× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Corona Highest death since October
hear-news
player
print-icon

করোনা: অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ মৃত্যু

করোনা-অক্টোবরের-পর-সর্বোচ্চ-মৃত্যু
দেশে কয়েক দিন ধরে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা
করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা গেল বছরের ৯ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ওই দিন ২০ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গেল ২৪ ঘণ্টায় মৃতের এ সংখ্যা গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ওই দিন ২০ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে কয়েক দিন ধরে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬১৪ জনের শরীরে।

এখন পর্যন্ত সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ জনের দেহে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯ জন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২০৯ জনের।

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাড়ানোর পর প্রায় প্রতিদিনই এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। টানা ১৬ দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৩৪ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পাওয়া গেছে ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত কিছুটা কমে এসেছে।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি হলেও তৃতীয় ঢেউয়ের আগে এ হার বেশ কম।

প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো তৃতীয় ঢেউয়েও রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় যত রোগী পাওয়া গেছে, তার ৮০ শতাংশের বেশি পাওয়া গেছে ঢাকায়। ২৪ হাজার ১০৩টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হওয়া ৭ হাজার ৫৬ জনই এ বিভাগের।

গত এক দিনে দেশের ৮৫৭ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩৪ হাজার ৩১১টি। শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ০২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ১১ ও নারী ছয়জন। এদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২, ষাটোর্ধ্ব ৬ ও সত্তরোর্ধ্ব ৮ জন।

গত এক দিনে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছে ১১ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২, খুলনায় ২, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে এক দিনে শনাক্ত ৩ লাখ ৩৭ হাজার
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম
করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ
টিকা কার্ডের শর্তে রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Extreme indifference to wearing a mask also ebbs in sales

করোনা বাড়লেও মাস্কে অনীহা

করোনা বাড়লেও মাস্কে অনীহা করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলও মানুষের মধ্যে মাস্ক পরায় আগ্রহ নেই। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, ‘সংক্রমণের হার এখনও ১৫ শতাংশের নিচে। এটি ২০ শতাংশের বেশি হলে অবশ্যই বিধিনিষেধ দেয়া হবে। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার। অথচ করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরা নিয়ে মানুষের মধ্যে নেই আগ্রহ। অনেকের ধারণা, করোনার টিকা নেয়ার ফলে মাস্ক পরার দরকার নেই। বেশিরভাগ মানুষের এ নিয়ে রয়েছে উদাসীনতাও। একই সঙ্গে মাস্ক পরা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম থাকায় কমেছে মাস্কের বিক্রি।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, মগবাজার ঘুরে মানুষের মাস্ক না পরার এমন প্রবণতার চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে দেখা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইসতিয়াক মিয়ার সঙ্গে। মুখে মাস্ক নেই কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরতে ভুলে গেছি। আর অনেক দিনের অভ্যাস তো, তাই মাঝে মাঝে ভুলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকা তো নিয়েছি, তাই মাস্ক পরা নিয়ে আমার তেমন মাথাব্যাথা নেই।’

একই অবস্থা দেখা গেল হাতিরঝিলে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আব্দুল মালেকের বেলায়ও। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবসময়ই মাস্ক পরি। আজ বেড়াতে আসছি তো তাই মাস্ক পরা হয়নি। আর আমি তো তিন ডোজ টিকাও নিয়েছি। তাই মাস্ক পরা নিয়ে তেমন একটা ভাবছি না।’

মাস্ক পরা নিয়ে অবশ্য ভিন্নমত রয়েছে মগবাজারের বাসিন্দা আরমান শেখের। তার দাবি, মাস্ক পরলেও করোনা ঠেকানো যাবে না।

তিনি বলেন, ‘মরণ যখন আসবে তা কেউ ঠেকাতে পারবে না। মাস্ক পরলেই কী করোনা ঠেকানো যাবে? মাস্ক পরে কী হবে? কিছুই হবে না। কপালে যা আছে তাই হবে।’

এ দিকে মাস্ক নিয়ে মানুষের উদাসীনতার বিষয়টির প্রভাব পড়েছে মাস্ক বিক্রির দোকানগুলোতেও। সেখানে আগের মতো মাস্ক বিক্রি হচ্ছে না।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পাইকারি মাস্ক বিক্রেতা সেন্টু বেগ বলেন, ‘যখন করোনা খুব বেড়েছিল তখন দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাস্ক বিক্রি করতাম, আর এখন তা ৩-৪ হাজারে নেমে এসেছে।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মগবাজারের মা ফার্মেসির মালিক সবুজ। তিনি বলেন, ‘আগের মতো মাস্ক বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ ধারণা করছে, টিকা যেহেতু নেয়া হয়েছে তাই মাস্ক পরার দরকার নেই। আগে ৫০-৬০ বক্স মাস্ক বিক্রি করলেও এখন তা ১০-১৫ বক্সে নেমে এসেছে।’

বিশেজ্ঞরা যা বলছেন

রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা বাড়ছে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা চলে আসার জন্য। সারা দেশেই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এ ছাড়া জনসমাবেশ ও বিয়ের অনুষ্ঠান বেড়েছে। সেখানে তারা ফেস মাস্ক পরছে না, মানা হচ্ছে না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব।’

প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণ আরও অনেক বেশি বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘প্রতিদিন যে সংক্রমণের হার দেখছেন, প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণ আরও বেশি। একজনের শনাক্ত হলে, আরও পাঁচজন শনাক্তহীন হয়ে ঘুরে বেড়ায়।’

ড. আলমগীর বলেন, ‘আগের মতো সবাই মিলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা যায় খুব শিগগিরই সংক্রমণ কমে আসবে।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটির সদস্য ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এর জন্য সরকার থেকে জোরালো নির্দেশনা থাকতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সংশ্লিষ্টতাও নিশ্চিত করতে হবে। যাতে জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে আগ্রহী হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে সবধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে, পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুত রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোভিডের পাশাপাশি রোগীর অন্যান্য ক্লিনিক্যাল অবস্থা মোকাবিলার সক্ষমতা থাকতে হবে। আইসিইউয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা গত বছরেও দেখেছি, এক হাসপাতালে আইসিইউ না পেয়ে রোগীকে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এবার যেন সে পরিস্থিতিতে না পড়তে হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যা করণীয় সেটি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া চিঠি দিয়ে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সারা দেশের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

করোনা সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে বাইরে যায়নি জানিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘সংক্রমণের হার এখনও ১৫ শতাংশের নিচে। এটি ২০ শতাংশের বেশি হলে অবশ্যই বিধিনিষেধ দেয়া হবে। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৮৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন এক হাজার ৬৮৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা চার মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন এক হাজার ৯৫১ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এ নিয়ে এক দিন ছাড়া টানা ২৪ দিন নতুন করোনা রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বাড়ল।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের দিন বুধবাব ছিল ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এনিয়ে টানা ৯ দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের উপরে থাকল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শনাক্তের হার পরপর দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়েছে বলে ধরা হবে।

নতুন শনাক্তের মধ্যে ১ হাজার ৫১১ জন ঢাকা জেলার। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৬২ হাজার ২১৩ জন।

আরও পড়ুন:
করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি চাকুরেদের মাস্ক পরার নির্দেশ
এবার করোনায় আক্রান্ত সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
চোখ রাঙাচ্ছে চতুর্থ ঢেউ, শনাক্ত হার ছাড়াল ১১ শতাংশ
দেশে ওমিক্রনের নতুন সাবভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত
শনাক্তের হার ছাড়াল ১০ শতাংশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Free vaccinations are paid for

বিনা মূল্যের টিকা নিতে হচ্ছে টাকা দিয়ে

বিনা মূল্যের টিকা নিতে হচ্ছে টাকা দিয়ে উত্তর বাড্ডার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইপিআই টিকা নিতে দিতে হচ্ছে টাকা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরকারের সরবরাহ করা যেকোনো টিকা নিতে গেলেই ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অথচ ইপিআই’র আওতায় কোনো টিকা দিতে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি নিয়ম অনুসারে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের সব টিকা বিনা মূল্যে দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (বাংলাদেশ হসপিটাল ট্রাস্টের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান) টাকার বিনিময়ে টিকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর বাড্ডার এই নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি শিশু টিকা নিতে আসে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা করে।

মূলত নারী-শিশু এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস প্রকল্পের অধীনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে আছে নারী মৈত্রী সেবা সংস্থা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিটি করপোরেশন। সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বুধবার নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে টিকা দেয়া হয়। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ৭টি টিকা নিতে হয়।

৯ মাসের সন্তান আহামেদ জারিফকে টিকা দিতে সোমবার দক্ষিণ বনশ্রী থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী আয়েশা বিনতে ইসলাম। এখান থেকে আগেও সন্তানকে চারটি টিকা দিয়েছেন। প্রতিবারই তাকে ৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন আরও দশ অভিভাবক।

উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা রুম্পা রায় সোমবার স্থানীয় এই নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান টিটেনাসের টিকা নিতে। চার্জ হিসেবে তার কাছেও ৫০ টাকা চাওয়া হয়।

এ সময় রুম্পা প্রশ্ন তোলেন- ‘সরকার এই টিকা সারা দেশে ফ্রিতে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিও সরকারের নিবন্ধনভুক্ত। এর পরিচালন ব্যয়ও দিচ্ছে সরকার। তাহলে এটা কিসের চার্জ? টাকা নেয়ার রসিদও তো দিচ্ছেন না!’

জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে যেকোনো টিকা নিতে হলেই টাকা দিতে হবে। সবার কাছ থেকেই নেয়া হচ্ছে। তবে এটা টিকার দাম নয়, সার্ভিস চার্জ। আমাদের এখানে চারজন চিকিৎসক ও চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কেন্দ্র পরিচালনা ব্যয়ও বলতে পারেন।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইপিআই-এর আওতায় শিশুদের সব টিকাই এই কেন্দ্রে পাওয়া যায়। সরকারি টিকাগুলো ফ্রি দেয়া হয়। এজন্য সরকার থেকে আমরা কিছু অর্থ পাই। তবে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫০ টাকা নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের চার্জ হিসেবে এটা নেয়া হয়। এই টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নারী মৈত্রী থেকে ইপিআইয়ের সব টিকা আনা হয়। তাদের কাছে খোঁজ নিলে টাকা নেয়ার কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার জানতে পারবেন।’

কবে থেকে টিকা দিয়ে চার্জ নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়ার নির্দেশ দেয়ায় এটা নেয়া হচ্ছে।’ তবে নির্দেশনার চিঠি বা প্রজ্ঞাপন চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি।

নারী মৈত্রী সংস্থার পরিচালক আকরামুল হোসাইন বলেন, ‘ইপিআইয়ের আওতাভুক্ত সব টিকা বিনামূল্যে দেয়ার নিয়ম। তারপরও কেউ টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইপিআই টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘সারা দেশে এই টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। বিনামূল্যের টিকা নিতে টাকা দিতে হচ্ছে এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এখনও আসেনি। আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতিতে টিকা দিলেন ‘আনসার সদস্য’
টিকার দাম দিয়ে খরচের হিসাব হবে না: প্রধানমন্ত্রী
৪০ হাজার কোটি নয়, টিকার ব্যয় এর অর্ধেক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টিকা তৈরি শিখতে বিদেশে যাচ্ছেন ২০ বিশেষজ্ঞ
টিকায় ‘বাড়তি ব্যয়’ নিয়ে টিআইবির দাবি অনুমাননির্ভর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
91 percent of the subtypes of Omicron identified in the country are BA2

দেশে শনাক্ত ওমিক্রনের উপ-ধরনের ৯১ শতাংশ বিএ.২

দেশে শনাক্ত ওমিক্রনের উপ-ধরনের ৯১ শতাংশ বিএ.২
‘সার্স-সিওভি-২ ভ্যারিয়েন্টস ইন বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ব্রিফিং রিপোর্ট: মে ২০২২’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মে মাসের ১ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত দেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ওমিক্রনের ৯ শতাংশ বিএ.৫ এবং ৯১ শতাংশ বিএ.২ উপ-ধরন পাওয়া গেছে।

দেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ওমিক্রনের ৯১ শতাংশই বিএ.২ উপ-ধরন (সাব-ভ্যারিয়েন্ট) পাওয়া গেছে। বাকি ৯ শতাংশ বিএ.৫ উপ-ধরন। মে মাসে দেশে ওমিক্রনের নতুন উপ-ধরনে বিএ.২-এর প্রাধান্য দেখা গেছে।

‘সার্স-সিওভি-২ ভ্যারিয়েন্টস ইন বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ব্রিফিং রিপোর্ট: মে ২০২২’ শীর্ষক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, মে মাসের ১ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত দেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ওমিক্রনের ৯ শতাংশ বিএ.৫ ও ৯১ শতাংশ বিএ.২ উপ-ধরন পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডেশি), চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ) এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

ওমিক্রনের এই দুটি উপ-ধরন জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয়। মে মাসের শেষের দিকে এটি দক্ষিণ ভারতে শনাক্ত হয়। উপ-ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা সংক্রমণের পঞ্চম ঢেউ এবং সম্প্রতি ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ভ্যাকসিন নেয়া ব্যক্তিরাও করোনার এই উপ-ধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আগামী দিনে এটি সংক্রমণশীল অন্যান্য উপ-ধরনের তুলনায় বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বজুড়ে করোনার দুটি ধরনকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে। ২০২১ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে ‘ভ্যারিয়েন্টস অব কনসার্ন’ হিসেবে সবশেষ সংযোজিত হয় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটি। সংক্রমণের ক্ষমতা, ইমিউনিটি সিস্টেমকে আক্রমণের সক্ষমতা এবং ভ্যাকসিন রেসিস্ট্যান্সের কারণে এটিকে এই তালিকায় রাখা হয়।

সবশেষ ২০ জুন পর্যন্ত দেশে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে ১২৮০ জনের দেহে।

অন্যদিকে গত মাসের ২৪ তারিখে দেশে প্রথম ওমিক্রনের বিএ.৫ ধরন শনাক্ত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাস জুড়ে দেশে যতগুলো করোনা কেস শনাক্ত হয়েছে তার শতভাগের ক্ষেত্রেই ওমিক্রন দায়ী।

সারা দেশে কোভিড-১৯ এর পজিটিভিটি রেট কমায়, মে মাসে নমুনার পরিমাণ কম ছিল। ফলে কনসোর্টিয়ামটি ১-৩১ এর মধ্যে কেবল ১১টি নমুনার সিকোয়েন্স করতে সক্ষম হয়। নমুনাগুলো ৬টি বিভাগ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

আরও পড়ুন:
দেশে প্রবেশে আরটি-পিসিআর টেস্ট লাগবে না
টিকায় বাংলাদেশের পেছনে ভারত-পাকিস্তান
করোনাশূন্য দেশের ১৬ জেলা
ওমিক্রনের পর নতুন ভ্যারিয়েন্টের শঙ্কা
ফেব্রুয়ারির ২২ দিনে আইইডিসিআরের সব নমুনায় ওমিক্রন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The indication of the fourth wave left a more clear identification rate of 14

চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট, শনাক্তের হার ছাড়াল ১৪

চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট, শনাক্তের হার ছাড়াল ১৪ পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কেবল ৫ শতাংশের বেশি নয়, এবার তা ছাড়াল ১৪ শতাংশ। ছবি: নিউজবাংলা
করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণের আসার পর গত ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর প্রতিদিনই তা আগের দিনের হারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর ছয় দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই করোনার চতুর্থ ঢেউ ছড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।

করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। পরপর আট দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কেবল ৫ শতাংশের বেশি নয়, এবার তা ছাড়াল ১৪ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শনাক্তের হার পরপর ‍দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়েছে বলে ধরা হবে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের দিন তা ছিল ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর প্রতিদিনই তা আগের দিনের হারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আর ছয় দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই করোনার চতুর্থ ঢেউ ছড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের এই হার গত প্রায় চার মাসের সর্বোচ্চ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের হারের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন এই হার ছিল ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।

শনাক্তের হারের পাশাপাশি বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ১ হাজার ৩১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন ৮ হাজার ৫৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ১৩৫ জন করোনা নতুন রোগী পাওয়া যায়।

এ নিয়ে এক দিন ছাড়া টানা ২৩ দিন নতুন করোনা রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বাড়ল।

নতুন শনাক্তের মধ্যে ১ হাজার ১৬৩ জন ঢাকা জেলার। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৫২৮ জন।

গত এক দিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চার দিন একজন করে মৃত্যুর সংবাদ দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৩১ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১২৭ জন রোগী। আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ২৩২ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আসে করোনার আরেক ধরন ওমিক্রন। তৃতীয় ঢেউয়ের সময় ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাস্ক পরা ছাড়া করোনাসংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। তবে জনগণের মধ্যে মাস্ক পরা নিয়ে অনীহার বিষয়টি আবার দেখা যায়। করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে সব সরকারি চাকরিজীবীর মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
করোনা: ফের গণসংক্রমণ শুরুর শঙ্কা
করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি চাকুরেদের মাস্ক পরার নির্দেশ
এবার করোনায় আক্রান্ত সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
চোখ রাঙাচ্ছে চতুর্থ ঢেউ, শনাক্ত হার ছাড়াল ১১ শতাংশ
দেশে ওমিক্রনের নতুন সাবভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Carrying extra sex chromosomes?

বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম বহন করছেন?

বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম বহন করছেন? প্রতি ৫০০ জন পুরুষের মধ্যে একজন একটি অতিরিক্ত সেক্স ক্রোমোজোম বহন করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
একজন পুরুষের সাধারণত এক্স এবং ওয়াই দুই ধরনের সেক্স ক্রমোজোম থাকে। আর নারীদের দুটি এক্স। এক্স এবং ওয়াই-এর মিলনে ছেলে সন্তান; এক্স এবং এক্সের মিলনে হয় কন্যাসন্তান। তবে যেসব পুরুষের শরীরে বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম থাকে তারা কী সমস্যা বা সুবিধা পায়?

প্রতি ৫০০ জন পুরুষের মধ্যে একজন একটি অতিরিক্ত সেক্স ক্রোমোজোম বহন করতে পারে। হতে পারে এটি এক্স বা ওয়াই। তবে তাদের মধ্যে খুব কম সম্ভবতই বিষয়টি জানেন। জেনেটিক্স ইন মেডিসিনে গত ৯ জুন প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে উঠে আসে এই তথ্য।

একজন পুরুষের সাধারণত এক্স এবং ওয়াই দুই ধরনের সেক্স ক্রমোজোম থাকে। আর নারীদের দুটি এক্স। এক্স এবং ওয়াই-এর মিলনে ছেলে সন্তান; এক্স এবং এক্সের মিলনে হয় কন্যাসন্তান। তবে যেসব পুরুষের শরীরে বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম থাকে তারা কী সমস্যা বা সুবিধা পায়?

গবেষকরা বলছেন, বাড়তি এক্স ক্রোমোজম থাকাকে বলা হয় ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম (কেএস)। এটি থাকার ফলে কিছুটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেসব পুরুষের বাড়তি এক্স ক্রোমোজোম আছে, তাদের প্রজননজনিত সমস্যা আছে। এসব পুরুষের সন্তান না হওয়ার হার এক্সওয়াই ক্রোমোজমধারীর চেয়ে চার গুণ বেশি। তাদের বয়ঃসন্ধি দেরিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও তিন গুণ বেশি।

অন্যদিকে বাড়তি ওয়াই ক্রোমোজম থাকাকে বলা হয় ৪৭, এক্সওয়াইওয়াই সিনড্রোম। এটির প্রজননের ওপর কোনো প্রভাব নেই। তবে অতীতের গবেষণা বলছে, এ উপসর্গের সঙ্গে শেখায় প্রতিবন্ধকতা, কথা বলা ও মোটর স্কিল অর্জনে দেরির মতো বিষয়গুলোর যোগসূত্র রয়েছে।

বাড়তি ক্রোমোজোমধারীদের টাইপ টু ডায়াবেটিস, ভেনোস থ্রমবোসিসের (শিরায় রক্ত জমে যাওয়া), ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ-এর (ফুসফুসে বায়ুপ্রবাহকে বাধা দেয়) মতো জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি।

'এটা আসলে নিশ্চিত না যে কেন কেএস এবং ৪৭, এক্সওয়াইওয়াই সিনড্রোমের ঝুঁকিগুলো ভিন্ন। এটি জানতে হলে আরও গবেষণার প্রয়োজন।'

বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম বহন করছেন?

গবেষণায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের দুই লাখ ৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। তাদের বয়স ৪০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। সবাই জিনগত ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ডেটাবেইস ইউকে বায়োব্যাংকের সদস্য এবং সাধারণের চেয়ে বেশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ২১৩ জনের একটি বাড়তি এক্স ক্রোমোজোম ও ১৪৩ জনের একটি বাড়তি ওয়াই ক্রোমোজম রয়েছে।

তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকেরই ক্রোমোজমজনিত জটিলতা আছে। যাদের ক্রোমোজম এক্স এক্স ওয়াই, তাদের মধ্যে কেবল ২৩ শতাংশের এ ধরনের কোনো সমস্যা ছিল। আর এক্স ওয়াই ওয়াই ক্রোমোজমধারীদের মাত্র ০.৭ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কোনো সমস্যায় ভুগছেন।

অর্থাৎ ০.১৭ শতাংশের বাড়তি সেক্স ক্রোমোজম পাওয়া গেছে। এ হার প্রতি ৫৮০ জনে একজন। গবেষকরা বলছে, সাধারণ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এ হার কিছুটা কম হতে পারে। যেমন ‘প্রতি ৫০০ জনে একজন’ হতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (এমআরসি) এপিডেমিওলজি ইউনিটের পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং গবেষণার সহসিনিয়র লেখক কেন ওং বলেন, ‘এটি কতটা সাধারণ তা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। এটি বেশ বিরল বলে মনে করা হয়েছিল।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The identified release rate is 13 30 percent

শনাক্ত হাজার ছাড়াল, হার ১৩.৩০ শতাংশ

শনাক্ত হাজার ছাড়াল, হার ১৩.৩০ শতাংশ ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত হাজার ছাড়িয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ নিয়ে টানা সাত দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি থাকল।

গত এক দিনে করোনা শনাক্তের হার চার মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের হারের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এ নিয়ে দেশে এক দিন ছাড়া টানা ২২ দিন নতুন করোনা রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বাড়ল।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৫৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ১৩৫ জন করোনা নতুন রোগী পাওয়া গেছে। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন শনাক্তের মধ্যে ১ হাজার ৬৯ জন ঢাকা জেলার।

দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ২০৯ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে করোনায় মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৩৪ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ১০৫ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী করোনার কোনো ঢেউ চলার সময় শনাক্তের হার পরপর দুই সপ্তাহ যদি ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে সেই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যাবে। বিপরীত দিক দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকার অবস্থার পর দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধরা হবে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আসে করোনার আরেক ধরন ওমিক্রন। তৃতীয় ঢেউয়ের সময় ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আরও পড়ুন:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফাউচি
করোনা বাড়ছে ধীরে ধীরে
করোনা শনাক্ত হার ৩.৫৬%, সাড়ে তিন মাসে সর্বোচ্চ
মৃত্যুহীন দিনে করোনা শনাক্ত বেড়ে ১২৮
৮১ দিনের মধ্যে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Corona An indication of the onset of social infection again

করোনা: ফের গণসংক্রমণ শুরুর শঙ্কা

করোনা: ফের গণসংক্রমণ শুরুর শঙ্কা টানা ছয় দিন করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি ধরা পড়ছে। এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফাইল ছবি
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, ‘সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে তাতে বলা যায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই দেশে ফের করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হবে। এর শুরুটা হবে রাজধানী ঢাকায়। এরপর চট্টগ্রামে এবং ধীরে ধীরে সারা দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।’

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তিন সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী। টানা ছয় দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি ধরা পড়ছে। করোনার এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ইঙ্গিত বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সংক্রমণে এমন ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহে দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ প্রবেশ করবে। এই সময়টায় পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৭ শতাংশের বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে করোনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এর আগে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলাকালে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংক্রমণের হার ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৭৪ জনের, যা প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ৮৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তবে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে গত তিন সপ্তাহে দুজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক খবর।

এদিকে শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে মঙ্গলবার দুজনের শরীরে ভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ. ৪/৫ শনাক্তের তথ্য দিয়েছেন। দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। চতুর্থ ঢেউয়ের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনা: ফের গণসংক্রমণ শুরুর শঙ্কা

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, ‘সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে তাতে বলা যায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই দেশে ফের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হবে। এর শুরুটা হবে রাজধানী ঢাকায়। এরপর চট্টগ্রাম এবং ধীরে ধীরে সারা দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।’

নমুনা পরীক্ষা অনেক কম হচ্ছে জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া যথাসময়ে টিকা নিয়ে নিতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক দূরত্ব। আর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মোশতাক হোসেন আরও বলেন, ‘অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশিসহ করোনার অন্যান্য উপসর্গে ভুগলেও নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এখন স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা টেস্ট করার সক্ষমতা অনেক বেশি। নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেই সহজে নমুনা পরীক্ষা করানো যায়। সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে হবে। জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি যে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ মানতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দেশে কয়েক দিন ধরে করোনা সংক্রমণ ও শনাক্ত হার বাড়ছে। তবে করোনা শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাটা আরও বেশি হবে। কারণ অনেকের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাচ্ছেন না।

‘ভারত, চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডেও করোনা রোগী বাড়ছে। বুস্টার ডোজ নিয়েও মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতে মনে হচ্ছে দেশ এখন করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে প্রবেশের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে।

‘এই ঢেউ কতটা ছোট রাখা যায় সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমে একটি জিনোম সিকোয়েন্সিং বা রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দরকার। তাতে বোঝা যাবে বর্তমান ধরন কোনটি। দ্বিতীয়ত, কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তা জানা জরুরি। যেমন- কেউ টিকা নেননি, কেউ হয়তো এক ডোজ নিয়েছেন, কেউবা দ্বিতীয় ডোজ এবং বুস্টার সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ টিকার শেষ ডোজ থেকে সংক্রমণ হওয়া পর্যন্ত সময় হিসাব করতে হবে। এসব তথ্য জানা গেলে পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত টিকার আওতায় আনা অথবা আরেকটি বুস্টার ডোজ লাগবে কি না তা জানা যাবে। উৎস নির্ণয় করতে পারলে সংক্রমণে লাগাম টানা সম্ভব হবে। ১২ বছরের নিচের শিশুরা টিকা পায়নি। ফলে তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে।’

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, ‘সংক্রমণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত এক সপ্তাহ ধরে যে হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, এটি চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত।

‘রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একজন রোগী শনাক্ত হলে অন্তত পাঁচজন শনাক্তের বাইরে থাকে। এ হিসাবে অনেক সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের বাইরে রয়েছে। কিন্তু বড় একটি জনগোষ্ঠী টিকা নেয়ায় মারাত্মক আক্রান্ত কম হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কম হচ্ছে। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক মৃত্যু তিন থেকে পাঁচের ঘরে চলে যাবে। এটি প্রতিরোধে এখনই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা নেয়া জরুরি।’

দেশে করোনা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর ২০ জুন অর্থাৎ দীর্ঘ চার মাস পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশ (১০ দশমিক ৮৭) ছাড়িয়ে যায়। তার আগের দিন এই হার ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সবশেষ মঙ্গলবার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই মুহূর্তে আরেকটি ঢেউসহ রোগী বৃদ্ধির শঙ্কা জাগাচ্ছে। পরীক্ষা বাড়লে শনাক্তও বাড়বে।

এদিকে মঙ্গলবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ.৪/৫ শনাক্ত হয়েছে।

যবিপ্রবির গবেষক দল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির একজন করোনা টিকার বুস্টার ডোজ এবং অন্যজন দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন। ইঅ.৪/৫ সাব-ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনে ওমিক্রনের মতোই মিউটেশন দেখা যায়। তবে তার সঙ্গে এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো স্পাইক প্রোটিনের ৪৫২ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডে মিউটেশন থাকে। এ ছাড়া এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ৪৮৬ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডেও মিউটেশন দেখা যায়।

করোনার এই নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জেনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। টিকা নেয়া ব্যক্তিরাও ‌এতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

‘আগামী দিনে এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট বর্তমানে সংক্রমণশীল অন্যান্য সাব-ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ জন্য মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী করোনার কোনো ঢেউ চলার সময় শনাক্তের হার পর পর দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যাবে। আবার করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকার পর দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধরা হবে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি চাকুরেদের মাস্ক পরার নির্দেশ
এবার করোনায় আক্রান্ত সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
চোখ রাঙাচ্ছে চতুর্থ ঢেউ, শনাক্ত হার ছাড়াল ১১ শতাংশ
দেশে ওমিক্রনের নতুন সাবভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত
শনাক্তের হার ছাড়াল ১০ শতাংশ

মন্তব্য

p
ad-close 20220623060837.jpg
উপরে