× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
The country has huge potential for circular economy
hear-news
player
print-icon

দেশে ‘সার্কুলার অর্থনীতির’ বিপুল সম্ভাবনা

দেশে-সার্কুলার-অর্থনীতির-বিপুল-সম্ভাবনা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুনরায় সম্পদে রূপান্তর করার পক্ষে ব্যবসায়ীরা। ছবি: সংগৃহীত
শিল্পমন্ত্রী জানান, সার্কুলার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি সেল গঠন করা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৪০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, বাকি ৬০ শতাংশকেও এর আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশে সার্কুলার (বৃত্তাকার) অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বিকাশের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। এটি আনুষ্ঠানিক শিল্পের মর্যাদা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

রোববার মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘সার্কুলার অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সার্কুলার বা বৃত্তাকার অর্থনীতি হচ্ছে সম্পদ পুনঃব্যবহার করা। একে রি-সাইক্লিং শিল্পও বলে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী জানান, সার্কুলার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি সেল গঠন করা হবে। এই সেলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ৪০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বাকি ৬০ শতাংশকেও এর আওতায় আনতে হবে।

টেকসই উন্নয়নে সার্কুলার অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন, ২০৩১ সাল নাগাদ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের।

এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আর সে জন্য সার্কুলার অর্থনীতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, দেশে নির্মাণ শিল্প, টেক্সটাইল, মোটরগাড়ি, কৃষি, আসবাব, তেল ও গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সার্কুলার ইকোনমিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক প্লাস্টিক ব্যবহার মাত্র ৭ থেকে ৮ কেজি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমাণ ১৩০ কেজি। পুনঃপ্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুনরায় সম্পদে রূপান্তর করছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সার্কুলার অর্থনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। ইউরোপীয় কমিশন এরই মধ্যে সার্কুলার অর্থনীতি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। এ ছাড়া চীন, ব্রাজিল, কানাডা ও জাপান তাদের অর্থনীতিকে সার্কুলার অর্থনীতিতে রুপান্তরের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশেরও একই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন। তিনি জানান, যে হারে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে মূল্যবান বিভিন্ন খনিজের মজুদ শেষ হয়ে যাবে। তবে সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব।

এই খাতকে শিল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে দেশের সার্কুলার অর্থনীতির বিকাশ আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

প্যানেল আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট ইয়ুন জো অ্যালিসন ই বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু এটি পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির দিকে যাবে কিনা এখন তা নির্ধারণ করার সময় এসেছে। কেননা, সম্পদের অবক্ষয় শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে কিংবা প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং ভবিষ্যতকেও চরম ঝঁকিতে ফেলবে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বিনিয়োগ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

প্যানেল আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজান আর খান, এফবিসিসিআই-এর প্যানেল উপদেষ্টা ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, মো. হাবীব উল্লাহ ডনসহ অন্যান্য পরিচালকরা।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই-এর মহাসচিব মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
ফের লকডাউন আসতে পারে: এফবিসিসিআই সভাপতি
লকডাউন চায় না এফবিসিসিআই

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
BSECs advice to the former

সাকিবকে বিএসইসির পরামর্শ

সাকিবকে বিএসইসির পরামর্শ সম্প্রতি স্বর্ণ ব্যবসায় নেমেছেন সাকিব আল হাসান। ছবি-নিউজবাংলা
বিএসইসি তাদের নতুন চিঠিতে জানায়, কমিশন আপনাদের চিঠি পেয়ে এবং আপনাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করছে। তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কমোডিটি ভবিষ্যত চুক্তি (স্পট ব্যতীত) বা ব্যবসা করতে হলে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন।

সাকিব আল হাসানের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ শব্দটি বাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি।

বিভ্রান্তি এড়াতে প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে এই শব্দটি বাদ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে কমিশনের সুপারভিশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ মার্কেটস অ্যান্ড ইস্যুয়ার কোম্পানিজের (এসআরএমআইসি) অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে বুধবার এ পরামর্শ দেয়া হয়।

‘রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এবং ‘বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তারকা ক্রিকেটার সাকিব।

প্রতিষ্ঠান দুটির এমডি বরাবর তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে গত ১৬ মে চিঠি দিয়েছিল বিএসইসি। চিঠির জবাব দেয়া হয় ২২ মে।

সাবিকের প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিক্রিয়া সন্তুষ্ট হয়েছে বিএসইসি। বুধবার বিএসইসি তাদের নতুন চিঠিতে জানায়, কমিশন আপনাদের চিঠি পেয়ে এবং আপনাদের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করছে। তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কমোডিটি ভবিষ্যত চুক্তি (স্পট ব্যতীত) বা ব্যবসা করতে হলে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন।

“বিভ্রান্তি এড়াতে আপনাদের কোম্পানি দুটির নাম থেকে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ শব্দটি বাদ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।”

খেলার পাশাপাশি নানা ধরনের ব্যবসায় নেমে আলোচিত সাকিব আল হাসান। সবশেষ স্বর্ণের ব্যবসায় নামেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

এই আলোচনার মধ্যেই সাকিবের মালিকানাধীন স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ওই দুটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল বিএসইসি।

‘অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা করায় সাকিবের প্রতিষ্ঠানকে শোকজ’, ‘অনুমতি ছাড়াই সোনার ব্যবসা, সাকিবের কাছে ব্যাখ্যা চাইল বিএসইসি’- এমন নানা শিরোনামে সংবাদমাধ্যমে খবর ছাপানো হয়।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদগত নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘বিষয়টা আসলে সে রকম কিছু নয়। সাকিবের দুই প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের শোকজ করা হয়নি, ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠান দুটির নামের সঙ্গে যেহেতু এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আছে, সে কারণে কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে আমাদের কাছে প্রতিষ্ঠান দুটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

‘সিএসই-র অনুরোধে আমরা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে তাদের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। তারা কী ব্যবসা করছে, সে বিষয়টিই আসলে জানতে চাওয়া হয়েছে। অন্য কিছু নয়।’

শামসুদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘কেউ ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলে তো দোষের কিছু নেই। প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে যেহেতু এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আছে, সে কারণেই জানতে চাওয়া হয়েছে আরকি। দেশে কতজনই তো ব্যবসা করছে; সাকিব করলে সমস্যা কী?’

১৬ মে সাকিবের দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ৮ (৪) অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো সিকিউরিটিজের জন্য ব্রোকার বা ডিলার হিসেবে কাজ করবে না।

এ পরিস্থিতিতে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য না হয়েও কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে চায় কমিশন।

২৫ মের মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটিকে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয় চিঠিতে। চিঠির অনুলিপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাণিজ্য সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও দেয়া হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২ (সিসিসি) অনুযায়ী, কমোডিটি এক্সচেঞ্জে নগদ বা অফসেট কমিশনের সঙ্গে যথাযথভাবে নিবন্ধিত।

‘কমোডিটি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্য, বনজ, খনিজ বা এনার্জি দ্রব্য এবং এই জাতীয় পণ্য থেকে তৈরি বা প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যাদি। এ ছাড়া কমিশন কর্তৃক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অবহিত করা যেকোনো পণ্য বা দ্রব্যাদি হতে পারে। আর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২ (১) (৩) অনুসারে, কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্টকে নিরাপত্তা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।’

গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর বনানীতে নিজের স্বর্ণ ব্যবসার শোরুম উদ্বোধন করেন সাকিব। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ডিলার হিসেবে অনুমোদন পায় সাকিবের বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি রংপুর ও কুমিল্লায় অফিস রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বিদেশ থেকে সোনার বার ও অলঙ্কার আমদানি করে সম্প্রতি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, কাঁকড়াসহ নানা ব্যবসায় জড়িত ৩৫ বছরের সাকিব।

বাবা ব্যাংকার। তাই হয়তো এই ব্যবসায় নামতে চেয়েছিলেন সাকিব। চেয়েছিলেন পিপলস ব্যাংকে নামে একটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক হতে। এ বিষয়ে গত ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন সাকিব।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া সময় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কোম্পানি গঠন ও পেইড-আপ ক্যাপিটাল সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ায়, এ পর্যন্ত পিপলস ব্যাংকের অনুমোদন মেলেনি।

২৫ মে-র বিএসইসি’র চিঠির অনুলিপি অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও বাণিজ্য সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is good news for small businesses in the budget

বাজেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর আসছে

বাজেটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর আসছে করোনার পর জমে উঠেছে ক্ষুদ্র ব্যবসা মৃৎশিল্প। ছবিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর থেকে তোলা। ছবি: সাইফুল ইসলাম / নিউজবাংলা
বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সেটি কমিয়ে দেড় শতাংশ করার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপদে রয়েছে। করোনা পরবর্তী বড় ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ালেও ছোটদের বেশিরভাগের অবস্থারই খুব একটা উন্নতি হয়নি। উচ্চহারে ভ্যাট, মূলধন সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তারা।

এই পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সুখবর দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ক্ষুদ্র পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্য সংযোজন করের চাপ কমানো হচ্ছে।

বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। এ খাতে যে পরিমাণ বিক্রি বা লেনদেন হয় তার বিপরীতে উল্লেখিত হারে ভ্যাট দিতে হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বাজেটে এই হার কমিয়ে দেড় শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত হার কার্যকর করা হলে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা খাতে করের চাপ কমবে এবং পণ্য ও সেবা সস্তা হবে। এতে উপকৃত হবেন ভোক্তা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পাঁচ শতাংশ ভ্যাট তাদের জন্য অনেক বেশি। এই হারে ভ্যাট দিতে হলে তাদের ব্যবসায় কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ ‘মূল্য সংযোজন’ করতে হয়।

কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এ খাতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়। কাজেই, নিট বা প্রকৃত মূল্য সংযোজন যা হয়, তার উপর ভিত্তি করেই এ খাত থেকে ভ্যাট আদায় করা উচিত।

নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ব্যবসায় যে পরিমাণ ‘মূল্য সংযোজন’ হয়, তার উপর ভিত্তি করে প্রযোজ্য হারে ভ্যাট আদায় করে সরকার। মাসিক রিটার্নের সময় এই ভ্যাট পরিশোধ করা হয়।

এনবিআরের সাবেক সদস্য রেজাউল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছোট ব্যবসায়ীদের মূল সমস্যা হচ্ছে তারা যে লেনদেন করে থাকে, তার জন্য কোনো হিসাব সংরক্ষণ করে না। যে কারণে সরকার থেকে রেয়াত বা ভ্যাট ফেরত পায় না। যদি এটা করা সম্ভব হতো তা হলে ভ্যাটের চাপ কমে যেত।’

তিনি বলেন, ‘এ খাত থেকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে হলে যোগ্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আওতায় এনে অটোমেশন করতে হবে। তা হলে আদায় বর্তমানের চেয়ে বহুগুণ বাড়বে।’

তবে কাজটি অত্যন্ত জটিল বলে মনে করেন তিনি।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে এ খাতের অংশ চলতি মূল্যে সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে ১৫ শতাংশ।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পাঁচটি খাত প্রধান চালিকাশক্তি। এর মধ্যে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা অন্যতম। উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পরই এ খাতের অবস্থান।

এ খাতে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট আহরণের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবতা হচ্ছে নামমাত্র ভ্যাট আসে। বছর শেষে বর্তমানে এ খাত থেকে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ আদায়ের সম্ভাবনা আছে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় আদায়যোগ্য ভ্যাটের ৯০ শতাংশই ফাঁকি হয়।

এর প্রধান কারণ দুটি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই আওতার বাইরে। দ্বিতীয়ত, অটোমেশন না করা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এনবিআর বলেছে, এখন পর্যন্ত দুই লাখ প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৯ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী ভোক্তার কাছ থেকে সরাসরি ভ্যাট আহরণ করবে খুচরা ও পাইকারি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি যন্ত্র বসানোর কথা। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখন পর্যন্ত অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে তা স্থাপন করতে পেরেছে। ফলে ভ্যাট আদায় নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

‘যতদিন পর্যন্ত রাজস্ব বোর্ড সব দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন স্থাপন করতে না পারে, তত দিন পর্যন্ত খুচরা ও পাইকারি থেকে ভ্যাট আদায় বাড়বে না।’

আরও পড়ুন:
বাজেটে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় ভ্যাট কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The governor is sitting with the bank MDs with dollars

ডলার নিয়ে ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে বসছেন গভর্নর

ডলার নিয়ে ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে বসছেন গভর্নর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে গত কিছুদিন থেকেই। অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের উল্লম্ফনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো; বাধ্য হয়ে ব্যাংক রেটের চেয়ে সাত-আট টাকা বেশি দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। ডলার বাজারের এই অস্থিরতা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ডলারের অস্থির বাজার নিয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বৃহস্পতিবার এই বৈঠক হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে বুধবার রাতে তিনি বলেন, ‘ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কাল (বৃহস্পতিবার) গভর্নর স্যার ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ব্যাংকগুলো কেনো আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের দরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে-সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’

মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হবে। বৈঠকে ডলার পরিস্থিতি ছাড়াও ব্যাংকিং খাতের অন্যন্য বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানান তিনি।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে এবিবি চেয়ারম্যান ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এখন মিটিংয়ে আছি। বৈঠকের বিষয়ে কিছু জানতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানেন।’

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের উল্লম্ফনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো; বাধ্য হয়ে ব্যাংক রেটের চেয়ে সাত-আট টাকা বেশি দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। ডলার বাজারের এই অস্থিরতা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বাধ্য হয়ে সরকার আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তাদেরও বিদেশ সফর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিলাস পণ্য আমদানিতে ৭৫ শতাংশ এলসি মার্জিন রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সবশেষ মঙ্গলবার বেশকিছু বিলাসপণ্যের আমদানির উপর অতিরিক্স শুল্ক আলোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর।

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাস ২৫ দিনে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২৫ মে পর্যন্ত) ৫৬০ কোটি (৫.৬০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা) মতো তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর। দুর্বল হচ্ছে টাকা।

সবশেষ গত সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও ৪০ পয়সা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি মে মাসেই তৃতীয়বারের মতো কমানো হলো টাকার মান। তিন দফায় ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা।

বুধবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হলেও ব্যাংকগুলো এর চেয়ে ৮-১০ টাকা বেশি দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। এই ব্যবধান কমাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারটি তদন্ত দল মাঠে নেমেছে। তারা ব্যাংকগুলো পরিদর্শন করেছে। তারপরও ব্যাংকগুলো ডলারের দর কমায়নি।

ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক রোববার ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক করেছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আর বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৭ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে বুধবার ৯৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। ১৭ মে অবশ্য এই দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠেছিল।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে দামে ডলার কেনে বা বিক্রি করে, তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বলে। এ হিসাবে আন্তঃব্যাংক রেটের চেয়ে ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। অথচ এই ব্যবধান বা পার্থক্য এক-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

খোলাবাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তঃব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তঃব্যাংক বা ব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এতোদিন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সে কারণেই এতোদিন ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছর জুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই সাড়ে ৯ মাসে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে আরও বেশি।

সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সংগঠন হচ্ছে এবিবি।

আরও পড়ুন:
আরও কমল টাকার মান, মে মাসেই তিনবার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রি ৫৫০ কোটি ডলার ছাড়াল
দেশে কালো টাকা সাড়ে ৮৮ লাখ কোটি
ডলারের দাপট দেশে দেশে, সবচেয়ে কম বেড়েছে বাংলাদেশে
ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BGMEA request not to increase gas and electricity prices

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএর

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএর
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে তা পোশাকশিল্পের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে।’

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়াতে সরকারকে অনুরোধ করেছে।

সংগঠনটি বলেছে, এখন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে শিল্প, অর্থনীতি এবং দেশের মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বুধবার এই অনুরোধ জানিয়ে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘যদিও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট বিশাল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পোশাকশিল্প পুনরুদ্ধারের পথে ফিরে এসেছে, তথাপি শিল্পটি বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। পোশাকশিল্প ইতোমধ্যেই কাঁচামাল সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, কনটেইনার ও জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রভৃতি চাপের মধ্যে রয়েছে।’

‘এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে তা পোশাকশিল্পের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে। কারণ এতে করে শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা হ্রাস পাবে।’

‘কঠিন এই সময়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো হলে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পোশাকশিল্পের পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করবে’ উল্লেখ করে ফারুক হাসান চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, আবার বাংলাদেশি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপের বেশ কিছু দেশে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় পোশাকের বাজারে চাহিদার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

‘গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধু যে পোশাকশিল্পের ওপরই প্রভাব ফেলবে তা-ই নয়, বরং এটি জনগণের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ও পরিষেবাগুলোর মূল্য বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

চিঠিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য না বাড়ানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

আরও পড়ুন:
উৎসে কর ৫ বছর বহালের প্রস্তাব পোশাক মালিকদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If the complaint is not settled within 7 days action will be taken against the courier

৭ দিনে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে কুরিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৭ দিনে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে কুরিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা মতবিনিময় সভায় কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘কুরিয়ারে পণ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয় না। প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য পায় না ভোক্তা। এক্ষেত্রে নানান যুক্তি দেয়া হয়।’

‘নাস্তা’র চাহিদা দিয়ে সকাল ৮টায় খাবার অর্ডার করি। দেড় ঘণ্টা পর সাড়ে ১০টায় জানানো হয়, অনেক চাপ এখন খাবার সরবরাহ করা সম্ভব না।’

পণ্য সরবরাহে নিজের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান।

বুধবার বিকেলে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনাকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় তিনি এমন কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ আছে, পণ্য সরবরাহে বেশি অর্থ নেয়া হয়। সহনীয় চার্জ ধার্য করতে হবে। সভায় কুরিয়ার সার্ভিসের সেবার মানের দিকটি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এ সময় কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি হাফিজুর রহমান পুলক ছাড়াও বেশ কয়েকটি কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক সফিকুজ্জামান বলেন, ‘কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলে তা ভোক্তা আগে সেই কুরিয়ারে অভিযোগ জানাতে হবে। সাত দিনের মধ্যে যদি প্রতিকার না মেলে তখন ভোক্তা আমাদের কাছে অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কুরিয়ার সেবা নিয়ে অভিযোগ আগের চেয়ে এখন কিছুটা কমেছে জানিয়ে ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘কুরিয়ারে পণ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয় না। প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য পায় না ভোক্তা। এক্ষেত্রে নানান যুক্তি দেয়া হয়।’

হাফিজুর রহমান পুলক বলেন, ‘সামনে আম-কাঠাল আসবে। কিন্তু যানজটের কারণে প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দায় কার?’

ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘আম যদি পচে যায় সে ক্ষেত্রে যেখান থেকে পাঠানো হবে, সেখান থেকেই যাচাই করতে হবে। ঢাকায় পৌঁছাতে পচে যাবে কিনা সেটা দেখতে হবে।’

অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ১৬০ জন হলেও ৭৮ জন লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

ইকুরিয়ারের সিইও বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ক্রেতারা ডেলিভারির ক্ষেত্রে খুব সমস্যায় ফেলে। বলেন, আজ না কাল আসেন। কিছু কাস্টমার প্রতারকও। এতে কুরিয়ার কোম্পানির ডেলিভারিতে ভোগান্তি হয়। ঢাকার বাইরে ১০ দিনের ডেলিভারি দেয়ার নিয়ম আছে।’

সভায় ই-কমার্স পলিসিতে কুরিয়ার কোম্পানিকে বিমার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এখনো কোনো বিমা কোম্পানি নেই যারা কুরিয়ারকে সহযোগিতা করবে।

এসএ পরিবহন কুরিয়ারের জেনারেল ম্যানেজার মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আম-লিচুর সময়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দিতে চাই। কিন্তু চাপাইনবাবগঞ্জ, খাগড়াছড়ি এলাকায় রেটের বিষয় নিয়ে ভোক্তা আইনের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দেয়ালে সেবার রেট টানানো থেকে অব্যাহতি চাই।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত অহেতুক জরিমানা করে ভোক্তা অধিদপ্তরের নামে। এখানে আপিলের সুযোগ নেই। বেসরকারি সার্ভিস ভালো হওয়ার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অচল হয়ে গেছে।’

এ জন্য অহেতুক জেল জরিমানা না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোক্তা অধিদপ্তরের আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হোক।’

কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভোক্তা অভিযোগ করলে জরিমানার ২৫ শতাংশ পান অভিযোগকারী। এ জন্য অনেকে এখন এটা পেশা হিসেবে নিয়েছে। বলা হয়, লাইসেন্স নিতে লাখ লাখ টাকা লাগে। অনেকের এই ফি দেয়ার সামথ্য নেই। পোস্ট অফিসের সার্ভিস চার্জ, কুরিয়ার থেকে বেশি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘কুরিয়ার সেবা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সমস্যা চিহ্নিত করে সেটা সমাধানে কাজ করতে হবে। একটা অভিযোগ সেল গঠন করা যেতে পারে।’

জানান, যেসব চার্জ নেয়া হয়, তা যৌক্তিক হতে হবে।

ভোক্তার ডিজি জানান, প্রায় অভিযোগ আসে কুরিয়ারে নিষিদ্ধ পণ্য আনা নেয়া করা হয়। কর্তৃপক্ষের উচিত যেখান থেকে পাঠানো হচ্ছে, ভালোভাবে সেখানে যাচাই করা।

কুরিয়ার সেবাকে একটা কাঠামো দাঁড় করানোর আশ্বাস দিয়ে বলা হয়, এখন ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা চালু হয়েছে। ই-কমার্স একটা বিজনেস আইডি নিয়ে ব্যবসা করছে। একটা অ্যাপ শিগগিরই চালু হবে যার মাধ্যমে কাস্টমার এখানে অভিযোগ করতে পারবে।

আরও পড়ুন:
লাপাত্তা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা আটক
অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা থেকে ভোক্তাকে রক্ষার চ্যালেঞ্জ
ই-কমার্স: পুনরুদ্ধারের সুযোগ চান মঞ্জুরুল
আলেশা মার্টের গ্রাহকদের টাকা ফেরত শুরু
ইভ্যালির ৭ গাড়ি বিক্রি ২ কোটি ৯১ লাখে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There are now 161 green garment factories in the country

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের নিজামনগর এলাকায় অবস্থিত পোশাক কারখানা আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনস লিমিটেড।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমরা শিল্পটিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিই। গত এক দশকে আমাদের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরাপত্তা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং সরকার-ক্রেতা-উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আজ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নিরাপদ শিল্প হিসেবে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।’

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা।

১০ বছর আগে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬১টিতে দাঁড়িয়েছে। যা এই খাতের রপ্তানি বাড়াতে অবদান রাখছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

সোমবার পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন বা লিড সনদ পেয়েছে আরও একটি পোশাক কারখানা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) এ সনদ দেয়।

মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িং নিট ফ্যাক্টরি-২ নামে নতুন সনদ পাওয়া কারখানাটি ঢাকা অঞ্চলের। ক্যাটাগরি গোল্ড।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সবুজ পোশাক কারখানা এখন বাংলাদেশে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইউএসজিবিসি ১৬১টি কারখানাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তার দেখানো পথ ধরেই দেশে একটার পর একটা পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা গড়ে উঠছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০১৪ সালে সবুজ কারখানা স্থাপন করা হয় ৩টি। ২০১৫ সালে হয় ১১টি। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে স্থাপন করা হয় যথাক্রমে ১৬, ১৮ এবং ২৪টি।

২০১৯ সালে আরও ২৮টি সবুজ পোশাক কারখানা স্থাপন করেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০২০ ও ২০২১ সালে ২৪টি করে আরও ৪৮টি কারখানা গড়ে উঠেছে দেশে।

আর এভাবেই সব মিলিয়ে দেশে মোট পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা এখন ১৬১টিতে দাঁড়িয়েছে।

পিছিয়ে নেই অন্যরাও। শিপইয়ার্ড, জুতা ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণেও আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্রকল রয়েছে।

দেশে ১৬১টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা হলেও সেগুলো কিন্তু যেনতেন মানের না। উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশ্বে জিনস বা ডেনিম কাপড় উৎপাদন করার প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় এনভয় টেক্সটাইল। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে রেমি হোল্ডিংস, সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা। আবার নারায়ণগঞ্জের উত্তর নরসিংহপুরের প্লামি ফ্যাশনস, নিট পোশাক তৈরি করা বিশ্বের প্রথম ও শীর্ষ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা।

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি

বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল-ইউএসজিবিসি। তারা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

লিড সনদের জন্য ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৬১টি স্থাপনা লিড সনদ পেয়েছে। তার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৪৮টি, গোল্ড ৯৯টি, সিলভার ১০টি এবং ৪টি সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।

বর্তমানে ৫০০-এর বেশি প্রকল্প পরিবেশবান্ধব হতে ইউএসজিবিসির অধীনে কাজ চলছে।

সাধারণত অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ৫-২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়। তবে বাড়তি খরচ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। ইউএসজিবিসি লিড সনদ পেতে স্থাপনা নির্মাণে ৯টি শর্ত পরিপালন করতে হয়। তার মধ্যে আছে এমন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে হয়, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়। এ জন্য পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি ইট, সিমেন্ট ও ইস্পাত লাগে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সূর্যের আলো, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী কল ও ব্যবহৃত পানি প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে হয়।

এ ছাড়া স্থাপনায় পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ২৪-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ, ৩৩-৩৯ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ এবং ৪০ শতাংশ পানি ব্যবহার কমানো সম্ভব। তার মানে দেশে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সংখ্যা যত বেশি হবে, ততই তা পরিবেশের ওপর চাপ কমাবে।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ৷ এই উদ্যোগ শিল্প ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে সবুজ ভবনে বিনিয়োগ করছেন আমাদের উদ্যোক্তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের দূরদর্শিতা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সবুজ শিল্পায়নে এই সাফল্যের জন্য ইউএসজিবিসি পৃথিবীর প্রথম ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে ২০২১ সালে বিজিএমইএকে লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমরা শিল্পটিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিই। গত এক দশকে আমাদের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরাপত্তা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং সরকার-ক্রেতা-উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আজ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নিরাপদ শিল্প হিসেবে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।’

‘পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই উদ্যোগ ও অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’

‘এই যে এখন আমাদের রপ্তানিতে সুবাতাস বইছে, তাতে সবুজ কারখানাগুলো বড় অবদান রাখছে। এখন বিশ্বে আমাদের পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি৷ এটা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বলে আমি মনে করি।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এই খাত থেকে রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই ১০ মাসে মোট রপ্তানির ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশই এসেছে পোশাক থেকে।

গত ২০২০-১১ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এখন ২০% মূল্য সংযোজনেই মিলবে প্রণোদনা
বেতন-বোনাস দিয়েছে শতভাগ কারখানা: বিজিএমইএ
পোশাকশিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা আজ
টাঙ্গাইল তাঁতপল্লিতে বৈশাখে মন্দা, ঈদে চাঙার আশা
এবার রপ্তানিতে চমক বিশেষায়িত টেক্সটাইল খাতের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mass to two percent again to prevent collapse

পতন ঠেকাতে আবার ‘দুই শতাংশে ভর’

পতন ঠেকাতে আবার ‘দুই শতাংশে ভর’
ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে। পরে ২০ এপ্রিল দর পতনের সীমা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়।

পুঁজিবাজারে এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা আবার ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ঈদের পর থেকে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে বুধবার এই সিদ্ধান্ত জানায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

বিকেলে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা আগের মতোই ১০ শতাংশ থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে পাঁচ টাকার নিচে থাকা কোনো কোম্পানির শেয়ারদর কমতে পারবে না, কেবল বাড়া সম্ভব। ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। ১০ টাকা থেকে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা।

১৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, ২০ টাকা থেকে ২৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, ২৫ টাকা থেকে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা।

৩০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমবে সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, ৩৫ টাকা থেকে ৩৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। ৪০ টাকা থেকে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮০ পয়সা, ৪৫ টাকা থেকে ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা পয়সা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা এবং ৫০ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৯০ পয়সা পয়সা পর্যন্ত শেয়ারে সর্বোচ্চ এক টাকা দর কমতে পারবে।

ঈদের পর পুঁজিবাজারে ধসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে নানা সিদ্ধান্তের পরও বাজার পড়তে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে।

পুঁজিবাজারে এক দিনে কোনো কোম্পানির ২ শতাংশ দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দাম কমলে শেয়ারের চাহিদা বাড়লে আবার দর বাড়ার প্রবণতাও দেখা দেয়। কিন্তু ২ শতাংশের এই নির্দেশনা আসার পর দেখা যাচ্ছিল, ২ শতাংশ দাম কমে গেলে শেয়ারের আর ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে দিনের পর দিন কোম্পানিগুলোর দরপতন হচ্ছিল। আর ক্রেতা না থাকায় লেনদেন ক্রমেই কমছিল।

রোজা শুরুর আগে বাজারে এক হাজার এক শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তা নেমে আসে চার শ কোটি টাকার ঘরে।

এরপর ২০ এপ্রিল দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেনদেন বাড়তে থাকে।

তবে ঈদের পর আবার বাজার পতনের ধারায় ফিরে যায়। টানা আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচক পড়ার পর রোববার রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা রয়ে গিয়েছিল, সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় লেনদেনেই। বাজারে সক্রিয় না হয়ে আরও অপেক্ষার নীতি নেয়ায় লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

এই ১১৮ পয়েন্টের মধ্যে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে যায় দুই দিনে। এরপর বিকেলে দরপতনের সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্থানেও সতর্কতা
সাকিবের স্বর্ণের ব্যবসা: শোকজ নয়, জানতে চেয়েছে বিএসইসি
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

p
উপরে