× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Second day movement in JU in protest of attack on Shabi
hear-news
player
print-icon

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে জাবিতে আন্দোলন দ্বিতীয় দিনে

শাবিতে হামলার প্রতিবাদে-জাবিতে-আন্দোলন-দ্বিতীয়-দিনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে হামলার বিচার ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানান বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে এত শত অভিযোগ থাকার পরও সরকার যেভাবে সমর্থন দিয়েছে, এই উপাচার্যের বিষয়ে আমরা আশাবাদী যে সরকার তেমন অন্ধ সমর্থন দেবে না।’

সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দীপ বলেন, ‘আমরা যারা আজকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি, তারা ছাড়া সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কী হয়েছিল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর জেরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

এর জেরে সোমবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
ভিসি কার্যালয়ে তালা ঝোলালেন শাবি শিক্ষার্থীরা
শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চবিতে মানববন্ধন
অস্থির শাবির দায় বহিরাগতদের: ভিসি
শাবির ঘটনা তদন্তে কমিটি, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
থমথমে শাবি, হল না ছাড়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Hashem Alis dream has sunk

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন জামালপুরে বন্যায় ২০ গ্রামের পাকা বোরো ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
‘প্রতি বছর সাধারণ তো ধান কাটা শেষে আষাঢের মাঝামাঝি বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের প্রান্তি কৃষক হাশেম আলী। কষ্টার্জিত জমানো টাকায় ১২ বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলেন বোরো ধান। গত শনিবারের আকষ্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে তার স্বপ্নের ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

শুধু হাশেম আলী নন। মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া, শেখ সাদি, টুপকারচর, ফকিরপাড়া, বেলতৈল, বাগবাড়ি, পূর্ব কাপাসহাটিয়া, তালুকপাড়াসহ ২০ গ্রামের আশপাশের কয়েক হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত কৃষক।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

শনিবার রাতে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকষ্মিক বন্যায় এই ২০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমির পাকা বোরো ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। দিশাহারা এসব কৃষক যে যেভাবে পারছে ধান কাটার চেষ্টা করছে। কিন্তু শ্রমিক আর নৌকা সংকটের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেতের ধান ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। আবার উৎপাদন খরচ না উঠায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন ধানের আশা।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কৃষক হাকিম আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানিতে তলানি ধান কাটার জন্যে দেড় হাজার টাকা দিয়েও কামলা পাওয়া যাইতাছে না। যাগর একটু টাকা পয়সা আছে, খালি তারাই ধান কাটতাছে। যাগর টাকা নাই তারা আর ধান কাটতে পারতাছে না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

কৃষক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তলায় থাকা ধান কাটার পরে রাস্তা পর্যন্ত যে আনমু, এহন নৌকা পাওয়া যাইতাছে না। এডা নৌকা আনবের গেলে এক ঘণ্টার জন্যে ১০০০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। কামলা খরচ দিয়ে, নৌকা খরচ দিয়ে ধান কাইটে পুষাইতাছে না। তাই বেশিরভাগ ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাইতাছে।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কাপাস হাঁটিয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। পানিতে ডুবে গেছে পুরো জমির ধান। দিনে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক আর ঘণ্টায় হাজার টাকার চুক্তিতে নৌকা ভাড়া নিয়ে দুই বিঘার ধান কেটে রাস্তায় তুলেছেন। বাকি ধান এখনও পানির নীচে ডুবে আছে।

কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, এহন যদি সরকার আঙ্গরে সাহায্য না করে তাইলে সারা বছর না খায়ে থাকা লাগব।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর সাধারণ তো ধান কাটা শেষে আষাঢের মাঝামাঝি বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, উপজেলায় এ বছর ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নেই আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

জামালপুর কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শাখাওয়াত ইকরাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিমজ্জিত ধান কাটতে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দেয়া ছাড়াও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সারা দেশে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন
বোরোর মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
ঘুম ভাঙাল বৃষ্টি
শীতলতার পরশ নিয়ে এলো বৃষ্টি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest of fraud showing greed for government job

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২
ডিবির ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়া ও ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বুধবার রাত ১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দুই যুবক হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী রাশেদুজ্জামান শান্ত ও সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের ৩০ বছর বয়সী বিল্লাল হোসেন।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শান্ত দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এনএসআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ে তিনি চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

সম্প্রতি এনএসআইয়ের জুনিয়র ফিল্ড অফিসার ও এরিয়া অফিসার পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে শান্ত কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এরপর আলমডাঙ্গা উপজেলার কাবিলনগর গ্রামের আব্দুল লতিফ বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় শান্ত ও বিল্লালসহ দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মামলা করেন।

পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুক্তিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে। তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার সহযোগী কাঠমিস্ত্রি বিল্লালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর সবুরকে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর শান্ত ও বিল্লালের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তোলা হবে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, দুজন গ্রেপ্তার
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের জায়গা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
ভূমি অধিগ্রহণে প্রতারণা, সার্ভেয়ারকে বরখাস্তের সুপারিশ
১০ লাখ টাকা আত্মসাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারীর কারাদণ্ড
এয়ার টিকিট বিক্রির প্রতারক চক্র, হোতা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Due to lack of space the truck terminal will be the bus terminal

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। তাই মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে।’

জায়গা স্বল্পতার সমস্যা মেটাতে অস্থায়ীভাবে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাস টার্মিনালটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে তিনি বিষয়টি জানান।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পাঁচ বছর আগেও অভ্যন্তরীণ রুটে ৯০টি বাস ছিল। বর্তমানে সেই বাসের সংখ্যা ১৯০টি এবং দূরপাল্লার রুট মিলিয়ে এই টার্মিনালে বাস আছে তিন শতাধিক। তবে এত বাস রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই এই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে।

জায়গা না পেয়ে বাস রাখা হয় টার্মিনাল সংলগ্ন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়কে। এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক। বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।

পাশাপাশি বাস মালিক ও শ্রমিকরা রয়েছেন চুরির আতঙ্কে। খোলা জায়গায় বাস রাখায় বিভিন্ন সময় ব্যাটারিসহ নানা যন্ত্রাংশ চুরির মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।

সাদি পরিবহনের চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস টার্মিনালের যে বর্তমান অবস্থা, তাতে বাস রাখা অনেক কষ্টের। বাস একবার টার্মিনালের মধ্যে ঢুকালে বের করতে জান-পরান বের হয়ে যায়। জরুরি ট্রিপ থাকলে তো ভোগান্তির শেষ নাই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর বাস রাখতে হয়। টার্মিনালে যে জায়গা রয়েছে, তার থেকে দ্বিগুণ জায়গা প্রয়োজন। তাহলে ভোগান্তি কমে যাবে।’

তুফান মেল পরিবহনের চালক সুমন বলেন, ‘রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখলে নানা সমস্যা হয়। অনেক বাসের ব্যাটারি চুরি হইছে। বাইরে বাস রাখাটা রিস্ক। শুনছি ট্রাক টার্মিনালের জন্য যে জায়গা করছিল ওই জায়গায় বাস স্ট্যান্ড নেবে। বাস স্ট্যান্ডের চাইতে ট্রাক টার্মিনালের জায়গা বড়। সব বাস রাখাও সম্ভব হবে। এইটা হইলে ভোগান্তি মনে হয় কমবে।’

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ‘দিন দিন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসের সংখ্যা বাড়ছেই। পদ্মা সেতু চালু হলে নতুন অনেক কোম্পানির বাস এই টার্মিনালে থাকবে। এখন যে বাস রয়েছে সেই বাসগুলোকেই জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। টার্মিনালের সামনে যানজটও অনেক বেড়েছে।

‘জনগণের ভোগান্তি তো হচ্ছেই, বাস মালিকরাও ভোগান্তিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় মেয়র সেরনিয়াবাত জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কাশিপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

কিশোর জানান, যন্ত্রাংশের দোকানগুলোও সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস টার্মিনাল ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে। বাসগুলো আর ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কোথাও রাখতে হবে না। সব বাসই ট্রাক টার্মিনালে রাখা সম্ভব।

‘তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্ল্যান অনুযায়ী বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে নগর ভবন এবং গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের কথা রয়েছে। গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থায়ীভাবে স্থানান্তর হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে সুবাতাস
লাইসেন্সের দাবিতে ইজিবাইক চালক‌দের বি‌ক্ষোভ
বিয়ের দাবিতে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে জর্ডান প্রবাসী নারী
দেশে নার্স সংকট সোয়া দুই লাখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
My village my city sure dream ambulance

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্মীপুরে মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে স্বপ্নযাত্রা নামের অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেরও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এতে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা নিতে পারবে। কমবে দুর্ভোগসহ নানা হয়রানি। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রমটি এখন পরিচালিত হচ্ছে ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে কেনা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। ২৪ ঘণ্টায় সদরসহ জেলার ৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’।

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

সহজেই মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে এই সার্ভিস ব্যবহারও করতে পারছেন। সে জন্য গুগল প্লে স্টোরে দেয়া হয়েছে স্বপ্নযাত্রা নামের একটি অ্যাপ, যা ডাউনলোড করে সেবার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সদর উপজেলার হামছাদীর আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হঠাৎ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিতে বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে না পেয়ে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা কার্যক্রমে কল দেন স্বজনরা। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে বাড়িতে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুলেন্স। স্বল্প সময়েই পৌঁছান হাসপাতালে। কয়েক দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

উত্তর হামছাদীর নাজমুল করিম টিপু বলেন, ‘প্রতি কিলোমিটার রোগীদের কাছ থেকে এসি গাড়ি ২০ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স করে ভাড়া দিতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। সেখানে এ সার্ভিসের মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।’

এমন সেবায় খুশি তারা। তাদের ভাষ্য, তারা সহজে যেমন সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি স্বল্প খরচে সবাই সেবাও নিতে পারছেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘কম খরচে ও সঠিক সময়ে এ সেবা পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ। এ সেবা কার্যক্রম জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।’

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনিও। তার দাবি, এ ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহজ হবে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, 'আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সরকারি অনুদানে নয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে চলছে এ কার্যক্রম।’

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

এটি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি এ কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতের উপহারের আরও ৪০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
মোদির উপহারের ৪০ অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা আসছে বৃহস্পতিবার
বেনাপোল ছেড়েছে ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স
ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
চট্টগ্রামে বিনা মূল্যে মিলবে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who was here thousands of years ago

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কপিলমুনি ঢিবি’। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮০ মিটার প্রস্থজুড়ে খননকাজ হয়েছে। সমতল থেকে মাটির প্রায় ৭ ফুট গভীরে খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

টেরাকোটা, মূর্তি, মাটির তৈরি বড় কড়াইয়ের আংটা, কড়ি, চাল, ইটের মতো আরও অসংখ্য নিদর্শন একে একে বেরিয়ে এসেছে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামে প্রত্নতাত্তিক খননের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে হাজার বছরের পুরোনো এসব নিদর্শন।

গত ১২ মার্চ থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এই খননকাজ চলে। খননে বেরিয়ে আসা প্রত্নতাত্ত্বিক ওই স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কপিলমুনি ঢিবি’।

খননকাজে নিয়োজিত দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা।

তিনি বলেন, ‘রেজাকপুর গ্রামে আমরা যে নিদর্শনগুলো পেয়েছি, ধারণা করা হচ্ছে তা এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো।’

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

তিনি জানান, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা অঞ্চলে আগেও অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেসব নিদর্শনের সঙ্গে কপিলমুনি ঢিবির নিদর্শনের অনেক মিলও রয়েছে। বিশেষ করে যশোর জেলার কেশবপুরের ভরতভায়নার নিদর্শনের সঙ্গে অনেক মিল। সেখানকার ইটগুলোর সঙ্গে কপিলমুনিতে পাওয়া ইটগুলোর খুবই সাদৃশ্য রয়েছে।

খুলনা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮০ মিটার প্রস্থজুড়ে খননকাজ হয়েছে। সমতল থেকে মাটির প্রায় ৭ ফুট গভীরে খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

ওই ঢিবিতে একটি বর্গাকার স্থাপত্যকাঠামো আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্গাকার এই স্থাপনার চারপাশে দেয়ালঘেরা একটি প্রদক্ষিণ পথও রয়েছে।

এখানে পাওয়া বিভিন্ন মাটির পাত্র ও পাত্রের ভাঙা অংশের মধ্যে হাঁড়ি, কলস, বাটি, থালা, বদনা, কড়াই, প্রদীপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও পোড়ামাটির ফলকের ভাঙা অংশ, পোড়ামাটির প্রতিমার ভগ্নাংশ, অলঙ্কৃত ইট, কড়িসহ বিভিন্ন ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণও পাওয়া গেছে।

বর্গাকার স্থাপত্যকাঠামোর উত্তর-পশ্চিম কোণ ও উত্তর-পূর্ব কোণের প্রদক্ষিণ পথের বাইরের দেয়ালসংলগ্ন মাটিতে মিশ্রিত অবস্থায় এক ধরনের কালো রঙের চাল পাওয়া গেছে। একে পোড়া চাল বলছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

এই চাল নিয়ে গবেষণা করলে এখানকার প্রাচীন আমলের ধানের প্রজাতিসহ প্রকৃতি-প্রতিবেশ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে বলে তাদের ধারণা।

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

এই ঢিবি এলাকা এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। বহুকাল ধরেই স্থানীয়রা এখানকার টালিসদৃশ বিশেষ ইট নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছেন।

কপিলমুনি ও সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার একাধিক জায়গায় এমন আরও ঢিবি রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এখানে আরও অনেক নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।

তবে হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটিতে কারা বসবাস করেছিল, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আফরোজা খান মিতা বলেন, ‘এখনও নিশ্চিত না হওয়া গেলেও যেসব স্থাপনা ও নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে- সেখানে এমন কোনো জনগোষ্ঠী ছিল যাদের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের নিবিড় সংযোগ ছিল।’

সুন্দরবনসংলগ্ন এই অঞ্চলে বহুদিন আগে থেকেই মানুষের বসতি বলে ধারণা করা হয়। মহাকাব্য রামায়ণে কপিলেশ্বর মুনি ও বিশাল জলাভূমি বনের উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া সতীশচন্দ্র মিত্রের শত বছরের পুরোনো গ্রন্থ ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’-এ কপিলমুনিতে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থানের উল্লেখ রয়েছে। এই এলাকায় একাধিক ঢিবি থাকার কথাও অনেকে জানিয়েছেন।

অতীতে একটি পুকুর খননের সময় এই অঞ্চলে একটি বুদ্ধ প্রতিমা পাওয়া গিয়েছিল। আর কপিলমুনি বাজারের মন্দিরে থাকা বিষ্ণু মূর্তিটিও ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কপিলমুনি ঢিবিতে খনন শুরুর পর থেকে এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, গবেষকসহ বিদেশি প্রতিনিধিদলও ঘুরে গেছেন।

স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে অনুসন্ধিৎসু পাঠক, আইনজীবী বিপ্লব কান্তি মণ্ডলও কিছুদিন পর পর ওই খননস্থলটিতে ঘুরতে যান। তিনি বলেন, ‘অনেক পরে হলেও রেজাকপুরে খননকাজ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ একটি যথাযথ কাজ করেছে। তবে এই খননকাজটি আরও অনেক বিস্তৃত হওয়া উচিত। এত দিনে অনেক নিদর্শন হারিয়ে গেছে। যা আছে, তা রক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন
মোগল আমলের মসজিদে লতাগুল্মের রাজত্ব
৫০০ কেজির বেলে পাথর জব্দ, গ্রেপ্তার ২
উঠান খুঁড়তে উঠে এল ১৪০০ বছর আগের নিদর্শন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 killed in truck crash in Laguna

লেগুনায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৫ শ্রমিক

লেগুনায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৫ শ্রমিক লেগুনায় ট্রাকের ধাক্কায় পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে যাত্রী নিয়ে লেগুনাটি নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। গোজা ব্রিজ এলাকায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক একে ধাক্কা দেয়।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় লেগুনার পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তারা সবাই কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের গোজা ব্রিজ এলাকায় বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ছোটপাকা গ্রামের মকুল হোসেন ও মনির হোসেন, বাসাবাড়িয়া গ্রামের মকবুল হোসেন ও আব্দুল হালিম এবং গুরুদাসপুর উপজেলার জুমাইগর গ্রামের হায়দার আলী।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে যাত্রী নিয়ে লেগুনাটি নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। গোজা ব্রিজ এলাকায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক একে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হন।

আহতদের সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাজশাহীতে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ওসি আরও জানান, লেগুনা ও ট্রাক থানা হেফাজতে রাখা আছে। ট্রাকের চালক পলাতক। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
রাস্তা পারের সময় বাসের ধাক্কায় পথচারী ‍নিহত
বাসের ধাক্কায় বাইকচালকের মৃত্যু
অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার
আলমসাধুর ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত
মজুরির ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ২ শ্রমিক নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ferry is being launched in Monpura

প্রথমবারের মতো ফেরি হচ্ছে মনপুরায়

প্রথমবারের মতো ফেরি হচ্ছে মনপুরায় ফেরি চালুর লক্ষ্যে বুধবার উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাট, তুলাতলী ঘাট ও হাজীরহাট ঘাট পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান। ছবি: নিউজবাংলা
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সারা দেশের সঙ্গে মনপুরার সড়ক পথে যোগাযোগ স্থাপন শুধু মনপুরার দাবি নয়, এটা আজ থেকে আমার দাবি। দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরাকে জেলা সদরসহ সারা দেশের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ফেরি চালুর লক্ষ্যে পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান আহমেদ শামীম আল রাজী ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক।

ফেরি চালুর লক্ষ্যে উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাট, তুলাতলী ঘাট ও হাজীরহাট ঘাট পরিদর্শন করেন তারা।

পরিদর্শন শেষে বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সমাবেশে যোগ দেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ভিশন ও এমপি জ্যাকবের প্রশংসা করেন। এ ছাড়া দ্রুত ঢাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন মনপুরার যোগাযোগ রক্ষায় নোয়াখালীর হাতিয়ার ৪ নম্বর চেয়ারম্যান ঘাটে যাওয়ার জন্য লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সারা দেশের সঙ্গে মনপুরার সড়ক পথে যোগাযোগ স্থাপন শুধু মনপুরার দাবি নয়, এটা আজ থেকে আমার দাবি। দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এর আগে মনপুরা থেকে নোয়াখালীর ৪ নম্বর ঘাটে সিট্রাক সার্ভিস চালুর আশ্বাস দেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেলিনা আকতার চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মিয়া, সাবেক সম্পাদক একেএম শাহাজান মিয়া।

আরও পড়ুন:
দৌলতদিয়ায় ৬ কিলোমিটার জট
শিমুলিয়ায় যাত্রীর চাপ কম, ভোগান্তি ফেরি পারাপারে
বাংলাবাজারে যাত্রীর ঢল, বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ
ফিরতি যাত্রায় ফেরি ঘাটে ভোগান্তি চরমে
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় বেড়েছে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

মন্তব্য

p
উপরে