× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Dignified country with its own resources not to get its hands on Prime Minister
hear-news
player
print-icon

হাত পেতে নয়, নিজের সম্পদে মর্যাদাশীল দেশ: প্রধানমন্ত্রী

হাত-পেতে-নয়-নিজের-সম্পদে-মর্যাদাশীল-দেশ-প্রধানমন্ত্রী
ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২১-২০২২’-এর গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব সময় বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে হবে, সম্মানের সঙ্গে, মর্যাদার সঙ্গে। সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়, আমাদের যা সম্পদ আছে তা দিয়েই নিজেদের বিশ্বে মর্যাদাশীল করে গড়ে তুলেছি, আরও গড়ে তুলব, সামনে এগিয়ে যাবে।’

কারও কাছে হাত পেতে নয়, দেশের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে দেশকে বিশ্ব দরবারে আরও মর্যাদাশীল আসনে নিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিবেদিতপ্রাণ হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা যাতে কেউ থামিয়ে দিতে না পারে, সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে।’

ঢাকার মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে বুধবার সকালে ‘ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২১-২০২২’-এর গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব সময় বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে হবে, সম্মানের সঙ্গে, মর্যাদার সঙ্গে। সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়, আমাদের যা সম্পদ আছে তা দিয়েই নিজেদের বিশ্বে মর্যাদাশীল করে গড়ে তুলেছি, আরও গড়ে তুলব, সামনে এগিয়ে যাব।’

বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, একটা সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা ছিল। তবে এখনও কিছু কিছু লোক আছে, বাংলাদেশ সম্পর্কে বদনাম করতে পছন্দ করে। কিন্তু আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা, দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা যে দক্ষতা দেখিয়েছি, তার ফলে আজকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে।’

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ঠিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের পর যে সম্মান আন্তর্জাতিকভাবে পেয়েছিলাম, '৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যে সম্মান আমরা হারিয়েছিলাম, আজ আবার সেই সম্মান আমরা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আর বাংলাদেশকে কেউ অবহেলা করতে পারে না।’

বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বদরবারে মর্যাদা পেয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আর ২০৭১ সালের আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ আমরা উদযাপন করব।

‘আমার একটাই আবেদন থাকবে, আমাদের নতুন ট্রেনিংপ্রাপ্ত অফিসার যারা, ৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সৈনিক হিসেবে কাজ করতে হবে। সব সময় মাথা উঁচু করে চলতে হবে। সব সময় দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশের এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা আর কখনও কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না- সেভাবেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।’

যুদ্ধ চাই না, আঘাত এলে চুপ থাকব না

বাংলাদেশ কারও সঙ্গে কোনো যুদ্ধ জড়াতে চায় না, তবে আঘাত এলে প্রতিরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’-এই পররাষ্ট্রনীতি জাতির পিতা আমাদের দিয়ে গেছেন। আমরা সেই নীতি মেনে চলি। আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে আমরা চুপ করে থাকব না। সেটা নিশ্চয় আমরা প্রতিরোধ করব বা প্রতিবাদ করব। সেভাবেই আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলছি।’

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর বাংলাদেশের বিশ্বাস রয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঐক্য উন্নয়নে বাংলাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা সব সময় যেখানে বিপন্ন মানবতা, আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের সীমান্ত খুলে দেশের আশ্রয় দেয়ার উদাহরণটি তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা করে যাচ্ছি, যাতে তারা স্বদেশ ভূমিতে ফিরতে পারে। কাজেই বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বের কাছে আমাদের নীতিমালার কারণে আমরা একটা সম্মানজনক অবস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি।’

স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মানদণ্ডে বিশ্বের প্রথম ৫টি দেশের মধ্যে একটি। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে এনেছি এবং মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি।’

ডিএসসিএসসি কোর্স

সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর মোট ১২৮টি কোর্স পরিচালনা করেছে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ। ৫ হাজার ৬৮৬ জন পেয়েছেন ডিগ্রি।

বাংলাদশে ছাড়াও ৪৩টি দেশের ১ হাজার ২৫৫ জন অফিসার এই কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়ে নিজ নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এবারও ১৮টি দেশের ৪৭ জন বিদেশি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ৩ জন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫১ জন পিএসসি ডিগ্রি পেয়েছেন।

গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সমরবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপর উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছেন। আমার বিশ্বাস, এসব প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন এবং যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যে কোনো জাতীয় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে থাকেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। আমরা আবারও সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গৌরবের স্থানটি ধরে রাখতে পেরেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য, আমি চাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। আমি কিন্তু সবার পদবি পরিবর্তন করা থেকে শুরু করে অনেক কাজ করে দিয়েছি। যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমানতালে আমাদের প্রতিটি সদস্য চলতে পারে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টে আবারও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি-আমলার সমন্বয় চান প্রধানমন্ত্রী
জনসেবায় ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর ২৪ নির্দেশনা
২৫ কোটি টাকা সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস
গৃহহীন আছে কি না খুঁজে বের করুন: প্রধানমন্ত্রী
দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক নিয়ম পড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Toll cost on expressway has increased due to use of Padma bridge

এক্সপ্রেসওয়েতে টোল, খরচ বাড়ল পদ্মা সেতু ব্যবহারের

এক্সপ্রেসওয়েতে টোল, খরচ বাড়ল পদ্মা সেতু ব্যবহারের বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজা। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে আগামী শুক্রবার থেকে মাঝারি ট্রাককে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা করে টোল দিতে হবে। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে কী হবে, সেটি এখনও জানানো হয়নি। এর সঙ্গে যোগ হবে পদ্মা সেতুর টোল।

পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াতের খরচ আরও বাড়ল। এতদিন ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে কোনো টাকা দিতে না হলেও এখন থেকে এই পথে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা করে টোল ঠিক করা হয়েছে।

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর পরদিন সোমবার সড়ক মন্ত্রণালয়ের টোল ও এক্সেল শাখার উপসচিব ফাহমিদা হক খান সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই শুক্রবার থেকে এ টোল কার্যকর হবে।

এই এক্সপ্রেসওয়ের আনুষ্ঠানিক নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক। এর দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এই হিসেবে পুরো সড়ক ব্যবহারের জন্য দিতে হবে ৫৫০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে সেতু পারাপারের টোল।

সেতু পারাপারে মোটর সাইকেলের জন্য সর্বনিম্ন এক শ টাকা এবং বড় বাসের জন্য দুই হাজার ৪০০ টাকা টোল ঠিক করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে এই টোলহার কেবল মাঝারি ট্রাকের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য গাড়ির ক্ষেত্রে টোলহার কী হবে, সেটি অবশ্য জানানো হয়নি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যে কোনো সময় টোল নির্ধারণ করা হয় মাঝারি আকারের গাড়িকে স্টান্ডার্ড ধরে। এখানেও আমরা সেটা করেছি। আমরা চূড়ান্ত টোল হার নির্ধারণ কাজ করছি। সেটা চূড়ান্ত হলে জানিয়ে দেব।’

পরে প্রজ্ঞাপনে সই করা মন্ত্রণালয়ের টোল ও এক্সেল শাখার উপসচিব ফাহমিদা হক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাঝারি ট্রাক আমাদের ভিত্তি। সেটাকে ধরে আমরা প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা নির্ধারণ করেছি। কোন গাড়ি কত টাকা টোল দেবে, সেটি নির্ধারণ করে আগামীকাল জানানো হবে।’

কোনো গাড়ি যদি পুরো পথ ব্যবহার না করে তাহলে কত টাকা টোল দিতে হবে- এমন প্রশ্নে ফাহমিদা বলেন, ‘ঢাকার দোলাইয়ের পাড় থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মোট ছয়টি টোল বুথ থাকবে। বুথগুলো হলো মাওয়া প্রান্তে আবদুল্লাহপুর, ধলেশ্বরী, শ্রীনগর পর্যন্ত তিনটি এবং পদ্মা সেতু পার হয়ে, কুলিয়াবাজার, মালিগ্রাম ও ভাঙ্গা পর্যন্ত আরও তিনটি টোল বুথ থাকবে। একটি বুথ দিয়ে ঢুকলে সেই গাড়িকে কমপক্ষে পরবর্তী টোলবুথ পর্যন্ত টাকা দেবে।’

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এতে অর্থ বিভাগের সম্মতি রয়েছে। পরবর্তীতে টোল নীতিমালা ২০১৪ অনযায়ী যথাসময়ে টোল হার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।
দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-ভাঙা চালু হয় ২০২০ সালের ১২ মার্চ। শুরু থেকেই জানানো হয়, এই সড়ক ব্যবহার করতে টাকা দিতে হবে। তবে পদ্মা সেতু চালুর আগ পর্যন্ত টোল বসানো হবে না, এটিও জানানো হয়েছিল আগেই।

এই সড়কে কয়েকটি সেতুতে আলাদা টোল আছে। এক্সপ্রেসওয়ের টোল চালু হওয়ায় এই সেতুগুলোর জন্য আলাদা কোনো টাকা দিতে হবে না।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর নাট খুলে গ্রেপ্তার বাইজীদ রিমান্ডে
এবার পদ্মা সেতুতে পার্কিং করে জরিমানা
যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Permission to open 11 immigration checkposts closed in Corona

করোনায় বন্ধ ১১ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর অনুমতি

করোনায় বন্ধ ১১ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর অনুমতি
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর জন্য চিঠির অনুলিপি বিজিবি মহাপরিচালক, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দপ্তর প্রধানদের দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বন্ধ থাকা ভারতের সঙ্গে ১১টি চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ।

রোববার চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ফের চালুর অনুমতি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে বিভাগটি।

অনুমতি পাওয়া চেকপোস্টগুলো হলো শেরপুরের নাকুগাঁও চেকপোস্ট; সিলেটের জকিগঞ্জ; মৌলভীবাজারের চাতলাপুর, জুরি বটুলী ও কুমারঘাট; হবিগঞ্জের বাল্লা, কুমিল্লার বিবির বাজার; ফেনীর বিলোনিয়া; ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট; কুড়িগ্রামের রৌমারী স্থলবন্দর এবং যশোরের বেনাপোল রেলওয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট।

চিঠির অনুলিপি বিজিবি মহাপরিচালক, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দপ্তর প্রধানদের দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দর্শনা দিয়ে দেশে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি
দেশে ফিরলেন আরও ১৯ বাংলাদেশি
হিলি দিয়ে ভারতফেরত ৯ জন করোনায় আক্রান্ত
দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি
দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ফিরলেন আরও ১১ বাংলাদেশি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
That is why the Padma Bridge was opened

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের বোল্টের নাট টাইট দিয়ে আঠা লাগানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভায়াডাক্ট অংশে পদ্মা সেতুর রেলিংটি বানানো হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। এসব ক্ষেত্রে বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট করার সময়, সেখানে এক ধরনের গ্লু বা আঠা ব্যবহার করতে হয়। তবে সেতু উদ্বোধনের আগে গ্লু দিয়ে সব নাট আটকানো সম্ভব হয়নি।’

পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেতুটির রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক বানানোর ঘটনা আলোড়ন তুলেছে গোটা দেশে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা, চলছে নাট টাইট দেয়ার কাজ।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি নাট খোলার ঘটনাটি ঘটে পদ্মা সেতুর জাজিরাপ্রান্তের ভায়াডাক্ট অংশে। সময় স্বল্পতায় সেতুর রেলিংয়ের সব নাট পরিকল্পনা অনুযায়ী শক্তভাবে এঁটে দেয়া যায়নি, সেতু উদ্বোধনের পর সেই কাজটি এখন চলমান।

রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সেতুতে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। রেঞ্জ দিয়ে নাট টাইট দিচ্ছিলেন তারা। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের আঠা।

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট
পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের বোল্টের নাট টাইট দিয়ে আঠা লাগানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

মেরামত কাজে জড়িত শ্রমিকরা জানান, সেতুতে রেলিং স্থাপনে বোল্টের ওপর প্রথমে একটি ওয়াসার বসানো হয়। তারপর বোল্টের নাটটি ঘুরিয়ে আটকে দেয়া হয়। এই নাট যাতে সহজে খোলা না যায় সেজন্য বোল্টের মধ্যে নাটটি কিছুদূর ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে বিশেষ এক ধরনের গ্লু (আঠা)।

টিকটকারদের ওপর কর্মকাণ্ডে সেতুর নির্মাণ শ্রমিকদেরও প্রচণ্ড বিরক্ত দেখা গেছে। বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিকে তাদের একজন বলেন, ‘এই সাইড থেকে দুইটা ফেলাইছে, ওই সাইড থেকে দু্ইটা ফেলাইছে, এরম করে বহু নাট ফেলাই দিছে। এখন নতুন করে লাগাইতে হইতাছে। বাঙালিরা টিকটক করছে, আর মনে করেন নাট ফেলাই দিছে।’

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর নাট খোলায় বাইজীদের সঙ্গী কায়সার

এই শ্রমিক বলেন, ‘এখন পদ্মা সেতুর নাট নিয়ে টিকটক করা শুরু করছে। তারে (গ্রেপ্তার টিকটকার বাইজীদ) উচিত শিক্ষা দেয়া উচিত, যে এই ক্ষতি করছে।’

কেন খোলা গেল নাট?

ভায়াডাক্ট অংশে পদ্মা সেতুর রেলিংটি বানানো হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। এসব ক্ষেত্রে বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট করার সময়, সেখানে এক ধরনের গ্লু বা আঠা ব্যবহার করতে হয়। তবে সেতু উদ্বোধনের আগে গ্লু দিয়ে সব নাট আটকানো সম্ভব হয়নি বলে জানান পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই সেতুর রেলিংয়ে লোহা নয়, ব্যবহার করা হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল। ফলে রেলিংয়ের বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট দেয়ার সময় বিশেষ এক ধরনের গ্লু (আঠা) দিতে হয়। তাতে নাটটি শক্ত করে আটকে যায়। কিন্তু এখনও গ্লু দেয়া হয়নি।’

পদ্মা সেতুতে রেলিংয়ের নাট টাইট দেয়ার সময় শ্রমিকদের ‘লকটাইট ২৬৩’ নামের একটি থ্রেডলকার ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

এই সরঞ্জামটি সম্পর্কে ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট দেয়ার সময় এটি ব্যবহার করলে সংযোগটি শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কোনো আঘাত বা কম্পন তৈরি হলেও নাটটি আর ঢিলে হয় না। উচ্চতাপে কিংবা তেল প্রয়োগেও সংযোগকে দুর্বল করা যায় না।

বোল্ট, নাট এগুলো ঠিকঠাক ও মেরামত করাকে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের চলমান প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেন দেওয়ার আব্দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘সেতুর ওপর আমাদের আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেতুতে যান চলাচলের মাঝেই সেই কাজগুলো চলতে থাকবে।’

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট
রোববার পদ্মা সেতুতে উঠে রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানান মো. বাইজীদ। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে ভায়াডাক্ট অংশের কাজ শেষ করতে সময় স্বল্পতা ছিল বলে যে দাবি শ্রমিকরা করেছেন তা স্বীকার করেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী।

দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৬ জুন পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট অংশের রেলিংয়ের নাট-বোল্টের প্রথম চালান আসে। তারপর শুরু হয় এগুলোর লাগানোর কাজ। দীর্ঘ সেতুতে ২৩ জুন পর্যন্ত সেগুলো সেট করার কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ২৪ তারিখে নিরাপত্তাজনিত কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল

তবে এরপরেও পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নাট খুলে যে ভিডিও ছাড়লো সে প্রথমে রেঞ্জ দিয়ে নাটের প্যাঁচ হালকা করে পরে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে খুলেছে।’

সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানানো বাইজীদের গাড়ি থেকে রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান দেওয়ান মো. আবদুল কাদের।

চিন্তিত নন বিশেষজ্ঞরা

নাট খুলে ফেলার ঘটনায় বিচলিত নন সেতুটি নির্মাণে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক সময় থাকে না, লোহা দিয়ে আটকে রাখা, সেগুলো। কিন্তু ব্রিজের কোনো কিছু খোলার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ব্রিজের কোনো কিছুতে হাত দেয়ার সুযোগই নেই।’

ভিডিওটি দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও কিছু কিছু টেম্পরারি স্ট্রাকচার আছে। সেগুলো আমরাই রেখেছি। সেগুলো খুলছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে আমি আর যুক্ত নই।’

সেতুর কোনো ক্ষতি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, না, না, এটি খুব সামান্য বিষয়।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kaiser the companion of the Baijis opened the nut of the Padma Bridge

পদ্মা সেতুর নাট খোলায় বাইজীদের সঙ্গী কায়সার

পদ্মা সেতুর নাট খোলায় বাইজীদের সঙ্গী কায়সার রোববার পদ্মা সেতুতে উঠে রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানান মো. বাইজীদ। ছবি: সংগৃহীত
সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘বাইজীদ ও তার বন্ধু কায়সার প্রাইভেট কারে করে পদ্মা সেতুতে যান। বাইজীদ গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন। জাজিরা প্রান্তের ৩০-৩৫ নম্বর পিলারের মধ্যে নেমে তিনি ও তার বন্ধু কায়সার রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে ফেলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। পরে বাইজীদ ও কায়সার দুটি ভিডিও নিজেদের টিকটক অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন।’

পদ্মা সেতুতে নাট খুলে ভাইরাল হওয়া মো. বাইজীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা আইনে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন যানবাহন চলাচলের জন্য রোববার সেতু খুলে দেয়ার পর সকাল ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে বাইজীদের নাট খোলার ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর এটি আপলোড করা হয় টিকটকে।

বাইজীদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘বাইজীদ ও তার বন্ধু কায়সার প্রাইভেট কারে করে পদ্মা সেতুতে যান। বাইজীদ গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন। জাজিরা প্রান্তের ৩০-৩৫ নম্বর পিলারের মধ্যে নেমে তিনি ও তার বন্ধু কায়সার রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে ফেলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। ব্যঙ্গ করে মানুষের ফিলিংসে (অনুভূতি) আঘাত করেন। পরে বাইজীদ ও কায়সার দুটি ভিডিও নিজেদের টিকটক অ্যাকাউন্টে আপলোড করেন।

‘প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, এটা একটা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ। এটা স্যাবোটাজের মতো আমাদের কাছে মনে হয়েছে। আমরা বাইজীদকে দ্রুত অ্যারেস্ট করি। ভিডিওটি আপলোড হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করি। তবে কায়সার এখনও পলাতক’

রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘আমরা তার (বাইজীদ) কাছ থেকে ডিভাইস উদ্ধার করেছি। তার আরও কিছু ডিভাইস, আরও কিছু ভিডিও, আগের অ্যাক্টিভিটিজ দেখে মনে হয়েছে এটা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ।

‘এই জিনিসটা এভাবে খোলার কথা না। এতবড় স্থাপনার নাট-বল্টু হাত দিয়ে খোলার কথা না। ভিডিওতে আমরা সবাই দেখছি ইজিলি খুলে যাচ্ছে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় আমরা মনে করছি এই কাজটা সেই করেছে, তার একটা প্ল্যান ছিল। বাকিটা তদন্তে আসবে। আপনারা যে ভিডিও দেখেছেন তার বাইরেও কিছু ভিডিও আমরা পেয়েছি।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই নাট হাত দিয়ে কোনোভাবে খোলার কথা না। কোনোভাবে সম্ভব না। ধরেই নিতে হবে, এই কাজটা তারা করেছে, তাদের সহযোগী আছে, তাদের প্ল্যান আছে।

‘তিনটা বিষয় এ ক্ষেত্রে ঘটেছে। মানুষের ফিলিংস, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও অন্তর্ঘাতমূলক কাজ। এই তিনটার মধ্যে অন্তর্ঘাতমূলক কাজটা হয়েছে। এখানে তার গিল্টিমাইন্ড আছে। যে কারণে আমরা মামলা দিয়েছি।’

বাইজীদ অপরাধ মানসিকতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই কাজটা করলাম, পোস্ট ডিলেট করলাম, আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করলাম, টিকটক.. এগুলো দেখে বোঝা যায় গিল্টিমাইন্ড।

‘আমরা ব্রিজ অথরিটির সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছে এটা এভাবে হাত দিয়ে খোলা সম্ভব না। হাত দিয়ে খোলা সম্ভব না মানে অবশ্যই সে ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহার করেছে।’ বাইজীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের যে ধারায় মামলা হয়েছে, সে ধারায় এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

কী আছে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ও ২৫ ধারায়

বাইজীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় সিআইডির পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (খ) ও ২৫ (ঘ) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (খ) ধারায় ‘অন্তর্ঘাতমূলক’ (স্যাবোটাজ) কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা ও শাস্তির উল্লেখ রয়েছে।

এই ধারায় বলা হয়, কোনো রেলপথ, রোপওয়ে, রাস্তা, খাল, সেতু, কালভার্ট, বন্দর, ডকইয়ার্ড, লাইটহাউস, বিমানবন্দর, টেলিগ্রাফ বা টেলিফোনের লাইন অথবা টেলিভিশন বা বেতার স্থাপনার দক্ষতা বিনষ্ট বা ক্ষতিসাধনের মতো কাজ করা যাবে না।

এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ ছাড়া যাবজ্জীবন বা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, যে কেউ এই আইনের (বিশেষ ক্ষমতা আইন) অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার চেষ্টা করেন বা ষড়যন্ত্র করেন বা প্রস্তুতি নেন বা করতে চান, তাহলে তিনি সেই অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট শাস্তিতে দণ্ডিত হবেন।

আরও পড়ুন:
শুধু হাত দিয়ে পদ্মা সেতুর নাট খোলা অসম্ভব: সিআইডি
নিষেধাজ্ঞার পরও বাইকে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার চেষ্টা
বাইজীদের বিরুদ্ধে মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It is not possible to open the nuts and bolts of the Padma Bridge by hand alone

শুধু হাত দিয়ে পদ্মা সেতুর নাট খোলা অসম্ভব: সিআইডি

শুধু হাত দিয়ে পদ্মা সেতুর নাট খোলা অসম্ভব: সিআইডি রোববার পদ্মা সেতুতে উঠে রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানান মো. বাইজীদ। ছবি: সংগৃহীত
সিআইডির সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘কোনো যন্ত্রাংশ ছাড়া শুধু হাত দিয়ে পদ্মা সেতুর নাট-বোল্ট খোলা সম্ভব নয়। এটি একটি অন্তর্ঘাতমূলক কাজ। পদ্মা সেতুর যারা নাট-বোল্ট খুলেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সিআইডির সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘কোনো যন্ত্রাংশ ছাড়া শুধু হাত দিয়ে পদ্মা সেতুর নাট-বোল্ট খোলা সম্ভব নয়। এটি একটি অন্তর্ঘাতমূলক কাজ। পদ্মা সেতুর যারা নাট-বোল্ট খুলেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশ জানায়, শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরে তাদের সরিয়ে দেন। পরদিন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এরই ফাঁকে আলোচিত ভিডিওটি করেন মো. বাইজীদ নামের এক যুবক।

সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানানো বাইজীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আইনটির যে ধারায় তার নামে মামলা হবে বলে জানানো হয়েছে, সে ধারায় এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মনে করছে, সেতুর ওপরের রেলিংয়ের ইস্পাতের পাতের সংযোগস্থলের নাট খোলা নিছক খেয়ালের ছলে হয়নি; এটা পরিকল্পিত।

সংস্থাটির এক কর্মকর্তা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলেছেন, বাইজীদের এই কাজের পেছনে নাশকতার চেষ্টা থাকতে পারে।

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর দিন রোববার রেলিংয়ের নাট খোলার ভিডিও টিকটকে ছড়িয়ে সন্ধ্যায় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন সেই যুবক। পরে জানা যায়, তিনি বায়েজিদ তালহা নামে পরিচিত, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম মো. বাইজীদ।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাইজীদ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর নাট খুলেছিলেন সেতুর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে। এমন অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় এ মামলা প্রক্রিয়াধীন। থানা কর্তৃপক্ষই বাদী হবে।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ, বিরোধীরা জাতির শত্রু: হাইকোর্ট
নিষেধাজ্ঞার পরও বাইকে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার চেষ্টা
প্রথম দিনে পদ্মা সেতুতে টোল ২ কোটি ৯ লাখ টাকা
বাইকে নিষেধাজ্ঞা: গাড়ির চাপ কম পদ্মা সেতুতে
পদ্মা সেতু পার হতে ভয় পাচ্ছেন এমপি হারুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Opponents of Padma Bridge national resources are enemies of the nation High Court

পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ, বিরোধীরা জাতির শত্রু: হাইকোর্ট

পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ, বিরোধীরা জাতির শত্রু: হাইকোর্ট পদ্মা সেতুকে জাতীয় সম্পদ ও দেশের অহংকার বলে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। যান চলাচলের জন্য রোববার ভোরে খুলে দেয়া হয় পদ্মা সেতু্। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা আমাদের অহংকার। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা থাকেন, তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’

পদ্মা সেতুকে জাতীয় সম্পদ ও দেশের অহংকার উল্লেখ করে উচ্চ আদালত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জানিয়েছে, যারা এমন জাতীয় সম্পদের বিরোধিতা করবে তারা জাতির শত্রু।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা আমাদের অহংকার। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা থাকেন, তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’

পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে জারি করা রুলের শুনানিকালে এ মন্তব্য করে হাইকোর্ট।

পরে আগামীকাল মঙ্গলবার এ রুলের ওপর আরও শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেয় হাইকোর্ট।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

শনিবার দুপুরে মাওয়া প্রান্তে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
প্রথম দিনে পদ্মা সেতুতে টোল ২ কোটি ৯ লাখ টাকা
বাইকে নিষেধাজ্ঞা: গাড়ির চাপ কম পদ্মা সেতুতে
পদ্মা সেতু পার হতে ভয় পাচ্ছেন এমপি হারুন
সাঁকোতে সেলফি তুলে ক্যাপশনে পদ্মা সেতু, দুজনকে পিটুনি
বাইজীদের বিরুদ্ধে মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The electric three wheeler tiger is coming in July

জুলাইতে আসছে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ‘বাঘ’

জুলাইতে আসছে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ‘বাঘ’ দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির থ্রি হুইলার বাজারে আনছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাঘ মোটরস’। আগামী জুলাইয়ে উৎপাদনে যাবে প্রতিষ্ঠানটি। ছবি: সংগৃহীত
লিথিয়াম ব্যাটারিতে চলা দেশে পেটেন্ট করা প্রথম থ্রি-হুইলার ‘বাঘ’ আসছে আগামী মাস থেকে। বাঘ মোটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করছে। দাম হবে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

যানবাহনের প্রচলিত অ্যাসিড ব্যাটারির মেয়াদকাল ছয় মাস থেকে এক বছর। এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অথচ একটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি চলে পাঁচ থেকে ছয় বছর। এটি যানবাহন চালানোর খরচ কমিয়ে দেয়। পরিবেশও বাঁচায়।

এমন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির থ্রি হুইলার বাজারে আনছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাঘ মোটরস’। আগামী জুলাইয়ে উৎপাদনে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী জসিমুল ইসলাম বাপ্পি জানান, দেশে এটি হবে প্রথম ইকো থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি। এর নাম রাখা হচ্ছে ‘বাঘ’। গাজীপুরের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন শুরু হবে।

জসিমুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ বাঁচাতে আমাদের তেলের বিকল্প নিয়ে ভাবতেই হবে। শুধু থ্রি-হুইলারই নয়, আগামী তিন বছরে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনও যুক্ত হবে বাঘ মোটরসের বহরে।’

গত মার্চে এ বাহনটিকে চলাচলের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। উচ্চ নিরাপত্তা ফিচার, কম খরচ ও উন্নত প্রযুক্তির এই গাড়ির দাম ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাঘ মোটরস জানিয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলেও তাদের থ্রি হুইলারে তেমন গরম অনুভূত হয় না।

জসিমুল ইসলাম বলেন, ‘বাঘ মোটরস প্রথম কোনো বাংলাদেশি কোম্পানি নিজস্ব প্যাটেন্ট দিয়ে, নিজস্ব ডিজাইনে নিজস্ব প্রকৌশলে দেশে গাড়ি উৎপাদন করছে। বর্তমানে দেশে অন্যরা যেসব গাড়ি উৎপাদন করছে, সেগুলো প্রযুক্তিসহ সব কিছুই অন্য দেশের। এখানে শুধু উৎপাদন হচ্ছে। আর আমাদের পেটেন্ট থেকে শুরু করে সবকিছুই নিজস্ব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এ পরিবহন শতভাগ পরিবেশবান্ধব, কোনো দূষণ নাই, সৌরশক্তিতে চলে, গ্রিন এনার্জি ব্যবহার হয়। এমন হাজারটা কারণ আছে, যাতে মানুষ আমাদের এই বাঘ ইকো মোটরসের ইকো ট্যাক্সি ব্যবহার করবে।’

অ্যাসিড ব্যাটারির কারণে দেশে প্রায় ২ কোটি লিটার অ্যাসিড নির্গত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে। ফলে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন উৎসাহিত করার সময় এসেছে।

জসিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই ইকো থ্রি-হুইলারের ডিজাইন-ড্রইং করে পেটেন্ট করেছি। এটা পৃথিবীর প্রথম সোলার ইকো থ্রি-হুইলার, যেটা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে চলে। এটির পারমিশন পেতে আমাদের প্রায় ৩০ মাস সময় লেগেছে।’

এটির দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একটা সিএনজি অটোরিকশার দাম এখন প্রায় ১৮ লাখ টাকা, সেখানে আমরা একটা ইকো থ্রি-হুইলার ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় দিচ্ছি। আমাদের একটা ব্যাটারি ৬ বছর পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হয় না। প্রচলিত যেসব অ্যাসিড ব্যাটারি আছে, ছয় বছরে সেখানে ১২টি ব্যাটারি প্রয়োজন হয়।’

২০২০ সালের এপ্রিলে বাঘ মোটরস ১১টি যান তৈরি করে। ডুয়াল পাওয়ার-ব্যাটারি এবং সৌরচালিত এ থ্রি-হুইলারে যাত্রীর নিরাপত্তায় বেশ কিছু ফিচার যুক্ত হয়েছে। এর একটি হচ্ছে যাত্রীর সিটের সঙ্গে ‘প্যানিক বাটন’ রাখা রয়েছে। এই বাটনে চাপ দিলে গাড়ির গতি মুহূর্তেই ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এরপর ২০ মিনিটের জন্য গাড়িটি অচল হয়ে যাবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সতর্কবার্তাও পাঠাবে। এতে কর্তৃপক্ষ ট্যাক্সির কার্যকারিতা নিষ্ক্রিয় করতে পারবে।

এতে থাকবে নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত থাকবে। সব ধরনের ভিডিও রেকর্ড ও সংরক্ষণ থাকবে সার্ভারে। থাকবে এমবেড করা রিয়াল-টাইম জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম, যা থ্রি-হুইলারের রিয়াল-টাইম অবস্থান দেখাবে। চুরি ঠেকাতে থাকবে আলাদা প্রযুক্তিও।

গাড়িগুলোতে উচ্চমানের ইস্পাত ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণত বাস-কারে ব্যবহৃত হয়।

জসিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গাড়ি শতভাগ মেটাল বডির তৈরি। পুরো বডিই মোটরগাড়ির মতো করে তৈরি, যা যাত্রীকে অধিক নিরাপত্তা দেবে। ব্রেক ও লাইট ছাড়া পুরো গাড়ির দুই বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি থাকবে। গাড়িতে ওয়াইফাই সিস্টেম থাকবে, মোবাইল চার্জিং সিস্টেম থাকবে, জিপিএস থাকবে, মনিটর থাকবে।’

২০২৫ সালের পর বিশ্বে কোনো ডিজেলচালিত গাড়ি তৈরি হবে না। ২০৩০ সাল থেকে তৈরি হবে না কোনো অকটেন গাড়িও। সব গাড়িই বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে পরিণত হবে।

নিজস্ব রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে একটি ট্যাক্সি সার্ভিস হিসেবে কাজ করবে এই ইকো ট্যাক্সি। এর বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও এটি কেনা যাবে।

সাধারণ সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার এবং হিউম্যান-হলারের চেয়ে বড় চাকা থাকবে বাঘ ইকো ট্যাক্সিতে। পাশাপাশি অ্যান্টি-লক ব্রেক সিস্টেম (এবিএস)-সহ একটি হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেমও থাকবে। গাড়ির ছাদে থাকবে সোলার প্যানেল। এতে ব্যবহৃত একটি ৪৮০ ওয়াটের সোলার প্যানেল দিনের বেলায় ৪০ শতাংশ চার্জ হবে ব্যাটারিতে। যার ফলে অতিরিক্ত ৪০ কিলোমিটার যেতে পারবে গাড়িটি।

প্রতি কিলোমিটারে এটি চলার খরচ হতে পারে ১ দশমিক ৩৩ টাকার মতো। সম্পূর্ণ চার্জে ১৫০০ ওয়াটের গাড়িটি ৯০ কিলোমিটার চলতে পারে। এতে চালকের দিনে খরচ হবে ১২০ টাকা। ব্যাটারির চার্জ শেষ হলেও চিন্তা নেই। ৬০ ভোল্টের ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হতে মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগবে।

বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব চার্জিং পয়েন্টও বসানো হবে। চার্জিং পোর্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ একটি মাইক্রো চিপ ইনস্টল করা থাকবে। একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পোর্টটি খোলা হবে। গাড়ির মালিক নির্দেশ দিলেই চার্জ শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
মেয়রের ফ্রি বাস সার্ভিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
‘মহাসড়কে থ্রি হুইলার ডিস্টার্ব, মারণফাঁদ’

মন্তব্য

p
উপরে