× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
50 of traders are defaulters if benefits do not increase FBCCI
hear-news
player

সুবিধা না বাড়লে ৫০ ভাগ ব্যবসায়ীই খেলাপি: এফবিসিসিআই

সুবিধা-না-বাড়লে-৫০-ভাগ-ব্যবসায়ীই-খেলাপি-এফবিসিসিআই মতবিনিময় সভায় শনিবার কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, করোনা মহামারির মধ্যে এখনও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অন্তত জুন পর্যন্ত সময় দাবি করেন তারা।

ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ না বাড়ালে অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ীর খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

শনিবার কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টস ২০২২-এর মতবিনিময় সভায় এমন আশঙ্কার কথা জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টসের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সারা দেশ থেকে আসা জেলা, সিটি ও নারী উদ্যোক্তাদের চেম্বারগুলোর সভাপতি, সহসভাপতিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, করোনা মহামারির মধ্যে এখনও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অন্তত জুন পর্যন্ত সময় দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর এখন ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণে আবারও ব্যবসা-বাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিত তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর ঋণের কিস্তি দেয়ার সক্ষমতা নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সময় না বাড়ালে ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই খেলাপি হবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ না বাড়ালে অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হবেন।

‘তাই মহামারিকালীন মন্দা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি দরকার। তা না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে যেসব খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল, সে খাতগুলোই এখনও প্রণোদনার ঋণ পায়নি। মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কিন্তু অন্যান্য প্রণোদনা তহবিলের অর্থ প্রায় শতভাগ ছাড় হলেও এসএমই প্রণোদনার বড় অংশ বিতরণ হয়নি।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ছোট আকারের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর অনীহা আছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো মনে করে ছোট আকারের ঋণ দেয়া লাভজনক নয়। বড় ব্যবসা খাতে ঋণ দিলে ব্যাংকের জনবল ও খরচ কম হয়। কিন্তু এ ধারণা ভুল, বরং এতে মন্দ ঋণের ঝুঁকি বাড়ে। এসএমই খাতে খেলাপি ঋণ নেই বললেই চলে।’

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে বেসরকারি খাতকে রাখার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে ৮২ শতাংশ অবদান রাখছে বেসরকারি খাত। তাই বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে যেকোনো নীতি প্রণয়নে এফবিসিসিআইয়ের মতামত থাকা জরুরি।’

এফবিসিসিআই সভাপতিকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দাবি

কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টস সভায় সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন চেম্বারের নেতারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা বাস্তবতা না বুঝে নিজেদের মতো করে নীতি প্রণয়ন করেন। ফলে অনেক সময় এসব নীতি বাস্তবায়নযোগ্য হয় না। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী সভায় এফবিসিসিআইয়ের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকতে হবে। এফবিসিসিআইকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাই এফবিসিসিআইকে শক্তিশালী করতে সংগঠনের সভাপতিকে তারা প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদা দেয়ার দাবি তোলেন।

নানা অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘দেশে এখনও শুল্ক-কর ও ভ্যাট আদায়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোম্পানি আইন, আমদানি ও রপ্তানি আইন নতুন করে হচ্ছে। এসব আইন যেন ব্যবসাবান্ধব হয়, সে জন্য এফবিসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে।’

এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেও রাজস্ব আদায় করতে নানাভাবে তাদের নানাভাবে হয়রানি ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজিরও শিকার হচ্ছেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও জেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ অনেকের। তারা জানান, এসব কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষের মহামারি-পরবর্তী উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া অডিটে সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট বাস্তবায়ন হলে তা পুরো অর্থনীতিতে বিপর্যয় আনবে বলেও মত দেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, কারখানা স্থাপনে ৩৩টি লাইসেন্সের দরকার হয়। এসব সনদ নিতে বিপুল পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয় উদ্যোক্তাদের।

এই সমস্যা সমাধানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে টার্নওভার ট্যাক্সের বিধান বাতিল করে শুধু আয়ের ওপর কর আরোপের দাবি জানান তারা।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বেলাল, রাজশাহী ওমেন চেম্বারের সহসভাপতি তাহেরা হাসেন, সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গোলাম জাকারিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের সভাপতি আজিজুল হক প্রমুখ।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. রেজউল করিম রেজনু, তাহমিন আহমেদ, প্রীতি চক্রবর্তী, মো. নিজাম উদ্দিন, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা
বাণিজ্য বাড়াতে এফবিসিসিআইর সহায়তা চায় ভারত
নতুন শিল্পনীতিতে সেবা খাত উপেক্ষিত: এফবিসিসিআই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Container tracking is mandatory for transportation of imported goods

আমদানি পণ্য পরিবহনে কন্টেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক

আমদানি পণ্য পরিবহনে কন্টেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক
কন্টেইনার ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আমদানি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতে আমদানি মূল্যও পরিশোধে ঝুঁকি থাকে না। ট্রাকিংয়ে কোনো সন্দেহ হলে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ পাবে ব্যাংক। এ কারণে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রপ্তানির পর এবার আমদানি পণ্য পরিবহনেও কন্টেইনার ট্রাকিং বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে ব্যাংকগু‌লো‌র কো‌নো আমদানি পণ্যের মূল্য প‌রি‌শোধ কর‌তে হ‌লে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাসেল ও কন্টেইনার ট্র্যাক কর‌তে হ‌বে।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট’ আমদানি মূল্য পরিশোধে ঝুঁকি কমা‌তে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জা‌রি ক‌রে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে পাঠিয়েছে।

এমন এক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা দিল, যখন আমদানিতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেকে সন্দেহ করছেন। তাই আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা ক্ষতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কন্টেইনার ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আমদানি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে ব্যাংকগুলো। এতে আমদানি মূল্যও পরিশোধে ঝুঁকি থাকে না। ট্রাকিংয়ে কোনো সন্দেহ হলে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ পাবে ব্যাংক। এ কারণে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ধারাবাহিক আমদানি ব্যয় পরি‌শো‌ধের চাপে ডলারের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। ফলে অস্থির হয়ে গেছে ডলারের বাজার। বিক্রি করেও ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার এক দিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৮০ পয়সা। আর গত ২০ দিনে ব্যবধানে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয় এক টাকা ৩০ পয়সা।

বর্তমানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। ত‌বে ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে।

ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা আরও চড়া দরে। মঙ্গলবার এই বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

এর আগে গত ২০ এপ্রিলেরর এক নির্দেশনায় রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাকিং পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
NCC Bank will introduce Islamic banking

ইসলামি ব্যাংকিং চালু করবে এনসিসি ব্যাংক

ইসলামি ব্যাংকিং চালু করবে এনসিসি ব্যাংক এনসিসি ব্যাংকের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা
এনসিসি ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করব। এ জন্য আমাদের একটি নির্ধারিত শাখা থাকবে। তবে গ্রাহক সব শাখায় এ সেবা নিতে পারবেন।’

বাজার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জে টিকে থাকতে প্রচলিত ধারার অনেক ব্যাংক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে যাচ্ছে। কিছু ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিং শুরু করেছে। কেউ কেউ আলাদা শাখা ও উইন্ডো খুলে ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।

এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড (এনসিসি)। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও মিলেছে। খুব শিগগিরই ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো খুলে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে ব্যাংকটি।

এনসিসি ব্যাংকের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করব। এ জন্য আমাদের একটি নির্ধারিত শাখা থাকবে। তবে গ্রাহক সব শাখায় এ সেবা নিতে পারবেন।’

বর্ষপূ্র্তি উপলক্ষে ব্যাংকটি নতুন তিনটি সেবা চালু করেছে জানিয়ে এমডি বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা বেগবান করছেন, তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা ‘এনসিসি ব্যাংক এনআরবি গৃহ ঋণ এবং এনসিসি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ’ নামে দুটি সেবা চালু করেছি। এ ছাড়া ‘মাইক্রো এটিএম’ নামে আমাদের গ্রাহকরা বিভিন্ন আউটলেটে পস মেশিন থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।“

২০২১ সালে এনসিসি ব্যাংক ৭০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে জানিয়ে এমডি মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘দেশব্যাপী ১২৫টি পূর্ণাঙ্গ শাখা এবং ছয়টি উপশাখার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাহকসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। আগামী দিনে দেশের শীর্ষ পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এনসিসি ব্যাংককে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

শেয়ারবাজারে এনসিসি ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এনসিসি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনসিসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড দেশের পুঁজিবাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে ভূমিকা রাখছে।

‘আমরা শুধু মুনাফায় বিশ্বাসী না। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিগত বছরগুলোতে আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সিএসআর কার্যক্রম আরও বেশি সম্প্রসারিত করেছি। সারা দেশে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু ও করোনা মোকাবিলায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করেছি।’

ব্যাংকের খেলাপি ও মন্দ ঋণের আকার কমিয়ে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে দাবি করে মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমেও ব্যাংকের পাওনা পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’

রেমিট্যান্স সম্পর্কে ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নিরাপদ, দ্রুততম ও সহজতম উপায়ে দেশে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এনসিসি ব্যাংক নিজস্ব ১২৫টি শাখা এবং ছয়টি উপশাখার পাশাপাশি টিএমএসএসের ৯০০টি শাখা, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ২৫৬ শাখা, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ২৫০টি শাখা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৮৯টি শাখা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৩৮৩টি শাখা তথা মোট ১ হাজার ৮৭৮টি শাখার মাধ্যমে রেমিট্যান্সের অর্থ প্রদান করছি।’

ব্যাংকের এমডি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মোতাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বেতনের চারটি গ্রেড কমিয়ে একটি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার উন্নতির জন্য অফিসার পর্যায়ে তিনটি পদ কমিয়ে দুটি করেছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি বছরের মার্চ শেষে এনসিসি ব্যাংকের আমানত ১৯ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। ঋণ দিয়েছে ১৯ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। বিনিয়োগ ৪ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মন্দ ঋণের হার ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার নাইমুল কবির, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আশেক রহমান, মাহবুব আলম, রাহাত উল্লা খান, জাকির আনাম ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মশালা
আরটিজিএসে যুক্ত হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান
প্রবাসীদের বিদেশি মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ
ইস্টার্ন ব্যাংকের জরিমানা মওকুফের আবেদন নাকচ
ইসলামী ব্যাংকের ঈদ পুনর্মিলনী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The price of gold increased to 1650 rupees

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ১৭৫০ টাকা

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ১৭৫০ টাকা
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

স্বর্ণের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। অন্য মানের স্বর্ণের দামও প্রায় একই হারে বেড়েছে।

বুধবার থেকে নতুন দর কার্য‌কর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি -বাজুস।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ মার্চ দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তার চার দিন আগে ৪ মার্চ বাড়ানো হয়েছিল ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা।

এরপর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় গত ১৫ মার্চ দেশের বাজারে ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ২১ মার্চ কমানো হয় ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা।

কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় গত ১১ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ২৫ এপ্রিল প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। সবশেষ ১০ মে একই পরিমাণ কমানো হয়েছিল।

দুই দফায় ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা কমানোর পর মঙ্গলবার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। বুধবার থেকে এই নতুন দর কার্য‌কর হবে।

দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মুহূর্তে গোল্ডের দাম ওঠানামা করছে। এই বাড়ছে তো, ওই কমছে। গত এক সপ্তাহে দাম খানিকটা বেড়েছে। একইসঙ্গে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে বেশ খানিকটা। সে কারণে সবকিছু হিসাব করে আমরাও গোল্ডের দাম বাড়িয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মুহূর্তে বাজার পর্যবেক্ষণ করি। এখন বিশ্ববাজারে দাম কমেছে; আমরাও কমিয়েছি। দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে আসলে বিশ্ববাজারের ওপর।’

বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, ২.৬৫ ভরি) স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩২ ডলার ৪২ সেন্ট। তিন দিন আগে এই দর কমতে কমতে ১ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে এসেছিল। সোমবার থেকে তা ফের বাড়ছে।

সবশেষ ১০ মে যখন স্বর্ণের দাম কমানো হয়, তখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ছিল ১ হাজার ৮৫৬ ডলার ৪৬ সেন্ট।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বাড়তে বাড়তে ২ হাজার ৬০ ডলারে উঠেছিল।

বুধবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে লাগবে ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ ৭৬ হাজার ৫১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ১ হাজার ৭৫০ টাকা।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৭০৮ টাকা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ৭৩ হাজার ১৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই মানের স্বর্ণ।

১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৪ হাজার ৩৬ টাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬২ হাজার ৬৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়ে ৫৩ হাজার ৩৬৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। গত সাত দিন ধরে ৫২ হাজার ১৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি হবে এই ধাতু।

আরও পড়ুন:
বাজুস সদস্য ছাড়া স্বর্ণালংকার না কেনার পরামর্শ
স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা
বিমানের ভেতর কাপড়ে লুকানো ছিল ১০ কেজি স্বর্ণ
শাহজালালে বিমান থেকে ৮৮ স্বর্ণবার জব্দ
বিপুল স্বর্ণসহ আমেরিকান পাসপোর্টধারী নারী আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dollar Century in the open market

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি দর বাড়ছে ডলারের
৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খোলা বাজারে বেড়েছে আরও বেশি। আর ব্যাংকের বাইরে এখন ডলার পাওয়াই যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার এই বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খোলা বাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই প্রতি দিনই দর বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডলার পাচ্ছি না। আজ আমি এক ডলারও কিনতে পারিনি। তাই কোনো ডলার বিক্রিও করতে পারছি না।’

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। মঙ্গলবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকও ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫২০ কোটি (৫.২০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণেই দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমদানি কমাতেই হবে

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারকে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম ওঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ৫০ শতাংশের মতো। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

ডলারের ব্যয় কমাতে সরকার এরই মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিলাস দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আমদানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলো জরুরি নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন হবে বেছে বেছে। যেসব প্রকল্প এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন না করলেই নয়, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন:
ডলারের পাগলা ঘোড়ার দাপটে টাকার রেকর্ড দরপতন
রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ডলার ছেড়েও অস্থির বাজার
আরও দুর্বল হলো টাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Banks open on Saturday in the interest of Hajj pilgrims

হজযাত্রীদের স্বার্থে শনিবার ব্যাংক খোলা

হজযাত্রীদের স্বার্থে শনিবার ব্যাংক খোলা হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শনিবার খোলা থাকবে। ফাইল ছবি
‘শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন পূর্ণ দিবস হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা বা উপশাখা খোলা রাখতে হবে।‘

হজ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আগামী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা-উপশাখা খোলা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন পূর্ণ দিবস হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা বা উপশাখা খোলা রাখতে হবে।‘

এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
৩১ মে হজ ফ্লাইট শুরুতে অনিশ্চয়তা
হজযাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা
সহজের প্রকৌশলী যেভাবে টিকিট কালোবাজারিতে
হজ ফ্লাইট ৩১ মে থেকে
হজ ব্যবস্থাপনায় দুই কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The wings of the planning minister have been cut

‘ডানা কাটা’ হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রীর

‘ডানা কাটা’ হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রীর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ফাইল ছবি
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ক্ষমতা কমানো হয়েছে, আমার ডানা কাটা হয়েছে।’

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো হয়েছে। আগে কারিগরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেকোনো অংকের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা ছিল পরিকল্পনামন্ত্রীর। এখন তা কমিয়ে ৫০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন পরিপত্রে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে নতুন পরিপত্রে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমার ক্ষমতা কমানো হয়েছে, আমার ডানা কাটা হয়েছে।’

পরিপত্রে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘আগে যেকোনো কারিগরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেকোনো অংকের প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারতেন পরিকল্পনামন্ত্রী, এখন সেটা ৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৫০ কোটির বেশি কোন কারিগরি প্রকল্প হলে তা অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করতে হবে।’

অর্থাৎ এখন থেকে কারিগরি প্রকল্প কিংবা বিনিয়োগ প্রকল্প সবক্ষেত্রেই ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পের ব্যয় হলেই তা একনেকে অনুমোদন নিতে হবে।

পরিপত্রের অন্যান্য পরিবর্তন বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি বিষয়ে আগে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় দুই দফায় দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারত। এখন মন্ত্রণালয় এক বছর বাড়াতে পারবে। এর বেশি প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা কমিশনের কাছে আসতে হবে।

‘এডিপি রিভিউ সভা যেগুলো উদ্যোগী মন্ত্রণালয় করে থাকে, সেগুলোর বিষয়ে ক্লিয়ার কোনো ইন্সট্রাকশন ছিল না। এখন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করতে হবে সচিবের নেতৃত্বে। প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতি ছয় মাসে একবার এসব মিটিং পরিবীক্ষণ করবেন।’

সচিব বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্পের ক্ষেত্রে আগে একবার মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ ছিল। এখন সেটা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনবোধে একের অধিক বার মেয়াদ বাড়ানো যাবে।’

দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা ছিল, সেগুলো নতুন পরিপত্রে সংযোজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কা হবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inflation record in India

ভারতে মূল্যস্ফীতির রেকর্ড

ভারতে মূল্যস্ফীতির রেকর্ড ভারতে মূল্যস্ফীতি এক দশকের রেকর্ড ভেঙেছে। ছবি: সংগৃহীত
এপ্রিলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ সবজির দাম বৃদ্ধি। সবজির মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিলে ২৩.২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা মার্চ মাসে ১৯.৮৮ শতাংশ ছিল।

ভারতে মূল্যস্ফীতি ক্রমেই বাড়তে বাড়তে এক দশকের রেকর্ড ভেঙেছে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১৫.০৮-এ পৌঁছেছে, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

গত ফেব্রুয়ারিতে এটি ছিল ১৩.১১ শতাংশ, আর মার্চে ১৪.৫৫ শতাংশ।

গত বছরের এপ্রিলে ছিল ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ১৩তম মাস পাইকারি মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ।

খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ সবজির দাম বৃদ্ধি। সবজির মূল্যস্ফীতির হার এপ্রিলে ২৩.২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা মার্চ মাসে ১৯.৮৮ শতাংশ ছিল। আলুর দাম বেড়েছে ১৯.৮৪ শতাংশ। তবে পেঁয়াজের দাম ৪.০২ শতাংশ কমেছে।

ফলের দামও মার্চ মাসে ১০.৬২ শতাংশ থেকে ১০.৮৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গমের দামে ১০.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা গত মাসে প্রায় ১৪.০৪ শতাংশ ছিল। ডিম, মাংস ও মাছের দাম মার্চে ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৪.৫০ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম মার্চে ৩৪.৫২ শতাংশ থেকে এপ্রিলে গিয়ে ছুঁয়েছে ৩৮.৬৬ শতাংশ। এপ্রিল মাসে হাইস্পিড ডিজেলের দাম ৬৬.১৪ শতাংশ এবং এলপিজির দাম বেড়েছে ৩৮.৪৮ শতাংশ।

কারখানাজাত পণ্যের দাম মার্চে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়েছে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার ছিল প্রাথমিকভাবে খনিজ তেল, মৌলিক ধাতু, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস, খাদ্যসামগ্রী, অখাদ্যসামগ্রী, খাদ্যপণ্য এবং রাসায়নিক ও রাসায়নিক পণ্য ইত্যাদির দাম বৃদ্ধির কারণে।

আরও পড়ুন:
মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত দাম বাড়ছে জিনিসপত্রের
বাড়ছে মূল্যস্ফীতি, শহরের চেয়ে নাজুক গ্রাম
রাশিয়ায় অবরোধের খড়গ ব্রিটিশদের জীবনমানে
মূল্যস্ফীতি সরকারি হারের দ্বিগুণেরও বেশি: সানেম
আমাদের তথ্য বিশ্বব্যাংক বিশ্বাস করে: সানেমকে অর্থমন্ত্রী

মন্তব্য

উপরে