× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
India seeks FBCCIs help to boost trade
hear-news
player
print-icon

বাণিজ্য বাড়াতে এফবিসিসিআইর সহায়তা চায় ভারত

বাণিজ্য-বাড়াতে-এফবিসিসিআইর-সহায়তা-চায়-ভারত মতিঝিলে মঙ্গলবার বিকেলে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ছবি: সংগৃহীত
এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটোমোবাইল ও পোশাক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দোরাইস্বামী।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সহযোগিতা চেয়েছে ভারত।

মঙ্গলবার বিকেলে মতিঝিলে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সহযোগিতা চান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। এ জন্য এফবিসিসিআইর সহযোগিতার প্রয়োজন।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটোমোবাইল ও পোশাক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত।

এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে পোশাকশিল্পে সুতা ও তুলার বড় জোগানদাতা হতে পারে ভারত। বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে।

বাংলাদেশে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, ভারতীয় বন্দরের সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেক পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য।

ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল গতিশীল ও সহজ করতে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে শিগগিরই আরেকটি নতুন গেট চালু করা হবে।

অন্য স্থলবন্দরে আরও বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ বাড়লে ভারতীয় অংশে উন্নয়নকাজ শুরুর আশ্বাস দেন দোরাইস্বামী।

তিনি জানান, তার সরকার দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে আগ্রহী। এ জন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে সিইও ফোরাম চালুর আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) ফোরাম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু, বিজয় কুমার কেজরীওয়াল, মো. শাহ জালাল, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, ড. যশোধা জীবন দেবনাথ, প্রীতি চক্রবর্তী ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Economists are not afraid of Bangladesh

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা
তবে সরকারকে সব সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি সব সময় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। দেশের মানুষকে স্বস্তি দিতে নতুন বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সেটা করতে হবে।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ওলোটপালট করে দিচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শঙ্কা-উৎকণ্ঠা। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে বিশ্ব।

চলমান যুদ্ধের কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। আইএমএফও একই সুরে কথা বলছে। তীব্র খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশেও নানা ক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেল, খাদ্য পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে আমদানি খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। যার ফলে বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে; অস্থির হয়ে উঠেছে মুদ্রাবাজার। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে। বাজারে গিয়ে পণ্য কিনতে বেশি খরচ হওয়ায় সরকারের প্রতি ক্ষোভও ঝাড়ছেন অনেকে।

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা
উদ্বোধনের অপেক্ষায় পদ্মা সেতু। ছবি: নিউজবাংলা

তবে বাংলাদেশকে নিয়ে খুব একটা আশঙ্কায় নেই সরকারের মন্ত্রী, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সংকট বাড়ছে ঠিকই, তবে সরকারও ব্যয় সংকোচনের জন্য তড়িৎগতিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ জন্য আমদানি ব্যয় কমে আসবে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভের উপর আর চাপ পড়বে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হচ্ছে, সরকারি গুদামগুলোতে এখনও ১২ লাখ টনের মতো খাদ্য মজুত আছে। বেসরকারি পর্যায়েও প্রচুর খাদ্য মজুত আছে। বোরো ধানের ভরা মৌসুম চলছে। দেশের কিছু এলাকায় বন্যার পরও বাম্পার ফলনের আভাস দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতিও এখন বেশ ভালো। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে খুব একটা বিচলিত হওয়ার মতো কিছু দেখছেন না তারা।

তবে সরকারকে সব সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি সব সময় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। দেশের মানুষকে স্বস্তি দিতে নতুন বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সেটা করতে হবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বিরুপাক্ষ পাল ও মঞ্জুর হোসেন এবং ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের সঙ্গে।

তারা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি দিয়ে মহামারি করোনাসহ অতীতে বড় বড় সংকট সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে। এবারও তেমনটাই ঘটবে। কয়েক দিন পর স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হবে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সাহস-উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেবে সবার মধ্যে। অর্থনীতিতে যোগ হবে গতি।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান হালচাল

অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও শক্ত ভিক্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রধান সূচকগুলো এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

আমদানির বাড়ার পরও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে। এই রিজার্ভ দিয়ে ৬ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট।

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ধস নামার প্রধান কারণ ছিল রিজার্ভ; দেশটির রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। পাকিস্তানের রিজার্ভও কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের আগস্টে দেশটির রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ম ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি সূচক রপ্তানি আয়েও সুবাতাস বইছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তাতে দেখা যায়, এই ১০ মাসে ৪৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

জুলাই-এপ্রিল সময়ে প্রবাসীরা ১৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন দেশে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। তবে গত তিন মাস ধরে রেমিট্যান্সপ্রবাহে উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত মার্চ মাসে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল; এপ্রিল মাসে এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। চলতি মে মাসে ২৭ দিনে এসেছে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। মাস শেষে মে মাসেও রেমিট্যান্স ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

তবে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই অর্থবছরের ৯ মাসের (জুলাই-মার্চ) আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, এই ৯ মাসে ৬৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা নতুন উদ্যোমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাপিয়ে পড়েন। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেন। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে বিনিয়োগের একটি আবহ তৈরি হয়েছে দেশে। এর ফলে শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অন্য সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

একইসঙ্গে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়েছে। বেড়েছে জাহাজ ভাড়া। এ সব কারণেই আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে।

তবে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যংক ইতিামধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকারদের বিদেশ সফর বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। আমদানিনির্ভর সব প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিলাসবহুল প্রায় ২০০ পণ্যের আমদানির উপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে। ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে; কমছে টাকার মান। এটা এখন দেশের অর্থনীতির জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২৬ মে পর্যন্ত) ৫৬০ কোটি (৫.৬০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা) তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর। দুর্বল হচ্ছে টাকা।

গত এক সপ্তাহ ধরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হলেও ব্যাংকগুলো এর চেয়ে ৬ থেকে ৮ টাকা বেশি দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। খোলাবাজারে বাড়তে বাড়তে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়ে ১০৪ টাকায় উঠেছিল। গত কয়েক দিন অবশ্য ৯৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে।

ডলারের সংকট কাটাতে এবার প্রবাসী আয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক দর বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকে কত দামে রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে ও আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করবে, তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ব্যাংকগুলো প্রতিদিন বাজার বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করবে। এই এক দাম সব ব্যাংক মেনে চলবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা পর্যালোচনা করবে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই প্রতি ডলারের দাম ৯০ টাকার বেশি হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে সভায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকগুলো এই সিদ্ধান্ত নেয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ফজলে কবির।

অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূল্যস্ফীতি বাড়ছেই। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, এপ্রিল মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। যা গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

মহামারির মধ্যেও গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। এই অর্থবছরের ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৫ শতাংশের মতো।

তবে আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ক্যারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স) বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের ৯ মাসে অর্থাৎ জুলাই-মার্চ সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক শুন্য সাত বিলিয়ন ডলার।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম মান্নান

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় যুদ্ধের প্রভাব যতোই পড়ুক না কেনো, আমাদের খুব একটা সমস্যা হবে না।’

তিনি বলেন, এই যে আমাদের অর্থনীতি আভো অবস্থায় আছে, এতে অবদান রেখেছে তিনটি খাত- কৃষি, শিল্প ও রেমিট্যান্স। করোনা অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রপ্তানি আয়ে ৩৬ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রেমিট্যান্স কমলেও কয়েক মাস ধরে বাড়ছে। রোজার ঈদের আগে এপ্রিল মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সামনে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেও রেমিট্যান্স বাড়বে।

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা

‘আমদানি বাড়ার পরও আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে। এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এরপরও যারা বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করেন, তারা বিজ্ঞানসম্মত কথা বলছেন না।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

‘বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এখন মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখাটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। নতুন বাজেটে এই বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় গরিব মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি কৃষির উৎপাদন বাড়াতে সার, সেচ, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে।’

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো বিশ্লেষণ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির উপর আছে এখনও। মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ আছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা আছে ঠিক। কিন্তু অন্য সূচকগুলোর দিকে তাকালে স্বস্তির নিঃশ্বাসই ফেলতে হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, ব্যাপক আমদানির পরও রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে। রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিকভাবে বেশকিছু দিন ধরে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।’

‘রেমিট্যান্সে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিলেও কয়েক মাস ধরে আবার বাড়ছে। সামনে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেও বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাবেন প্রবাসীরা। সরকার যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আমদানি ব্যয় কমে আসবে। এরফলে রিজার্ভ আর কমবে না বলে মনে হচ্ছে।’

‘তাই যারা শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করছেন তারা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কথা না বলে মনগড়া কথা বলছেন। অযথা ভয়-আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বলছেন।’

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ছে ঠিক। কিন্তু সেটা মন্দা ডেকে আনতে কিনা-সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। আর যদি মন্দা দেখাও দেয়, তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে ঠিক। কিন্তু খুব বেশি সংকটের মধ্যে আমরা পড়ব না।’

‘কেননা, মন্দার জন্য প্রধানত খাদ্য সংকটকে দায়ি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যে খাদ্য মজুত আছে, চলতি বোরো মৌসুমে যে ধান উৎপাদন হচ্ছে-তা দিয়ে দুই-তিন বছর অনায়াসে চলে যাবে। এরমধ্যে যুদ্ধও স্থিমিত হয়ে আসবে আশা করি। তাই খুব বেশি ভয় পাওয়ার কোনো কারণ আমি দেখছি না।’

বিরূপাক্ষ পাল

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট কোর্টল্যান্ডের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার যে আশঙ্কা করছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রে বসে তেমনটি কিন্তু দেখছি না। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেশ বেশি ঠিক। কিন্তু এখানে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের কাজ বেড়েছে, বেতন বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন চাকরি বা কাজের জন্য যে লোক প্রয়োজন, সেই লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে এখানে মন্দা আসবে কি করে। আর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর বা বড় অর্থনীতির দেশে যদি মন্দার ছোঁয়া না লাগে, তাহলে বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা করা অমূলক মনে হয় আমার কাছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মন্দার বিষয়টি সামনে আনার রাজনৈতিক একটি কারণ আছে। সব দেশ বা রাষ্ট্র প্রধানদের সতর্ক করার জন্য এটা প্রচার করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা

‘তবে যুদ্ধের কারণে, বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য থেকে অনেক বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রাশিয়া বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেইসঙ্গে ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়া থেকে গ্যাস ও তেল না পাওয়ায় তারাও সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে সে সংকট দেখা দিয়েছে। এখন সব কিছুই নির্ভর করছে, যুদ্ধ কতোদিন চলবে সেটা উপর।’

যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে কেমন পড়বে- এ প্রশ্নের উত্তরে বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘আমার বিবেচনায় বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রভাবতো কিছুটা পড়বেই। ইউরোপ বাংলাদেশের পোশাকের একটি বড় বাজার। সেখানে সংকট দেখা দিলে, ওই বাজারে হয়তো পোশাক রপ্তানি কম হবে। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, যুত্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় আছে, সে কারণে এখানকার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমবে না; উল্টো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।’

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৫২ দশমিক ২১ শতাংশ।

‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি। সেই শক্তি দিয়ে যে কোনো সমস্যা-সংকট মোকাবিলা করতে পারে। অতীতে বহুবার সেটা প্রমাণ করেছেন তারা। আর সেটা করেই পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতকে পেছনে ফেলে এই জায়গায় এসেছেন তারা। অন্য কিছু যদি নাও পায়, শুধু ভাত খেয়েই তারা অর্থনীতির চাকা সচল রাখবেন।’

মঞ্জুর হোসেন

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিও ভয়ের তেমন কিছু দেখছি না। রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে উপরে থাকা অবস্থায় আমি উদ্বেগের কোনো কারণ দেখি না। খাদ্য আমদানি করে চলতে হবে-এমন অবস্থা তো আমাদের নয়। বেশি সমস্যা হলে গম হয়তো আমরা পাবো না, সেক্ষেত্রে তিন বেলাই ভাত খাবে মানুষ। দাম হয়তো একটু বাড়বে, কিন্তু খাদ্য পাওয়ার তো নিশ্চয়তা আছে। প্রচুর খাদ্য আছে আমাদের।’

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা

‘আমি মনে করি, সরকারকে এখন মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ভর্তুর্কির পরিমাণ যদি বেড়ে যায় সেটাও করতে হবে। মানুষকে স্বস্তি দিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠণী খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। উপকারভোগীর সংখ্যা ও বিভন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হবে। নতুন বাজেটে এ সব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’

‘আর আমরা তো এখন ফুরফুরে মেজাজে আছি। নিজস্ব অর্থে বহুল প্রতিক্ষিত পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে ২৫ জুন। এই সেতু চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে সাহস-শক্তি-প্রাণসঞ্চার হবে, তা দিয়ে যে কোনো সংকট মোকাবিলঅ করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ

বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ পদক্ষেপ ও দিকনির্দেশনায় করোনা মহামারি সাহসের সঙ্গে আমরা মোকাবিলা করেছি। আশা করছি, যুদ্ধের প্রভাবও তেমন একটা পড়তে দেবেন না তিনি। আমদানি ব্যয় কমাতে ইতোমধ্যে যে সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমি মনে করি।’

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয় পাচ্ছেন না অর্থনীতিবিদরা

‘আমাদের একটাই অনুরোধ থাকবে, এই মুহূর্তে যেনো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো না হয়। তাহলে সরকারের সঙ্গে হাতমিলিয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে আমরা যে কোনো পরিস্তিতি মোকাবিলা করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কার ঘটনায় বাংলাদেশের তুলনা শোভা পায় না
শ্রীলঙ্কার মতো হবে না বাংলাদেশ: এডিবি
শ্রীলঙ্কার ভুলের একটিও নেই বাংলাদেশের
সংকটকালে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দুই অর্থনীতিবিদের
আংকটাডের উপদেষ্টা সিপিডির ফাহমিদা খাতুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Market volatility look at dealers

বাজারে অস্থিরতা: দৃষ্টি এখন ডিলারদের দিকে

বাজারে অস্থিরতা: দৃষ্টি এখন ডিলারদের দিকে শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেন এফবিসিসিআই নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত চাহিদার চেয়ে বেশি থাকার পরও এসবের অতিরিক্ত মূল্যবদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছে এফবিসিসিআই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মিল মালিকদের কাছে ডিলারদের তালিকা চেয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকেও ডিলারদের তালিকা চাওয়া হয়।

ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ ও চিনি রপ্তানি সীমিত করার খবরে দেশের বাজারে বেড়ে গেছে আটা-ময়দা ও চিনির দাম। আবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কাঁচা চামড়ায় ব্যবহারের বাড়তি চাহিদা মাথায় নিয়ে আগাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে লবণের দামও।

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মজুত চাহিদার চেয়ে বেশি থাকার পরও এসবের অতিরিক্ত মূল্যবদ্ধিকে অযৌক্তিক মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মিল মালিকদের কাছে ডিলারদের তালিকা চেয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পর পর দুটি বৈঠকেও ডিলারদের তালিকা চাওয়া হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মজুত, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে ডিলারদের তালিকা চাওয়া হয়।

এদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সংস্থার নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোনো কারসাজির ঘটনা দেখলেই পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পণ্যগুলোর সরবরাহকারী কোম্পানির কারখানায়ও অভিযান চালিয়ে আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে মধ্যস্বত্বভোগী ডিলাররা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেল ইস্যুতেও ডিলারদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

সামনে কোরবানির ঈদ। বাজারে চাহিদাযোগ্য সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে স্থিতিশীলতা রাখতে এবার এফবিসিসিআই আটা, ময়দা, চিনি, লবণ ইত্যাদি পণ্যের ডিলারদের তালিকা চেয়েছে মিল মালিকদের কাছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। ভোগ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সংকট এবং কোরবানির ঈদকে পুঁজি করে দেশের বাজার অস্থির না করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদৈর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বাজার কমিটিকে বিশেষভাবে তদারকি করারও নির্দেশনা।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে বাবু বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে এফবিসিসিআই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে সুপারিশ করবে। কোনো ডিলার এ সংকটের জন্য দায়ী হলে তার ডিলারশিপ বাতিলে মিল মালিকদের প্রতি চাপ প্রয়োগ এবং সরকারের কাছেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর সুপারিশ করা হবে।’

কোন কোম্পানির ডিলার কোথায় কারা তার তথ্য নেই এফবিসিসিআইতে। তাই তিনি চিনি, লবণ, আটা, ময়দা ইত্যাদি পণ্যের ডিলারদের তালিকা এফবিসিসিআইতে পাঠানোর জন্য মিল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাজার সমিতিগুলোকে দোকানিদের নিয়ে মসলা, লবণ, চিনি ইত্যাদি খাতভিত্তিক সভা করার পরামর্শ দেয়া হয়। দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা টানানোসহ সীমিত মুনাফায় ব্যবসা পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বাধ্য করতেও সমিতিগুলোকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

এফবিসিসিআইর এই সিনিয়র সহ-সভাপতি আবারো ১৫ দিন পর পর সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয়ের সুপারিশ করেন।

বৈঠকে বাজারে স্থিতিশীলতা রাখতে প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি পণ্য না কিনতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর পরিচালক আবু মোতালেব।

মোহাম্মদপুর টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (বাবুল) জানান, যেসব দোকানি পণ্য মজুত ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেছে, সমিতি তাদের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতেও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, হারুন অর রশীদ, মোহাম্মদপুর টাউন হল সিটি করপোরেশন বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুসলিম উদ্দিন শিকদার প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ব্রোকারেজ ব্যবসায় নামছে শ্রীলঙ্কান কোম্পানি
হাত বদলে সবজির দাম তিন গুণ
টিকল না উত্থান, দরপতনে আবার হতাশা
পুঁজিবাজারের জন্য আরেক ‘সাপোর্ট’
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্থানেও সতর্কতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SFIL is an exception in money protection

অর্থ সুরক্ষায় ব্যতিক্রম এসএফআইএল

অর্থ সুরক্ষায় ব্যতিক্রম এসএফআইএল সঞ্চয়ের নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে এসএফআইএল। ছবি: সংগৃহীত
সংকটের এই সময়ে সঞ্চয় করা অর্থ তুলে সংসার চালাচ্ছেন অনেকে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ভালো মুনাফার আশা করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। যেসব ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতের সুরক্ষা এবং আকর্ষণীয় মুনাফা দিচ্ছে, তাদের একটি স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।  

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে সদ্য অবসরে গেছেন গোলাম কিবরিয়া। এখন ভরসা শুধু জমানো টাকার সুদ। কিন্তু জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধসহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অগ্নিমূল্যে দিশেহারা অবস্থা। তিনি জানান, অবসরের পর কিছু টাকা সঞ্চয় করেছেন, কিন্তু তাতে তার সংসার চলে না।

গোলাম কিবরিয়া আক্ষেপের সুরে বলেন, এই দুঃসময়ে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা চাই। পাশাপাশি প্রতি মাসে যাতে মুনাফার অর্থ প্রাপ্তিতে জটিলতা না হয়, সেই গ্যারান্টিও দরকার।

আর্থিক খাতে নানান অনিশ্চয়তার মধ্যে কিবরিয়ার মতো সবাই সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। নানান প্রলোভন এবং ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। তাই তিল তিল করে জমানো অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি এককালীন অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন সুরক্ষা।

সংকটের এই সময়ে সঞ্চয় করা অর্থ তুলে সংসার চালাচ্ছেন অনেকে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ভালো মুনাফার আশা করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কিন্তু সেই গ্যারান্টি দিচ্ছে কারা?

সঞ্চয় এবং আমানত ব্যবস্থাপনায় ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে দুই-একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকের আস্থার জায়গায় পৌঁছে গেছে তারা। এদেরই একটি স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড বা এসএফআইএল, যারা আমানতের আকর্ষণীয় মুনাফার সঙ্গে অধিক নিরাপত্তা দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সঞ্চয়ী প্রকল্পে রয়েছে আকর্ষণীয় মুনাফার হার। বিভিন্ন মেয়াদের ওপরে নির্ভর করে গ্রাহকরা আমানতে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পেতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখতে হলে যে বিষয়গুলো দেখা উচিত, আমরা সেটা আগে তুলে ধরি। কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট, বোর্ড কি প্রাতিষ্ঠানিক নাকি ব্যক্তিপর্যায়ে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেয়। অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিপর্যায়ের বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সে ক্ষেত্রে সুশাসনে অনেক সমস্যা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ৯৮ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার প্রাতিষ্ঠানিক। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ কানাডা ও আমেরিকার সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) রয়েছে। আর বাকি ২ শতাংশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ফলে সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিধি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়। এটা আমাদের শক্তি। আমানতকারীদের আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটা একটা ভালো উদাহরণ।’

কেন ব্যতিক্রম এসএফআইএল?

দেশে আর্থিক খাতের বয়স বিবেচনায় এসএফআইএল নবীন। ‘স্বচ্ছতার বন্ধন’– এই স্লোগান সামনে রেখে করোনার মধ্যে যাত্রা শুরু করে এসএফআইএল।

তবে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তার পরিচালন দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও মিলেছে কাঙিক্ষত সাফল্য।

২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম শুরু করলেও মাত্র চার মাসে লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানটি। এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১৯ কোটি টাকা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করেছে ১০৬ কোটি টাকা। উৎপাদন ও রপ্তানিমুখীসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ দেয়া হয়েছে ৬৭ কোটি টাকা।

অতিসতর্কভাবে ঋণ বিতরণ করায় প্রতিষ্ঠার দেড় বছর পরেও প্রতিষ্ঠানটির বিতরণকৃত ঋণের এক টাকাও খেলাপি হয়নি।

ঋণ বিতরণে এসএফআইএল অনেক সতর্ক মন্তব্য করে এটির এমডি বলেন, ‘ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সীমিত আকারে গ্রাহক ভালোভাবে যাচাই করে ঋণ দিয়েছি। অর্থায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী শিল্প, ভৌত অবকাঠামো, হোম লোন, গাড়ি লোনসহ বিভিন্ন কাজে অর্থায়ন করেছি আমরা। আমাদের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) শূন্য। আমরা দেখেশুনে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমানতকারীরা টাকা ফেরত চাইলে যেন সঙ্গে সঙ্গে সেটা দিতে পারি, এটাই আমাদের পরিকল্পনা। আমানত সুরক্ষা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

সুদ হার ও আকর্ষণীয় স্কিম

প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সঞ্চয়ী প্রকল্পে রয়েছে আকর্ষণীয় মুনাফার হার। তিন মাস মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে বাৎসরিক মুনাফার হার ৭ শতাংশ। ছয় মাস মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে বাৎসরিক মুনাফার হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এক বছর মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে মুনাফার হার ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মুনাফার হার কার্যকর হওয়ার আগে এসব হার নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ও ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার বেঁধে দিয়ে ১৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্দেশনা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে। আর আমানতের বিপরীতে সুদ দেয়া যাবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ।

এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

তবে নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগের আমানতের ক্ষেত্রে সুদের হার ওই আমানতের বর্তমান মেয়াদ পূর্তির পর নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সে ক্ষেত্রে ৩০ জুনের মধ্যে এসএফআইএলে কোনো গ্রাহক নতুন কোনো মেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে অর্থ রাখলে বর্তমান সুদ হারে মুনাফা পাবেন।

আরও পড়ুন:
গ্রিন প্রোডাক্টসে অর্থায়ন করবে এসএফআইএল
এসএফআইএল-এনডিবি ক্যাপিটাল সমঝোতা
এক টাকাও খেলাপি ঋণ নেই এসএফআইএলের
পাঁচ বছরে অন্যতম সেরা হতে চায় এসএফআইএল
স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস-ইস্টার্ন ব্যাংক চুক্তি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Tourism fair from June 2

পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে

পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে বাংলাদেশ মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মেলায় প্রায় ৫০টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, এয়ারলাইন, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সী, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সী, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে থেকে শুরু হচ্ছে। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভ্রমণ ও পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা বাংলাদেশ মনিটর এই মেলার আয়োজন করছে।

এটি তাদের ১৭তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার।

‘ট্রিপ লাভার ঢাকা ট্রাভেল মার্ট-২০২২’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী মেলাটি রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে হবে।

বাংলাদেশ মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী ২ জুন বৃহষ্পতিবার বেলা ১১টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াৎ-উল-ইসলাম, সম্মানীয় অতিথি থাকবেন ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দীন।

ওয়াহিদুল আলম বলেন, এবারের মেলায় প্রায় ৫০টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, এয়ারলাইন, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সী, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সী, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা রয়েছে।

মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৪০টাকা। প্রবেশ কুপনের ওপরে সমাপনী দিনে একটি র‌্যাফেল ড্রর আয়োজন করা হবে। বিজয়ীদের জন্য থাকবে মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর, দিল্লী, কলকাতা, কক্সবাজার এবং সিলেটের জন্য রিটার্ণ টিকেটসহ আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

অংশগ্রহণকারীরা মেলা চলাকালীন ডিসকাউন্টসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার প্রদান করবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন কর্তৃক কক্সবাজারসহ অন্যান্য গন্তব্যে সৌজন্যমূলক হোটেল রুম।

সংবাদ সম্মেরনে জানানো হয়, মেলা চলকালে ৪ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা’শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

আলোচনায় অংশ নেবেন ফ্লাই ঢাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মোহাম্মদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবু সালেহ মোস্তাফা কামাল, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, এয়ার এস্ট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আসিফ এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম।

ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২২ এর টাইটেল স্পন্সর শীর্ষস্থানীয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সী ট্রিপ লাভার, কো-স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। পার্টনার হিসেবে আয়োজনে সহযোগিতা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন।

সোনারগাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব, বিক্রয় ও বিপণন) জাহিদ হোসেন, ট্রিপ লাভারের মহাব্যবস্থাপক ও হেড অফ অপারেশন্স নিশা তাসনীম শেখ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম, এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক (বিক্রয় উন্নয়ন ও জনসংযোগ) জিয়াউল হক হাওলাদার।

আরও পড়ুন:
৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু ৩০ মার্চ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People can now eat meat three times a day if they want Livestock Minister

মানুষ চাইলে এখন তিন বেলা মাংস খেতে পারে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মানুষ চাইলে এখন তিন বেলা মাংস খেতে পারে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শনিবার এক কর্মশালায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এখন মানুষ চাইলে তিন বেলাও মাংস খেতে পারে।’

প্রাণিসম্পদ খাতে সরকারের সাফল্যের কারণে দেশের মানুষ চাইলে এখন তিন বেলা মাংস খেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শনিবার ‘প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নয়ন ও সম্ভাবনা: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় যোগ দিয়ে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প এবং পরিপ্রেক্ষিতের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে সহযোগিতা করে ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরাম।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এখন মানুষ চাইলে তিন বেলাও মাংস খেতে পারে।’

প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এর উপকারভোগী আমরা সবাই। এ খাতে উৎপাদন না হলে দেশে খাদ্য ও পুষ্টির সংকট তৈরি হবে। ‘এই খাত পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বেকারদের স্বাবলম্বী করে, উদ্যোক্তা তৈরি করে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করে। খাবারের একটি বড় যোগান আসে মাংস, দুধ ও ডিম থেকে। তাই এ খাতকে সামনে এগিয়ে নেয়া প্রয়োজন। সৃজনশীলতা নিয়ে এগিয়ে গেলে এ খাতে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

প্রাণিসম্পদ খাতের এ বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে বলেও মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের একটি লেখা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও সাহস যোগায়। একটি ভালো সংবাদ থেকে মানুষ উদ্দীপ্ত হয়, উৎসাহিত হয়।’

এই খাতের সম্ভাবনার পাশাপাশি ত্রুটির কথাও গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে তা সরকারের জন্য সহায়ক হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

করোনা সংকটে প্রাণিসম্পদ খাতকে রক্ষায় সরকার ভ্রাম্যমাণ বিক্রির ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এতে করে উৎপাদনকারী ও ভোক্তা উভয়ে লাভবান হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ ব্যবস্থায় ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি দুধ, ডিম, মাছ, মাংস বিক্রি হয়েছে। গত রমজান মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
৬ মাসের মধ্যে মৎস্যজীবীদের নিবন্ধন
‘বঙ্গবন্ধু‌কে রক্ষা কর‌তে না পারা বাঙালির বড় ব্যর্থতা’
মৎস্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে
‘রাষ্ট্র লাভবান না হলে প্রকল্প অর্থহীন’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
26 companies are getting National Productivity Award

জাতীয় উৎপাদনশীলতা পুরস্কার পাচ্ছে ২৬ প্রতিষ্ঠান

জাতীয় উৎপাদনশীলতা পুরস্কার পাচ্ছে ২৬ প্রতিষ্ঠান
২০২০ সালের জন্য পাঁচ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে একটি ব্যবসায়িক সংগঠনকে দেয়া হচ্ছে ‘ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’।

দেশে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা পুরস্কার পাচ্ছে ২৬ প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের জন্য পাঁচ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে একটি ব্যবসায়িক সংগঠনকে দেয়া হচ্ছে ‘ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’।

পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) রোববার সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিক হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা ও এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে খাদ্য শিল্প খাতে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে কোকাকোলার কোমল পানীয় বাজারজাতকারী কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেস। দ্বিতীয় হয়েছে প্রাণ গ্রুপের হবিগঞ্জ এগ্রো। একই ক্যাটাগরিতে ইস্পাত ও প্রকৌশল খাতে ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স প্রথম, শেলটেক দ্বিতীয় ও রানার অটোমোবাইলস তৃতীয় হয়েছে।

টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে প্রথম হয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এম এম ইস্পাহানির পাহাড়তলী টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি মিলস। তৃতীয় হয়েছে করণী নিট কম্পোজিট।

বৃহৎ শিল্পের সেবা খাতে প্রথম হয়েছে নিটল ইন্স্যুরেন্স। আর মীর টেলিকম দ্বিতীয় ও ডিজিকন টেকনোলজিস তৃতীয় হয়েছে। আইটি খাতে একমাত্র সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেডকে পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

কেমিক্যাল খাতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস প্রথম, কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি (বাংলাদেশ) দ্বিতীয় এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ তৃতীয় পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়েছে।

মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে ইস্পাত ও প্রকৌশল খাতে প্রথম হয়েছে প্রাণ গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান সিলভান টেকনোলজিস। টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে মাসকোটেক্স প্রথম ও ইনডেক্স এক্সেসরিজ দ্বিতীয় পুরস্কার পাচ্ছে।

আইটি খাতে একমাত্র মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশনকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। কেমিক্যাল খাতে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে বিআরবি পলিমার। আর দ্বিতীয় হয়েছে জিএমই এগ্রো।

ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে আহমেদ ফুড প্রোডাক্টস। তোহফা এন্টারপ্রাইজ পাচ্ছে দ্বিতীয় পুরস্কার। তৃতীয় পুরস্কারের জন্য জারমার্টজকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে সুপার স্টার ইলেক্ট্রনিক্স পুরস্কার পাচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ক্যাটাগরিতে ইস্টার্ন টিউবসকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

আর ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড দেয়া হচ্ছে ঢাকা উইমেন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে।

আরও পড়ুন:
করোনাকালে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়: প্রধানমন্ত্রী
অর্জন প্রধানমন্ত্রীর, উদযাপন করবে বিদ্যুৎ বিভাগ: প্রতিমন্ত্রী
শতভাগ বিদ্যুতায়ন: ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ
ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
তারকাদের হাতে উঠল রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What professionals want to see in the new budget

নতুন বাজেটে পেশাজীবীরা যা দেখতে চান

নতুন বাজেটে পেশাজীবীরা যা দেখতে চান
আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। আগামী এক বছরে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এর বেশির ভাগই ব্যয় করা হবে পরিবহন, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবীর কাছে নিউজবাংলা জানতে চেয়েছে, তারা এবার কেমন বাজেট দেখতে চান।

প্রশিক্ষণ-গবেষণায় বেশি বরাদ্দ চাই

বাজেটে শিক্ষা খাতে কোন বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন), সহযোগী অধ্যাপক, আসাদুজ্জামান বলেন, ‘যে কোনো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করেছিলেন।

‘কিন্তু পরর্বতীতে সরকারগুলো বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়াচ্ছে। এটি ইতিবাচক দিক।


নতুন বাজেটে পেশাজীবীরা যা দেখতে চান


‘আসন্ন বাজেটে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ আরও বেশি দেয়া প্রয়োজন। কারণ গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা কখনই উন্নত রাষ্ট্র হতে পারব না। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায়ও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আগামী বাজেটে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা রাখি।’

বিচার বিভাগের বাজেট দ্বিগুণ করতে হবে

বাজেট ভাবনা জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘বিচার বিভাগের বাজেট নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সভা সেমিনারেও কথা উঠেছে। আইনজীবীরাও সোচ্চার। সকলেই জাতীয় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছেন।

‘সমস্যা হলো যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন বা সংসদ কর্তৃপক্ষ যারা আছেন, তাদের চিন্তা হলো, বিচার বিভাগ যদি দুর্বল থাকে তাহলে তাদের জন্য সুবিধা হয়। তারা যা খুশি তাই করতে পারেন।

‘কিন্তু সংবিধানে রাষ্ট্রের যে তিনটি অঙ্গ রয়েছে, তার মধ্যে বাকি দুটি বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর।

‘বিচার বিভাগকে যতদিন পর্যন্ত দুর্বল করে রাখা যাবে, ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রের উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি না।

‘অন্যান্য খাতে প্রতি বছরই বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করা দরকার। আর এ কাজটি নিশ্চিত করতে হলে তার জন্যে আরও বেশি বরাদ্দ দিতে হবে।

‘মামলার জট, বিচারক সংকট, জায়গা সংকট, লোকবল সংকটের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ চলছে। এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এসব কাজের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।


নতুন বাজেটে পেশাজীবীরা যা দেখতে চান


‘যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার বিচার বিভাগের জন্য বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে না। আর বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করা যাবে না।

‘নতুন যে বাজেট আসছে তাতে বিচার বিভাগের জন্য বিদ্যমান বরাদ্দের দ্বিগুণ করতে হবে।

স্বাস্থ্যে জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া উচিত

স্বাস্থ্য খাতের বাজেট কেমন দেখতে চান, জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য বাজেট জাতির জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ খাতে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য। করোনা মহামারির সময় আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার দৈন্যদশা দেখেছি।

‘স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়লেও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা একেবারেই গড়ে ওঠেনি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণায় অনেক পিছনে আছে দেশ।

‘আমাদের দেশে প্রায় ১১০টার মতো মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যাও বেড়েছে। তবে দুই বছর করোনা মহামারির মধ্যেও আমরা তেমন কোনো উল্লেখ্যযোগ্য গবেষণা দেখিনি।

‘অন্যদিকে, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে যারা নীতি পর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।

‘গত এক যুগেরও বেশি সময় বাজেট স্বাস্থ্য সেবা খাতে প্রতি বছর জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বাজেটে ব্যয় করা উচিত।

‘প্রথম দাবি হচ্ছে স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। একবারে ৫ শতাংশ বাড়ানো কঠিন হয়ে যাবে। প্রত্যাশা করি, আসন্ন বাজেটে স্বা্স্থ্যখাতে জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হোক।


নতুন বাজেটে পেশাজীবীরা যা দেখতে চান


‘দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল থাকা দরকার। চিকিৎসা ও সেবা ব্যবস্থাপনায় সরকারি খাতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি খাত। তবে বেসরকারি খাত দেখভাল বা পরিচালনা করার জন্য জনবল কম।

‘এবারের বাজেটে বেসরকারি খাতকে দেখাশোনা করার জন্য তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

‘একটি আদর্শ মানের সেবা নিশ্চিত করার জন্য তিন জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৯ জন নার্স থাকা প্রয়োজন, সেখানে রয়েছে মাত্র দুই জন। এ ছাড়া আরও ফার্মাসিস্টসহ জনবল দরকার। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে এবং বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষা খাতে বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ দাবি
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা ঠিক নয়: অর্থমন্ত্রী
বিনিয়োগ বাড়াতে আরও কমছে করপোরেট কর
জাতীয় বাজেটের এক শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের দাবি
বাজেটে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব

মন্তব্য

p
উপরে