করব।’

নতুন বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ৩ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রতিবন্ধীদের ভাতা ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সব ধরনের ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

৯ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল। এটি দেশের ৫১তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২২তম এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীর তৃতীয় বাজেট।

নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার নিজ বাসভবনে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নতুন বাজেট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘নতুন বাজেটের আকারসহ অন্যান্য বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলবেন। আমার এ বিষয়ে বলা ঠিক হবে না। তবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ানোর ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আমরা এবার এই প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে তিন শতাংশ করব।

‘একই সঙ্গে বয়স্ক, বিধবা ভাতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধীসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন ভাতার আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। দেশের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী যাতে এসব ভাতা পান তার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিবন্ধীদের ভাতা ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার অনুরোধ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী অবশ্যই এটি বিবেচনা করবেন বলে আশা করছি।’

২০১৯-২০ অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ২০২১ সাল পর্যন্ত ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হয়। ওই সময় পর্যন্ত প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণোদনা পেতেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়। প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে আড়াই টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন।

নতুন বাজেটে প্রণোদনা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হলে আগামী ১ জুলাই থেকে ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ৩ টাকা প্রণোদনা পাওয়া যাবে।

রেমিট্যান্সে জোর সরকারের, আগামী বাজেটে বাড়ছে প্রণোদনা

সরকারের প্রণোদনার পাশাপাশি প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত প্রণোদনা দেয়ার জন্য নতুন বাজেটে আহ্বান জানানো হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল কেন্দ্র করে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণেও ফুরফুরে মেজাজে আছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি। আমাদের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এসব দেশে কাজ করেন। গত এক বছরে কয়েক লাখ লোক নতুন করে সেখানে গেছেন। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে আমাদের রেমিট্যান্স আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।’

মান্নান বলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর এতে অবদান রেখেছে তিনটি খাত- কৃষি, শিল্প ও রেমিট্যান্স। করোনা অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রপ্তানি আয়ে ৩৬ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রেমিট্যান্স কমলেও কয়েক মাস ধরে বাড়ছে। রোজার ঈদের আগে এপ্রিল মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সামনে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেও রেমিট্যান্স বাড়বে।

‘আমদানি বাড়ার পরও আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এরপরও যারা বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করেন, তারা বিজ্ঞানসম্মত কথা বলছেন না।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তবে গতকাল (বুধবার) কিছুটা স্বস্তির তথ্য দিয়েছে আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরো। বিবিএস বলেছে, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে।’

‘বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এখন মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখাটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। নতুন বাজেটে এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় গরিব মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি কৃষির উৎপাদন বাড়াতে সার, সেচ, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে।’

বিবিএসের হিসাবে এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারের উত্তাপ বিবিএসের তথ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে না; বাস্তবে মূল্যস্ফীতি এর চেয়ে অনেক বেশি।

এ বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘বিবিএস সারা দেশ থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতেই মূল্যস্ফীতির হিসাব করে থাকে। এখানে অন্য কোনো কিছু ভাবার কারণ নেই। তবে এ কথা ঠিক যে বিবিএস ২০০৫-০৬ অর্থবছরকে ভিত্তি বছর ধরে মূল্যস্ফীতির হিসাব করে। ভিত্তি বছরটা অনেক পুরোনো। আমরা খুব শিগগিরই এই ভিত্তি বছর পরিবর্তন করব।’

নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কত ধরা হবে-এ প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, বাজেটের আকার, জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ভাবছেন; আমি আমার মন্ত্রণালয়ের অধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কথা বলতে পারি। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (এনইসি) সভায় আড়াই লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন এডিপিতে মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

‘চলতি অর্থবছরের ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) হিসাবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ১২ মাসের পুরো হিসাব পাওয়া গেলে সেটা হয়তো সাড়ে ৭ শতাংশ হতে পারে; ৮ শতাংশে গিয়েও পৌঁছাতে পারে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই ইতিবাচক ধারা বিবেচনায় রেখেই অর্থমন্ত্রী নতুন বাজেটের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন।’

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে রেমিট্যান্সে স্রোত
১৩ দিনেই ৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে ঢল
৮ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স মার্চে
রোজা সামনে রেখে বাড়ছে রেমিট্যান্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister directed an emergency meeting to take up the economy

অর্থনীতি নিয়ে জরুরি বৈঠকের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অর্থনীতি নিয়ে জরুরি বৈঠকের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে বসে মন্ত্রিসভা। ছবি: পিআইডি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘একসঙ্গে বসে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী করা যায় তা ঠিক করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে বসে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করেছে তা মোকাবিলায় অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে একসঙ্গে বসে করণীয় ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রিসভা বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে বসে মন্ত্রিসভা। সভায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘একসঙ্গে বসে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী করা যায় তা ঠিক করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে বসে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ে ডিটেইল আলোচনা হয়েছে। কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রিকে কতগুলো ইন্সট্র্যাকশন দেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত এবং কম্প্রিহেনসিভ ব্যবস্থা নিয়ে সবার কাছে তুলে ধরার জন্য।

‘বিশেষ করে কীভাবে আমরা এই যে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে বা সাপ্লাই কমে যাচ্ছে, এই জিনিসগুলো কিভাবে হ্যান্ডেল করতে পারব। কোন জায়গায় রেস্ট্রিকশন দিলে ভালো হবে বা ওপেন করলে ভালো হবে। এগুলো দু-তিন দিনের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তুলে ধরতে হবে। প্লাস ডলারের যে ক্রাইসিস হচ্ছে এটা কিভাবে সলভ করা যায় এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বসে দু-তিনদিনের মধ্যে প্রেসের সামনে বসার জন্য।’

আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে বলেও জানান তিনি।

আমদানিতে ব্যাপক কাট-ছাঁটের ইঙ্গিত
আমদানি করা পণ্যে ট্যাক্স আরোপের বিষয়ে ব্যাপক কাট-ছাঁটের ইঙ্গিত দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘তাদের বলা হয়েছে, এই সিনারিওতে আমাদের কী করণীয়, যেমন মনে করেন আপনি একটি সাজেশন দিলেন ফল আনার মধ্যে ট্যাক্স বাড়িয়ে দেন যাতে ফল বেশি না আসে। এখন বৈশাখ মাস, এখন তো আমার আম-জাম-কাঁঠাল পর্যাপ্ত থাকবে। এরকম একটি সাজেশন আপনি দিলেন এটা বিবেচনা করে লজিক্যাল কিনা সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া।

‘৮ বা ৯ হাজার কোটি টাকার ফল আসে বছরে। ৯ হাজার কোটি টাকা ইজ মোর দ্যান ওয়ান বিলিয়ন ডলার। এখন ট্যাক্স যদি সাময়িকভাবে বাড়ানো হয় বা অন্য যে ফ্যান্সি আইটেমগুলো আছে সেগুলোতে ট্যাক্স বাড়ান, এই বিষয়গুলো আলোচনা করে দুই-তিনদিনের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।’

উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনা করতে গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছেও আমাদের একটি আবেদন যে, গঠনমূলক জিনিসগুলো আলোচনা করতে হবে। এই যে কোভিড রিকভার করা যাচ্ছিল কিন্তু ইউরোপের যে যুদ্ধটা এটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইকোনোমিক ক্রাইসিস শুধু না সাপ্লাইয়েরও একটি ক্রাইসিস হচ্ছে। কারণ রাশান দেশগুলো হলো ফুড এবং এনার্জি সাপ্লাইয়ে সারপ্লাস।

‘এখন এখান থেকে যদি না বের হতে পারে ফুড এবং এনার্জি তাহলে সারা পৃথিবীই কিন্তু ভুগছে। কালই দেখলাম নাইন পারসেন্ট ইনফ্লেশন হয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে। আমেরিকাতে এইট পারসেন্টের বেশি। আমরা তো ওয়ার্ল্ডের বাইরে না। সেক্ষেত্রে আমাদেরও হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও রেশনাল বিহেভ করতে হবে সেজন্য আমরা মিডিয়াকে অনুরোধ করব এটাই একটু পজিটিভ ওয়েতে প্রচার করার জন্য। আমরা সবাই যেন একটু সাশ্রয়ী থাকি বা রেশনাল থাকি।’

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গৌতম ঘোষ
প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি
উন্নতি দেখতে গ্রাম ঘুরে আসুন, সমালোচকদের প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গ্রন্থাগারের ভিত্তি স্থাপন
বুদ্ধের আদর্শে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ায় ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The central bank in the field to control the value of the dollar

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে চারটি তদারকি টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে। অলংকরণ: মামুন হোসাইন
সরকার থেকে আভাস মিলেছে, কার্ব মার্কেটের মতো ইচ্ছেমতো দামে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে চারটি তদারকি টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে।

ডলারের বাজার স্বাভাবিক করতে এবার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারটি পরিদর্শক দল।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বা ব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার কেনা-বেচা নিয়ে শোরগোলের মধ্যে এ পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ খবর নিশ্চিত করেছেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিদর্শন চলবে।’

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে কিছুদিন ধরেই। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ওইদিন এক ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। বুধ ও বৃহস্পতিবারও একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত।

এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ সোমবার এক লাফে ৮০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়।

বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে এক ডলার কিনতে খরচ হয়েছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা, অগ্রণী ব্যাংকে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায় এবং সোনালী ব্যাংকে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সায় ডলার বেচাকেনা হয়েছে।

এই ডামাডোলে মঙ্গলবার কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১০০ টাকা অতিক্রম করলে হইচই পড়ে যায় গোটা দেশে। এদিন টাকার বিপরীতে ডলার বেচাকেনা হয় ১০৪ টাকা পর্যন্ত।

অবশ্য বুধবার তা কমে ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার আরও কমে ৯৬ টাকায় চলে লেনদেন।

বাড়তি মুনাফার আশায় যারা খোলাবাজার থেকে ১০০ টাকার বেশি দরে ডলার কিনেছিলেন তাদের এখন মাথায় হাত। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা ডলার হোঁচট খেয়ে এখন উল্টো দিকে হাঁটছে।

তবে ব্যাংকগুলো বৃহস্পতিবারও বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক নির্ধারিত রেটের চেয়ে ১০ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সাড়ে ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা বেশি দামে বিক্রি করেছে আমেরিকান ডলার।

সরকার থেকে আভাস মিলেছে, কার্ব মার্কেটের মতো ইচ্ছেমতো দামে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে চারটি তদারকি টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা কয়েকটি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুপুর থেকে শুরু করেন ট্রেজারি ও ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের নথি ও ডলার সংগ্রহের অনলাইন ও নগদে বেচাকেনার তথ্য যাচাইয়ের কাজ।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিনিময় হার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি সরেজমিনে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য চারটি টিম কাজ করছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ব্যাংক রেট আর ব্যাংকগুলোর ডলার বিক্রির রেটের মধ্যে এতো বেশি ব্যবধান কোনোভাবেই ‘কাম্য’ নয় উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদা মোতাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে।

‘বাজারে কোনো ধরনের সংকট নেই। তাই ব্যাংকগুলো যেন আর বেশি দামে ডলার বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই টিম চারটি কাজ করবে।’

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ নয়
তিন বছরের জন্য কৃষি ঋণ পুনঃতফসিলে সুযোগ
ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না
পুনঃতফসিল ঋণ আদায় ছাড়া সুদ আয় খাতে নয়
জাল নোট প্রতিরোধে ভিডিও প্রচারের নির্দেশ

মন্তব্য

উপরে