× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Dr Nafiz Sarafat called for making NewsBangla stronger
hear-news
player
print-icon

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

নিউজবাংলাকে-আরও-শক্তিশালী-করার-আহ্বান-ড-নাফিজ-সরাফাতের চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নেতৃত্বে নিউজবাংলার বার্ষিক সাধারণ সভা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
অনলাইন পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, নিউজবাংলা দ্রুততম সময়ে পেশাদার সাংবাদিকতায় সবার শীর্ষে অবস্থান করবে।

পেশাদার সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সংবাদকর্মীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

রাজধানীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে শুক্রবার দুপুরে অনলাইন পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘নিউজবাংলার উদ্যোক্তা হিসেবে আমি সব সময় আপনাদের পাশে থেকেছি, ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আপনাদের আশ্বস্ত করছি। আমার একমাত্র চাওয়া, নিউজবাংলা দ্রুততম সময়ে পেশাদার সাংবাদিকতায় সবার শীর্ষে অবস্থান করবে।’

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

২০২০ সালের ১ অক্টোবর করোনাভাইরাস মহামারির অবরুদ্ধ সময়ে ‘আমরা সংবাদ তৈরি করি না, প্রচার করি’ স্লোগান নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে অনলাইন পোর্টাল নিউজবাংলা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যে আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের সাংবাদিকতা জগতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য আমি নিউজবাংলার প্রত্যেক কর্মীকে অভিনন্দন জানাই।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো ঘটনায় আমরা পরিণত হতে চাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে।’

অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিউজবাংলার ১ বছর ৪ মাসের অগ্রযাত্রার নানা দিক উঠে আসে প্রকাশক শাহনুল হাসান খানের বক্তব্যে। তারুণ্যের কণ্ঠস্বর হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও সম্ভাবনাকে আরও তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

শাহনুল হাসান খান বলেন, ‘আমরা মনে করি নিউজবাংলা একটি পরিবার। পরিবারের একজন সদস্য আঘাত পেলে সেই আঘাত আমরা সবাই অনুভব করতে পারি। ফলে আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব।’

নতুন বছরে নিউজবাংলার প্রত্যেক সংবাদকর্মীকে আরও বেশি নিষ্ঠা ও কর্তব্যের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রকাশক শাহনুল হাসান খান।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির অবস্থা যেমনই হোক, নিউজবাংলা পরিবারে যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।’

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

বার্ষিক সাধারণ সভা সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল। ১ বছর ৪ মাসের এই যাত্রায় প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যেক কর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আগামী দিনগুলোতেও পেশাদারত্বের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনে সংবাদকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন পরিকল্পনা।

এর আগে নিউজবাংলার মিটিং রুমে অনুষ্ঠিত হয় বোর্ডসভা। সেখানে গত এক বছরে নিউজবাংলার অর্জন ও ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কোথায় দেখতে চায় তার বিশদ পরিকল্পনা তুলে ধরেন নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল।

বিজনেস ডেভেলপমেন্ট চিফ ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সৌরভ পাণ্ডে তুলে ধরেন নিউজবাংলার অডিও ভিজ্যুয়াল অংশকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা।

এ ছাড়া রিপোর্টিং ও সম্পাদনা টিমকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিউজবাংলাকে পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দেশের শীর্ষ অনলাইন পোর্টালে উন্নীত হতে ঠিক করা হয় কর্মপন্থা।

নিউজবাংলাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান ড. নাফিজ সরাফাতের

বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন নিউজবাংলার সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, প্রকাশক শাহনুল হাসান খান, প্রকল্প পরিচালক রিয়াদুজ্জামান, নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শেখ জাহিদুর রহমান, বার্তাপ্রধান সঞ্জয় দে, কনসালট্যান্ট (নিউজ) শিবব্রত বর্মণ, প্রধান বার্তা সম্পাদক ওয়াসেক বিল্লাহ, বিজনেস এডিটর আব্দুর রহিম হারমাছি ও প্রধান প্রতিবেদক তানজীর মেহেদী।

আরও পড়ুন:
পড়ার পাশাপাশি শোনাও যাবে নিউজবাংলার খবর
নিউজবাংলার সঙ্গী হলো ডয়চে ভেলে
মীনা অ্যাওয়ার্ড পেলেন নিউজবাংলার বনি আমিন
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে হারিয়ে নিউজবাংলার দ্বিতীয় জয়
ডিআরইউ ক্রিকেটে নিউজবাংলার দাপুটে সূচনা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The day of Shilpacharyas departure

শিল্পাচার্যের চলে যাওয়ার দিন

শিল্পাচার্যের চলে যাওয়ার দিন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। ছবি: সংগৃহীত
১৯৩৩ সালে জয়নুল কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে স্থান পায় তার জলরঙের একটি ছবি। সে ছবির জন্য তিনি স্বর্ণপদক পান। জলছবিটির মূল বিষয়বস্তু ছিল ব্রহ্মপুত্র, যা ছিল তার শৈশবের প্রেরণা। এ স্বীকৃতিই তাকে প্রথমবারের মতো আলোচনায় নিয়ে আসে।

বাংলাদেশের চারুশিল্প বিকাশের পথিকৃৎ, উপমহাদেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে ব্রহ্মপুত্রের পারে।

১৯৩৩ সালে জয়নুল কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে স্থান পায় তার জলরঙের একটি ছবি।

সেই ছবির জন্য জয়নুল স্বর্ণপদক পান। জলছবিটির মূল বিষয়বস্তু ছিল ব্রহ্মপুত্র, যা ছিল তার শৈশবের প্রেরণা। এই স্বীকৃতিই তাকে প্রথমবারের মতো আলোচনায় নিয়ে আসে।

পরবর্তী সময়ে জয়নুল নিজস্ব একটি ধারা সৃষ্টির আত্মবিশ্বাস পান। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে জয়নুল আবেদিন ধারাবাহিকভাবে কিছু স্কেচ করেন, যেগুলো ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের বিভক্তির পর জয়নুল আবেদিন ঢাকায় চলে আসেন। সে সময় ঢাকায় কোনো আর্ট ইনস্টিটিউট ছিল না।

১৯৪৮ সালে জয়নুল আবেদিন ও তার কয়েক সহযোগী ঢাকা আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট।

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জয়নুল আঁকেন ‘নবান্ন’। ১৯৭০ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে লাখো উপকূলবাসীর মৃত্যুতে আঁকেন ‘মনপুরা’। এসব তার হৃদয়স্পর্শী চিত্রকর্ম।

১৯৭৫ সালে জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর এবং ময়মনসিংহে আর্ট গ্যালারি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা নামে পরিচিত। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে তার আঁকা বেশ কিছু চিত্রকর্ম সংরক্ষিত।

আমৃত্যু দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার আন্দোলনে সংক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন জয়নুল আবেদিন।

আরও পড়ুন:
বরিশালে জয়নুলের চিত্রপ্রদর্শনী
জয়নুল উৎসব অনলাইনে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The women at the railway station dressed as they wished

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা পোশাকের কারণে তরুণীকে হেনস্তার প্রতিবাদে নরসিংদী রেলস্টেশনে নারীরা। ছবি: নিউজবাংলা
এই রেলস্টেশনেই ৯ দিন আগে জিন্সের প্যান্ট আর টপস পরার কারণে হেনস্তার শিকার হন এক তরুণী। ওই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে ইচ্ছেমতো পোশাক পরে রেলস্টেশনে ঘুরতে যায় তরুণীদের দলটি।

নরসিংদী রেলস্টেশনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একদল তরুণী। কারও পরনে জিন্স-টিশার্ট, কেউ পরেছেন ট্রাউজার-টপস। তারা সেলফি তুলছেন, কথা বলছেন স্টেশনের লোকজনের সঙ্গে, হইহুল্লোড়ে মাতিয়ে তুলছেন চারপাশ।

রেলস্টেশনে এই দৃশ্য দেখা গেছে শুক্রবার সকালে। স্টেশনেই আড়াই ঘণ্টা ঘুরে ট্রেনে চেপে চলে যায় দলটি।

এই রেলস্টেশনেই ৯ দিন আগে জিন্সের প্যান্ট আর টপস পরার কারণে হেনস্তার শিকার হন এক তরুণী। সেই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনা চলে। সংবাদমাধ্যমগুলো হেনস্তার খবর প্রকাশ করতে শুরু করলে ঘটনার দুদিন পর পুলিশ ও স্টেশন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে; হেনস্তাকারীদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে ইচ্ছেমতো পোশাক পরে রেলস্টেশনে ঘুরতে যায় তরুণীদের দলটি। ফেসবুকে নানা গ্রুপ যুক্ত এই নারীরা পরিকল্পনা করেই ঘুরতে যান সেখানে। তাদের ঘুরে বেড়ানোর ছবি এখন ভাইরাল ফেসবুকে।

নরসিংদী রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার এ টি এম মুছা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামেন তরুণীরা। তখন আমি বসে ছিলাম রেল সিগন্যাল মাস্টারের কক্ষে। এ সময় তারা এসে জানান যে তারা বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য। হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তারা এসেছেন।

‘তারা ওই তরুণীর হেনস্তার ঘটনার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমরা তাদের সঙ্গে ছবিও তুলেছি। স্টেশনে থাকা লোকজনদের সঙ্গে তারা কথা বলেন। আমিও বেশ কিছুক্ষণ সময় দিয়েছি।’

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা

স্টেশন মাস্টার জানান, বেলা ১১টায় উপকূল ট্রেনে চড়ে ঢাকায় চলে যায় দলটি।

ফেসবুক ঘেঁটে জানা গেছে, অগ্নি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি তৃষিয়া নাশতারানের উদ্যোগে ২০ জনের দলটি সেখানে ঘুরেছে। সঙ্গে কয়েকজন তরুণও ছিলেন।

ওই দলের সদস্য অপরাজিতা সংগীতা তার ফেসবুক আইডিতে দেয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘নরসিংদী স্টেশনে একজন নারী পোশাকের কারণে কুৎসিত আক্রমণ ও সহিংসতার শিকার হন গত ১৮ মে। আমরা তার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আজ (২৭ মে) আমরা ২০ জন গেছিলাম নরসিংদী স্টেশনে।

‘আমরা জায়গাটা এবং সেখানকার মানুষগুলোকে দেখতে গেছি। তাদের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ স্থাপন করতে গেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণভাবে জনপরিসরে শরীর ও পোশাকের স্বাধীনতার জায়গা রিক্লেইম করা। আমাদের বৈচিত্র‍্যময় শারীরিক উপস্থিতিই আমাদের বক্তব্য।’

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা

পোস্টে তিনি আরও জানান, রেলস্টেশন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা মেয়ে নেটওয়ার্ক নামের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে জানানো হবে শুক্রবার রাত ১১টায়।


যা ঘটেছিল

ফেসবুকে হেনস্তার ভিডিওটি ভাইরাল হয় ১৯ মে- বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। ঘটনাটি নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে তার আগের দিন ভোরে ঘটে।

স্টেশন ঘুরে ১৯ ও ২০ মে দুই দোকানদার মো. আমিনুল ও ইখলাস উদ্দিন এবং ভাসমান পণ্য বিক্রেতা মো. মেহেদীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। পুরো ঘটনা তারা দেখেছেন।

তারা জানান, ভোরে ঢাকামুখী ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই দুই যুবক ও তরুণী। হঠাৎ পাশ দিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধ তরুণীকে দেখে বলে ওঠেন, ‘আপনার বাড়ি কই? কাল রাতেও এখানে এসেছেন। আজকেও আসছেন। এসব পোশাক পরে কেউ স্টেশনে আসে নাকি?’

মেয়েটির সঙ্গে থাকা হলুদ রঙের টি-শার্ট পরা তরুণ ওই বৃদ্ধকে তখন বলেন, ‘আপনি এসব কেন জিজ্ঞেস করছেন? আপনি এভাবে প্রশ্ন করতে পারেন না।’

এ নিয়ে বৃদ্ধের সঙ্গে ওই যুবকের বাগ্‌বিতণ্ডার মধ্যে আরেক নারী এসে মেয়েটির পোশাক নিয়ে কটাক্ষ ও গালমন্দ করতে থাকেন। ততক্ষণে চারপাশে কিছু লোক জড়ো হয়ে যায়।

ওই বৃদ্ধ ও নারীর সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ হয়ে তরুণী ও যুবককে গালমন্দ করতে থাকেন। ওই যুবকও তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। একপর্যায়ে আরেক ব্যক্তি যুবককে ধাক্কা দেন। মেয়েটি তখন যুবককে নিয়ে সরে যেতে চেষ্টা করলে ওই নারী মেয়েটিকে টানাহেঁচড়া করতে থাকেন।

তরুণী ও সঙ্গে থাকা দুই যুবক সরে গিয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে আশ্রয় নেন।

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা

প্রত্যক্ষদর্শী দুই দোকানদার আরও জানান, তখনই ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন চলে আসায় ওই তরুণী ও সঙ্গে থাকা প্রতিবাদকারী যুবক তাতে উঠে চলে যান। সব মিলিয়ে পুরো ঘটনাটি মিনিট দশেকের।

ভাসমান দোকানদার মেহেদী নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার সূত্রপাত এক নারীর কটাক্ষের জেরে।

তিনি জানান, ওই যুবক ও তরুণীকে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার ট্রেনে করে নরসিংদী নামতে দেখেছেন। বুধবার ভোরে তারা আবার ঢাকা যাওয়ার ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন। সে সময় এক নারী মেয়েটির পোশাক নিয়ে প্রথম মন্তব্য করেন।

মেহেদী বলেন, ‘ওই নারী মেয়েটাকে বলতে থাকে যে, এসব পোশাক পরে কেন ঘোরাঘুরি করছে, তার বাড়ি কই। ওই নারী মেয়েটার ভিডিও করতে নেয়। তখন মেয়েটার সঙ্গে থাকা একটা ছেলে প্রতিবাদ করতে থাকে।

‘সে সময় কালো শার্ট পরা একটা লোক ওই ছেলেকে ধাক্কা দেয়। মেয়েটা তখন মোবাইল বের করে কাউকে কল করতে থাকে। এসবের মধ্যে ওই নারী মেয়েটার দিকে তেড়ে যায়।’

ঘটনার সময় স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বে ছিলেন নাইয়ুম মিয়া।

তিনি বলেন, ‘ভোরে আমি কন্ট্রোল রুমে বসে ছিলাম। সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেসকে সিগন্যাল দিচ্ছিলাম। তখন দেখি বাইরে কিছু লোক জড়ো হয়ে আছে।

‘আমি গেটের সামনে আসতেই বাঁচাও বাঁচাও করে আধুনিক পোশাক পরা এক তরুণী ও আরেক তরুণ আমার কক্ষে আসে। তাদের কাউকে ফোন দিতে দেখলাম। অল্প সময়ের মধ্যে স্টেশন ও থানা পুলিশ এসে হাজির।’

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা

তিনি আরও বলেন, “তখন মেয়েটি বলছিল, ‘আমি এসব পোশাক পরাতে এদের সমস্যা কী? তারা আমাদের হেনস্তা করছে। বাংলাদেশের সবাই শাড়ি পরে বেড়াবে নাকি?” পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে। আমি চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মেইল ট্রেন থামানোর জন্য সিগন্যাল দিতে ব্যস্ত হয়ে যাই।’


প্রশাসনের তৎপরতা

ঘটনা ১৮ তারিখ ভোরে ঘটে, সে সময় মডেল থানা পুলিশের এক এএসআই সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেন। তবে হেনস্তাকারীদের কাউকেও সে সময় আটক করা হয়নি।

এএসআই ইকবাল হোসেন পরে জানান, তিনি কারও নাম-পরিচয়ও নেননি। রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষও সে সময় হেনস্তাকারীদের আটক করেনি, কোনো তথ্যও রাখেনি। যদিও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে জানান, এএসআইকে তারা হেনস্তার শিকার তরুণী-তরুণ ও হেনস্তাকারীদের নাম-ফোন নাম্বার টুকে রেখেছিলেন।

ঘটনার পরদিন হেনস্তার ঘটনার মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সে খবর প্রকাশিত হয়। তারও এক দিন পর পুলিশ ও রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দেয় ও হেনস্তাকারীদের খুঁজতে তৎপর হয়।

তারা জানায়, ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

পরে ২০ মে রাতে হেনস্তাকারী সন্দেহে একজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরদিন ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস জানান, আটক ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন। তার বাড়ি নরসিংদী সদরের নজরপুর ইউনিয়নের বুদিয়ামাড়া গ্রামে। তিনি একজন রাজমিস্ত্রি।

সেদিনই আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ইচ্ছেমতো পোশাক পরে সেই রেলস্টেশনে নারীরা

রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২১ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করে। তাতে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে হেনস্তাকারী নারীর কোনো খোঁজ এখনও পায়নি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভৈরব থানার উপপরিদর্শক হারুনুজ্জামান রুমেল জানান, ওই নারীর নাম শিলা আক্তার, বাড়ি সদর উপজেলা পরিষদে বলে এজাহারে লেখা হয়েছে। তবে সেই ঠিকানায় গিয়ে শিলা নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকার কেউ তাকে চেনেনি।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাসের জানান, ওই নারীকে গ্রেপ্তারে তৎপরতার কমতি নেই। তদন্তের স্বার্থে কোনো তথ্য দিতে চাননি তিনি।

আরও পড়ুন:
রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্তাকারী একজন আটক
তরুণীকে হেনস্তাকারীদের পরিচয় টুকে নিয়েছিল পুলিশ
‘শালীন পোশাক’ না পরায় রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্তা
গ্রামপুলিশকে মারধরের অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার
বিবস্ত্র আ.লীগ নেতাকে জুতাপেটা: মামলায় আসামি ৪

মন্তব্য

বাংলাদেশ
40 women without families received post wedding reception

পরিবারহীন ৪০ নারী পেলেন বিবাহোত্তর সংবর্ধনা

পরিবারহীন ৪০ নারী পেলেন বিবাহোত্তর সংবর্ধনা
আয়োজকরা জানান, ২০১৯ সালে সবশেষ শিশু নিকেতনের ২০ জন এতিম মেয়ের বিয়ে দেয়া হয় আয়োজন করে। এরপর থেকে করোনার কারণে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা হয়নি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় এই ৪০ জন মেয়ের বিয়ে দেয় শিশু নিকেতন।

দিনাজপুর শিশু নিকেতনে বেড়ে ওঠা পরিবারহীন ৪০ নারীকে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শহরের বালুবাড়ীর গ্রিন ভিউ কমিউনিটি সেন্টারে শুক্রবার দুপুরে এই সংবর্ধনার আয়োজন হয়।

অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে কনেদের দেয়া হয় সেলাই মেশিন ও বরদের দেয়া হয় বাইসাইকেল। পাশাপাশি সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্যও দেয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, ২০১৯ সালে সবশেষ শিশু নিকেতনের ২০ জন এতিম মেয়ের বিয়ে দেয়া হয় আয়োজন করে। এরপর থেকে করোনার কারণে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা হয়নি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় এই ৪০ জন মেয়ের বিয়ে দেয় শিশু নিকেতন।

এবার তাদের নিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করা হয়। তাতে অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন, দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী শামীম ও শিশু নিকেতন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোজাফ্ফর আলী মিলনসহ অনেকে।

পরিবারহীন ৪০ নারী পেলেন বিবাহোত্তর সংবর্ধনা

শিশু নিকেতনসূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থায় মেয়েদের ১৮ বছর পুর্ণ হলে বিয়ে দেয়া হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এ পর্যন্ত শিশু নিকেতনের ১৭৪ মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘প্রেম করে প্রতারণা চলবে না’
‘বিয়েবহির্ভূত’ সম্পর্ক: স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম
আত্মহত্যার হুমকির পর প্রেমিকের নামে ধর্ষণের মামলা
বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি প্রেমিকার
ছোট ভাইকে চিরবিদায় জানাতে এসে মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kotwali Thana is intertwined with the memory of Kazi Nazrul

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নজরুল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নজরুল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষ উদযাপন। ছবি : নিউজবাংলা
কুমিল্লা শহরে গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে নিয়ে নজরুল গেয়েছিলেন, ‘ভিক্ষা দাও হে পুরবাসী, সন্তান দ্বারে উপবাসী, দাও মানবতা ভিক্ষা দাও। মিছিলটি রাজগঞ্জ থানা রোডে এসে পৌঁছালে শহরের আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় কবিকে থানায় ডেকে বসিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়া হয়।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, ’নজরুল আমাদের প্রেরণা। আমরা গর্বিত যে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে পেরেছি। এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানুক।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক আলী হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শহিদুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর।

স্মৃতিস্তম্ভটিতে বড় হরফে লেখা হয়েছে, ‘কুমিল্লায় নজরুল, ১৯২১-২০২১, শতবর্ষে স্মৃতিবিজড়িত কোতোয়ালি থানা।’

আরও পড়ুন:
কাজী নজরুলের শব্দভান্ডার
১১ জ্যৈষ্ঠ: সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মুখর দিন
জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে ‘শতবর্ষে শতদৃষ্টি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wow Virtual Bangladesh to take women forward

নারীদের এগিয়ে নিতে ‘ওয়াও ভার্চুয়াল বাংলাদেশ’

নারীদের এগিয়ে নিতে ‘ওয়াও ভার্চুয়াল বাংলাদেশ’
কিশোরী ও নারীদের প্রতিরোধী আত্মশক্তিকে স্বীকৃতি দিতে এবং এ বিষয়ে আরও বেশি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এই আয়োজন।

আত্মশক্তিকে পুঁজি করে নারী ও কিশোরীদের এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকে আরও বেগবান করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে ‘ওয়াও ভার্চুয়াল বাংলাদেশ ২০২২।’

‘দুর্জয় প্রাণের আনন্দে’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এই আয়োজন, যা চলবে শনিবার পর্যন্ত।

বাংলাদেশে ‘ওয়াও’-এর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার দ্য ব্রিটিশ কাউন্সিল, সিসিডি বাংলাদেশ এবং মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এটি আয়োজন করেছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নানা বাধাবিপত্তি আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আধুনিক সময়ের নারীরা। অবিচার, লিঙ্গবৈষম্য আর সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন তারা।

কিশোরী ও নারীদের এমন প্রতিরোধী আত্মশক্তিকে স্বীকৃতি দিতে এবং এ বিষয়ে আরও বেশি আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এই আয়োজন।

আয়োজনের প্রথম দিনে ছিল কনটেম্পরারি এবং ভরতনাট্যম শিল্পী উম্মে হাবিবার নৃত্য এবং একুশে পদকজয়ী লোক সংগীতশিল্পী সুষমা দাসের গান।

সেই সঙ্গে দেশের সাবেক দ্রুততম নারী শিরিন আক্তার এবং বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার বিজয়ী আলপনা রানী মিস্ত্রি তাদের সাফল্যের গল্প বলেন ওয়াও বাইটসের মাধ্যমে।

একান্ত আলোচনায় নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন গ্রেয়ই, ইউকের আর্টিস্ট ডিরেক্টর জেনি সিলি এবং ফিল্ম প্রডিউসার এশা ইউসুফ।

দ্বিতীয় দিনে থাকছে ‘হোয়াট ইট মিনস টু বি অ্যান অ্যালাই’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা। এতে মডারেটর হিসেবে থাকবেন সামাজিক মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার সাকিব বিন রশীদ। আর আলোচক হিসেবে থাকবেন গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট ব্র্যান্ডিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টস শারমিন রহমান, জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান নাভিদ মাহবুব, প্যালিয়েটিভ কেয়ার এবং সাপোর্টিভ কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রুমানা দৌলা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়াও ফাউন্ডেশনের রাইটার এবং সিনিয়র প্রোগ্রামার সাবিনা আখতার।

এ ছাড়া থাকছে মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রিয়া সর্বজয়ার বক্তব্য এবং ত্রপা মজুমদার ও পান্থ শাহরিয়ারের পরিবেশনায় ‘ধলেশ্বরী অপেরা’ নাটক থেকে দুটি দৃশ্য।

আনওয়ান্টেড টাচ বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ওপর সিসিমপুরের একটি মাপেট ভিডিও দিয়ে শুরু হবে আয়োজনের তৃতীয় দিন। থাকছে সিসিডি বাংলাদেশের জয়েন্ট ডিরেক্টর শাহানা পারভিনের বক্তব্য এবং আদিবাসী নৃত্য দল ‘কালারস অফ হিল’-এর পরিবেশনায় একটি নৃত্য।

ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত রূপান্তরকামী নারী (ট্র্যান্সউইমেন) সঞ্জীবনী এবং এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর মধ্যে অবস্থানকারী সালমা সুলতানা তাদের কথা তুলে ধরবেন ওয়াও বাইটসের মাধ্যমে।

শনিবার আরও থাকছে মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সারা যাকের এবং এসবিকে টেক ভেঞ্চার ও এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবিরের অংশগ্রহণে সাক্ষাৎকার ও আলোচনা।

২০১০ সালে ওয়াও ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও জুড কেলির হাত ধরে ওয়াও-এর যাত্রা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লিঙ্গসমতা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে কাজ করছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল, মঙ্গলদ্বীপ ফাউন্ডেশন ও সিসিডি বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে এ আয়োজন দেখা যাবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No need for gazette on national poet State Minister for Culture

জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় কবিকে নিয়ে গেজেটের দরকার নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ছবি: নিউজবাংলা
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তা আমাদের আইনের মধ্যেই রয়েছে। তার জন্য আর আলাদা গেজেটের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। গেজেটের চেয়ে আইনই বড়।’

কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি করার বিষয়টি আইনে রয়েছে জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের দরকার নেই।

কবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে গেজেট কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কবি নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তা আমাদের আইনের মধ্যেই রয়েছে।

‘তার জন্য আর আলাদা গেজেটের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। গেজেটের চেয়ে আইনই বড়।’

কে এম খালিদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং তাকে জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন, কিন্তু তা নিয়ে কোনো গেজেট প্রকাশ করেননি।

‘তারপর এখন আর নতুন করে গেজেট প্রকাশটা কবির প্রতি অবমাননাস্বরূপ হতে পারে।’

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

তার নেতৃত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের শ্রদ্ধা জানানোর পর কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি। কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার নাতনি খিলখিল কাজী।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক এবং মানবতাবাদী চেতনার প্রতীক। তিনি মানবতাবাদী চেতনার ধারক ও বাহক ছিলেন।

‘তিনি ধর্মান্ধতা, বৈষম্য এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন।’

কাদের বলেন, ‘আজকে জাতীয় কবির বাংলাদেশে ফিরে আসার ৫০ বছর পূর্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করেন। জাতীয় কবির কবিতা এবং গান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’

দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ রয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশও আজও সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ আছে; শাখা-প্রশাখা আছে। এগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সার্থকতা তখনই হবে যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের মূল উৎপাটন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

আরও পড়ুন:
দ্রোহ-প্রেম যার মনে পাশাপাশি
সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটন চান কাদের
‘তবু আমারে দেবো না ভুলিতে’
নজরুলের জায়গায় রবীন্দ্রনাথ, রবিকে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
রবির ভুল স্বীকার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Ukrainian cat won the award by raising money through blogs

কানে পুরস্কার জিতল স্টেপান

কানে পুরস্কার জিতল স্টেপান ‘ওয়ার্ল্ড ইনফ্লুয়েন্সার্স অ্যান্ড ব্লগার্স অ্যাওয়ার্ডস’ জিতেছে ইউক্রেনের স্টেপান। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের পশু-পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতে তহবিল সংগ্রহের জন্য এই খেতাব জিতে নেয় খারকিভের বিড়ালটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টেপানের পুরস্কার জেতার ভিডিও।

চলতি বছরের ‘ওয়ার্ল্ড ইনফ্লুয়েন্সার্স অ্যান্ড ব্লগার্স অ্যাওয়ার্ডস’ নামের আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে ইউক্রেনের আলোচিত সেই বিড়াল স্টেপান। ইউক্রেনের পশু-পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতে তহবিল সংগ্রহের জন্য এই খেতাব জিতে নেয় খারকিভের বিড়ালটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্টেপানের পুরস্কার জেতার ভিডিও।

গত এপ্রিলে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল ইউক্রেনের খারকিভ শহরের তারকা বিড়াল স্টেপান। ব্লগারদের জন্য বিশ্বে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের কান শহরে এই আয়োজন করা হয়।

শহরের পাঁচ তারকা হোটেল মার্টিনেজে অনাড়ম্বর আয়োজনে উপস্থিত ছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংস্থা ও প্রভাবক (ইনফ্লুয়েন্সার)। আয়োজনের গড় প্রবেশ মূল্য ছিল এক হাজার ইউরো (প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা)!

উপস্থিত ছিলেন টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ২০ কোটিরও বেশি ফলোয়ারের খাবি লেমও। যেসব ভিডিও দিয়ে তিনি এত জনপ্রিয় হয়েছেন, সেসব ভিডিওতে কোনো কথা বলেন না খাবি।

তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ সবাইকে! আমি অনেক খুশী, অনেক খুশী!’

ইউক্রেন যুদ্ধ পুরোদমে শুরু হলে, দুই সপ্তাহের জন্য নেট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল ১৩ বছরের স্টেপান। সে সময়ে অনেকেই নানা আশঙ্কা করেছিল। পরে অবশ্য তার মালিক ভক্তদের আশ্বস্ত করেন। জানান, খারকিভে ক্রমাগত চলা গোলা হামলার কারণে ইন্টারনেট থেকে দূরে ছিল সে। পরে সুযোগ বুঝে এক সময়ে স্টেপানকে নিয়ে ফ্রান্সে চলে যান তার মালিক আন্না।

‘লাভইউস্টেপান’ নামের ইন্সটাগ্রাম পেজ চালান স্টেপান। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার ১১ লাখের কাছাকাছি। অ্যাকাউন্টটি অবশ্য চালান স্টেপানের মালিক আন্না।

ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেপানকে এক মাস বয়সে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছিলেন আন্না। ২০১৯ সালে খ্যাতি অর্জন করেছিল, যখন টিকটকে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। স্টেভি ওয়ান্ডারের ‘আই জাস্ট কলড টু সে আই লাভ ইউ’ গানটিতে এক গ্লাস ওয়াইন নিয়ে নানা কারসাজি করেছিল স্টেপান, যা ২৭ মিলিয়নের বেশিবার দেখা হয়েছিল।

স্টেপানের মালিক আন্না জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় অর্থ ইউক্রেনের পশু-পাখির সহায়তায় ব্যবহার করা হয়। এরই মধ্যে ১০ হাজার ডলার এ কাজে ব্যয় করেছে তারা।

আরও পড়ুন:
ইউক্রেন ছাড়ল স্টেপান, স্বস্তিতে ১১ লাখ ভক্ত

মন্তব্য

p
উপরে