× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The rise of the index continues to be the new address of interest
hear-news
player
print-icon

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র

সূচকের-উত্থান-অব্যাহত-আগ্রহের-নতুন-ঠিকানা-বস্ত্র নতুন বছরে পুঁজিবাজারে নতুন আশা দেখছে বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচক বাড়ল ৩৩২ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নতুন বছরে পুঁজিবাজারে চাঙাভাব অব্যাহত আছে। চলতি সপ্তাহে টানা চার দিন আর বছরের ১৪ কর্মদিবসের ১২ দিনই বাড়ল সূচক। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে লেনদেনও। একেক দিন একেক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যে এবার আগ্রহ দেখা গেল বস্ত্র খাতে।

বুধবার ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে সূচকের যে অবস্থান, সেটি গত ১৮ নভেম্বর অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক ছিল ৭ হাজার ৯১। ঠিক দুই মাস এক দিন পর সূচক দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮৯ পয়েন্টে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সূচক বাড়ল ৩৩২ পয়েন্ট। গত বছরের শেষ কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৯২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়ে বুধবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

২০২১ সালের শেষ দিকে পুঁজিবাজারে লেনদেনের খরা দেখা গেলেও চলতি বছরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে দেয়ার পর তা এখন দুই হাজার কোটি টাকার দিকে ছুটছে। মাঝে একদিন দুই হাজার কোটি টাকার আশেপাশে লেনদেন হয়েওছিল। তবে পরে সেখান থেকে কমে।

চলতি বছর একেকদিন বিমা খাত, পরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রকৌশল, খাদ্য, ওষুধ ও রসায়নে আগ্রহ দেখা গেছে। প্রতি দিনই বিবিধ খাত হয় লেনদেনের শীর্ষে বা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
৩৩ পয়েন্ট উত্থানে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে দুই মাসের সর্বোচ্চ

গত কয়েক দিন ধরে বস্ত্র খাতে আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছিল। আজ তা বেড়ে হলো দুইশ কোটি টাকার পাশেপাশে। লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির লেনদেনও।

লেনদেনে বস্ত্র খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২২ শতাংশ কোম্পানির।

সবচেয়ে বেশি কোম্পানির দর অবশ্য বেড়েছে প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এর মধ্যে প্রকৌশলে ৮৪ শতাংশ এবং ওষুধ খাতের ৮১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারে অর্থ যোগ হয়েছে।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।

দিনের সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাত অবশ্য ছিল বিবিধ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নের সঙ্গে বস্ত্রের অবস্থান ছিল কাছাকাছি।

বিবিধ খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২৭৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নে হাতবদল হয়েছে ১৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্রে হাতবদল হয়েছে ১৯৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

চামড়া, প্রকৌশল, বিমা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও লেনদেন ছাড়িয়েছে একশ কোটি টাকার বেশি।

সূচক বাড়ালো যেসব কোম্পানি

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এই গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ক্রমেই কমছিল। এর মধ্যে এক দিনে বাড়ল চারটি কোম্পানির দর। তবে কোম্পানিটির ইসলামি সুকুক বন্ড অভিহিত মূল্যের আরও একটু নিচে নেমে গেছে।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ

সূচক যত পয়েন্ট বেড়েছে, তার অর্ধেকের বেশি বাড়িয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড একাই। টানা দরপতনের মধ্যে থাকা এই কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনেই বেড়েছে ৫.২৭ পয়েন্ট। এতে সূচক যোগ হয়েছে ১৮.৯ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এসিআই লিমিটেডের শেয়ারদর ৭.৫৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৫৯ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো গ্রুপেরই আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর ১.৭৬ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৩ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস, ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণ ফোন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ইউনিলিভার, স্কয়ার ফার্মা ও লিনডে বিডিও সূচকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ৪৬ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৭.৪৩ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে রবি। কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১.২৬ পয়েন্ট।

ইউনাইটেড পাওয়ার, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ওয়ালটন, বিএসআরএম স্টিল, ট্রাস্ট ব্যাংক, অলিম্পিক একসেসোরিজ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, জিপিএইচ ইস্পাত ও ডাচ বাংলা ব্যাংকও সূচক কিছুটা কমিয়েছে।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
সূচক নিচে টেনে নামিয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পনি সূচক কমিয়েছে ২২.০১ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির ১০ কোম্পানি

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির ৫টিই বস্ত্র খাতের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর বেড়েছে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যারের ৯.৮৮ শতাংশ। আগের দিন শেয়ারদর ছিল ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা, সেটি বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও দুটি কোম্পানির শেয়ার দর নয় শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর একটি নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯.৭৭ শতাংশ। অপরটি সেন্ট্রাল ফার্মা, যার দর বেড়েছে ৯.৩৫ শতাংশ।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা দেশ গার্মেন্টসের দর ১৮৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৮.৭১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০৪ টাকা ৫০ পয়সা।

সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে পাঁচটি কোম্পানির। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৭.৭৯ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৭.৩৫ শতাংশ, মুন্নু ফেব্রিক্সের দর ৭.৫৬ শতাংশ ও তাল্লু স্পিনিংয়ের দর ৭.৫১ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের এসিআইয়ের দর ৭.৫৭ শতাংশ।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই খাতগুলো

দর পতনের ১০ কোম্পানি

দর পতনের শীর্ষে ছিল রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, যার দর কমেছে ৫.১৯ শতাংশ। চার শতাংশের বেশি দর কমেছে তিনটি কোম্পানির। এর মধ্যে শমরিতা হসপিটালের ৪.৬১ শতাংশ, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪.৩৭ শতাংশ ও পদ্মা লাইফের দর ৪.২৩ শতাংশ কমেছে।

এছাড়া আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৩.৭৫ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৬৪ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৩.২৯ শতাংশ, জিলবাংলা সুগার মিলের ৩.১১ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

নবম অবস্থানে থাকা এম আই সিমেন্ট ২.৯১ শতাংশ আর দশম অবস্থানে থাকা ফাস ফাইনান্স দর হারিয়েছে ২.৮৫ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের ১৭৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফরচুন সুজের লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৬টি।

সূচকের উত্থান অব্যাহত, আগ্রহের নতুন ঠিকানা বস্ত্র
বেশিরভাগ খাতেই লেনদেন বেড়েছে বুধবার

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে লেনদেন হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০টি।

সাইফ পাওয়ারটেকে ৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, এসিআইয়ে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাতে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মায় ৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলে ২৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং পাওয়ারগ্রিডের ২৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সূচকের অবস্থান ধরে রাখল বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ খাত
দেড় মাস পর সর্বোচ্চ সূচক
স্বল্প মূলধনি আবার চাঙা
পুঁজিবাজার তহবিলে ব্যাংকের টাকা কত, জিজ্ঞাসা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Evidence of corruption of IDRA chairman in BFIU report

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ‘দুর্নীতির প্রমাণ’ আদালতে জমা

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ‘দুর্নীতির প্রমাণ’ আদালতে জমা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন। ফাইল ছবি
নিউজবাংলার কাছে আসা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিএফইইউ মোশাররফ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩০টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পায়। এর মধ্যে ১৮টি হিসাবে ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা জমার হিসাব পাওয়া যায়।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ।

সংস্থাটি এরই মধ্যে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দের দ্বৈত বেঞ্চে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর ১৬ জুন শুনানির তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

মোশাররফের বিরুদ্ধে দুটি কোম্পানি গঠন করে সেগুলোর নামে প্রভিডেন্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড গঠন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪ কোটি টাকার বেশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, একাই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানে ৫০ টাকার বিপক্ষে ১০ টাকা হারে ও স্পন্সর শেয়ারে সন্দেহজনক লেনদেন, আইন ও বিধিবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনসহ দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও ক্ষমতার অপব্যবহার অভিযোগে হাইকোর্টের নজরে এনে জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন করা হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিএফইইউকে নির্দেশ দেয়।

তার এসব অনিয়মের বিষয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ তাদের ডাটাবেজে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে।

মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের মে মাসে আইডিআরএর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বিমার শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর একই বিষয় আবার দেখা দেয়।

অভিযোগ ওঠে, তিনি নিজেই বিমার শেয়ারে বিনিয়োগ করে পরে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টরা ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন।

যেভাবে উত্থান হয়েছিল, বিমার শেয়ারে পতনও হয়েছে সেভাবে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পরের বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে বিমার কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারদর ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে, কোনোটির দর বেড়েছে ৮ গুণ, কোনোটির ৬ গুণ। দাম আরও বাড়বে ভেবে উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে এখন মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের।

বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর এখন এক বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে। এই সময়ে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর অর্ধেক হয়ে গেছে, কোনোটির দর তার চেয়ে বেশি কমে গেছে।

নিউজবাংলার কাছে আসা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিএফইইউ মোশাররফ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩০টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পায়। এর মধ্যে ১৮টি হিসাবে ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকার জমার হিসাব পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম মোশাররফ হোসেনের মোবাইল কল করা হলেও তা রিসিভি করেননি। রিং হওয়ার পর তা কেটে দেন। এমনকি মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়েও তার জবাব পাওয়া যায়নি। পরে আবার কল করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

যেভাবে দুর্নীতি

মোশাররফ এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর ‘মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অ্যান্ড কোম্পানি’র নামে নগদ ৫০ লাখ টাকার দুটি এফডিআর করেন, যার সঙ্গে মোশাররফের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে বিএফআইইউ সন্দেহ প্রকাশ করে।

এই হিসাবের বিবরণীতে ২১ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর নগদ অর্থ জমা দেখানো হয়, যার অর্থের উৎস গোপন করা হয়।

‘লাভস অ্যান্ড লাইভ অর্গানিকস লিমিটেড এবং ‘গুলশান ভ্যালি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বাইরে কাশফুল ডেভেলপার্স লিমিটেড নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ।

এখানেও কর্মচারীদের কল্যাণের জন্য গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ড ফান্ড গঠন করেন মোশাররফ। এই ফান্ড দুটি পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয় যার চেয়ারম্যান হন তিনি নিজে, সেক্রেটারি তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া এবং অন্যতম সদস্য মোশাররফের শাশুড়ি লাভলি ইয়াসমিন।

বিধি অনুযায়ী কর্মচারীদের প্রদেয় বেতন/মজুরির সাড়ে ৭ শতাংশ হারে প্রতি মাসের শেষ কর্মদিবসে বোর্ড অফ ট্রাস্টিকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সেই তিনটি প্রভিডেন্ড ও তিনটি গ্র্যাচুইটি ফান্ড হিসেবে যে পরিমাণ অর্থ জমা হয় (প্রায় ৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা), তা প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে পরিচালিত হিসাবে সম্পাদিত লেনদেনের (প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা) সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই ছয়টি ফান্ডের হিসাবে নগদ ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইএফটি, ক্লিয়ারিং ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ জমা হয় এবং ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন, ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বরাবর পে-অর্ডার, অবশিষ্ট ২০ শতাংশ টাকা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর এবং মোশাররফের নিজের নামে ছয়টি এফডিআর/টিডিআর করা হয়।

এই ছয়টি হিসাবে সম্পাদিত লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকির প্রয়াস গ্রহণ করা হয়ে থাকতে পারে মর্মে বিএফআইইউ সন্দেহ প্রকাশ করে।

বিএফআইইউ তাদের পর্যালোচনায় মোশাররফ ঘোষিত পেশা, অর্থের উৎস ও হিসাব খোলার উদ্দেশ্যের সঙ্গে হিসাবগুলোয় সম্পাদিত লেনদেনের অসামঞ্জস্যতা পায়। এসব লেনদেনের সঙ্গে ঘুষ ও দুর্নীতির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে সন্দেহে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩(১) (ক) ধারার আওতায় এ বিষয়ে বিএফআইইউ ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠায়।

সেই প্রতিবেদনে ব্যাংক হিসাবে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ লেনদেন, প্রভিডেন্ড/গ্র্যাচুইটি ফান্ড হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকির প্রয়াস গ্রহণ এবং বেনামে ৫০ লক্ষ টাকার এফডিআর খোলার সময় অর্থের উৎস গোপন, ছদ্মাবৃত বা আড়াল করা ও এক্ষেত্রে তিনজন ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তা বা পরামর্শ প্রদানের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

কিন্তু বিএফআইইউ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠানোর পর ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন মোশাররফ হোসেনের বিষয়ে আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে থেকে ফান্ড গঠনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিমা কোম্পানির শেয়ারে অবৈধ লেনদেন এবং তারই (কর্তৃপক্ষের) নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানিতে উৎসহীন বিনিয়োগের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) তদন্ত চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মালিকদের শেয়ার বিক্রি, অবশেষে ঘুম ভাঙল আইডিআরএ’র
বিমার শেয়ার: দাম বৃদ্ধির পর ১ কোটি ১৫ লাখ বিক্রি মালিকদের
কমিশন আইন অমান্য করে চাকরিচ্যুত জনতা ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা
মেটলাইফের প্রিমিয়াম ওয়ানের এজেন্ট ব্যাংকেও
এবার ফারইস্ট লাইফের বোর্ড পুনর্গঠন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Stopped fall by two percent

দুই শতাংশের ‘বাধায়’ থামল পতন

দুই শতাংশের ‘বাধায়’ থামল পতন
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের টানাটানি দেখা দেয়। প্রথম এক ঘণ্টায় ১৫ পয়েন্ট পতনে আবার দরপতনের শঙ্কা কাটে পরের আড়াই ঘণ্টায়। তখন সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। বেলা একটা ৪০ মিনিট থেকে এক টানে লাফ দিয়ে বাড়ে সূচক।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে লেনদেনের একেবারে শেষ বেলায় ক্রয়চাপে উত্থান হলো পুঁজিবাজারে। দিনভর সূচকের টানাটানি থাকলেও শেষ সময়ে এসে হঠাৎ দ্রুত বাড়তে থাকে শেয়ারদর, উঠে যায় সূচক।

পুঁজিবাজার চাঙা করতে অর্থমন্ত্রীর নানা নির্দেশনার পরও বাজারে মন্দাভাবের মধ্যে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশে নামিয়ে আনার পর প্রথম কর্মদিবসে এই চিত্র দেখা গেল।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে ধস ঠেকাতে ‘দুই শতাংশের এই বাধা’ দেয়ার পর লেনদেনে যে গতিহীনতা দেখা গিয়েছিল, সেটি থেকে বাজার বের হতে পারেনি। যদিও আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেশি লেনদেন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের টানাটানি দেখা দেয়। প্রথম এক ঘণ্টায় ১৫ পয়েন্ট পতনে আবার দরপতনের শঙ্কা কাটে পরের আড়াই ঘণ্টায়। তখন সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। বেলা একটা ৪০ মিনিট থেকে এক টানে লাফ দিয়ে বাড়ে সূচক।

এই ৫০ মিনিটে আরও ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন। যদিও লেনদেন শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে বেড়েছিল আরও ১৫ পয়েন্ট। তবে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে ওটা আর যোগ হয়নি।

তারপরেও ৫০ পয়েন্টের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি যোগাবে।

গত রোববার ১১৫ পয়েন্ট মিলিয়ে আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট দরপতনের পর পুঁজিবাজার নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে এই বৈঠকে তিনি বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

পাশাপাশি আইসিবির মাধ্যমে বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখার নির্দেশনা দেন। এর পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তহবিলের মেয়াদ ও আকার বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।

দুই শতাংশের ‘বাধায়’ থামল পতন
বৃহস্পতিবার সূচকের উত্থানের প্রায় পুরোটাই হয়েছে একেবারে শেষ বেলায়

এরপর সোমবার ১১৮ পয়েন্ট উত্থান হয়। কিন্তু এর পরের দুই দিন আবার দরপতনের মধ্য দিয়ে যায় পুঁজিবাজার। মঙ্গলবার ৫০ পয়েন্টের পর বুধবার আরও ২৩ পয়েন্ট হারায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক।

এরপর সন্ধ্যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, একদিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২ শতাংশ করা হবে, এটি কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার থেকে।

উক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে।

পুঁজিবাজারে এক দিনে কোনো কোম্পানির ২ শতাংশ দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দাম কমলে শেয়ারের চাহিদা বাড়লে আবার দর বাড়ার প্রবণতাও দেখা দেয়। কিন্তু ২ শতাংশের এই নির্দেশনা আসার পর দেখা যাচ্ছিল, ২ শতাংশ দাম কমে গেলে শেয়ারের আর ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে দিনের পর দিন কোম্পানিগুলোর দরপতন হচ্ছিল। আর ক্রেতা না থাকায় লেনদেন ক্রমেই কমছিল।

রোজা শুরুর আগে বাজারে এক হাজার এক শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তা নেমে আসে চার শ কোটি টাকার ঘরে।

এরপর ২০ এপ্রিল দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেনদেন বাড়তে থাকে।

তবে ঈদের পর আবার বাজার পতনের ধারায় ফিরে যায়।

বিএসইসি দরপতন রোধে ২ শতাংশে ভর করার পর প্রথম কর্মদিবসে এক দিনেই বাড়ল ২৭৩টি কোম্পানির শেয়ারদর, কমেছে ৬১টির আর দর অপরিবর্তিত থাকে ৪০টির।

বেলা শেষে হাতবদল হয় ৫৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ৫১৩ কোটি ১১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

চামড়া, সিরামিক, কাগজ ও প্রকাশনা, সেবা ও আবাসন, ভ্রমণ ও অবকাশ, পাট ও করপোরেট বন্ড খাতে সব কোম্পানির দরই বেড়েছে।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ভালো দিন গেছে বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সাধারণ ও জীবন বিমা, ব্যাংক, আর্থিক ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দরই।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ইমাম বাটন গত এক যুগেও লভ্যাংশ দেয়নি লোকসানের কারণে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এমারেল্ড অয়েল পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি উৎপাদন শুরু করেছে। তবে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে আরও এক বছর সময় লাগবে। তবে সরকার ধানের কুঁড়ার তেলের উৎপাদনে জোর দেবে- এমন একটি ঘোষণা আসার পর দাম বাড়ছে।

আরও ছয়টি কোম্পানির দর ৬ শতাংশের বেশি, ৯টি কোম্পানির দর ৫ শতাংশের বেশি, ১৬টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ২৩টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৪৭টির দর ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

অন্যদিকে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ ছুঁয়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল কমই। আগের দিন দুই শতাংশের বেশি দর কমেছিল অসংখ্য কোম্পানির। সেখানে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার পর এই সংখ্যাটি কমে পাঁচে নেমেছে।

আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্থানেও সতর্কতা
সাকিবের স্বর্ণের ব্যবসা: শোকজ নয়, জানতে চেয়েছে বিএসইসি
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mass to two percent again to prevent collapse

পতন ঠেকাতে আবার ‘দুই শতাংশে ভর’

পতন ঠেকাতে আবার ‘দুই শতাংশে ভর’
ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে। পরে ২০ এপ্রিল দর পতনের সীমা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়।

পুঁজিবাজারে এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা আবার ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ঈদের পর থেকে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে বুধবার এই সিদ্ধান্ত জানায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

বিকেলে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা আগের মতোই ১০ শতাংশ থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে পাঁচ টাকার নিচে থাকা কোনো কোম্পানির শেয়ারদর কমতে পারবে না, কেবল বাড়া সম্ভব। ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। ১০ টাকা থেকে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা।

১৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, ২০ টাকা থেকে ২৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, ২৫ টাকা থেকে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা।

৩০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমবে সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, ৩৫ টাকা থেকে ৩৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। ৪০ টাকা থেকে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮০ পয়সা, ৪৫ টাকা থেকে ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা পয়সা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা এবং ৫০ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৯০ পয়সা পয়সা পর্যন্ত শেয়ারে সর্বোচ্চ এক টাকা দর কমতে পারবে।

ঈদের পর পুঁজিবাজারে ধসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে নানা সিদ্ধান্তের পরও বাজার পড়তে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে।

পুঁজিবাজারে এক দিনে কোনো কোম্পানির ২ শতাংশ দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দাম কমলে শেয়ারের চাহিদা বাড়লে আবার দর বাড়ার প্রবণতাও দেখা দেয়। কিন্তু ২ শতাংশের এই নির্দেশনা আসার পর দেখা যাচ্ছিল, ২ শতাংশ দাম কমে গেলে শেয়ারের আর ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে দিনের পর দিন কোম্পানিগুলোর দরপতন হচ্ছিল। আর ক্রেতা না থাকায় লেনদেন ক্রমেই কমছিল।

রোজা শুরুর আগে বাজারে এক হাজার এক শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তা নেমে আসে চার শ কোটি টাকার ঘরে।

এরপর ২০ এপ্রিল দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেনদেন বাড়তে থাকে।

তবে ঈদের পর আবার বাজার পতনের ধারায় ফিরে যায়। টানা আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচক পড়ার পর রোববার রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা রয়ে গিয়েছিল, সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় লেনদেনেই। বাজারে সক্রিয় না হয়ে আরও অপেক্ষার নীতি নেয়ায় লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

এই ১১৮ পয়েন্টের মধ্যে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে যায় দুই দিনে। এরপর বিকেলে দরপতনের সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্থানেও সতর্কতা
সাকিবের স্বর্ণের ব্যবসা: শোকজ নয়, জানতে চেয়েছে বিএসইসি
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BSEC is going to open a Facebook page to prevent rumors

গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক পেজ খুলতে যাচ্ছে বিএসইসি

গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক পেজ খুলতে যাচ্ছে বিএসইসি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদেরকে সঠিক তথ্য দিতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন আইডি খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য জানতে ফেসবুকে পেজ ও ও লিংকডইন আইডি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নাম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা রোধে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বিনিয়োগকারীরা সঠিক তথ্য প্রদান এবং ভুয়া ফেসবুক পেজে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়া।

এর পাশাপাশি বিএসইসির নাম ব্যবহার করে যেসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেগুলো বন্ধেরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিএসইসির নাম, লোগো ব্যবহার করে ফেসবুক পেজ বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে পেজ খোলা অবৈধ। এ কারণে কমিশনের নাম ও লোগো ব্যবহার করে যেসব ফেসবুক, লিংকডইন, টুইটার সচল রয়েছে, সেগুলো অচিরে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজার নিয়ে বেআইনিভাবে কমিশনের নাম ও লোগো ব্যবহার করে আসছিল এমন দুটি পেজ এর মধ্যে রয়েছে- https://www.facebook.com/bsecbangladesh ও https://www.facebook.com/SECBD/

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদেরকে সঠিক তথ্য দিতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন আইডি খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পুঁজিবাজারে দরপতন ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থানের ক্ষেত্রে প্রায়ই গুজবের বিষয়টি সামনে আসে। এসব ঘটনায় বিএসইসি আইনি পদক্ষেপও নিচ্ছে।

বাজারে আরও দরপতন হবে এবং কত পর্যন্ত সূচক কমবে- এমন স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনায় মাহবুবুর রহমান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিও থেকে লেনদেন নয়
পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোয় গ্রেপ্তার
পুঁজিবাজারে ধস: এবার ফ্লোর প্রাইস নয়
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
প্রথম নারী কমিশনার পেল বিএসইসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
When to produce oil in Emerald

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে এমারেল্ড অয়েলের স্পন্দন তেল ২০১৭ সালের পর থেকে আর বাজারে আসেনি।
মিলটির ইনচার্জ আহসান হাবিব বেগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি খারাপ হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি উৎপাদন চালু করতে দেরি হচ্ছে। চাহিদা থাকলেও আমাদের আগামী এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসের। চাপ কম থাকায় আমরা উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে পারি না।’

ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে টালমাটাল পরিস্থিতিতে সরকার দেশে ধানের কুঁড়ার তেল বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে- এমন একটি বক্তব্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারদরে দিয়েছে লাফ। তবে কোম্পানিটি কবে তেল উৎপাদন শুরু করতে পারবে, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছেন না কোম্পানিসংশ্লিষ্টরা।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে মালিকরা জড়িয়ে পড়ার পর ২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটিতে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করছে মিনোরি বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

গত ৯ জানুয়ারি এমারেল্ডের পক্ষ থেকে ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জে উৎপাদন শুরুর নোটিশ এলেও পরিস্থিতি ভিন্ন।

সেই নোটিশে বলা হয়, পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফল হওয়ার পর কোম্পানিটি সেদিন থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

কোম্পানিটি স্পন্দন ব্র্যান্ডের তেল বাজারজাত করে দেশে সাড়া ফেলেছিল। সয়াবিন তেল সংকটেও কোম্পানিটির সেই তেল বাজারে না আসার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু বলতে এখনও মানুষের খাওয়ার উপযোগী তেল উৎপাদনের কাছাকাছি যেতে পারেনি কোম্পানিটি।

মিলটির ইনচার্জ আহসান হাবিব বেগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ক্রুড অয়েল তৈরি করছি। এটা খুলনায় পাঠানো হচ্ছে। এটি এখন মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।’

এই কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি এই অশোধিত অয়েল উৎপাদন শুরু করা হয়। এই তেল পরিশোধন করে মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার মতো যন্ত্রগুলো নষ্ট। তাও আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে প্রায়ই।

কবে নাগাদ তেল পাওয়া যাবে- জানতে চাইলে আহসান হাবিব বেগ বলেন, ‘দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি খারাপ হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি উৎপাদন চালু করতে দেরি হচ্ছে।

‘চাহিদা থাকলেও আমাদের আগামী এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসের। চাপ কম থাকায় আমরা উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে পারি না।’

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে
শেরপুরের শেরীপাড়ায় এমারেল্ড অয়েলের কারখানা

কোম্পানিটি থেকে তেল পাওয়ার অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারাও। শহরের রাজাবাড়ী মহল্লার চান মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা স্পন্দন তেলডা খাইতাম। তেলডার মধ্যে ক্ষতিকর কিছু না থাকায় আমরা নিয়মিত খাইতাম।’

নয়ানী বাজারের আব্দুর রফিক বলেন, ‘স্পন্দন তেলের তো চাহিদা অনেক ছিল। হুনলাম, মালিক নাকি জেলে। তাই মেলটি বন্ধ হয়ে গেছেগা। এহন তো আমরা তেল খাইতে পারতাছি না। তেলডা তো বালাই আছিল। তাই আমরা চাই এই মিলডা থাইকা তেল তৈরি করা হোক।’

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ছেই। সেই সঙ্গে বাড়ছে দেশে। আবার দাম বাড়ার পর সরবরাহ সংকটেও ভোক্তাদের ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সরিষা ও ধানের কুঁড়ার বা রাইস ব্র্যান অয়েলের উৎপাদন বাড়ানো হবে।

গত ১৮ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা শুধু সয়াবিন ও আমদানিনির্ভর থাকব না, সয়াবিনের বিকল্প সরিষা ও রাইস ব্র্যান কিংবা ক্যানোলা তেল খাব, আমাদের সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‘ইতোমধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে দেশে সরিষা ও রাইস ব্র্যান উৎপাদন বাড়ানোর। কৃষি মন্ত্রণালয় এ নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করছে।’

দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন ৫০ হাজার টন। সরকার হিসাব করে দেখেছে এটি সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে আমাদের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার ২৪ থেকে ২৫ পার্সেন্ট রাইস ব্র্যান থেকেই মিটে যাবে।

মন্ত্রী এই বক্তব্য দেয়ার দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩২ টাকা। পরদিন লাফ দিয়ে দাম উঠে যায় ৩৪ টাকা ৮০ পয়সায়।

পুঁজিবাজার এখন টালমাটাল পরিস্থিতিতে থাকলেও এই কোম্পানিটির শেয়ারদর সেভাবে প্রভাব পড়েনি। বুধবার দর ৩৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে যাবে, এমন সম্ভাবনায় মাস আটেক আগে শেয়ারদর এক পর্যায়ে ৪৫ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে
উৎপাদন শুরুর নিশ্চয়তা না থাকলেও সম্প্রতি এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারদর বেড়ে চলেছে

২০০৯ সালে জামালপুরের সৈয়দ হাসিবুল গনি গালিব শেরপুর শহরে এই কারখানা গড়ে তোলেন। স্পন্দন নামে বাজারে ছাড়া এই তেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চাহিদাও বাড়তে থাকে।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালে ১০ টাকা করে অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে পুঁজিবাজার থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দুই বছর পর রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার কারণে ২০১৬ সালের ২৭ জুন থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানিটির। মামলার আসামি হয়ে মালিকপক্ষ উধাও হয়ে যায়।

শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি এ রকম রুগ্ণ বেশ কিছু কোম্পানিকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি এমারেল্ড অয়েল।

এর অংশ হিসেবে জাপান প্রবাসী এক বাংলাদেশির কোম্পানি মিনোরি বাংলাদেশ কোম্পানিটি চালুর উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়।

২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বরে উৎপাদন চালুর ঘোষণা দিয়েও পারেনি কোম্পানিটি। এই ঘটনায় সে সময় কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করে আর্থিক লোকসানে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।

আরও পড়ুন:
সোমবার উৎপাদনে ফিরছে আরএসআরএম স্টিল
এমারেল্ডে সাহায্যের হাত বিএসইসির
যে জটিলতায় আটকে এমারেল্ডের উৎপাদন
সেপ্টেম্বরে ‘জাগবে’ এমারেল্ডের স্পন্দন
জাপানি মিনোরিতে আবার জাগবে এমারেল্ডের স্পন্দন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the fall the transaction sank to the bottom

আবার পতনে লেনদেন নামল তলানিতে

আবার পতনে লেনদেন নামল তলানিতে
দিন শেষে কমেছে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার দর, বেড়েছে ৭৬টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৯টির দর। লেনদেন হয়েছে ৫১২ কোটি ৭৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসের লেনদেনের পর সর্বনিম্ন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের বৈঠকের পর দিন উত্থান হলেও এরপর টানা দুই দিন দরপতন হলো পুঁজিবাজারে। বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তায় লেনদেনও নেমে এসেছে পাঁচ শ কোটির ঘরে।

সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবস বুধবার দর হারিয়েছে আড়াই শ টি কোম্পানি, যার মধ্যে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়েছে বেশ কিছু কোম্পানি।

চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ১১৫ পয়েন্ট পতনের পর দিন ১১৮ পয়েন্ট উত্থানে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে চাপ কাটবে ভেবেছিলেন যারা, তারা আবার হয়েছেন আশাহত।

মঙ্গলবার ৫০ পয়েন্ট দরপতন আস্থায় যতটা চিড় ধরিয়েছিল পর দিন আরও ২৩ পয়েন্টের পতন আরও আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে।

অবশ্য লেনদেন শুরুর সোয়া এক ঘণ্টায় সূচক ৭১ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল। পরে বেলা দেড়টার দিকে এর পুরোটাই পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু শেষ ঘণ্টায় আবার পতন হয়।

দিন শেষে কমেছে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার দর, বেড়েছে ৭৬টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৯টির দর।

লেনদেন হয়েছে ৫১২ কোটি ৭৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসের লেনদেনের পর সর্বনিম্ন।

অবশ্য গত এক যুগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি থাকে কম, তখন লেনদেনও সেভাবে হয় না।

এবার ঈদের ছুটি শেষে ৫ মে কর্মদিবস থাকলেও পরের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেদিন লেনদেন ছিল কম। হাতবদল হয় ৪৬৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

তবে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববারই লেনদেন ৯৭২ কোটি টাকা ছাড়ায়। এর পরের তিন কর্মদিবসে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়।

১২ মে থেকে বাজারে আবার লেনদেন ও সূচক কমতে থাকে।

আবার পতনে লেনদেন নামল তলানিতে
সোমবার উত্থানের পর টানা দুই দিন দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা

ঈদের অবসর শেষে টানা আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচকের পতনের পর রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা রয়ে গিয়েছিল, সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় লেনদেনেই। বাজারে সক্রিয় না হয়ে আরও অপেক্ষার নীতি নেয়ায় লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

এই ১১৮ পয়েন্টের মধ্যে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে গেল দুই দিনে।

পুঁজিবাজারের লেনদেন নিয়ে মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে এখন সমস্যা হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক। দাবি আদায়ের বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার। বাজার খারাপের কোনো টেকনিক্যাল ইস্যু নেই। অভ্যন্তরীণ চাওয়া-পাওয়ার জেরেই বাজার এমন।

‘বাজার খারাপের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তাই পড়ছে, তাহলে যেদিন ১১৮ পয়েন্ট বাড়ল সেদিন কীভাবে অর্থনীতি ভালো হয়ে গেল? আবার পরের দিন যখন ৭০ পয়েন্ট পড়ল তখন কি একদিনই অর্থনীতি খারাপ হয়ে গেল?

‘মূল ব্যাপারটা হচ্ছে, বাজারকে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দেয়া হচ্ছে না। যখন ইচ্ছা হচ্ছে তখন কেনা হচ্ছে, যখন ইচ্ছা হল না তখন কিনছে না, এ রকম পদ্ধতিতে বাজার চলছে।’

তিনি বলেন, 'শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ রাইজিংয়ের মধ্যে আছে। পাকিস্তানের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থানে। তারপরও তাদের স্টক মার্কেট হাই। এমনকি ভারতেও তাই। কিন্তু বাংলাদেশের এই অবস্থা!’

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সেল প্রেসার বাড়িয়েছে। একদমই বাই করছে না। কারণ তারা নিচে নামিয়ে কিনতে চায়।'

'এর আগে যখন বাজারের সূচক ৫ হাজারের নিচে নেমে যায় তখন মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো আট হাজার কোটি টাকার মতো লাভ করেছে, সেটা পত্রপত্রিকায় আমরা দেখেছি। মার্কেট পড়লে আবার তারা কিনবে।'

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার
আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sri Lankan companies are coming to the countrys capital market

ব্রোকারেজ ব্যবসায় নামছে শ্রীলঙ্কান কোম্পানি

ব্রোকারেজ ব্যবসায় নামছে  শ্রীলঙ্কান কোম্পানি রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাল সিকিউরিটিজের বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ক্যাল সিকিউরিটিজ বিএসইসি থেকে শেয়ার কেনাবেচায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার লাইসেন্স পেয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, এই ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বেটা ওয়ান মার্চেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে অধিগ্রহণ করেছে, যার কার্যক্রম চলমান।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ ব্যবসায় আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক শ্রীলঙ্কান বহুজাতিক কোম্পানি ক্যাল সিকিউরিটিজ।

আগামী ১ জুন থেকে যৌথ মূলধনি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করছে তারা।

ব্রোকারেজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার কেনাবেচার বাইরেও সঠিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে গবেষণানির্ভর ব্যবসা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কোম্পানির চেয়্যারম্যান অজিত ফার্নান্দো, পরিচালক ও বাংলাদেশি অংশীদার গ্রামীণফোনের সাবেক ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ আহমেদ রায়ান সামসি, চিফ অপারেটিং অফিসার (সিইও) জুবায়ের মহাশিন কবির, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সাহা, পুষ্প রাজাসহ অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে শেয়ার কেনাবেচায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার লাইসেন্স পেয়েছে ক্যাল সিকিউরিটিজ। শুধু তাই-ই নয়, এই ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বেটা ওয়ান মার্চেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে অধিগ্রহণ করেছে, যার কার্যক্রম চলমান।

মালিকানা পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি ক্যাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামে পরিচালিত হবে, যা এ দেশের পুঁজিবাজারের বৈশ্বিক বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে কোম্পানির চেয়ারম্যান অজিত ফার্নান্দো বলেন, ‘ক্যাল বাংলাদেশ গতানুগতিক ব্যবসার বাইরে গিয়ে ব্রোকারেজে নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুরুর আগেই বাংলাদেশের মাইক্রো অর্থনীতির ওপর একটি গবেষণা করেছি, যাতে দেখা গেছে বাংলাদেশে আগামী দিনে বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনেক বেশি। পুঁজিবাজারও অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই আমরা।’

‘আমরা আরও দেখেছি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্যাপিটাল মার্কেটের গুরুত্ব এই মুহূর্তে অনেক বেশি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই আমরা। এর মাধ্যমে আমরা শুধু গতানুগতিক শেয়ার কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ থাকব না; বরং পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির উন্নয়নে বহুমুখী গবেষণাকাজেও জোর দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাতে এই গবেষণা সম্পর্কিত প্রতিবেদন আমরা বিশ্বের সেরা ফ্রন্টিয়ার কোম্পানিগুলোর কাছে তুলে ধরব, যাতে তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি ক্যাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের নিবন্ধিত ক্লায়েন্টদের মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী করার পাশাপাশি লাভ-লোকসানের পূর্বাভাস বুঝে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রেও আমরা নেপথ্যে ভূমিকা রাখব।

এতে করে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগও নিরাপদ হবে।’

‘শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। আপনারা সেখানে বিনিয়োগ না করে কেন বাংলাদেশে ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন?’

এক সাংবাদিকের করা উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে অজিত ফার্নান্দো বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো এ দেশে ব্যবসা পরিচালনায় শ্রীলঙ্কার তুলনায় খরচ কম এবং মুনাফা বেশি।

‘তা ছাড়া বাংলাদেশে আগামী দিনে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রবল। ফলে কাজ করার অনেক সুযোগও আছে। সে কারণে আমরা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি।’

কোম্পানির পরিচালক আহমেদ রায়হান শামসি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন মাত্রায় অবদান রাখতে চায় ক্যাল বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে প্রতিষ্ঠানটির ২২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

‘এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ পুঁজিবাজারে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই কোম্পানিটির সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতির দিক থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগামী ২০ বছর পরে আরও ভালো অবস্থানে যাবে। এই সম্ভাবনা দেখে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে।

‘এই ব্যবসা শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে, যা বাংলাদেশের সুনাম বা ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়াবে। বৈশ্বিক বিনিয়োগও ত্বরান্বিত করবে।’

রাজেশ সাহা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি এবং গবেষণানির্ভর বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগ পণ্য এবং সেবা চালু করবে, যা বিনিয়োগকারী এবং পুঁজি উত্তোলনকারী উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সংযোজন করতে ভূমিকা রাখবে।’

কোম্পানির পরিচালক পুষ্প রাজা বলেন, ‘একটি গবেষণা করেছি, যাতে দেখা গেছে বাংলাদেশে আগামী বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনেক বেশি।’

আরও পড়ুন:
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার
আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি

মন্তব্য

p
উপরে