× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
VCs resignation demand Protests in Shabi are spreading heat
google_news print-icon

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে-হামলা-ক্যাম্পাসে-ক্যাম্পাসে-বিক্ষোভ
সোমবার রাতে শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সৃষ্ট বিক্ষোভ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার নিজ নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে শাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডিরও অপসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতেও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বলছেন, কোনো অবস্থায়ই হল ছাড়বেন না তারা।

সোমবার সকাল থেকে শাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসভবনের দিকে এগোতে থাকেন। ভবনের ফটকে বিপুলসংখ্যক পুলিশের বাধার মুখে তারা সেখানেই অবস্থান নেন।

রাত পৌনে ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় শত শত শিক্ষার্থী একই স্থানে বিক্ষোভ করছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ভিসির বাংলো ঘিরে রেখেছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ।

রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষক সমিতি পুরো পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণ করছে। ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাসে নিজ বাসভবনেই আছেন।

তিনি সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিসিসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে সোমবার সকালে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দলে দলে এসে আন্দোলনে একাত্মতা জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে পুলিশ থাকবে কেন। তাদের এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বহিরাগতরা নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে দুপুরে অভিযোগ করেন ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বহিরাগতদের ইন্ধনে এখন আন্দোলন চলছে। রোববার রাত থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে বলে আমার কাছে তথ্য আছে।’

তবে ভিসির এমন দাবি নাকচ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিথ্যাচার করছেন উপাচার্য। ক্যাম্পাসে পুলিশ ছাড়া বহিরাগত কেউ নেই।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদ তালুকদারকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, কারা দোষী- এটা আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত ছিল, হঠাৎ কেন এমন অশান্ত হয়ে উঠল তা বের করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে ভিসির নির্দেশেই রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এ কারণে প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগের দাবি আনা হয়েছে।

শাবির উত্তাপ ঢাবিতে

শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের অপসারণ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

তারা শাবি বন্ধের ঘোষণাকে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনগুলো ঢাবি ক্যাম্পাসে সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। পরে সব সংগঠন এক সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ভবনে সমাবেশ করে তারা।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন ধামাচাপা দিতে হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভিসির অপসারণের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
শাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে ঢাবিতে সোমবার বিক্ষোভ করেছে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্র ফেডারেশনের (একাংশের) সভাপতি মিতু সরকার বলেন, ‘শাবি প্রশাসন ছাত্রদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর জন্য পুলিশ ডেকে এনেছে। হামলার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে যায়নি। আমরা শাবি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সাইদুল হক নিশান,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা দীপন চাকমা ও ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জহর লাল রায়।

এর আগে একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ব্যানারে আলাদা মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

সেখানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, ‘শাবি উপাচার্যকে উদ্ধারের নামে অ্যাকাডেমিক ভবনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি ন্যক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, ‘শাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেছে। পুলিশ ডেকে যেভাবে বেপোয়ারা লাঠিচার্জ করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জার। আমরা অবিলম্বে এর বিচার দাবি করছি।

‘সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিত্র এটি। যেখানেই সুষ্ঠু আন্দোলন হয়েছে, সেখানেই সরকারের পেটোয়া বাহিনী ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। এই সিস্টেম ভেঙে দিতে হবে।’

ছাত্র অধিকারের আলটিমেটাম

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় তারা ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ শেষে এ ঘোষণা দেন।

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে পদত্যাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় ঢাবি, চবি ও রাবিতে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।’

ইয়ামিন বলেন, ‘যে ভিসি শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা ঘটাতে পারেন সেই ভিসি কখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নন। আমরা এই ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি। তার যদি ন্যূনতম আত্মসম্মানবোধ থেকে থাকে তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদ বলেন, শাবিতে হামলায় আজ সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠছে, সে আগুনের উত্তাপ থেকে কোনোভাবেই সাস্টের ভিসিকে রক্ষা করা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাস্টের ভিসি ফরিদ উদ্দিনকে অব্যাহতি দিন। অন্যথায় সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চুপ করে বসে থাকবে না।’

ঢাবির ঘৃণাস্তম্ভে শাবি ভিসির কুশপুতুল

রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নির্মিত ঘৃণাস্তম্ভে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কুশপুতুল টানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে ডাকসু ভবনের পাশে ঘৃণাস্তম্ভে এই কুশপুতুল রাখা হয়।

কুশপুতুলে শাবি উপাচার্যের কোনো অবয়ব না থাকলেও সেখানে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ লেখা আছে। বিসিএল নেতারা সেখানে এক জোড়া জুতাও ঝুলিয়ে দেন।

কুশপুতুলটিতে লেখা হয়, ‘শাবিতে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্মম হামলার হোতা ভিসি ফরিদের পদত্যাগ দাবি করছি ও এহেন জঘন্য আচরণে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি।’

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সোমবার সন্ধ্যায় শাবি ভিসি ফরিদ উদ্দিনের কুশপুতুল দাহ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

কুশপুতুল স্থাপন শেষে বিসিএল সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল বলেন, ‘শাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীবিমুখ আচরণের পরিচায়ক।’

কুশপুতল স্থাপনের সময় বিসিএল সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাঈম হাসান হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভিসি ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘ভিসির মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিতে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের ওপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

শাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত

শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

রোববার বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। এর জেরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেন উপাচার্য। সেই সঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের কাছে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার কথা জানান। অভিযোগ, এ বিষয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে জাফরিনের পদত্যাগসহ শুরু হয় তিন দফা দাবিতে আন্দোলন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Prime Minister on his way to Beijing by high speed train

উচ্চগতির ট্রেনে সস্ত্রীক বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী

উচ্চগতির ট্রেনে সস্ত্রীক বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন সম্পন্ন করে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় তিনি হাই স্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সফরসূচি অনুযায়ী, বেইজিং যাত্রার প্রাক্কালে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন। দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ সভায় বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটে।

এই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা সর্বোত্তম অভিজ্ঞতাগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সফর শেষ করে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন শেষে তিনি এখন রাজধানী বেইজিংয়ের পথে রয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister attended the plenary session of the World Economic Forum

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ (WEF)-এর মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovating at Scale) শীর্ষক এই বিশেষ সম্মেলনটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।


এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাগতিক চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। বিশ্বনেতারা এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।


সেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশনের বিরতিতে বিশ্বনেতারা সম্মিলিতভাবে এক ফটোসেশনেও অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
It will take time for the economy to heal from the crisis
ইউনূস সরকারের নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও কাল্পনিক প্রবৃদ্ধি

সংকটে অর্থনীতি, ক্ষত সারতে লাগবে সময়

* ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত  বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ৪২৩ কোটি ডলার * আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার * ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে * ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে বাংলাদেশিদের অর্থ  * অর্থনীতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে দুই বছরে: অর্থমন্ত্রী
সংকটে অর্থনীতি, ক্ষত সারতে লাগবে সময় ফাইল ছবি

ইউনূস আমলের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টানা টানাপড়েন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশের এই পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকারের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংকটের নেপথ্যে অন্তর্বর্তী আমলের নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অতীতের ঋণের দায়ই নয়, বরং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কিছু পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের অভাবও এই আর্থিক সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে। যেমন- ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে অতি-আগ্রাসী নীতি ও তারল্য সংকটব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রুপ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (Freeze) করা এবং ঢালাও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে বেসরকারি খাতে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। ফলশ্রুতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে।

ব্যাংকগুলোর ওপর আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় মারাত্মক তারল্য সংকট তৈরি হয়। অনেক কারখানা জনবল কমাতে বা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়, যা সামগ্রিক কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি ও এডিপি বাস্তবায়নে স্থবিরতা: ইউনূস সরকারের ‘ফেক’ বা কাল্পনিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাব সংশোধন করতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি কমিয়ে দেয়। পাইপলাইনে কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ আটকে থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাবে প্রকৃত অর্থছাড় ১০৩ কোটি ডলার কমে যায়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সচল হওয়ার গতি হারায়।

ভুল ব্যাংক একীভূতকরণ নীতি: দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঢালাওভাবে একীভূত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং পরিস্থিতির শিকার উদ্যোক্তাদের আলাদা করতে না পারায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। অতীতের মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ সমাপ্তি ও আন্তর্জাতিক সুদের চাপ: যখন অভ্যন্তরীণ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে, ঠিক তখনই অতীতের নেওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ শেষ হওয়ায় আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্লোটিং রেট (বাজারভিত্তিক সুদ) বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ পরিশোধের দায় ৪০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

প্রশাসনিক শিথিলতা ও আর্থিক খাতের নতুন সিন্ডিকেট : অন্তর্বর্তী আমলের বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা। পূর্ববর্তী আমলের দুর্নীতি দমনের নামে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে ভেঙে পুনর্গঠন করা হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও নতুন এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণির (সিন্ডিকেট) উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়া ব্যাংক দখল বা পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় পর্দার আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক অনৈতিক সুবিধা ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্রয়ে স্বচ্ছতার অভাব : বিগত মেগা প্রকল্পগুলোর দুর্নীতি তদন্তের ধুয়া তুলে অনেক চলমান জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ স্থবির করে রাখা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জরুরি সংস্কার বা জরুরি ক্রয়ের দোহাই দিয়ে টেন্ডার বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই কিছু বিশেষ সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, যা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের স্বচ্ছতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সুইস ব্যাংকে অর্থ বৃদ্ধি ও তদারকির ব্যর্থতা : ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে শুধু বৈধ প্রবাসী আয় বা ব্যাংকিং লেনদেন ছিল না; বরং ওই সময়ে দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে কতিপয় মহল দেশ থেকে নতুন করে বিপুল অর্থ পাচার করেছে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধের জোরালো আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির অভাবে ওই সময়ে পুঁজি পাচার ঠেকানো সম্ভব হয়নি। যা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পরোক্ষ যোগসাজশকে নির্দেশ করে।

এদিকে, এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে( ইউনূসের আমল) সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা ছিল ২০২৫ সালে।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিদেশি ঋণের মোট অর্থছাড় কমেছে ১০০ কোটি ডলারের (১ বিলিয়ন) বেশি।

একই সঙ্গে প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময়ে দেশের মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

ইআরডির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ঋণের মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার; অর্থাৎ ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিদেশি ঋণের প্রকৃত অর্থছাড়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

রেকর্ড স্পর্শ করেছে ঋণ পরিশোধের দায়: যখন বিদেশি মুদ্রার আগমন বা সহায়তার উৎসগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে, ঠিক তখনই মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো চেপে বসেছে অতীতের নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায়।

ইআরডির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আলোচিত ১১ মাসে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বিগত বছরগুলোতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল বা পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য যে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেকেরই ‘গ্রেস পিরিয়ড’ (ঋণ পরিশোধ শুরু করার আগের সময়কাল) শেষ হয়ে এসেছে। ফলে এখন থেকে আসল ও সুদ—উভয়ই একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় (বিশেষ করে ফ্লোটিং রেট বা বাজারভিত্তিক সুদের ক্ষেত্রে) ঋণ পরিশোধের খরচের খাতা দিন দিন ভারি হচ্ছে।

ইআরডির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ঋণের মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৫৪৯ কোটি ডলার; অর্থাৎ ঋণের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই সময়ে মোট বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমে ৪৫৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৬১ কোটি ডলার। অর্থাৎ সামগ্রিক সম্পদ প্রবাহে ১০০ কোটি ডলারের বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।’

এর আগে গত ২৪ মে প্রকাশিত ইআরডির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ৪২৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অর্থছাড় করেছিল।

ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ: দেশের অর্থনীতিতে যখন বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ কমছে, ঠিক তখনই ঋণ পরিশোধের দায় ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই দেশের মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা জোরদার করতে হবে। পাইপলাইনে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুত অর্থছাড়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ঋণের চুক্তিতে যাওয়ার আগে তার সুদের হার, শর্ত এবং পরিশোধের সময়সীমা অত্যন্ত কঠোরভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। সর্বাগ্রে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিটি ডলারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে এই সংকট থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Handing over the annual report of Dhaka Wasa

ঢাকা ওয়াসার বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর

ঢাকা ওয়াসার বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের নিকট আজ মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা গোলাম কিবরিয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ে এ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) এ.কে.এ.এম ফজলুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) মিজানুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (আরপিঅ্যান্ডডি) মো. আজিজুল হক, প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সালেকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Meeting of the President and CEO of the World Economic Forum with the Prime Minister

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র বৈঠক ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদান করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোইস জভিংগি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A meeting of the secretary committee is being held tomorrow to determine the new pay scale

নতুন পে-স্কেল নির্ধারণে আগামীকাল বসছে সচিব কমিটির বৈঠক

নতুন পে-স্কেল নির্ধারণে আগামীকাল বসছে সচিব কমিটির বৈঠক

নবম জাতীয় পে-স্কেলের নানা বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সভা ডেকেছে পে-স্কেল নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি। এই সভায় চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, কয় ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুযায়ী তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হলেও এটি দুই ধাপে করা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমন আলোচনা এসেছে। দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে আগামী ১ জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রের তথ্য বলছে, শুধু বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থা পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করা হবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সচিব কমিটির সভা রয়েছে। সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In 11 months foreign debt repayments of and 4 billion decreased the amount of new commitments

১১ মাসে ৪০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ শোধ, কমেছে নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ

১১ মাসে ৪০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ শোধ, কমেছে নতুন প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওপর বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণদাতাদের অতীতের ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। এর বড় অংশই গেছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপানের কাছে। অন্যদিকে প্রতিবেদন সূত্রে দেখো গেছে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই-মে মাসের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই ১১ মাসে আগের নেয়া ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ঋণ দাতাসংস্থা ও দেশকে ৪১৩ কোটি ২৩ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, যা বিদেশি ঋণ শোধে নতুন রেকর্ড। এ ছাড়া টাকার হিসাবে ওই সময়ে ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা অর্থাৎ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি শোধ করতে হয়েছে। জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার।

গত কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। এবার ১১ মাসেই এর চেয়ে বেশি শোধ করল বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ শোধের পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিদেশি ঋণের আসল ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার ও সুদ ১৪৫ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৪১৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে এবং ৪৩ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ৪২২ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল।

গত ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক দিয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। রাশিয়া ৯৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭৮ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪৩ কোটি ডলার।

সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও অর্থ নেয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।

মন্তব্য

p
উপরে